ক
কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে একটা খবর বেরিয়েছে। রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঠিকা কর্মচারী কাশীনাথ সিং কয়েক বছর চাকুরী করার পর উদ্বৃত্ত ব’লে ছাঁটাই হয়েছেন, এবং রেলওয়ে বিদ্যুৎ ভবনের চারতলা থেকে লাফ দিয়ে এ পৃথিবী থেকেই ছাঁটাই হয়ে গেছেন। খবরটি ছোট, প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবিবাহের মত প্রথম সারির খবর নয়। ট্রামে বাসে ট্রেনে বা কফি-হাউসের আলোচনায় এর স্থান নেই। স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের যাবতীয় বিদ্যালোচনার মধ্যে এ জাতীয় ঘটনা কোন শাস্ত্রীয় বিষয় ব’লে গণ্য হবারও কথা নয়। ভোরবেলার চা পানের মত একটা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা, খবরের পাতার চোখ বুলিয়ে নেবার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায়, নিজেকে জাহির করার মত এর কোন জৌলুস নেই।
আবার দেখুন, এক জ্ঞানী অধ্যাপক সারা কর্মজীবন ধরে ছাত্রদের কাছে ব্রহ্মসত্য জগন্মিথ্যার’ তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছেন; আমি কে, তুমি কে, জগত কী, ব্যাকরণের এই তিন পুরুষের দার্শনিক রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন, অবশেষে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনের পাতা থেকে খারিজ হয়ে অবসর নিয়েছেন: কিন্তু এই মিথ্যা জগতে মিথ্যা বেঁচে থাকার মত পুঁজি জমাতে পারেন নি, তাই কোথাও একটা আংশিক কাজ জোটাবার জন্য মিথ্যাই ঘুরে মরছেন, মুদির দোকানে খাতা লেখার কাজ পেলেও সই। তাও যদি না পান কাশীনাথ সিং-এর পথ ছাড়া আর পথ নেই। “নান্যঃ পন্থা বিদ্যত্যেয়নায়” উপনিষদের এই অমৃতময়ী প্রজ্ঞাবাণীর এমন মৃত্যুমুখর তাৎপর্য্য ছাত্র পড়াবার সময় অধ্যাপক বোধ হয় উপলব্ধি করতে পারেন নি। কারণ কাশীনাথের মৃত্যু দর্শনশাস্ত্রের আওতায় পড়ার কথা নয়। “আত্মানং বিদ্ধি”— আত্মাকে জানো, কিন্তু আত্মাকে জানতে গেলে পরমাত্মীয় কাশীনাথকেও যে একদিন জানতে হবে এ কথা অধ্যাপক বেকার জীবনের আগে জানতে পারেন নি।
দার্শনিক দেকার্তে নাকি একটি নিঃসন্দিগ্ধ বিষয়ের উল্লেখ করে আধুনিক পাশ্চাত্ত্য দর্শনের সৃষ্টি কর্তার গৌরব অর্জন করেছেন। “আমি চিন্তা করছি, সুতরাং আমি আছি”- দর্শনের এই মূল মন্ত্রটি প্রচার করে তিনি নাকি সৰ্বাত্মক সংশয়বাদকে নির্মূল করেছেন। আর কিছু না থাক আমি যে আছি এ বিষয়ে তো আমি নিঃসংশয়।
“I shall have the right to conceive high hopes if I am happy enough to discover one thing only which is certain and indubitable... So that after having reflected well and carefully examined all things, we must come to the definite conclusion that this proposition: I am, I exist, is necessarily true each time that I pronounce it, or that I mentally conceive it”-Meditation-II
