|
৩৭০ আসন, মোদীর মিথ!টিম মার্কসবাদী পথ |
দেশে এমন ৪১টি আসন রয়েছে, যেখানে সমর্থনের হার দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। এতে যেমন রয়েছে মেঘালয়ের তুরা (৫.৪৩ শতাংশ), শিলং (৯.৭৮ শতাংশ), কিংবা সিকিম (৪.৬৯ শতাংশ), তেমনই রয়েছে কেরালার কান্নুর (৬.৫ শতাংশ), মালাপ্পুরম (৭.৯৬ শতাংশ), অথবা তেলেঙ্গানার খাম্মাম (১.৮ শতাংশ)। |
শুরু হয়ে গেল অষ্টাদশ লোকসভার নির্বাচন। হবে সাত দফায়। ৫৪৩ কেন্দ্রে। পাঁচ বছর আগে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩টি আসন। এবারে নির্বাচনের দিন ঘোষণার বহু আগেই লোকসভায় মোদী দাবি করেন, ‘বিজেপি একাই জিতবে ৩৭০ আসন। আর এনডিএ জোট ৪০০ পার করবে।’ সেদিন থেকেই মিডিয়া তোলে প্রচারের তুফান। এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের শুরু। প্রকৃত চেহারা কী? ১। হিন্দি বলয়ের দশ রাজ্যে মোট ২২৫ আসনের মধ্যে গতবার বিজেপি জিতেছিল ১৭৭ আসনে। স্ট্রাইক রেট ৭৮.৬৬ শতাংশ। ২। হিন্দি বলয় মানে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি আর রাজস্থান। এর মধ্যে হরিয়ানার দশটি আসনের সবক’টিতেই জিতেছিল বিজেপি। স্ট্রাইক রেট একেবারে একশ শতাংশ। যেমন জিতেছিল দিল্লির সাতটি, হিমাচলের চারটি এবং উত্তরাখণ্ডের পাঁচটি আসনের সবক’টিতে। রাজস্থানে পঁচিশের মধ্যে পেয়েছিল চব্বিশটি আসন। মধ্যপ্রদেশে উনত্রিশের মধ্যে আঠাশ। ছত্তিশগড়ে এগারোর মধ্যে নয়। ঝাড়খণ্ডে চোদ্দর মধ্যে এগারো। বিহারে চল্লিশের মধ্যে সতেরো। এবং উত্তরপ্রদেশে আশিটির মধ্যে বাষট্টি'টি আসন। ৩। এবারে হিন্দি বলয়ে এর চেয়ে ভালো হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং কমার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে হরিয়ানা, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহার এবং রাজস্থানে। ৪। হিন্দি বলয়ের বাইরে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পাঞ্জাব, ওড়িশা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং কর্ণাটকের মতো সাত-রাজ্যে ১৯২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ১১১টি আসন। স্ট্রাইক রেট ৫৭ শতাংশ। ৫। এবারে এই রাজ্যগুলিতে এর চেয়ে ভালো হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। যেমন কর্ণাটকে গতবার আঠাশ আসনের মধ্যে পঁচিশটিতে জিতেছিল বিজেপি। এবারে ১২-১৫টি কমার সম্ভাবনা প্রবল। ৬। মানে হিন্দি বলয় এবং তার বাইরে এই রাজ্যগুলি মিলিয়ে ৪১৭টি আসনে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ২৮৮। এরপর ৩৭০ আসনে পৌঁছতে হলে দরকার আরও ৮২টি আসন! ৭। রইলো বাকি দক্ষিণ ভারত। কর্ণাটক বাদে দক্ষিণের চার রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫), তেলেঙ্গানা (১৭), তামিলনাডু (৩৮) এবং কেরালা (২০) মিলিয়ে মোট আসন ১০০। ৮। গতবার দক্ষিণ ভারতের এই চার রাজ্যে একশ আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র চারটি আসনে। স্ট্রাইক রেট মাত্র চার শতাংশ! ৯। তাও একমাত্র তেলেঙ্গানার চারটি আসনে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডু এবং কেরালায় খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি। ১০। মানে, গতবারের ফল ধরলেও ৫১৭ আসনে বিজেপির আসন সংখ্যা ২৯২! ১১। মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে বাকি ছাব্বিশ। এর মধ্যে রয়েছে লাক্ষাদ্বীপ, মেঘালয়ের তুরা, শিলংয়ের মতো আসন। লাক্ষাদ্বীপে গতবার বিজেপি ১ শতাংশ ভোটও পায়নি। পেয়েছিল সাকুল্যে ০.২৭ শতাংশ ভোট। ১২। দেশে এমন ৪১টি আসন রয়েছে, যেখানে সমর্থনের হার দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। এতে যেমন রয়েছে মেঘালয়ের তুরা (৫.৪৩ শতাংশ), শিলং (৯.৭৮ শতাংশ), কিংবা সিকিম (৪.৬৯ শতাংশ), তেমনই রয়েছে কেরালার কান্নুর (৬.৫ শতাংশ), মালাপ্পুরম (৭.৯৬ শতাংশ), অথবা তেলেঙ্গানার খাম্মাম (১.৮ শতাংশ)। ১৩। তাছাড়া, এমন পঁচিশটি আসন রয়েছে, যেখানে বিজেপি ২ শতাংশও ছুঁতে পারেনি। ১৪। যতই মিডিয়ার পক্ষ থেকে ‘আয়েগা তো মোদী-হি’র ঢাক বাজানো হোক, ভোটারের মন পড়ে আছে বেরোজগারিতে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতিই এবারে মূল ইস্যু। ক’দিন আগে সিএসডিএস-লোকনীতির প্রাক্ নির্বাচনী সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে সেই তথ্য। ১৫। মোদী আছেন সর্বত্র। তবে তা আর কার্পেটের নীচে থাকা প্রতিটি ইস্যুকে চেপে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। ব্র্যান্ড-মোদীর ক্যারিশমা মলিন হতে শুরু করেছে। ১৬। আপনার কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যু কী? সিএসডিএস-লোকনীতির প্রাক্ নির্বাচনী সমীক্ষায় ২৭ শতাংশের মতো হলো বেরোজগারি। ২৩ শতাংশ বলেছেন মূল্যবৃদ্ধি বড় ব্যাপার। যেখানে ৮ শতাংশের কাছে রামমন্দির নির্মাণ একটা ব্যাপার বটে। ২ শতাংশে কাছে হিন্দুত্ব একটা ফ্যাক্টার। ১৭। সমীক্ষায় দুই-তৃতীয়াংশ বলেছেন গত পাঁচবছরে কাজ পাওয়া আরও কঠিন হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশের উদ্বেগ বর্ধিত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে। ১৮। নিশ্চিতভাবেই মোদীর বিজেপির জন্য খারাপ খবর। শেষ পর্যন্ত জনগণের এই মেজাজ যদি ভোটে প্রতিফলিত হয়, তবে হতে পারে দু’দশক আগের ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’র মতো বিপর্যয়। প্রকাশের তারিখ: ১৯-এপ্রিল-২০২৪ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |