সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক
আমেরিকার অধীনস্থ মিত্রের মতোই মোদীর বিদেশনীতি
প্রকাশ কারাত
এমনকী ২০০৩ সালেও যখন বাজপেয়ী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছিল, তখনও স্বাধীন বিদেশ নীতি অনুসরণ করার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পুরোপুরি অবক্ষয় ঘটেনি। সেকারণেই ২০০৩ সালে লোকসভা সার্বভৌম রাষ্ট্র ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল এবং বলেছিল সামরিক হামলার মাধ্যমে শাসক বদল মেনে নেওয়া যায় না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর যে হামলা নামিয়ে এনেছিল সে বিষয়ে তখন লোকসভা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, এখনকার শাসকদের মধ্যে তার লেশমাত্র নেই। কারণ আমরাই আমাদের সার্বভৌমত্বে ভারত-মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক মৈত্রীর যুপকাষ্ঠে বলি দিয়ে বসে আছি। এই আত্মসমর্পণই বুঝিয়ে দিচ্ছে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে কেন আমরা সম্মতি জানিয়েছি। ...more
প্রকাশ কারাত
এমনকী ২০০৩ সালেও যখন বাজপেয়ী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছিল, তখনও স্বাধীন বিদেশ নীতি অনুসরণ করার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পুরোপুরি অবক্ষয় ঘটেনি। সেকারণেই ২০০৩ সালে লোকসভা সার্বভৌম রাষ্ট্র ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল এবং বলেছিল সামরিক হামলার মাধ্যমে শাসক বদল মেনে নেওয়া যায় না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর যে হামলা নামিয়ে এনেছিল সে বিষয়ে তখন লোকসভা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, এখনকার শাসকদের মধ্যে তার লেশমাত্র নেই। কারণ আমরাই আমাদের সার্বভৌমত্বে ভারত-মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক মৈত্রীর যুপকাষ্ঠে বলি দিয়ে বসে আছি। এই আত্মসমর্পণই বুঝিয়ে দিচ্ছে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে কেন আমরা সম্মতি জানিয়েছি। ...more
২৯-মার্চ-২০২৬
প্রভাত পট্টনায়েক
তেলের দাম ধারাবাহিক ভাবে বাড়লে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিতে মন্দা আরও তীব্র চেহারায় দেখা দেবে। মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের লোকের পণ্য ও পরিষেবা কেনার চাহিদা সঙ্কুচিত হওয়ার কারণে দেখা দেবে তীব্র মন্দা। এর ওপরে থাকবে বিদেশি খাতকদের চাপিয়ে দেওয়া কড়া ‘ব্যয়সঙ্কোচের’ শর্ত। এর মানে হল, এসব দেশের লোকেদের জীবনধারনের খরচ জোটানো আরো কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং, এই সব দেশের জনসাধারণের যা আশু করণীয় তা হল, আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে এই পুরোপুরি অনৈতিক ও বেআইনি যুদ্ধ তারা বন্ধ করে। ...more
২২-মার্চ-২০২৬
প্রবীর পুরকায়স্থ
প্যালেস্তাইন একটি আন্তর্জাতিক বিষয় এবং বিশ্বের উপনিবেশ মুক্ত করার অভিন্ন অংশ। ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া দেখিয়ে দিয়েছে পৃথিবী কতটা পরস্পর সংযুক্ত এবং পশ্চিম এশিয়াকে ঘেটোয় পরিণত করে কাজ হবে না। আমাদের স্মরণে রাখা উচিত, এই অঞ্চল থেকে শুধু তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়াটাই আমাদের জন্যে একমাত্র বিষয় নয়। সেখানে কর্মরত দেশান্তরী ভারতীয়রা ভারতে বহিরাগত নগদ-প্রবাহের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাখেন সেটাও বিপদাপন্ন হবে যদি পশ্চিম এশিয়া বিপর্যস্ত হয়। ...more
১৯-মার্চ-২০২৬
এম কে ভদ্রকুমার
সর্বোচ্চ পরিহাস হল, যে ট্রাম্প আগে হুকুম জারি করেছিলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে হবে ভারতকে, তিনিই এখন দিল্লিকে ‘অনুমতি’ দিচ্ছেন আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত অন্য কোনও আদেশ জারি করা না-হলে, ভারত রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে যাতে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ঘোষিত যুদ্ধটি মসৃণভাবে চলতে পারে। …সার্কাসের তাঁবুর বাধ্য সিংহরা চাবুকের শব্দে ওঠে বসে। আমাদেরও সেই রকম ওঠবোস করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেখেশুনে মনে হচ্ছে আমাদের শাসককুলের দুকান কাটা। কারণ সারা বিশ্বের দর্শকদের সামনে যখন তাদের সঙ্গে খোলাখুলি ও নির্লজ্জভাবে এমন ব্যবহার করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের নির্দেশে যখন ভারতকে একটা তাঁবেদার রাষ্ট্রের পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখনও এই শাসককুলের কোনও হেলদোল নেই। ...more
১৩-মার্চ-২০২৬
স্ট্যানলি জনি
এই পরিস্থিতিতে একমাত্র যে পথে ইজরায়েল তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে সেটা হল ইরানে শাসক বদল। তেমনটা হলে সেটা ভূরাজনৈতিকভাবেও ইজরায়েলের পক্ষে লাভজনক হবে। সাদ্দাম হুসেনের ইরাক আর নেই। নেই গদ্দাফির লিবিয়া। বাশার আল আশাদ এখন মস্কোয়। প্রাক্তন জিহাদিরা এখন দামাস্কাস চালাচ্ছে। হেজবুল্লা দুর্বল হয়ে পড়েছে। হামাসকে ঠেলে গাজার ধ্বংসস্তূপে পাঠিয়ে দেওয়া গেছে। এসবের নিন্দা করে চিঠি লেখা ছাড়া আরব দেশগুলো আর কিছুই করবে না। অতএব শেষ সংশোধনবাদী ক্ষমতা হিসাবে টিকে রয়েছে ইরান। ...more
০৪-মার্চ-২০২৬
দীধিতি রায়
এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো) এবং এন,সি,এস,সি (ন্যাশনাল কমিশন ফর সিডিউল কাস্ট) এর রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায় এই দেশে ৫৭০০০ কাছাকাছি যে বর্ণবৈষম্যমূলক অভিযোগ জমা পড়েছে তার বেশিরভাগ ভিক্টিমই তাই ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
বৃন্দা কারাত
ভারতে এমন একজন ক্যাবিনেট সদস্য রয়েছেন যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ রেখে গেছেন একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর সঙ্গে এবং তারপরেও তিনি সাফাই দিচ্ছেন এই সম্পর্কের সপক্ষে। এটা দেশের পক্ষে অমর্যাদাকর। এরপরেও যে তিনি মন্ত্রীপদে রয়ে গেলেন তার মানে কি এই যে এর পিছনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে?
...more২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
প্রকাশ কারাত
ভারত এখন ধীরে ধীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে উঠেছে। কিন্তু তবুও ভারত পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের শিবিরে অবস্থান করতে পারেনি। বর্তমানে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বহুমেরুত্বের প্রবণতাই এর প্রধান কারণ। ব্রিকস, সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের মতো বিভিন্ন বহুমেরু সংস্থা ও জোট গড়ে উঠেছে। এই সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারত যদি সম্পর্ক না রাখে, তাহলে ভারতের স্বার্থ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশে আমাদের গণ-আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই আন্দোলনগুলির রাজনৈতিক লক্ষ্য হবে— ভারত যেন আবার নিজের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত স্বাধিকার ফিরে পায়। ...more
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
প্রকাশ কারাত
এই বোঝাপড়াটা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির যুগে রয়েছি যেখানে বিভিন্ন দেশের লগ্নিপুঁজিগুলি একসঙ্গে মিশে গেছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে চলমান রয়েছে। এই সমস্ত দেশের লগ্নিপুঁজিগুলির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এখন আর সম্ভব নয়। ...more
২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
শান্তনু দে
বাংলাদেশ আরও একবার প্রমাণ করেছে তারা ধার্মিক হতে পারেন, ধর্মান্ধ নন। জামাতের তৈরি করা ভাষ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে প্রকৃত বাংলাদেশ। আরেকটা আফগানিস্তান, বা পাকিস্তান হতে দেননি। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে কোন্ দল বা জোট জিতেছে, কাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি— তার চেয়েও বড় কথা হলো উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি জিততে পারেনি। ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয়েছে। জামাতের ছত্রছায়া থেকে বেরতে না পারার জন্য এনসিপি-কেও বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষ রেয়াত করেননি। ...more
২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
শান্তনু দে
আরএসএসের কাছে যেমন গোলওয়ালকার, জামাতের কাছে তেমনই মওদুদি। মওলানা আবুল আলা মওদুদি। ১৯৩৮-এ গোলওয়ালকার লেখেন উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড। প্রকাশ পায় ১৯৩৯-এ। দু’বছর বাদে ১৯৪১ সালের আগস্টে মওদুদির নেতৃত্বে পাঠানকোটে তৈরি হয় জামাত-ই-ইসলামি। গোলওয়ালকার এবং মওদুদির রাজনৈতিক প্রকল্প এবং ভূমিকার সাদৃশ্য বাস্তবিকই চমকপ্রদ। হিটলার যেমন গোলওয়ালকারের নায়ক, ঠিক তেমনি মওদুদির কাছেও। ...more
০৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
বাপ্পা সিনহা
ইরান যে ইলেকট্রনিকস যুদ্ধে জিতল তার প্রভাব এখনকার সংকটে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তথ্যের পরিসরে উপগ্রহ প্রযুক্তি অপছন্দের শাসকদের গলা টিপে ধরবে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলিকে এমন আশ্বাস দিয়ে রেখেছে উপগ্রহ প্রযুক্তির একচেটিয়া মালিকেরা। সেটাকে ইরানে অন্ততপক্ষে আংশিকভাবে ব্যর্থ করা গেছে। স্পেস এক্সের মালিকানায় রয়েছে ৬০০০ উপগ্রহ। এগুলোর দাম কয়েকশ কোটি টাকা। সেগুলোকে স্থলভিত্তিক ব্যবস্থার সাহায্যে নিষ্ক্রিয় করে তোলা যায়, তোলা যায় খুবই সামান্য খরচে। এটাই ইরানের আংশিক সাফল্যের প্রভাব। ...more
৩১-জানুয়ারি-২০২৬
বিজয় প্রসাদ
প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন ব্যবসায়ীরা। খুব শিগগরিই তাকে বদলে দেওয়া হয়েছিল একটা হিংস্র, রাষ্ট্রের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত হামলা চালানো একটা আন্দোলনে। গোড়ায় ‘প্রতিবাদের’ রূপ ছিল শান্তিপূর্ণ জমায়েত। দ্রুত তা পরিণত হয়েছিল উচ্চমাত্রার শহরভিত্তিক অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপে। এর জেরে ১০০ জন নিরাপত্তা অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। জানা যাচ্ছে যে, কয়েকজন অফিসারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। একজন নিরাপত্তারক্ষীর মাথা কেটে ফেলা হয়েছে, একটি ক্লিনিক জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে একজন নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে স্বল্পপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র থেকে। এ থেকেই স্পষ্ট যে, দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালানো হয়েছিল এবং সেটাই ছিল বিদেশি হস্তক্ষেপের জমি তৈরি করার একটি অজুহাত। মার্কিন বিদেশ দপ্তর ও মোসাদ খোলাখুলি হিংসায় মদত দিচ্ছে। ...more
২৫-জানুয়ারি-২০২৬
বিজয় প্রসাদ
সেই ১৯৭৯ সাল থেকে আরব ও মুসলিম দুনিয়ায় রাজতন্ত্র উচ্ছেদের বাইরেও আন্দোলনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইরান। প্যালেস্তিনীয়দের সংগ্রামেরও গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক ইরান। ইরানে বিদেশি হস্তক্ষেপ নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের ইরানের বিপ্লবের বিরুদ্ধে নানা উপায়ে একটানা যুদ্ধ চলছে। ইরানের বিক্ষোভে ইজরায়েলের গোয়েন্দাদের ভূমিকা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলি প্রতিবাদীদের বলেছে যদি সরকারের তরফে হিংসা বাড়ে তাহলে আমেরিকা তেহরানে বোমাবর্ষণ করবে। ...more
২৪-জানুয়ারি-২০২৬
সোমনাথ ভট্টাচার্য
ওদের হিন্দুত্ববাদ কখনই ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের হিন্দু ধর্ম নয়। হিন্দুধর্ম প্রাচীন, হিন্দুত্ববাদ নবীন (১৯২৩-এ আত্মপ্রকাশ)। হিন্দুধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। হিন্দুত্ববাদ ঘৃণা ছড়ায়। হিন্দুধর্ম উদার, হিন্দুত্ববাদ অনুদার। হিন্দুধর্ম হল মানুষের বিশ্বাস। হিন্দুত্ব হল রাজনীতির হাতিয়ার। সেখানে বিশ্বাস পরিণত হয় বিষে। হিন্দুত্ববাদের মর্মবস্তু, “Hinduise Politics and Militarize Hindudom" অর্থাৎ রাজনীতির হিন্দুকরণ এবং হিন্দু সমাজের সামরিকীকরণ। আপনি আমি হিন্দুধর্মের আলোচনায় কোনোদিন এসব কথা শুনেছি নাকি? হিন্দুত্ববাদের ধারণা থেকেই ওরা চায় হিন্দু রাষ্ট্র গড়তে। যে রাষ্ট্র গড়ার জন্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুর বেঁধে দেওয়া আমাদের প্রাণের প্রিয় সংবিধানকে। ...more
২২-জানুয়ারি-২০২৬
মানোলো ডে লস স্যান্টোস
আজ ভেনেজুয়েলা ‘ব্রেস্ট-লিস্টভস্ক’ মুহূর্তের মুখোমুখি। একদিকে দক্ষিণপন্থী সরকারগুলির মধ্যে ভেনেজুয়েলা একা হয়ে পড়েছে। এই দেশ প্রায় সর্বাত্মক অবরোধের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপ্লবের মূল নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছেন ভবিষ্যতের সংগ্রামের বাহিনীর পশ্চাদভাগের ঘাঁটি হিসাবে এই রাষ্ট্র যেন টিকে থাকতে পারে। এই প্রেক্ষিতে পিএসইউভি ও ভেনেজুয়েলা সরকার যে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে তা হল, বিপ্লবী রাষ্ট্রক্ষমতাকে রক্ষা করা। ১৯৯২-এর বিদ্রোহের ব্যর্থতার পর কমান্দান্তে হুগো শাভেজ যেমনটা বলেছিলেন, ‘আজ আমাদের অবশ্যই পশ্চাদপসরণ করতে হবে আগামী দিনের অগ্রগতির স্বার্থে।’ ...more
১৫-জানুয়ারি-২০২৬
বৃন্দা কারাত
‘ভোটের বোতাম এতটা জোরে টিপুন যাতে শাহীন বাগ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়’- ভোটারদের উদ্দেশ্যে করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সেই প্ররোচণামূলক বক্তব্যকে কে ভুলতে পারে? বিজেপি ভোটে হেরে যায়। এই নির্বাচনে পরাজয়ের পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করা, সেখানে অন্তর্ঘাত ঘটানো এবং একে সাম্প্রদায়িক চেহারায় হাজির করাটা শাসক দলের তরফে যেন আরও বেশি করে অপরিহার্য হয়ে গেল। উমর খালিদ, শারজিল ইমাম বা অন্য আন্দোলনকর্মীদের বক্তব্যের পাশাপাশি যদি অনুরাগ ঠাকুর, পরবেশ ভার্মা, কপিল মিশ্র সহ অন্য বিজেপি নেতাদের বক্তব্যকে রাখলে স্পষ্ট হবে কাদের বক্তৃতা ঘৃণা ও সহিংসতায় উস্কানি জুগিয়েছে। ...more
১৩-জানুয়ারি-২০২৬
প্রভাত পট্টনায়েক
‘আমরা ওই দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ তুলে নিয়ে আসতে চলেছি’। যে টাকা তৈরি হবে তা শুধুমাত্র ভেনিজুয়েলার জনগণ পাবে না, পাবে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলি এবং ‘ক্ষতিপূরণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও’। ‘ক্ষতি’ বলতে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভেনিজুয়েলা সরকারের তরফে তেল সম্পদের জাতীয়করণের সিদ্ধান্তকে। বিশ্বে ভেনিজুয়েলা সর্ববৃহৎ তেলভাণ্ডারের অধিকারী যা বিশ্বের মোট তেল ভাণ্ডারের ১৭ শতাংশ। ভেনিজুয়েলার তেল লুট সম্পর্কে ট্রাম্পের প্রস্তাব তার দখলদারি এবং ‘দেশ চালানো’-র অন্তরালে থাকা আসল কারণের নির্লজ্জ স্বীকৃতি। ...more
১১-জানুয়ারি-২০২৬
তারিক আলি
আমি তখন কারাকাসে ছিলাম। এই শহরের সবুজে ঘেরা পূর্বদিকের প্রান্ত এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। ওই এলাকাতেই ভেনেজুয়েলার বুর্জোয়ারা থাকে। সেই রেস্তোরাঁতেই স্থানীয়রা কার্টারকে দেখে গালাগালি দিয়েছিল। পরে তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বের কোথাও আমি কখনও এ-ধরনের বিরোধী দেখিনি’। যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচন কেমন দেখলেন? তিনি উত্তর দেন, ‘কোনও দেশে তিনি এত স্বচ্ছ নির্বাচন দেখেননি’। স্পষ্টতই তিনি এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও হিসাবের মধ্যে রেখেছি ...more
০৯-জানুয়ারি-২০২৬
টিম মার্কসবাদী পথ
এটি শুধু ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নয়, একইসঙ্গে সেইসব দেশের জন্য একটি হুঁশিয়ারিও বটে— যারা ট্রাম্প ডকট্রিনের কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ। এটি তৈরি করেছে এমন এক জঘন্য নজির, যা জন্ম দিয়েছে কিছু জরুরি প্রশ্নের: এরপর লাতিন আমেরিকার কোন্ দেশ, কোন্ রাষ্ট্রপতি, অথবা কোন্ রাজনৈতিক নেতা হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট! এটি এমন এক প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে, যারা কেবল কোনও আইনেরই তোয়াক্কা করে না, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাসিস্ত ‘বিচারপতিদের’ বিচার থেকেও নিজেদের মুক্ত রাখার বন্দোবস্ত করে রেখেছে। ...more
০৫-জানুয়ারি-২০২৬
বিজয় প্রসাদ, তারোয়া জুনিগা সিলভা
৩ জানুয়ারির হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই যুদ্ধের একটা অংশ যা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে। চিনুক হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন স্তব্ধ হওয়ার দীর্ঘকাল পরেও চলবে এই যুদ্ধ।
...more০৪-জানুয়ারি-২০২৬
বিজয় প্রসাদ
হাইব্রিড ওয়ার বা মিশ্র যুদ্ধ মানে অর্থনৈতিক জবরদস্তি, আর্থিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ করা, ভুল তথ্যের প্রচারযুদ্ধ, আইনি মারপ্যাঁচ, কূটনৈতিকভাবে একঘরে করা, বেছে বেছে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো। এই সব হিংসাত্মক ঘটনার লক্ষ্য সার্বভৌম রাজনৈতিক প্রকল্পগুলিকে বিপথগামী করা ও অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করার নানা উপায় কাজে লাগানো যাতে পুরোদমে আগ্রাসন চালানোর আর দরকার পড়ে না। এই যুদ্ধের লক্ষ্যে ভূখণ্ড দখল নয়। বরং রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের পথ প্রস্তুত করা: যেসব রাষ্ট্র জাতীয় সম্পদ পুনর্বণ্টনের চেষ্টা করছে, জাতীয়করণ করছে কিংবা স্বাধীন বিদেশ নীতি নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের সবক শেখানোই আসল লক্ষ্য। ভেনেজুয়েলায় সেটাই করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।
...more০৩-জানুয়ারি-২০২৬
অরুণাভ মিশ্র
কিন্তু আরাবল্লী ধ্বংস করে সেকাজ করলে লাভ কি? কারণ একদিকে মরু আর অন্যদিকে সিন্ধু গাঙ্গেয় উপত্যকা নিয়ে আরাবল্লী নিজেই এক প্রাকৃতিক সেতু বা ইকোটোন জোন হিসেবে কাজ করে। সে যেমন মরু বিস্তার রোধ করে তেমনি বৃষ্টির জলকে ধরে রেখে ভূগর্ভের জলস্তর বাড়ায়। রক্ষা করে জলচক্র। আরাবল্লীর বনাঞ্চল দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলের বায়ু দূষণ কমাতে বড় ভূমিকা নেয়। আরাবল্লী পাহাড় বৈচিত্র্যময় প্রাণী এবং উদ্ভিদ সম্পদে ভরা। এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে এখানে যা গোটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এর শুষ্ক ও অর্ধ শুষ্ক প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্র, শুষ্ক পর্ণমোচী বন, কাঁটাযুক্ত ঝোপ ঝাড়, তৃণভূমি ও শীলাময় পাহাড়ি পরিবেশ মরুকরণ প্রতিরোধে প্রাকৃতিক বাধার কাজ করে। ...more
০২-জানুয়ারি-২০২৬
সৌমিত্র বসু
আরএসএস চায় সারা দেশে একটি অভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও একটি মাত্র সরকারি ভাষা। বিজেপি সরকারের মাধ্যমে হিন্দি ভাষাকে তারা সেই স্তরে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই কারণেই আজকে আমাদের চিন্তা-চেতনার ওপর আঘাত নেমে আসছে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে পুরাণকে ইতিহাস বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে। দর্শনেরও বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে- বস্তুবাদী দর্শনের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বলা হচ্ছে ধর্মতত্ত্বই একমাত্র দর্শন। আধুনিক বিজ্ঞানকে পৌরাণিক যুগের দান বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ...more
২৯-ডিসেম্বর-২০২৫
সৌমিত্র বসু
প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের উৎস বোধহয় হীনমন্যতা, কারণ RSS বা সংঘ পরিবারের কোনো ব্যক্তিরই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনের অংশগ্রহণের কোন ইতিহাস নেই। এর একটি প্রমাণ পাওয়া যায় আন্দামানের সেলুলার জেলে। ব্রিটিশ আমলে প্রধান প্রধান স্বাধীনতা সেনানী যাদের ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট মনে করত তাদের প্রধান শত্রু সেইসব ব্যক্তিদের দ্বীপান্তরের সাজা দেওয়া হত, পাঠিয়ে দেওয়া হত আন্দামানের সেলুলার জেলে। সেখানে এখনও খোদাই করা আছে সেই সমস্ত স্বাধীনতা সেনানীদের নাম যাদের ব্রিটিশরা সেখানে বন্দী করে রেখেছিল। সেখানে এই সংঘ পরিবারের কোনো ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না এক সাভারকার ছাড়া, যে সাভারকার আবার একাধিকবার ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল যে ভবিষ্যতে আর কোনোদিন ব্রিটিশ বিরোধী কোনো কার্যে লিপ্ত হবে না। ...more
২৮-ডিসেম্বর-২০২৫
শান্তনু দে
ধর্মীয় মৌলবাদের এই উত্থান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সীমান্তপার ভারতেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সীমান্তের দুই পারের সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি একে-অপরকে জ্বালানি জোগাচ্ছে। ঘৃণা ও বিদ্বেষের আবহ তৈরি করছে। উত্তেজনা ও বিভাজনকে প্ররোচিত করছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং হিংসার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ...more
২৩-ডিসেম্বর-২০২৫
অশোক ভট্টাচার্য
একবিংশ শতাব্দীতে যে নগরায়ণ হচ্ছে তা উৎপাদনভিত্তিক শিল্পকে কেন্দ্র করে নয়। বরং তা পরিষেবাভিত্তিক। এই নগরায়ণ যত মানুষের রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারে, প্রয়োজন তার থেকে অনেক অনেক বেশি। একবিংশ শতাব্দীর শিল্পায়ন বা নগরায়ন লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সমস্ত শহরগুলিতে একটি বড় অংশের বাসিন্দার বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর। শ্রীলঙ্কায় এই হার ১৯ শতাংশ, নেপালে জনসংখ্যার ২১ শতাংশ, বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার মোট শহুরে জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ বসবাস করে কলম্বো শহরে। বাংলাদেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ শহুরে মানুষ বসবাস করে ঢাকায়, নেপালের শহুরে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করে কাঠমাণ্ডু শহরে। এই অংশের ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ খুব সহজেই জাতীয় পর্যায়ে প্রতিধ্বনিত হয়। ...more
১২-ডিসেম্বর-২০২৫
অশোক ভট্টাচার্য
স্বাধীনতার পর এই প্রথম শ্রীলঙ্কায় একটি বামপন্থী চিন্তাধারার সরকার প্রতিষ্ঠিত হল, যা আগের দক্ষিণপন্থী সরকারগুলির মতো নয়। এদের লক্ষ্য ছিল কেবলমাত্র একটি পরিবর্তন, যে পরিবর্তন কেবলমাত্র একটি শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন সিস্টেমিক বা বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যেই একটি ব্যবস্থাগত পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কোনও বিপ্লবী বা র্যাডিকাল পরিবর্তন নয়। আবার পুঁজিবাদের অবসান ঘটিয়ে সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করাও নয়। তারা বলেছেন, তারা চান একটি ব্যাপক সামাজিক রূপান্তর। এটি হবে একটি নবজাগরণ বা রেনেসাঁ। অর্থনীতির ক্ষেত্রে তারা চান একটি উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি, যাতে থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ। শিল্প-সংস্কৃতি বা সৃষ্টিশীল সংস্কৃতি বা কলা, চলচ্চিত্র, সাহিত্য, সঙ্গীত, নাটক-এর ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় পরিবর্তনের ভারসাম্য থাকবে সরকারি উদ্যোগের পক্ষে। সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা সাংস্কৃতিক মানুষ তৈরি করার ওপর (Cultured Human Being)। ...more
১১-ডিসেম্বর-২০২৫
সুচিক্কণ দাস
১৯৮৯ সালে এক বিরাট সামাজিক বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহের পতাকা তুলে ধরেছিল হুগো শাভেজের ভেনেজুয়েলা। সেই পথ ধরে নয়া উদারবাদের বিরোধিতায় এগিয়ে এসেছিলেন বলিভিয়া, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, চিলি, মেক্সিকোর মতো দেশের মানুষ। আরও অনেক আগে থেকে দিশারী হিসাবে কিউবা তো ছিলই। এই প্রতিরোধের জেরে লাতিন আমেরিকার ওপর আলগা হয়েছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মুঠি। সেই পর্বে লাতিন আমেরিকার নয়া উদারবাদ বিরোধী দেশগুলি গড়ে তুলেছিল একাধিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ। গড়ে উঠেছিল বিকল্প ব্যাঙ্ক এবং ডলারের বিকল্প মুদ্রা সুক্রে। একবিংশ শতকের সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখা সেই ভেনেজুয়েলাকে একেবারে ধ্বংস করে সেখানে ট্রাম্প নিখাদ উপনিবেশবাদী দখল কায়েম করতে চাইছেন। তাঁর আসল লক্ষ্য, ভেনেজুয়েলার বিপুল অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার, যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভাণ্ডার, তা দখল করা। ...more
০৮-ডিসেম্বর-২০২৫
সাভেরা
আদিবাসীদের জমি লুঠের সঙ্গে সঙ্গে, তাদের আরও অনেক আশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির সরকারগুলি। এগুলোর মধ্যে পড়ে এফআরএ ও পিইএসএ কার্যকর করা। এগুলো কার্যকর হলে জমির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ত। একইভাবে, প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্ট (পিওএ), এবং প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস অ্যাক্ট (পিসিআরএ) শম্বুক গতিতে কার্যকর করার ফলে যারা আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার চালায় কিংবা তাদের অপমানিত করে, তাদেরই কিছু কিছু অংশ রক্ষাকবচ পেয়ে গেছে। সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষণ কখনই পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি এবং এভাবে যে একটা সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা ধারাবাহিক ভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিজেপির সরকারগুলির কোনও হেলদোল পর্যন্ত নেই। ট্রাইব্যাল সাব প্ল্যান খাতে (টিএসপি) অর্থ বরাদ্দে ঘাটতি রয়েছে এবং সেই টাকা খরচ করা হচ্ছে এমন সব প্রকল্পে যেগুলি আদিবাসীদের জন্য নয়।
...more১৬-নভেম্বর-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
গানটি কবিগুরু লিখেছিলেন বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে। ব্রিটিশের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তখন সরব অখণ্ড বাংলা। ৭ আগস্ট ১৯০৫, গানটি প্রথম গাওয়া হয় কলকাতা টাউন হলে। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে আয়োজিত প্রতিবাদসভায়। একটি প্রবন্ধ পাঠের আসরে। পরে প্রকাশিত হয় সঞ্জীবনী পত্রিকায়, কবির স্বাক্ষরসহ। কবির বয়স তখন ৪৪। সেদিন এই গান যেভাবে অখণ্ড বাংলার সমাজকে আলোড়িত করেছিল, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা। সেদিন এই গানে ছিল বিভেদের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান। ...more
০৩-নভেম্বর-২০২৫
শমীক মণ্ডল
আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে যে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার আছে তার দখল নেওয়ার চেষ্টার কোনও খামতি রাখেনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি। এই উপনিবেশিক আগ্রাসনকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে সাহেল অঞ্চলে এসে। তাই কখনও গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে, আবার কখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বদনাম দিয়ে তারা এই অঞ্চলের প্রগতিশীল সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। চলতি বছরে বুরকিনা ফাসোতে ব্যর্থ অভুথ্যান ঘটানোর পরিকল্পনা তারই উদাহরণ। ...more
২৭-অক্টোবর-২০২৫
তারিক আলি
১৯৪৭ সালে যে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল তার অবসান এখনও হয়নি। পঞ্চাশ ও ষাট দশকের সোস্যাল ডেমোক্রাট বেন গুরিয়ন এবং গোল্ডা মেয়ার বা আজকের চরম দক্ষিণপন্থী নেতানিয়াহু মন্ত্রীসভার মতো তাদের নেতৃবৃন্দ কখনোই নিজেদের মূল লক্ষ্যকে গোপন রাখেনি, যার নাম ‘এরেটজ ইজরায়েল’ বা ইহুদিস্তান। ২০২৩ সাল থেকেই তাদের একমাত্র লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে, প্যালেস্তাইন দাবিকে চিরতরে নিকেশ করে দেওয়া। বাইডেন, ট্রাম্পের সহায়তা এবং ব্রিটেনকে সম্মুখসারিতে রেখে বেশিরভাগ ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলির সমর্থন সত্ত্বেও এই লক্ষ্যপূরণ হয়নি। ...more
২১-অক্টোবর-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এ-ধরনের হস্তক্ষেপে কয়েক দশক ধরে এই মহাদেশ এক তুমুল অস্থিরতা, গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ-সহ কর্তৃত্ববাদী শাসনের মতো বিপর্যয়কর পরিণতির সাক্ষী— যা আমেরিকার ‘খিড়কির উঠোন’ গোটা লাতিন আমেরিকায় দাগ ফেলেছে। ...more
১৯-অক্টোবর-২০২৫
সাভেরা
আরএসএস আসলে হিন্দুত্বের উৎস — উৎস সেই হিন্দুত্বের, যা ধর্মান্ধ ও পশ্চাদমুখী। এই হিন্দুত্ব সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে বেলাগাম হিংসাকে উস্কে দিতে চায় যাতে বৈচিত্রসম্পন্ন ভারতকে পিটিয়ে সোজা করে একটা সমসত্ত্ব জনসমষ্টিতে পরিণত করা যায়। যে জনসমষ্টি মেনে চলবে সেই ধর্ম, যাকে আরএসএস বলে সনাতন ধর্ম। আরএসএস ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সেই ভারত শাসিত হবে পশ্চাদপদ ভাবনার মনুস্মৃতি দ্বারা, যার লক্ষ্য হবে নিছক ধর্মীয় সাধনা এবং সেই ভারত টিঁকে থাকবে নীচু জাতি, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও নারীদের শ্রমের ওপরে। ...more
১৩-অক্টোবর-২০২৫
শান্তনু দে
সেকারণে মাচাদো যখন ঘোষণা করেন, ‘ভেনেজুয়েলার সংগ্রাম হলো ইজরায়েলের সংগ্রাম’, তখন আসলেই তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার প্রকৃত সংগ্রামকে আড়াল করতে চান। ভেনেজুয়েলা আজও সব অর্থেই রয়েছে প্যালেস্তাইনের সঙ্গে। আর নোবেল কমিটি যখন মাচাদোকে শান্তি পুরস্কার দেয়, তখন আসলেই চরম অবজ্ঞায় অস্বীকার করে নেতানিয়াহুর বেপরোয়া গণহত্যাকে। ...more
১১-অক্টোবর-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
এখন জরুরি হল ইজরায়েল যেন এই সংঘর্ষ বিরতি মেনে চলে। একে সুনিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন। সেই সঙ্গেই একে দিতে হবে স্থায়ী রূপ। দেখা উচিত, মানবিক সহায়তা প্রবেশে যেন কোনওরকম বাধা না- আসে— যেমন ঘটেছিল চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারির চুক্তির সময়— ইজরায়েলি জমানা তখন তা নির্মমভাবে লঙ্ঘন করেছিল— যুদ্ধবাজ শরিকদের ভোট কিনতে প্যালেস্তিনীয়দের জীবন নিয়ে খেলেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু— যেমন তারা এতদিন প্যালেস্তাইনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিটি চুক্তি লঙ্ঘন করে এসেছে। ইজরায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি নিয়ে অন্তত নেতানিয়াহুর কোনও মাথাব্যাথা নেই। ...more
১০-অক্টোবর-২০২৫
গ্রেটা থুনবার্গ
ইজরায়েলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গ্রেটা থুনবার্গের ভাষণ। ছাড়া পাওয়ার পর এই প্রথম মুখ খুললেন তিনি।
...more০৭-অক্টোবর-২০২৫
মহম্মদ ইউসুফ তারিগামী
দিল্লির সরাসরি শাসন শান্তি ও প্রগতি নিয়ে আসবে ভেবে যে মোহ সৃষ্টি হয়েছিল সেটা ৩৭০ ধারা বিলুপ্তি ও রাজ্যের বিভাজনের পরবর্তী বছরগুলির অভিজ্ঞতায় উবে গেছে। প্রকৃত সত্যটি হল, সন্ত্রাসবাদেরও অবসান হয়নি এবং অসন্তোষ, মোহভঙ্গ এবং বিচ্ছিন্নতাবোধও চলে যায়নি। বরং নির্মম শক্তিপ্রয়োগ ও নির্বিচার গ্রেফতারের ঘটনার ফলে বিচ্ছিন্নতাবোধের আরও অবনতি ঘটে কাশ্মীরের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ...more
০৪-অক্টোবর-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
পশ্চিমের কোনও সরকার খুব সহজেই দাবি করতে পারে: ‘আমরা তো প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দিয়েছি।’ সংক্ষিপ্ত এই বাক্যটি অনেকটা রাজনৈতিক সেফটি ভলভের মতো। জনমনের চাপ কমায়। মিডিয়াকে সন্তুষ্ট করে। অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু মূল নীতি থেকে যায় অপরিবর্তিত। অনেকটা রোগীকে শুধু যন্ত্রণা উপশমের ওষুধ দেওয়ার মতো, কিন্তু মূল রোগের হচ্ছে না কোনও চিকিৎসা। ...more
২৪-সেপ্টেম্বর-২০২৫
প্রকাশ কারাত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বেশ কিছু দিন ধরে ক্ষয় পেতে শুরু করেছে এবং বহুপাক্ষিক বিশ্ব মার্কিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ক্রমশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। বহুপাক্ষিক বিশ্বের শক্তি বাড়ছে। সেখানে নানা ধরনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ মার্কিন ঘেঁষা নীতির ফলে ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ...more
১৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ বৈঠকে তত বেশি আনুষ্ঠানিক ভাষণ হয়নি, বরং এটি ছিল অনেক বেশি প্রতীকি। এই বৈঠক সঙ্কেত দিয়েছে এক পাক্ষিক বিশ্বের দিন শেষ হয়ে গেছে। ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে এনার্জি করিডোর থেকে মিসাইলের প্রদর্শনী, একটি নতুন বহুপাক্ষিক বিশ্ব ক্রমশ স্পষ্ট চেহারা নিয়েছে। এবং তার জন্য দরকার নেই পশ্চিমের কোনও অনুমতি। ...more
০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৫
সুচিক্কণ দাস
ব্রাজিল পারে ট্রাম্পের পালটা জবাব দিতে। পারে মেক্সিকো-ও। কারণ তাদের নিজের শক্তির ওপর, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী নীতির ওপর, স্বাধীন বিদেশনীতির ওপর এবং সাম্রাজ্যবাদের পালটা বিকল্প অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার আছে।... আরএসএস, বিজেপি ও তাদের সহযোগী হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও কর্পোরেটের জোট এই অবস্থান নিতে পারে না। কারণ এই শক্তি ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি বিসর্জন দিয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনুগামী করে তুলেছে।
...more০১-সেপ্টেম্বর-২০২৫
সুচিক্কণ দাস
দক্ষিণের দেশগুলি থেকে, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে, কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া, এটাই ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদের একমাত্র চালিকা শক্তি নয়। আরও অতিরিক্ত জোরালো কারণ হল ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ক্ষেত্রে আমেরিকার ক্রমশ বেড়ে চলা চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খাতে ঘাটতি। এই ঘাটতির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম খাতক দেশ। ...more
৩১-আগস্ট-২০২৫
সমন্বয় রাহা
সেই প্রথম ১৯৯৩-এর ১৩ সেপ্টেম্বর পিএলও নেতা আরাফত এবং ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে চুক্তি হয়। ইজরায়েল প্রশাসন প্যালেস্তিনীয়দের মুখপাত্র হিসেবে পিএলও-কে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ওয়েস্ট ব্যাংক, গাজা অঞ্চলে স্বাধীন প্রশাসন চালানোর স্বাধীনতা আদায় করে পিএলও। প্যালেস্তিনীয়দের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এবং করকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী গাজা, ওয়েস্ট ব্যাংক অঞ্চল থেকে ইজরায়েল তার সেনা প্রত্যাহার করবে, ঠিক হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই অসলো চুক্তি ছিল একটি বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত। ...more
৩০-আগস্ট-২০২৫
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
এসআইআর নামকরণটাই পরিকল্পিততভাবে তৈরি করা। এই সংশোধনী নিবিড়-ও নয়, সংক্ষিপ্ত-ও নয়। আসলে এই নামকরণের আড়ালে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াই লক্ষ্য। অথচ একেবারে গোড়া থেকেই এবিষয়ে যে বুনিয়াদি নীতি অনুসরণ করা হয়েছে তা হল, নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার দায় কখনই ভোটারদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। অথচ নির্বাচন কমিশনের এখনকার দৃ্ষ্টিভঙ্গি একেবারে তার বিপরীত। এসআইআর নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় ঠেলে দিয়েছে ভোটারদের ওপর।
...more২৬-আগস্ট-২০২৫
সাভেরা
ভারত দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে... পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরালো। আর সেকারণেই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সাধারণ ধর্মঘটের মতো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে আমরা তাই ছোট করে দেখতে পারি না। একইসঙ্গে, সঙ্ঘ পরিবারের মতাদর্শগত হামলাকে মোকাবিলা করতে হবে বিকল্প মিডিয়ার মাধ্যমে– বিরোধিতা করতে হবে মানুষের সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা মঞ্চের মাধ্যমে। এই দুই সংগ্রামই পালন করবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ...more
১৫-আগস্ট-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
এর ওপর ট্রাম্প ব্রিকস নিয়ে হুমকি জারি করেছেন। যার মানে হল ভারতের ওপর তর্জনগর্জন করা যাতে হয় ভারত ব্রিকস ছেড়ে দেয়। নতুবা ব্রিকসের ভেতরে থেকে মার্কিন ট্রোজান হর্স হিসাবে কাজ করে। তব এর কোনও আশু তাৎপর্য নেই। রাশিয়ার তেল কেনার যে আশু ও বুনিয়াদি ইস্যু, তাতে ভারত সরকার নড়বড়ে অবস্থান নিচ্ছে, পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছে। আসলে এ হল ছলচাতুরির আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তোষণ করা। ...more
১১-আগস্ট-২০২৫
প্রকাশ কারাত
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা সেখানে মানবিক ত্রাণের কাজ করছে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ বারে বারে সতর্ক করে আসছে যে, গাজা গণ-অনাহারের শিকার এবং সেখানে দুর্ভিক্ষের ছায়া ঘনাচ্ছে। এমনকী পশ্চিমী মিডিয়া, যারা সাধারণত ইজরায়েলের দিকে ঝুঁকে কথা বলে, তারাও গত এক পক্ষকাল ধরে সংবাদের শিরোনামে নিয়ে আসছে গাজায় কী বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিবিসি, সিএনএন এবং ইউরোপিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তুলে ধরছে কঙ্কালসার সব কোলের শিশু এবং মুমূর্ষু বাচ্চাদের ছবি। ...more
০৩-আগস্ট-২০২৫
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
আদালত যখন হিন্দুত্বের যুক্তি কাজে লাগাতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে বিপদ মাথার ওপর এসে হাজির হয়েছে– এর মানে, জল ইতিমধ্যে আমাদের মাথা ছাপিয়ে উঠে এসেছে। এখন যদি আমরা এই বিপদের মোকাবিলা করতে না পারি, যদি আমরা একে প্রতিহত করতে না পারি, তাহলে আমাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হবে।
...more০১-আগস্ট-২০২৫
ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত
একটাই সমাধান। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হোক, যাতে বাংলার শ্রমিকদের বাঁচার জন্যে রাজ্য ছেড়ে বাইরে পাড়ি দিতে না হয়। যে সমস্ত বাঙালি শ্রমিকরা বাইরে যাবেন, তাঁরা দক্ষতার কৃতিত্বের শিরোপার সুবাদে অধিকতর মর্যাদার কর্মক্ষেত্রে যাবেন। দূরদেশে একজন সহায়-সম্বলহীন জঞ্জালকুড়ানি বা সাফাইকর্মী বা অটোচালক বা গৃহকর্মী হিসেবে নয়। কিন্তু তার জন্যে প্রয়োজন বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও সর্বোপরি রাজনীতির আগাপাশতলা বদল।
...more২৮-জুলাই-২০২৫
পিনারাই বিজয়ন
কমরেড ভিএস অচ্যুতানন্দন সেই ৩২ জন মানুষের একজন যাঁরা অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় পরিষদ থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গী হয়ে ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের সাথে জীবন্ত সংযোগের শেষ সূত্রটুকুও চলে গেল। তাঁর মৃত্যুতে আমরা জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রাম ও চলমান সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝখানে থাকা সেতুটিকেও হারালাম। ...more
২৭-জুলাই-২০২৫
প্রকাশ কারাত
একদিকে মার্কিনী সাম্রাজ্যবাদী জোট দুর্বল হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের যথার্থ মঞ্চ হিসেবে ব্রিকসের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন দেশ এখন ব্রিকসে যোগদান করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করছে। রিও সম্মেলন ‘সহযোগী দেশ’ নামে নতুন একটি স্তরের সংযোজন করেছে মঞ্চে। আটটি দেশকে এবার ‘সহযোগী দেশ’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে- বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা ও উজবেকিস্তান। নতুন এই স্তর যুক্ত হওয়ায় দক্ষিণ গোলার্ধের আরো বহু দেশ ব্রিকসের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। ...more
২০-জুলাই-২০২৫
প্রকাশ কারাত
বিদেশ নীতির এই অধিকতর দক্ষিণমুখী যাত্রা মূলত রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে তোষামোদ করার অভিপ্রায়ে। এবং তাঁর সমস্ত সর্বনাশা দাবিগুলি মেনে নেওয়ার লক্ষ্যে।... অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বই হোক, বা বিদেশ নীতি, কিংবা স্ট্র্যাটেজিক স্বতন্ত্রতা– এই সবকিছুতে এটাই স্পষ্ট– ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে ঘটছে আত্মসমর্পণের ঘটনা। ...more
১৩-জুলাই-২০২৫
সমন্বয় রাহা
এখানেই থামেননি আদানি। মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়! সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছেন ইজরায়েলের হাইফা বন্দরে। ২০২২ সাল থেকে Adani Ports and Special Economic Zone (APSEZ) ভূমধ্যসাগরের প্রান্তে মধ্য-পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত এবং আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরের ৭০% মালিকানা কিনে নেয়। ইজরায়েলের অর্থনীতিতে আনুমানিক ৫৬% আমদানি-রপ্তানি হয় এই বন্দরের মাধ্যমে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে গণহত্যার বাজারে এই বন্দরের ভূমিকা কতখানি। এবং এর থেকে স্বাভাবিকভাবেই অনুমান করা যাবে আদানির মুনাফার পরিমাণ। ...more
১০-জুলাই-২০২৫
শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার
১৯৯৬ সালে হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে চলে আসে মরু অঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় তেজষ্ক্রিয় দূষণের চিহ্নের খবর। দেখা যায় ডিমোনোর কর্মী বা প্রাক্তন কর্মীদের অনেকেই ক্যান্সার-সহ নানা কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তখনই প্রশ্ন উঠল সেখানকার কর্মীদের সুরক্ষা ও পরিবেশ সংক্রান্তবিষয় নিয়ে। যেহেতু সরকারিভাবে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের বিষয়টি কখনও স্বীকার করেনি ইজরায়েল, ফলে তেজষ্ক্রিয় বিদূষণের খবরকেও ধামাচাপা দেওয়া হয়। অসুস্থ কর্মীরা যারা সোচ্চার হয়েছিল সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে, সরকার ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়। এই ভয় এতটাই ব্যাপক হয় যে ইজরায়েলের সমাজকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের অধিকাংশ এই প্রশ্নে মুখ বন্ধ রাখে। এই সামূহিক নীরবতার ঘটনায় বিহ্বল সাংবাদিক ওলেঙ্কা ফ্রান্জকাই তথ্যচিত্রে দর্শকদের দিকে চোখ রেখে সবিস্ময়ে বলেন, ‘এটাই ইজরায়েল। এই দেশকেও গণতান্ত্রিক দেশ বলা হয়’। ...more
২২-জুন-২০২৫
শান্তনু দে
গত ক’মাসে এই তিনটি গোষ্ঠীকে নিশানা করে ইজরায়েল আসলে আঘাত হানতে চেয়েছে পশ্চিম এশিয়াতে ইরানের প্রভাবের ওপর। ইজরায়েলের যুদ্ধবাজ নেতারা মনে করছেন এতে হিজবুল্লা, হামাস, হুতিকে শেষ করে দেওয়া যাবে। আর এভাবে ইরানকে ‘বেআব্রু ও দুর্বল’ করা যাবে। নেতানিয়াহু আগেই ইরানে ‘জমানা বদলের’ ডাক দিয়েছিলেন। ‘পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের’ কথা বলছেন। এভাবেই পশ্চিম এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে ইজরায়েল। যা আসলে পূরণ করবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ। ...more
১৭-জুন-২০২৫
প্রকাশ কারাত
প্রধানমন্ত্রী এরপর বিজেপি-র পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছেন। এবং বারবার দাবি করেছেন যে অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়নি– কেবলমাত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। এ-অবস্থায় একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসে: যদি, প্রধানমন্ত্রী যেমন ভাষণে দাবি করেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো ও ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়েছে– যা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও পুনরাবৃত্তি করেছেন– তাহলে কেন এখনও সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি এবং মনোভাব বজায় রাখা হচ্ছে, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এরই অংশ? ...more
১৫-জুন-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
কিন্তু এই প্রচেষ্টা বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ, বুরকিনা ফাসোর মানুষের সমর্থন রয়েছে তথাকথিত ‘অগণতান্ত্রিক’ ইব্রাহিম ত্রাওরের উপরে। আর তাঁর সরকারের সমর্থনে তারা রাস্তায় বিশাল সব মিছিল আর সমাবেশ করেন। ইসিওডব্লুএএস থেকে বেরিয়ে এসে তৈরি হল এইএস। প্রতিবেশী দেশ আইভরি কোস্টকে ফরাসিরা ব্যবহার করে এসেছে বুরকিনা ফাসোতে অভ্যুত্থান সংগঠিত করার ঘাঁটি হিসেবে। থমাস সাঙ্কারার বিরুদ্ধে ঘটানো অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীরাও পালিয়ে গিয়েছিল এই আইভরি কোস্টেই এবং এখনও তারা সেখানে বহাল তবিয়তে আছে। এমনকি চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ব্যর্থ অভ্যুত্থানও আইভরি কোস্টকেই ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ...more
০৫-জুন-২০২৫
বিজয় প্রসাদ
বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ এবং সৌজন্য, শালীনতা বোধের ক্ষয় করে যুদ্ধ, এখন জিপিএস প্রযুক্তি এবং উন্নত রাডার অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে অনেক দূরে দেখতে পায়। এই পরিস্থিতিতে একুশ শতকে যখন কোনও সরকার জোর করে ব্ল্যাকআউট চাপিয়ে দেয়, তখন বোঝা যায় কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য নয়। আসলে চারপাশ অন্ধকার করে দিয়ে মানুষের মনে এই ভাব জাগিয়ে তোলা হয় যে তারা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছেন। এবং এভাবে নাগরিকদের মনে ভয়ের সংস্কৃতি জাগিয়ে তোলা হয়। এভাবে যুদ্ধকে একেবারে বাড়ির উঠোনে এনে ফেলা হয় এবং দেশের জনগণকে যুদ্ধের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে ফেলা হয়। আর সেই যুদ্ধের সংস্কৃতি মানুষের চেতনায় ঘৃণাকে পল্লবিত করে তোলে। ...more
১৫-মে-২০২৫
অর্ক রাজপন্ডিত
চীনকে হারাতে হলে আমেরিকার সামনে দুটি রাস্তা খোলা আছে। প্রথমত আমেরিকাকে নিজেদের নীট স্থির পুঁজির বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং দ্বিতীয়ত আমেরিকা চীনের বৃদ্ধির গতি শ্লথ করে দিতে পারে শুল্ক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে। এর আগে নিজেদের আর্থিক ও সামরিক শক্তি কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়েছে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের আর্থিক বৃদ্ধির গতি শ্লথ করে দিতে। তবে চীনের ক্ষেত্রে এমনটা নাও ঘটতে পারে। চীন সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীন নয়। তাই চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই কৌশল প্রয়োগ করতে পারবে না।
...more০৮-মে-২০২৫
অর্ক রাজপন্ডিত
ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতি পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে, সঙ্কট আরও গভীর হবে। শুল্ক হল আমদানি করা পণ্যে আরোপিত কর। এর ভূমিকা হল মূলত উপভোগের ওপর করের। শ্রমিক শ্রেণির সদস্যরা তাদের আয়ের একটা বড় অংশ খরচ করেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে কেনা খাতে। সুতরাং এই শুল্কের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বোঝা বইতে হবে মার্কিন গরিব ও মার্কিন শ্রমিকশ্রেণিকে।
...more০৭-মে-২০২৫
মোসাব আবু তোহা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে উঠে আসা প্যালেস্তিনীয় কবি ও লেখক মোসাব আবু তোহা নিজের যন্ত্রণার কথা শুনিয়ে জয় করলেন বিশ্বের হৃদয়। দ্য নিউ ইয়র্কার পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর লেখা প্রবন্ধগুলির জন্য পেলেন সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি– পুলিৎজার পুরস্কার। ২০২৩, বছর-বত্রিশের তোহাকে গাজার উত্তরাঞ্চলের এক চেকপয়েন্টে আটক করে ইজরায়েলি বাহিনী। স্ত্রী আর তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন। ধরা পড়ে যান। সেই ‘বিপদসঙ্কুল যাত্রা’র ভাষান্তর গতবছর ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি দুই পর্বে প্রকাশিত হয়েছিল মার্কসবাদী পথের ওয়েবসাইটে। আজ আমরা আবার তা তুলে ধরলাম। তোহার এই সাফল্য শুধু তাঁর একার নয়, এটি সেই নিপীড়িত জাতির গল্প– যাঁরা প্রতিদিন হারাচ্ছেন প্রিয়জন, আশ্রয় আর অস্তিত্ব। ...more
০৬-মে-২০২৫
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
সন্ত্রাসবাদী হিংসা ও তার বিদ্বেষপূর্ণ মতাদর্শের বিরুদ্ধে যে লড়াই তার ভিত্তি সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িকতা হতে পারে না, বরং সেই লড়াইয়ের ভিত্তি হবে মানুষের ঐক্য এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধ। এই ঐক্য ও মূল্যবোধই সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের কৌশলকে পরাস্ত করে ভারতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। ...more
০৪-মে-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
সেদিন সায়গনে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রধান ফটক গুঁড়িয়ে ঢোকে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (পশ্চিমের মিডিয়া প্রায়শই যাকে বলত ভিয়েত-কঙ) সাঁজোয়া গাড়ি। অন্যদিকে, শহরের মার্কিন দূতাবাসের ছাদে মার্কিন হেলিকপ্টারে ওঠার জন্য মার্কিনীদের তৎপরতা! ভেঙে পড়ে মার্কিন-মদতপুষ্ট জমানা। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় মার্কিন দর্প। ভেঙে খান-খান হয়ে যায় মার্কিন অপ্রতিরোধ্য অপরাজেয়তার কল্পকথা। ...more
৩০-এপ্রিল-২০২৫
সাত্যকি রায়
কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, ইলেকট্রিক ব্যাটারী, থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক সরঞ্জাম, খেলনা, জামা কাপড় এসবের মার্কিন আমদানির একটা বড় অংশ আসে চীন থেকে। ইচ্ছে করলেই রাতারাতি এগুলি নিজের দেশে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বা পছন্দ মত সাপ্লাই চেইন নির্মাণ করাও সহজ নয়। অন্যদিকে চীন আমেরিকা থেকে কেনে মূলত কৃষিজাত পণ্য যা সহজেই অন্য দেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব। চীন ইতিমধ্যেই ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানি করা শুরু করেছে। আমেরিকা নানাভাবে চীনকে একঘরে করার চেষ্টা করবে। চীনা কোম্পানিগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জে ডি-লিস্ট করার প্রক্রিয়াও চলতে পারে, অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলিতে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। ...more
২৯-এপ্রিল-২০২৫
প্রেমশঙ্কর ঝা
পহেলগামে হামলার এই সময় চয়নটি আকস্মিক নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি ভান্সের ভারত সফরের সময়টিকে তারা ভেবেই ঠিক করেছে। ২৫ বছর আগে ২০০০ সালের ২৫ মার্চ কাশ্মীরে সাধারণ নাগরিকদের উপর নির্বিচার হামলার ঘটনাটিও ঘটেছিল এভাবেই ঠিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসে পৌঁছনোর দিনের সাথে মিলিয়ে। ভারতীয় সেনার পোশাক পরে জঙ্গিরা ৩৬ জন কাশ্মীরী শিখ তরুণ ও বয়স্ক মানুষকে হত্যা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বের সামনে এটা দেখানো যে ‘ভুয়ো ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের নামে ভারতীয় সেনারা দেশের মানুষকে কীভাবে হত্যা করে। তবে যে শিখরা বেঁচে গিয়েছিলেন তারা পরে বলেছেন ঘটনার আগে হামলাবাজরা যখন গ্রাম পরিদর্শনের ছলে এসেছিল তখনই তাদের পোশাক দেখে তাদের সন্দেহ জেগেছিল। ...more
২৭-এপ্রিল-২০২৫
মানিক সরকার
কেন্দ্রের সহযোগিতা না-পেলেও রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকল না। নিজের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে রাজ্য সরকার বেশ কটি ইন্ডিয়া রিজার্ভ (সংক্ষেপে আইআর) ব্যাটালিয়ন গঠন করে নিল, যাতে উগ্রপন্থী দমন করা যায়। উগ্রপন্থীপ্রবণ থানাগুলিতে স্থানীয় যুবক, যারা সংশ্লিষ্ট এলাকা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তাদের বিশেষ পুলিশ আধিকারিক (স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার বা এসপিও) হিসাবে নিয়োগ করা হল। উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সামরিক প্রয়াসের পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক উদ্যোগের উপরেও গুরুত্ব আরোপ করা হল। আত্মঘাতী ও বন্ধ্যা উগ্রপন্থার অন্তঃ সারশূন্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হল গোটা রাজ্যে। ...more
২৬-এপ্রিল-২০২৫
মানিক সরকার
আমূল ভূমি সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য জমি বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করা হল। দুই হেক্টা পর্যন্ত জমির খাজনা মকুব করা হল। কলেজস্তর পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দেওয়া হল। ত্রিপুরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিড ডে মিল চালু করা হল। গরিব অংশের মানুষের জন্য বিভিন্ন রকম সামাজিক পেনশন চালু করা হল। গ্রামীণ এলাকায় বর্মসংস্থানের সমস্যা মোকাবিলায় গরিব অংশের মানুষের জন্য এস আর ই পি এবং এন আর ই পি কর্মসংস্থান প্রকল্প নিয়ে আসা হল। ...more
২৫-এপ্রিল-২০২৫
এম এ বেবি
২৪তম পার্টি কংগ্রেসে জোর দিয়ে একথা বলা হয়েছে যে, বিজেপি ও আরএসএসকে একে অপরের থেকে আলাদা করা যায় না, এবং এই দুই শক্তিকে শুধুমাত্র নির্বাচনী সংগ্রামের সাহায্যে পরাস্ত করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে, গত এক দশকে, হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি তাদের মতাদর্শগত প্রভাবের সাহায্যে ভালোরকম সমর্থনের ভিত তৈরি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে দরকার একটা সামগ্রিক কর্মসূচি। ...more
২২-এপ্রিল-২০২৫
অপূর্ব চ্যাটার্জি
লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের মার্কসবাদের প্রতি অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণের কারণ এটি একমাত্র দর্শন যা কঠোরভাবে বৈজ্ঞানিক ও একইসঙ্গে বৈপ্লবিক। দ্বিতীয়তঃ লেনিন দেখিয়েছেন সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণই হচ্ছে মার্কসবাদের জীবন্ত মর্মবস্তু। এরই ভিত্তিতে রাশিয়ায় তিনি শান্তি, রুটি ও জমির দাবীকে সামনে রেখে জনগণের আন্দোলনকে অগ্রসর করে নিয়ে যেতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বকে (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন) গৃহযুদ্ধে পরিণত করার ডাক দিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ অক্টোবরে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলেন। ...more
২২-এপ্রিল-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
ট্রাম্প যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন সাধারণত সেজন্য দায়ী করা হচ্ছে তার ‘পাগলামি’–কে অথবা বলা হচ্ছে, বাকি বিশ্বকে তাঁর ‘উপেক্ষা করার’ মনোভাবই এর জন্য দায়ী। এবং এধরনেরই একাধিক কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু বস্তুত এই সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে আরও গভীর একটি দ্বন্দ্ব থেকে, যে দ্বন্দ্বের শিকড় রয়েছে পুঁজিবাদের বিকাশ এবং পুঁজিবাদ আরও পরিণত হওয়ার ওপর। শুধুমাত্র ট্রাম্পের ‘পাগলামি’র ওপর এই দায় চাপিয়ে দেওয়াটা হবে পুরোপুরি সারগর্ভহীন একটা ব্যাখ্যা।…ট্রাম্পের এই যে আগ্রাসী নীতি তার তাৎপর্য হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের সর্বত্র কাজকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার যুগের সমাপ্তি এবং তার ফলে নিও লিবারাল নীতি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে কোনও যুক্তির অবতারণা করারও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
যে সব দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করে, তারা কর্মসঙ্কোচন সৃষ্টিকারী মার্কিন সংরক্ষণবাদের ফাঁদে পড়লে অন্য কোনও উপায়ে নিজেদের দেশে মোট চাহিদা বৃদ্ধি করে বেকারত্বকে যে মাথাচাড়া দিতে দেবে না, তার কোনও উপায় নেই। ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধের নিহিতার্থ হ’ল আমেরিকার বেকারত্ব অন্য দেশে রপ্তানি করা। একেই বলে beggar thy neighbour policy (আমার প্রতিবেশি ভিখারী হোক নীতি)।
...more১১-এপ্রিল-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
যে ভাবে সংবিধানকে পায়ে মাড়িয়ে ট্রাম্পের প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নির্দেশ দিচ্ছে তারা তাদের কাজকর্ম কীভাবে চালাবে সেবিষয়ে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে যেভাবে তাদের সরকারি বরাদ্দ আটকে দেওয়া হচ্ছে, তাতেই ট্রাম্পের বৃহত্তর লক্ষ্যটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সরকারের মনোমত করে বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হবে এবং সেই শর্তেই বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি টাকা দেওয়া হবে, এমনটা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আর সৃজনশীল ও সমালোচনামূলক ভাবনাচিন্তার পরিসর থাকে না। ম্যাকার্থিবাদের সঙ্গে তুলনা করে দেখলে এটা একেবারে নতুন উদ্ভাবন। আমরা আসলে প্রত্যক্ষ করছি ভাবনাচিন্তার জগতের ওপর একটা নয়া-ফ্যাশিস্ত হামলা, যে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ১৯৫০ এর দশকের ম্যাকার্থিবাদের হামলার চেয়ে অনেক বেশি প্রসারিত। ...more
০৩-এপ্রিল-২০২৫
প্রকাশ কারাত
ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত নানা পরিবর্তন ঘটছে। এই সময়ের ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বৈশিষ্ট্য হল, বিজেপি শাসনে স্বৈরাচারী হিন্দুত্ববাদী-করপোরেট রাজকে আরও জোরদার করার প্রচেষ্টা জারি রয়েছে এবং পাশাপাশি মোদি সরকার ও তার হিন্দুত্ববাদী-করপোরেট নীতিসমূহের বিরোধিতায় শ্রমিকশ্রেণি, কৃষক এবং মেহনতি মানুষের বিভিন্ন অংশের ঐক্যবদ্ধ লড়াই শক্তিশালী হচ্ছে। ...more
৩০-মার্চ-২০২৫
আসিফ ইকবাল
বিজেপি-সহ আরএসএস-এর অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত শাখা সংগঠনের নেতাদেরকেই দেখা যায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখতে। এই সমস্ত বক্তব্যগুলির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। রিপোর্টে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, ১১৬৫ টি ঘটনার মধ্যে শুধুমাত্র মুসলিমদের বিরুদ্ধেই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪৭ টি ঘটনা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৯৮ শতাংশ। দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখেও এই উস্কানিমূলক বক্তব্য শোনা যায়। তিনি মুসলিমদেরকে সরাসরি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দাগিয়ে দেন। ...more
২৫-মার্চ-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
‘যদিও যুদ্ধের পরিধি এবং সময়কাল এখনও অস্পষ্ট, তবুও সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়কে নেতানিয়াহুর পরবর্তী ৪৮-ঘন্টার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় অ্যাজেন্ডার আগে তাঁর জোট সংকটের মুখোমুখি হওয়া থেকে আলাদা করা খুবই কঠিন।’ বলেছেন বার-এলি। যোগ করেছেন, ‘অর্থনৈতিক বিল নিয়ে নেসেটে ভোটাভুটির দিন ঠিক ছিল বুধবার। আর ২০২৫ সালের বাজেট অনুমোদনের জন্য একাধিক ভোট শেষ হওয়ার কথা সোমবার। ঘটনা হলো, এই বিলগুলি পাস করার জন্য শাসকজোটের কাছে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। যার অর্থ, বাজেট অনুমোদিত নাহলে বর্তমান নেসেটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এমাসের শেষে।’ ...more
২৩-মার্চ-২০২৫
রতন খাসনবিশ
আমাদের অনুমান, ভারতবর্ষে যেটিকে সনাতন ধর্ম বলা হয় সেটি বহু ঈশ্বরবাদী আর সেকারণেই বহুত্ববাদী। আদি ধর্মটির এই বহুত্ববাদী প্রবণতাটিতেই দেশটি বহুত্ববাদী হয়ে ওঠার প্রেরণা লাভ করে। ইসলাম সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা যারা এদেশে বসবাস করতে এসেছেন, এই দেশটি সব মানুষকেই বহুত্ববাদকে স্বীকার করে নেওয়ার বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে। এখান থেকেই গড়ে উঠেছে ভারতীয়ত্ব বোধ। ভারতবর্ষে যে একটা ভারতীয়ত্বের সত্তা আছে, এই কথা এখন দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ...more
১৯-মার্চ-২০২৫
বিজয় প্রসাদ
একটি বিষয় স্পষ্ট যে শুধু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নয়, সংস্কৃতি, সমাজ, মতাদর্শ এবং অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে আধিপত্য কায়েম করে এক নতুন ধরনের দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটেছে। এরা সবসময় উদারনৈতিক গণতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটাতেও আগ্রহী নয়। আইজাজ আহমেদের লেখাকে অনুসরণ করে ট্রাইকন্টিনেন্টাল ইনস্টিট্যুট ফর সোস্যাল রিসার্চ-এর নামকরণ করেছে ‘উদারবাদ ও উগ্র দক্ষিণপন্থার ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গন’ হিসেবে। এই ‘ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গন’-এর ধারণাটি আমাদের এই কথাটিই বোঝাতে চায় যে উদারবাদ ও উগ্র দক্ষিণপন্থার মধ্যে বিরোধটি সবসময় অবধারিত নয়। সত্যিকার অর্থে উদারবাদ উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে কোনও ঢাল নয়। এবং অবশ্যই নয় এর কোনও প্রতিষেধকও। ...more
১৬-মার্চ-২০২৫
ওয়াং ওয়েন
ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় পরিবেশ সমঝোতা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি সহ নানা সমঝোতা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে আসা চালিয়েই যাবে। ফলাফল কী হবে? মার্কিন আবিশ্ব আধিপত্য ভাঙতে শুরু হবে। এই ধারা বজায় থাকলে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একঘরে করে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করবে। ...more
১২-মার্চ-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
চরিত্রের দিক থেকেই পুঁজিবাদ হল শান্তির বিরুদ্ধে: ফরাসি সোশালিস্ট জ্যাঁ জয়েস সেই বিখ্যাত মন্তব্যটি করেছিলেন ‘পুঁজিবাদ নিজের মধ্যেই যুদ্ধকে বয়ে নিয়ে বেড়ায়, ঠিক যেমন মেঘ বৃষ্টিকে বুকে করে নিয়ে বেড়ায়।’ সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যকে আর একটু ভাল অবস্থায় প্রতিস্থাপিত করার আকঙ্ক্ষাই ট্রাম্পকে শান্তির আকাঙ্ক্ষী হতে দেয় না। একইভাবে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও পুরোপুরি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বিষয়: রাশিয়ার জন্য কখনই ইউরোপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। ‘রুশ সাম্রাজ্যবাদ’ ইউরোপকে পদানত করে রাখবে এই ধরনের ভীতি নিয়ে যে সব কথাবার্তা হয় সেটা স্রেফ ন্যাটোর সম্প্রসারণবাদের পক্ষে একটা অজুহাত মাত্র। তাই ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় ইউরোপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, এই রকম কোনও প্রশ্নই উঠতে পারে না। ...more
০৬-মার্চ-২০২৫
পলিট ব্যুরো
নয়া-ফ্যাসিবাদের মধ্যে কিছু কিছু উপাদান রয়েছে, যা বিশ শতকের গোড়ার দিককার ফ্যাসিবাদের মতেই। এগুলি হল উগ্র জাতীয়তাবাদ, যার ভিত্তি ঐতিহাসিক ভুল ও অন্যায় সম্পর্কে কল্পিত অনুভূতি, অপর-কে নিশানা করা– বর্ণভিত্তিক, ধর্মভিত্তিক কিংবা জাতিগত সংখ্যালঘু। এবং উগ্র দক্ষিণপন্থী/নয়া-ফ্যাসিবাদী দল অথবা শক্তিগুলির পিছনে বৃহৎ বুর্জোয়ার সমর্থন। ভারতে, নয়া-ফ্যাসিবাদকে নির্দিষ্ট চেহারা দিচ্ছে আরএসএস ও তাদের হিন্দুত্বের মতাদর্শ, আমাদের পার্টির কর্মসূচি অনুযায়ী যা ফ্যাসিস্ত-ধাঁচের। ...more
০১-মার্চ-২০২৫
আর অরুণ কুমার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একথা বুঝতে পেরেছে যে, তাদের আধিপত্যের সামনে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কারণ হল চীন। আমেরিকার নতুন প্রতিরক্ষা সচিব কোনও রকম রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, রাশিয়া কিংবা অন্য কোনও দেশ তাদের কাছে বিপদের উৎস নয়। চীন এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টিই মার্কিন আধিপত্যবাদকে মোকবিলা করার একমাত্র পাল্টা ও প্রধান শক্তিএবং সেকারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপদস্বরূপ। চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন একথা স্বীকার করে নিয়েছে যে সমাজতন্ত্র এবং বামেরাই একমাত্র শক্তি যারা পুঁজিবাদের নির্মম শোষণ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। ...more
২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
সাত্যকি রায়
নয়া-ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম সেকারণেই শুধু নির্বাচনী লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা গণতন্ত্রের পরিসরের পুনর্নির্মাণের লড়াই। মুষ্টিমেয় একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজি যখন খোলাখুলিভাবে সমাজ অর্থনীতি, সংস্কৃতির উপরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তখন ব্যাপকতম শ্রমজীবী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই হল গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। ...নয়া-উদারবাদের অভিযোজনের দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তা আজ প্রচণ্ড উগ্র এবং নির্লজ্জ। অন্যদিকে, পৃথিবীতে সমাজবাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্রমাগত পরিণত ও প্রত্যয়ী রূপ ধারণ করছে। এই যুগসন্ধিক্ষণে শুধু আক্রান্ত মানুষের হাত ধরা নয়, নতুন সর্বজনীন ন্যায়ের স্বপ্ন হাজির করতে হবে বামপন্থীদেরই। ...more
২২-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
এম পলানি কুমার
বারো দিন বাদে হরি আন্নার মৃত্যুর খবর করতে যাই আমি। তাঁর বাড়ি পৌঁছে দেখি একটা ফ্রিজার বাক্সে শোয়ানো আছে তাঁর দেহ। তাঁর স্ত্রী তামিল সেলভিকে পরিবার থেকে বলা হয়েছে শেষকৃত্য এবং বিধবার কর্তব্যকর্ম করে নিতে। পাড়াপ্রতিবেশী তাঁর সারা গায়ে হলুদ মাখিয়ে তাঁকে স্নান করিয়েছেন, তারপর তাঁর থালি [বিবাহিতা নারীর মঙ্গলচিহ্ন] ছিন্ন করে দিয়েছেন। পুরো সময়টা নীরব, গম্ভীর ছিলেন তিনি। ...more
১১-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
রবীশ কুমার
ইতিহাস বিষয়ে যেকোনও যুক্তি তর্কের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল এরকম ধরনের ব্যাখ্যাকে কোনও ভাবনা চিন্তা ছাড়াই ‘অতীতের মার্কসবাদী বিশ্লেষণ’ বলে তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমাজ এবং অর্থনীতির আলোচনাকে ইতিহাস ব্যখ্যায় যুক্ত করা হলেই তাকে মার্কসবাদী বিশ্লেষণ বলা চলে না। মার্কসবাদী আলোচনায় সামাজিক অর্থনৈতিক উপাদানগুলি কীভাবে সমাজকে গঠন করছে, তাকে রূপ দিচ্ছে সে বিষয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়। তাই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উপাদান সংযুক্ত হয়েছে মানেই এটা নয় যে সেখানে মার্কসবাদী তত্ত্ব বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ম্যাক্স ওয়েবারের কথা বলা যায়। তাঁর আলোচনায় সমাজ অর্থনীতির উপাদান আছে ঠিকই, কিন্তু তা মার্কসবাদী বিশ্লেষণ পদ্ধতি থেকে একেবারেই আলাদা। ...more
১০-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
বরাদ্দ ছাঁটাই করে সামাজিক ক্ষেত্রকে আরও নিষ্পেষিত করা, খাদ্যে ভরতুকি কমানো, এমজিএনআরইজিএস এবং এ ধরনের অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কমানো, বেতনভোগী হোয়াইট কালার অংশকে কর ছাড় দেওয়া , এসবের মানে হল এই সব সরকারি প্রকল্পের কিছুটা সুবিধা ভোগ করেন এমন বিপুল সংখ্যক গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের হাত থেকে ক্রয়ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া এবং সেই ক্রয়ক্ষমতা মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের হাতে তুলে দেওয়া। এটাই হল এনডিএ সরকারের ‘স্ট্র্যাটেজি’। এই স্ট্র্যাটেজির লক্ষ্য হল শ্রমজাবী মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে একটা বিভাজন রেখা তৈরি করা, যাতে করে কর্পোরেট-হিন্দুত্ব জোট আরও কিছুটা বেশি সমর্থন আদায় করতে পারে। ...more
০৯-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
অম্রুথা কসুরু
নিজের হাতে যাঁরা মলমূত্র-বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তেলেঙ্গানায় তাঁদের ‘পাকি’ (মেথর) বলা হয় — যেটি আদতে একটি গালাগাল। সামাজিক কলঙ্কের ভয়েই বোধহয় বীরা স্বামী তাঁর পেশার কথা স্ত্রীকে জানতে দেননি। তাঁর স্ত্রী বোঙ্গু ভাগ্যলক্ষ্মীর কথায়, “ও যে মেথরের কাজ করে সংসার চালায়, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। একটিবারের জন্যও আমার সঙ্গে আলোচনা করেনি সে।” সাত বছরের দাম্পত্য তাঁর বীরা স্বামীর সঙ্গে, আজও তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ে বরের প্রতি ভালোবাসা: “সবসময় ওর উপর নির্ভর করে থাকতাম।” ...more
০৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
সুভাষ গাটাডে
যখন মহাকুম্ভে অনুসরণ করা ভিআইপি কালচার বা মহারথী সংস্কৃতিকে এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী, দিনের পর দিন অভূতপূর্ব সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার ঢক্কানিনাদের পর, আত্মবিশ্লেষণের পথে না হেঁটে দুর্ঘটনার দায় ভক্তদের কাঁধেই ঠেলে দিয়েছেন। এখন হয়ত বলাই যায় যে, এই দুর্ঘটনাটি সময়ের অপেক্ষা ছিল মাত্র। কারণ নানাভাবে বোঝা যাচ্ছিল যে, জাতীয় প্রচার মাধ্যমগুলি সহ সর্বত্র মহাকুম্ভ নিয়ে বিপুল প্রচারাভিযান চালানোর পর বিভিন্ন ‘পুণ্যতিথি’তে কত মানুষের সমাগম হতে পারে এ সম্পর্কে শাসকপক্ষের ন্যুনতম ধারণাও ছিল না। তারা কী জনসমাগম সামলানো সংক্রান্ত অতীত অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে পারতেন না? ...more
০৫-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
রাম পুনিয়ানি
