Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

শুল্ক হাঙ্গামা

অর্ক রাজপন্ডিত
ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতি পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে, সঙ্কট আরও গভীর হবে। শুল্ক হল আমদানি করা পণ্যে আরোপিত কর। এর ভূমিকা হল মূলত উপভোগের ওপর করের। শ্রমিক শ্রেণির সদস্যরা তাদের আয়ের একটা বড় অংশ খরচ করেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে কেনা খাতে। সুতরাং এই শুল্কের  প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বোঝা বইতে  হবে মার্কিন গরিব মার্কিন  শ্রমিকশ্রেণিকে। 
Tariff Fiasco

(প্রথম পর্ব) 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন পুঁজিবাদ যে আক্রমণাত্মক শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে, তা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ, সর্বত্র শেয়ার বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কী হতে পারে সে নিয়ে কার্যত প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় লাগামছাড়া সব খবর এসে পৌঁছচ্ছে মিডিয়ার উন্মাদনা ও বিশ্বজোড়া আশঙ্কার আবহের মধ্যেই। বিশ্বজোড়া এই যে হইচই, তার মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাদের পেতে হবে যেগুলো এখন সামনে এসেছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির রাজনৈতিক অর্থনীতিটা ঠিক কী? এই শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব আধিপত্যের কোন নতুন রূপকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছে? আকাশছোঁয়া হারে শুল্ক আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি চীনকে কোণঠাসা করতে পারবে? এতে আমেরিকার অর্থনীতি কি নতুন করে চাঙ্গা হবে? শ্রমিকশ্রেণির ওপর এর প্রভাবই বা কী হবে? এই নিবন্ধে গুরুত্বপূর্ণ এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হবে। 

শুল্ক নিয়ে এপর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সংক্ষেপে তার পরিচয়:

৯০ দিনের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ৫৬টি দেশ থেকে আমদানির ওপর উচ্চহারে শুল্ক (আদতে ৫৭টি দেশ, কারণ আলাদা করে চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে)  কার্যকর করার কথা ছিল ৯ এপ্রিল থেকে, তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এতে অবশ্য চালু ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক কিংবা সেক্টর-নির্দিষ্ট ২৫ শতাংশ শুল্ক এখনও নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং, ৯০ দিন স্থগিত রাখা মানে নির্দিষ্ট দেশগুলির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ কার্যকর করাটা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার ১০ শতাংশ হারে মূল শুল্ক জারি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চীনও বদলা নিয়েছে মার্কিন পণ্য আমদানির ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প সাময়িকভাবে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলেছেন কারণ বন্ডের বাজারে এই সিদ্ধান্ত ভালরকম চাপ তৈরি করেছিল এবং তার ফলে ঋণের বাজার সঙ্কুচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে উদ্বেগে পড়েছিল হেজ ফান্ডগুলি কারণ তাদের হাতে রয়েছে মার্কিন বন্ডের একটা বিরাট অংশ। ৩০ বছর মেয়াদি ইউ এস ট্রেজারি বন্ডের দাম এবং বন্ড থেকে আয় — এদুয়ের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। শুল্ক ঘোষণার পরপরই সেই বন্ড থেকে আয় ৬০ বেসিস পয়েন্ট বা ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। সরকারি বন্ডে এই যে লাভের বৃদ্ধি, তার ফলে বন্ডের বিনিময়ে নেওয়া ঋণের যে অংশ তখনও মেটানো হয়নি, তার ওপর দেয় সুদবাবদ টাকার পরিমাণটাও বেড়ে যায়। আবার যদি বন্ডের দাম হঠাৎ করে অনেকটা নেমে যায়, তাহলে ঘোরতর দেউলিয়া অবস্থা দেখা দিতে পারে। এই দেউলিয়া দশায় ঝর্ণার স্রোতের মতো অর্থনীতির কাঠামোর নীচের দিকে নামতে শুরু করে, ফলে আর্থিক ক্ষেত্রে ধ্বস নামে এবং অর্থনীতি ভালরকম গোঁত্তা খেয়ে নীচের দিকে নেমে যায়। সম্ভবত এটা ঠেকাতেই ৯০ দিনের স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হযেছিল। আমেরিকা আমদানির ওপর, বিশেষত চীন থেকে আমদানির ওপর ভালরকম নির্ভরশীল। সেই জন্য খুব দরকারি ইলেকট্রনিক পণ্য, যেমন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, সেমিকনডাক্টর ডিভাইস — এগুলি শুল্কের তালিকা থেকে ট্রাম্প বাদ দিয়েছেন। ৯০ দিনের এই স্থগিতাদেশ জারি করে যাদের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুবিধা আদায় করে নিতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মার্কিন নিশানার মধ্যে এসে পড়া বহু দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছে আলোচনার মাধ্যমে কিছু পারস্পরিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে। 

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির রাজনৈতিক অর্থনীতি

বাণিজ্য ও পুঁজির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা পুঁজিবাদের একটা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। দক্ষ উৎপাদক দেশ কম দক্ষ দেশগুলির ওপর ঘাটতি চাপিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা মোটেই এরকম নয়। বরং পুঁজিবাদের অসম এবং সম্মিলিত বিকাশভূমি থেকেই এর উৎপত্তি। এর জেরে যাদের উৎপাদন ব্যয় কম তেমন জাতীয় অর্থনীতিগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তি মূল্য উসুল করে নেয় কম দক্ষ দেশগুলির জাতীয় অর্থনীতির ঘাড় ভেঙে। মার্কিন পুঁজিপতিদের মূল উদ্বেগের কারণ এটা নয় যে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত দেশগুলির চাপে তারা বাজারে আরও ডলার ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাদের উদ্বেগের আসল কারণ হল, চীনের ক্রমবর্ধমান উৎপাদনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, এবং এটাই আমেরিকার অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেছে। 

বাণিজ্য ঘাটতি বজায় রেখে সস্তায় আমদানি করে দশকের পর দশক লাভ করে এসেছে আমেরিকা। এটা সম্ভব ছিল কারণ যেসব দেশ আমেরিকায় রপ্তানি করত, তারা বাধ্য হত  ডলারে পেমেন্ট নিতে এবং সেই ডলার পুনর্বিনিয়োগ করত ইউ এস সরকারি বন্ডে কিংবা ডলারের আধিপত্য রয়েছে এমন সম্পদে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এই দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ঘাটতি চাপিয়ে দিচ্ছে না। বরং মার্কিন রপ্তানিকারীদেরই পণ্য বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় নেমে লড়াই করতে হচ্ছে। যদিও পরিষেবা ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভালরকম উদ্বৃত্ত রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি ও উপভোক্তাদের সৌভাগ্য যে, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলি এখনও পর্যন্ত ডলারই নিচ্ছে। যদি এই অবস্থা বদলে যায়, তাহলে মার্কিন অর্থনীতিকে ঘোরতর সমস্যায় পড়তে হবে। পড়তে হবে সেই সব গরিব দেশের মতো যাদের নিজস্ব, আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কোনও মুদ্রা নেই। এর ফলে ডলারের অবমূল্যায়ণ ঘটাতে হতে পারে এবং অথবা ধার করার খরচ আরও বাড়তে পারে। 

গোটা বিশ্বে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ করার জন্য ট্রাম্পের ইচ্ছা হল মার্কিন কোম্পানি ও উপভোক্তাদের বিদেশি পণ্য আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেওয়া। এতে চাহিদাও কমবে এবং মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতিও ভালরকম কমবে। তাঁর লক্ষ্য হল এই ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং বিদেশি কোম্পানিগুলিকে উৎসাহিত করা আমেরিকায় বিনিয়োগ করে আমেরিকাতেই কারখানা খোলার জন্য, নিছক পণ্য আমদানি করার জন্য নয়। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ট্রাম্পের টিম প্রতিটি দেশের জন্য শুল্ক বাড়ানোর হিসাব কষেছে মোটের ওপর একটা ফর্মুলাকে কাজে লাগিয়ে। ফর্মুলাটা হল, একটা দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি যতটা পরিমাণ, সেই পরিমাণকে সেই দেশ থেকে মার্কিন আমদানির মূল্য দিয়ে ভাগ করো এবং সেই ভাগফলকে আবার দুই দিয়ে ভাগ করো। 

