সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬
বামপন্থা মানে প্রশ্নচেতনা
কুমার রাণা
এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়; এটি এক ধরনের বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গি— যা অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করে, সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং বিকল্প ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতি উন্মুক্ত। ...more
কুমার রাণা
এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়; এটি এক ধরনের বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গি— যা অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করে, সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং বিকল্প ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতি উন্মুক্ত। ...more
০৪-এপ্রিল-২০২৬
রাহুল সিনহা
এটাই বিজেপি-র প্রকৃত চেহারা। এদের প্রতিশ্রুতি আসলে সুকুমার রায়ের খুড়োর কলের মতো। কখনও মানুষের হাতের নাগালে আসে না। বরং হয়রান হয়ে ছুটে মরতে হয়। এটাই ত্রিপুরার অভিজ্ঞতা।… ঠেকে শিখছেন ত্রিপুরার মানুষ। ...more
০৩-এপ্রিল-২০২৬
মধুসূদন চ্যাটার্জি
২০২৫ সালের এপ্রিলে রাজ্যস্তরের ব্যাঙ্কারস কমিটির একটি সভায় যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে বেআব্রু হয়েছে বাংলার ভয়াবহ চিত্র। এই সভায় রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিক, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি, এবং নার্বাডের বরিষ্ঠ প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। সেই সভা থেকে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৩১ ডিসেম্বর বাংলার গ্রামীন জনগণ ব্যাংকগুলিতে আমানত করে করেছিল ১৭,৫৭৬,২১ কোটি টাকা। মানে গড়ে মাসে মাথাপিছু ২৭৯ টাকা জমা। অথচ, এই সময়ে ব্যাংকগুলি ঋণ দিয়েছে মাত্র ১৩,৩৪৬ কোটি টাকা। মানে মাথাপিছু গড়ে ১৯ টাকা! ...more
০৩-এপ্রিল-২০২৬
দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য
‘পপুলিজম’ এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল, যা কিছু নির্দিষ্ট যুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। একজন পপুলিস্ট নেতা বা একটি দল নিজেকে ‘প্রকৃত জনগণ’-এর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে এবং বিরোধী শক্তিকে ‘অবৈধ’ বা ‘সংখ্যালঘু স্বার্থরক্ষাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। একবার তারা ক্ষমতায় এলে, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না-করে ‘জনগণের নামে’ নিজের ইচ্ছামতো শাসন চালায়। নয়া উদারনৈতিক সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ক্রমশ কমেছে। পপুলিস্ট নেতারা এই অসন্তোষকে পুঁজি করে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তনের পরিবর্তে, তারা বিদ্যমান শোষণমূলক কাঠামোই টিকিয়ে রাখেন সুবিধাভোগী শ্রেণির স্বার্থে। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৬
দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য
যা এই পরিসরে প্রভাব ফেলেছিল, তা হল ১৯৭৭ সালের পর বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিসংস্কার। এই সংস্কারের আগেই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা এই পরিসরে প্রভাব ফেলেছিল, তা হল এই সংস্কারের আগেই ভাগচাষি, কৃষক ও বামপন্থী দলগুলির নেতৃত্বে জমি-আন্দোলনের ধারা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। জমির উপর প্রজাস্বত্ব সুরক্ষা এবং বিতরণ-সংক্রান্ত আইন দুর্বল শাসনব্যবস্থার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করে। তবে, এই আইনগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় আমলাতন্ত্রের প্রতিরোধ এবং গ্রামীণ সম্পদশালী শ্রেণির সঙ্গে তাদের আঁতাত একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কমিউনিস্ট পার্টি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে এই প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করে। ফলে, ভূমিসংস্কার কার্যকর হয় এবং এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের মধ্যে বাম নেতৃত্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ...more
০১-এপ্রিল-২০২৬
মহম্মদ সেলিম
সংসদে অমিত শাহ নতুন কিছু বলেননি। ওদের দাবি, মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্তালিনের ছবি কেন থাকবে? আমাদের পার্টির রাজ্য দপ্তরে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের ঘরে তো এঁদের কারো ছবি নেই। আছেন শুধু রবীন্দ্রনাথ। শিল্পী অন্য কেউ নন, সনাতন দিন্দা। নিচে কমরেড মুজফ্ফর আহ্মদের মূর্তি। বাড়ির নাম মুজফ্ফর আহ্মদ ভবন। দিল্লিতে পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের বাড়ির নাম এ কে গোপালন ভবন। পার্টির নতুন বাড়ির নাম হরকিষেন সিং সুরজিৎ ভবন। যেমন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের নাম অজয় ভবন। বরং, নেপালে সঙ্ঘের নেপালি সংস্করণ এইচএসএসের সদরদপ্তরের নাম কেশব ধাম (সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মরণে), যেমন দিল্লিতে কেশব কুঞ্জ। বীরগঞ্জে পশুপতি শিক্ষা মন্দিরে প্রধান শিক্ষকের ঘরের নাম ‘হেডগেওয়ার রুম’। স্কুলের তিনতলায় সঙ্ঘের দ্বিতীয় সর-সঙ্ঘচালক গোলওয়ালকারের ছবি। ...more
০১-এপ্রিল-২০২৬
উর্বা চৌধুরী
একইসঙ্গে চলছে কেন্দ্রের শাসকদলের অভূতপূর্ব অত্যাচার। ভারতের সব রাজ্যের মতো সমগ্র শিক্ষা মিশনের অর্থের মাধ্যমে কার্যত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকার পোষিত স্কুলের সিংহভাগ খরচ চালাতে হয়। রাজ্য সরকারি শিক্ষা দপ্তরের খাত থেকে বরাদ্দ হয় শিক্ষকদের বেতন। সমগ্র শিক্ষা মিশনের ৬০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় কেন্দ্রীয় সরকার, ৪০ শতাংশ ব্যয় হয় রাজ্য সরকারের তরফে। ২৫ বছর ধরে চলা এই প্রকল্প ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে রূপায়ণযোগ্য শিশু শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯-এর রূপায়ণকারী প্রকল্পও বটে। অন্যদিকে, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ রূপায়ণকারী অন্যতম প্রকল্প পিএমশ্রি (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস্ ফর রাইজিং ইন্ডিয়া), যার আওতায় প্রতিটি রাজ্যে কিছু কিছু মডেল স্কুল বানানো হচ্ছে, হবে। যার ৬০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে কেন্দ্র আর ৪০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য। এবং শর্ত রাখা হয়েছে যে-রাজ্য এই প্রকল্পে রাজি হবে না, কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের ৬০ শতাংশ বরাদ্দ অর্থও বন্ধ করে দেবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পে সই করতে রাজি হয়নি মূলত প্রকল্পের অর্থকরী শর্তের জন্য ও প্রকল্পের যুক্তিহীন নামের জন্য। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার গত দুবছর ধরে, পশ্চিমবঙ্গকে সমগ্র শিক্ষা মিশনের অর্থ (৬০ শতাংশ) দিচ্ছে না। ...more
৩১-মার্চ-২০২৬
উর্বা চৌধুরী