আম্বেদকরের সঙ্গে হিন্দুত্ব মতাদর্শের মূল বিরোধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৩৫ সালের ১৩ অক্টোবর, নাসিকের কাছে ইয়েওলার একটি সভায় তিনি বোমা ফাটিয়ে ঘোষণা করেন, “আমি হিন্দু পরিচয়ে মারা যাব না!” তার মতে, এই ধর্মে স্বাধীনতা, করুণা ও সমতার কোনও স্থান নেই। তার বই থটস অন পাকিস্তান-এর পরিমার্জিত সংস্করণে তিনি ইসলামী পাকিস্তানের গঠনকে বিরোধিতা করেন, কারণ এটি হিন্দু রাজ বা রাষ্ট্রের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা দেশের মানুষের জন্য ‘একটি বড়ো দুর্যোগ’ হয়ে উঠবে। ...more
২৬-জানুয়ারি-২০২৫
স্টেফানি ওয়েদারবি, ভিভিয়ান ফার্নান্ডেজ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের স্যাঙাৎদের নিরন্তর আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটেই বহমান রয়েছে ভেনিজুয়েলার প্রতিরোধ সংগ্রাম। ৯৫০টির বেশি বেআইনী নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার ফলে জাতীয় আয় বিপুলভাবে হ্রাস পেয়েছে যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনমুখী নানা পরিষেবার উপর ধ্বংসাত্মক আঘাত হেনেছে। এই ব্যবস্থাগুলি নেওয়াই হয়েছে বলিভারীয় বিপ্লবকে দুর্বল করতে এবং জনগণের মধ্যে হতাশার জন্ম দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে সরকার বদলের দিকে ঠেলে দিতে। ...more
১১-জানুয়ারি-২০২৫
বিজয় প্রসাদ
২০২০ সালেই ফ্রান্স ইউরোপীয় দেশগুলির বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টাকুবা টাস্ক ফোর্স নামে একটি ইউরোপীয় বাহিনী তৈরি করেছিল। এটা ছিল ফরাসি আগ্রাসনের একটি ইউরোপীয় বর্ম যা এর আগেও পরখ করা হয়েছিল সাহেল অঞ্চলে। তখন বোঝাই গেছে ওটা আসলে ফরাসিদেরই একটি মুখোস। তবে আফ্রিকা মহাদেশে ফরাসি কর্মতৎপরতা শুধুমাত্র ফ্রান্সের স্বার্থকেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে না। তার ভূমিকা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই উপমহাদেশে চীন ও রাশিয়া বিরোধী ঠাণ্ডাযুদ্ধে মার্কিনীদের শক্তি যোগানো। ...more
০৬-জানুয়ারি-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
রোজা লুক্সেমবার্গ বলেছিলেন যে, পুঁজিবাদের বিকাশ শেষ বিচারে এমন একটা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছয় যেখানে মানবজাতির সামনে যে কোনও একটা বিষয় বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি হাজির হয়। তাকে সমাজতন্ত্র কিংবা বর্বরতা — যে কোনও একটা দিক বেছে নিতে হবে। সেই বিষয়টাই এখন আরও সজোরে ফিরে আসছে। এই পুঁজিবাদ মানবজাতিকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে নিয়ে চলেছে যেখানে আসলে রয়েছে পরিব্যাপ্ত ও বর্বরোচিত নয়া ফ্যাসিবাদ। এখান থেকে ধাপে ধাপে সমাজতন্ত্রে রূপান্তরের পথে এগোতে পারলেই মুক্তির একটা দিশা পাওয়া যবে। ...more
০৫-জানুয়ারি-২০২৫
প্রভাত পট্টনায়েক
ট্রাম্পের হুমকির পর ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ বি-ডলারিকরণ নিয়ে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। হতে পারে যে আমেরিকার কাছে ভাল ছেলে হয়ে থাকার জন্য তাদের এই অবস্থান। তবে এই বিষয়টা সংশয়াতীতভাবে সত্য যে, সাম্রাজ্যবাদ এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমনকী ইউক্রেন ও গাজা প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির মধ্যে যে ঐক্য দেখা যাচ্ছে, এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির সমাজগণতন্ত্রীরা তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যেভাবে সাম্রাজ্যবাদের লেজুড়বৃত্তি করছে, সেটাই প্রমাণ করছে সাম্রাজ্যবাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জটা কতটা গুরুতর। ...more
২৭-ডিসেম্বর-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
ইজরায়েল ‘অল্প অল্প করে’ নিজেদের সম্প্রসারিত করছে। এবং শেষ পর্যন্ত জর্ডন, লেবানন, মিশর ও অন্যান্য আরব দেশগুলি ছাড়া পুরো প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডকেই ঘিরে ফেলবে। ‘জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ যে দামাস্কাস (সিরিয়ার রাজধানী) পর্যন্ত প্রসারিত হবে, তা লেখা হয়ে আছে।’ আসলে লক্ষ্য পুরো ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, স্মোত্রিচরা যাকে বলেন ‘জুদেয়া ও সামারিয়া’ অঞ্চল। ...more
১৩-ডিসেম্বর-২০২৪
অমিত বড়ুয়া
রাস্তার আগ্রাসী কার্যকলাপ এবং আরএসএস-বিজেপির ভাষা দেখিয়ে দিল, যখন এদেশে হিন্দু উগ্র জাতীয়তাবাদীরা বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি কী হবে সেবিষয়ে নির্দেশ দিতে শুরু করেছে, তখন মোদি সরকার নীরব থাকার পথ বেছে নিতে নারাজ নয়। আরএসএস ও বিজেপির প্রতিনিধিরা যে ধরনের বিবৃতি দিচ্ছেন এবং যেসব কার্যকলাপ করছেন, সেগুলোকে সহজভাবে দেখলে হবে না। ভারতের প্রতিবেশী দেশ সহ অন্য সব দেশ ভারতে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হিন্দুত্বকরণের যে প্রক্রিয়া চলছে সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে। ...more
১২-ডিসেম্বর-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
কঠোর পরিশ্রম করে তিনি বহু নতুন তথ্য উদ্ধার করেছেন। অর্থনীতির ভুবন খুঁড়ে তিনি তুলে এনেছেন এমন সব তথ্য যা এর আগে কখনও পাওয়া যায়নি। এর জন্য যে কঠোর পরিশ্রম তিনি করেছেন তার সঙ্গে একমাত্র তুলনা করা যেতে পারে সবচেয়ে পরিশ্রমী ঐতিহাসিকদের। উদ্ধার করা তথ্যভাণ্ডারে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন একটা প্যাটার্ন বা নকশা। তাঁর সামষ্টিক অর্থনীতিই (ম্যাক্রোইকনমিক্স) তাঁকে এই বিষয়টা দেখার চোখ দিয়েছিল। ফলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একেবারে নতুন ধরনের একজন অর্থনীতিবিদ, যিনি অর্থনীতির তত্ত্ব এবং অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক্সে সমানভাবে দক্ষ এবং দক্ষ অর্থনৈতিক ইতিহাসেও। ...more
৩০-নভেম্বর-২০২৪
সুচিক্কণ দাস
১৬ বছর আগে যে ব্রিকস যাত্রা শুরু করেছিল, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সেটাই হয়ে উঠতে চলেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প একটি বহুমেরু মঞ্চ। তবে এখনই পুঁজিবাদী দেশগুলির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে যেতে চায় না ব্রিকস। বরং পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতা করতে চায়। সেই দিক থেকে দেখলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরে ১৯৫৫ সালে যে বান্দুং সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে, সেই বার্তাকেই কার্যত ফিরিয়ে আনতে চাইছে ব্রিকস। ...more
০১-নভেম্বর-২০২৪
সুচিক্কণ দাস
এইভাবেই এখনকার বিশ্ব হয়ে উঠছে বহুমেরু বিশ্ব। যা মার্কিন-সহ পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে কমবেশি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ফলে সোভিয়েতের পতনের পর বিশ্ব একতরফা একমেরু হয়ে উঠবে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার ছায়া এখন সরছে। বদলে ক্রমশ স্পষ্ট চেহারা নিচ্ছে এক বহুমেরু বিশ্ব। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমী পুঁজিবাদকে সমঝে চলতে হচ্ছে। কারণ বহুমেরু বিশ্ব– ডলার, সুইফট ও আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছে। এগুলির বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। এবং সেখানে শামিল হচ্ছে বহু দেশ। কোনও সন্দেহ নেই এইসব বহুমেরু মঞ্চের প্রথম সারিতে রয়েছে ব্রিকস।
...more
৩১-অক্টোবর-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
বহু দেশই তাদের সমস্ত সম্পর্ক কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরর সঙ্গে রাখার বিপদের কথা উপলব্ধি করছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো ব্লকগুলি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক দেশই প্রকাশ্যে এই ধরনের ব্লকে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করছে। পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রধান শক্তি সৌদি আরব ও ইরানকে সম্প্রতি এই গ্রুপের সদস্য করা হয়েছে। লাতিন আমেরিকার সঙ্গেই ব্রিকসের প্রতি বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির আগ্রহ। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়া ‘পার্টনার দেশ’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। যা চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। চারপাশে এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি যখন হচ্ছে, তখন ভারত তার বাইরে থাকতে পারে না। বিলক্ষণ উপলব্ধি করেছেন ভারতীয় বুর্জোয়ারা। ...more
২৭-অক্টোবর-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সহ ৪৯ টি বামপন্থী এবং ওয়ার্কার্স পার্টি এক যৌথ বিবৃতিতে— গাজা এবং লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি সহ, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি সার্বভৌম প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠনের দিকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। ...more
১৮-অক্টোবর-২০২৪
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
একদিকে রাষ্ট্রীয় হিংসা ও অপরদিকে সন্ত্রাসবাদীদের তরফ থেকে আসা হিংসায় দশকের পর দশক ধরে জর্জরিত কাশ্মীরের মানুষ রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত হয়ে এখন শান্তি, স্বস্তি চায়, সর্বোপরি চায় আত্মমর্যাদা ও হৃত অধিকারের পুনরুদ্ধার। যে কাশ্মীরের জনগণ ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থেকে নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকত, তারাই এবারে দলে দলে ভিড় করেছিল ভোট কেন্দ্রগুলিতে। শুধু ভোটদানের হার নয়, বিজয়ী জোটের প্রতি সমর্থনের ঢলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর উপত্যকার মানুষের সুস্পষ্ট রায় ব্যক্ত হয়েছে।সাধারণ ভাবে বললে, এই নির্বাচনের মূল বিষয় ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ মর্যাদা পুনরুদ্ধার। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির মাধ্যমে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তাই শেষ পর্যন্ত ৯ আগস্ট সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা হরণ করে রাজ্যের বিভাজনের মাধ্যমে দু'টি কেন্দ্রশাসিত প্রদেশের জন্ম দেয়। ...more
১৪-অক্টোবর-২০২৪
প্রবীর পুরকায়স্থ
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়া, ইরানের উত্থান রুখতে মার্কিনী ব্যর্থতা, মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকি জনগণের কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং সিরিয়ায় জমানা বদলে ব্যর্থতা — এসবের মানে হল কার্টার নীতি বিপন্ন। এই নীতিতে বলা হয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দরকার হলে পারস্য উপসাগরে তাদের ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তি কাজে লাগাবে। অন্যভাবে বললে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে উপসাগরীয় এলাকার তেলের ভাণ্ডার তাদের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’-এর অংশ। ইজরায়েল কেন সামরিক সম্প্রসারণ পশ্চিমে করতে চাইছে সেটা এই মার্কিন ভাবনার সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়।
...more১২-অক্টোবর-২০২৪
সাত্যকি রায়
উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় শোষণের ভিত্তিতেই লাভের মাধ্যমে এই সম্পত্তি গড়ে ওঠেনি। তা গড়ে উঠছে লুঠের মাধ্যমে। বেআইনি লুঠের টাকা যেহেতু পুঁজিতে পরিণত করাটাও সহজ নয়, তাই খাটের তলায়, ফ্ল্যাটের ভিতরে, আলমারির পেছনে অথবা বিদেশে গোপনে নানা আইনি বেআইনি পথে বেনামী নানা একাউন্টে জমা হচ্ছে। এটাই বাংলার নতুন গজিয়ে ওঠা ‘কালীঘাটতন্ত্র’ যা এক অবক্ষয়ী সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আবার একই সাথে এই হুমকি সংস্কৃতির ভিত্তিতেই পাড়ায় পাড়ায় নানা কর্মক্ষেত্রে ফুলে ফেঁপে উঠছে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষদের সম্পত্তি। খেয়াল করলে দেখা যাবে পশ্চিমবাংলায় সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আন্দোলন উৎপাদনের ক্ষেত্রকে ঘিরে যতটা না হচ্ছে তার চাইতে বেশি হচ্ছে লুঠের বিরুদ্ধে। তাই সর্বব্যাপক ঐক্যের পরিসরে যারা সামিল তারা সাধারণ মেহনতি মানুষ কিন্ত তাদের যে পরিচয় এই আন্দোলনে প্রকট তা কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত এই চেনা বর্গগুলিতে বিভাজিত নয় বরং যা প্রকট তা হল এক সার্বজনীন ক্ষমতাহীন উপভোক্তার পরিচয়, নাগরিকের পরিচয় যারা মূলত লুঠের বিরুদ্ধে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিবাদে সামিল। ...more
১০-অক্টোবর-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেই বলেছে, ‘চীন বর্তমানে সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এবং আরও বহুদিন তাই থাকবে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পশ্চাৎপদ চীনের মতো একটি দেশে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণ– এই ঐতিহাসিক পর্বকে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারে না। এই পরিস্থিতি চলবে আরও একশ বছরের ওপর। সুতরাং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে এবং চীনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমাজতন্ত্রেরই পথ নিতে হবে।’ ...more
০১-অক্টোবর-২০২৪
বিজয় প্রসাদ, অতুল চন্দ্র
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছিল আরাগালয়া (প্রতিবাদ) যার পরিণতিতে রাষ্ট্রপতির প্রাসাদ দখল হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষেকে তড়িঘড়ি দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। এই প্রতিবাদের কারণ ছিল দেশের-মানুষের অর্থনৈতিক সম্বলহীনতা; জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাব তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক ঋণ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। প্রতিবাদী মানুষের আয়ের রাস্তা প্রশস্ত না-করে; নয়া-উদারবাদী ও পাশ্চাত্য ঘেঁষা বিক্রমসিংঘে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন রাজাপক্ষের ৬ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করার জন্য। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিক্রমসিংঘের অপদার্থ শাসনকাল ওই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অন্তর্নিহিত কারণগুলির কোনও সমাধান করেনি। ...more
২৪-সেপ্টেম্বর-২০২৪
শশী সিং, রাজেশ রঞ্জন
বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে সাধারণত একগুচ্ছ মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সেগুলিকে সযত্নে রক্ষা করা হয়। তবে আরও একধাপ এগিয়ে গণতান্ত্রিক দেশগুলির সংবিধানে একগুচ্ছ মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকারকে কখনই অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যদি তেমন কোনও চেষ্টাও হয়, তাহলে সমস্ত দিক থেকে মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এবং এনিয়ে সংশয়ের কুজ্ঝটিকা সৃষ্টি করা হয়। ...more
২২-সেপ্টেম্বর-২০২৪
সি পি চন্দ্রশেখর
দলের প্রতি এবং দলের মতাদর্শের প্রতি তাঁর আনুগত্যে কোনও ফাঁক ছিল না। মতাদর্শে স্থিতধী থেকেও তিনি একথা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ভারতীয় রাজনীতির পরিসরে সক্রিয় গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির সঙ্গে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাতে হবে। নতুন নতুন মিত্র খোঁজা, তাদের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের একটা অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য বোঝানো, যে কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত রয়েছে বামপন্থীদের নীতিসমূহ ও মূল্যবোধ– এটাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইয়েচুরির সামগ্রিক লক্ষ্য। ...more
১৪-সেপ্টেম্বর-২০২৪
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
ভারতের সামাজিক ইতিহাসও এর ব্যতিক্রম নয়। যদিও প্রাচীন সমাজের ভিত্তি বদলে গেছে কিন্তু ‘একটি মস্ত রক্ষণশীল শক্তি’ হিসাবে ধর্ম নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজের আর্থ-সামাজিক কাঠামো আর বহু শতাব্দী পেরিয়ে এসে আধুনিক কালের সামন্ততান্ত্রিক আধা-সামন্ততান্ত্রিক ভূমিব্যবস্থা ও তার ওপরে শিল্পায়নের পুঁজিবাদী পথের বিরাট ফারাক। কিন্তু এ যুগে শাসকশ্রেণি ও তাদের আধুনিক ধার্মিকের দল অতীতের দুর্জ্ঞেয় অধ্যাত্মবাদ, বর্ণভেদ, পুনর্জন্ম প্রবল বিক্রমে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তার পুনরভ্যুত্থান ঘটাতে চায়। তাই জাতীয় সংকট যত বাড়ে রাষ্ট্রপ্রধানের মন্দিরে মন্দিরে যাতায়াত বাড়ে, আরএসএস-বিজেপি-র ‘রামরাজত্বের’ মতাদর্শের উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসে, বিড়লাজী সমানতালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেয়ার ও শিবমন্দিরে দান করেন। গরু ও হনুমান আজও দেবতার আসন ছাড়তে চায় না। — সতর্ক করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টচার্য। সেই ১৯৮৩ সালে, মার্কসবাদী পথের মে সংখ্যায়। ...more
০৮-আগস্ট-২০২৪
রবিকর গুপ্ত
কিন্তু ইতিহাসের গতি চিরকাল রুদ্ধ করে রাখার মত শক্তি মার্কিন দেশেরও নেই। ঠিক যে সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যে দিয়ে একমেরু বিশ্বের সৃষ্টিতে মনে হয়েছিল মার্কিন শক্তি অজেয়, সেই সময়েই একে একে লাতিন আমেরিকায় কয়েকটি নতুন বাম ঘেঁষা সরকারের আগমন এই মহাদেশের রাজনীতি বদলে দিল। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলে, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, ইকুয়েদর– একদা যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সামরিক একনায়কদের মুক্তাঞ্চল ছিল, সেখানে গণ-আন্দোলনে ভর করে ইভো মোরালেস্, লুলা দা সিল্ভা, রাফায়েল কোরিয়ার মত নেতারা একের পর এক দেশে ক্ষমতায় আসীন হলেন। ...more
৩১-জুলাই-২০২৪
তো লাম
পার্টি সম্পর্কে ফু ত্রঙ বলেন, ‘আমাদের পার্টিকে অবশ্যই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সর্বোচ্চ বোধ অর্জন করতে হবে। জনগণের বস্তুগত এবং আত্মিক জীবনের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। পার্টির যে সমস্ত নীতি জনগণ, দেশ এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, এবং ঐতিহাসিক বিবর্তনের নিয়মাবলীর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো ভুল নীতি। জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ হল অস্তিত্বের নিয়ম, সেটিই পার্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, উন্নতি ও পার্টির কার্যক্রমের সাথে যুক্ত।’ ...more
৩০-জুলাই-২০২৪
সাত্যকি রায়
পুঁজিপতি শ্রমিক নিয়োগ করে তখনই যখন শ্রমিকের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে লাভ করা সম্ভব হয়। শ্রমিককে নিয়োগ করাটা লাভ করার একটি মাধ্যম, যা জিনিস বিক্রির উপর নির্ভরশীল। পুঁজিপতির কাছে শ্রমিক নিয়োগটা লক্ষ্য নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, শ্রমিক শোষণের মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্বৃত্তমূল্য মুনাফায় পরিণত হয় তখনই যখন উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। যদি বাজারে বিক্রি করে মুনাফার হার পুঁজিপতির কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তাহলে শ্রমিকের মজুরিতে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এ ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বরং এই স্কিমগুলির মধ্যে দিয়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকারি কোষাগার থেকে মজুরি সংক্রান্ত ব্যয়ে কিছু ভর্তুকি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল। ...more
২৯-জুলাই-২০২৪
প্রকাশ কারাত
খুব কম মানুষই জানেন, হামাস যে একটা শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিল, তার কারণ গোড়ার দিকে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ-ই এদের ঠেকা দিয়ে ওপরে তুলেছিল। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি পিএলও-কে ঠেকাতে ইজরায়েল রাষ্ট্র হামাসকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। সেই থেকে আমরা দেখছি চক্রাকারে ইসলামি মৌলবাদ ও তার বিপরীতে ইহুদি দক্ষিণপন্থী উগ্রপন্থার উত্থান। দক্ষিণপন্থী ইহুদি উগ্রপন্থাই এখন নেতানিয়াহু সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ...more
২১-জুলাই-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
নয়া পপুলার ফ্রন্ট মানুষের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও উগ্র দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধতার সদিচ্ছার কারণে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিছু কল্যাণকামী সামাজিক পদক্ষেপ টিকিয়ে রাখা হবে। নয়া উদারবাদী পদক্ষেপ কিয়দাংশে প্রত্যাহৃত হবে। বিশেষ করে ব্যয়সঙ্কোচের নীতি। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অবসরের বয়স কমানোর, পেনশনের পুরানো নিয়ম পুনর্বহাল করার এবং বড়লোকদের উপর কর চাপানোর। ...more
১৮-জুলাই-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একমাত্র প্রাসঙ্গিক ফ্যাসিবিরোধী কর্মসূচি ছিল যুদ্ধ শেষ করা, তখন কোনও বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মসূচিবিহীন ফ্যাসিবিরোধী ফ্রন্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন কার্যকরী থাকলেও, এখনকার সন্ধিক্ষণে তা ঠিক উল্টো ফল দেবে। কারণ আমরা এখন সর্বগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি না। তাই, এখন যদি ফ্যাসিবিরোধী শক্তিসমূহ শুধুমাত্র কাছাকাছি আসে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবার জন্য কোনও অর্থনৈতিক কর্মসূচি না নেয়, তাহলে তা নয়া উদারবাদকে মেনে নেওয়ারই সামিল হবে। ...more
১৬-জুলাই-২০২৪
বিজয় প্রসাদ
স্টার্মারের অ্যাজেন্ডা একেবার নিখাদ নয়া উদারবাদী এবং বৃদ্ধি-ব্যয়সংকোচ মডেলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর ঠিক এই মডেলটাই সমস্ত শক্তি নিঃশেষিত করে ব্রিটেনকে একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। যারা ব্যয়সংকোচের নীতির অবসান চান তেমন কাউকেই উজ্জীবিত করতে পারেনি তাঁর হাসি। পার্লামেন্টের ডেসপ্যাচ বক্সে বসে স্টার্মার হয়ত খুশিতে ডগোমগো হয়ে হাসতে থাকবেন। তবে তাঁকে একথা অবশ্যই জানতে হবে যে, তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই ভেঙে টুকরো হয়ে যেতে পারে। কারণ অবক্ষয় থেকে ব্রিটেনকে ঘুরে দাঁড় করানোর কোনও প্রকল্প তাঁর হাতে নেই। ...more
১৫-জুলাই-২০২৪
অর্ক ভাদুড়ি
ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নিরিখে ফ্রান্সের নির্বাচনী ফলাফলের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রথমত, বিভিন্ন মাত্রার বামমনস্ক দলগুলি একত্রিত হয়ে অতি দক্ষিণপন্থা এবং মধ্যপন্থাকে আজকের দিনে দাঁড়িয়েও যে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব, বাকি দুনিয়ার কাছে সজোরে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ফরাসি নির্বাচন। ফ্রান্সের বেশ কিছু বড় পুঁজিপতি, বিশেষত ফিনান্স, টেকনোলজি বা প্রযুক্তি এবং ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর এনার্জি ব্যবসায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি দক্ষিণপন্থীদের সমর্থক ছিল। ফরাসি গণমাধ্যমও লাগাতার প্রচার চালিয়েছে এনএফপি-র বিরুদ্ধে। তবে এনএফপি-র পক্ষে সর্বাধিক ভোট ফিনান্স পুঁজির এই আঁতাতকে হারিয়ে দিয়েছে। ...more
