|
এবারের ভোটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাআসিফ ইকবাল |
একুশ শতকের গোড়ায় ভারত দেখে নির্বাচনে গণহারে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ২০১৪, ভারতে প্রথম সমাজমাধ্যম-নির্বাচন। বলা যেতে পারে ফেসবুক-নির্বাচন। তরুণ প্রজন্মকে ধরতে বিজেপি ফেসবুক, টুইটার-কে (তখনও এক্স হয়নি) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। ২০১৯, প্রথম হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন। রাজদীপ সারদেশাই তাঁর বই ‘২০১৯: হাউ মোদী ওন ইন্ডিয়া’তে লিখছেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক প্রচারের আদর্শ পাইপলাইন’। আর ২০২৪-এ হতে চলেছে প্রথম এআই নির্বাচন। |
এক ক্লিকে ফলো করুন মার্কসবাদী পথের হোয়াটসঅ্যাপ বছরের শেষে নভেম্বরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা চূড়ান্ত করতেই ছিল এই নির্বাচন। ঠিক তার দু’দিন আগে, রবিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের ফোনে আসে একটি ভয়েস কল। তাতে রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের গলা। প্রাইমারির নির্বাচনে ভোট না-দেওয়ার আহ্বান। সেইসঙ্গে আরজি, ‘আপনার ভোট নভেম্বরে পার্থক্য তৈরি করে দিতে পারে, এই মঙ্গলবারে নয়।’ নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য আপনার ভোটকে ‘বাঁচিয়ে’ রাখুন। হাজার হাজার মানুষের কাছে যায় এই ফোন। অডিও বার্তাটি পেয়ে অনেকেই ভোটদানে বিরত থাকেন। চারদিকে পড়ে যায় হুলস্থুল! শেষে যখন জানা যায় এটি মোটেই বাইডেনের কণ্ঠস্বর নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত নিছকই একটি ফেক রোবোকল, ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। পেরিয়ে গিয়েছে ভোটের সময়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে ফোন কলে এআই দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বরের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। শুধু আমেরিকা নয়। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে গতবছর সেপ্টেম্বরে স্লোভাকিয়ার নির্বাচনে। নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে একটি অডিও রেকর্ডিং ভাইরাল হয় ফেসবুকে। তাতে দু’জনের আলোচনা। একজন ন্যাটোপন্থী প্রোগ্রেসিভ স্লোভাকিয়া পার্টির শীর্ষ নেতা মিশাল সিমেস্কা। অন্যজন দৈনিক পত্রিকার দাপুটে সাংবাদিক মোনিকা তোদোভা। তাঁরা দু’জনের আলোচনা করছেন মদের দামবৃদ্ধি থেকে কীভাবে ভোটে কারচুপি করতে হয়। কীভাবে দেশের সংখ্যালঘু ভোট কিনতে হয়। দু’জনেই বলেন অডিওটি নকল। সংবাদ সংস্থা এএফপি’র ফ্যাক্ট চেকিং বিভাগও দেখে এটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি। এদিকে নির্বাচনের আগের আটচল্লিশ ঘণ্টায় প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা। নির্বাচনে হেরে যায় প্রোগ্রেসিভ স্লোভাকিয়া পার্টি। স্লোভাকিয়ার মতোই গতবছর ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যবহার করা হয় ফেক অডিও ক্লিপ। নভেম্বরে আর্জেন্টিনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এআই প্রযুক্তির বেপরোয়া প্রয়োগ দেখা যায়। এমনকী নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়ও শিরোনাম ছিল, ‘আর্জেন্টিনা কি প্রথম এআই নির্বাচনে?’। এবছর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের নির্বাচন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জেলে বন্দি। অথচ, নির্বাচনী প্রচারে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ইমরানের গলা নকল করে প্রচার করা হয় তাঁর বক্তব্য। তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চারমিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে অনলাইনে। অবশ্য বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের ধাঁচে শিরোনাম ছিল, ‘ইমরান খানের নোটের ভিত্তিতে তাঁর এআই নির্মিত কণ্ঠ’। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ দ্য ইকনমিস্ট পত্রিকায় বের হয়ে যায় তাঁর লেখা। প্রশ্ন ওঠে, কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লেখা প্রকাশ করতে পারেন। বিতর্কের মুখে মুখ খোলেন ইমরান। জানান, এটি তাঁর লেখা নয়। লিখেছে আসলে এআই প্রযুক্তি। বিভিন্ন সময়ে যাঁরা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের নিবন্ধটির মূল বিষয় নিয়ে বলেছিলেন তিনি। পরে তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শব্দগুলো সাজিয়ে বসানো হয়েছে। ফলে কিছুটা পরিষ্কার যে, দুনিয়ার বহু গণতান্ত্রিক নির্বাচনেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে এআই। বিশ্বজুড়ে এআই যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাতে, আমাদের দেশের লোকসভা নির্বাচনে এর ব্যবহার, অপব্যবহার কী হতে পারে তা খানিক স্পষ্ট। ইতিমধ্যে তা শুরুও হয়ে গিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘মেশিনের মধ্যে ভূত: ডিপফেকের ছায়া ভারতের নির্বাচনে।’ ডিপফেক কী? ‘ডিপ লার্নিং’-এর মতো উন্নতমানের মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুবহু আসলের মতো ‘ফেক’ ভিডিও বা অডিও তৈরি করা হচ্ছে সেটাই ‘ডিপফেক’। এই প্রযুক্তি যে কোনও মানুষের মুখের অভিব্যক্তি সহজেই খুব খুঁটিয়ে পড়ে ফেলতে পারে। অনায়াসে বুঝে নিতে পারে গলার আওয়াজ। তার পর সেই বিশ্লেষণের ফসল নিখুঁতভাবে বসিয়ে দিতে পারে অন্যের মুখে। বানাতে পারে ফেক ভিডিও কিংবা অডিও। যেমন হয়েছে, হচ্ছে তামিলনাডুতে। এডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা মারা গিয়েছেন সেই ২০১৬ সালে। কিন্তু এখন তাঁর গলায় শোনা যাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে’র সমালোচনা। ডিজিটাল ‘ভূত’ অবিকল জয়ললিতার গলায় বলে চলেছে, ‘আমাদের এখানে সরকার চালাচ্ছে এক দুর্নীতিগ্রস্ত, নিস্কর্মা অপদার্থ সরকার।’ সঙ্গে আহ্বান, ‘আমার সঙ্গে দাঁড়ান, আমরা জনগণের জন্য।’ ডিএমকে নেতা করুণানিধি মারা গিয়েছেন ২০১৮-তে। অথচ, এআই-নির্মিত ভিডিও তাঁর কালো চশমার ট্রেডমার্ক চেহারায় প্রশংসা করে চলেছেন পুত্র স্ট্যালিনকে। বিজেপি এরমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ভাষান্তর করেছে আটটি আঞ্চলিক ভাষায়। সে অর্থে এবারের নির্বাচন হতে চলেছে দেশের প্রথম এআই নির্বাচন। একুশ শতকের গোড়ায় ভারত দেখে নির্বাচনে গণহারে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ২০১৪, ভারতে প্রথম সমাজমাধ্যম-নির্বাচন। বলা যেতে পারে ফেসবুক-নির্বাচন। তরুণ প্রজন্মকে ধরতে বিজেপি ফেসবুক, টুইটার-কে (তখনও এক্স হয়নি) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। ২০১৯, প্রথম হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন। রাজদীপ সারদেশাই তাঁর বই ‘২০১৯: হাউ মোদী ওন ইন্ডিয়া’তে লিখছেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক প্রচারের আদর্শ পাইপলাইন’। আর ২০২৪-এ হতে চলেছে প্রথম এআই নির্বাচন। ‘ডিজিটাল যুগে একটি পণ্য হিসেবে মিডিয়া মনোপলির বিপুল সুবিধা রয়েছে মোদী জমানার হাতে। তা সে প্রকাশ্যে অ্যাবাভ-গ্রাউন্ড বৈদ্যুতিন মাধ্যমের ক্ষেত্রেই হোক, আর গোপনে আইটি সেলের দুরন্ত দক্ষ আন্ডার-গ্রাউন্ড নেটওয়ার্কই হোক। সেইসঙ্গে রয়েছে ডিজিটালাইজড রাষ্ট্রে নিবিড় নজরদারির লক্ষ্যে নির্লজ্জভাবে জবরদস্তি প্রয়োগের ক্ষমতা।’ বলেছেন সতীশ দেশপান্ডে। বিজেপি ও গণমাধ্যম/ সমাজমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক সংক্রান্ত আলোচনায়, ফ্রন্টলাইন পত্রিকায় লেখা ‘এ লিপ ফর ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেসি’ নিবন্ধে। যে কোনও প্রযুক্তির প্রয়োগের যেমন ভালো-মন্দ দু’টি দিকই থাকে, ঠিক সেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও আছে। মেশিন লার্নিং ও এআই এই শব্দ দু’টির সাথে আমরা সবাই প্রায় কমবেশি পরিচিত। মূলত, একটি মেশিন যখন কিছু ডেটা এবং অ্যালগরিদমের উপর ভিত্তি করে মানুষের শেখার ধরন উপলব্ধি করে নিজেই সেই পথ অবলম্বন করে এবং ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করে তখন তাকে আমরা মেশিন লার্নিং বলে থাকি। এবং এআই হল এই মেশিন লার্নিংয়ের অ্যালগোরিদমের সাহায্যে বানানো কৌশল, যা মেশিন লার্নিং-এর বিশ্লেষণের ফসলকে ব্যবহার করে হুবহু একজন মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। দিনের পর দিন মেশিন লার্নিং প্রক্রিয়াটি আরও উন্নত হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আর্টিফিশিয়াল নিউর্যাল নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ আমাদের মস্তিস্ক যেমন স্নায়ুতন্ত্র দিয়ে গঠিত, ঠিক তেমনই এটি একটি কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্র। যেমন কোনও বাচ্চাকে বিড়াল চেনানোর সময় অনেকগুলো বিড়ালের ছবি দেখিয়ে বলা হয় এটি একটি বিড়াল এবং ধীরে ধীরে বাচ্চাটি শিখে নেয় বিড়াল আসলে দেখতে কেমন। এখানেও তাই। উদাহরণের উপর ভিত্তি করেই মেশিন শিখে নেয় গোটা প্রক্রিয়াটি। ইদানিং খুবই জনপ্রিয় হয়েছে জেনারেটিভ এআই। যা একধরনের বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এবং যেটি খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রদত্ত ডেটার উপর ভিত্তি করে অনায়াসেই বানাতে পারে ছবি, ভিডিও, কিংবা গ্রাফিক্সও। আমাদের সকলেরই ‘মিডজার্নি’ নামক অ্যাপ্লিকেশনটির কথা মনে থাকবে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই অ্যাপ্লিকেশনের বানানো নানান ফেক ছবি, ভিডিও। ট্রাম্পের একটি ভাইরাল ছবির কথা এখানে বলতেই হয়। যেখানে দেখা যায় কয়েকজন উর্দিধারি পুলিশ ট্রাম্পকে গ্রেপ্তার করে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছেন প্রিজন ভ্যানের দিকে। আপাতদৃষ্টিতে ছবিটি আসল বলে মনে হলেও খুব খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায় সেটি একটি ফেক ছবি। একজনের শরীরে আরেকজনের মাথা বসিয়ে ফেক ছবি অতীতে অনেক তৈরি হয়েছে। তবে একটু খুঁটিয়ে দেখলে সেগুলো সহজেই ধরা যেত। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশ সেসব সুযোগ অনেক কমিয়ে দিয়েছে। ‘ডিপফেক’ অর্থাৎ ‘ডিপ লার্নিংয়ের’ সাথে ‘ফেক’ শব্দটির মিশেলে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ উন্নতমানের প্রযুক্তিটি। এই প্রযুক্তি মূলত যে কোন মানুষের ছবি, বাচনভঙ্গি, হাঁটা-চলার পদ্ধতি এমনকি কণ্ঠস্বরকে ডেটা সেট হিসেবে ব্যবহার করে ‘ডিপলার্নিং’ অ্যালগোরিদমের সাহায্যে অনায়াসেই বানিয়ে ফেলতে পারে সেই ব্যক্তির ‘ফেক’ ভিডিও, ছবি কিংবা কণ্ঠস্বর। যা আপাতদৃষ্টিতে আসল বলেই মনে হবে। ক’দিন