নারীশ্রম ও শ্রমিক রাজনীতির সম্ভাবনা- ২

কুমার রাণা
শ্রমিকশ্রেণির ধারণাকে তাই বাস্তব শ্রমজীবনের কাছে ফিরিয়ে আনা দরকার। যে মহিলা মিড-ডে মিল রাঁধেন, তিনি কারও আন্দোলনের সহায়ক বাহিনীর সদস্যমাত্র নন। যিনি কর্মসংস্থান প্রকল্পে মাটি কাটেন কিংবা গ্রামের রোগীর খোঁজ রাখেন, তাঁরও নিজের কাজ ও জীবনের শর্ত নির্ধারণের অধিকার আছে। কাজের বিস্তার তাঁকে অন্য শ্রমিকের কাছে এনেছে; নিজের হাতে কিছু অর্থ থাকার সুযোগ তাঁর কথা বলার ভরসা বাড়াতে পারে। এই দুই পরিবর্তনকে সংগঠিত দাবিতে রূপ দেওয়ার মধ্যেই নূতন সম্ভাবনা। মহিলাদের হয়ে অন্যেরা কথা বলবেন, এটুকু যথেষ্ট নয়। নিজেদের কথা নিজেরা বলার যে সামর্থ্য তাঁরা অর্জন করছেন, শ্রমিক রাজনীতির দিশা নির্ধারণেও তার জায়গা চাই।

প্রথম পর্বের পর...

চার

প্রকল্পকর্মীদের সুবিধা হল, ছড়িয়ে থাকলেও তাঁদের কাজ অনেক ক্ষেত্রে একই সরকারি কাঠামোর অধীন। কিন্তু তাঁরা একটি বিরাট কারখানার মতো অভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীভূত নন। ছোট ছোট স্কুল, কেন্দ্র ও গ্রামে বিচ্ছিন্নতা আছে। কেন্দ্র, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দায় ভাগ হওয়ায় দাবি কোথায় জানাতে হবে, সেটিও সব সময় সহজ নয়। এই বাধা পেরিয়ে যোগাযোগ, সভা, নেতৃত্ব এবং যৌথ কর্মসূচি তৈরি করতে হয়। সুতরাং তাঁদের রাজনৈতিক শক্তি বোঝার জন্য শুধু সংখ্যা গুনলে চলবে না। বিচ্ছিন্ন কর্মক্ষেত্রগুলিকে যুক্ত করার সংগঠন কতটা তৈরি হয়েছে, তা দেখতে হবে।

দারিদ্র্য নিজে থেকেই প্রতিবাদ তৈরি করে না। অনেক সময় তা প্রতিবাদের সামর্থ্যই কমিয়ে দেয়। কয়েক দিনের আয় বন্ধ হলে যার সংসার চলে না, তাঁর পক্ষে দীর্ঘ ধর্মঘটে থাকা কঠিন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ হলে কাজ হারানোর আশঙ্কাও থাকতে পারে। তাই এই মহিলাদের সাহসের প্রশংসার সঙ্গে সংগঠনের ব্যবহারিক সহায়তার প্রশ্ন তুলতে হবে। ধর্মঘটের সময় সহযোগিতা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা ছাড়া শুধু সংগ্রামের আহ্বান যথেষ্ট নয়। দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্ব গড়ে ওঠে দৈনন্দিন এই কাজের ভিতর দিয়ে। বড় সমাবেশের ছবি দিয়ে তার শক্তি পুরোপুরি বিচার করা যায় না।

বামপন্থী দল ও কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ভূমিকা এখানেই গুরুত্ব পায়। সেগুলি প্রকল্পকর্মীদের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে; সেগুলির অবদান অস্বীকার করলে আন্দোলনের বাস্তব ইতিহাসই মুছে যাবে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতিতেও রাঁধুনি, অঙ্গনওয়াড়ি ও অন্য প্রকল্পকর্মীদের স্বীকৃতি এবং পারিশ্রমিকের দাবি ছিল।১৪ তবু প্রশ্ন থাকে: সংগঠনের দাবিপত্রে তাঁদের কথা থাকা এবং সংগঠনের সাধারণ দিশা নির্ধারণে তাঁদের কর্তৃত্ব থাকা কি একই ব্যাপার? মহিলারা শুধু মিছিলে সংখ্যা বাড়াবেন, আর শ্রমিক রাজনীতির মূল আলোচনা অন্যেরা করবেন – এই অভ্যাস বদলানোও জরুরি।

