শ্রমজীবী মা ও আলেকজান্দ্রা কলোনতাই

উর্বা চৌধুরী
পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং পিতৃতান্ত্রিক পরিবার এক্ষেত্রে যৌথভাবে কার্যকর হয়- পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যুৎসই বেসরকারি নিয়োগকারী শ্রমজীবী মাকে তাঁর প্রাপ্য সুবিধা, যেমন – সবেতন এমনকি বিনা-বেতনের মাতৃত্বকালীন ছুটিও মঞ্জুর করতে বাধ্য থাকে না, তাই মঞ্জুর করে না, ছাঁটাই করে। এমনকি সরকারি ক্ষেত্রও বহু সময়ে প্রতিকূল ভূমিকা গ্রহণ করে – যেমন, ৩৬৫ দিন যে আশাকর্মীরা (কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার) ভারতের গাঁ-গঞ্জে, শহরে, নগরে লক্ষ লক্ষ গর্ভবতী নারীদের, প্রসূতি মায়েদের ছয় মাস বয়স অবধি শিশুর কেবলমাত্র মাতৃদুগ্ধ পান সম্পর্কে সচেতন করে চলেছেন, সেই আশাকর্মীরাই বহু লড়াইয়ের পর বর্তমানে নিজেরদের জন্য আদায় করতে পেরেছেন মাত্র ৪৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি।

“শ্রমজীবী মা আপন-পরের তফাৎ ভুলে যেতে শিখবে। সে জানবে, সন্তান আমাদের, সন্তান রাশিয়ার কমিউনিস্ট শ্রমজীবীর।শ্রেণি সংগ্রামে যুক্ত শ্রমজীবী নারীর উন্নত চেতনা এক নতুন জীবনদৃষ্টি গড়ে তোলে। সন্তানের প্রতি “মালিকানার” বোধ তাঁর ঘুচে যায়। শ্রমজীবী নারী ভুলতে শেখে - “এরা আমার সন্তান, আমার যত্ন ও স্নেহ এদের জন্যই; ওরা অপরের সন্তান, ওদের নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। ওরা ক্ষুধার্ত থাকলে, শীতে কাঁপলে আমার কিছু আসে যায় না – অন্য কারও শিশুর জন্য ভাবার মতো সময় আমার নেই।"– লিখছেন আলেকজান্দ্রা কলোনতাই।   

কলোনতাইয়ের ‘কমিউনিজম ও পরিবার’ (‘কমিউনিজম অ্যান্ড দ্য ফ্যামিলি’) প্যামফ্লেটটি প্রকাশ পায় ১৯২০ সালে। প্রথাগত পরিবার, তার গড়ে ওঠার, বিবর্তনের, অভিযোজনের ধরন এবং তার উপর পিতৃতান্ত্রিক উৎপাত নিয়ে চর্চার মাঝে এই প্যামফ্লেটে শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মা, মাতৃত্ব, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের পারস্পরিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নেয়। এই লেখা ছুঁতে থাকে পুঁজিবাদী সমাজের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক সমাজের বুনিয়াদি নীতিগত ফারাকগুলিকে। 

শিশু সমাজের সম্পদ, তাই দায়বদ্ধতাও বটে, কেবলই পরিবারের দায়বদ্ধতা নয় – এ কথা আলেকজান্দ্রা কলোনতাইয়ের আলোচনায়, চর্চায়, প্রস্তাবে বার বার উঠে আসতে দেখি আমরা। তবে তৎকালীন বুর্জোয়া সমাজের পক্ষ থেকে অপপ্রচার ছিল যে, সন্তানকে মা-বাবার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রের করায়ত্ত করতে চায় সোভিয়েত শ্রমিক-রাষ্ট্র। সেই সূত্রেই প্যামফ্লেটটিতে কলোনতাই লিখছেন– 

“শ্রমজীবী ​​মায়েদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুদের পিতামাতার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার, মায়ের বুক থেকে শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা কমিউনিস্টদের নেই। পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য বলপূর্বক কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও করে না কমিউনিস্টরা। কমিউনিস্ট সমাজের উদ্দেশ্য অনেকটাই ভিন্ন। কমিউনিস্ট সমাজ দেখছে যে, সাবেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে…গার্হস্থ্য অর্থনীতি ক্ষয়িষ্ণু। শ্রমজীবী ​​পিতামাতারা তাঁদের সন্তানদের যত্ন নিতে বা তাদের খাদ্য ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে উঠতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে পিতামাতা ও সন্তান সমানভাবে ভুক্তভোগী।“ 