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এই কৌশল আমেরিকার মাটিতে ম্যানুফ্যাকচারিং বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাঁর আরও অনুমান যে, বাড়তি শুল্ক থেকে এত টাকা আদায় হবে যা তাতে আয়কর ও কর্পোরেটের মনুাফার ওপর কর কমানো সম্ভব হবে। বস্তুত তাঁর ইচ্ছা হল আয়কর পুরোপুরি তুলে দেওয়া। আয়কর কমালে তা থেকে লাভবান হবেন উচ্চ আয়ের লোকেরা। ট্রাম্প নিজে ওই শ্রেণিরই প্রতিনিধি। কিন্তু এর ফলে যে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে তাতে কম আয়বিশিষ্ট লোকজন ও শ্রমিকশেণির ওপর চাপ অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে যাবে। 

ক্রমশ ক্ষয় পাওয়া মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবে শুল্কযুদ্ধ? পারবে কি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে মার্কিন নেতৃত্ব আবার ফিরিয়ে আনতে?

পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব তীব্র হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদেরও ক্ষয় হয়েছে। কারণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ওপর ভরসা না করে ভরসা রেখেছিল আধিপত্য, মুদ্রা থেকে মুনাফা এবং ফাটকার পথে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই ক্ষয় থেকে স্পষ্ট হয়, উচ্চ আয়ের দেশগুলির মধ্যে মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মূল্য যোগ করার শতাংশ ক্রমশ কমছে। ২০০০ সালে এই শতাংশ ছিল ৭৮ শতাংশ, ২০২১ সালে তা কমে হয়েছে ৫১ শতাংশ। উল্টোদিকে কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলির  অংশ ২০০৪ সালে ছিল ২২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়ছে ৪৮ শতাংশ। বিশেষ করে সারা বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে চীনের ভাগ যা ২০০৪ সালে ছিল ৯ শতাংশ তা ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে মার্কিন শতাংশ ২০০০ সালে ২৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২১ সালে হয়েছে ১৬ শতাংশ। এসবই ২০২৪ সালের বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য। আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ যে বিশাল তার কারণ হল অন্যান্য বড় প্রতিযোগী, বিশেষত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না তারা। গত ১৭ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতার বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে প্রতিযোগিতায় জেতা  আমেরিকার কাছে ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে। বিশ্বে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরই বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যে এখন প্রাধান্যকারী শক্তি। ৯টি বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারারদের মোট উৎপাদন যত, চীনের উৎপাদন তাদের মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি। 

ডলারের সঙ্গে সোনার মূল্যমানের সম্পর্ক ১৯৭১ সালেই তুলে দিয়েছিলেন নিক্সন। ফলে তখন থেকে ডলার হয়ে ওঠে আধিপত্যকারী বিশ্ব পরিসরের মুদ্রা। এতে আমদানির খরচ মেটানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ দুটোতেই অনন্য সুবিধা ভোগ করার অধিকারী হয় আমেরিকা। তবে তাতে করে গোটা সাতের দশক জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং বাজারের শতাংশ কমে আসা আটকানো যায়নি। তার পর ১৯৭৯ সালে ফেড চেয়ারম্যান ভোলকার সুদের হার বাড়িয়ে একেবারে ১৯ শতাংশ করে দেন। এর জেরে মার্কিন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র মন্দা দেখা দেয়। এরপর ডলারের শক্তি বৃদ্ধি হলে মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প অন্য দেশে চলে যাওয়ার গতি দ্রুততর হয়। সেটাই ছিল নিও লিবারাল যুগের সূচনা। ১৯৮৫ সালের প্লাজা চুক্তি, যার লক্ষ্য ছিল অন্য অনেক মুদ্রার নিরিখে ডলারকে দুর্বল করা, শেষ পর্যন্ত শিল্পক্ষেত্রে জাপানের নেতৃত্বের ভূমিকা খর্ব করেছিল বটে,  কিন্তু তাতে করে আমেরিকার মাটিতে  মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের পুনরুজ্জীবনে চেষ্টাও সফল হতে পারেনি।

এবারও চড়া হারে শুল্ক আরোপ করে মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরকে চাঙ্গা করা কঠিন। সেই ১৯৬০এর দশকের ‘সোনালি সময়’ থেকেই আমেরিকায় ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য ভাবে কমছে। প্রাথমিকভাবে এর কারণ হল মুনাফা কমে যাওয়া এবং শ্রমের জায়গায় প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রতিষ্ঠা। এবং কর্মসংস্থান করা বাণিজ্যের উদারীকরণের জন্য মোটেই নয়। আসলে ট্রাম্পের টিমের লক্ষ্য হল রোবট এবং এআই দিয়ে নিজেদের দেশে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষমতা বাড়ানো। এতে এই সেক্টরে খুব কমই নতুন কর্মসংস্থান হবে। বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নেতৃত্বের জায়গায় ট্রাম্প যে আমেরিকাকে ফেরাতে চাইছেন সেটা একটা অবাস্তব ভাবনা। ম্যানুফ্যাকচারিং ভ্যালু চেনকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে বিশ্বায়ন। ফলে উৎপাদনের ব্যবস্থাই ছড়িয়ে গেছে বিশ্বময়। তাই বাণিজ্য ঘাটতি একেবারে শূ্ন্য করে আনাটা খুবই অসম্ভব একটা ব্যাপার। তা যদি একান্ত হয়ও তাহলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে শ্রমশক্তি বাড়বে বড় জোর ৮ থেকে ৯ শতাংশ, যা একেবারেই অগ্রাহ্য করার মতো। 

যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রকে আগের অবস্থায় ফেরাতে হয় তাহলে দরকার দেশের মধ্যেই বিনিয়োগ। তবে সরকারি কনট্র্যাক্টে সামরিক উৎপাদনের পিছনে ডলার ঢালা ছাড়া, মার্কিন কোম্পানিগুলির মধ্যে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ ছাড়া (অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, মেটা, টেসলা, অ্যামাজন, এনভিডিয়া) বাকিরা ইতিমধ্যেই স্বল্প মুনাফার রক্তাল্পতায় আক্রান্ত এবং তারা দেশের মধ্যে সম্ভবত বিনিয়োগ বাড়াতে যাবে না। এবং এটাও ঠিক যে, মেটা ছাড়া ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের বাকিদের তেজ ২০২৫ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গত পাঁচ মাসে ক্রমশ কমেছে এবং এই সব কোম্পানিগুলির বেশিরভাগের শেয়ারের দাম বাড়ার বদলে কমেছে। 

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পথ অর্থনৈতিক ‘মুক্তি’র পথ নয়। বরং এতে দেশের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। শুল্ক ঘোষণার আগেই বিভিন্ন ভাবে দেখা যাচ্ছিল মার্কিন অর্থনীতি গতি হারাচ্ছে। ২০২৫ এর ১৭ এপ্রিল আটলান্টা ফেড হিসাব কষে দেখেছিল, ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি সঙ্কুচিত হবে ২.২ শতাংশ। এখন গোল্ডম্যান স্যাকস দেখাচ্ছে, এবছর আমেরিকার অর্থনীতিতে মন্দার সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ এবং বার্ষিক জিডিপি বাড়তে পারে ০.৫ শতাংশ এবং এসবই ঘটবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে। এই আগ্রাসী শুল্ক নীতি পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে, সঙ্কট আরও গভীর হবে। শুল্ক হল আমদানি করা পণ্যে আরোপিত কর। এর ভূমিকা হল মূলত উপভোগের ওপর করের। শ্রমিক শ্রেণির সদস্যরা তাদের আয়ের একটা বড় অংশ খরচ করেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে কেনা খাতে। সুতরাং এই শুল্কের  প্রভাব সবচেয়ে বেশি বোঝা বইতে  হবে মার্কিন গরিব ও মার্কিন  শ্রমিকশ্রেণিকে।

শেষ পর্ব আগামীকাল 

 

 

 


প্রকাশের তারিখ: ০৭-মে-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