১১-জুলাই-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
আজ ফ্রান্স চূড়ান্ত দফার নির্বাচনে। নব্য ফ্যাসিবাদের মোকাবিলায় কমিউনিস্টরা-সহ একজোট বামপন্থীরা। গড়েছেন নয়া পপুলার ফ্রন্ট। উপস্থিত করেছেন একটি সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মসূচি, যা সর্বতোভাবে নয়া উদারবাদের বিরোধী শুধু নয়, বরং পুরোদস্তুর নতুন এবং আগ্রহ-উদ্দীপক। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশেষ করে এই ব্যাপারটা উন্নত অর্থনীতিতে ঘটছে বলে, ভাবনার যুদ্ধে এই কর্মসূচি এক নতুন শুরুর ইঙ্গিত বহন করছে। ...more
০৭-জুলাই-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
শেষ ক’দিন স্টার্মারের লেবার পার্টি শুধু একটাই কথা বলেছে: পরিবর্তন। যে স্লোগান দিয়ে একসময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন বারাক ওবামা, যে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ২০১১-র বাংলায়! ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির বোঝাপড়া স্পষ্ট: এই ‘পরিবর্তন’ হবে শুধু পুঁজিবাদ ও শাসকশ্রেণির সম্পদ রক্ষায় ‘প্রহরীর’ পরিবর্তন। সেকারণে স্টার্মারের জয় কোনওভাবেই শ্রমিকশ্রেণির জন্য অর্থপূর্ণ জয় হতে পারে না।
...more০৬-জুলাই-২০২৪
ময়ূখ বিশ্বাস
আশঙ্কা মোরালেস এবং তার হাতে বাছাই করা রাষ্ট্রপতি আর্সের মধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ততা। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরে তা আরোও বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘মাস’ পার্টি ভেঙে আবার বলিভিয়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সামনে। এখনও অবধি আর্স কেচুয়া এবং আইমারা আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সদ্ভাব আছে। এটা রাষ্ট্রপতি আর্সের পক্ষে ভালো। কারণ তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামাজিক কর্মসূচির ফলে দুই জনগোষ্ঠীই মাস পার্টির বিশ্বস্ত সমর্থক হয়ে আছেন। কিন্তু দেশের প্রথম জনজাতি সমাজ থেকে ওঠা রাষ্ট্রপতি, ক্যারিশমাটিক মোরালেস মাস পার্টি করেছিলেন। তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা সমাজে ব্যাপক। ...more
০৩-জুলাই-২০২৪
সুবোধ বর্মা
মানুষের পাতে প্রোটিনের বড়ো উৎস হল ডাল। গত বছরে সবরকম ডালের দাম বেড়েছে লাফ দিয়ে। বেড়েছে চাল ও গমের দামও। অন্যদিকে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হচ্ছে না। মজুত কম থাকায় রেশনে ও মিড ডে মিল প্রকল্পে খাদ্যশস্যের সরবরাহ অনিয়মিত। মজুত কম থাকায় সরবরাহের মাধ্যমে খোলা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে সরকারি পরিকাঠামোর অভাবের কারণে কৃষকরা ফসল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীদের। সবমিলিয়ে রেকর্ড উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও খোলা বাজারে চাল-গমের দাম বেড়েই চলেছে। এমনিতেই চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অন্যদিকে রেশন ব্যবস্থা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। তার ওপর খোলা বাজারে চড়া দামের বোঝা মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। ...more
২৭-জুন-২০২৪
অচিন বনায়েক
নাগরিক স্বাধীনতার ক্রমবর্ধমান ক্ষয় এবং স্বৈরতন্ত্রের দিকে একটানা গতিকে সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া গেছে। এখন লিবারাল গণতান্ত্রিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার একটা সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগানো যায়। এবং একে কাজে লাগাতে হবে। যত দ্রুত এই অভিমুখে গতি সৃষ্টি করা যাবে, ততই সঙ্ঘ পরিবারের মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক, অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে ভারতের রাজনৈতিক সমাজের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করার সুযোগ বাড়বে – বলছেন লেখক, সমাজকর্মী ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অচিন বনায়েক। ‘দ্য রাইস অব দি হিন্দু অথরিটারিয়ানিজম’ গ্রন্থের লেখক তিনি।
...more২৪-জুন-২০২৪
অচিন বনায়েক
বছরের শেষে তিনটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। এর মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা, যেখানে বিজেপির ফল খুব খারাপ হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ঝাড়খণ্ড, যেখানে বিজেপি ভাল ফল করেছে। এই সব বিধানসভার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল যাই হোক না কেন, তা হয় এনডিএ, নতুবা ইন্ডিয়া ব্লককে আরও উৎসাহ দেবে। বছরের বাকি ছ’মাস হতে চলেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ৬ মাসে দেখা যাবে নীতি নিয়ে সংঘাত– যার মাত্রা, গভীরতা ও চূড়ান্ত ফল কী হবে তার আগাম ভবিষ্যৎবাণী এখন কঠিন। বলেছেন লেখক ও সমাজকর্মী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অচিন বনায়েক। ‘দ্য রাইস অব দি হিন্দু অথরিটারিয়ানিজম’ গ্রন্থের লেখক তিনি।
...more২৩-জুন-২০২৪
অমরা রাম
’১৪, ’১৯-এর ভোট ছিল মুখ নিয়ে। বিজেপি আর তার মিডিয়া বলত মোদীর বিরুদ্ধে আর কোন্ ‘মুখ’ আছে? কিন্তু এই পুরো সংঘর্ষ এবং আন্দোলন পর্বে মোদীর বিরুদ্ধে ‘জনতার মুখ’ উঠে এসেছে। তাদের নিজস্ব বঞ্চনা দাবি-দাওয়া উঠে এসেছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, অগ্নিবীর, ভারতীয় জনতার পার্টির লাগাতার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে ভোট হয়েছে। ...more
১৩-জুন-২০২৪
সুচিক্কণ দাস
আসলে বিজেপি উচ্চবর্ণ নিয়ন্ত্রিত দল। তাদের হিন্দুত্বের সমীকরণটা এরকম: ধর্মীয় পরিচিতি-সত্তাকে জাগিয়ে তুলে, তাকে ব্যবহার করে সমাজের নিচুতলা অর্থাৎ ওবিসি, দলিত, আদিবাসীদের হিন্দুত্বের আওতায় এনে ফেলা এবং এভাবে স্থায়ী ভোট-ব্যাঙ্ক তৈরি করা। এই ফর্মুলাতেই ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের ভোটে সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। এবারের ভোটে ঠিক সেই জায়গাতেই ঘা দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। বিজেপির মোকাবিলায় অখিলেশের এবারের ফর্মুলা ছিল পিডিএ- পিছড়ে বর্গ, দলিত ও অল্পসংখ্যক। এই তিন গোষ্ঠীর মধ্যেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ওবিসি, এসসি, এসটি, দলিত ও আদিবাসীরা। ...more
১১-জুন-২০২৪
শান্তনু দে
ঠিকই, এক পা এগোনো গিয়েছে। খানিক স্বস্তি। কিন্তু রয়ে গিয়েছে বিপদ। মোদীর অশ্বমেধের ঘোড়ায় ধাক্কা দেওয়া গিয়েছে। লাগাম পরানো যায়নি। হিন্দুত্ব-কর্পোরেট আঁতাত কিছুটা পিছু হটলেও, অচিরেই নিজেদের পুনর্সংগঠিত করবে। পুঁজিবাদ পালন করবে তার ভূমিকা। নেবে শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। যেমন টেক-গুরু চন্দ্রবাবু আসতেই শেয়ার বাজার ফিরেছে নিজের ছন্দে। শেয়ার বাজার মানে লগ্নী পুঁজির প্রত্যাশার সূচক। সেকারণে কোনও মোহ নয়। জারি রাখতে হবে লড়াই। ভোট পণ্ডিতদের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট আন্তর্জাতিক লগ্নী পুঁজি। দুর্বল বিজেপি এবং নীতিশ-নাইডুর সমর্থনে এনডিএ’র প্রতি লগ্নী পুঁজি হবে আরও আগ্রাসী। ভারতীয় সংস্থার সিইও-রা যেমন চেয়েছে। নতুন সরকার জারি রাখুক তার অর্থনৈতিক সংস্কার, যে নীতি নিয়ে চলছে, থাকুক তার ধারাবাহিকতা। এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ভারতের শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলন। পুঁজির আধিপত্যের মোকাবিলায় আরও প্রত্যয় নিয়ে চালিয়ে যেতে হবে জঙ্গী সংগ্রাম। ...more
০৯-জুন-২০২৪
সীমা চিস্তি
বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদীর জয়ের ব্যবধান (১,৫২,৫১৩) রাহুল গান্ধীর রায়বেরিলির জয়ের ব্যবধানের (৩,৯০,০৩০) অর্ধেক। এটা এমনকী স্মৃতি ইরানীর হাত থেকে আমেথি পুনরুদ্ধারে কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরী লাল শর্মার চেয়েও কম। শর্মা জিতেছেন ১,৬৭,১৯৬ ভোটের ব্যবধানে। মনোনয়নপত্র পেশ করার সময়ে গঙ্গাবক্ষে মোদী দাবি করেছিলেন তিনি ঈশ্বরপ্রেরিত। তার জয়ের ব্যবধানের এই শোচনীয় হ্রাস ঈশ্বরপ্রেরিতের ধারণারও অবসান ঘটাবে আশা করা যায়।
...more০৬-জুন-২০২৪
রতন খাসনবিশ
যেভাবে মোদীর পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, যেভাবে ধান্দাবাজ স্থানীয় নেতারা হিন্দুত্বের একটি দিদি-উদ্ভাবিত ভাষ্য দিয়ে মোদী বিরোধিতার অক্ষম চেষ্টা করছেন, তাতে মনে হয় এই রাজনীতির দিন ফুরিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে আসছে এক পালটা রাজনীতির ঢেউ, বামপন্থীদের অ্যাজেন্ডা যেখানে প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। সারা ভারতের রাজনীতিও একটি পরিবর্তনের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। ...more
৩১-মে-২০২৪
রতন খাসনবিশ
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠা লালঝাণ্ডার মিছিল আসলে এই ন্যারেটিভ বা ভাষ্যকেই ভাঙতে চায়। এই ন্যারেটিভ-কে না ভাঙলে পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও সুস্থ রাজনীতি করা যাবে না, এটা বোঝা দরকার। এই ন্যারেটিভ ভাঙার জন্য মোদী-মমতার দ্বিমেরু রাজনীতি বর্জন করার স্পর্ধা দেখানোর দরকার ছিল। দীর্ঘতর হয়ে ওঠা লালঝাণ্ডার মিছিল ইঙ্গিত রাখছে, বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই ন্যারেটিভ থেকে মুক্তি চান। পঞ্চায়েত, পৌরসভার ভোট থেকেই বোঝা যাচ্ছিল বিকল্প ন্যারেটিভের চিন্তা শ্রমজীবী মানুষের মনে ক্রমশ তার জায়গা করে নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পাঁচ দফা নির্বাচনে যেভাবে মানুষ ভোটযন্ত্রের ওপর লুম্পেনের অধিকার আটকে দিতে সক্ষম হয়েছেন, তাতে বোঝা যায় দ্বিমেরু রাজনীতির ন্যারেটিভ এরাজ্যে ক্রমশ তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ তার প্রকৃত নায়ক-নায়িকার উপস্থিতির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ...more
২৩-মে-২০২৪
সীতারাম ইয়েচুরি
চার-দফা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। আজ পঞ্চম-দফা ভোটের পথে দেশ। নির্বাচনী প্রচারে মোদী ও বিজেপি প্রতিদিনের জীবন-জীবিকার ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে কাজে তাদের সাফল্য মিলছে না। বলছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। আরও বলেছেন, ভোটদাতারা এখন কথা বলছেন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। প্রতিদিনের সমস্যাগুলি নিয়ে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে স্রেফ টিঁকে থাকার জন্যই ৯০ শতাংশ মানুষকে ধার করতে হচ্ছে। গত শতকের নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে কোয়ালিশন বা জোট গঠনের কাজে একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। চার-দফা ভোটের পর এবারের লোকসভা নির্বাচন সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ণ এক সাক্ষাৎকারে দ্য হিন্দু পত্রিকাকে জানিয়েছেন ইয়েচুরি। ...more
২০-মে-২০২৪
বাদল সরোজ
আম্বেদকর আর.এস.এস এবং তার মনুবাদী হিন্দুরাষ্ট্রের বিরোধী ছিলেন। রিডলস অফ হিন্দুইজম সহ অন্যান্য বইয়ে তিনি বর্ণাশ্রম জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা করেছেন। ‘আমি হিন্দু হয়ে জন্মেছি কিন্তু হিন্দু হয়ে মরবো না’ এই বলে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণকারী জনপ্রিয় জননেতা আম্বেদকর তো তাদের চক্ষুশূল হবেই। তা সত্ত্বেও তাদের নেতা, আম্বেদকরকে প্রকাশ্যে অপমান করার সাহস পায় না। তাই এভাবেই জনগণকে ভোলাতে আম্বেদকরের মুখোশ লাগিয়ে, মুখে তার নাম করে হাতে মনুর ত্রিশূল নিয়ে ধ্বংসাত্মক খেলায় নেমেছে। এই লোকসভা ভোটে বিভেদ এবং হিংসাই এদের অস্ত্র। একদিকে টিস, মুম্বই, ওয়ার্ধা এবং লখনৌতে মনুর ত্রিশূল লীলা চালু রয়েছে— অন্যদিকে মোদী যেই বুঝেছে পাত্তাড়ি গোটানোর সময় এসেছে ততই মুখে আম্বেদকরের দোহাই দিয়ে চলেছে। নিন্দাজনকভাবে আম্বেদকরকে ব্যবহার করে ধর্ম এবং জাতি ভেদের খেলায় নেমেছে, ভোট পেতে। ...more
১৯-মে-২০২৪
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
সিএএ আসতেই মমতা ২০০৩ সালের অবস্থান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেলেন। সেই সময়ে বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বাংলাদেশীতে ভরে গেছে। সিএএ আসার পর বলেছেন ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা সবাই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক। যতক্ষণ জীবিত আছি ততক্ষণ সিএএ হতে দেব না। অতি সম্প্রতি আবার ভোলবদল। শর্ত তুলে নিলেই সিএএ-কে সমর্থনের কথা। শর্ত তুলে নেওয়ার কথার কি আদৌ কোনো অর্থ হয়? সোজা উত্তর, অর্থ হয় না। ...more
১৭-মে-২০২৪
সুচিক্কণ দাস
নির্বাচন চলাকালীন সময়েই হঠাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অধীনে থাকা অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ। একে গণতন্ত্রের জন্যে গৌরবের বলেছে নীতি আয়োগের মুখপাত্র। যদিও দেশের মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার হিন্দুদের চেয়ে বেশি এই তথ্যটি দিয়ে নীতি আয়োগ বোঝাতে চেয়েছে ভারতে গণতন্ত্র কতটা সুপ্রতিষ্ঠিত। সরকারি প্রতিবেদনে যাকে দেশের গণতন্ত্রের গৌরব বলে তুলে ধরা হয়েছে, সেটাকেই নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরা হচ্ছে দেশের জন্যে আতঙ্কের বিষয় বলে। অথচ এটা স্পষ্ট যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের হ্রাস বৃদ্ধির সাথে ধর্ম বা জাতির কোনো সম্পর্ক নেই। নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে শিক্ষার। সেজন্যেই উন্নত শিক্ষার হার থাকা কেরলের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা বিহারের হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
কেন কেন্দ্র ও বিজেপির এই দ্বিচারিতা? দিগন্তে পরাজয়ের কালো মেঘ ক্রমে ঘনাচ্ছে। সেটাই কি?
...more
১৩-মে-২০২৪
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
২০১৬ সালে দ্য ওয়ার পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে গোবিন্দাচার্য বলেন, আমাদের সংবিধানের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সংরক্ষণ হয়ত কিছুটা সহায়তা করে এবং তার চেয়েও বেশি ‘আবেগের’ দিক থেকে গুরুত্বও রয়েছে, তবু আমাদের আলোচনা করা উচিত অন্য আর কী করা যায়। আমাদের সংবিধান অত্যন্ত অস্পষ্ট, অনির্দিষ্ট এবং প্রকৃতপক্ষে হবস, লক ও কান্টের মত পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের অনুকরণে তৈরি। এর সবটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং শুধু বাহ্যিক উন্নতির কথা ভেবে তৈরি। আমাদের সভ্যতা ৪০০০-৫০০০ বছরের পুরোনো। সেজন্যেই নতুন সংবিধান প্রয়োজন। ...more
১০-মে-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
অর্থ দপ্তরের প্রধান উপদেষ্টা যখন ভরা সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, বেকারত্ব দূর করার জন্য সরকার কিছু করতে পারবে না, তখন বোঝা যায় কেইন্সীয় মতবাদের গঙ্গাযাত্রা ঘটেছে। এখন থেকে বল্গাহীন পুঁজিবাদ আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে, রাজনীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তার ফলে যদি লাখ লাখ যুবক বেকারত্বের জ্বালায় ধুঁকতে থাকে, তবে তাই হোক। নয়া উদারবাদের স্পর্ধা এতটাই সীমাহীন যে তাদের জমানায় যে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকারত্বের দুর্দশায় পতিত হচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু করার ভনিতাটুকুও তাদের নেই। ...more
০৪-মে-২০২৪
সুকুমার পাইন
আমরা চাই একজনও অযোগ্য শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী যাতে চাকরি ফেরত না পান। আবার আইনি জটিলতায় একজন যোগ্য-ও যেন কর্মহীন না হন।
...more০২-মে-২০২৪
সীতারাম ইয়েচুরি
মোদী জমানায় সংবিধানের চারটি বুনিয়াদি স্তম্ভকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেই চারটি স্তম্ভ হল ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সামাজিক ন্যায়। সাধারণতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক চরিত্রকে বদলে দিয়ে এই দেশকে তীব্রভাবে অসহিষ্ণু, ঘৃণা ও হিংসাভিত্তিক স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী ধরনের হিন্দুত্ব রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। বিজেপির সেই প্রয়াসের বিরুদ্ধেই এই নির্বাচন। ভোট পর্ব শুরুর ঠিক আগে ফ্রন্টলাইন পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন সিপিআই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ...more
২৮-এপ্রিল-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
দেশে এমন ৪১টি আসন রয়েছে, যেখানে সমর্থনের হার দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। এতে যেমন রয়েছে মেঘালয়ের তুরা (৫.৪৩ শতাংশ), শিলং (৯.৭৮ শতাংশ), কিংবা সিকিম (৪.৬৯ শতাংশ), তেমনই রয়েছে কেরালার কান্নুর (৬.৫ শতাংশ), মালাপ্পুরম (৭.৯৬ শতাংশ), অথবা তেলেঙ্গানার খাম্মাম (১.৮ শতাংশ)। ...more
১৯-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
সিএসডিএস-লোকনীতি বা মোতিলাল অসওয়ালের মতো রেটিং সংস্থার সমীক্ষায় যে ছবি উঠে এসেছে সেটাই ভারতবর্ষের আসল চেহারা। দরিদ্র, অভুক্ত, নিরন্ন, কর্মহীন, আশা-আকাঙ্ক্ষাহীন, মলিন এক ভারতবর্ষ। গ্রীষ্মের খর তাপে দগ্ধ, নিঃশেষিত প্রাণ। শ্রমিকের কাজ নেই, মজুরি নেই, সম্মান নেই, টিকে থাকার আশা নেই। কৃষকের ফসলের দাম নেই, দেনার দায়ে বাড়ছে আত্মহত্যা। নারীর সম্মান ধূলায় লুণ্ঠিত। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে ভিজে গেছে দেশের মাটি। ভারতবর্ষ আজ এমনই দুঃসহ এক দিনাতিপাত করছে সঙ্কট জর্জর অবস্থায়। আর সেই দেশের মাথায় এক শাসক বসে, দেশি বিদেশি পুঁজির তল্পিবাহক হয়ে, কতগুলো মিথ্যাস্বপ্নের জাল বুনে, রূপকথার সেই গ্রিক অ্যাথলিটের মতো দাবি করছেন, ‘এই তো রোডস, এখানে লাফ দাও।’ এর মানে, এমন একটা পরিস্থিতি আমি তৈরি করে দিয়েছি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই। ...more
১৭-এপ্রিল-২০২৪
রতন খাসনবিশ
রাজনীতিকে ধর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে হবে, অর্থনীতিকে মুক্ত করতে হবে নয়া উদারবাদী বন্ধন থেকে। এবিষয়ে স্পষ্ট দিশা দেখাবার ক্ষমতা যাদের আছে তারা হলেন ভারতের বামপন্থী চিন্তাধারার রাজনীতিবিদরা। রাজনৈতিক দিশা গঠনে তাঁদের অসীম ক্ষমতা রয়েছে। ভারতীয় বাস্তবতার এই দিকটি উপলব্ধিতে আনতে হবে যে, বামপন্থাকে বর্জন করে এই সঙ্কটজর্জর ভারতবর্ষকে একটি সঠিক দিশায় পুনর্গঠিত করা একেবারেই অসম্ভব। যাঁরা বলেন ভারতবর্ষে বামপন্থার কোনও ভবিষ্যৎ নেই তাঁদের বুঝতে হবে যে, বামপন্থাহীন ভারতবর্ষেরও কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৪
আসিফ ইকবাল
একুশ শতকের গোড়ায় ভারত দেখে নির্বাচনে গণহারে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। ২০১৪, ভারতে প্রথম সমাজমাধ্যম-নির্বাচন। বলা যেতে পারে ফেসবুক-নির্বাচন। তরুণ প্রজন্মকে ধরতে বিজেপি ফেসবুক, টুইটার-কে (তখনও এক্স হয়নি) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। ২০১৯, প্রথম হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন। রাজদীপ সারদেশাই তাঁর বই ‘২০১৯: হাউ মোদী ওন ইন্ডিয়া’তে লিখছেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক প্রচারের আদর্শ পাইপলাইন’। আর ২০২৪-এ হতে চলেছে প্রথম এআই নির্বাচন। ...more
১০-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
প্রায় এক কোটি কর্মী যারা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা তাদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। কারণ সেই স্বীকৃতি দিলে শ্রম আইনের আওতায় সুযোগ-সুবিধাও দিতে হবে! এর মধ্যে বেশির ভাগই কাজ করেন আইসিডিএস (অঙ্গনওয়াড়ি), এম এইচ এম (আশা) এবং মিড ডে মিল ইত্যাদির মত বিভিন্ন প্রকল্পে। এদের পারিশ্রমিক (বেতন নয়, রেমুনারেশন) ২০১৮ সাল থেকে সরকার আর বাড়ায়নি! ...more
০৯-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
মোদীর আমলে কৃষিখাতে সরকারি বরাদ্দ কমেছে। কৃষিকাজে গড় বার্ষিক মজুরিবৃদ্ধির হার ১২.৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪.৮ শতাংশ। এমএসপি দাবি করায় আক্রমণের শিকার হয়েছেন কৃষকেরা। ২০১৪- ২০২০র মধ্যে সংগঠিত শিল্প শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি একই জায়গায় আটকে রয়েছে। অক্সফ্যাম ইন্ডিয়া সাপলিমেন্ট ২০২২ রিপোর্ট দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভারতের ৮৪ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে এবং তাঁদের জীবনজীবিকার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এটাই মোদীর আমলের বাস্তবতা। ...more
০৮-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
চারটি শ্রম কোড হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমজীবী জনগণের ওপর দাসত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার একেবারে শয়তানি প্রকল্প। শ্রম কোডগুলির আরও লক্ষ্য হল শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলি খর্ব করা। মোদির শাসনের আসল লক্ষ্য হল সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের ওপর সংগঠিত হামলা নামিয়ে আনা। শ্রম কোড মারফৎ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হামলা তারই সূচনা মাত্র। শ্রম আইনকে কোডে আবদ্ধ করে সেই হাতিয়ারের সাহায্যে মোদী ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনে এই অধিকারকে নিকেশ করতে চাইছেন। এর পিছনে রয়েছে নিখাদ শ্রেণি প্রতিহিংসার মনোভাব। ...more
০৭-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
শুরুর দিকে মোদি সরকার জনগণের মধ্যে মহামারী সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা গড়ে তোলার বদলে থালা-বাজানো, আলো জ্বালানো-বন্ধ করা ইত্যাদির মতো সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক কাজ-কর্মে জনসাধারণকে উৎসাহিত করেছিল। সরকার কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করতে পারেনি। যার ফলে অক্সিজেন ও হাসপাতালে বেডের অভাবে মৃত্যুমুখে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। আমরা এখনও ভুলতে পারিনি সেই দৃশ্যগুলো.. ...more
০৬-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
তাছাড়া খাবার মানে তো কেবল ভাত আর গম নয়। ক্রিসিল-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২৩ সালের অগাস্টে একটা নিরামিষ থালির দাম ছিল ৩৩.৮ টাকা আর আমিষ থালি ৬৭.৩ টাকা। তার মানে একটা লোকের দু-বেলা দু থালা নিরামিষ খাবারের জন্য মাসে খরচ হবে ২০২৮ টাকা। ইউএনডিপি-র আয়ের হিসাব অনুযায়ী এটা স্পষ্ট যে, আমাদের দেশের ২৩ কোটিরও বেশি মানুষের এই সামর্থ নেই যে তাঁরা দিনে দু-বার করে খেতে পারবেন। বেঁচে থাকার জন্য অন্য যা যা মৌলিক চাহিদা থাকে সেগুলি বাদই দেওয়া যাক। ২০২৩-এর অক্সফ্যাম ইন্ডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেক বছর এ দেশে ১৭ লক্ষ মানুষ ভাল করে খেতে পান না বলে নানান অসুখে ভুগে মারা যান। ...more
০৫-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
