উদ্বিগ্ন মোদী, তাই বেপরোয়া

ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
সিএসডিএস-লোকনীতি বা মোতিলাল অসওয়ালের মতো রেটিং সংস্থার সমীক্ষায়  যে ছবি উঠে এসেছে সেটাই ভারতবর্ষের আসল চেহারা। দরিদ্র, অভুক্ত, নিরন্ন, কর্মহীন, আশা-আকাঙ্ক্ষাহীন, মলিন এক ভারতবর্ষ। গ্রীষ্মের খর তাপে দগ্ধ, নিঃশেষিত প্রাণ। শ্রমিকের কাজ নেই, মজুরি নেই, সম্মান নেই, টিকে থাকার আশা নেই। কৃষকের ফসলের দাম নেই, দেনার দায়ে বাড়ছে আত্মহত্যা। নারীর সম্মান ধূলায় লুণ্ঠিত। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে ভিজে গেছে দেশের মাটি। ভারতবর্ষ আজ এমনই দুঃসহ এক দিনাতিপাত করছে সঙ্কট জর্জর অবস্থায়। আর সেই দেশের মাথায় এক শাসক বসে, দেশি বিদেশি পুঁজির তল্পিবাহক হয়ে, কতগুলো মিথ্যাস্বপ্নের জাল বুনে, রূপকথার সেই গ্রিক অ্যাথলিটের মতো দাবি করছেন, ‘এই তো রোডস, এখানে লাফ দাও।’ এর মানে, এমন একটা পরিস্থিতি আমি তৈরি করে দিয়েছি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই।

দেশি-বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী, একচেটিয়া ও কর্পোরেট পুঁজি, দেশি-বিদেশি ধান্দার ধনতন্ত্র এবং হিন্দুত্ববাদী বিজেপি-আরএসএস, এই ত্রিশক্তির জোট আগামী পাঁচ বছর ভারতের শ্রম ও সম্পদ অবাধে লুঠ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে জেতাতে মরিয়া হয়ে নেমে পড়েছে। কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত দেশি-বিদেশি মিডিয়া, যার মধ্যে রয়েছে নিউজউইকের মতো পত্রিকাও, দেশি-বিদেশি রেটিং সংস্থা, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাঙ্ক — এরা সকলে মিলে মোদির আমলে ভারতের অর্থনীতি কীভাবে গড়গড়িয়ে এগিয়ে চলেছে, সেই ন্যারেটিভ সযত্নে রচনা করতে ব্যস্ত অর্থনীতির আসল ক্ষতগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে। ব্যস্ত, কারণ ভারতের মতো এত বিশাল মাপের বাজার লুঠ করার এমন অবাধ সুযোগ নয়া উদারবাদী পুঁজি কখনই হাতছাড়া করতে চায় না।

ত্রিশক্তির এই জোটের আগ্রাসী মুখ হয়ে উঠেছেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। বিশেষ করে রামমন্দির নির্মাণের পর থেকে তিনি নিজেকে গোটা জাতির ঊর্ধ্বে থাকা এক সর্বেশ্বর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগী। বিপুল ধর্মাচরণের দেশ ভারতবর্ষে মোদী দাবি করতে শুরু করেছেন, তিনি ঈশ্বরপ্রেরিত। একইসঙ্গে অষ্টাদশ ব্রুমেয়ারের পরবর্তী পর্বে লুই বোনাপার্টের কায়দায় তাঁর দাবি, আমিই রাষ্ট্র। মোদী যে সর্বত্র বলে বেড়াচ্ছেন, আর কারোর নয়, শুধু মোদীরই গ্যারান্টি, এই কথাটার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে ‘আমিই রাষ্ট্র’ শব্দবন্ধটি। এবং তা বিজেপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতেও জায়গা করে নিয়েছে। দেশি-বিদেশি বুর্জোয়াদের মদতে ৭৫ বছরের সংসদীয় ভারতকে মোদী পরিণত করেছেন নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রে। এবার ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে এই দেশকে নিখাদ ফ্যাসিবাদী স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন তিনি। সেখানে নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চান ঈশ্বরপ্রেরিত দেশনায়ক হিসাবে। কথাগুলোর খোলস ছাড়ালে যা বেরিয়ে আসে তা হল রাজার মত ক্ষমতাশালী, সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন এক স্বৈরাচারী শাসক, যার অবস্থান দেশ, জাতি এমনকি শাসকের নিজের শ্রেণিরও ঊর্ধ্বে। এই পথে মোদীর পরিকল্পিত পদচারণা অনেক দিনের। আরএসএস তাদের মনোজগতে এমনই এক ‘রাজা’ চায় যিনি বলবেন, ‘এক ধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত বেঁধে দিব আমি।’ 