কিন্তু হতভাগা বেকার শ্রমিক কাশীনাথ দেকার্তের এই “আমি” তত্ত্বকে ডুবিয়ে দিয়ে গেল। চারতলা থেকে লাফ দেবার সময় যে বিষয়ে সে নিঃসংশয় ছিল তা কিন্তু “আমি আছি” এই তত্ত্ব নয়। তখন তার কাছে নিঃসন্ধিগ্ধ্, সত্য রূপে উদ্ভাসিত হল—“আমি থাকব না”। নৈয়ায়িক তর্ক করতে পারেন— ওরে মূর্খ, আগে থাকা হলেই তো পরে “থাকব না” হতে পারে। কিন্তু এতো নৈয়ায়িকের বুদ্ধির খেলা। যে নিবিড় অনুভূতি কাশীনাথের চেতনাকে নিপীড়িত করেছে, আচ্ছন্ন করেছে— তা হল আমি থাকতে পারছি না, থাকা অসম্ভব। কাশীনাথ বোধ হয় ন্যায়শাস্ত্র পড়েনি। এক নৈয়ায়িক গেলেন কলুর বাড়ী। দেখলেন গলার ঘণ্টা বাঁধা বলদ ঘানি টানছে। জিজ্ঞাসা করলেন কলুকে বলদের গলায় ঘণ্টা বেঁধেছিস কেন? কলু বলল— দূর থেকে ঘণ্টা না শুনলে বুঝতে পারি বলদ দাঁড়িয়ে আছে, ঘানি টানছে না। বিজ্ঞ নৈয়ায়িক বললেন— কিন্তু বলদ যদি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড় নেড়ে ঘণ্টা বাজায় ? কলু বলল— ঠাকুর, ওটা তো নেহাতই বলদ, ন্যায়শাস্ত্র পড়েনি।
কিন্তু “জড়বাদী” [বস্তুবাদী] মার্কসের ন্যায়শাস্ত্র পড়েই বোধ হয় বুদ্ধিভ্রংশ হল— জগতে “আমি আছি” এইটেই হল একমাত্র নিঃসন্ধিগ্ধ্ সত্য— দেকার্তের এই তত্ত্বকে তিনি মেনে নিতে পারলেন না। “আমার" বাইরে আর কিছু বা আর কেউ অন্তত আছে এ সম্বন্ধে নিঃসংশয় না হলে দেকার্তে সুইডেনের রাণী ক্রিশ্চিনাকে নিজের দার্শনিক তত্ত্ব বোঝাতে গেলেন কেন, প্রচণ্ড শীতে প্রাণটা বা হারালেন কেন? আমার বাইরে জগতের অস্তিত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত প্রমাণ হল মানুষের ভাষা। শুধু “আমি আছি” এই যদি নিঃসন্ধিগ্ধ্ সত্য হয় তাহলে এই সত্যটি ‘অন্যকে’ বোঝাবার জন্য এত প্রচেষ্টা কেন, কথা বলা কেন, পুঁথি লেখাই বা কেন? মানুষের ভাষাগত চেতনার দার্শনিক গুরুত্ব বস্তুবাদী দর্শনের পক্ষে এক বলিষ্ঠ সমর্থন। ভাষাকে বাদ দিয়ে চেতনার সৃষ্টি হয়নি। আদিম যুগ থেকেই মানুষ “আত্মা” এক অনস্বীকার্য্য বস্তুর ভারে “প্রপীড়িত”, এই বস্তু হ’ল আলোড়িত বায়ুস্তর, শব্দ, সহজ কথা ভাষাই হল মানুষের ব্যবহারিক চেতনা। বক্তা ছাড়াও শ্রোতা আছে বলেই ভাষার সার্থকতা। ভাষা অন্যের জন্য ব্যবহৃত হয় বলেই আমার জন্যও ব্যবহৃত হয়। ভাষা সামাজিক, তাই চেতনাও প্রথম থেকে সামাজিক অভিব্যক্তি—
“From the start the spirit is afflicted with the curse of being ‘burdened’ with matter, which here makes its appearance in the form of agitated layers of air, sounds, in short, of language. Language is as old as consciousness, language is practical consciousness as it exists for other men and for that reason is really beginning to exist for me personally as well; for language, like consciousness, only arises the need, the necessity, of intercourse with other men… consciousness is therefore from the very beginning a product, and remains so as long as men exist at all” - The German Ideology -'Feuerbach: Opposition of the Materialist and Idealist Outlooks’ P.18, Indian Edition.