প্রশ্ন হল, আলেকজান্দ্রা কলোনতাইয়ের কাজ কতটা তৎকালীন আর কতটা সমকালীন? কতটা কেবলই ইতিহাসের এক অভিনব চরিত্র হিসাবে আমরা তাঁকে উদযাপন করব আর কতটাইবা খুঁটিয়ে পড়ে তাঁর সাহায্য নেব দিনবদলের কাজে? এবং তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল, মাতৃত্বকে অস্বীকার না করে, বরং মাতৃত্বের সুরক্ষার জন্য একের পর এক পদক্ষেপের পক্ষে থাকা আলেকজান্দ্রা কলোনতাইয়ের রাজনীতি এবং ক্রমশ বীতমানবিক হতে থাকা পুঁজিবাদী রাজনীতি, “শ্রমজীবী মাকে” কী দিতে পারল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে আসে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বেশ কিছু ঘটমান বর্তমানের বন্দোবস্তের প্রসঙ্গ – 

কেবলমাত্র একশ বছর আগের সমাজে নয়, পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই আজও প্রথাগত পরিবার কাঠামোয়, সমাজ কাঠামোয় ‘মা’ ও ‘মাতৃত্বের’ ধারণা সম্পর্কে বোঝাপড়ায় মানুষের স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তি মায় পিতৃতন্ত্রের যৌথ প্রভাব স্পষ্ট। অর্থাৎ একদিকে মাতৃত্বের ধারণার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই জড়িয়ে থাকছে সন্তানের প্রতি ভালবাসা, বাৎসল্য, স্নেহ, মমতার বোধ, অপরদিকে সেই মাতৃত্বের সঙ্গেই জড়িয়ে রাখা থাকছে সন্তানের প্রতি মায়ের একার ব্যক্তিগত কর্তব্যের ফর্দ। বোঝা যায়, দ্বিতীয়টি হল, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সামাজিক নির্মাণ– যেখানে সমাজ ‘সন্তান’-কে কেবলই পরিবারের দায়িত্ব বানিয়ে রাখতে চায়   এবং পরিবারের আধার যে ‘ঘর’ সেই ঘরের দায়িত্ব বলেই সন্তানপালন অচিরেই হয়ে ওঠে একান্তভাবে মায়ের দায়িত্ব।  

এমনই পরিহাস, মায়ের এই ‘দায়িত্ব’-এর প্রেক্ষিতে আজকের সময়ে পৌঁছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উদারবাদী সমাজবিজ্ঞানকেই উচ্চারণ করতে হচ্ছে এক জোড়া শব্দ – “মাতৃত্বের সাজা” (“মাদারহুড পেনালটি”)। যার জেরে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা-সহ আর্থিক কার্যকলাপে যুক্ত প্রায় সব নারীদেরই মা হওয়ার পর থেকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে রকমারি বৈষম্যের। মজুরির পরিমাণ, কর্মঘন্টা, পদোন্নতি, কর্মসংস্থান – এ জাতীয় একাধিক ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মায়েদের বিপন্নতা বাড়ছে রোজ। 

শ্রমবাহিনীতে যোগদান (লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশান) প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশানাল লেবার অরগানাইজেশানের ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারী ও পুরুষের মধ্যে শ্রমবাহিনীতে যোগদানের মধ্যে তফাৎ যেখানে ২৯.২ শতাংশ, সেখানে ওই একই বয়সী নারী-পুরুষ, যাঁদের ৬ বা তার চেয়ে কম বয়সী শিশু রয়েছে, তাঁদের শ্রমবাহিনীতে যোগদানের মধ্যে তফাৎ ৪২.৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের ফসেট সোসাইটির প্রতিবেদন জানাচ্ছে, চার বছর বা তার কম বয়সী শিশু আছে এমন প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমজীবী মা সন্তানের লালনপালনের জন্য পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে বাধ্য হয়েছেন কাজ ছাড়তে। অর্থাৎ নারীদের শ্রমবাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে যে সমস্যা আজ গোটা বিশ্ব জুড়ে আলোচিত, তার অন্যতম প্রধান কারণ সন্তানপালনের দায়িত্ব কেবলই মায়ের উপর ন্যস্ত হয়ে যাওয়া। আসলে, শিশুকে কেবল পরিবারের “দায়” বানিয়ে রাখা, শিশুর প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিদিন বাড়তে থাকা দায়িত্ব-স্খলন, দিনে দিনে হয়ে দাঁড়ায় শ্রমজীবী মায়ের পক্ষে দুর্বিষহ! প্রথাগত পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের ধ্বজাধারী, মাতৃত্বকে মাত্রাতিরিক্ত গৌরবদানকারী পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মাতৃত্বকে একটা শাস্তি বানিয়ে ছাড়ে!    