পশ্চিমবঙ্গে স্কুলশিক্ষার দুর্গতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক জীবন উদ্বেগজনক মাত্রায় এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এক/দেড় দশক ধরে। পরিষেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রাবল্য, শিক্ষক নিয়োগে অস্বাভাবিক গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি শিশুদের বড়ো হয়ে ওঠার পথে এক অনিশ্চয়তার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে। কৃষিক্ষেত্রে আয় কমে যাওয়া, শিল্পের অভাব, উচ্চমানের দক্ষতা লাগে না এমন সাধারণ কাজের জন্যও পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের নিরুপায় হয়ে প্রবাসে চলে যাওয়া— সব মিলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে নড়বড়ে অবস্থায় পৌঁছানোর ফলে এ-রাজ্যের শ্রমজীবী পরিবারগুলি তাদের বাচ্চাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিরুপায় হয়ে পড়ছে। কিশোর-কিশোরীরা ভবিষ্যতের আলোর দিশা দেখতে পাচ্ছে কম– বুঝে নিচ্ছে যা হোক করে নয়া একটা উপায়ে বেঁচে থাকতে হবে। ...more
৩০-মার্চ-২০২৬
বিষাণ বসু
বরাদ্দ যাই থাক, ওই অর্থ বর্ষেই স্বাস্থ্যসাথী বাবদ খরচ হয়েছিল ২২৬৩ কোটি টাকা। পরের বছর খরচ হয়েছিল ২৬০০ কোটি টাকারও বেশি, তার পরের বছর প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরু থেকে ধরলে গত বছরের শেষ অবদি রাজ্য সরকার স্রেফ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেই খরচ করেছেন তের হাজার কোটি টাকারও বেশি।প্রায় নিশ্চিত হয়েই অনুমান করা যায় যে, এই তেরো হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগটাই পৌঁছেছে বেসরকারি হাসপাতালের কোষাগারে। যদিও টাকাটা জনসাধারণের করের টাকা! ...more
২৮-মার্চ-২০২৬
বিষাণ বসু
গ্রামের একটি মেয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে। বছর পনেরো-ষোলোর মেয়ে। বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রামে, সেখানে থাকতে না-পেরে মেয়েটি বাপের বাড়ি ফিরে এসেছিল। বাপের বাড়িতেও ওই কারণে গঞ্জনা শুনতে হত। মেয়েটি উত্তরোত্তর বিষণ্ণ হয়ে পড়ছিল। তারপর আত্মহত্যা। কিন্তু এই আত্মহত্যায় বিপদে পড়লেন কে জানেন? মেয়েটির বাপ-মা বা তার স্বামী কিংবা তার ছেড়ে আসা শ্বশুরবাড়ির লোকজন? না। বিপদে পড়লেন স্থানীয় বিডিও। কেন-না, তিনি গত কয়েক বছর ধরে ওই অঞ্চলে কিশোরী-বিবাহের হার শূন্যে নেমে এসেছে এমন রিপোর্ট পাঠাচ্ছিলেন— এখন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশ রিপোর্টে এই বিয়ের কথা লিপিবদ্ধ থাকায় তাঁর এতদিন যাবত চালিয়ে আসা রিপোর্ট যে মিথ্যে তা প্রমাণ হয়ে গেল। ...more
২৭-মার্চ-২০২৬
তনয় কান্তি রায়, সুপ্রিয় বসু
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির জন্য আমাদের পরিবেশ বইটি যেন আদ্যোপান্ত একটি নামাবলী। গল্পের ছলে বিষয় পড়াতে গিয়ে বিষয়গুলি বাদ চলে গেছে বেমালুম, দুনিয়ার বাচ্চাদের নাম দিয়ে ভরিয়ে রাখা হয়েছে। যেহেতু ইতিহাস, ভূগোল বা বিজ্ঞান বলে আলাদা কোনো বই নেই সেহেতু পরিবেশ নাম দিয়ে এই বইতে একটা জগাখিচুড়ি বিষয় থাকার কথা। কিন্তু সেই সমস্ত বিষয়ও সেভাবে নেই যা আছে তা হল বাচ্চাদের হরেক চরিত্রের নাম দিয়ে গল্পের অবতারণা। অঙ্কের বই বলতে আমাদের ধারণা ছিল অনুশীলনী কিন্তু বর্তমানে আমার গণিত বইটিতে প্রয়োজনীয় অনুশীলনী একেবারেই নেই। কিছু শিক্ষক মনে করেন মৌলিক সংখ্যা, যৌগিক সংখ্যা, পারস্পরিক মৌলিক সংখ্যা, ঐকিক নিয়ম ইত্যাদি যথাযথভাবে দেওয়ার প্রয়োজন আছে, যা এই বইটিতে অভাব আছে। ...more
২৬-মার্চ-২০২৬
তনয় কান্তি রায়, সুপ্রিয় বসু
মিড ডে মিল আমাদের বুনিয়াদি শিক্ষার সঙ্গে তা ওতপ্রোত জড়িত এখন। নতুন করে এই প্রকল্পের নাম হয়েছে PM-POSHAN। এমনকী বুনিয়াদি শিক্ষায় এনইপি বলছে দুপুরের খাবারের সঙ্গে সকালের জলখাবারও দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের বরাদ্দ চাল ছাড়া ৬.৭৮ টাকা প্রতি ছাত্র। জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া, গ্যাসে রান্না করা, এবং সেই জ্বালানির খরচ মাষ্টারমশাই দিদিমনিদের পকেট থেকে না-দিলে কোনোভাবেই চালানো সম্ভব নয়। সপ্তাহে একদিন শিশুদেরকে গোটা ডিম দিতে হবে। শেষ ২-৩ মাস ধরে প্রতি ডিমের দাম ৮ টাকা। কোথা থেকে এই টাকা আসবে তার কোনো দিশা নেই কোথাও। বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে গিয়ে স্কুলে স্কুলে কিচেন গার্ডেন করতে হবে এমন নিদান দিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা নীতিতে। কিন্তু এই কাজটাও কী তাহলে ওই শিক্ষকদেরকেই করতে হবে! ...more
২৫-মার্চ-২০২৬
ঈশিতা মুখার্জী
বৃহৎ পুঁজির মালিক আর মধ্যসত্ত্বভোগীর মধ্যে এখানে কোনো সংঘাত নেই— একে অপরের মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করে চলেছে। যে-প্রক্রিয়ায় একে অপরের মুনাফা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে চলেছে এই দুটি অংশ সেই প্রক্রিয়াতেই আবার গ্রামের সাধারণ মানুষের পারিবারিক আয় নিচের দিকে রাখার যে চক্র তা মজবুত করে রাখছে। এই অংশ পরিবারগুলির নিম্ন আয়ের চক্রকে বাইরে থেকে মজবুত রাখে যার ফলে গ্রামের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলি কখনোই এই নিম্ন আয়ের চক্র থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না। ক্রমশ তাঁরা এই নিম্ন আয়ের চক্রকে তাঁদের ভবিতব্য বলে ভেবে নেয় এবং এই চক্রের বাইরে বেড়িয়ে আসা সম্ভব, এই সত্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমে তাঁদের মধ্যে হারিয়ে যায়। ...more
২৪-মার্চ-২০২৬
ঈশিতা মুখার্জী
কৃষি ক্ষেত্রের উপর গ্রামীণ মানুষের নির্ভরতা শুধু ২০২২ সালের পর থেকে শুরু হয়েছে এমনটা নয়। ২০১৭ সালের পরিসংখ্যানেও কৃষি এবং কৃষিজ ক্ষেত্রে দেখা যায় ৫০.৭% শ্রমজীবীর নির্ভরতা। ২০০১ থেকে ২০১১ সালের আদমসুমারি রিপোর্টেও পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে যে অকৃষি ক্ষেত্রের উত্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়, ২০১১ সালের পর সেই ক্ষেত্রের সংকোচন চোখে পড়ে, গ্রামীণ শিল্পের বিকাশেও শ্লথগতি আসে। শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমে আসে এবং কর্মসংস্থান কমে আসে। তাই কৃষিকাজে ফিরে আসে গ্রামের মানুষ। এই ধরনের শ্রমনিযুক্তিকে ছদ্ম বেকারত্ব বলে। ...more
২৩-মার্চ-২০২৬
এম এ বেবি
আরএসএস-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলার নিরিখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পার্টির স্বাধীন শক্তি বৃদ্ধি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়াতে হবে বামেদের ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিরও। ২৪ মার্চ দিল্লিতে হবে ‘চলো দিল্লি—জন আক্রোশ রালি।’ তার আগে স্থানীয় স্তরে হবে জন সংযোগ কর্মসূচি। এগুলি করা হবে রাজ্যস্তরের জন আক্রোশ জাঠাগুলির মাধ্যমে। এই সব কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে ঝাড়খণ্ড থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত। এভাবেই আমাদের পার্টি ‘গণ লাইন’ প্রয়োগ করবে এবং সেখানে জোর দেওয়া হবে শ্রমজাবী মানুষের জীবন জীবিকার বিষয়গুলিতে। নির্বাচনী লড়াইয়ের মতো এগুলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ...more
২২-মার্চ-২০২৬
রতন খাসনবিশ
নিয়োগের স্থিতিস্থাপকতা মাপা হয়েছে উৎপাদনের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচার করে। অর্থাৎ নিয়োগ বৃদ্ধি বা হ্রাসের শতকরা হার/উৎপাদন বৃদ্ধির শতকরা হার। বাড়তি উৎপাদনের জন্য সাধারণভাবে প্রয়োজন হয় বাড়তি নিয়োগের। তথ্য অনুসারে, এ-রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্নতর। উৎপাদন বাড়লে কৃষি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রেই নিয়োগ কমছে। এর অর্থ হল, যে-পরিমাণে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে নিয়োগ সেই পরিমাণে বাড়ছে না কিংবা পিছিয়ে পড়ছে। এই প্রবণতা শুধু বড়ো উদ্যোক্ষেত্রগুলিতেই দেখা দিয়েছে এমন নয়, কৃষির মতো শ্রমঘন উৎপাদন ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ এ-ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে সেটা আমরা জানি। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশ একই সঙ্গে নতুন নতু্ন কাজের সম্ভাবনাও বাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গে এই জিনিসটা ঘটছে না। নতুন নতুন নিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। এর অবশ্যম্ভাবী ফল কর্মহানি। এ-রাজ্যে সেটাই ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর উৎকৃষ্ট কাজের বিকাশ নেই। পড়ে রয়েছে কিছু অপকৃষ্ট কাজ। যারা একটু স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজ করেন তাঁদেরকে এই রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র জীবিকার সন্ধান করতে হচ্ছে। এই সমস্যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কাঠামোগত সমস্যা। এ-সমস্যা মোকাবিলার কোনো দিশা দেখা যাচ্ছে না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। ...more
২১-মার্চ-২০২৬
রতন খাসনবিশ
তেলেঙ্গানার মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বছরে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। কর্ণাটক, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু— এই তিন রাজ্যে মাথাপিছু বার্ষিক আয় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি। কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড এবং অন্ধ্রপ্রদেশ হল সেইরকম রাজ্য যেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় দেড় গুণেরও বেশি। যে-রাজ্যের উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে তৃণমূলের অর্থী, প্রার্থীরা নৃত্য শুরু করে দিয়েছেন, সেই রাজ্যটির মাথাপিছু আয়ের নিরিখে এটাই শুধু বলার আছে যে, এখানকার গড়পড়তা মানুষ ছত্তিশগড় বা মধ্যপ্রদেশের চেয়ে বেশি আয় করেন। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের তুলনায় বঙ্গবাসী বেশি খরচ করার সামর্থ্য রাখেন— এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট গৌরব করার কারণ নেই। মেনে নেওয়া ভালো যে মমতার পশ্চিমবঙ্গ একটি গরিব রাজ্য। সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী এটি সবচেয়ে ভালো জানেন। জানেন বলেই এ-রাজ্যে তিনি রাজকোষ থেকে জনগণকে অর্থ সাহায্য করার নানাবিধ প্রকরণ উদ্ভাবনের চেষ্টা করেন। এ-কথাগুলি কিছুটা তিক্ত কথা। কিন্তু উন্নয়নের পাঁচালি শোনার আগে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে এই তথ্যটিও হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। ...more
২০-মার্চ-২০২৬
পার্থ প্রতিম বিশ্বাস
ফলে যখন ঘন ঘন তীব্র বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে শহরে তখন শহরের বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পাম্পের জল নিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা অবিলম্বে জরুরি। কিন্তু শুধু পাম্পের ক্ষমতা কিংবা স্টেশনের সংখ্যা নয়, প্রয়োজন খালের পলি সংস্কার নিয়মিত উদ্যোগ। কিন্তু এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভার শূন্য পদের সংখ্যা ৫০%-এরও বেশি যে পদ পুরনের কোনও দিশা নেই সরকারি স্তরে। শহর জুড়ে চুক্তি ভিত্তিক কিছু কর্মী দিয়েই এখন চলেছে পুরসভার কাজ। পুরসভার এমন কর্মী ঘাটতির চিত্র কম বেশি রাজ্যের শতাধিক পুরসভার ক্ষেত্রেই। ...more
১৮-মার্চ-২০২৬
পার্থপ্রতিম বিশ্বাস
শহর থেকে বিদায় নিয়েছে দূষণরোধী যান ট্রাম। বিশেষত গত ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শহরে চারচাকার যাত্রীবাহী গাড়ি বেড়েছে পাঁচ গুন আর মোটর সাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে বারো গুণ। অথচ এই সময়কালে কার্যত রাস্তাঘাটের পরিমাণ বাড়েনি শহরে। ফলে অংকের নিয়মেই শহরের রাস্তায় বেড়ে চলেছে যান ঘনত্ব। ফলে বাড়ছে গতিমন্থরতা। কার্যত কলকাতা শহরের গতি বাড়াতে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনাহীনতার মাশুল গুনছে আজ শহরবাসী। এই রাজ্যে বাস পরিবহনের ৮০% শতাংশ বেসরকারি মালিকানাধীন। বাকি ২০% সরকারি পরিবহন সংস্থার অধীনে। কিন্তু গত দশ বছরে রাজ্যের সরকারি পরিবহন সংস্থাগুলি রাজ্য সরকারের অদক্ষতার কারণে রুগ্ন হয়ে ধসে পড়ছে। পুরোনো বাসের পরিবর্তে রাজ্যে নতুন সরকারি বাসের বরাদ্দ জোটেনি রাজ্যের বাজেটে। এই সময়কালে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে পরিবহন কর্মীর সংখ্যা। একের পর এক ট্রাম ডিপোর জমি বিক্রি করে সরকার রিয়েল এস্টেটের উন্নতি ঘটিয়েছে কর্পোরেটদের স্বার্থে। ...more
১৭-মার্চ-২০২৬
চন্দন দাস
শাখার সংখ্যা ৩৫০ থেকে আজ ২১০০-র কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। তবে শুধু তার ভিত্তিতেই সংঘের বিষাক্ত অগ্রগতি বিচার করা যায় না। সরকারের টাকায় মন্দির বানানো হয়েছে দীঘায়। মন্দির বানানো চলছে মাটিগাড়ায়, নিউটাউনে। বিধানসভায় বেদ, উপনিষদকে ইতিহাস বলে দাবি করে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিবের মন্দিরের দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকার তথ্য বিধানসভায় জানিয়ে, ‘আমিও ব্রাহ্মণ’ ঘোষণা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। সংঘ উৎসাহিত হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা রামনবমীতে অস্ত্র হাতে মিছিল করে সমাজে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে। ...more
১৬-মার্চ-২০২৬
প্রসূন ভট্টাচার্য
কিন্তু যখন রাজনৈতিক দলগুলি সেই পদ্ধতি ব্যবহার করছে তখন রাজনৈতিক দলও যে আসলে ‘মুনাফা’ করার বাজারে নেমেছে সে-কথাটা আর নিছক অনুমান, সন্দেহ, অভিযোগ হিসাবে থাকে না, তত্ত্বগতভাবেও প্রমাণিত ও স্বীকৃত হয়। রাজনীতি তো ব্যবসা নয়, তাহলে ‘মুনাফা’ আসে কোথা থেকে? সোজা কথায়, ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর লুট দুর্নীতির মাধ্যমে। ...more
১৪-মার্চ-২০২৬
শুভনীল চৌধুরী
২০২৩-২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের একজন গড় বেতনভুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক মজুরি ছিল ১০৯৩৫ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ছিল ১৬৫০৮ টাকা, ঠিকা শ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শ্রমিকের ক্ষেত্রে ২৭৮ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ২৯৬ টাকা, স্বনিযুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক গড় আয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ৩২৮০ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ৫৪৯৭ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক ধরনের মহিলা শ্রমিক রাজ্যে দেশের গড়ের তুলনায় কম আয় করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মহিলাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান থেকে এই ক্ষুদ্র আয় নিয়ে মহিলা শ্রমিকরা নিজেদের বা সংসারের খরচ চালাবেন কী করে? ...more
০৯-মার্চ-২০২৬
সুবর্ণ গোস্বামী
রাষ্ট্রের ভূমিকা এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় নির্ণায়ক। যদি জনস্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে না দেখে বিমা-কেন্দ্রিক বাজার সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে বিচ্ছিন্নতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। স্বাস্থ্যসাথীর মত প্রকল্প পরিবারের নারী সদস্যের নামে ইস্যূ করা হলেও, কাগজেকলমে বিমাকৃত নারী বাস্তবে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অপুষ্টি ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে বেঁচে থাকেন। সামাজিক সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ, স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা উপেক্ষিত থেকে যায়; দৃশ্যমান হয়ে ওঠে অস্ত্রোপচার-প্যাকেজ ও প্রকল্পভিত্তিক ভাতা। ওয়েলফেয়ারিজমে নারী বেনেফিশিয়ারি হিসেবে চিহ্নিত হন, পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে নয়। ...more
০৮-মার্চ-২০২৬
অলকেশ দাস
তিনি বলেছেন আমি নিজের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি, পণ দিয়েছি। ছেলের বিয়ে দিয়েছি, পণ নিয়েছি। ব্যাপারটা এমন যেন শোধবোধ। কিন্তু আসলে অন্তর্নিহিত অর্থ যে তিনি নারীকে দাঁড়িপাল্লায় তুলেছেন। পণ্য করেছেন। বিজেপি আরএসএস তাদের মতাদর্শে নারীকে কিভাবে দেখে বা তাদের দৃষ্টিতে সমাজের কোনও স্থানে নারীর সামাজিক অবস্থান এতেই তা স্পষ্ট। মনুস্মৃতিকে পাথেয় করে তারা মনুবাদকে প্রয়োগ করতে উদগ্রীব। সাধে আর আরএসএসের গুরু গোলওয়ালকার মনুকে বিশ্বের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ আইন প্রস্তুতকারক বলেননি। তাকেই সংবিধান করতে চেয়েছিলেন। মনুসংহিতাই নাকি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে। তা করতে না পেরে আম্বেদকরের উপর রাগ। ...more
০৮-মার্চ-২০২৬
অনিতা অগ্নিহোত্রী
পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি, তেহট্ট থেকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা— শাসকদলের মুখ্য ও তাঁর পারিষদরা ভিকটিম শেমিং, প্রতিবাদীদের নকশাল বলে চিহ্নিত করা, এবং সাক্ষ্য প্রমাণ লোপের বিপুল ষড়যন্ত্রে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছেন। তেহট্টের কিশোরীর হত্যার ঘটনায় তার ধর্ষকের সঙ্গে অ্যাফেয়ার আছে কিনা, সে অন্তঃসত্ত্বা ছিল কিনা ইত্যাদি মন্তব্য করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। আর এভাবেই মথুরা কেস-পরবর্তী ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশোধন থেকে রাজ্যকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। ...more
০৮-মার্চ-২০২৬
টমাস আইজ্যাক
কেরলের এলডিএফ সরকারের উন্নয়নের যে দ্বিমুখী কৌশল ২০২৬-২৭ সালের কেরলের বাজেটে সেই বিষয়টি পরিস্ফুট হয়েছে। উন্নয়নের এই দ্বিমুখী কৌশল হল একদিকে জনগণের সার্বিক কল্যাণকে প্রাথমিক গুরুত্বের জায়গায় রাখা। এর পাশাপাশি রাজ্যের পিছিয়ে থাকা পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে নলেজ ইকনমি বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি দ্রুততর করা। আপাতদৃষ্টিতে এই কাজ দুটি পরস্পরবিরোধী। এই দুটি ধারাকে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বাজেট-বহির্ভূত সম্পদের ওপর নির্ভর করে এবং সেই সম্পদ পরিকাঠামো নির্মাণে কাজে লাাগিয়ে। ২০১৬ থেকে ২০২১ এর পর্বে এই কৌশল সফল হয়েছিল এবং সে কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রথমবার টানা দ্বিতীয় বারের জন্য জয় পেয়েছিল বামেরা। ...more
০৫-মার্চ-২০২৬
টিম মার্কসবাদী পথ
এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। বাংলার জন্য। বাংলার ভবিষ্যতের জন্য। বামপন্থীরা হেরেছে ঠিকই। কিন্তু হারিয়ে যাইনি। জরুরি তাই রেজিসটেন্স। প্রতিরোধ। একইসঙ্গে একটি জোরালো কামব্যাক। বামপন্থার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। এই বাংলাকে বাঁচাতে হবে। বাঁচাতেই হবে। ওরা চায় বিভাজন। পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ। বাংলা চায়, সকলের জন্য উন্নয়ন। সকলে মিলে উন্নয়ন। আজকের দিশা: বাংলার পুনরুত্থান। বাম বিকল্পের মূল কথাও তাই: রিসারজেন্স অব বেঙ্গল। ...more
০১-মার্চ-২০২৬
বাসব বসাক
...এহেন মহতী কাজের কারনে যদি মৌলবাদের চাপে অপদার্থ প্রশাসনের অপ্রয়োজনীয় অতিসক্রিয়তায় জেল খাটতে হয় তবে তার থেকে লজ্জার ঘটনা আর কিই বা হতে পারে! এই ঘটনা, সন্দেহ নেই ভারতের সংবিধানের ওপর এক বড়সর আঘাতকেই সূচিত করে। পাশাপাশি মৌলবাদী শক্তি ও প্রোমোটাররাজের কাছে প্রশাসনের নির্লজ্জ আত্মসমর্পণের দলিল হয়ে ওঠে এই ঘটনা। ...more
২২-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
রতন খাসনবিশ
কোষাগারের অবস্থা কতটা বেসামাল সেটা অনুমান করার মতো তথ্য নেই। কিন্তু এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সরকার প্রাণপণে চেষ্টা করছেন সরকারি কর্মচারি বাবদ খরচ কমিয়ে আনতে। সেটা ডিএ আটকে রেখে, পেনশনে জটিলতা এনে এবং নতুন নিয়োগে নানা ভাবে বাধা সৃষ্টি করে, নানা ভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফল দাঁড়িয়েছে এই, যখন আমরা এগিয়ে বাংলার কথা বলছি, তখন রাজ্যের মাথাপিছু জিডিপির হার দাঁড়িয়েছে ওড়িশার নিচে, শিল্পে বৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে কম এবং কিছু পরিষেবা বৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে কম। সরকারি প্রকল্পগুলি চলে মন্থর গতিতে।
...more১৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
চন্দন দাস
সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটের সঙ্গে বিধানসভায় পেশ করা আর্থিক সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩-২৪-এ মূলধনী খাতে সরকার খরচ করেছিল ২৯,৭৫৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫-এ তা বাড়েনি, কমেছে ৭ হাজার কোটির বেশি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের হিসাব পাওয়া যাবে আগামী বছর। কিন্তু প্রবণতা বলছে মূলধনী খাতে খরচ কমিয়েছে রাজ্য সরকার। খরচ একইভাবে কমানো হয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও। এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় হ্রাস মানে কাজের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি শ্রমজীবীদের। ...more
১৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
চন্দন দাস
গত তিন বছরের রাজ্য বাজেট পর্যালোচনা করলেই দেখা যাচ্ছে শ্রম দপ্তরের বরাদ্দ এবং খরচের ফারাক থাকছে। অর্থাৎ বছরের গোড়ায় যত টাকা বরাদ্দ বলে ঘোষণা করা হচ্ছে বছর শেষে দেখা যাচ্ছে খরচের পরিমাণ বরাদ্দের থেকে কম। কিন্তু দুর্গোপুজার খাতে খরচ বরাদ্দকে ছাপিয়ে গেছে। যেমন ২০২৫-’২৬। দুর্গাপুজোয় বরাদ্দ ছিল ৪৪৭কোটি ৫০লক্ষ টাকা। সরকার বাজেট নথিতে জানিয়েছে তাদের এখনও পর্যন্ত ধারনা এই খাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫২৪ কোটি। ...more
১৫-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
প্রসূন ভট্টাচার্য
মমতা ব্যানার্জির অপটিক্স ট্যাকটিক্স নতুন নয়। যখন সমাজমাধ্যম ছিল না, নিউজ চ্যানেল ছিল না, তখনও ছিল। অপটিক্স পলিটিক্স— দক্ষিণপন্থী রাজনীতি, রাইটিস্ট পপুলিজমের চিরায়ত কৌশল। শোষণ কায়েম রাখার অন্যতম হাতিয়ার। মানুষকে সমস্যার মূলে যেতে না দেওয়া। প্রকৃত ইস্যুকে আড়াল করা। ...more
১২-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
সুপ্রকাশ তালুকদার
যে যে বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটদাতার সংখ্যা ৩৫-৭০ শতাংশ, বিজেপি নিশানা করেছে সেই আসনগুলিকেই। যত ধরনের বেআইনী ও গোপন পথ থাকতে পারে তার সবটাই অবলম্বন করছে তারা আপত্তির আবেদন জানাতে। বিভিন্ন মানুষের অজ্ঞাতসারে তাঁদের এপিক কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হাজার হাজার আপত্তির আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। পরে যখন সংশ্লিষ্ট মানুষেরা জানতে পারছেন যে বিজেপি দুষ্কৃতীরা তাঁদের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা আপত্তি জানিয়েছে তখন তারা প্রকাশ্যে এসে বলছেন যে তাঁরা এগুলোর সাথে কোনওভাবেই যুক্ত নন এবং নির্বাচন কমিশনকে তাঁরা লিখিতভাবে জানাচ্ছেন যে গোপনে তাদের অজ্ঞাতসারে এই আপত্তির আবেদন তাদের নামে জমা দেওয়া হয়েছে। ...more
০২-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
টমাস আইজ্যাক
এই মুহূর্তে কী ঘটছে? দশ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই ইউডিএফ। যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতায় ফেরার একটি মাত্র কৌশলই তাদের জানা। সেটি হল সাম্প্রদায়িক ভাবাবেগে উস্কানি দেওয়া। অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে এই খেলাটিই এখন খেলছে ইউডিএফ। তাদের চিরন্তন সঙ্গী মুসলিম লিগের পাশাপাশি এবার তারা জামাতে ইসলামি ও এসডিপিআইকে সঙ্গে নিয়ে এ-ধরনের একটি বয়ান নির্মাণের চেষ্টা করছে, সিপিআই(এম) হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। আবার একইসঙ্গে, গুরুতর পরিস্থিতিতে বিজেপি-র সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার সুবিধাবাদও পরিহার করছে না। ...more
২৭-জানুয়ারি-২০২৬
সাত্যকি রায়
এই প্রকল্প বন্ধ হলে গ্রামে শ্রমের মজুত বাহিনী আবার ফুলে ফেঁপে উঠবে যা গ্রামের মজুরি হারকে আবার নিম্নগামী করবে। শুধু তাই নয় কাজ না পাওয়ার কারণে গ্রাম থেকে শহর ও শহরতলীর অভিমুখে কৃষি-বহির্ভূত কাজের আশায় পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। এর ফলে শহরাঞ্চলে অদক্ষ শ্রমিকের যোগান বাড়বে এবং যে সমস্ত ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা আছে সেখানে মজুরী হারও নিম্নগামী হবে। মনে রাখা দরকার যে গরিব মানুষের অর্জিত অধিকার যদি ধনী ও ক্ষমতাসীনরা প্রত্যাবর্তন করাতে সক্ষম হয় তাহলে ক্ষমতার কাঠামোর কারণে ওই অধিকার প্রতিষ্ঠার আগের অবস্থার চেয়েও প্রত্যাবর্তন পরবর্তী অবস্থা প্রতিকূল হয়ে পড়ে।
...more০৬-জানুয়ারি-২০২৬
সুদীপ্ত বসু
...স্রেফ যাত্রা পথের রুট ম্যাপ দেখুন- বিবর্ণ বাংলার যন্ত্রনা আর মরিয়া প্রতিরোধের চিহ্ন আঁকা নদী-জঙ্গল-জমি-বনবস্তি-চা বাগিচা, শ্রমিক মহল্লা, ভাঙনের গ্রাসে অনিশ্চিত জীবন,মজুরির দাবিতে কারখানার গেট আগলে লড়ে যাওয়া হিম্মতের প্রতিটি প্রান্তর শুনলো বাংলার রাজনীতিতে নতুন ভাষ্য। এখানেই অনন্য, এখানেই ব্যতিক্রমী ১৯ দিন ধরে হাজার কিলোমিটার পথ পেরোনো বাংলা যাত্রা। আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ যখন হলো তখন ‘মেঘ পিওনের ব্যাগের ভিতর’ বিবর্ন বাংলাকে বদলানোর লক্ষ অযুত আর্তি জমা হয়েছে। ...more
১৯-ডিসেম্বর-২০২৫
অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী
অনেকের ধারণা মুসলমান না হলে কেউ উর্দু ভাষা বলতে পারেন না। অর্থাৎ উর্দু যেন শুধু মুসলমানের ভাষা। অথচ আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শৈশবে পাকিস্তানে পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর মাতৃভাষা ছিল উর্দু। তাঁর স্কুলের মার্কশিট উর্দু ভাষায় লেখা। সিপিআই(এম) নেতা হরকিষাণ সিং সুরজিৎ, উর্দু ভাষায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তিনি ও তাঁর শৈশব কৈশোর যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানে। তিনি মাকে চিঠি লিখতেন উর্দু ভাষায়। ...more
১৪-ডিসেম্বর-২০২৫
তপন সেন
বাস্তব সত্য একটাই। শ্রম কোডের বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়া আর অন্য কোনও পথ নেই। এ লড়াই শুধু মজুরি বা কাজের সময়ের লড়াই নয়। এ লড়াই, দেশজুড়ে লুটের যে বেপরোয়া অর্থনৈতিক অভিযান শুরু হয়েছে, তার যে বর্বরতম বিকৃত রূপ প্রকট হচ্ছে, তার থেকে দেশকে বাঁচানোর লড়াই। এই লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন শ্রমিকশ্রেণি, রয়েছেন কৃষক-সহ মেহনতি মানুষ। আর তাঁদের নিরস্ত্র করতেই এই শ্রম কোড। লক্ষ্য: অবাধ লুটের জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম। যে চক্র আজ শ্রমিকদের উপর আধুনিক দাসত্ব চাপিয়ে দিয়ে জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে, তাকে প্রতিহত করার ঐতিহাসিক দায়িত্বই আজ তাঁদের সামনে। ...more
২৭-নভেম্বর-২০২৫
আনন্দরূপা ধর
পশ্চিমবঙ্গে কোন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর, কতজন তার সুবিধা পেল, কতজন পেল না, - এই সকল বিষয়ের কোন তথ্য সামনে আসে না। তাই যারা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়, বেশিরভাগ সময় রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে, তারাই প্রকল্পগুলির সুবিধা নেয়। অপরদিকে, কেরালায়, স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ডেটা প্রকাশ করা হয়। চরম দারিদ্র দূরীকরণ প্রকল্পের সম্পূর্ণ ডেটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যেত, এবং EPEP মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৬৪,০০০ এর বেশি পরিবারের অবস্থা নিয়মিত ট্র্যাক করা হতো। ...more
২৪-নভেম্বর-২০২৫
চন্দন দাস
সাম্প্রতিককালে এই অভিযোগে ওডিশা, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, দিল্লি সহ বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা। আরও অনেককেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে। রাজ্য সরকার কী করেছে? সোনালী বিবি সহ রাজ্যের পরিযায়ীদের উপর এই নিপীড়ন থামানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনও চিঠি লেখেননি, কোনও ফোন করেননি প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্কে। ...more
২৩-নভেম্বর-২০২৫
চন্দন দাস
রাজ্যের ‘মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম। তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁকে যখনই প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি বলেছেন রাজ্যের পরিযায়ীর সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৪০ হাজার। কিন্তু অন্য কথা বলেছেন মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪-এর গত ৪ সেপ্টেম্বর আবাসন এবং নির্মাণ শিল্পের সংগঠন ক্রেডাইয়ের রাজ্য সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘৫০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের তালিকা দিয়ে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করছি।’ ...more
২২-নভেম্বর-২০২৫
রানা মিত্র
মাইক্রোফাইনান্স কোম্পানিগুলি গায়ের জোরে, কোথাও বাউন্সার নিয়োগ করে, মহিলা, গরিব মানুষদের ঘর-বাড়ি-ঘটিবাটি, যে কোনও কার্যকরী সম্পদ দখল করে নিচ্ছে। মহিলাদের সম্ভ্রম, মানইজ্জত ধরেও টানাটানি করতে এদের বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামাঞ্চলে মানুষ ক্ষোভে, এই বিকৃত ঘৃণ্য মডেলটির নাম দিয়েছে, ‘বৌ-বন্ধকী’ ঋণ!... গোটা দেশের যে ২৫টি জেলায় বেসরকারি মাইক্রোফাইনান্সের দাপট সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে এগারোটি জেলা বিহারের। আর তারপরেই আজকের পশ্চিমবঙ্গের ৬টি জেলা। গোটা দেশে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা, যেখানে মোট মাইক্রোফাইনান্স ঋণ ৪২৩৯ কোটি টাকা।
...more০৯-নভেম্বর-২০২৫
এম এ বেবি
ভারতে জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্য চলেই আসছে। এরই প্রেক্ষিতে সিপিআই(এম)-এর ২৪ তম কংগ্রেসে যে রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে সেখানে বাম ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির একটা প্রধান উপাদান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সামাজিক ন্যায়কে। রাজনৈতিক প্রস্তাবে আহ্বান রাখা হয়েছে জাতপাত ব্যবস্থা ও সব ধরনের জাতপাত ভিত্তিক নির্যাতন ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। এবং দলিত , আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে মহিলা, দলিত, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য লড়াইকে পার্টির কাজ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। ...more
০২-নভেম্বর-২০২৫
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
এরই পাশাপাশি উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। নারীর উপর সংঘটিত অপরাধের মামলায় শাস্তির হারে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা রাজ্যগুলির দলে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সময়পর্ব পশ্চিমবঙ্গে নারীর নির্যাতনের মামলার শাস্তির হার অত্যন্ত কম। ৫ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২২ সালে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৯ শতাংশ হয়েছিল। ...more
১৮-অক্টোবর-২০২৫
শমীক মণ্ডল
কেরালা সরকারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘রোশনি’। এই প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের শিশুরা পায় ভাষা শিক্ষার বাড়তি ক্লাস। সকালে ক্লাস শুরু হওয়ার ৯০ মিনিট আগে শুরু হয় এই অতিরিক্ত ক্লাস। বাংলা, ওড়িয়া ও হিন্দি ভাষী শ্রমিক পরিবারের শিশুদের দেওয়া হয় মালয়ালি, ইংরাজি ও হিন্দি ভাষা শিক্ষার বিশেষ পাঠ। স্থানীয় ভাষার অবৈতনিক শিক্ষার আওতায় এসে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের শিশুরা। ...more
১৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫
শুভনীল চৌধুরী
আসলে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত ক্ষেত্রে বিশেষ কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কৃষি গোটা দেশেই আর লাভজনক পেশা নয়, অধিকাংশ মানুষের জন্য। অতএব জীবিকানির্বাহ করার জন্য মানুষ ছোটো ও ক্ষুদ্র আয়ের কোনও পেশা বা সংস্থায় নিযুক্ত হচ্ছেন। এই পেশা মানুষের আয় বাড়াতে পারছে না। ফলত, পশ্চিমবঙ্গ মাথা পিছু আয়ের হিসেবে ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।... যেখানে বেকারত্ব ভাতা নেই, সেখানে আপনি হাতের কাছে যা কাজ পাবেন, তাই করতে চাইবেন। খাতায় কলমে আপনি কর্মে নিযুক্ত থাকবেন, যদিও যৎসামান্য আয়ে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প চিত্র আপাতত এরকমই এক ক্ষুদ্রতা এবং অনুৎপাদনশীলতার জালে আটকা পড়েছে। ...more
০৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫
সুদীপ্ত বসু
বছর শেষের আগেই সামনে এলো নিদারুণ সত্য। কেন্দ্রীয় সংস্থা সিএফএসএল-এর রিপোর্ট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রিপোর্টকে উহ্য রেখেই, এমনকি উপেক্ষা করেই নানা সন্দেহ তৈরি করেই কলকাতা পুলিশের বয়ানেই চার্জশিট দিলো সিবিআই। ‘একমাত্র অভিযুক্ত’ হিসাবে দেখানো হলো কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কেই। ...more
০৯-আগস্ট-২০২৫
চন্দন দাস
কলেজে পড়াশোনা ছেড়ে উপার্জনের জন্য গেছেন মুম্বাই, কাজ— রঙের কারখানায়। দম্পতির ছোট ছেলে কাঞ্চন। এখনও পড়ছে। ‘‘কতদিন পারবে পড়তে, জানি না। ছেলের পাঠানো টাকার দিকে চেয়ে তো আর বসে থাকা যায় না। স্বামীর বয়স হয়েছে। সবসময় কাজও মেলে না। আমার জবকার্ড আছে। আমার কাজ করার ক্ষমতা আছে। কেন আমাকে কাজ দেবে না?’’ ...more
২৮-জুলাই-২০২৫
এম এ বেবি
সিএএ, এনআরসি-র পর এখন এসআইআর– স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন, বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন– ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাইয়ের একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি নকশা। ১৯৩৫ সালে বৈষম্যমূলক ন্যুরেমবার্গে আইন প্রণয়ণের পরই নাৎসি জার্মানিতে সমস্ত ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকারের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন বাতিল করে দেওয়া হয়। সিএএ, এনআরসি ও বিহারের ভোটার তালিকায় এসআইআর বাস্তবায়ন– একত্রে করলে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ইদানীংয়ের ভারতের এক বিপজ্জনক ছবি। ...more
১২-জুলাই-২০২৫
সোহম ভট্টাচার্য
এই কারণে স্ব-নিযুক্ত নারীরা ক্ষুদ্র পুঁজির সর্বনিম্ন স্তরের জীবিকায় অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তাঁদের প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা অবৈতনিক ঘরের কাজ, গৃহস্থালি-পরিবারের পরিচর্যা করতে হয় যে কাজে তাদের পুরুষসঙ্গীরা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকে। এই শ্রমসহ তাদের মোট পরিশ্রম দিনে ৯-১০ ঘণ্টা, অথচ সে কাজে পারিশ্রমিক নেই। সবচাইতে বড় কথা এই কাজের সামাজিক বা রাজনৈতিক স্বীকৃতিও নেই। এই প্রেক্ষাপটে ৯ জুলাইয়ের আসন্ন সাধারণ ধর্মঘটের ডাক— ‘সব নারীই শ্রমিক’ এই স্বীকৃতি অর্জনের ডাক এবং কোটি কোটি অসংগঠিত নারী শ্রমিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক। ...more
০৫-জুলাই-২০২৫
সাগ্নিক সেনগুপ্ত
শ্রমিকদের লড়ে পাওয়া আইন রক্ষা করতে আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে, ৯ জুলাই সারা দেশে ধর্মঘট হবে, গিগ শ্রমিকেরা এমন একটি ক্রমবর্ধমান অংশ যাদের স্বার্থে সারা দেশে কোনও শ্রম আইন নেই। একটিও না। তাঁরা ৮ ঘণ্টার চেয়ে অনেক বেশি সময় শ্রম দিতে বাধ্য হন, ন্যূনতম মজুরি তাঁদের নেই, নেই গ্রাচুইটি, পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড, ওয়ার্কমেন কম্পেনসেশন-এর আওতায় তাঁরা পড়েন না, নিয়োগকারী কোনও ধরনের অ্যাকসিডেন্টাল বেনিফিট দিতে তাঁদের বাধ্য নন। তাঁদের বাইক বা সাইকেল নিজস্ব, স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট, ইউনিফর্ম নিজেকে কিনতে হয়, প্রতিদিন বাইকের তেল তাঁকে নিজেকেই ভরতে হয়, সারাদিনের খাবারও নিজের পয়সায়। ...more
০৪-জুলাই-২০২৫
চন্দন দাস