দাবিগুলির মধ্যে মজুরি অবশ্যই প্রধান। কিন্তু সভার সময়, যাতায়াতের নিরাপত্তা, শিশুকে কোথায় রেখে আসবেন, বাড়ির কাজ কে করবেন – এসবও সংগঠনের প্রশ্ন। এগুলিকে ব্যক্তিগত অসুবিধা বলে সরিয়ে দিলে যোগদানের অধিকার কাগজে-কলমেই থেকে যায়, বাস্তবের মুখ দেখে না। একজন পুরুষ কর্মী যে সময়ে সভায় থাকতে পারেন, একজন মহিলা কর্মীর পক্ষে সে সময় বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব নাও হতে পারে। সংগঠন তখন বাস্তব বাধা দূর করবে, না অনুপস্থিতিকে অনাগ্রহ বলে ধরবে? মেয়েদের নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে হলে সংগঠনের দৈনন্দিন ব্যবস্থাও তাঁদের জীবন অনুযায়ী বদলাতে হবে। শুধু কয়েকজন মহিলার নাম কয়েকটি পদের সঙ্গে যোগ করে দিলেই হয় না।

আবার মহিলা শ্রমিক বললেই একটি সমান অভিজ্ঞতার গোষ্ঠী বোঝায় না। জাতপাত, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী পরিচিতি, জমির মালিকানা এবং পারিবারিক অবস্থান কাজের সুযোগ ও মর্যাদাকে প্রভাবিত করে। রান্নার কাজকে কোন চোখে দেখা হয়, কার হাতে তৈরি খাবার কে খেতে পারে, কে প্রকাশ্যে দাবি তুলতে পারেন – এসব প্রশ্নে সামাজিক ক্ষমতা কাজ করে। শ্রেণির ঐক্যের নামে এই অসমতা চেপে রাখলে ঐক্য শক্ত হয় না। বরং সবচেয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মীর অভিজ্ঞতাকে সাধারণ দাবির মধ্যে জায়গা দিতে হয়। সমান মজুরির সঙ্গে সমান সামাজিক মর্যাদার লড়াই অবিচ্ছেদ্য। 

জনপরিষেবার সঙ্গে এই শ্রমের সরাসরি সম্পর্ক আর একটি সম্ভাবনা তৈরি করে। রাঁধুনির ভালো কর্মপরিবেশ এবং শিশুর পুষ্টিকর ও নির্ভেজাল খাবারের মধ্যে বিরোধ নেই। আশা কর্মীর যাতায়াতের ব্যবস্থা বা বিশ্রামের সুযোগ বাড়লে রোগীর পরিষেবা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। কাজেই কর্মীর দাবি অভিভাবক, রোগী ও গ্রামের মানুষের দাবি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কারণ নেই। ধর্মঘটে পরিষেবা বিঘ্নিত হলে প্রশ্ন শুধু কর্মীরা কাজ বন্ধ করলেন কেন, তা নয়; তাঁদের ন্যায্য দাবি অমীমাংসিত থাকল কেন, সেটিও। এই যোগ তৈরি করতে পারলে শ্রমিক আন্দোলন বৃহত্তর জনসমর্থন পেতে পারে। তবে জনসমর্থনের দোহাই দিয়ে ধর্মঘটের অধিকার খর্ব করা চলবে না।

 

পাঁচ

কাজের ক্ষেত্র বাড়ার সঙ্গে মহিলাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বিতীয় দিকটি যুক্ত হয়েছে নগদ হস্তান্তরে। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মূল নির্দেশিকায় যোগ্য মহিলার নিজস্ব ব্যাঙ্ক হিসাবে অর্থ পাঠানোর কথা ছিল। ঝাড়খণ্ডের মাইয়া সম্মান যোজনা, মধ্যপ্রদেশের লাডলি বহেনা ও মহারাষ্ট্রের লাডকি বহিনের উদ্দেশ্যেও আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা আছে।১৫ এই অর্থ মজুরির বিকল্প নয়। কিন্তু যাঁর কাজ অনিশ্চিত, নিজের হাতে নগদ কম, তাঁর পক্ষে এটি কিছুটা অতিরিক্ত অবলম্বন হতে পারে। কাজ থেকে পাওয়া পরিচয় ও যোগাযোগের সঙ্গে এই অবলম্বনের যোগটিই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের হাতে কিছু টাকা থাকলে ওষুধ কেনা, যাতায়াত, সন্তানের প্রয়োজন বা নিজের ছোট খরচের জন্য প্রতিবার কারও কাছে চাইতে হয় না। তবে নিজের নামে হিসাব থাকা আর অর্থের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা এক নয়। এ নিয়ে গবেষণাও আছে। গ্রামীণ ভারতে ফিল্ড ও সহকর্মীদের পরীক্ষামূলক গবেষণায় শুধু ব্যাঙ্ক হিসাবের তুলনায় নিজের হিসাবে কর্মসূচির মজুরি পাওয়া এবং হিসাব ব্যবহারের প্রশিক্ষণ একসঙ্গে মহিলাদের কাজে যোগদান বাড়িয়েছিল।১৬ এটি নিঃশর্ত ভাতা কিংবা ভোটের গবেষণা নয়। তবু অর্থপ্রাপ্তির ব্যবস্থার সঙ্গে নারীর ব্যবহারিক ক্ষমতার সম্পর্কটি বুঝতে সাহায্য করে।

কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং নিজের হাতে অর্থ পরস্পরকে কী ভাবে সাহায্য করতে পারে? অন্য কর্মীদের সঙ্গে মিশে একজন মহিলা বুঝতে পারেন, তাঁর সমস্যা একার নয়। আবার যাতায়াত বা ছোট প্রয়োজনের জন্য প্রতিবার অনুমতি ও টাকা চাইতে না হলে সেই যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হতে পারে। সক্ষমতা বাড়ার অর্থ এখানে শুধু ভোগের পরিমাণ বাড়া নয়; নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাইরে যাওয়া এবং কথা বলার কিছুটা সামর্থ্য পাওয়া। এটি দুই ব্যবস্থার সম্ভাব্য যৌথ প্রভাবের ব্যাখ্যা, সকল প্রাপকের ক্ষেত্রে সমান ফল হয়েছে এমন দাবি নয়। পরিবারের ক্ষমতার সম্পর্ক এবং অর্থের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার ফল নির্ধারণ করে।

একই দরিদ্র মহিলা তাই শ্রমিক, জনপরিষেবার ব্যবহারকারী এবং নগদ সহায়তার প্রাপক হতে পারেন। তাঁর জীবনে এই সম্পর্কগুলি মিললেও সকল প্রাপক সরকারি কর্মী নন, তাঁদের শ্রেণি-অবস্থানও এক নয়। আলোচনার বিষয় সেই শ্রমজীবী মহিলারা, যাঁদের ক্ষেত্রে কাজের বিস্তার ও হাতে নগদ টাকা আসা – এই দুই অভিজ্ঞতা মিলছে। এই যোগ তাঁদের অভাব মুছে দেয়নি; কিন্তু অভাব সম্পর্কে নিজেরা কথা বলা এবং প্রতিকার দাবি করার সামর্থ্য কিছুটা বাড়াতে পারে।

নগদ সহায়তার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়াকে অনেকে লেনদেনের ভোট বলে তাচ্ছিল্য করেন। অথচ অন্য সামাজিক গোষ্ঠী করছাড়, ব্যবসার সুবিধা বা চাকরির প্রতিশ্রুতি বিচার করলে তা স্বাভাবিক স্বার্থবোধ বলে মানা হয়। গরিব মেয়েরা নিজের সংসারের বস্তুগত অবস্থার বিচার করলে আপত্তি কেন? তাঁর পছন্দের সঙ্গে দ্বিমত হতে পারে, প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্নও করা যায়। কিন্তু তাঁকে বিচারবুদ্ধিহীন প্রাপক ধরে নিলে গণতন্ত্রের ধারণাই দুর্বল হয়। রাজকোষ থেকে দেওয়া টাকা কোনও নেতার ব্যক্তিগত দান নয়। প্রাপকের সমর্থনও সেই কারণে স্থায়ী কৃতজ্ঞতার বন্ধনে বাঁধা থাকার কথা নয়।

ছয়

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের নির্বাচনের আলোচনা এই প্রশ্নকে জোরালো করেছে। নির্বাচন কমিশনের মে মাসের ফলের পাতায় দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের হিসেবটা উল্টে গেছে – বিজেপি সীমিত সংখ্যক বিধায়ক নিয়ে বিরোধী অবস্থান থেকে শাসনক্ষমতায় এসেছে। তৃণমূল পূর্বেকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে প্রায় প্রান্তিক। কিন্তু এই ফল থেকে এটা স্পষ্ট হয় না যে, কত মহিলা পছন্দ বদলেছেন, কেন বদলেছেন, কিংবা নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতির ওজন কত ছিল। তার জন্য নির্ভরযোগ্য ভোট-পরবর্তী সমীক্ষা এবং অন্য কারণের সঙ্গে তুলনা দরকার। শুধু আসনসংখ্যা দিয়ে মহিলাদের সম্মিলিত শ্রেণি-দর-কষাকষির সিদ্ধান্ত টানা তাই ঠিক হবে না। সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্যের ফারাক রাখা জরুরি। 

ভোটে নিজের বস্তুগত স্বার্থ বিচার করা রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকাশ হতে পারে; কিন্তু তা সংগঠিত শ্রেণিচেতনার সমার্থক নয়। কর্মক্ষেত্রের যৌথ দাবি, ইউনিয়নের আলোচনা এবং নির্বাচনী পছন্দের মধ্যে যোগ তৈরি হতে পারে, আবার বিচ্ছেদও থাকতে পারে। একই ব্যক্তি মজুরির প্রশ্নে সহকর্মীর সঙ্গে আন্দোলন করে অন্য বিবেচনায় ভোট দিতে পারেন। সেই জটিলতাকে অস্বীকার করে ভোটব্যাঙ্ক কিংবা বিপ্লবী শক্তি, কোনও একটি নামে সব মহিলাকে চিহ্নিত করা চলে না। বরং জানতে হবে, দৈনন্দিন দাবি কী ভাবে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়, এবং নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে তার সংগঠন কী ভাবে টিকে থাকে।