মোদী সরকার ঘোষণা করেছিল যে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে না পারায়, প্রকল্পটির সময় ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যদিও, সময় বাড়ানো হলেও, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত, শহরাঞ্চলের মধ্যে মাত্র ৩২ লক্ষ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ১২ লক্ষ। প্রায় ৬০ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরও লক্ষনীয় হলো, এই প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও, ২০২৩-২৪-এর জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার শহরাঞ্চলের বাজেট তার আগের বছরের থেকে ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই অধিকাংশ মানুষের এখনও মাথার উপরে পাকা ছাদ নেই। ...more
০৪-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলিতে মোট কর্মচারীর সংখ্যা ২০১৩ সালের মার্চ মাসের ১৭.৩ লক্ষ থেকে ২০২২ সালের মার্চ মাসে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ১৪.৬ লক্ষ। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩-এর মধ্যে নিযুক্তি হ্রাস পেয়েছে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রায় ১২%, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ব্যাঙ্কে ১৮% এবং কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরে ৫%। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলিতে চুক্তিভিত্তিক এবং ঠিকে মজুরের সংখ্যা ২০১৪ থেকে ২০২৩-এ ২০.১% থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩.৪%। ...more
০৩-এপ্রিল-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
দশ বছর আগে মধ্যপ্রদেশের ভানুপ্রতাপপুরে নির্বাচনী সভায় ‘মোদীর গ্যারান্টি’ ছিল ক্ষমতায় আসার একশো দিনের মধ্যে এক ঝটকায় বিদেশে সঞ্চিত সমস্ত কালো টাকা উদ্ধার করবেন। যে পরিমাণ কালো টাকা বিদেশে জমা আছে, তা উদ্ধার করার পর দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে ১৫ লক্ষ টাকা। এখন নিতীন গড়করি, অমিত শাহরা কী বলছেন? গড়করির অকপট ভাষ্য, ‘আমরা তো নিশ্চিত ছিলাম, আমরা আসব না। তাই কয়েকজন বলল বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিতে। এখন ওসব শুনলে আমরা হেসে এড়িয়ে যাই।’ অমিত শাহ বলেছেন, ‘ওইসব ভোট প্রচারে নিছক জুমলা!’ এটাই মোদির আসল গ্যারান্টি। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এনরেগা প্রকল্পকে হত্যা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার সবচেয়ে বেশি কৃষক-বিরোধী, কৃষি-বিরোধী এবং কর্পোরেট তোষণকারী সরকার। স্বাধীনতার পর থেকে এমন একটা সরকার ভারত কখনও দেখেনি। সে কারণেই এই সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগ্রাম এত গভীর ও তীব্র আকার ধারণ করেছিল।
...more০১-এপ্রিল-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
বামপন্থীরা মানে, একশ দিনের কাজ জোর করে আদায়। দয়ার দান নয়। আইনি অধিকার। প্রস্তাবিত আইনে ছিল কাজ পাবেন শুধু দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা মানুষ। বামপন্থীদের চাপে শেষে সংশোধন। সবার জন্য কাজের আইন। শুরুতে চাপ ছিল হোক পাইলট প্রজেক্ট। বামপন্থীদের চাপে শেষে গোটা গ্রাম-ভারতে। বামপন্থীদের দাবি ছিল গ্রামের সঙ্গে শহরের গরিব মানুষের জন্যও চাই একই প্রকল্প। ...more
৩১-মার্চ-২০২৪
সুদীপ্ত বসু
আর সেই ডিয়ার লটারির ‘সোল ডিস্ট্রিবিউটার’ ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড। ‘কিং অব লটারি’ বলে পরিচিত স্যান্টিয়াগো মার্টিনের এই সংস্থাটি কিনেছে গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার বন্ড। পরিমান ১৩৬৮ কোটি টাকা। সেই টাকার ৩৯.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৪২ কোটি টাকা একাই পেয়েছে মমতা ব্যানার্জির দল। নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে এই কোম্পানির কাছ থেকেই সর্বোচ্চ টাকা পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপিকে এই কোম্পানি নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে ১০০ কোটি। ...more
২৭-মার্চ-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক গঠবন্ধনের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সরকার তাদের শ্রমিক বিরোধী ও জনবিরোধী নীতিগুলি বদলাতে অস্বীকার করেছে। যদি শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হয় তাহলে নয়া উদারবাদী নীতি সমূহের পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং তা একমাত্র অর্জন করা যেতে পারে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামগুলিকে আরও তীব্র করে। সেকারণে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তোলার পূর্বশর্তই হল বিজেপিকে পরাস্ত করা। ...more
২৫-মার্চ-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
নির্বাচনী বন্ডের দুর্নীতি সামনে আসার পরে সরাসরি তার সমর্থনে দাঁড়িয়েছে আরএসএস। তিনদিনের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার শেষে সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবালের দাবি, ‘নির্বাচনী বন্ড একটি পরীক্ষা। সময়ই বলে দেবে এটা কতটা উপরকারী ও কার্যকর হয়েছে। তাছাড়া কোনও কিছু নতুন করে শুরু করলেই প্রশ্ন ওঠে। যখন ইভিএম আনা হয়, তখনও এই ধরনের কথা উঠেছিল।’ ...more
২৪-মার্চ-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধন একটা মোড় ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই অনুষ্ঠান করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় মদতে। এখানে প্রধান পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আসলে এই ঘটনা হল রাষ্ট্র এবং ধর্মের একীকরণ বা রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দেওয়া। বিজেপি-আরএসএস এর নববিধানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতিমালার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ নেমে আসছে। মতাদর্শগত, প্রশাসনিক এবং সাংবিধানিক পরিসর — সর্বত্র একটাই লক্ষ্য অনুসরণ করা হচ্ছে এবং তা হল ভারতীয় রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংস করা। ...more
১৮-মার্চ-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ, যিনি নির্বাচনী বন্ড চালু করার সময় তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, সেই তিনি বলেছিলেন: সুপ্রিম কোর্ট যেসব তথ্য চেয়েছে, তার জন্য স্টেট ব্যাঙ্কের ‘একদিনের বেশি সময় লাগার কথা নয়’। তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট, এই তথ্য সহজলভ্য। মাউসে একটা ক্লিক-ই যথেষ্ট। স্টেট ব্যাঙ্ক হয় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা করছে, নতুবা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার জন্য ছ’টি তথ্যের চরিত্র বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই ছ’টি তথ্য হলো: কে বন্ড কিনেছে, কত তারিখে কিনেছে, অর্থের অঙ্ক কত, কোন্ দল তা পেয়েছে, কখন তারা সেগুলি ভাঙিয়েছে এবং তার পরিমাণই বা কত। ...more
১৩-মার্চ-২০২৪
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ এবং গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে তোলার শিকড় রয়েছে হিন্দুত্ব-কর্পোরেট জোটের মধ্যে। নয়া উদারবাদী নীতি আরও বেশি কার্যকর করা এবং সমাজের ওপর হিন্দুত্বের মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়া — এই দুই তাগিদ থেকেই দরকার হয়ে পড়ে একেবারে উচ্চমাত্রার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের। মোদী সরকারই হল হিন্দুত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দৃষ্টান্তস্বরূপ। এই জমানা গণতন্ত্রের পক্ষে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে ধারাবাহিক এবং সম্ভাব্য আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ। ...more
১১-মার্চ-২০২৪
রতন খাসনবিশ
ইন্ডিয়া টুডে-র ‘মুড অফ দ্য নেশন’ সমীক্ষায় বর্তমান সমাজ নিয়ে উদ্বেগ যাদের উত্তরে ধরা পড়েছে, হেজিমনি গড়ার লড়াইয়ে তাঁরা কতটা এগিয়ে আসবেন সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পাটনার গান্ধী ময়দান ছাপিয়ে যাওয়া মানুষের ভিড় আর লোহিয়ার উত্তরপুরুষ অখিলেশ যাদবের আঞ্চলিক সভাগুলিতে বিপুল জনসমাবেশ প্রমাণ করছে পালটা হেজিমনি গড়ার যুদ্ধ উত্তর ভারতে ভালরকমই জারি আছে। ২০১৫ সালে এনডিএ-কে বিহার নির্বাচনে হারিয়েছিল এই পালটা কোয়ালিশন। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার নির্বাচনেও এনডিএ বুঝতে বাধ্য হয়েছে, আরেকটা হেজিমনি তৈরির লড়াইও ভারতে জারি আছে।
...more১০-মার্চ-২০২৪
সাত্যকি রায়
নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপি আসলে অস্বচ্ছতার ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে চেয়েছিল যা তাদেরকে পুঁজিপতিদের থেকে রসদ সংগ্রহ করার একচেটিয়া অধিকার এনে দেবে। যে পুঁজিপতিরা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সাহায্য করেছে তাদেরকে প্রকারান্তরে নানা অসুবিধায় ফেলার মধ্যে দিয়ে এটা বুঝিয়ে দেওয়া সহজ হবে যে কাদের ঘরে টাকা জমা পড়লেই তারা একমাত্র শান্তিতে কাজ করবার চালাতে পারবে। এরকম একটি ব্যবস্থাপনা আসলে রাষ্ট্র ও পুঁজিপতি শ্রেণির মধ্যেকার সম্পর্ককে এতটাই নগ্ন করে তোলে যা প্রকারান্তরে পুঁজিবাদি রাষ্ট্রের আধিপত্যের গ্রহণযোগ্যতাকেই ভঙ্গুর করে তোলার বিপদ তৈরি করতে পারে।
...more০৬-মার্চ-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
সেদিন গোটা দেশের শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসেছিলেন হাসানরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছিলেন এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে। ‘উত্তরকাশীতে আমাদের শ্রমিক ভাইদের উদ্ধার অভিযানের সাফল্য সবাইকে আবেগাপ্লুত করছে।’ একদিনের জন্য ‘ন্যাশনাল হিরো’ ছিলেন হাসানরা। ...more
০১-মার্চ-২০২৪
কুমার রাণা, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, অনিতা অগ্নিহোত্রী
কিন্তু উন্নয়নকে কীভাবে দেখব... এইখানে তো সদর্থে বামপন্থী রাজনীতির একটা মস্ত বড় ভূমিকা আছে। বস্তুত বামপন্থী রাজনীতি ছাড়া এইটা আর কেউ করবে না। একদল তাদের শাসকের জায়গায় থেকে কীভাবে এই ব্যবস্থাটাকে লালন করে যাওয়া যায় তার জন্য লড়ছে। আর, পশ্চিমবঙ্গে সংসদীয় প্রধান বিরোধী দল যারা, তাদের রাজনীতিতে তো এই কথাগুলোই কখনও উঠবে না। তাদের রাজনীতি তো অন্য রাজনীতি। সেটা তো সমস্ত পরিচয়কে ধর্মীয় পরিচয়ের খোপে রেখে কীভাবে ভাগটা করা যায়... * ...more
২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
রতন খাসনবিশ
বাম আমলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ মারফৎ রাষ্ট্রকে যে অন্য ভাষায় কথা বলতে শেখানো হয়েছিল, ২০১১র প্রতিবিপ্লব সেটিকে সর্বপ্রথম সংশোধন করে নেয়। প্রতিবিপ্লব ঠিক করে দেয় যে, রাষ্ট্র কথা বলবে ডিজি, আইজির ভাষায়। নির্বাচিত সরকার বলতে বোঝাবে সর্বক্ষমতাসম্পন্না এক রাজনৈতিক নেত্রী। কিছু আঞ্চলিক মাফিয়া আর পর্দার আড়ালে থাকা রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তাদের ক্রমাগত ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করেছে এই প্রতিবিপ্লব।
...more১৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
পার্থিব বসু
উচ্চশিক্ষায় নয়া উদার অর্থনীতির বেপরোয়া যাত্রায় সাম্প্রতিকতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মোদি সরকারের নয়া শিক্ষা নীতি। উচ্চশিক্ষাকে বাজারি ব্যক্তি পণ্যে পরিণত করার যে যজ্ঞ শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের গোড়ায়, সে কাজের বাকিটুকু শেষ করার লক্ষ্যে নয়া শিক্ষা নীতি এই সরকারের আর এক সার্জিকাল স্ট্রাইক। গোদের ওপর বিষফোঁড়া, এই সরকারের সর্বক্ষেত্রে গৈরিকীকরণের কেন্দ্রীয় অ্যাজেন্ডা। ...more
১৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
জগমতী সাংওয়ান, ইন্দ্রজিৎ সিং
আশ্চর্যজনক নয় যে, উক্ত তিন কুস্তিগীর এবং যারা তাদের সংগ্রামকে সমর্থন করেছিল তারা নিজেদেরকে চরম প্রতারিত মনে করেছে। বৃজভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের শালীনতাকে ক্ষুব্ধ করার অপরাধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু পকসো আইনের অধীনে তার গ্রেপ্তারি এড়াতে নাবালক অভিযোগকারীনীকে অভিযোগ জমা না-দেওয়া এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য প্রভাবিত করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল চার্জশিট দাখিল করার আগে। ...more
০২-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
সৌভিক ঘোষ
তবে কি আমাদের হাতে শুধুই পেনসিল রয়ে যাবে? না, আমাদেরও হাতিয়ার রয়েছে, আর তাকেই আমরা লেনিন বলে চিনি। তাই বারে বারে মনে রাখি প্রথাসম্মত বুদ্ধিজীবীতার ঝনঝনে মেধাসমৃদ্ধ ঢাকে বেজে ওঠা ফাঁপা আওয়াজের বিরুদ্ধে যে বিবমিষাকে আন্তনিও গ্রামশি’র উত্তরাধিকার বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেসব আমরা যার লেখা পড়ে শিখেছি তিনিই ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ, লেনিন। নাঝেদজা ক্রুপস্কায়া’র লেখায় (রেমিনিসেন্সেস অফ লেনিন) পাওয়া যায় কিংবা ‘এক পা আগে দুই পা পিছে’তে লেনিন নিজেই সেকথা লিখেছিলেন। পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এমনও কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন যারা রাশিয়ার বাইরের মানুষ, বিপ্লববাদে বিশ্বাসী, মার্কসপন্থী হিসাবে নিজেদের জাহির করতে ভালবাসেন। ...more
২৫-জানুয়ারি-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
ধর্ম এবং রাজনীতি দু’টি পৃথক সত্তা। যারা সেই সীমারেখাটি মুছে দিতে চায়, রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দিতে চায়, তারা ধর্মকে শুধু ব্যবহার করে চলেছে নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে। রামমন্দিরের উদ্বোধন সেকারণে আদ্যন্ত একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম। এই ভারত, নতুন ভারত নয়। কোনওভাবেই নয়। ...more
২২-জানুয়ারি-২০২৪
রাম পুনিয়ানি
বিজেপি যত বেশি করে নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠল ততই নিয়মিতভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা বাড়তে শুরু করল, মুসলিম কমিউনিটিগুলিকে এক একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে ফেলা হল এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হল। আরএসএসের এই সম্মিলিত সাফল্যের উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ সংগৃহীত হল। আপাতত একটি বিশাল বড় মন্দির নির্মিত হয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। হিন্দু আচার ও রীতিনীতি মেনে তার উদ্বোধন করবেন এদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। ...more
১৮-জানুয়ারি-২০২৪
সায়ন্তন সেন
বহমান কেন? কবিতা কি স্রোতের মতো? কথার-পিঠে-কথার মতো? প্যালেস্তাইনের কবিতা-ই সে কথা বলবে। পাঠকের চোখ এড়াবে না, এই সংকলনে সন্নিবিষ্ট ‘পরিচয়পত্র'নাম্নী দুইটি কবিতা— ...more
১৪-জানুয়ারি-২০২৪
টিম মার্কসবাদী পথ
ভারতীয় রাষ্ট্র দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বি-ধর্মনিরপেক্ষকরণের দিকে। অতীতের হিন্দু উপাসনাস্থল পুনরাবিষ্কারের হিড়িক। ‘হিন্দু’ অতীত পুনরুদ্ধারের জোয়ার। অতীত খুঁড়ে হিন্দু রাজত্বের অস্তিত্ব স্থাপনের নতুন চেষ্টা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় যারা স্লোগান দিয়েছিল– ‘ইয়ে তো আভি ঝাঁকি হ্যায়, কাশী মথুরা বাকি হ্যায়’– তা যে নিছক জোশ বাড়ানোর কথা ছিল না, এখন তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ...more
৩১-ডিসেম্বর-২০২৩
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
নতুন বছর আসে নতুন আশা নিয়ে। মনে করা হয় যে দিন বদলাবে। কিন্তু বদলায় না; এবং বদলায় না যে সেই পুরাতন ও একঘেঁয়ে কাহিনিই নতুন করে বলতে হয়। না-বদলাবার কারণ একটি ব্যাধি, যার দ্বারা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র আক্রান্ত। ব্যাধিটির নাম পুঁজিবাদ। এই ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য আমাদের চেষ্টার অবধি নেই। ...more
২৯-ডিসেম্বর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরেই ইজরায়েলের কমিউনিস্ট পার্টি এবং হাদাস এক যৌথ বিবেতিতে বলে, আজ ‘এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির তৈরির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী নেতানিয়াহুর ফ্যাসিস্ত সরকার।’ যোগ করে, ‘ফ্যাসিস্ত দক্ষিণপন্থী সরকার দখলদারিকে চিরস্থায়ী করার জন্য পরিস্থিতিকে যে আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এমনকি এই কঠিন সময়েও আমরা নিরপরাধ সাধারণ মানুষের উপর যে কোনও ক্ষয়ক্ষতিকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। ...more
১৬-ডিসেম্বর-২০২৩
বিজয় প্রসাদ
আমার নীতি খুবই সহজ। জর্ডন নদীর দু’পার ও ভূমধ্য সাগরের দু’তীরের সহ পৃথিবীর আমার সব ভাইবোনদের জন্যে আমি ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন চাই। সর্বজনীন মানবাধিকারের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নেও আমি সর্বজনীন। এটা ইহুদি বিদ্বেষ নয় কোনোমতেই। সকল চেহারার বর্ণবিদ্বেষের মত ইহুদি বিদ্বেষও ঘৃণ্য বর্ণবাদ, যা আমি দৃঢ়তার সাথে খণ্ডন করি। ...more
১০-ডিসেম্বর-২০২৩
অর্ক ভাদুড়ি
প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলের গণহত্যার পক্ষে একযোগে দাঁড়িয়েছে গোটা ব্রিটিশ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ঋষি সুনক থেকে কের স্টামার- সকলে। অন্যদিকে প্যালেস্টাইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ শ্রমিক, অভিবাসী, বামপন্থী, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, যুদ্ধ বিরোধী অ্যাক্টিভিস্টরা। গত দু'মাসে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন জেরেমি করবিন সহ বামপন্থীরা। প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে কমিউনিস্ট পার্টি সহ প্রগতিশীল শক্তিগুলি। বস্তুত চলমান আন্দোলনের মস্তিষ্ক হিসাবে কাজ করছে এই বামপন্থী কোর (core)। কীভাবে আন্দোলন চলবে, কর্মসূচি কী নেওয়া হবে- সবকিছুতেই এই অংশটির ভূমিকা বিরাট। ...more
০৭-ডিসেম্বর-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
অন্যায়কারীর প্রতি দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদ এবং দক্ষিণপন্থী শাসকদলগুলি যে চরম সুবিধাবাদী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, গাজার জনগণের ওপরে ইজরায়েলের নিরন্তর নিষ্ঠুর হত্যালীলার ক্ষেত্রেও সেই একই অবস্থান গ্রহণ করেছে—প্যালেস্তাইনী জনগণের পক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। তবু দেশে দেশে ইজরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে ফেটে পড়া সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কোনো নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ...more
০২-ডিসেম্বর-২০২৩
বিজয় প্রসাদ
আমেরিকা যুদ্ধবিরতি এবং ইউএন প্রস্তাবিত রাজনৈতিক আলোচনা দুটো বিষয়কেই অগ্রাহ্য করছে। সেটা কেবল প্যালেস্তাইনের ক্ষেত্রেই করছে এমনটা নয়; আমেরিকা এবং তার সঙ্গে ন্যাটোর অন্যান্য সহযোগী সদস্যরা ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও এই একই নীতি অবলম্বন করেছিল। নতুন করে মোট ১০৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিলের ৬১.৪ বিলিয়ন ধার্য হয়েছে ইউক্রেনের জন্য এবং ১৪.১ বিলিয়ন বরাদ্দ প্যালেস্টাইনে ইজরায়েল পরিচালিত গণহত্যার জন্য। ...more
২৬-নভেম্বর-২০২৩
আর কারুমালাইয়ান
মোদি সরকার কর্মঘন্টার লাগামছাড়া দীর্ঘায়নকে বৈধ করে দাসপ্রথার মতো এক ব্যবস্থাকে টিঁকিয়ে রেখেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি শ্রম কোড বিলে আইনত সর্বোচ্চ কর্মঘন্টায় সীমা টানার মতো কিছুই ছিল না। এমনকী এই কোডগুলি প্রথম আইএলও কনভেনশন ০১ অনুযায়ী ধার্য বাধ্যতামূলক দৈনিক আট ঘন্টা কাজের মতো বুনিয়াদি মানবিক কাজের শর্তটিও নির্দিষ্ট করেনি, উপরন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারগুলির উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে। ...more
২৪-নভেম্বর-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
যখন পুঁজির কেন্দ্রীভবনের আরও উচ্চতর একটি পর্যায় দেখা দিল যা থেকে জন্ম নিল বিশ্বায়িত পুঁজি, এবং সর্বোপরি গড়ে উঠল বিশ্বায়িত ফিনান্স, এবং পতন হল সোভিয়েত ইউনিয়নের, তখনই স্রোতের মুখটা ঘুরে যায় সাম্রাজ্যবাদের অনুকূলে। পুঁজির এই বিশ্বায়নের সঙ্গে সোভিয়েতের পতনের কোনও সম্পর্কই ছিল না, এটাও মোটেই ঠিক কথা নয়।
...more১১-নভেম্বর-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
১০-নভেম্বর-২০২৩
সাত্যকি রায়
যে কোনও রিলিফই মানুষের কাছে সাময়িক সমস্যার সুরাহা এনে দেয়। কিন্তু তা যদি তার সংগঠিত চেতনার বোধকে ক্রমাগত দুর্বল করে তবে তা শেষ বিচারে দীর্ঘস্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে। এর বিরুদ্ধে সর্বজনীনতার বোধকে জাগ্রত করা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই একটি বামপন্থী প্রকল্প।
...more২৬-অক্টোবর-২০২৩
মাজেদ আবুসালামা
২৫-অক্টোবর-২০২৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাসী প্যালেস্তিনীয় ও ইজরায়েলী বুদ্ধিজীবীরা
২৩-অক্টোবর-২০২৩
জাস্টিন পোদুর
২০০৪ সালের সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেই সময় আইএমএফের লুঠেরা ঋণের গ্রাহক হয় এই দেশ। যদিও শ্রীলঙ্কার মোট বৈদেশিক ঋণে চীনের দেওয়া ঋণ মাত্র ১০ শতাংশ, তবুও পশ্চিমী দুনিয়ায় বলা হয় শ্রীলঙ্কা নাকি ‘চীনের ঋণ ফাঁদে’ আটকা পড়েছে। বস্তুত, শ্রীলঙ্কায় চীনের ঋণের পরিমাণ এতই কম যে, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা একেবারে সোজাসুজি পশ্চিমী ঋণফাঁদে গিয়ে পড়েছে যেখানে থেকে এই দেশটার বেরিয়ে আসা কঠিন। ...more
২২-অক্টোবর-২০২৩
জাস্টিন পোদুর
পরিস্থিতি এত শোচনীয় হল কী করে? পাকিস্তানের আর্থিক পরিস্থিতি, সে-দেশের মার্কিন ঋণের বোঝা সহ, বাঁধা রয়েছে দু-দেশের গোপন সম্পর্কের জালে। তাছাড়া দুই দেশই যেভাবে ১৯৭০ সাল থেকে আফগানিস্তানের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে আসছে, তার সঙ্গেও
২১-অক্টোবর-২০২৩
জাস্টিন পোদুর
বিংশ শতকে আর্জেন্টিনায় পালা করে ক্ষমতায় থেকেছে নির্বাচিত সরকার ও সামরিক একনায়কেরা। এর ফলে একবার উন্নয়নবাদী অর্থনীতি, আবার কখনও বা নয়া উদারবাদী অর্থনীতি — দুই বিপরীত পথে পালা করে হেঁটেছে এই দেশ। নয়া উদারাবাদী পর্বে, আর্জেন্টিনা ছিল উদ্ভাবনের জায়গা— কী করে নতুন নতুন পথে একটা দেশকে লুঠ কর যায় সেসব এই দেশেই উদ্ভাবন করা হত। ...more
২০-অক্টোবর-২০২৩
দেবেশ দাস
এখন জনগণনায় যে-সমস্ত তথ্য নেওয়া হয়, তার মধ্যে আছে শিক্ষাগত অবস্থান, ধর্ম, ভাষা, বিবাহিত কিনা, বিবাহিত হলে কয়টি সন্তান, শারীরিক পঙ্গুত্ব আছে কিনা, পেশা, পরিযায়ী কিনা, পরিযায়ী হলে পরিযায়ী হওয়ার কারণ কী (চাকরি, ব্যবসা, ইত্যাদি) (লোকসভা প্রশ্নোত্তর, UNSTARRED প্রশ্ন ১৩১৫, ২৭শে জুলাই, ২০২১)। বাসস্থানের তথ্য (কয় কামরার ঘর, দেওয়াল বা ছাদ পাকা নাকাঁচা, মেঝে মাটির না পাকা), বাড়িতে টেলিভিশন/কম্পিউটার/মোটর সাইকেল/গাড়ি ইত্যাদি আছে কিনা, শৌচাগার আছে কিনা, বিদ্যুৎ আছে কিনা, জল আনতে দূরে যেতে হয় কিনা, মোবাইল আছে কিনা, ইত্যাদি তথ্য নেওয়া হয়। ...more
১৪-অক্টোবর-২০২৩
শান্তনু দে
মাত্র ৬৭ শব্দের একটি ঘোষণা। যে ঘোষণায় প্যালেস্তাইনের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের বিভাজনের ছক কষেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। যার পরিণতিতেই প্যালেস্তাইনের বুকের উপর ইজরায়েলের প্রতিষ্ঠা এবং যার পর থেকে কখনোই মর্যাদা দেওয়া হয়নি আরব জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে। যা জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ‘জঘন্য’ দীর্ঘস্থায়ী, অমীমাংসিত সংঘাতের। যার জেরে আজও অশান্ত অস্থির, রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চল। ...more
০৯-অক্টোবর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
আমাদের এফআইআর–এর কপি দেওয়া হয়নি, কিংবা আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলি সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে এবং বিশদে কিছুই জানানো হয়নি। নিউজক্লিকের অফিস থেকে এবং সংস্থার কর্মীদের বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিন ডিভাইজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনও রকম বৈধ প্রক্রিয়া মানা হয়নি। এই ধরনের ব্যাপারে বৈধ প্রক্রিয়া বলতে বোঝায় যা যা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেগুলির মেমো দেওয়া, বাজেয়াপ্ত করার তথ্যের হ্যাশ ভ্যালু নির্ধারণ করা, এমনকী বাজেয়াপ্ত করা তথ্যের কপি দেওয়া। ...more
০৫-অক্টোবর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
এরই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই মহাত্মা গান্ধীর ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীতে ১৯৪৮ সালের ৩১ জানুয়ারি 'স্বাধীনতা' পত্রিকার সম্পাদকীয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির বাংলা প্রাদেশিক কমিটির বিবৃতি পুনঃপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে 'মার্কসবাদী পথ'। পাঠকরা নিশ্চিতভাবেই লক্ষ্য করবেন, সেই সময়েই গান্ধীহত্যার রাজনীতি ও উল্টোদিকে মহাত্মা গান্ধীর রাজনীতি নিয়ে কতটা সঠিক ও স্পষ্ট অবস্থান ছিল কমিউনিস্ট পার্টির। ...more
০২-অক্টোবর-২০২৩
মালিনী ভট্টাচার্য
এর আগেও এমনটা ঘটেছে, শাহ বানো মামলার সময়। শাহ বানো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটা খোরপোষের হুকুম দেওয়া হয়েছিল। ফৌজদারি আইনের ১২৫ নং ধারা অনুযায়ী। রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, এই আইনের আওতায় মুসলিম মহিলারা পড়বেন না। মুসলিম মহিলাদের জন্যে একটা আলাদা আইন বানাতে হবে। আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি, অনেক আন্দোলন করেছি। সরকার শোনেনি। তারা নতুন আইন তৈরি করে। ...more
৩০-সেপ্টেম্বর-২০২৩
মালিনী ভট্টাচার্য
তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আসলে এই বহুবিবাহের প্রশ্ন। এরকম বলা হয় যে একটা মুসলিম ৪টি বিয়ে করে আর তাদের ৪০ টা বাচ্চা হয়। যদি অন্য প্রশ্ন বাদই দিই, তবু শুধু অংকের যুক্তিতেও এ প্রচার একেবারেই দাঁড়ায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুরুষ, নির্দিষ্ট সংখ্যক মহিলা থাকে। সেই মেয়েদের সন্তানধরণের ক্ষমতা কিন্তু একইরকম। চারজন মহিলা একজন পুরুষের সঙ্গে বিবাহিত হলেও যা, একজন মহিলা একজন পুরুষের সঙ্গে বিবাহিত হলেও তাই। এতে মহিলার সন্তানধারণ ক্ষমতার হেরফের হয় না। ...more
২৯-সেপ্টেম্বর-২০২৩
রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
এবার যে-ঘটনার কথা বলব সেটির তাৎপর্য আরও বেশি। বিপ্লবী দলের পক্ষ থেকে মেদিনীপুর গেছেন তরুণ ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। সেখানে দেখা হল এক স্কুলের অতিবৃদ্ধ পণ্ডিত জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে। তাঁকে যখন ভূপেন্দ্রনাথ বিপ্লবী দলের কর্মসূচির কথা বললেন, আঁতকে উঠে সেই বৃদ্ধ জানতে চাইলেন, ‘কবে হবে, কোথায় হবে?’ ভূপেন্দ্রনাথ উত্তর দেন, ‘হবে কি মহাশয়!’ ...more
২৭-সেপ্টেম্বর-২০২৩
রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
এইখানেই বিদ্যাসাগরের আসল কৃতিত্ব। তিনি শুধু নিজেই প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হননি, অধ্যাপক ও ছাত্রদেরও উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। সাদা চামড়ার মানুষরা যে-চোখে বাঙালিদের দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন, সেই চোখে আঙুল দিয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যাপক-ছাত্ররা তাই বারবার মিলিতভাবে দেখিয়ে দিলেন: তোমাদের ধারণা ভুল, সুযোগ পেলে আমরাও সবই করতে পারি। ...more
২৬-সেপ্টেম্বর-২০২৩
ইনগ্রিড থেরওয়াথ
ভারতে আরএসএসের উগ্র জাতীয়তাবাদীরা মনে করে যে, শুধুমাত্র হিন্দুরাই একমাত্র এবং সত্যিকারের ভারতীয়। বিভিন্ন স্কুলে এবং অনলাইনে তাদের হিন্দুত্বের মতাদর্শ ছড়ানোর কাজে বিপুল টাকা খরচ করা হচ্ছে। এমনকি মতাদর্শ ছড়াতে টাকা খরচ করা হচ্ছে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় অভিবাসীদের মধ্যেও। ...more
২৫-সেপ্টেম্বর-২০২৩
বিকাশ রায়
শিক্ষা উপরিকাঠামোর একটি প্রধান দিক, তাই শিক্ষার ধারাকে নিজ শ্রেণির স্বার্থে পরিচালিত করা শোষকের পক্ষে একান্ত প্রয়োজন। বানর থেকে মানুষের বিবর্তনে শ্রমের ভূমিকার সাথে সমাজ বিবর্তনের স্তরগুলির যে সম্পর্ক বিদ্যমান, তার সাথে সঙ্গতি রেখেই শিক্ষার বিষয়টি বুঝতে হবে। সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটেছে সমাজ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে। সমাজ ব্যবস্থার একাধিক অবস্থান মূলত গড়ে ওঠে প্রতিটি ব্যবস্থার অভ্যন্তরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর এবং প্রতিনিয়ত সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এই বিবর্তনের মধ্য দিয়েই উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ঘটেছে, শ্রমবিভাগ তৈরি হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে উদ্বৃত্তসম্পদের, উৎপত্তি হয়েছে শ্রেণিবিভাজনের । ...more
০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৩
তপন মিশ্র
কার্ল মার্ক্স তাঁর সময়কালে অর্থাৎ উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে অরণ্য সম্পদের অধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রসঙ্গটি ছিল জার্মানির রাইন উপত্যকায় ব্ল্যাক-ফরেস্ট থেকে বনবাসীদের কাষ্ঠ সম্পদ (বড় গাছ নয়) সংগ্রহ। সে দেশে অরণ্য ব্যক্তি মালিকানায় থাকায় সেখান থেকে শীতের সময় অরণ্যের নীচে পড়ে থাকা ঝাড়িঝুটি সংগ্রহে বনবাসীদের অধিকার প্রসঙ্গে মার্ক্সের কিছু স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়। অরণ্যে গাছ থেকে পড়ে যাওয়া ডালপালা সংগ্রহকে বন মালিকদের সন্তুষ্ট করতে বেআইনি এবং বিচারযোগ্য অপরাধ বলে সরকার আইন করে। মার্কস এর সক্রিয় বিরোধিতা করে ১৮৪২ সালে রেইনাস-জাইতুং পত্রিকায় লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেন, "যেমন ধনীদের পক্ষে রাস্তায় বিতরণ করা ভিক্ষার দাবি করা উচিৎ নয়, তেমনই প্রকৃতির এই ভিক্ষার (বৃক্ষ থেকে পড়ে যাওয়া মৃত ডাল পালা) ক্ষেত্রেও দাবিদার হওয়া অপরাধ।" ...more
০৭-সেপ্টেম্বর-২০২৩
তপন মিশ্র
এবারের অরণ্য আইন সংশোধনীতে অরণ্যের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে তা হল, কেবল সরকার অধিগৃহীত অরণ্যই অরণ্য হিসাবে গণ্য হবে। এর অর্থ, সরকার অধিকৃত নয় কিন্তু আগে অরণ্য হিসাবে গণ্য করা হত, এখন সেটি আর অরণ্য থাকবে না। সেই বনাঞ্চলকে যে কেউ যেমন খুশি ব্যবহার করতে পারবে। সেই জঙ্গল সাফ করে যদি অন্য কিছু কাজ হয় তাহলে তার ক্ষতিপূরণ (Compensatory afforestation) করারও দরকার পড়বে না। ...more
০৬-সেপ্টেম্বর-২০২৩
সাত্যকি রায়
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় নভেম্বর-২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২১ ডালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ হারে, অতিমারির সময় মে-২০২০ থেকে জানুয়ারি-২০২২ এই সময় ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২২.৪ শতাংশ হারে এবং অক্টোবর ২০২২ এর পরে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ হারে। একেবারে সাম্প্রতিক সময় মাস ভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধির হার দেখলে দেখা যাবে যে এবছর জুলাই মাসে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ শতাংশ হারে এবং ওই মাসে টমেটোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২১৩.৭ শতাংশ। অতএব বিগত সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের খাদ্য বাবদ খরচ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। ...more
৩০-আগস্ট-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
এ বছরের জুলাই মাসে নীতি আয়োগের একটি রিপোর্টে ফলাও করে দাবি করা হয়েছিল, বহুমাত্রিক দারিদ্র (মাল্টিডায়মনেসনাল পভার্টি) দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ভারত। ওই রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এদেশের সাড়ে ১৩ কোটি লোককে বহুমাত্রিক দারিদ্র থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে গরিব মানুষের সংখ্যা কমেছে ৯.৮৯ শতাংশ। এর অর্থ, ২০১৫-১৬ সালে যেখানে দেশে বহুমাত্রিক বিচারে দরিদ্রের সংখ্যা ছিল ২৪.৮৫ শতাংশ, ২০১৯-২০ সালে তা কমে হয়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ। ...more
২৯-আগস্ট-২০২৩
জ্যোতি বসু
গ্রামাঞ্চলে সাধারণ গরিব মানুষের স্বার্থে এই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যে পরিকল্পনার প্রচেষ্টা, এর রচনা ও রূপায়ণের মূল দায়িত্ব কাদের নিতে হবে? নিতে হবে গরিব মানুষদের নিজেদেরই এবং সংগঠনের মাধ্যমে। এমন সংগঠনের মাধ্যমে যা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত এবং যথেষ্ট বিকেন্দ্রীকরণের ভেতর দিয়ে স্থানীয় সমস্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এ প্রসঙ্গেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার— জেলাস্তরে জেলা পরিষদ (মোট সংখ্যা ১৫), ব্লক স্তরে পঞ্চায়েত সমিতি (মোট সংখ্যা ৩৩৯) এবং অঞ্চল স্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত (মোট সংখ্যা ৩৩০৫)-র যৌক্তিকতা ওঠে। ...more
২৫-আগস্ট-২০২৩
শান্তনু ঝা
ড্রাগ মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের। সারা পৃথিবীর নানা সীমান্ত অঞ্চলের মতো এই এলাকার রাজনীতি ও প্রশাসনের উপর ড্রাগ কার্টেল-এর বিপুল প্রভাব। এমনকী, মণিপুর পুলিশের এক উচ্চ পদাধিকারী, বর্তমানে চাকরি ছেড়ে সামাজিক কাজে যুক্ত হয়েছেন, ড্রাগ চলাচল রোধে যাঁর ভূমিকা মণিপুরে সুবিদিত - বৃন্দা থাওনাওজাম- তিনি একের পর এক সাক্ষাৎকারে মণিপুরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। মণিপুর-দিল্লির বিজেপি পরিচালিত ডবল ইঞ্জিন সরকারের ড্রাগের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা আসলে মিথ্যা প্রচারের ফুলঝুরি ছাড়া কিছু না। এই অঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী, যারা গত কয়েক বছরে অস্ত্র-সমর্পণ করে সরকারি নজরদারি ব্যবস্থায় রয়েছে, তারাই আফিম (পপি) চাষ, ড্রাগ চলাচল থেকে পয়সা তোলার কাজ চালাচ্ছে। ...more
১২-আগস্ট-২০২৩
প্রবীর পুরকায়স্থ
স্বর্গ থেকে ওপেনহাইমারের পতন আরও একটা উদ্দেশ্য পূরণ করল। বিজ্ঞানী মহলকে এই শিক্ষা দেওয়া হল যে, তাঁরা যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার গণ্ডী পেরোনোর সাহস দেখান তাহলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, তা তিনি যত বড় বিজ্ঞানীই হোন না কেন। এটাই ছিল ম্যাকার্থি যুগের নির্যাস। সেই পর্বটা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পীমহল, অ্যাকাডেমিক মহল এবং বিজ্ঞানী সমাজের বিরুদ্ধে একটা ঘোষিত যুদ্ধের পর্ব। ...more
১০-আগস্ট-২০২৩
প্রবীর পুরকায়স্থ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাদের নাগরিকদের একথা বুঝিয়েছিল যে, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলার কারণেই জাপান আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে মহাফেজখানা এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে, সেই সময় পরমাণু বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ ঘোষণা এবং সেকারণেই জাপান আত্মসমর্পণ করেছিল। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলার জন্য ‘১০ লক্ষ মার্কিন নাগরিকের জীবন রক্ষা পেয়েছিল’, একথা স্রেফ বোমা ফেলার অপরাধ ঢাকতেই প্রচার করা হয়েছিল। ...more
০৯-আগস্ট-২০২৩
জ্যোতি বসু
কিন্তু, তারপর রাজ্য স্তর থেকে বিশেষ সাংগঠনিক প্রয়াস নেওয়ার ফলে পঞ্চায়েত, ব্যাঙ্ক ও সরকারী প্রশাসনের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় আনা সম্ভব হয়েছে এবং রূপায়ণের ক্ষেত্রে বিশেষ উন্নতি লক্ষ করা গেছে। গোড়ার বছরগুলি নিয়ে সমগ্র ষষ্ঠ পরিকল্পনায় পাঁচ বছরের হিসাব নিলে হয়তো এই সামগ্রিক উন্নতির চিত্র পরিষ্কার হবে না। কিন্তু প্রথম কিছু বছর বাদ দিলে গত তিন বছরে এই প্রকল্পের এক বিশেষ উন্নতি চোখে পড়ে। এই উন্নতির হার এত বেশি যে... ...more
০৮-জুলাই-২০২৩
রতন খাসনবিশ
এরাজ্যে পঞ্চায়েতী ব্যবস্থাকে দৃঢ়মূল করার প্রচেষ্টা ছিল বামপন্থীদের দিক থেকে। বলা যায় যে, এবিষয়ে তাদের আছে আদর্শগত দায়বদ্ধতা। কিন্তু বাম শাসন অবসানের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তন অনেকাংশেই নিঃশব্দ পরিবর্তন। কখনও তা করা হয়েছে কাঁসরঘণ্টা বাজিয়ে। এরাজ্যে গত ১০-১২ বছরে আমলাবাহিনীর বিপুল ক্ষমতায়ন ঘটেছে। সরকারি উন্নয়নের কাজ লাইন ডিপার্টমন্টের সঙ্গে ভাগাভাগিতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পিছু হঠছে। ...more
০৪-জুলাই-২০২৩
নন্দন রায়
ক্ষমতায় আসার ছ’মাসের মধ্যেই পঞ্চায়েতের হাত থেকে উন্নয়নমূলক যাবতীয় কাজকর্ম কেড়ে নিয়ে তার দায়িত্ব দেওয়া হল ডিএম, এসডিও এবং বিডিওদের হাতে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের পঙ্গু করে দেওয়ার এই ছিল আনুষ্ঠানিক সূচনা। রাজ্য সরকার এবং পঞ্চায়েত একই দলের দ্বারা পরিচালিত হবে— এই ছিল নেত্রীর নির্দেশ। যেখানে তা হবে না, সেখানকার মানুষ তাদের কৃতকর্মের ফলভোগ করবে। এমনকি অর্থ কমিশনের যে টাকা সাংবিধানিকভাবে পঞ্চায়েতের প্রাপ্য, সেই টাকাও দেওয়া হল না। তখনও মোদী দিল্লিতে আসেনি। নেত্রীকে সংবিধান লঙ্ঘনের প্রাথমিক শিক্ষা দিয়েছিল কে? আজ যখন মোদীর ‘ডাবল ইঞ্জিনের সরকার’-এর ধারণাকে নিন্দা করে তিনি গলা চড়িয়ে মঞ্চ প্রকম্পিত করেন, তখন তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত নয় কি যে খোদ তিনিই প্রথম ‘ডাবল ইঞ্জিনের’ ধারণাটি আমদানি করেছিলেন? ...more
০৩-জুলাই-২০২৩
চন্দন দাস
জানুয়ারি, ২০০৭। নন্দীগ্রাম। হামলা কিন্তু প্রথমে সিপিআই(এম)-র কোনও স্থানীয় দপ্তরে হয়নি। হয়নি পার্টির কোনও নেতার বাড়িতেও। হয়েছিল পঞ্চায়েত অফিসে। গড়চক্রবেড়িয়ার কাছে, কালিচরণপুর পঞ্চায়েতের অফিসে। নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের কোনও নোটিশ কখনও জারি হয়নি। গত ১২ বছরে মমতা ব্যানার্জি তেমন কোনও নোটিশ জনসমক্ষে আনতে পারেননি। থাকলে নিশ্চিত সে সুযোগ ছাড়তেন না! কিন্তু সেদিন দুপুরে কালিচরণপুর পঞ্চায়েতে হামলা চালিয়ে দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছিল তৃণমূল এবং তাদের সহযোগীরা। ...more
০২-জুলাই-২০২৩
চন্দন দাস
পঞ্চায়েত শুধু ‘গ্রামোন্নয়ন’-র জন্য নয়। পঞ্চায়েতের লক্ষ্য ক্ষমতা মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। মুখ্যমন্ত্রী কতবার গ্রামে গিয়ে চা বানালেন, তাতে মানুষের হাতে ক্ষমতা পৌঁছেছে কিনা প্রমাণিত হয় না। মানুষের হাতে ক্ষমতা মানে গ্রামোন্নয়নের কাজের সিদ্ধান্ত, কোন্ কাজটি এখনই আর কোন্ কাজটি পরে হবে— তা ঠিক করবেন তাঁরাই— সেইসঙ্গে বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা। ...more
০১-জুলাই-২০২৩
কুমার রাণা
রাজনীতির প্রখর তাপে পুড়ছে জুনমাস। এ ঋতুতে চলছে গণতন্ত্রের নিধন। অথচ, মানুষ স্বভাবতই পরাঙ্মুখ হতে নারাজ। তাই, রাজ্য জুড়ে নানা দমন-পীড়নের মাঝেও এক চাপিয়ে দেওয়া ভবিতব্যের বিরুদ্ধে অনেকে মিলে ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করে চলেছেন। সেই কাজে, দুর্দিনের বিরুদ্ধে মানুষের পূর্ণতার সংগ্রামের স্মৃতিগুলিকে স্মরণে রাখাও একটা কাজ। বিশ্ব-গণতন্ত্রের জন্য পরম মূল্যবান এমনই তিনটি, ভিন্ন ভিন্ন কালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ঘটা, স্মৃতির স্মরণ। ...more
২৯-জুন-২০২৩
রতন খাসনবিশ
তৃণমূলের পঞ্চায়েত শাসনে সর্বপ্রথম অকেজো করে দেওয়া হয়েছে গ্রাম সংসদকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে আধিকারিকদের খবরদারিও এসেছে একই সঙ্গে। ক্ষমতাহীন সংসদ ও ক্ষমতাবান আধিকারিক যে ব্যবস্থায় হাত ধরাধরি করে চলতে পারে, রাজ্যে সেই ব্যবস্থারই উদ্ভব ঘটেছে। জনগণকে নিষ্ক্রিয় রেখে উন্নয়নের বিপুল অর্থ বিলি-বন্দোবস্ত করার রাস্তা খুঁজেছে তৃণমূলী পঞ্চায়েত। এই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত যা ঘটাতে পারে তা হল পঞ্চায়েতকেন্দ্রিক ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন। রাজ্যে সেটাই ঘটছে। এই ফর্মুলায় পঞ্চাযেত কেন্দ্রিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বহু ভাদু শেখের উত্থান ঘটেছে । ...more
২৫-জুন-২০২৩
সি.এন আন্নাদুরাই
নতুন ভারতের যে প্রতীকগুলি নরেন্দ্র মোদি তুলে ধরতে চাইছেন— অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, সেন্ট্রাল ভিস্টা ও নতুন সংসদ ভবন, এগুলো সবই নতুন স্বৈরতন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসূচক চিহ্ন। নতুন এই ন্যারেটিভের উপযোগী করে তুলতে গিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে এবং কাল্পনিক ইতিহাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ...more
০৭-জুন-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
২০২১ সালে এ মহম্মদ আল জামান একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন ‘সোশাল মিডিয়া ফেক নিউজ ইন ইন্ডিয়া’ শিরোনামে। প্রকাশিত হয়েছিল এশিয়ান জার্নাল ফর পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ–এ। সেখানে আল জামান দেখিয়েছেন স্বাস্থ্য, ধর্ম, রাজনীতি, অপরাধ, বিনোদন — এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে ভারতে সোশাল মিডিয়ায় মিথ্যা ও ঘৃণা প্রচারে জোর দেওয়া হয়। এগুলির মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। এই ধরনের প্রচারে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয় টেক্সট, ফটো, অডিও, ভিডিও, টেক্সট ও ফটো, টেক্সট ও ভিডিও, ফটো ও ভিডিও এবং টেক্সট, ফটো ও ভিডিও একসঙ্গে। এগুলো ছড়ানো হয় অনলাইনে এবং মেনস্ট্রিম মিডিয়ায়। ...more
২৩-মে-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
একদা ইনফোসিসের পদস্থ কর্তা শশীশেখর পরে হয়েছিলেন প্রসার ভারতী কর্পোরেশেনের শীর্ষকর্তা। রাজেশের প্রচার টিমের নাম ছিল ‘ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’। টিমের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০০ জন। রাজেশ জৈন এই বিষয়টা শিখেছিলেন সম্ভবত ওবামার মিডিয়া ম্যানেজারদের কাছ থেকে। দ্বিতীয় টিমের দায়িত্বে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আই প্যাক। রান ফর ইউনিটি, চায়ে পে চর্চা, মন্থনের মতো জনপ্রিয় কর্মসূচির মাধ্যমে মোদির ভাবমূর্তি গড়ে তোলাটা ছিল এদের দায়িত্ব। আই প্যাকের অধীনে ‘সিটিজেন্স ফর অ্যকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট’ নামের সংস্থা বিজেপিতে ম্যানেজমেন্ট গ্রাজুয়েটদের রিক্রুট করার দায়িত্বে ছিল। ...more
২২-মে-২০২৩
নন্দন রায়
যে প্রশ্নটা এবারের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা হল এই নির্বাচনে বিজেপি কি আদৌ হেরেছে? এর উত্তর একই সঙ্গে হ্যাঁ এবং না। অনেকের কাছে এই প্রশ্নোত্তর হেঁয়ালির মতো শোনাবে। যে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কংগ্রেস এবার জিতেছে, তার পরে এই প্রশ্ন তোলার অর্থ কী? আসলে আমরা বলতে চাইছি যে ২০১৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির সমর্থন ভিত্তি কিন্তু হ্রাস পায়নি। সঠিকভাবে বলতে গেলে ২০১৮ সালে বিজেপি যেখানে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৬.২ শতাংশ পেয়েছিল, এবারে তা মাত্র ০.৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৫.৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় এবারে কংগ্রেস প্রায় ৫ শতাংশ ভোট বেশি পাওয়াতে তাদের জেতা আসন সংখ্যা ৫৫টি বেড়ে গিয়েছে। বিপরীতে বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট শতাংশের ব্যবধান বেশ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৩৮টি কমে গিয়েছে। ...more
২০-মে-২০২৩
প্রসূন ভট্টাচার্য
শুধু কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়াই নয়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চ্যাট জিপিটি’র ব্যবহার নিয়ে আরও অনেক আশঙ্কা আছে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা, গবেষকরা চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে তাদের হোমওয়ার্ক, গবেষণাপত্র, অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে শুরু করেছে। এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা করে নিজে থেকে চিন্তাভাবনা করে উত্তর লেখার ক্ষমতা লোপ পাবে বলেই আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়বে। শিশুদের যুক্তিবোধ কমে যাবে। তারা নিজে থেকে কিছু ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যাট জিপিটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছেন। ফ্রান্সের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আমেরিকাতেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে। ...more
০৬-মে-২০২৩
কুমার রাণা
এমন একটা সমাজে যেখানে জাতিগত নিপীড়নের কারণে মানুষের স্বাভাবিক গতি ও উন্নতি রুদ্ধ হয়, সেখানে তার সামনে দুটো পথ থাকে। একটা হল, সমবেত হয়ে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা, এবং যে ব্যবস্থা এই নিপীড়নের জন্ম দেয় তাকে উৎখাত করে নতুন, সকলের জন্য সমমর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আর দ্বিতীয়টা হল, নিজেদের জন্য এই নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার অধিকারী অংশের— এলিট ক্লাবের— সদস্যতা জোগাড় করে ফেলা। দুটো প্রক্রিয়াই কঠিন। কিন্তু স্পষ্ট জেনে রাখা দরকার, দুটো প্রক্রিয়া শুধু স্বতঃবিচ্ছিন্নই নয়, ঘোর পরস্পরবিরোধী। একটা মানুষকে সম্মুখপানে নিয়ে চলে, অন্যটা পশ্চাতে। ...more
১৬-এপ্রিল-২০২৩
বাদল সরোজ
করোনা এবং মূর্খতা দুই মিলিয়ে এই মরোনার সময় কোনটা যে বেশি বিপজ্জনক তাই এখন তর্কের বিষয়! প্রকৃতপক্ষে ভাইরাস হল ‘কর্পোরেট হিন্দুত্ব’। ‘হিন্দুত্ব’ মানে বলতে চাইছি-সাভারকরের হিন্দুত্ব। হিন্দুত্বের এই সংজ্ঞা নির্মাণের তার বক্তব্য ছিল- এর সাথে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য এবং মান্যমানতার কোনো সম্পর্কে নেই। এটি শাসন করার একটি পন্থামাত্র। হিন্দুত্ব মানে মনুস্মৃতির বিবর্তিত রূপের বাহ্যিক প্রকাশ। সেখানে গণতন্ত্র চাইনা। সমতা, সাম্য, এসবকেই বলা হবে বহির্ভারতীয় ধারণা, ফলে ভারতে চাইনা। সংবিধান পাশ্চাত্য থেকে এসেছে, তাই চাইনা। কী চাই? একটি বদ্ধ সমাজ, অল্প মানুষের হাতে সমস্ত ক্ষমতা, গণপিটুনির হিংসাত্মক, পাশবিক পরিবেশ। যারা ভাবছেন এরা ব্রাহ্মণ্যবাদী নয় তারা ভুল ভাবছেন। এদের কাছে শূদ্র শুধু জন্মগত নয়, তাঁর নির্দিষ্ট পেশাতেও তারা সীমায়িত। দিল্লি থেকে যারা সদলে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছে, পায়ে হাঁটা সেই পরিশ্রমী শ্রমিকরা, তাদের মতে শূদ্রই। তাদেরকেই মেরে ধরে, জেলবন্দী করে, দোষারোপ করে কুকথা বলেও জ্বালা মিটছে না। আর নারী তো এদের কাছে চিরকালীন শূদ্রাতিশূদ্র। ...more
১৫-এপ্রিল-২০২৩
বি ভি রাঘভুলু
কমিউনিস্টরা জাতপ্রথার অবসানের লক্ষ্যকে কখনওই ভুলেও যায়নি বা উপেক্ষাও করেনি। ১৯২৮ সালে কারারুদ্ধ অবস্থায় ভগৎ সিং-এর জাতপ্রথার বিরুদ্ধে ও সমাজতন্ত্র নিয়ে লেখা কোনও অকস্মাৎ ঘটনা নয়। এতে প্রমাণ হয় যে, আমাদের দেশে কেউ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ভাবলে তার পক্ষে জাতপ্রথার অবসানের কথা উপেক্ষা করা সম্ভব না। এ কথা বললে অতিকথন হবে না যে, ফুলে, এবং আম্বেদকর ছাড়া কেবলমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি বাদে আর অন্য কোনো সংগঠন ছিল না, যা জাতপ্রথা, এবং তার নিপীড়নের চেহারার বিরুদ্ধের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকেছে। বেশিরভাগ কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল জাতপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাঁরা যত গ্রামীণ কৃষক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, জাতভিত্তিক বৈষম্যের অবসান ছিল সেগুলির প্রত্যেকটির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৩
নন্দন রায়
প্রশ্ন হল ত্রিপুরা ভারত ভূখণ্ডে যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই ত্রিপুরার উপজাতিদের অধিকার নিয়ে এবং রাজন্যতন্ত্রের শোষণের বিরুদ্ধে দশরথ দেববর্মণ সহ অন্যান্য বিপ্লবী বামপন্থীরা উপজাতিদের সংগঠিত করে দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ উপজাতীয় এলাকা থেকে বামপন্থীরা দীর্ঘদিন ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এই সেদিন পর্যন্ত উপজাতি এলাকায় বামপন্থীদের বেশ ভাল প্রভাব ছিল। (কিছুদিন আগে মার্কসবাদী পথ অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত ত্রিপুরা নির্বাচন নিয়ে শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদারের রচনায় এই বিষয়টি নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আলোচনা রয়েছে)। কিন্তু গত পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে কী এমন ঘটে গেল যে গোটা উপজাতি এলাকায় বামপন্থীরা একেবারে মুছে গেল? শুধু তাই নয়, অন্যান্য সাধারণ আসনে যেখানে যেখানে তিপ্রা মথা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে সেখানেই বামপন্থীদের পরাজয় ঘটেছে। ...more
০৬-এপ্রিল-২০২৩
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
বামপন্থীরা তাদের মূল সমর্থনভিত্তি ত্রিপুরার জনজাতি সমাজ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে। ওই মূল সমর্থনভিত্তি হারানোর ফলেই ২০১৮ সালে বিধানসভায় আইপিএফটি এবং ২০২১ সালের স্বশাসিত জেলা পরিষদ ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রা মথার উত্থান ঘটেছে। এদের একটি অংশ এই জনবিচ্ছিন্নতা ঘটার জন্যে দায়ী করেছে ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে প্রতিযোগিতামূলক পৃথকত্ব ও বাঙালি বিদ্বেষের রাজনীতির চাষ, যা ত্রিপুরা উপজাতি যুব সমিতি থেকে তিপ্রা মথা অবধি নানা সংগঠন করে এসেছে। এদের মতে পৃথক রাজ্যের শ্লোগান মুখে যে প্রতিযোগিতামূলক উগ্রতার রাজনীতির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার প্রলোভনের মুখ দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের জাতি জনজাতিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতিকে ক্লিশে মনে হয়েছে নবীন প্রজন্মের জনজাতিদের। সেজন্যই বামপন্থীরা এই উগ্রতার বিরুদ্ধে তেমন কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। ...more
২১-মার্চ-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
বলিভিয়ার কথাই ধরা যাক। বলিভিয়ায় এখন ক্ষমতায় রয়েছে ইভো মোরালেসের দল বামপন্থী মুভমেন্ট টুয়ার্ডস সোশালিজম দল (এমএএস)। সেদেশের স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবর, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১০৪১টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ৪৫০টি পেজ, ১৪টি গ্রুপ এবং ১৩০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়েছে সেদেশের মিডিয়া থেকে। এইসব অ্যাকাউন্টগুলি ছিল সরকারে ক্ষমতাসীন মুভমেন্ট টুয়ার্ডস সোশালিজম (MAS-IPSP)-এর সমর্থকদের। নিষিদ্ধ করে দেওয়া কোনও অ্যাকাউন্টকেই আর ফেরানো হয়নি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, ‘কোঅর্ডিনেটেড ইনঅথেন্টিক বিহেভিয়ার’ বা ‘সমন্বিত এলোমেলো ব্যবহার’। যদিও এই অভিযোগের অর্থ কী এবং কারা এসবের মানদণ্ড ঠিক করে দিল, সেবিষয়ে কোনও ব্যাখ্যাই দেয়নি সেদেশের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ। ...more
১৭-মার্চ-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
কিন্তু বাইডেন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে এই পরিস্থিতিতেও তারা সিরিয়ার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলবে না। এবং তারা নিজেরাও কোনও মানবিক ত্রাণ আসাদ সরকারকে পাঠাবে না। উলটে, বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সুযোগে আসাদ-বিরোধী শক্তিকে মদত দিয়ে তারা আসাদকে উচ্ছেদ করার সুযোগ খুঁজবেন। সেজন্য আসাদ-বিরোধীদের আরও ডলার দেওয়া হবে। নেড প্রাইসের ভাষায়, একটা সরকার যারা নিজের দেশের মানুষের ওপর ‘নিষ্ঠুর শাসন’ চালিয়ে যাচ্ছে এই সময়ে তাদের টাকা দিলে নিষ্ঠুর শাসককেই শক্তিশালী করা হবে। আসাদ নিষ্ঠুর শাসক—একথা কে বলছে? আমেরিকা ও তার বশম্বদ শক্তিগুলো। ...more
০১-মার্চ-২০২৩
সাত্যকি রায়
এবার দেখা যাক এহেন সংস্থার উপরে আমাদের দেশের আর্থিক কার্যকলাপে কতটা নির্ভরশীলতা তৈরী করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আদানিরা ১৯১ টি বৃহৎ প্রকল্প রূপায়ণের কাজে যুক্ত, যার মোট মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা। তারা সম্প্রতি ১২৩ টি প্রকল্প সম্পূর্ণ করেছে যার পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা। গৃহীত প্রকল্প গুলির মধ্যে রয়েছে ১৩ টি পোর্ট, ৩৩ টি রিন্যুএবল এনার্জি সংক্রান্ত প্রকল্প, ১২ টি বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প ও বৃহৎ সিমেন্ট প্রকল্প। এই সমস্ত প্রকল্প গুলি যোগ করলে এতে নিযুক্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদিও কিছু বছরে বিস্তৃত কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই পরিমাণ দেশের এক বছরে গড়ে সব প্রকল্পে বিনিয়োগের মোট পরিমাণের সমান। অতএব বোঝা যাচ্ছে যে, পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকার ইতিমধ্যে আদানিদের উপরে কতটা নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে। ...more
২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
উর্বা চৌধুরী
উন্নত গুণমানের শিক্ষাকে সুনিশ্চিত করার কাজের কাজটিকে এড়িয়ে গিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রটিতে কিছু প্রসাধনীর প্রলেপ দিয়ে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রতিদিন নানা উপায়ে দুর্বল করার আয়োজন যে চলছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তবে এও ঠিক, সামাজিক সম্পদ হিসাবে সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে চিনতে শিখে, মানসিকভাবে সংযুক্ত থেকে বিদ্যালয় স্তরের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগী হয়ে, নানা বঞ্চনা, প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে যদি লাগাতার ছাত্র-স্বার্থমুখী সংগঠিত প্রতিরোধের পরিকল্পনা আমরা নাগরিকেরাও করতে পারতাম, তাহলে হয়তো আজ এভাবে সংকট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর আমাদের বিচলিত হওয়া শুরু করতে হত না। ...more
২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
নন্দন রায়
ফ্যাসিস্টদের সমর্থন জুগিয়ে এভাবে সব একচেটিয়া বৃহৎ বাণিজ্য সংস্থাগুলি সুবিধা পায় বটে, কিন্তু সকলে সমান এবং অতিরিক্ত সুবিধা পায় না। তাদের মধ্যে তুলনায় নতুন সংস্থাগুলি, যাদের নৈতিকতার বাহুল্য নেই, যারা কাজ হাসিলের জন্য যা খুশি তা-ই করতে প্রস্তুত, যারা সরকারি কর্মকাণ্ডের সুলুক সন্ধান জানে, কোন সাহেব কী ধরণের উপঢৌকনে তুষ্ট হয় সেসব খোঁজ খবর রাখে, তারাই বিশেষ আনুকুল্য পায়। ফরাসী বামপন্থী ড্যানিয়েল গুয়েরিন তাঁর বই Fascism and Big Business-এ লিখেছেন, প্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত একচেটিয়া সংস্থাগুলি, যারা বস্ত্র শিল্পের মত ট্র্যাডিশনাল শিল্পে জড়িত, ইওরোপের ফ্যাসিস্ট জমানাগুলি, তাদের থেকে বেশি পছন্দ করে তুলনায় নতুন একচেটিয়াগুলিকে যারা ভারী শিল্পে ও অস্ত্র নির্মাণ শিল্পে জড়িত। ...more
১২-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
মনে রাখা দরকার মার্কিন এম১ অ্যাব্রাম ট্যাঙ্ক এখনও তৈরির প্রক্রিয়ায়। আমেরিকা কখনই চাইবে না অত্যাধুনিক এই ট্যাঙ্ক, যা তাদের শক্তির প্রতীক, তা রুশ গোলার ঘায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বলতে থাকুক। তেমনটা হলে সেই ছবি ভাইরাল করবে রাশিয়া। তাছাড়া চেষ্টা করবে দখল করা ট্যাঙ্ক অস্ত্র কারখানায় নিয়ে গিয়ে তার কলকব্জা খুলে সব বুঝে নেওয়ার। সেরকম পরিস্থিতি যাতে তৈরি হয় সেজন্য ন্যাটোর একটা ট্যাঙ্ক ধ্বংস বা অকোজো বা দখল করতে পারলে ওয়াগনার গ্রুপের সেনাদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে রাশিয়ার বৃহৎ কর্পোরেশনগুলি। ফলে দুঃসাহসী রুশ বাহিনী ধ্বস্ত করতে পারে মার্কিন ট্যাঙ্ককেও। তেমন ছবি ভাইরাল হোক তা আমেরিকা নিশ্চয় চাইবে না। তাই তারা ধীরে চলো নীতি নিয়ে জার্মানিকে বলির পাঁঠা করেছে। ...more
০৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
ইউক্রেনকে কত সেনা ট্যাঙ্ক দেবে ন্যাটো জোট? যতদূর খবর পাওয়া গেছে, সব মিলিয়ে দেওয়া হবে মোট ৩০০টি ট্যাঙ্ক। এবং আপাতত এগুলি তিন দেশের ট্যাঙ্ক। মার্কিন ট্যাঙ্ক আসবে আরও পরে। এখানে যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, প্রতিটি দেশের ট্যাঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তিতে তৈরি। মূল কামান ও সহযোগী মেশিনগানগুলির পাল্লা, ট্যাঙ্কের গতি, লক্ষ্য নির্ধারণের কৌশল— এসবই আলাদা। এত ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তিচালিত এ তহরেক কিসিমের বিদেশি ট্যাঙ্ক ব্যবহার করার সক্ষমতা কি ইউক্রেন বাহিনীর আছে? যে কোনও সমর বিশেষজ্ঞই বলবেন, এত ধরনের বিদেশি ট্যাঙ্ক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া ব্যবহার করা অসম্ভব। প্রশিক্ষণের আবার দুটো দিক— প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের মহড়ায় প্রশিক্ষণ। একাজে দরকার বহু সংখ্যক দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। যেহেতু শীত শেষে বসন্ত প্রায় সমাগত, তাই এত প্রশিক্ষণের সময় নেই। তাই ধরেই নেওয়া যায়, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির দক্ষ সেনারা ইউক্রেন সেনার পোশাক পরে ঢুকবে ইউক্রেনে এবং তারাই এইসব ট্যাঙ্ক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল অবরুদ্ধ কিয়েভের কাছে আজভস্তাল স্টিল প্ল্যান্টে। সেখানে আটকে পড়েছিল ন্যাটোর অ-ইউক্রেনিয় ভাড়াটে সৈন্যরা, যাদের জড়ো করা হয়েছিল ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি থেকে। ...more
০৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সুচিক্কণ দাস
সেক্ষেত্রে কিয়েভে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়ে মস্কোর ওপর হামলার ছক আরও এগিয়ে আনার জন্য ন্যাটোর আদত ছক (কিয়েভ থেকে মস্কো পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছতে সময় লাগে ৯ মিনিট) পুরোপুরি ভেস্তে যাবে। আসলে রাশিয়ায় ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যই হল ন্যাটোর এই ছক ভেস্তে দেওয়া। এই লক্ষ্যেই ২০১৪ সালে কিয়েভের নির্বাাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল মার্কিন মদতপুষ্ট কমলা বিপ্লবের জন্য। পরে ন্যাটো জোটের সেই একই ছক বেলারুশে পণ্ড হয়ে যায়। ...more
০৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
দীপক নাগ
মার্কিন রাষ্ট্রপতি নিকসন ভিয়েতনামিকরণের নামে তার পুতুল সরকারের দ্বারা দক্ষিণ ভিয়েতনামিদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। উত্তর ভিয়েতনামও পালটা জবাব দেয়। ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির ফলে রাষ্ট্রপতি নিকসন পদত্যাগ করায় জেরাল্ড ফোর্ড আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তারপর থেকেই কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত আমেরিকা দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে ধীরে ধীরে সেনা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ...more
২৭-জানুয়ারি-২০২৩
রবার্ট গ্রিফিথস
ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রবার্ট গ্রিফিথস সম্প্রতি কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে কিউবা সফরে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই পর্বের সফরনামার আজ শেষ অংশ। এই পর্বে গ্রিফিথস দ্বীপরাষ্ট্রে বাণিজ্য ও লগ্নিতে নতুনতর গুরুত্বারোপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রকরণ, ধর্মবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি, ট্রেড ইউনিয়ন ও নির্বাচন সম্পর্কে কিউবার অবিচল সমাজতান্ত্রিক নীতির উপর আলোকপাত করেছেন। ...more
১৪-জানুয়ারি-২০২৩
রবার্ট গ্রিফিথস
ব্রিটিনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রবার্ট গ্রিফিথস সম্প্রতি কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে কিউবা সফরে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই পর্বের সফরনামার এই প্রথম অংশে তিনি তুলে ধরেছেন কিউবার সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও সেখানকার চিত্তাকর্ষক শিক্ষাব্যবস্থাকে। ...more
১৩-জানুয়ারি-২০২৩
চীনের পার্টির দলিল
যেহেতু চীনে বুর্জোয়া গণতন্ত্র ছিল না এবং সশস্ত্র শক্তির দাপটে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীগুলো জনগণের উপর তাদের সন্ত্রাসমূলক একনায়কত্ব কায়েম করে রেখেছিল সেহেতু চীন-বিপ্লব দীর্ঘকাল স্থায়ী সশস্ত্র সংগ্রামের রূপ না নিয়ে পারে না। চীনের সশস্ত্র সংগ্রাম সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন একটি বিপ্লবী যুদ্ধ যার প্রধান শক্তি ছিল কৃষক সাধারণ। কৃষক সাধারণ সর্বহারাশ্রেণীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র। ...more
২৬-ডিসেম্বর-২০২২
আইজাজ আহমেদ
নির্বাচনী ব্যবস্থার উদারনৈতিক অস্তিত্বটি ঠিক ততদিনই সুরক্ষিত থাকবে যতদিন না আরএসএস এই ব্যবস্থায় নিজেদের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত। কেউ বলতে পারবেনা নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় অনুধাবন করতে পারলে তারা কিই না করতে পারে। ...more
২৪-ডিসেম্বর-২০২২
আইজাজ আহমেদ
সংসদে ২৪৫ জন সাংসদ রয়েছেন যারা শাসকদলের নন। কেউ দাবী করতে পারে এই বিশাল বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনোপ্রকার ঐক্য অথবা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে যার ভিত্তিতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে? ...more
২৩-ডিসেম্বর-২০২২
আইজাজ আহমেদ
১৯২৫ থেকে ১৯৭০ অবধি নিজেদের অস্তিত্বের প্রথম ৪০ বছর আরএসএস জাতীয় রাজনীতিতে অতি তুচ্ছ এবং অস্পৃশ্য ছিল। ৭০'র দশকে দেশজুড়ে ইন্দিরা বিরোধিতার ঝড় উঠলে জাতীয় স্তরে তারা প্রথমবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ...more
২২-ডিসেম্বর-২০২২
এমির সাদের
তবে ফুটবলে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তখনও শক্তিশালী ছিল। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে-পেলে, মারাদোনা নাকি মেসি -তা নিয়ে আলোচনা চলছে জোরালো ও জোরদার। তবে তিনি কে তা নিয়ে, উভয় পক্ষেরই কারও কোনও সন্দেহ নেই। ...more
১৮-ডিসেম্বর-২০২২
নন্দন রায়
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ফ্যাসিস্ট পার্টি যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে, এবং এটাও প্রমাণিত যে এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশকে বাঁচানো যাবে না, তখন সামগ্রিক ঐক্যের স্বার্থে প্রতিটি দলকে কিছু ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকা উচিত। কিন্তু আপ অথবা তৃণমূলের মতো দলগুলি এতটাই বিভাজনমূলক, যে গণতান্ত্রিক বিরোধী ঐক্যের চেয়ে তাদের কাছে নিজেদের নেতা অথবা নেত্রীর উচ্চাকাঙ্খাই একমাত্র বিবেচ্য। ...more
১৭-ডিসেম্বর-২০২২
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
আফ্রিকার সোনার মাটি তৈরি করেছে অজস্র বড়ো ফুটবলারদের। কালুসা বওলায়া, ১৯৮৮ অলিম্পিকে একাই গুঁড়িয়ে দেন ইতালিকে। ১৯৯৩ সালের ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল জাম্বিয়াকে, সেখান থেকে পুনর্জন্ম ঘটান তিনি, পরের সি এ এফ রানার্স করিয়ে। এছাড়াও বলতে হয় আন্দ্রে কানা বিইক, মার্ক ভিভিয়ান ফো, স্যামুয়েল এটো, জর্জ ওয়ে, দিদিয়ে দ্রোগবা, রজার মিল্লার মতো ফুটবলারদের কথা। কালো মানুষের লড়াইকে আরও উজ্জ্বল করেছেন এঁরা ফুটবলের মাঠে। ...more
১৪-ডিসেম্বর-২০২২
সুচিক্কণ দাস
স্তালিনগ্রাদে জার্মানরা ঢুকে পড়ার কয়েকদিন আগে ১৯৪২ এর ৩ সেপ্টেম্বর স্তালিন জুকভকে লিখছেন, 'স্তালিনগ্রাদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। শহরের ২ মাইল বাইরেই রয়েছে শত্রু। আজ কিংবা কাল স্তালিনগ্রাদ দখল হয়ে যেতে পারে। এখন দেরি করাটাই অপরাধ।' ...more
১৩-ডিসেম্বর-২০২২
সুচিক্কণ দাস
ওয়ারশ চুক্তি জোট তুলে দেওয়া হলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। এরপরেও ন্যাটো আছে বহাল তবিয়তে এবং সোভিয়েতের ভাঙনের পর মার্কিন প্রশাসন কথা দেওয়া সত্ত্বেও ন্যাটো তার পূবমুখী সম্প্রসারণ বাড়িয়ে চলেছে। এই সম্প্রসারণ কর্মসূচির শেষতম লক্ষ্য ছিল কিয়েভে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বসানো। এবং সেই প্রয়াসকে ঘিরেই আজকের রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত। এখানে জেলেনস্কিকে শিখণ্ডী সাজিয়ে আসল লড়াইটা লড়ছে আমেরিকা ও ন্যাটো। ...more
১১-ডিসেম্বর-২০২২
সুচিক্কণ দাস
একদিকে পুঁজির লাগাম ছাড়া শোষণ, অন্যদিকে সীমাহীন বঞ্চনা এভাবে চললে সহজেই তো ভোটে হারার কথা বিজেপির। কিন্তু তা না হয়ে ২৭ বছর ধরে গুজরাটে কীভাবে টিকে রয়েছে বিজেপি সরকার এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা রয়েছে ভ্রান্ত জনচেতনার। এবং সেই চেতনায় জারিত করার কাজটিই সুকৌশলে করে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী গুজরাটের জনসংখ্যায় হিন্দুরা ৮৮.৫৭ শতাংশ এবং মুসলিমরা ৯.৬৭ শতাংশ। এত স্বল্প সংখ্যক সংখ্যালঘুদের দিক থেকে আশঙ্কা করার কিছু নেই। তাহলে কেন গোধরা? ...more
২৫-নভেম্বর-২০২২
আর অরুণ কুমার
এই কংগ্রেসের গুরুত্ব আরো বেড়েছে এই কারণেও যেহেতু চীন একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ, যেখানে মাথাপিছু আয় ২০১২ সালের পরিমাণ থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ১১,৮৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বর্ধিত আয় ও উন্নত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে চীনের জনগণের গড় আয়ু ২০২০ সালে পৌঁছেছে ৭৭.৯ বছরে বিশ্বের গড় আয়ুর চেয়ে ৫.২ বছর বেশি। এই সমস্ত কিছুই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন এবং একারণেই নজর আকৃষ্ট করে। ...more
১৭-নভেম্বর-২০২২
প্রভাত পট্টনায়েক
লিজ ট্রাসের বদলে ঋষি সুনককে কেন বেছে নিল সিটি বা ফিনান্সের গড় নির্দেশিত প্রক্রিয়া? ঋষি সমাজের কোন অংশ থেকে উঠে এসেছেন, তিনি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার কিনা, হেজ ফান্ড ম্যানেজার কিনা বা লক্ষকোটিপিত কিনা, দুর্গের পাহারাদারদের পছন্দের জন্য এগুলোই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ঋষির অ্যাজেন্ডাগুলি কী কী। ...more
১৫-নভেম্বর-২০২২
বিজয় প্রসাদ
২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে তিনি কমিউনিটি অফ লাতিন আমেরিকান অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান স্টেটস(সিইএলএসি) গোষ্ঠী গড়ে তোলাতেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লুলা বলেছেন, এই দুটি মঞ্চেই তিনি নতুন শক্তি সঞ্চারিত করবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন যাতে এই দুই মঞ্চকে একটা সোশাল ডেমেক্রেটিক প্রকল্পের দিশায় পরিচালিত করা যায়। যুদ্ধের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং জনগণের প্রকৃত ও নির্দিষ্ট মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী এমন একটা দুনিয়া গড়ে তোলার কাজে এই দুই মঞ্চকে প্রয়াসী করে তুলতে চান তিনি। ...more
০৩-নভেম্বর-২০২২
টিংস চাক, বিজয় প্রসাদ
এক দশক আগে সিপিসি-র ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাও দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন একাধিকবার। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন,আমরা যদি এই বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারি, তবে এটা দলের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। এমনকী দলের ধ্বংস বা রাষ্ট্রের পতনও ঘটে যেতে পারে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শি জিনপিং এর সামনে প্রধান কাজ ছিল এই সমস্যার সামাল দেওয়া। ...more
০২-নভেম্বর-২০২২
ব্রাজিলের চার সাংবাদিক
নির্বাচনে লুলা জিতলেও যে কোনও অজুহাতে এরা সবকিছু এলোমেলো করে দিতে প্রস্তুত। এরা ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণপন্থী শিবির। সর্বত্র দক্ষিণপন্থী শাসকদের রক্ষা করাই এদের কাজ। এদের জাল ছড়িয়ে রয়েছে দুনিয়া জুড়ে। এই অগ্নিবলয় ভেদ করেই দুর্গ দখল করতে হবে লুলা ও তাঁর সমর্থকদের। তাঁকে নিতে হবে একুশ শতকের স্পার্টাকাসের ভূমিকা। ...more
৩১-অক্টোবর-২০২২
প্রভাত পট্টনায়েক
এবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, দারিদ্র যদি বাড়ে তাহলে তার ফলে ক্ষুধাও অনেক বেশি বাড়বে। প্রশ্ন হল, এর ঠিক উল্টোটাও সত্য কিনা। অর্থাৎ আগের চেয়ে কম পরিমাণে খাদ্যশস্য আহার করলে তাকে ক্রমবর্ধমান দারিদ্রের প্রমাণ হিসেব ধরে নেওয়া যাবে কিনা। ঠিক এখানেই কাজে লাগে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক। ...more
২৪-অক্টোবর-২০২২
প্রভাত পট্টনায়েক
জাতপাত, শ্রেণি এবং লিঙ্গ বিভিন্ন সময়পর্বে সংগ্রামের প্রধান ক্ষেত্র হিসাবে উদ্ভূত হতে পারে। এবং এগুলির যে কোনও ইস্যুও সামনে এসে হাজির হোক না কেন, তাকে নিয়েই প্রগতিশীল শক্তিকে সংগ্রামে নামতে হবে। ...more
২৩-অক্টোবর-২০২২
সুচিক্কণ দাস
নানা কৌশলে ভোটের ফলাফলে প্রতিফলিত জনাদেশ খারিজ করার প্রবণতা সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে গোটা বিশ্বজুড়ে। ভারতে বিজেপি জনাদেশ নাকচ করে টাকা দিয়ে বিধায়ক সাংসদ কিনে। দরকারে কাজে লাগানো হয় নির্বাচন কমিশন থেকে রাজ্যপাল সব শক্তিকে। ...more
১৮-অক্টোবর-২০২২
রতন খাসনবিশ
বাজারমুখী সংস্কারের নামে এক সময় চীনে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এন্টারপ্রাইজগুলিকে কমজোর করে, তার জায়গায় বেসরকারি পুঁজি চালিত এন্টারপ্রাইজগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চলছিল। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্র যে বাজারের ওপর কর্তৃত্ব করে দেঙ শিয়াও পিংয়ের এই মূল উপলব্ধিটিকে কালক্রমে দুর্বল করে তোলা হচ্ছিল। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