কোন দার্শনিক ভাবনা যদি সর্বলোকসিদ্ধ মানবিক ব্যবহারের বিরুদ্ধাচারণ করে তাহলে দর্শনের খাতিরে ব্যবহারকে উড়িয়ে দেয়া বা সত্যাসত্য-নির্ণয়ের এই বস্তুসম্মত নিরিখ ভারতীয় দর্শনেও স্বীকৃতি লাভ করেছে। চার্বাক দর্শন [চার্বাক/চার্বাকরা] যখন কার্য্যকারণ সম্বন্ধকে সর্বাত্মক সন্দেহের বিপর্য্যস্ত করে তুললেন, তখন বিরুদ্ধবাদী দার্শনিকরা চার্বাকের ব্যবহারগত স্ব-বিরোধের উল্লেখ করে তাঁর মতবাদ খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। চার্বাকের মনে কার্য্যকারণ সম্বন্ধের অস্তিত্ব সম্বন্ধে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে তার পিছনে কোন যুক্তি আছে কি না। চার্বাক যুক্তি দেখিয়েছেন। যুক্তি থাকার অর্থই হল— সন্দেহটা অমূলক নয়, নিষ্কারণ নয়। সন্দেহের যদি কারণ থাকে, তা হলে অন্তত এক জায়গায় কার্য্যকারণভাব স্বীকার করতে হচ্ছে। সুতরাং কার্য্য কারণ সম্পর্ক বিষয়ে সর্বাত্মক সন্দেহ স্ববিরোধী। কার্য্যকারণ সম্বন্ধ মাত্রই সংশয় ব্যাকুলিত হলে এই সংশয়টি উপস্থিত হল কীরূপে? সংশয়ের কারণ দেখাবার জন্য সযত্ন যুক্তিজালের এত পরিপাটীই বা কেন? বিশেষ ক্ষেত্রে কার্য্যকারণ সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করলেও ব্যবহারিক স্ব-বিরোধিতা এই সন্দেহের আন্তরিকতা সম্বন্ধে সন্দেহের উদ্রেক করবে। পিপাসাকাতর চার্বাকশিষ্য জল অন্বেষণ করে কেন ? ক্ষুধার্ত্ত চার্বাক অন্নার্থী হয় কেন ? অন্নজল ক্ষুধাতৃষ্ণা নিবারণ করে— এই কার্য্যকারণ সম্বন্ধ স্বীকার না করলে এরূপ ব্যবহার কি করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? যদি বলা যায় এই জলার্থী ও অন্নার্থীর এই ব্যবহার কোন নিশ্চয়াত্মক জ্ঞান প্ৰকৃত নয়, সম্ভাবনা— প্রত্যয়বাহিত এই ব্যবহার নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াও সম্ভব, তা হলেও সম্ভাবনা-জ্ঞানকে ব্যবহারের কারণরূপে স্বীকার করতে হচ্ছে। সুতরাং কার্য্যকারণ সম্বন্ধ ব্যবহার স্বীকৃত।
আমাদের দেশের মীমাংসক দার্শনিক কুমারিল ভট্ট বস্তুবাদী দর্শনের মূল দৃষ্টিভঙ্গী চমৎকারভাবে উপস্থাপিত করেছেন—
সিদ্ধানুগমমাত্রং হি কর্তূং যুক্তং পরীক্ষকৈঃ।
ন সর্বলোক সিদ্ধস্য লক্ষণেন নিবর্তনম্।।
(শ্লোকবার্তিক)
—পরীক্ষক দার্শনিক ব্যবহারসিদ্ধ বস্তুসত্তাকে স্বীকার করে নিয়ে তার বিচার বিশ্লেষণ করবেন। তাঁর পক্ষে এমন কোন লক্ষণ সন্নিবেশের অধিকার নেই যার দ্বারা সর্বলোক ব্যবহারসিদ্ধ বস্তুসত্তাকেই নির্বাসনে পাঠাতে হয়। এই মন্তব্যটির তাৎপর্য্য অত্যন্ত গভীর— আমাদের ন্যায়শাস্ত্রের লক্ষণ ও প্রমাণ বস্তুকে অনুসরণ করবে। বস্তু ন্যায়শাস্ত্রকে অনুসরণ করবে না। শূন্যবাদী মাধ্যমিক বৌদ্ধ বলেছেন— যথা যথার্থাশ্চিন্ত্যন্তে বিশীর্যন্তে তথা তথা। বস্তু সম্পর্কে যতই বিচার করা যায়, ততই তার অস্তিত্ব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে শূন্যে মিলিয়ে যায় অর্থাৎ বিচার বুদ্ধির দ্বারা যখন বস্তুর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না, তখন বস্তু নেই বলেই মানতে হবে, শূন্যতাই সারতত্ত্ব। শূন্যমার্গে বিচরণশীল বিচার স্বভাবতই উন্মার্গগামী। বস্তুবাদী দার্শনিক প্রশ্ন করবেন— আপনার প্রমাণ পদ্ধতির দ্বারা বস্তুতত্ত্ব যদি অপ্রমেয় বলে মনে হয় তাহলে আপনার প্রমাণ পদ্ধতির সম্মানরক্ষার জন্য নিঃস্বভাব বা “চরিত্রহীন” বলে ঘোষণা করতে হবে এমন আবদার বা অভিমান কেন? বরং বস্তুতত্ত্বের দুরধিগম্যতা আপনার বিচারবুদ্ধির দীনতাকেই ঘোষণা করছে। “নৈষ স্থানোরপরাধে। যদেনম্ অন্ধো ন পশ্যতি”— অন্ধ যদি খুঁটিটাকে দেখতে না পায় তবে তা খুঁটির অপরাধ নয়। বস্তু-নিরপেক্ষ আত্মসম্পূর্ণ স্বয়ম্ভূ ন্যায়শাস্ত্র শেষ পর্য্যন্ত চরম অজ্ঞেয়তাবাদে পর্য্যবসিত হতে বাধ্য। নাগার্জুনকে তাই বলতে হল— আমি কিছুই প্রতিপাদন করতে চাই না, কারণ কিছুই প্রতিপাদন করা সম্ভব নহে, এই আমার মত। সুতরাং আমার এই মতটি সত্য কি না সে প্রশ্ন অবান্তর— আমি কোন মতই পোষণ করি না। ন্যায়শাস্ত্রও মিথ্যা। অদ্বৈত বেদান্তীকেও বলতে হল— বেদান্ত শাস্ত্রটাও শেষ পর্য্যন্ত মিথ্যা, বিজ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্ম ব্যতিরিক্ত সবই মিথ্যা। নাগার্জুন জ্ঞানকেও খারিজ করে দিলেন। অনেক আধুনিক পণ্ডিত নাগার্জুনের শূন্যবাদ ও বৈদান্তিক অদ্বৈতবাদকে প্রায় এক বলে মনে করেন। এ ধারণা কতখানি যুক্তিসংগত সে বিচারের অবকাশ এখানে নেই ।
কাগজের ওপর কালিকলমের দাগ কেটে হাজার হাজার পৃষ্ঠার পুঁথি লিখে জগতের লোককে বোঝাবার চেষ্টা করা হয়— তুমি নেই, আমি নেই, জগত নেই— কাগজ কালি কলম দোয়াত কিছুই নেই। কাকে বোঝাচ্ছেন, কী বোঝাচ্ছেন? আপনি বা কে যিনি বোঝাচ্ছেন? কিছুই তো নেই! রাজর্ষি জনক রাজসভার পাশে প্রত্যেকটি শৃঙ্গে [শিং-এ] স্বর্ণমুদ্রা বাঁধা গাভী দেখিয়ে বললেন— আপনাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বড় ব্ৰহ্মজ্ঞানী এই গাভীগুলোকে নিয়ে যান। অমনি ব্ৰহ্মর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য তড়াক করে আসন ছেড়ে উঠলেন; বললেন, ব্রহ্মিষ্ঠ, এই গরুগুলো আমার, নিয়ে চললাম। অন্য ব্রহ্মজ্ঞানীরা যাজ্ঞবল্ক্যকে বিতর্কদ্বন্দ্বে আহ্বান করলেন— প্রমাণ করুন, আমাদের মধ্যে আপনিই ব্রহ্মিষ্ঠ। ধুমবিচার চলল, যাজ্ঞবল্ক্য বিচারে জিতলেন, একমাত্র ব্রহ্মসত্য এই সিদ্ধান্ত প্রতিপাদন করে মিথ্যা গরু আর সোনাগুলো নিয়ে তপোবনে চলে গেলেন। বিঘোষিত দার্শনিক সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক ব্যবহারের মধ্যে এই উৎকট অসঙ্গতি দেখে রাজর্ষি জনক কৌতুক অনুভব করেছিলেন কিনা জানি না। অদ্বৈতবাদী বৈদান্তিক এবং শূন্যবাদী ও বিজ্ঞানবাদী বৌদ্ধ অত্যন্ত চতুর। অদ্বৈতবাদী বললেন— ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আমরা কুমারিল ভট্টের অনুগামী। দার্শনিক সিদ্ধান্ত এবং লৌকিক ব্যবহারের অসংগতি ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহারিক সত্তা নামে একটি সত্তা স্বীকার করে নেয়া হল, সে সত্ত্বা ব্রহ্মজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে রজ্জুসর্পের মত বিলীন হয়ে যাবে। বৌদ্ধ বললেন— ব্যবহারিক সত্তাটা “সাংবৃত সত্তা”, পারমার্থিক নয়। লৌকিক জগতে তো লোকের মতই ব্যবহার করতে হবে! ব্যবহারিক জগতে মিথ্যার বেসাতি করলে দোষ নেই। পারমার্থিক তত্ত্বের ঘোষণা এবং ব্যবহারিক জগতের আচরণের মধ্যে এই সুস্পষ্ট অসংগতি যে দার্শনিক কপটতারই নামান্তর— এ কথা এরা স্বীকার করতে নারাজ। স্বীকার করলে এই মিথ্যা জড়জগত [বস্তুজগত] থেকে ভোগের উপকরণ সংগ্রহ করতে অসুবিধা হতে পারে। অথচ মঠে, বিহারে, বিদ্যায়তনে ছড়িয়ে থাকা এদের শিষ্য প্রশিষ্যের দল “জড়বাদী” [বস্তুবাদী] মার্ক্সের মুণ্ডপাত না করে গণ্ডূষ করেন না।
মার্ক্সের অপরাধ, যে কাশীনাথের প্রসঙ্গ নিয়ে আমরা প্রবন্ধের অবতারণা করেছি মার্ক্স সেই কাশীনাথ জাতীয় জীবদের সমস্যাকে তাঁর দর্শন ও ইতিহাসের কেন্দ্রীয় ভিত্তিরূপে উপস্থাপিত করেছেন। মানুষের ইতিহাস হল সামাজিক ব্যবহারের ইতিহাস। এই ইতিহাস থেকে দর্শনকে বিচ্ছিন্ন করলে সে দর্শন সত্যদর্শন হবে না, উত্কেন্দ্রিক মিথ্যাদর্শনে পর্য্যবসিত হবে। মানবসত্তার স্বতঃসিদ্ধ প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, সমগ্র ইতিহাসের আদিম সিদ্ধান্ত হল এই যে মানুষকে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, মানুষ বেঁচে থাকলে তো “ইতিহাস রচনা” হবে। জীবন বলতে সর্বপ্রথম বুঝি খাওয়া পড়া মাথা গোঁজার ঠাঁই। এই প্রয়োজন মেটাবার উপকরণ তৈরী করাই হল সর্বপ্রথম ঐতিহাসিক কাজ, এইভাবেই জীবন টিঁকে থাকে, আবর্তিত হয়, উত্পাদিত হয়। এই মূল কথাটি হাজার হাজার বছর আগেও যেমন সত্য ছিল, এখনও তাই আছে।
[We must begin by stating the first premise of all human existence, and therefore of all history, the premise, namely, that men must be in a position to live in order to be able to “make history”. But life involves before everything else eating and drinking, a habitation, clothing and many other things. The first historical act is thus the production means to satisfy these needs, the production of material life itself. And indeed this is an historical act, a fundamental condition of all history, which to-day, as thousands of years ago, must daily and hourly be fulfilled merely in order to sustain human life- The German Ideology -'Feuerbach: Opposition of the Materialist and Idealist Outlooks’]
মানব সত্তার এই অনপনেয় আদিম সত্যকে স্বীকার করেই দর্শন ও ইতিহাস অগ্রসর হতে পারে। বেকার শ্রমিক আপন শ্রমের বিনিময়ে অন্নের সংস্থান করে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু সমাজ বলে— তুমি উদ্বৃত্ত, তোমার শ্রম সমাজের কাছে অনাবশ্যক। কিন্তু বিনা শ্রমে তাকে কেউ খেতে দেবে না। তাই তার আর বাঁচা হলো না। মানুষ তার ব্যক্তিগত শ্রমের দ্বারা জড় জগত [বস্তু জগত] থেকে জীবনধারণের উপকরণ সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে, মানুষ ও বস্তুজগতের এই অস্তিত্বের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে বহির্জগতের বহুমুখী সম্বন্ধ গড়ে ওঠে। এই বিচিত্র সম্বন্ধ বিন্যাসকে স্বীকার করে নিয়েই ইতিহাসের প্রারম্ভ, দার্শনিক ভাবনার প্রাথমিক শর্ত ও এই সম্বন্ধের স্বীকৃতি; এই সম্বন্ধের মধ্য দিয়েই মানুষের চেতনার বিকাশ ও বিস্তৃতি। এই জন্যই সামাজিক মানুষের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল সমাজ যখন মানুষের শ্রমকে উদ্বৃত্ত বলে ঘোষণা করে, তার