তৃণমূলের সৃষ্টি থেকে আজকের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত যদি রাজনৈতিক পরিবেশের একটি রেখচিত্র আঁকা যায়, কয়েকটি উপাদান কিছুতেই নজর এড়াতে পারে না। প্রথমে মমতা ব্যানার্জি ১৯৯৭-এ বলেছেন ‘বিজেপি অচ্ছুৎ নয়।’ রাজ্যে বিজেপি জোটসঙ্গী পেয়েছিল তাঁকে। তারপর সঙ্ঘ তাঁকে বলেছে ‘সাক্ষাৎ দূর্গা।’ বামফ্রন্ট সরকারকে হঠাতে তৃণমূলের সব কটি নৈরাজ্য-প্রয়াসের সঙ্গী ছিল বিজেপি। ২০০৪-এ প্রথম ইউপিএ সরকার। ২০০৬-০৭ থেকে রাজ্যে ‘শিল্প বনাম জমি’ ন্যারেটিভ হাজির করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। ...more
২৯-মার্চ-২০২৫
সোহম ভট্টাচার্য
গরীব মানুষ তাঁর সারাদিনের যাপনে, নুন-পান্তা জোগাড়ের ফাঁকে, সামান্য সময়ই ধর্মের চিন্তা করে। সেই চিন্তাও, তার নুন-পান্তা জোগাড়ের চিন্তায়, সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর চিন্তায়, প্রাইভেটের মাস্টারের টাকা সময়ে দিতে পারবে কি না, সেই চিন্তায় ঈশ্বরকে ডাকা। ধর্ম, তাকে এটুকুই ধারণ করে ছিল। তাই সেই সময় সে ভোটব্যাংকের মতো ভাবে না। সে তৃণমূল-বিজেপির মতো ভাবে না। সে গরীবের মতো-ই ভাবে। দলিতের অপমান, আদিবাসীর অপমান, মুসলমানের অপমান, কোথাও লুকিয়ে আছে তাঁকে শুধুমাত্র একমাত্রিক ভাবে দলিত বা মুসলমান করে রাখাতেই, তাঁর ব্যক্তি অধিকারকে, পরিচয়কে বারংবার একটি পরিচয়ে দেখার, এবং রাষ্ট্রের ভাষাতে, দেখিয়ে দেবার। তা ব্যক্তি মানুষের অপমান, অপমান সমষ্টিরও। ...more
১৪-মার্চ-২০২৫
কুমার রাণা
যে সামাজিক বৈষম্য থেকে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নানা অভাব তৈরি করে ও সেগুলোকে জীইয়ে রাখে, সেই অভাবগুলো থেকে উৎপন্ন অস্বাস্থ্যের সুযোগ নিয়ে বৈষম্যগুলোকে বাড়িয়ে তোলা হয়। যেমন, একজন মিড ডে মিল কর্মী জন্মজাত অপুষ্টি এবং কঠোর পরিশ্রম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ শ্রমের কারণে সহজেই অসুখের শিকার হন। এবার, সেই অসুখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রায়শই টাকা খরচ করতে হয়, যা তাঁর কাছে থাকে না। ...more
২৩-ডিসেম্বর-২০২৪
সোহম ভট্টাচার্য
গত দশকের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য গণ-আন্দোলনের কথা যদি মনে রাখা যায়, তাহলে দুটি ছবি আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। প্রথমটি, মহারাষ্ট্রের লক্ষাধিক কৃষক হেঁটে চলেছেন রাজপথে (Kisan Long March, Dhawale 2018)। দ্বিতীয়টি অবশ্যই কৃষিবিরোধী বিলের দাবিতে দিল্লির সীমান্তে কৃষকদের বিক্ষোভ। এই দুটি বিরোধের মাঝে একটি অবিচ্ছিন্ন সংযোগ রয়েছে। নয়া-উদারবাদী সময়ে কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্য দাম কৃষক পাচ্ছেন না। এর সামনে দাঁড়িয়ে, অন্তত নীতির ভিত্তিতে, মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের নীতিটি সরিয়ে নেওয়ার কু-যুক্তির প্রতিরোধ। ...more
১৫-ডিসেম্বর-২০২৪
সোহম ভট্টাচার্য
প্রলেতারিয়-করণ দুইভাবে দেখা যায়। এক গ্রামীণ মানুষের থেকে জমি সরিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র শ্রমের বিনিময়ে আয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। ঐতিহাসিক ভাবে (রামচন্দ্রন ২০১১), ইউরোপে এবং কিছু উপনিবেশেও হয়তো এটিই প্রাথমিক লক্ষণ। ভূমিহীনতা বৃদ্ধি। মুশকিল হল এই লক্ষণের একটি ব্যতিরেক আছে। ভূমিহীনতার বৃদ্ধি না-হয়ে কিংবা ‘ভূমিহীনতার হার’টি প্রায় এক থেকেও, প্রান্তিক কৃষক ধীরে ধীরে শ্রম-জাত আয়ের উপর তাঁর বেঁচে থাকার দিকে এগিয়ে গেলেন। এটিও প্রলেতারিয়করণ। এই জন্যেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রেণি-রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেস-স্টাডি। ...more
১৪-ডিসেম্বর-২০২৪
বৃন্দা কারাত
ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে গেলে যে ‘রাজনীতিকরণ’ আবশ্যিক ও প্রয়োজনীয় তার সঙ্গে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পার্থক্য করব কীভাবে তা আমাদের শিখতেই হবে। কেন এই পার্থক্য করা জরুরি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল পশ্চিমবঙ্গ। যে সর্বাত্মক স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গে চলছে, যার সামনের সারিতে রয়েছেন চিকিৎসকরা তাকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এবং এই উদ্দেশ্যে তারা সবচাইতে লিঙ্গ অসংবেদী ‘বাইনারি’কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ...more
০৮-অক্টোবর-২০২৪
অশোক ভট্টাচার্য
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে শাসক ও বিরোধী- দুটি দলের মধ্যে রয়েছে এক বাইনারি রাজনীতি। রাজ্যের শাসনে আসীন দলটির কোনও মতাদর্শগত ও সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক অবস্থান নেই। রাজ্যের বিরোধী দলটির রয়েছে একটি মতাদর্শগত ও সাংস্কৃতিক অবস্থান, যার ভিত্তি অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ এবং তারা চায় দেশে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে। এই দুটি দলই তীব্রভাবে বামপন্থা বিরোধী। দুটি দলই উৎসাহিত করে থাকে দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়কে। ...more
০৪-অক্টোবর-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
ঘটনার পর থেকে মার্কসবাদী পথ-ও আরজি কর প্রসঙ্গে প্রকাশ করেছে কয়েকটি ভিডিও। সেগুলিকে এক জায়গায় নথিবদ্ধ করা হল দর্শকদের সুবিধার জন্য। ...more
২৬-সেপ্টেম্বর-২০২৪
মালিনী ভট্টাচার্য
মানুষ বুঝছে, এ কোনও ব্যক্তির অস্বাভাবিক যৌনতাড়না থেকে সংঘটিত আচমকা অপরাধ নয়। তরুণী ডাক্তারের অপমৃত্যু এবং সমস্তরকম সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করার বিপুল আয়োজন প্রমাণ করছে এর পিছনে রয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সার্বিক দূষণ। তাকে উন্মূল করা না গেলে মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে কোনও নিরাপত্তাই সম্ভব নয়। আন্দোলন তুলে নেওয়ারও তাই প্রশ্ন নেই।। ...more
১১-সেপ্টেম্বর-২০২৪
রতন খাসনবিশ
মমতার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। কারণ সব সন্দীপ ঘোষকেই প্রশ্রয় দিয়ে রাজ্যে এক বীভৎস প্রশাসন গড়ে তুলেছেন তিনি নিজে। এই প্রশাসন প্রতি পদে মানুষকে দংশন করছে, বিষের জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই মানুষ মমতার পদযাত্রায় আর মুগ্ধ হচ্ছেন না। অ-রাজনৈতিক সমঝোতাকারী নামিয়েও এই জনতরঙ্গ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে দহনে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, সে দহনে বড় বিষ, সে দহনে বড় জ্বালা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চাইছেন এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভ করতে। ...more
০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৪
অপর্ণা ভট্টাচার্য
আখতার আলি বলেন,‘স্বাস্থ্য বিভাগ, অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো এবং রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে যথেষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা সত্ত্বেও, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে, আমাকে টার্গেট করা হয়, হয়রান করা হয়, এমনকি আমি প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। আমি কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ডা. সুদীপ্ত রায়ের সহায়তায় ডা. সন্দীপ ঘোষ হাসপাতালে একটা মাফিয়া-র মতো র্যাকেট চালাতেন।’আখতার আলির অভিযোগগুলি নিয়ে এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করছে। ...more
০৪-সেপ্টেম্বর-২০২৪
সাত্যকি রায়