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং পিতৃতান্ত্রিক পরিবার এক্ষেত্রে যৌথভাবে কার্যকর হয়- পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যুৎসই বেসরকারি নিয়োগকারী শ্রমজীবী মাকে তাঁর প্রাপ্য সুবিধা, যেমন – সবেতন এমনকি বিনা-বেতনের মাতৃত্বকালীন ছুটিও মঞ্জুর করতে বাধ্য থাকে না, তাই মঞ্জুর করে না, ছাঁটাই করে। এমনকি সরকারি ক্ষেত্রও বহু সময়ে প্রতিকূল ভূমিকা গ্রহণ করে – যেমন, ৩৬৫ দিন যে আশাকর্মীরা (কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার) ভারতের গাঁ-গঞ্জে, শহরে, নগরে লক্ষ লক্ষ গর্ভবতী নারীদের, প্রসূতি মায়েদের ছয় মাস বয়স অবধি শিশুর কেবলমাত্র মাতৃদুগ্ধ পান সম্পর্কে সচেতন করে চলেছেন, সেই আশাকর্মীরাই বহু লড়াইয়ের পর বর্তমানে নিজেরদের জন্য আদায় করতে পেরেছেন মাত্র ৪৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি। এর পরিণামে কাজ ছেড়ে ঘরবন্দী হতে হচ্ছে বিরাট সংখ্যক শ্রমজীবী মায়েদের। আবার পরিবারের প্রত্যাশায়, নির্বিষ নয়, দমনমূলক প্রত্যাশায়ও, বাইরের কাজের পাট চুকিয়ে ঘরে ঢুকে পড়তে হচ্ছে বহু শ্রমজীবী মায়েদের – কারণ পরিবারও দেখতে চাইছে এমন এক “মা”-কে, যার আস্ত বেঁচে থাকাটাই ঘটে চলবে সন্তানকে কেন্দ্র করে।  

প্রথাগত পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের দোষ-ত্রুটির দিকে যখন আঙুল তুলছিলেন কলোনতাই, তখন তাঁর প্রস্তাব একবারও এটা ছিল না যে, শ্রমজীবী নারী “মা” হবেন না, বরং তিনি বলছেন –

“কমিউনিস্ট সমাজ শ্রমজীবী ​​নারী এবং শ্রমজীবী ​​পুরুষদের বলতে চায়: “তোমরা তরুণ, তোমরা একে অপরকে ভালবাসো। আনন্দের অধিকার সকলের আছে। তোমরা নিজেদের মতো করে নিজেদের জীবন যাপন করো…বিয়েকে ভয় কোরো না, যদিও পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বিয়ে সত্যিই এক দুঃখের শিকল। সন্তান লাভ করতে ভয় পেয়ো না। সমাজে আরও অনেক কর্মী প্রয়োজন এবং প্রতিটি শিশুর জন্মে সমাজ উল্লসিত হয়। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না; তোমাদের সন্তান ক্ষুধায় বা শৈত্যে কষ্ট পাবে না।" কমিউনিস্ট সমাজ প্রতিটি শিশুর যত্ন নেয়… এই সমাজ শিশুর খাদ্যের দায়িত্ব নেবে, লালন-পালন করবে এবং তাকে শিক্ষিত করবে।… এগুলি কমিউনিস্ট সমাজের পরিকল্পনা, এবং এই সমাজ বলপ্রয়োগ করে পরিবারকে ধ্বংসও করবে না বা মা ও সন্তানকে বিচ্ছিন্নও করবে না।“  এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে এমন পরিকল্পনাও ছিল যাতে প্রথাগত পরিবার টিঁকে থাকার কারণে নারীর শ্রমজীবী সত্তা বিকশিত হওয়ার পথে বাধা না পায়, সন্তান যেন কেবলই নারীর জন্য ধার্য ব্যক্তিগত পারিবারিক সেবাকাজ (কেয়ার অ্যাকটিভিটি) না হয়ে দাঁড়ায় – তার ব্যবস্থা করা। শ্রমিক-রাষ্ট্র সোভিয়েতে সুনিশ্চিত করা হয়েছিল গর্ভবতী নারীর নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাব্যবস্থা, দেখভাল, প্রসবের সময়ে হাসপাতালের ব্যবস্থা, সবেতন প্রয়োজনীয় মাতৃত্বকালীন ছুটি, সন্তানের জন্মের পর কাজে যোগ দিতে পারার অধিকার, কাজে যোগ দেওয়ার পর সন্তানকে স্তন্যদানের জন্য দৈনিক নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিরতি, সন্তানের পোশাক, খাদ্য, শিক্ষার ব্যবস্থা, মায়ের কর্মরত অবস্থায় শিশুর জন্য ক্রেশ। 