আগে অভিনেত্রী রশ্মিকা কিংবা কাজলের ভাইরাল ভুয়ো ভিডিওর কথা মনে থাকতে পারে। এই দুটো ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছিল এই ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ আমার বা আপনার মুখ, বাচনভঙ্গি ভঙ্গি এমনকি ঠোঁট নাড়ানোর কৌশল রপ্ত করে এমন সব ভিডিও বানানো যেতে পারে, যা আদতে আমি বা আপনি কখনই বলিনি বা করিনি। ইদানিং ‘সেন্টিমেন্ট অ্যানালিসিস’ নামক একটি ধারণা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। এটি মূলত আমাদের প্রদত্ত ডেটার উপর ভিত্তি করে, ন্যচারাল ন্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি), মেশিন লার্নিং এবং বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিক্যাল মডেলের সাহায্যে বানানো একটি অ্যানালেটিক্যাল টেকনিক। যা অতি সহজেই আমাদের সেন্টিমেন্ট অ্যানালিসিস করতে পারে। অর্থাৎ আমাদের মানসিক অবস্থার হাল-হকিকত সহজেই বুঝে নিতে পারে। বর্তমানে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম থেকে শুরু করে ইউটিউব-সহ নানা অ্যাপ্লিকেশন-ই আমরা ব্যবহার করি আমাদের স্মার্টফোনে। এই ‘সেন্টিমেন্ট আনাল্যসিস’কে তারা তাদের অ্যাপ্লিকেশনে ইনকর্পোরেট করে ফেলে। ফলস্বরূপ একটু লক্ষ করলে দেখা যায়, আপনি দিনের কোন সময়ে কী ধরনের ভিডিও দেখতে কিংবা কোন ধরনের গান শুনতে পছন্দ করেন, তা এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো বিলক্ষণ জানে। আর তার উপর ভিত্তি করে একটা সাজেশনও আসে আমাদের ফোনে। ফেসবুকে আমরা যে ধরনের পোস্ট পছন্দ করি, আমাদেরকে কাছে কেবল সেই ধরনের পোস্টই আসে। আসলে পুরোটাই হল ডেটার খেলা। কর্পোরেটদের এই খোলা বাজারে আমার-আপনার ডেটা বিক্রি হয় বহুমূল্যে। আর তা আমরা জানতেও পারি না। কিন্তু প্রশ্ন হল এই ডেটা গুলো বাজারের হাতে যাচ্ছে কিভাবে? আসলে সর্ষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভূত। অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশনগুলি ইনস্টল করার প্রক্রিয়াতেই এসব কারসাজি করে থাকে। যে কোনও অ্যাপ ইন্সটল করার সময় আমাদের কাছে নানা পারমিশন চাওয়া হয়। যেমন আমাদের ফোনের ক্যমেরার পারমিশন, মাইকের পারমিশন, গ্যালারির পারমিশন, কন্টাক্ট লিস্টের পারমিশন, লোকেশনের পারমিশন ইত্যাদি। আর এসব পারমিশনগুলো দিতে বাধ্য করা হয়। ফলে সহজ হয়ে যায় নজরদারি। আর সেখান থেকেই সংগৃহীত হয় আমাদের ব্যক্তিগত ডেটা। পছন্দ-অপছন্দ পুরোটাই। তার উপর ভিত্তি করেই বাজার আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। এবং আমাদের অজান্তেই। আমাদের পোশাক পরিচ্ছদের ধরনধারণ থেকে শুরু করে, খ্যাদ্যাভাস পুরোটাই এখন উন্মুক্ত এই বিশ্ব বাজারে। আর এসব ডেটাকেই ব্যবহার করে দিনের পর দিন উন্নত করে তোলা হচ্ছে এআই কে। ‘প্রাইভেসি’ শব্দটাই এখন একটা মিথে পরিণত হয়েছে। আর এই ডেটাকে কাজে লাগানো হয় নানা এআই অ্যাপ্লিকেশনের ডেটাসেট হিসেবে। এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় ট্রেন্ড, আর এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়েই সহজেই ম্যানুপুলেট করা হয় আমাদের পছন্দ-অপছন্দকে। এভাবেই তৈরি হয় অডিয়েন্স বেস। আরও নির্দিষ্ট করে বললে টার্গেটেড অডিয়েন্স বেস। এই টার্গেটেড অডিয়েন্স বেস ধরেই প্রচার হবে এআই জেনারেটেড ফেক ক্লিপিংস বা ছবি। আর যা সহজেই প্রভাবিত করতে পারে আমাদের চয়েসকে। উলটে দিতে পারে আমাদের পছন্দ-অপছন্দকে। প্রকাশের তারিখ: ১০-এপ্রিল-২০২৪ |
© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |