সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নিবন্ধের খোঁজ
এখানে আপনি লেখক, নিবন্ধের বিষয়, তথ্য, প্রকাশের তারিখ দিয়ে বিভিন্নভাবে খুঁজতে পারেন, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই খোঁজা যাবে।
ইরফান হাবিব
আমি মনে করি একথা বলাটা সঠিক যে, ভারত ছাড়ো প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল ভুল সময়ে। সেই সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল না। জাপানি ও জার্মান ফ্যাসিবাদকেই তখন প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করা উচিত ছিল। পরে ব্রিটিশদের মোকাবিলা করা যেতে পারত। আমি মনে করি, আজকের সময়ে একথাই আমাদের বলা উচিত। তখন কমিউনিস্ট পার্টি এই কথাই বলেছিল এবং আমি মনে করি আমাদের এক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থানের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে:অর্থাৎ হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করার পর, প্রাথমিক কাজ ছিল ফ্যাশিস্ত শক্তিগুলিকে পরাস্ত করা এবং তারপরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের মোকাবিলা করা।
...more২৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫
ইরফান হাবিব
আমার বাবা মহম্মদ হাবিব আমাকে বলেছিলেন যে, ১৯৩০ এর দশকে তিনি একজন বিচারপতি সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর নাম ছিল মিঃ সুলেইমান। সুলেইমান বলেছিলেন যে, তিনি ঘুমাতে পারছেন না। আমার বাবা তাকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি ঘুমাতে পারছেন না। তিনি ছিলেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বা আচার্য (আমার ঠিক মনে নেই) এবং হাই কোর্টের বিচারপতি, পরে সেই সময়কার ফেডারাল কোর্ট অফ দিল্লিতে তার পদোন্নতি হয়। তিনি বলেছিলেন, এই সব ‘শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কমিউনিস্টদের’ জন্য রাতে তাঁর ঘুম হচ্ছে না। যখন বিচার চলছিল তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে যাদের বিচার চলছে তারা নিরপরাধ। এবং ব্রিটিশ আইনজীবীকে তিনি বলেন, উনি যা বলছেন তা পুরোপুরি আজগুবি— এবং কমিউনিস্টরা যা করেছে বলে তিনি দাবি করছেন সেটা বাস্তবত সম্ভব নয়। ...more
২৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫
ইরফান হাবিব
সে গর্ত থেকে খোদাই করা কিছু মূর্তি পাওয়া গেছিল। অদ্ভুত বিষয় হল, যখন এসব মূর্তিগুলি 'উদ্ধার' করা হল তখন কিন্তু আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে জানানো হয়নি। অথচ কোনও প্রত্নতত্ত্ব উদ্ধার তা ওই সংস্থাকে জানানো আইনগত দিক থেকে বাধ্যতামূলক। বরং এই উদ্ধারের সংবাদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হঠাৎ ঘোষণা করল। তাদের 'বিশেষজ্ঞরা' বলতে শুরু করলেন, ওই মূর্তিগুলি একাদশ শতাব্দীর। এরকম একজন বিশেষজ্ঞ হলেন স্বরাজ প্রকাশ গুপ্ত, যিনি কোনও দিনই মধ্যযুগের গোড়ার দিকের স্থাপত্য সম্পর্কে কোনও কাজ করেননি। ...more
০৬-ডিসেম্বর-২০২৪
ইরফান হাবিব