বাঁচার পথ বন্ধ করে, তখন বেকার শ্রমিকের আত্মহত্যার মধ্যে স্ব-বিরোধকণ্টকিত সমাজ ব্যবস্থার প্রচণ্ড অবক্ষয় প্রকট হয়ে ওঠে। যে প্রারম্ভিক শর্তকে স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্ত রূপে গ্রহণ করে ইতিহাসের যাত্রারম্ভ সম্ভব হয়েছিল সেই শর্ত এখানে উত্কটভাবে উল্লঙ্ঘিত হয়েছে, যে জীবিকা সংগ্রাহী শ্রমের ভিত্তিতে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যথার্থ মানবচেতনার প্রাথমিক উন্মেষ ঘটেছিল চেতনার সেই মানবিক ভিত্তি বিপর্য্যস্ত হয়েছে। সুতরাং একজন বেকার শ্রমিকের আত্মহত্যা একটা গা-সওয়া মামুলি ঘটনামাত্র নয়। একই একটি ঘটনার মধ্যে সমাজেতিহাসের স্ব-বিরোধী বস্তু-চরিত্র প্রতিবিম্বিত হয়েছে। স্বভাবত জীবনপ্রেমিক মানুষটি কেন জীবনবিমুখ হয়ে উঠল— এ জিজ্ঞাসা যে দর্শনশাস্ত্রে ঠাঁই পায় না সে দর্শন “জীবন-দর্শন” হতে পারে না। আমরা “জীবন-দর্শন, জীবন-বেদ, জীবন-দেবতা” এই কথাগুলির চমকে অনেকদিন অভিভূত হয়েছি, প্রকৃত জীবনের সঙ্গে যোগহীন এক নিরালম্ব আধ্যাত্মিক আমেজে চোখ বুজেছি। যে দুজন বেকার গ্রাজুয়েট ব্যাণ্ডেল ষ্টেশনে ষাট টাকা মাইনের “পানিপাড়ে”র কাজের জন্য দরখাস্ত করেছে তারাও স্কুলে কলেজে কাব্য সাহিত্য দর্শনে ঐ কথাগুলো শুনেছে, পড়েছে, খাতায় লিখে পরীক্ষা পাশ করেছে, পাড়ায় পাড়ায় রবীন্দ্র জয়ন্তী করেছে। তাদের “জীবন-দর্শন” এখন কোন দর্শনের পাতায় লেখা হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত দর্শন-শাস্ত্রের পাঠ্যসূচীতে এই জীবন দর্শনের স্থান হবে কিনা? এ জিজ্ঞাসা দর্শন শাস্ত্রীদের মনকে যদি আলোড়িত না-করে তাহলে তাদের দর্শন একদিন সমাজের কাছে অপাংক্তেয় বলে বিবেচিত হবে, এবং এজন্য মার্ক্সীয় “জড়বাদ”কে [বস্তুবাদকে] গালমন্দ করে কোন লাভ হবে না। কিন্তু এ জিজ্ঞাসা অতি সঙ্গত এবং অতি ভয়ানকও বটে। এর উত্তর দিতে হলে সমগ্র সমাজেতিহাসের চরিত্র বিশ্লেষণ করে কঠিন কর্তব্যের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।
এই দায় দায়িত্বের দর্শন জড়বাদী [বস্তুবাদী] দর্শন নয়। জড় জগত্ থেকে জীবনের উদ্ভব হয়েছে, জড়বস্তুর এক বিশেষ পর্যায়ের বিন্যাস ও সংগঠন থেকে অতি প্রাথমিক চেতনার উন্মেষ হয়েছে, সে জীবন ও চেতনা বস্তু জগতে এক সম্পূর্ণ নূতন গুণের সঞ্চার করেছে। জীবন ধারণের স্বাভাবিক তাগিদে পরস্পরের সঙ্গে সম্বন্ধে আবদ্ধ গোষ্ঠীমানব জীবিকা সংগ্রহের জন্য উদয়াস্ত পরিশ্রম করেছে। এই জীবন ও জীবিকাগত সম্বন্ধ নির্বাহ করার জন্যই প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষের ভাষার সৃষ্টি হয়েছে— যে ভাষা মানুষের চেতনাকে নিতান্ত জৈব স্তর থেকে মানবিক স্তরে উন্নত করেছে। সুতরাং প্রকৃত মানবিক চেতনা ইতিহাসের প্রথম যুগ থেকেই সামাজিক চেতনারূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিরূপ ও প্রতিকূল জড় প্রকৃতির হাত থেকে জীবিকা সংগ্রহের সংগ্রামে মানুষ যেদিন প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে সেই আদিম যুগ থেকেই জড় প্রকৃতির ওপর চেতনার আধিপত্যের অগ্রগতি। এই প্রগতির বিরাম নেই বলেই সভ্যতা বিরামহীন। কিন্তু মানুষের শ্রমের ওপর প্রতিষ্ঠিত সভ্যতার কোন এক স্তরে যখন মানুষেরই শ্রম উদ্বৃত্ত বলে ঘোষিত হয়, মানুষের বাঁচাটাই অনাবশ্যক বলে বিবেচিত হয়, তখন সভ্যতার প্রাথমিক ভিত্তিমূলের সঙ্গে সামাজিক ব্যবস্থার সংঘাত উদগ্রভাবে আত্মপ্রকাশ করে। সমাজের অভ্যন্তরে উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্বন্ধের মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা মার্ক্স বার বার বলেছেন সে অন্তর্দ্বন্দ্বের মূলতত্ত্ব হল মানবিক সম্পর্কের উত্কট অসামঞ্জস্য, যে মানুষ খেয়ে পরে বেঁচে থেকে আদিম যুগ থেকে ইতিহাস ও সভ্যতা সৃষ্টি করে চলেছে তার শ্রমের অধিকার ও বাঁচার অধিকারের অস্বীকৃতি। স্বামী বিবেকানন্দ এই মানুষদের বলেছেন সমাজ ও সভ্যতার ভারবাহী পশুর দল, মানুষের মত বাঁচার অধিকার ভারতীয় সমাজের মুরুব্বিরা কোনদিন স্বীকার করেনি। ভারতীয় সংস্কৃতির জয়গানে মুখর অনেক সংস্কৃতসেবী বিদগ্ধজন সভা-সমিতিতে মার্ক্সবাদের মুণ্ডপাত করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সমাজে “আধ্যাত্মিক” সাম্যবাদের স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন। আমাদের গীতা ভাগবত সাম্যবাদের কথা ঘোষণা করেছেন—
বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিন।। [৫ম অধ্যায়, ১৮]
বিদ্যা বিনয় সম্পন্ন ব্রাহ্মণ গরু হাতী কুকুর ও চণ্ডালে পণ্ডিতরা সমদর্শী। মানুষ গরু কুকুর হাতী সব একাকার। ভগবান্ মনু এই সমদর্শিতার কীরূপ প্রমাণ দিয়েছেন তা নিশ্চয়ই উল্লেখযোগ্য—
উচ্ছিষ্টমন্নং দাতব্যং জীর্ণানি বসনানি চ।
পুলাকাশ্চৈব ধান্যানাং জীর্ণাশ্চৈব পরিচ্ছদাঃ।। [ ১০ম অধ্যায়, ১২৫]
শক্তেনাপি হি শূদ্রেণ ন কাৰ্য্যো ধনসঞ্চয়ঃ।
শূদ্রো হি ধনমাসাদ্য ব্রাহ্মণানেব বাধতে।। [১০ম অধ্যায়, ১২৯]
বিস্রব্ধং ব্রাহ্মণঃ শূদ্রাদ্দ্রব্যোপাদানমাচরেৎ।
ন হি তস্যাস্তি কিঞ্চিৎ স্বং ভর্ত্তৃহার্য্যধনো হি সঃ।। [৮ম অধ্যায়, ৪১৭]
[মনুসংহিতা]
আশ্রিত শূদ্র দাসকে উচ্ছিষ্ট অন্ন, জীর্ণ শয্যা ও বসন এবং অন্তঃসারহীন ধান্য দিয়ে ভরণপোষণ করবে। ধনার্জনে সমর্থ শূদ্রকেও ধন সঞ্চয় করতে দেবে না। কারণ ধনসঞ্চয়ী শূদ্র ব্রাহ্মণের সেবা করবে না, ফলে ব্রাহ্মণ পীড়িত হবে।
বিনা দ্বিধায় ব্রাহ্মণ শূদ্রদাসের ধন গ্রহণ করবে। কারণ, শূদ্র দাসের নিজস্ব ধন বলে কিছু নেই। তার ধন প্রভুর দ্বারাই গ্রহণীয়। কুল্লুক ভট্ট ব্যাখ্যা করলেন— আপতকালে ব্রাহ্মণ শূদ্র দাসের ধন বলপূর্বক কেড়ে নিলেও রাজদ্বারে দণ্ডণীয় হবেন না, এই হল শ্লোকটির তাৎপর্য্য।
ব্রহ্মবাদী আর্যদর্শনের সমদর্শিতার একটি নমুনাই এখানে যথেষ্ট।
ভারতীয় আর্য-দার্শনিক সমাজে যে মার্ক্স জড়বাদী [বস্তুবাদী] বলে এখনও নিন্দিত তিনি কিন্তু সভ্যতার ভারবাহী শ্রমজীবী মানুষের আত্মিক চেতনাকেই স্বধিকারে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। এই চেতনার অগ্রশর্ত মানুষের বাঁচার অধিকার। এই অধিকার অঙ্গীকৃত না হলে অন্তর্দ্বন্দ্ব বিদীর্ণ সমাজ সভ্যতার গতি রোধ করতে উদ্যত হয়। তখনই দাবী ওঠে, সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত করে সভ্যতার মূল ভিত্তিকে রক্ষা করতে হবে, যাতে সভ্যতার অব্যাহত অগ্রগতির জন্য প্রত্যেকটি মানুষের শ্রমশক্তি সযত্ন বর্ধিত্ সম্পদ বলে গণ্য হতে পারে। এ জড়বাদের দাবী নয়, জড়ের হাত থেকে মানব চেতনার মুক্তির দাবী। এ জন্যই মার্ক্স বলেছেন, পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় পণ্য নির্মাতা মানুষ পণ্যের পারবশ্য স্বীকার করে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়। পণ্যের বাজারের প্রয়োজন অনুসারে মানুষের শ্রম নিষ্প্রয়োজন উদ্বৃত্ত বলে নিরূপিত হয়। মানুষ এখানে উৎপাদন ব্যবস্থার দাস, প্রভু নয়।
[Man is not yet the master of the process of production, the process of production is the master of man]
এঙ্গেলস একেই বলেছেন— domination of the product over the producer.
জড়ের কবল থেকে চেতনাকে উন্মুক্ত করতে হলে শোষণভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিতে হবে, সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থাকে সমগ্র সমাজের হাতে তুলে দিতে হবে, ব্যক্তিগত মুনাফার লালসা-নির্ভর সামাজিক সম্পর্কের স্থানে সমাজতান্ত্রিক সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। তখনও সমস্যা থাকবে। কিন্তু সে সমস্যা নিতান্ত জীবিকা ও জীবনধারণের সমস্যা নয়। মানুষের চেতনাকে কতখানি স্বাধীন ও উন্মুক্ত করা সম্ভব সে সমস্যাই তখন প্রবলভাবে দেখা দেবে। “শুধু দিন যাপনের প্রাণ ধারণের গ্লানি” থেকে মানুষ প্রথম মুক্তির স্বাদ পাবে। এ মুক্তিকে সম্পূর্ণ করে মানব চেতনাকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম তখনও অব্যাহত থাকবে। সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ায় এই দ্বিতীয় পর্যায়ের সংগ্রাম এখন আত্মপ্রকাশ করেছে।
জীবন ধারণের জৈব যন্ত্রণার গ্লানি থেকে মানুষকে প্রথমে মুক্তি দিতে হবে, কোন মানুষ যেন আত্মহত্যাকে এই গ্লানি মুক্তির পথ হিসাবে বেছে নিতে বাধ্য না-হয়। পণ্যের বাজারের অন্ধ নিয়তি ও গোলকধাঁধা থেকে মানুষকে মুক্তি দাও, জীবন্ত চেতন মানুষ যেন আর পণ্যে পরিণত না হয়।
[At this point in a certain sense separates finally from the world… it is only from this point that men, with full consciousness, will make their history themselves… it is humanity’s leap from the realm of necessity into the realm of freedom— Engels, Socialism, Scientific and Utopian]
সুতরাং যারা দর্শন শাস্ত্রকে কেবল বুদ্ধির জৌলুস বলে মনে করেন না, crossword puzzle সমাধান করার একটা খেলা মাত্র মনে করেন না, জীবন ও চেতনাকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হিসাবে যারা দর্শন শাস্ত্রকে গ্রহণ করবেন তারা মার্ক্সের দার্শনিক প্রজ্ঞার মূল কথাটি অস্বীকার করতে পারবেন না—
“The philosophers have only interpreted the world differently [various ways], the point is to change it” – Thesis on Feurbach – IX.
—প্রথম প্রকাশিত হয় মূল্যায়ন, ৪র্থ বর্ষ ৩য় সংখ্যা, শারদীয়া ১৩৭৫। দু-একটি ক্ষেত্র ছাড়া পুরোনো বানান ও যতি চিহ্ন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় তৃতীয় বন্ধনীর [ ] মধ্যে পরিচিত, এখন ব্যবহৃত ও বিকল্প শব্দ/শব্দ-বন্ধ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৭-অক্টোবর-২০২২ |