নগদ সহায়তাকেও তাই সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহনের খরচ বাড়লে সামান্য ভাতার উপকার দ্রুত কমে যেতে পারে। ব্যবস্থার অসঙ্গতি প্রশ্ন করার অধিকার প্রাপকের আছে: কেন রাষ্ট্র কম মজুরিতে পরিষেবা চালাবে? আবার কেন সেই আয়ের ঘাটতি আংশিক পূরণ করবে ভাতা দিয়ে? কেন ভাতার টাকা দিয়ে আবার সেইসব খরচ মেটানো হবে (যেমন প্রাইভেট ট্যুশন, বা ওষুধপত্র, ইত্যাদি) যে খরচগুলো হবার কথাই না – রাষ্ট্র যেগুলো দেবার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ? ভালো মজুরি, সর্বজনীন জনপরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে পরস্পরের বিকল্প না করে একসঙ্গে দাবি করতে হবে। মেয়েদের ঘরের কাজও পরিবারের অন্য সদস্য ও সামাজিক পরিষেবার মধ্যে ভাগ হওয়া দরকার। শ্রমের স্বীকৃতি মানে আরও কাজ তাঁদের উপর চাপিয়ে তার প্রশংসা করা নয়।

সাত

এই অর্থেই কাজের ক্ষেত্রের প্রসার ও নগদ হস্তান্তরের যোগকে শ্রমিকশ্রেণির নিজের কথা বলার সামর্থ্য তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা দরকার। খেতমজুর, গৃহপরিচারিকা বা ইটভাটার শ্রমিকের পুরনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরকারি কাজে যুক্ত হওয়া এবং নিজের হাতে অর্থ পাওয়ার অভিজ্ঞতা মিশছে। প্রকল্পকর্মীরা এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁরা নারী বলে স্বভাবতই অগ্রণী নন; তাঁদের সম্ভাবনার ভিত্তি অভিন্ন দাবি, জনপরিসরে উপস্থিতি এবং সংগঠনের সুযোগ। কাজের দাবি, অর্থের উপর নিজের অধিকার এবং মর্যাদার প্রশ্নকে একসঙ্গে আনতে পারলে এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। নিজের গলায় নিজের কথা বলা তখন ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্মিলিত রাজনৈতিক শক্তিরও প্রকাশ।

শ্রমিকশ্রেণির ধারণাকে তাই বাস্তব শ্রমজীবনের কাছে ফিরিয়ে আনা দরকার। যে মহিলা মিড-ডে মিল রাঁধেন, তিনি কারও আন্দোলনের সহায়ক বাহিনীর সদস্যমাত্র নন। যিনি কর্মসংস্থান প্রকল্পে মাটি কাটেন কিংবা গ্রামের রোগীর খোঁজ রাখেন, তাঁরও নিজের কাজ ও জীবনের শর্ত নির্ধারণের অধিকার আছে। কাজের বিস্তার তাঁকে অন্য শ্রমিকের কাছে এনেছে; নিজের হাতে কিছু অর্থ থাকার সুযোগ তাঁর কথা বলার ভরসা বাড়াতে পারে। এই দুই পরিবর্তনকে সংগঠিত দাবিতে রূপ দেওয়ার মধ্যেই নূতন সম্ভাবনা। মহিলাদের হয়ে অন্যেরা কথা বলবেন, এটুকু যথেষ্ট নয়। নিজেদের কথা নিজেরা বলার যে সামর্থ্য তাঁরা অর্জন করছেন, শ্রমিক রাজনীতির দিশা নির্ধারণেও তার জায়গা চাই।

সূত্র: 

১৪ The Times of India. (2025, June 16). AICCTU national  meet chalks out plan for July 9 strike.

১৫ Government of West Bengal. (2021, July 30). Guidelines of Lakshmir Bhandar; Government of Madhya Pradesh. (n.d.). Mukhyamantri Ladli Behna Yojana: About the scheme; Government of Maharashtra. (2024). Mukhyamantri–Mazi Ladki Bahin Yojana. Nashik District administration.

১৬ Field, E., Pande, R., Rigol, N., Schaner, S., & Troyer Moore, C. (2021). On her own account: How strengthening women’s financial control impacts labor supply and gender norms. American Economic Review, 111(7), 2342–2375.


প্রকাশের তারিখ: ১৫-অক্টোবর-২০২৬

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org