কিন্তু সত্যিই কি মোদী এতটাই ক্ষমতাবান? গত এক মাসে ভারতীয় রাজনীতির গতিধারা যে দিকে বইছে তাতে কিন্তু মোদীকে তেমন সর্বশক্তিমান বলে মনে হচ্ছে না। বরং অনেক বেশি উদ্বেগকে তিনি আড়াল করতে ব্যস্ত।

মোদি নির্বাচনী অশ্বমেধের ঘোড়াকে চালনা করা শুরু করেছিলেন ৪০০ আসনে জিতে আসার সদম্ভ ঘোষণা দিয়ে। ভেবেছিলেন, স্রেফ প্রচারের তুরীভেরী বাজিয়ে এবং গোদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের মনে আশঙ্কার কাঁপন ধরিয়ে তুড়ি মেরে জয় করে নেবেন গোটা ভারত। কিন্তু প্রথমেই তাঁর দম্ভের ফানুসটাকে ফাটিয়ে দিলেন বামপন্থীরা। নির্বাচনী বন্ড কেলেঙ্কারি ইস্যু সামনে আসতেই মোদি তথা আরএসএস-বিজেপি জোটের দুর্নীতিগ্রস্ত চেহারাটা একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল গোটা দেশের সামনে। পাশাপাশি, অত্যন্ত নিঃশব্দে রাজ্যে রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটকে পাল্টা মঞ্চ হিসাবে দাঁড় করিয়ে মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানালেন বামেরাই। 

বিপদ অপ্রত্যাশিত ভাবে দুদিক থেকে আসায় থমকে দাঁড়াতে হল মোদিকে। তিনি দেখলেন, বন্ড কেলেঙ্কারির কালো কালো রোঁয়াগুলো হাওয়ায় উড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অতএব এর পাল্টা দুর্নীতির আরও ঝাঁঝালো অভিযোগ নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে। দাবি করলেন, বিরোধীরা পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি এবং বিজেপি ধোয়া তুলসীপাতা। এবং ফ্যাশিস্ত প্রচারের কায়দায় এই মিথ্যাকে সত্য প্রমাণে উঠে পড়ে লাগলেন তিনি। 

মোদি দেখলেন, আপ-কংগ্রেস আঁতাত দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটে অঙ্কের হিসাবে এলোমেলো করে দিতে পারে তাঁর ভোটে জেতার ছক। অতএব, গ্রেপ্তার করা হল কেজরিওয়ালকে। গ্রেপ্তার করা হতে পারে আপের আরও নেতাকে। লক্ষ্য, নির্বাচনের আগে আম আদমি পার্টির শীর্ষস্তরকে ছিন্নভিন্ন করে তাদের ভোট ব্যাঙ্ক বিপর্যস্ত করে ফেলা। একই ছক দেখা গেল ঝাড়খণ্ডে। লক্ষ্য, হেমন্ত সোরেনকে জেলে পুরে বিরোধী শিবিরকে ছত্রভঙ্গ করে ঝাড়খণ্ড দখল। মহারাষ্ট্রও মোদির হিসাবে মিলছে না। মহা বিকাশ আগাড়ি আসন সমঝোতা করে ফেললেও  শিন্ডে আর অজিত পাওয়ারের শিবিরের দ্বন্দ্ব মিটছে না। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে যে কোনও বিশ্লেষকই মহারাষ্ট্রের ভোটের ফল নিয়ে কিছু বলতে সাহস করছেন না। ফলে মোদী উদ্বেগে মহারাষ্ট্র নিয়েও। বিহারে এবার বিজেপি শিবিরের নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত নয়। প্রার্থী মনোনয়নে জাতপাতের সমীকরণ বদলে বিজেপি জোটের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছেন লালুপ্রসাদ। ওদিকে তেজস্বী উপমুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন চাকরি দিয়েছেন বহু বেকারকে। তারও সুফল মিলবে ভোটে। তাই নীতীশ কুমারকে ফিরে পেয়েও বারে বারে বিহারে প্রচারে আসতে হচ্ছে মোদিকে। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টির জোট চিন্তায় রেখেছে বিজেপি শিবিরকে। মোদীর সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা দক্ষিণ ভারত। এবারও কি শূন্য হাতে ফিরতে হবে? কর্ণাটক এবার কংগ্রেসের দখলে। কেরলে বাম। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে। তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস। একের পর এক দুয়ারে থানা গেড়ে বসে বিরোধীরা। তাহলে কি বিন্ধ্য পর্বতের এপারেই থেমে যাবে মোদীর রথ? সেই আতঙ্কেই মোদী বারে বারে ছুটে যাচ্ছেন যদি কিছু আসন তামিলনাড়ু থেকে বের করে আনা যায়। যদিও তাঁর হাতে ধর্মীয় বিভাজন ছাড়া আর কোনও অস্ত্র নেই।

মাথাব্যথা রয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কৃষকদের নিয়েও। পাঞ্জাবে গ্রামে ঢুকলে বিজেপি নেতাদের তাড়া করছেন কৃষকেরা। গোদি মিডিয়ার দৌলতে সেখবর সামনে আসে না। চরণ সিংকে ভারতরত্ন দিয়ে এবং জয়ন্ত চৌধুরিকে এনডিএতে টেনে এনে চলছে জাঠ কৃষকের ভোট ভাগ করার প্রয়াস। যিনি চারশর বেশি আসনে জিতবেন তিনি কেন এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির কাছে সাহায্যপ্রার্থী হবেন, সেই প্রশ্নটা আড়াল করে রাখছে গোদি মিডিয়া। সব জাঠ কৃষক যে মোদীর জুমলায় ভুলবেন না, সে খবরও আসছে অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো। অন্যদিকে আরএসএর যখন বলছে, দেশে হিন্দু রাষ্ট্র চাই, সংবিধানের বদল চাই, তখনও মোদীর জুমলা, সংবিধান বদল হবে না। স্বয়ং আম্বেদকার এসেও সংবিধান বদলাতে পারবেন না। দলিতকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে মেরে শেষে আম্বেদকারে এত ভক্তি? ভোটর সময়? নাকি দলিত ভোট নিয়ে উদ্বেগ?

তবে প্রচার যে রাজ্যেই করুন, কোথাওই মানুষের উন্নতির কথা আর মুখে আনছেন না মোদী। সম্পদের বিপুল বৈষম্য, বিপুল বেকারি, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, বিপুলভাবে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়া ও ঋণের বোঝা বৃদ্ধি — সম্প্রতি সামনে আসা একের পর এক এই সব ক্ষেপণাস্ত্র মোদির ৫ লক্ষ কোটির অর্থনীতি গড়ার দাবিকে আপাতত হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে অর্থনীতি ও উন্নয়ন ছেড়ে প্রচারে মোদি হাতিয়ার করতে বাধ্য হচ্ছেন সেই বিভাজনের রাজনীতিকেই। শেষ পর্যন্ত বহু ব্যবহৃত হিন্দুত্বের তাসই হয়ে উঠছে তাঁর টেক্কা দেওয়ার হাতিয়ার। অতএব সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে ঘৃণা উস্কে দেওয়া, তাদের সঙ্গে বিরোধীদের এক করে দেখানো, এমনকী মাছ খাওয়ার ভিডিও কিংবা মাংস রান্নার ছবিকে প্রচারে টেনে এনে ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতিকে উস্কে দিচ্ছেন মোদী। চেষ্টা করছেন হিন্দু ভোটকে সংহত করার। আবার দক্ষিণে কখনও ক্ষুদ্র একটা দ্বীপের প্রসঙ্গ তুলে, কোথাও আবার শহরের নামবদলের রাজনীতিকে সামনে এনে ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে। সাফল্যের তালিকা কতটা ছোট হলে, এবং ব্যর্থতার তালিকা কতটা বড় হলে — ‘ঈশ্বরের প্রতিনিধি’কে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ভাষণের মতো বহু ব্যবহৃত একটা অস্ত্রকেই কেন ব্যবহার করতে হয়, কেন তূণীরে নতুন তির আর থাকে না, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ব্যথা আরও আছে। বিরোধীরা যাতে নির্বাচনে লড়তেই না পারে তাই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হচ্ছে। এহল বিরোধী শিবিরকে পঙ্গু করে ফেলার কৌশল। সমস্যা হল, এখানেও খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না মোদীর। এসবিআই এবং বাঘা আইনজীবীরা চেষ্টা করা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট বন্ডের হিসাব প্রকাশ করতে সরকারকে বাধ্য করেছে। আদালতে আয়কর দপ্তরই জানিয়েছে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে ভোটের আগে তারা আর তৎপর হবে না। কেজরিওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদ থেকে সরাতে রাজি হয়নি দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, গণতন্ত্রই নিজের পথে চলুক। এসব নিছক আদালতের রায় নয়। এহল শাসন বিভাগ যে ভাবে সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত ক্ষমতা গ্রাস করছে, তার প্রতি এক সোচ্চার হুঁশিয়ারি। বিচার বিভাগ জানিয়ে দিচ্ছে, শাসন বিভাগের তথা সরকারের থামার সময় হয়েছে। লক্ষ্মণ রেখা পার হওয়া যাবে না। এই সতর্কীকরণও মোদীকে মনে রাখতে হচ্ছে।

রাজনীতির পরিসরে যখন এত সব উদ্বেগ, তখন উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব। কর্পোরেট মিডিয়া দাবি করে, মোদি উগ্র জাতীয়তাবাদের যে ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন তাতেই নির্বাচনে বাজার মাত হবে। অথচ সিএসডিএস-লোকনীতি প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা বলছে, ২৭ শতাংশ ভোটার কর্মসংস্থান নিয়ে আর ২৩ শতাংশ ভোটার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভাবিত। উভয়পক্ষকে যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেও সমীক্ষা করেছিল সিএসডিএস-লোকনীতি। সেবার বেকারি ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত মানুষের অনুপাত ছিল মোট ভোটারদের এক-ষষ্ঠাংশ। এবার এসব এই দুই ইস্যুতে উদ্বেগ যে অনেক বেশি বেড়েছে সংখ্যাতত্ত্বেই তা স্পষ্ট। সমীক্ষাভুক্ত ৬২ শতাংশ ভোটদাতা, এমনকী শহরের ৬৫ শতাংশ ভোটদাতা জানিয়েছেন কাজ পাওয়াটাই ক্রমশ দুষ্কর হয়ে উঠেছে। যাঁরা একথা বলছেন তাঁদের ৬৭ শতাংশ মুসলিম, ৬৩ শতাংশ ওবিসি ও তপশিলি জাতির এবং ৫৯ শতাংশ তপশিলি উপজাতির। অন্যদিকে মোট উত্তরদাতাদের ৭১ শতাংশই জিনিসের বর্ধিত দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন। গরিবদের মধ্যে এঁদের সংখ্যাটা ৭৬ শতাংশ, মুসলিমদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ এবং তপশিলি জাতিদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ। বেকারি ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশের নীচুতলার মানুষের উদ্বেগ ও আশঙ্কা কতদূর পর্যন্ত চারিয়ে গিয়েছে এসব তথ্যেই তা স্পষ্ট। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে পরিবর্তন এসেছে মানুষের পারশেপশন বা উপলব্ধির জগতে। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ দুটি অতীব জাগতিক ইস্যুতে, যার সঙ্গে জড়িয়ে মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন, সে বিষয়ে কোনও বার্তা নেই স্বঘোষিত ঈশ্বরপ্রেরিত নেতার। 

সিএসডিএস-লোকনীতি বা মোতিলাল অসওয়ালের মতো রেটিং সংস্থার সমীক্ষায়  যে ছবি উঠে এসেছে সেটাই ভারতবর্ষের আসল চেহারা। দরিদ্র, অভুক্ত, নিরন্ন, কর্মহীন, আশা-আকাঙ্ক্ষাহীন, মলিন এক ভারতবর্ষ। গ্রীষ্মের খর তাপে দগ্ধ, নিঃশেষিত প্রাণ। শ্রমিকের কাজ নেই, মজুরি নেই, সম্মান নেই, টিকে থাকার আশা নেই। কৃষকের ফসলের দাম নেই, দেনার দায়ে বাড়ছে আত্মহত্যা। নারীর সম্মান ধূলায় লুণ্ঠিত। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে ভিজে গেছে দেশের মাটি। ভারতবর্ষ আজ এমনই দুঃসহ এক দিনাতিপাত করছে সঙ্কট জর্জর অবস্থায়। আর সেই দেশের মাথায় এক শাসক বসে, দেশি বিদেশি পুঁজির তল্পিবাহক হয়ে, কতগুলো মিথ্যাস্বপ্নের জাল বুনে, রূপকথার সেই গ্রিক অ্যাথলিটের মতো দাবি করছেন, ‘এই তো রোডস, এখানে লাফ দাও।’ এর মানে, এমন একটা পরিস্থিতি আমি তৈরি করে দিয়েছি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই। 

ফেরার পথ কার নেই? দেশের মানুষের, না কি শাসকের? ফেরার পথ নেই বলেই তো শাসককে সেই বিভাজনের রাজনীতির সেই ধ্রুবপদেই ফিরতে হচ্ছে বারে বার। তার ফেরার পথ বন্ধ। আর সাধারণ ভারতবাসীর সামনে রয়েছে বিরাট এক বাঁক নিয়ে নতুন এক রাজপথে পৌঁছে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা। এবারের লোকসভা ভোটে ভারতবর্ষ কি  পারবে সেই বাঁকে পৌঁছতে!

আরও পড়ুন: 

প্রতারিত কৃষকেরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে
সঙ্কটে গণতন্ত্র! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতিহত করুন হিন্দুত্ব রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা! পরাস্ত করুন বিজেপিকে! 


প্রকাশের তারিখ: ১৭-এপ্রিল-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org