মার্কসের মতে – পুঁজি দুটি ভাগে বিকশিত হয় – ধ্রুবক পুঁজি (কনস্ট্যান্ট ক্যাপিটাল) এবং পরিবর্তনশীল পুঁজি (ভ্যারিয়েবল্ ক্যাপিটাল)। পরিবর্তনশীল পুঁজি হল সেই পুঁজি, যা শ্রমের জন্য ব্যয় করা হয়, অন্যান্য অর্থনীতিবিদেরা যাকে মজুরি ফান্ড বলেন। অতএব, মজুরি ফান্ড শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করা হলে, শ্রমিক কেবল যতটুকু তাঁর মজুরি ততটুকুর সমপরিমাণ কিনতে পারেন – তার বেশি কিনতে পারেন না কারণ তাঁরা কেবল শ্রমিক। ...more
১৫-জানুয়ারি-২০২৪
ইরফান হাবিব
যতক্ষণ না হিন্দু মহাসভা/আর.এস.এস. নেতারা সমর্পণ করেন ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দেবার পর গান্ধীজি অনশন প্রত্যাহার করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশে শান্তিও ফিরে আসে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে যে গান্ধীজি সামান্য মানুষ ছিলেন না। প্রচণ্ড সাহসী এই মানুষটি বৃহত্তর কল্যাণের কাজে নিজের আত্মমর্যাদা ও সম্মানকে বিসর্জন দিতেও পিছপা ছিলেন না। দুর্গত মানুষের কাছে তাদের আশ্রয় শিবিরে গান্ধীজি যখন যেতেন তখন ধুলোবালি, ময়লা, কাদা, নোংরা পরিবেশ কোনো কিছুই তিনি গ্রাহ্য না করে নগ্নপদেই যেতেন। হিন্দু ও মুসলিমরা আসলে ভাইবোনের মতো এই বার্তাবহন করে গান্ধীজি হিন্দু ও মুসলিমদের আশ্রয় শিবিরে ঘুরে বেড়াতেন। ...more
১৬-আগস্ট-২০২৩
ইরফান হাবিব
আর একটা বিপজ্জনক দিক হলো যে আমাদের বিজেপির বন্ধুরা ও তাদের নিয়ন্ত্রণকর্তা আর.এস.এস দাবি করছে যে ঋক্ বেদের যুগ থেকেই ভারত একটি জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ঘটনা হলো যে, 'ঋক্ বেদ তো দূরের কথা পরবর্তী তিনটি বেদ বা আরো পরের 'ব্রাহ্মণ' এমনকী তুলনামূলকভাবে অনেক নবীন উপনিষদগুলির যুগেও 'ভারত' বলে কোনো দেশের উল্লেখ পাওয়া যায় না। ঋক বেদে কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের কথাও নেই, উল্লেখ আছে কেবল নদী এবং আদিবাসীদের। এমন কী সপ্তসিন্ধুর বা সাতটি নদীবিধৌত অঞ্চল বলতে তখন পাঞ্জাবকে বোঝাত না। বোঝাত সাতটি নদীর কালধারার কথা যার থেকে সিন্ধুনদীর উৎপত্তি। এটা অনেক পরবর্তীকালের সংযোজন। পাঞ্জাব এবং আফগানিস্তানের কয়েকটি অংশে বসে বেদ মন্ত্র বা শ্লোক লিখিত হয়েছিল। তখন সেখানে বসবাস করতেন ভ্রাম্যমাণ আদিবাসীরা। কাজেই কোনো অঞ্চল বা ন্যূনপক্ষে 'দেশ'-এর ধারণাই তখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। ...more
১৫-আগস্ট-২০২৩
ইরফান হাবিব
ট্রিবিউনে প্রকাশিত মার্কসের স্বাক্ষরিত ভারত সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলি সামনে আসে সোভিয়েত ইউনিয়নে মার্কসের রচনাসমগ্র প্রকাশের উদ্যোগ নেবার সময়ে। ভারতে তা প্রথম পাওয়া যায় মুলক রাজ আনন্দের সম্পাদনায় সোস্যালিস্ট বুক ক্লাব প্রকাশনা, সংখ্যা ৪-এ। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে। রজনী পাম দত্ত দীর্ঘ ভূমিকা ও প্রচুর টীকাসহ এই প্রবন্ধাবলী প্রকাশ করেন। ...more
২৯-অক্টোবর-২০২২
ইরফান হাবিব
ঐতিহাসিক ঘটনাদি আয়ত্ত করা যায় এবং সেই ঘটনাদির উন্মোচন, নির্বাচন ও ব্যাখার মাধ্যমে অতীত সম্পর্কে আমরা আমাদের জ্ঞানকে নিখুঁত করতে পারি। তিনি ইতিহাসের যথার্থতা সম্পর্কে মার্ক ব্লচের ধারণাকেও সমানভাবেই সমর্থন জানান, যেখানে মার্ক ব্লচ বলেছেন যে, ইতিহাসের যথার্থতা প্রকাশ পায়, কি কাজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। ...more
১৯-অক্টোবর-২০২২