প্রশ্ন হল এই নৃশংস হত্যাকারীদের সরকার আড়াল করতে ব্যস্ত কেন? তার একমাত্র কারণ হল ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের দুষ্টচক্রটিকে সুরক্ষিত রাখা। পশ্চিমবাংলায় এই ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের দুষ্টচক্রটির দুটি বাহু। একটি হল এক্সটরশান, যার সহজ উপায় হল ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট লুঠ করা, বা এক কথায় যাকে রাষ্ট্রীয় মদতে তোলাবাজি বলা যেতে পারে। আর অপর বাহুটি হল সরকারি বা বেসরকারি অনুদানের রাজনীতি, যা অধিকারের ধারণা বর্জিত এবং সে-কারণেই একপ্রকার সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক আনুগত্য তৈরি করতে যথেষ্ট উপযোগী। এই দুইয়ের মিশেলই হল পশ্চিমবাংলার বর্তমান শাসকদের ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত। ...more
২৪-আগস্ট-২০২৪
অশোক ভট্টাচার্য
২০১১-তে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে পার্টি-সমাজের নামে একটি প্রতীকী কাঠামো বজায় থাকলেও, তার মূল ভিত্তি হলো দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জীর ফ্রাঞ্চাইজি রাজনীতি ও তার ব্র্যান্ড। গ্রামাঞ্চলে যে কোনও সিদ্ধান্তে থাকে তাঁর অবাধ কর্তৃত্ব। এমনকি ধর্মীয় সম্প্রদায়, জাত বা বর্ণ, সমাজ বা অ-সরকারি সামাজিক সংস্থার ওপরও। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কর্তৃত্ব স্থাপনের ক্ষেত্রেও থাকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ফ্রাঞ্চাইজি রাজনীতির মুখ্য ভূমিকা। আজ সরকার, প্রশাসন, পঞ্চায়েত ইত্যাদির সহায়তায় যে চরমতম দুর্নীতির সৃষ্টি হচ্ছে তার মধ্য দিয়ে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে যে নন্-কর্পোরেট ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণ মমতা ব্যানার্জির এই ফ্রাঞ্চাইজি রাজনীতি। ...more
২১-জুন-২০২৪
রতন খাসনবিশ
তৃণমূল কংগ্রেস যত বেশি করে কংগ্রেসের মতাদর্শগত পরিমণ্ডল থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছে, তত বেশি করে তা আরএসএস-নির্মিত বিকল্প যে প্রভাববলয় এদেশে বিদ্যমান ছিল, দলটি সচেতন বা অবচেতনভাবে তারই শিকার হয়েছে। মতাদর্শগত অবস্থানে দুই দলের এই যে অভিন্নতা এতে বোঝা যায়, মতাদর্শগত বিষয়গুলি যখন আলোচনায় আসে এবং সেই প্রসঙ্গে একটি পরিষ্কার অবস্থান নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত কোনও মৌলিক বিষয়ে বিজেপি বিরোধিতার কোনও ইতিহাস নেই পশ্চিমবঙ্গের এই ‘সর্বভারতীয়’ তৃণমূল কংগ্রেসের। ...more
২৮-মার্চ-২০২৪
সুদীপ্ত বসু
এ যেন কর্পোরেট তোলাবাজির নয়া ইকোসিস্টেম। যা আসলে গণতন্ত্রের পক্ষেই বিপদজনক– কর্পোরেটের পছন্দের জনমত তৈরিতে অর্থাৎ নির্বাচনে খেটেছে, খাটছে সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ। থাকছে না ‘লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড’। কর্পোরেট পছন্দের দলে কোটি কোটি টাকা ঢালছে, নির্বাচনে ব্যবহার হচ্ছে। আড়ালে চলে যাচ্ছে গরিব, শ্রমজীবীর রুটিরুজির লড়াইয়ের প্রকৃত ইস্যু। ...more
২৬-মার্চ-২০২৪
চন্দন দাস
সঙ্ঘ-বিজেপি’র মন্দির রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের রুটি, জীবিকা, কাজের সঙ্কটের প্রসঙ্গই তুলে ধরেছেন বামপন্থীরা। তৃণমূল কী করেছে? মমতা ব্যানার্জির ‘অনুপ্রেরণায়’ তাঁর দলবল নিজেদের ‘বড়ো হিন্দু’ প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। লাভ হয়েছে আরএসএসের। আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদের।
...more২২-মার্চ-২০২৪
স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য
তাঁর মতে, মোদী সরকার যে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) প্রবর্তন করেছে তা অনেক বছর ধরেই বিদ্যা ভারতীর বিদ্যালয়গুলিতে বলবৎ রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে অনুসৃত কিছু পদ্ধতিকেই এনইপি আরো বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে গেছে’। তাঁর আশা, সংস্কৃতি বোধমালার পুস্তকগুলি থেকে আরো অনেক তথ্যই আগামীতে বিদ্যালয় শিক্ষার বিধিসম্মত পাঠ্যসূচিতে স্থান পাবে। ...more
২৯-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
কুমার রাণা, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, অনিতা অগ্নিহোত্রী
শান্তনু দে: কোন পথে বাংলা। কোন পথে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি-অর্থনীতি-রাজনীতি। সন্দেশখালির ঘটনার পর মার্কসবাদী পথের পক্ষ থেকে আমরা শুনতে চেয়েছি সমাজ-কে নিয়ে যাঁরা সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা করেন তাঁদের মতামত। আমাদের মধ্যে আছেন অনিতা অগ্নিহোত্রী, যাঁর লেখা গল্প উপন্যাসের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন প্রান্তজনের কথা, খেটে খাওয়া মানুষের কথা। আছেন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিক, দুই বাংলার মানুষের কাছেই যিনি সমান পরিচিত নাম। আছেন কুমার রাণা। দীর্ঘদিন গবেষণার কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিয়মিত কলাম লেখক। যখনই আমরা লেখা চেয়েছি কখনও নিরাশ করেননি। আজ খোলামেলা আলোচনা করবেন ওঁরা নিজেরা। পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক বুদ্ধিচর্চায় যে পঙ্কিল আবর্ত তৈরি হয়েছে তাকে কীভাবে স্বচ্ছ ধারায় পরিণত করা যায়, মার্কসবাদী পথ-এর পক্ষ থেকে এটি তারই একটি বিনম্র প্রয়াস। আপনাদের সবাইকে স্বাগত। শুনব আমরা। মতামত আলোচকদের একান্তই নিজস্ব।* ...more
২২-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
অর্কপ্রভ সেনগুপ্ত
বৈদেশিক ক্ষেত্রে মিলেই-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত সমর্থন, ব্রাজিল ও চিন বিরোধিতা - ইত্যাদি তো তাঁদের ভাবনায় আরও জায়গা পায়নি। আদতে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যে চুড়ান্ত হতাশা তাঁদের গ্রাস করেছে, মিলেই-কে তাঁরা ভোট প্রদান করেছেন সেই হতাশা এবং তা থেকে সৃষ্ট ক্রোধের জায়গা থেকেই। ...more
১৫-ডিসেম্বর-২০২৩
কুমার রাণা
বিপদটা ভারতকে কেবল হিন্দু-রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা নয়, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের মতো ধারণাগুলোর অবলুপ্তি নয়, বিপদটা ভারতবাসীর স্বাধীন দেশের নাগরিক অস্তিত্বের। কেবল মুসলমান নিধন নয়, কেবল নীচু জাতের লোক, নারী, আদিবাসী ও সভ্যতায় বিশ্বাসী মানুষের ওপর অত্যাচারই নয়, অত্যাচারটা নেমে আসছে সমগ্র মানব সমাজের ওপর। যে উগ্র দক্ষিণপন্থা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, নরসংহার, ক্ষুধা, অপুষ্টি, অশিক্ষার মতো বর্বরতাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিয়মে পরিণত করে তুলছে, ভারতের একক প্রভুত্ববাদী বর্বরতা সেই মানববিদ্বেষী পরিকল্পনাটিকে বাস্তব ও সর্বব্যাপী করে তুলছে। ...more
০৬-ডিসেম্বর-২০২৩
তপন মিশ্র
অনেকেই ভাবছেন, আবার ইচ্ছে করেও প্রচার করা হচ্ছে যে প্রকৃতির পরিবর্তনকে কেউ খণ্ডাতে পারে না। এমন প্রচারের একটা উদ্দেশ্য আছে, তা হলো আসল দোষীকে আড়াল করা। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে যারা মুনাফা করতে চায় তাদের লাগাম পরানোর দায় সরকারের থাকা উচিত। ...more
০৩-জুন-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay



































