বিপ্লব-পূর্ববর্তী রাশিয়ায় গর্ভবতী নারীর অবস্থার তুলনামূলক বিবরণ দিতে গিয়ে ও বিত্তশালী পরিবারের মায়েদের ও শ্রমজীবী মায়েদের সামাজিক মর্যাদা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে কলোনতাই লিখছেন আরেকটি প্যামফ্লেট – ‘ওয়ার্কিং ওম্যান অ্যান্ড মাদার’। এই প্যামফ্লেটের বিষয়বস্তু এগোচ্ছে অধিকর্তার স্ত্রী ম্যাশেঙ্কা ও তাকে ঘিরে থাকা একাধিক শ্রমজীবী মাশা, ম্যাশেঙ্কাদের বৃত্তান্ত-সহ – লেখা হয়, কেমন যত্নে, সম্মানে কাটে অধিকর্তার স্ত্রীয়ের গর্ভাবস্থা আর একই সময়ে কেমন তাচ্ছিল্যে, বঞ্চনায়, হেনস্থায় কাটে শ্রমজীবী মাশা, ম্যাশেঙ্কাদের গর্ভাবস্থা। শ্রমজীবীর মাতৃত্বের সঙ্গে কী কী ভাবে জড়িয়ে পড়ে যৌন নির্যাতন, বিবাহহীন অবস্থায় সন্তানধারণ – সে কথাও কলোনতাই উল্লেখ করেন প্যামফ্লেটে। শ্রমজীবী মায়েদের এই অসহনীয় বাস্তবতা নিয়ে বারবার চর্চার পরিণতিতে আমরা পড়ি ‘দ্য ফার্স্ট স্টেপস্‌ টুওয়ার্ডস্‌ দ্য প্রোটেকশান অফ মাদারহুড’ (১৯১৮), সেখানে কলোনতাই উল্লেখ করছেন – “একথা মনে রাখা উচিত যে, মা ও শিশুর সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে প্রস্তাব এসেছিল শ্রমজীবী ​​নারীদের কাছ থেকে। আগে খুব কম সংখ্যক শ্রমজীবী ​​নারীই সক্রিয়ভাবে সোভিয়েতে (নির্বাচিত পর্ষদ) যোগদান করেছিলেন। কিন্তু সোভিয়েতের ক্ষমতার প্রথম দিন থেকেই, মাতৃত্বের ভার কমানোর ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাজে শ্রমজীবী ​​নারীরা গঠনমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন।“ বোঝা যায়, মাতৃত্বের দায়িত্বপালনের প্রশ্নে কাজ ছেড়ে ঘরে ঢুকে পড়ার বাসনা থাকে না সক্ষম শ্রমজীবী মায়ের – এবং কেবলমাত্র সহযোগী রাষ্ট্রব্যবস্থাই শ্রমজীবী মায়েদের মর্যাদা, অধিকার ও সক্ষমতার বিকাশ, রক্ষা ও সুনিশ্চিত করতে পারে। আর সহযোগের প্রশ্নে শ্রমজীবীর জন্য সেরা ব্যবস্থা সমাজতন্ত্র ছাড়া আর কীই বা হতে পারে!  


সূত্র:

কলোনতাই, এ (১৯১৬). ‘ওয়ার্কিং ওম্যান অ্যান্ড মাদার’. সিলেক্টেড রাইটিংস অফ আলেকজান্দ্রা কলোনতাই থেকে পুনঃমুদ্রিত প্যামফ্লেট, অ্যালিসন ও বাসবি, ১৯৭৭; ভাষান্তর: অ্যালিক্স হল্ট
কলোনতাই, এ (১৯২০). ‘কমিউনিজম অ্যান্ড দি ফ্যামিলি’. সিলেক্টেড রাইটিংস অফ আলেকজান্দ্রা কলোনতাই থেকে পুনঃমুদ্রিত প্যামফ্লেট, অ্যালিসন ও বাসবি, ১৯৭৭; ভাষান্তর: অ্যালিক্স হল্ট
কলোনতাই, এ (১৯১৮). ‘দ্য ফার্স্ট স্টেপস্‌ টুওয়ার্ডস্‌ দ্য প্রোটেকশান অফ মাদারহুড’. মাই লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্ক, ১৯৭৪, মস্কো
‘মাদারহুড পেনালটি ‘হ্যাজ ড্রিভেন ২,৫০,০০০ উইমেন আউট অফ লেবার ফোর্স’’. দ্য গার্ডিয়ান, ৫ নভেম্বর ২০২৩


প্রকাশের তারিখ: ৩১-মার্চ-২০২৫

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org