সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক
বেসরকারি বীজ শিল্পের স্বার্থই চরিতার্থ করবে বীজ বিল ২০২৫
সোমা মারলা
বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলির জাল ও খারাপ বীজ কৃষকদের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য অপরাধী বীজ কোম্পানিগুলির বড়ো অঙ্কের জরিমানা কিংবা কঠোর শাস্তির কোনো ব্যবস্থা খসড়া বীজ বিলে রাখা হয়নি। যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছ তা হলো — নিম্নমানের বীজ, কিউআর কোড না-থাকা প্রভৃতি ছোটোখাটো নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং বীজের উন্নত বৈশিষ্ট্যের মিথ্যা দাবি, অঙ্কুরোদ্গমন ঠিভাবে না-হওয়ার মতো বড়ো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যদি খারাপ বীজের জন্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় তাহলে কৃষককে ক্ষতিপূরণ পেতে হলে আদালতের অনুমোদনের দরকার পড়বে। ...more
সোমা মারলা
বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলির জাল ও খারাপ বীজ কৃষকদের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য অপরাধী বীজ কোম্পানিগুলির বড়ো অঙ্কের জরিমানা কিংবা কঠোর শাস্তির কোনো ব্যবস্থা খসড়া বীজ বিলে রাখা হয়নি। যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছ তা হলো — নিম্নমানের বীজ, কিউআর কোড না-থাকা প্রভৃতি ছোটোখাটো নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং বীজের উন্নত বৈশিষ্ট্যের মিথ্যা দাবি, অঙ্কুরোদ্গমন ঠিভাবে না-হওয়ার মতো বড়ো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যদি খারাপ বীজের জন্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় তাহলে কৃষককে ক্ষতিপূরণ পেতে হলে আদালতের অনুমোদনের দরকার পড়বে। ...more
০৭-মার্চ-২০২৬
এম এ বেবি
শাসক শ্রেণিগুলি বিশ্বাস করে যে ওরা আমাদের ক্লান্ত করে ফেলতে পারে। ওরা বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রের মেশিনারি আর মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বিক্ষোভের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দেবে। কিন্তু ওরা ভুল ভাবে। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে শ্রমিক শ্রেণি যখন এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিশ্বের কোনও শক্তিই সেই পরিবর্তনের জোয়ারকে ঠেকাতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট কম্বুকণ্ঠে ঘোষণা করবে যে, ভারতের মেহনতী মানুষ তাদের বহু কষ্টার্জিত অধিকারগুলি কর্পোরেট মুনাফার যূপকাষ্ঠে বলি দেবে না। এখন সময় এসেছে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর। দেশের প্রতিটি কোনায় উড়ুক রক্তিম পতাকা। শোষণ, ঘৃণা এবং বিভাজনের শক্তিগুলির বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে উঠুক শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য। ...more
০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
প্রভাত পট্টনায়েক
মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকার অর্জন করেছিলেন গ্রামীণ গরিব মানুষেরা। এই অধিকার বাতিল করার জেরে গ্রামীণ গরিব মানুষেরা একটা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক থেকে পরিণত হবেন এক দল মরিয়া ভিক্ষাজীবীতে। যেহেতু তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তাই এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে আসবে কিছু উপঢৌকন নিয়ে এবং সেখানে নরেন্দ্র মোদির ছবি লটকানো থাকবে। অথচ সেক্ষেত্রেও তাঁদের বেঁচে থাকা এখনকার তুলনায় শোচনীয়তর হয়ে উঠবে। তবে যতটা রুটির টুকরো তাঁরা পাবেন সেজন্য তাঁদের মোদির কাছেই ঋণী থাকতে হবে। যাঁরা গরিব কিন্তু শ্রমজীবী তাঁদের নাগরিকের অবস্থান থেকে ভিক্ষুকে পরিণত করাটাই সব ফ্যাসিবাদী প্রকৃতির সংগঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং এই সব সংগঠনগুলি অনিবার্যভাবেই একজন ‘নেতা’র কাল্ট গড়ে তোলে।
...more২৯-ডিসেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
শ্রমিকদের অধিকারের যে ধারণা তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শ্রমিকদের বহু সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। এই সব সংগ্রাম গোড়ার দিকে ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পরে শ্রমিকেরা নিজেদের ট্রেড ইউনিয়নে সংগঠিত করেন। শ্রমিক শ্রেণির এই সব সংগ্রামের ফলে শাসক শ্রেণিগুলি বাধ্য হয়েছিল এমন আইন প্রণয়ন করতে যাতে শ্রমিকদের কিছু অধিকার ও সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে ছিল সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাও। সারা পৃথিবী জুড়ে এখন কার্যকর করা হচ্ছে নয়া উদারনৈতিক নীতিসমূহ এবং তার ফলে শ্রমিক শ্রেণির অর্জিত অধিকার ও সুবিধাগুলির ওপর সরকারের আক্রমণ নেমে আসছে। এই আক্রমণ নেমে আসছে আমাদের দেশেও। এর লক্ষ্য হল শ্রমিক শোষণ বাড়িয়ে কর্পোরেটের মুনাফাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্কট গভীরতর হওয়ায় মালিকপক্ষের শোষণ ও হামলা তীব্রতর হয়েছে। ...more
০২-ডিসেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
‘সুপারভাইজার’ ও ‘ম্যানেজার’ নামকরণ করে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিরাট অংশকে শ্রম কোডের আওতার বাইরে করে দেওয়া হবে। যারা ‘সুপারভাইজরি পদে’ কাজ করছেন এবং মজুরি হিসাবে মাসে ১৮ হাজার টাকার বেশি পাচ্ছেন তারাও শ্রমিক সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়বেন। এই পদে মজুরির পরিমাণ সময়ে সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশোধনও করা যাবে। ইতিমধ্যেই বহু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের একাংশকে ‘সুপারভাইজার’ /‘ম্যানেজার’/ ‘অফিসার’/ ‘এগজিকিউটিভ’ ইত্যাদি নামে যথেচ্ছভাবে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এসবের লক্ষ্য হল ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থেকে এদের বঞ্চিত করা এবং ‘ইউনিয়নভুক্ত নন’ হিসেবে এদের বিবেচনা করা। এই বিষয়টাকে শিল্প সম্পর্ক কোডের মাধ্যমে আইনসম্মত করা হয়েছে। ...more
০১-ডিসেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
১৯৯১ সালে শ্রমিকদের আইনি অধিকার শাসক শ্রেণির পরিকল্পিত আক্রমণের মুথে পড়েছিল। পিভি নরসিংহ রাওয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার মালিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ‘এগজিট পলিসি’ আইন চালু করা হবে যেখানে তাদের অধিকার থাকবে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে কোনও রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই শ্রমিকদের রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার। তখন থেকেই পুঁজিপতিরা পরের পর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে তথাকথিত ‘শ্রম আইন সংস্কার’ কার্যকর করার জন্য। বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি ও এনডিএ সরকার দ্বিতীয় জাতীয় শ্রম কমিশন নিয়োগ করে। কমিশনের সুপারিশগুলিই হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের তরফে চালু শ্রম আইনগুলিকে এখনকার শ্রম কোডে পরিণত করার ভিত্তি।
...more৩০-নভেম্বর-২০২৫
কে এন উমেশ
শ্রম আইন বলবৎ করা, বিধিনিয়ম মেনে চলা, পরিদর্শনের ব্যবস্থা এবং শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আপস আলোচনার ব্যবস্থা করা বা ফয়সালা করা — শ্রম আইনের পরিসরে এসব কাজে শ্রম মন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। আলোচ্য নীতিতে মন্ত্রকের সেই সব কাজের সুযোগ ঘুচিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন শ্রম মন্ত্রকের ভূমিকা হবে শুধুমাত্র নিয়োগ বা কাজ পেতে সাহায্য করা। তবে সেই দায় মন্ত্রক ঠিকমতো পালন করছে কিনা তা পরিমাপ করার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শ্রম শক্তি নীতি ২০২৫ মালিকশ্রেণির হাতে সেই ক্ষমতা দিতে চেয়েছে যাতে তাদের কাছে শ্রম আইন ভাঙার লাইসেন্স থাকে। তার চেয়েও বড় কথা, এমনকী অনেক বেশি দুর্বল করে ফেলা শ্রম কোডগুলিকেও ক্রমাগত লঙ্ঘন করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এবং মালিকপক্ষকে এমনভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নয়া মুক্ত বাণিজ্যের একটা রাজত্ব কায়েম করতে পারে। ...more
২৬-অক্টোবর-২০২৫
উর্বা চৌধুরী
“ছেলেটা ঘর ছেড়ে গেছে চোদ্দ বছর বয়সে। লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হল। গুজরাটের আমেদাবাদে হেল্পারের কাজ করত। ক’বছর আগে এখানে এসে বিয়ে করল, ছেলে হল, সেই ছেলের বয়স এখন তিন। তারপর একদিন জানা গেল উঁচু ভাড়া থেকে পড়ে গেছে। বাঁচল না। ভাবি, লেখাপড়াটা শেষ করলে এ কাজ হয়তো করতে হত না। অন্য কোনও কাজ পেত। কিন্তু কী করে পেত? কাজ তো নাই!” কোচবিহারের মাথাভাঙার এক গ্রামের বৃদ্ধা বলে চলেন তাঁর ছেলের পরিযায়ী শ্রমিক, শিশুশ্রমিক জীবনের বেঁচে থাকার কাহিনী এবং আচমকা মারা যাওয়ার কাহিনীও। একের পর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ নানা রাজ্য থেকে মজুরের কাজ করতে চলে যাচ্ছে বাইরের রাজ্যে। ...more
১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫
জ্যোতি বসু
অনেক লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে শ্রমিকশ্রেণি ধর্মঘট করার অধিকার অর্জন করেছে। এই অর্জিত অধিকার আপনারা কখনও কারো হাতে ছেড়ে দেবেন না। এমনকি, ধর্মঘটের অধিকার আপনারা বামফ্রন্ট সরকারের হাতেও তুলে দেবেন না। প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শ্রমিক ও মালিকদের বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু প্রয়োজন হলে ধর্মঘট করতে হবে। ...more
০৮-জুলাই-২০২৫
কে হেমলতা
পুঁজিবাদের ব্যবস্থাগত সংকটের গভীরতা থেকেই জন্ম নিয়েছে এই পরিস্থিতি। ভারত সহ সারা বিশ্বের সমস্ত পুঁজিবাদী দেশেই শাসক শ্রেণি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে শ্রমিক শ্রেণি ও অন্যান্য শ্রমজীবী অংশের কষ্টার্জিত অধিকার সহ প্রাথমিক গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের উপর আক্রমনের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। মোদী সরকার নিজে এখনও শ্রম কোডের প্রজ্ঞাপন জারি না করলেও এই কোডের প্রজ্ঞাপনের জন্যে রাজ্য সরকারগুলিকে চাপ দিচ্ছে। বিজেপি, কংগ্রেস সহ ডিএমকে, আপ, তেলেগু দেশমের মত রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বাধীন বেশিরভাগ রাজ্য সরকার যারা নয়া উদারবাদে আস্থা রাখে তারা শ্রম আইন সংশোধন করছে। ...more
০৭-জুলাই-২০২৫
পৃথা তা
আর্থিক দাবি দাওয়া, সামাজিক উৎপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই তো রয়েছেই, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল সমাজের কাছে শ্রমজীবী হিসেবে এঁদের আত্মপ্রকাশ। আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ৯ জুলাই-এর সাধারণ ধর্মঘট। ভারতের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের সাথে ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছে বাংলার গৃহসহায়ক কর্মীরা। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ ঘোষিত গরহাজিরা ওই দিন জানান দিয়ে যাবে এই শ্রমের গুরুত্ব। সংঘবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসা চিনিয়ে দেবে শ্রেণি হিসেবে তাদের অস্তিত্ব। জুড়ে দেবে তাঁদের অন্য অংশের শ্রমজীবী মানুষের সাথে। ...more
০৭-জুলাই-২০২৫
স্বাতী শীল
কিন্তু মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। যদিও তা লেখা আছে আইনে। বাধ্য হয়ে মহিলা শ্রমিকরা গর্ভাবস্থার শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করেন। বাচ্চা জন্মের ক’দিন পরেই ফের কাজে ফিরতে বাধ্য হন। হাড়ভাঙা খাটুনি, হাজারো কেজির মাল বওয়ার কাজ মহিলা শ্রমিকদের শরীরে প্রভাব পড়ছে। অনিয়মিত ঋতুস্রাব, গর্ভপাত, প্রসব সমস্যা-সহ নানা যৌন রোগেরও শিকার হচ্ছেন তাঁরা। বাড়ছে সদ্যজাত শিশু মৃত্যুর হার। বহু মহিলা শ্রমিকরাই কোলের শিশুকেও কাজের জায়গায় আনতে বাধ্য হন। বাড়িতে কেউ দেখার থাকে না বলে। সাইটে না আছে ক্রেশ, না আছে নূন্যতম সন্তান লালন পালনের ব্যবস্থা। ধুলো বালি, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বড় হয় বাচ্চা। ...more
০৬-জুলাই-২০২৫
তিতাস
এই শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই শিরদাঁড়া বেঁকে যাচ্ছে, বদহজম, মাথা যন্ত্রণা, স্পন্ডালাইটিস্ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ এই শ্রমিকরা ঘাড় ঘোরানোর সময়ও পান না। কাজের চাপের সাথেই বাড়ছে মানসিক অবসাদ। কয়েক মাস আগেই দেশের একটি নামকরা বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার একজন কর্মী অফিসের ভিতরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর বাড়ির লোক জানিয়েছিল শরীর খারাপের জন্য দীর্ঘদিন ছুটি চেয়েও তা পাননি, উল্টে চেপেছে অমানবিক কাজের চাপ। কাজের চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। ...more
০৩-জুলাই-২০২৫
চন্দন দাস
চোদ্দ বছর আগে রাজ্যে বামফ্রন্টের সরকার ছিল। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার। মমতা ব্যানার্জি সেই সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দলের আরও ৬ জন মন্ত্রী ছিলেন সেই সরকারের। রাজ্যে তৃণমূল, বিজেপি, মাওবাদী, আরএসএস, জামাত সহ নানা বামফ্রন্ট বিরোধী শক্তির জোট নৈরাজ্য কায়েম করেছিল বেশ কিছু এলাকায়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ছাত্রছাত্রীর মিড ডে মিলের বন্দোবস্ত করা দরকার। ...more
০২-জুলাই-২০২৫
এম এ বেবি
যখনই শ্রমিকরা দাবি তোলেন ন্যূনতম মজুরির বাস্তবায়নের এবং তাদের শ্রমের মধ্য দিয়ে যুক্ত মূল্যের ন্যায়সঙ্গত অংশীদারির, তখনই অর্থের অপ্রতুলতার অজুহাত দেওয়া হয়, যা সর্বৈব মিথ্যা। একবার ভাবা যাক, ফি বছর কী হারে কর্পোরেট ট্যাক্স মকুবের মাধ্যমে সরকারি অর্থ রেহাই হয়। এই কর্পোরেট কর ছাড়ের জন্যে প্রতি বছর সরকারের ক্ষতি হয় ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। এই অর্থ বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যোগফলের চেয়েও বেশি। ...more
২৯-জুন-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
দীর্ঘমেয়াদি এই সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হল ইউনিয়নের স্বীকৃতি। যদিও, চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য মজুরি বৃদ্ধির কথাও আছে। তিন বছরে ১৮,০০০ টাকা থেকে ২৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি। সঙ্গে বিশেষ পদোন্নতি, বাড়তি ইনসেনটিভ, সবেতন ছুটির পরিমাণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা। তবে, মূল দাবি ছিল ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার। এবং কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে যৌথ দরকষাকষির স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এবং এই দাবি বর্তমানে সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। ...more
৩১-মে-২০২৫
কে হেমলতা
নয়া উদারনীতির সবচেয়ে বড় আক্রমণ এসেছে শ্রম আইন সংস্কারের নামে। এই তথাকথিত সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকার হরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে দুর্বল করা। ১৯৯১ সালের আগে এই ধরনের আক্রমণ দেখা যায়নি, যদিও অতীতেও শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ১৯৯১ পরবর্তী সময় থেকে এই আক্রমণ ধারাবাহিক ও কাঠামোগতভাবে জোরদার হয়েছে। ...more
১৬-মে-২০২৫
চন্দন দাস
তৃণমূলের লুটের কারণে পশ্চিমবঙ্গে রেগার কাজ বন্ধ করেছে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সরকার। বরাদ্দর টাকার দাবিতে তৃণমূল রাজ্যে কোনও আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেনি। গত তিন বছর রাজ্যে রেগার কাজ বন্ধ। টাকা বেঁচে যাচ্ছে মোদী সরকারের। রাজ্য সরকারকে কিছু টাকা দিতে হয় রেগার জন্য। তাও সাশ্রয় হচ্ছে মমতা-সরকারের। কিন্তু ক্ষতি কার? উত্তর সোজা— গ্রামীণ গরিবের। ...more
০১-মে-২০২৫
এস এম সাদি
নয়া-উদারবাদী অর্থনীতিতে লগ্নীপুঁজির মুনাফা লাভের হৃদয়হীন শোষণের শিকার হচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। কর্পোরেট পুঁজি বেশি বেশি লাভের জন্য কম মজুরিতে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগায়। পরিযায়ী শ্রমিকরা এই সমাজে হয়ে উঠেছেন সস্তার কাজের লোক। এদের ক্ষেত্রে বেতনের অঙ্ক সাজিয়ে নেওয়া যায় নিজেদের মর্জিমাফিক। খাটানো যায় যন্ত্রের মত। এই জীবনযন্ত্রণা শুধু পুরুষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নয়, নারী পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ...more
১৮-এপ্রিল-২০২৫
সুকান্ত কোঙার
রাজ্যে একটা গুন্ডাদের সরকার চলছে। সরকারি প্রকল্প ও অনুদানকেও নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করলে সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আর এই গুন্ডামিকে ব্যবহার করে লাগামহীন দুর্নীতি করা হচ্ছে। রাজ্যে এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। পরীক্ষায় শূন্য পেলেও টাকার জোরে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে- একেবারে অযোগ্যরাও এম ডি চিকিৎসক হচ্ছে। নারী নির্যাতন নিত্যকার ঘটনা। ধর্ষক এবং চোর-গুন্ডারা এই রাজ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সাজানো ঘটনা, মিথ্যা ঘটনা ইত্যাদি কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষকদের আড়াল করছেন।
...more১৭-এপ্রিল-২০২৫
সুদীপ্ত বাগচী
ছোটো ছোটো আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলে ব্রিগেডের সমাবেশে যেতে হবে। এই সমাবেশ যে বৃহৎ আত্ম (শ্রেণি) পরিচয়ের উপলব্ধি জন্ম দেবে, তা ভবিষ্যতে লাগাতার লড়াইগুলোর জন্ম দিতে পারে যদি আমরা আরও নিবিড়ভাবে বস্তিবাসী মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকি, হয়ে থাকি তাঁদের যন্ত্রণা-আনন্দের শরিক। আসলে প্রান্তিক এই জীবনে অবিরল উচ্ছ্বসিত প্রাণ ধারা বয়ে চলেছে। ...more
১৬-এপ্রিল-২০২৫
দেবাঞ্জন চক্রবর্তী
যদিও, ২৪৯টি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ২.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা। প্রায় প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকারকে ডিভিডেন্ট দেয় ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষে অনেকগুলি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ৫ লক্ষ কোটি টাকা লাভ করেছে। তা সত্ত্বেও জলের দরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে যে সম্পত্তি বিক্রি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে, ...more
১৫-এপ্রিল-২০২৫
অমল হালদার
আসলে এই আইন চালু হলে দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক চাষ ছেড়ে দেবে। ব্যাপক সংখ্যায় কৃষক ধ্বংস হয়ে ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হবে। লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দোকানদার বাজার থেকে বিতাড়িত হবে। বহুজাতিক কোম্পানি সমস্ত খাদ্যশস্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণভার জোরদার করার ফলে সব জিনিসের দাম বিপুল পরিমাণে বাড়বে। দেশের কৃষক ও কৃষিব্যবস্থা শুধু ধ্বংস হয়ে যাবে তাই নয়, এ-দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য-নিরাপত্তা ভেঙে চৌচির হয়ে যাবে। ...more
১৩-এপ্রিল-২০২৫
সঞ্জয় পূততুণ্ড
কেরালায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সরকারি পদক্ষেপের ফলে ওয়ানাদ এবং কাশার গড় জেলায় ব্যাপক আত্মহত্যার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। এখানে বাগিচায় উৎপাদিত ফসলের দাম না-পেয়ে কৃষক ঋণ পরিশোধে অপারগতার যে-পরিস্থিতি ছিল, তাদের সরকার তার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেয়। ...more
১২-এপ্রিল-২০২৫
প্রকাশ কারাত
বামপন্থীদের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা ও বাম রাজনীতির আরও প্রভাব বৃদ্ধির জন্য এটাই সময়। নয়া-উদারনৈতিক পুঁজিবাদের বিরোধিতায় ও শ্রমিক জনগণের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার পথে বামপন্থীরাই একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি যারা নিরবিচ্ছিন্নরূপে সক্রিয় রয়েছে। হিন্দুত্ববাদী নয়া-ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা ও প্রতিহত করতে জরুরী মতাদর্শগত সামর্থ্য ও দায়বদ্ধতা রয়েছে বামপন্থীদেরই। বামপন্থীরাই একমাত্র শক্তি যারা আমাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে পারে। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৫
পি. সাইনাথ
শহর থেকে গ্রামে ‘ফিরতি অভিবাসন’ সম্ভবই হত না যদি তার আগে গ্রাম থেকে শহরে বিপর্যয়তাড়িত দেশান্তর না ঘটে থাকত। এই দেশান্তর এতটাই ব্যাপক ছিল যে মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা যোজনার উপর বিপুল পরিমাণ চাপ সৃষ্টি হয়, এবং সরকারকে যোজনায় নতুন করে টাকা ঢালতে হয়। এখন কিন্তু আবারও এই যোজনাকে অবহেলা করা হচ্ছে, আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য উপায়ে। ...more
১৩-মার্চ-২০২৫
চিত্তব্রত মজুমদার
ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সাম্প্রদায়িকতাই মানুষের বিশ্বাস অনুসারে ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিটি ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যেই এই সাম্প্রদায়িক শক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে। এই শক্তিগুলি আজ নিজ নিজ ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় প্ররোচিত করে দেশের জাতীয় সংহতি ও ঐক্যকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। এ কারণেই এই শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আজ প্রতিটি দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কর্তব্য হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতাকে নির্মূল করেই আমরা একদিকে প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস অনুসারে ধর্মপালনের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো অন্যদিকে জনজীবনের সমস্যাগুলির সমাধানের লক্ষ্যেও সমস্ত ধরণের ধর্মে বিশ্বাসী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো। ...more
২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
জ্যোতি বসু
বিপ্লবের সাফল্যের অনেকগুলি পূর্ব শর্ত আছে। একটি পূর্ব শর্ত হলো- এই বিপ্লব কমিউনিস্ট পার্টির, অর্থাৎ মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টির চূড়ান্ত ভূমিকা। জনগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠনের সংগ্রাম পরিচালনাকালে আমাদের পার্টি সংগঠনকে শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার জন্য সচেতন প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পার্টি সভ্যদের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব অনুশীলন করতে হবে এবং এই তত্ত্বকে দেশের বাস্তব অবস্থায় প্রয়োগের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। মার্কস, এঙ্গেলস ও লেনিন আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে তাঁদের তত্ত্ব অনুশীলন ও প্রয়োগ করতে হবে। ...more
১৯-জানুয়ারি-২০২৫
জ্যোতি বসু
পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা তার অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদন শক্তির মধ্যে সংঘাত সত্ত্বেও আপনা থেকে ভেঙে পড়বে না। শুধুমাত্র বাস্তব অবস্থা তৈরি হলেই বিপ্লব হয় না- এই বিপ্লব সমাধা করার জন্য চাই সচেতন চালিকা শক্তি। "দার্শনিকগণ বিশ্বের ব্যাখ্যা করেছেন- এখন প্রশ্ন হলো এর পরিবর্তন"- মার্কস ও এঙ্গেলস-র এই কথাগুলি ভুলে গেলে চলবে না। মার্কস ও এঙ্গেলস তাঁদের রচিত কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তেহার-এ (১৮৪৮) বলেছেন: পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা বুর্জোয়াশ্রেণীরই শুধু জন্ম দেয়নি, এই শ্রেণীর শোষণ প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিরও জন্ম দিয়েছে। সেই শক্তি হলো- আধুনিক সর্বহারাশ্রেণী। ...more
১৮-জানুয়ারি-২০২৫
জ্যোতি বসু
মার্কসবাদ একটি বিজ্ঞান। ডারউইন যেমন প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন তেমনি মার্কস আবিষ্কার করেছেন সমাজ বিকাশের নিয়ম। কার্ল মার্কস মৃত্যু শতবর্ষ পালনকালে আমাদের মার্কস-র এই বৈজ্ঞানিক অবদানের কথা স্মরণ করতে হবে। মার্কস ও এঙ্গেলস সমাজ বিকাশের গতি-প্রকৃতির বিস্তারিত অনুশীলন ও গবেষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, কমিউনিজম অবশ্যম্ভাবী, এটা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনা নয়। মার্কস ও এঙ্গেলস-র বৈপ্লবিক তত্ত্বের সাথে পরিচিত হতে হলে এবং সেই তত্ত্বকে দেশের বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট অবস্থায় প্রয়োগ করতে হলে প্রথমেই জানা প্রয়োজন- সমাজতন্ত্র কীভাবে বিজ্ঞানে পরিণত হলো। ...more
১৭-জানুয়ারি-২০২৫
দেবাঞ্জন চক্রবর্তী
এই সামগ্রিক বেসরকারিকরণ পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে রেলের শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজ নিজ সেক্টরে ধীরে ধীরে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরই সাথে সিআইটিইউ-সহ আরো অন্যান্য বামপন্থী কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সারা ভারতে রেল বেসরকারিকরণের বিরোধিতায় রাস্তায় নামে। ফলে যখন রেলে ইউনিয়নের মান্যতা নির্বাচন সামনে আসে, তখন এই বেসরকারিকরণ ইস্যুই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।... আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে কেন্দ্রের সরকারের বেসরকারিকরণ নীতিকে যে পরাস্ত করা যায়– এই নির্বাচনের ফলাফল তার জ্বলন্ত প্রমান।
...more২০-ডিসেম্বর-২০২৪
আর কারুমালাইয়ান
ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় শ্রমিকেরা বাধ্য করেছিল ১৯২৬ সালের ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন করতে। এই আইনের দ্বারা শ্রম-অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনি অধিকার দেয়। স্বাধীন ভারতে নাগরিকদের সংগঠন এবং ইউনিয়ন তৈরির অধিকার সুনিশ্চিত করতে, ভারতীয় সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(সি) রয়েছে। সংগঠন তৈরির অধিকার গণতন্ত্রকে সজীব রাখার অন্যতম শর্ত। এই অধিকার ছাড়া তো রাজনৈতিক দলও তৈরি হবে না, আর এরকম দল না থাকলে গণতান্ত্রিক সংসদীয় গঠনতন্ত্র, সরকারি পরিকাঠামো কার্যকর হওয়াই সম্ভব নয়। দু:খের কথা, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং এক বাক্যে এই নৈতিক ও মৌলিক অধিকারকে, এতদিনের ইতিহাসকে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক লড়াইকে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিতে পারছে। বলাবাহুল্য যে, ভারতের বর্তমান শাসকদল বিশ্বপুঁজির সঙ্গে যে সমস্যাজনক সমঝোতায় চলছে- এসব তারই অবদান! ...more
৩০-নভেম্বর-২০২৪
বিজয় প্রসাদ
পরিকল্পনাকে কর্মপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র পরিচালকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সীমিত সম্পদকে দ্রুত শিল্প বিকাশের কাজে সদ্ব্যবহার করা এর ফলেই সম্ভব হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে শিল্প কারখানাগুলিই গড়ে তুলেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্গকে। এ সম্পর্কে কোনো সন্দেহই নেই, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাক্রমের ফলেই পাশ্চাত্যের উদারবাদকে রক্ষা পেয়েছে। যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ বা ওয়ার কমিউনিজম, নয়া অর্থনৈতিক নীতি, স্তালিনের শিল্পনীতি ইত্যাদির ফলে যদি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ত, তবে ফ্যাসিবাদ পশ্চিম ইউরোপকেও গুঁড়িয়ে দিত। ...more
০৮-নভেম্বর-২০২৪
সাত্যকি রায়
এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে পুঁজিবাদ থেকে উত্তরণের এই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামে সমাজবাদী চিন্তার বাস্তবিক প্রয়োগ সাময়িকভাবে পরাস্ত হয়েছে। কিন্তু একথাও সত্য যে পুঁজিবাদী সমাজের মধ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মানুষের সমন্বয়ের যে বাস্তব উপাদানগুলি জন্ম নিচ্ছে, তা সর্বতোভাবে ভবিষ্যতের উন্নত সমাজবাদ নির্মাণের পক্ষে উপযোগী পরিপ্রেক্ষিতকে শক্তিশালী করছে। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এরকম তিনটি বিশেষ প্রবণতার ওপরই দৃষ্টি আরোপ করা হয়েছে। ...more
০৭-নভেম্বর-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
একটি পুঁজিবাদী সমাজে, শ্রমলাঘবের এ ধরনের উদ্ভাবন সঙ্গে সঙ্গেই আঘাত হানবে কর্মসংস্থানে। আমাদের দৃষ্টান্তের ৫০ জন শ্রমিক নতুন উদ্ভাবনের পর মুহূর্তেই ছাঁটাই হয়ে যাবেন ব্যয় সংকোচন ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যপূরণে। যেহেতু ৫০ জন শ্রমিকের বাড়তি বেকারত্ব উদ্বৃত্ত শ্রমিকের সংখ্যায় বৃদ্ধি ঘটাবে, যার ফলে শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তার ফলে মজুরি বৃদ্ধি তো দূরস্থান, যা ঘটবে সেটা হল মজুরি সংকোচন। ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে শ্রমলাঘবের নতুন উদ্ভাবন হাতে এলে, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও মজুরি হ্রাস, দু’দিক দিয়েই শ্রমিকদের দুরবস্থা বেড়ে যায়।
...more২৫-জুন-২০২৪
প্রভাত পট্টনায়েক
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারীকরণের ফলে শ্রমিকদের সাংগঠনিক শক্তি হ্রাস পায়। বেসরকারিকরণের এই কুফলটি পন্ডিতদের চর্চায় খুব কমই উঠে আসে। বিশেষত ভারতের মত প্রান্তিক দেশগুলিতে বেসরকারিকরণের কারণে নিত্য নতুন আবিষ্কারের গতি যে স্তিমিত হয়ে আসে এবং অর্থনীতি স্বয়ম্ভর হয়ে ওঠার বদলে যে ক্রমশ পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে, পন্ডিত মহলে এসব কথা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলে, কিন্তু তার সাথে সাথে যে শ্রমিক শ্রেণির প্রত্যঘাতের ক্ষমতারও হ্রাস ঘটে, এই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি অনুক্ত থেকে যায়। ...more
২০-এপ্রিল-২০২৪
পৃথা তা
দেশ জুড়ে আনন্দের বন্যার নকল ছবি এঁকে কোথাও ধর্মের নামে, কোথাও গুটিকয়েক পরিবারের উৎসব দেখিয়ে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে আমাদের নিজেদের আত্মীয় পরিজনদের কথা৷ ৪১ দিন সুড়ঙ্গে কাটানো শ্রমিকের সাথে আত্মীয়তা অনুভূত হচ্ছে না। ফলে তার বাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে যখন তখন আপামর শ্রমিক বা তার শ্রেণির মানুষেরা নিজের বাড়ি ভাঙার যন্ত্রণা অনুভব করছেন না। তার বাড়ির লোকেদের, বাড়িতে থাকা মহিলা শ্রমিকদের জীবনযন্ত্রণার কথা অনুভূত হচ্ছে না। ...more
০৮-মার্চ-২০২৪
রতন খাসনবিশ
যাঁরা ভেবেছিলেন ৪৫ টাকা লিটারে জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে, ডলার ৪০ টাকায় নামবে, প্রতিটি ভারতবাসী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা পাবেন, যারা ভেবেছিলেন বাড়ির জোয়ান ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি পাবে, যারা ভেবেছিলেন আরও বড়ো বড়ো কারখানা গড়ে মোদী প্রতি ঘরে বেকার যুবক যুবতীদের চাকরি দেবেন, যারা ভেবেছিলেন দিনের শেষে নিরাপত্তা দেবে মোদীর রাষ্ট্র যাতে তাঁরা সন্ধেবেলায় নির্বিঘ্নে তুলসীদাসী রামায়ণ পড়ে সময় কাটাতে পারেন, উত্তর ভারতের সেই অগণিত সাধারণ মানুষ মোদীর বিজেপির সরকার কর্তৃক প্রতারিত হয়েছেন। হরিয়ানার শম্ভূ সীমানায় এই মানুষদেরই কাতার ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। রাম লালা কোনও ভাবেই মানুষের এই দীর্ঘ ব্যারিকেড অতিক্রম করতে পারছে না।
...more২৫-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
সাত্যকি রায়
অ্যাডাম স্মিথ থেকে মালথাস সকলেই মনে করতেন যে পরাধীন শ্রম স্বাধীন শ্রমের তুলনায় কম দক্ষ ও তাদের উৎপাদনশীলতা কম হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, দাস ব্যবস্থায় একজন দাস ও তার পরিবারের সারা জীবনের ভরণ পোষণের দায়িত্ব দাস মালিকের হয়ে থাকে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। একটি মানুষ জীবনের নানা পর্যায়ে এইসব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে এটা খুব স্বাভাবিক নয়। ...more
০৪-জানুয়ারি-২০২৪
আর কারুমালাইয়ান
এই পর্বে সম্ভবত সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হল ১৯৪৬ সালে নৌবিদ্রোহের প্রতি সংহতি জানানোর লক্ষ্যে বোম্বের শ্রমিকদের ধর্মঘট ও হরতাল। ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই থেকে তিন লক্ষ শ্রমিক কারখানায় কাজ বন্ধ করে দেন। এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছিল সোশালিস্ট পার্টিও। পুলিশ বাধা দেওয়ায় শান্তিপূর্ণ সভা ও বিক্ষোভ হিংসাত্মক সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়। রাস্তায় রাস্তায় গড়ে তেলা হয় ব্যারিকেড। সেখানে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে শ্রমিকদের তীব্র লড়াই শুরু হয়। শহরের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটেলিয়নকে ডাকতে হয়। ওই দিনের সঙ্ঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন বিক্ষোভকারী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ...more
৩১-মে-২০২৩
আর কারুমালাইয়ান
ভারতে ব্রিটিশরাজ এই বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রত্যুত্তর দেয় আনাড়ির মতো। ১৯১৭-এর মাঝামাঝি সময়ে ভাইসরয় চেমসফোর্ড ভারতে ব্রিটিশ নীতির বদলের প্রয়োজনের কথা ব্রিটিশ সরকারের নজরে আনেন। একই বছর ই. এস. মন্টাগু ভারত রাষ্ট্রে সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালের ২০ অগাস্ট তথাকথিত দ্বায়িত্ববান সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি তৈরি করতে ভারতের জন্য তিনি একটি নতুন নীতির ঘোষণা করেন। মূল বিষয়গুলি যুক্ত করা হয় গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯১৯-এ। এই অ্যাক্ট, ‘মন্টাগু-চেমসফোর্ড রিফর্ম’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এই নীতি জনরোষের জোয়ার সামলানোর পক্ষে সামান্যই সাফল্য লাভ করেছিল। ...more
৩০-মে-২০২৩
সাত্যকি রায়
মার্কস এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিক তার শ্রমশক্তির সমমূল্যে মজুরি পায় না। এবং যখনই সুযোগ পেয়েছে পুঁজিবাদ পরাধীন শ্রম ব্যবহার করেছে এবং শ্রমিককে তার শ্রমশক্তির চেয়ে কম মূল্য মজুরি হিসেবে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শিশুশ্রম ব্যবহার করা, দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের কাজ করানো, বান্ধুয়া শ্রমিক ব্যবহার করা, ক্রীতদাস প্রথার সুযোগ নেওয়া, ঋণের দ্বারা শ্রমিককে শৃঙ্খলিত করা —এর কোনওটাই কোনওদিন পুঁজিপতিদের কাছে অন্যায় ছিল না। ...more
১৩-মে-২০২৩
হরেকৃষ্ণ কোঙার
কমরেড লেনিন মার্কসবাদের বিপ্লবী তত্ত্বের উপর দাঁড়িয়ে শুধু শ্রমিক ও কৃষকের মুক্তির পথনির্দেশই করেননি, বিপ্লবের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট করেছেন। প্রতিটি ধাপের কর্তব্য স্থির করেছেন। সেই মতো শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত এবং শিক্ষিত করেছেন। এবং নিজে বিপ্লবের জোয়ার-ভাটার মধ্যে থেকে বিপ্লবকে সার্থকতার পথে পরিচালিত করেছেন। ...more
২২-এপ্রিল-২০২৩
অশোক ধাওয়ালে
বিজেপির জনবিরোধী নীতিসমূহ এবং এই সরকারের কর্পোরেটমুখী নীতির বিরুদ্ধে চলা জঙ্গি সংগ্রামগুলিকে উদ্বুদ্ধ করবে তৃতীয় কৃষক লং মার্চের এই বিজয়। দিল্লিতে মজদুর-কিষাণ সংঘর্ষ র্যালির এক পক্ষকাল আগে অর্জিত এই বিজয় শ্রমিক-কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবে আগামী দিনের লড়াইগুলিতে তাঁদের আরও বেশি বেশি সংখ্যায় সামিল হওয়ার জন্য। ...more
০৩-এপ্রিল-২০২৩
সাত্যকি রায়
একমাত্র যে ক্ষেত্রে মালিক অন্য উৎপাদকের চেয়ে খরচ কমাতে পারে, তা হল, তার দ্বারা নিযুক্ত শ্রম বাবদ খরচ। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে শ্রমিকের মজুরি উন্নত দেশগুলির তুলনায় কম হওয়ার কারণে এই সব দেশের উৎপাদকেরা প্রতিযোগিতায় প্রচুর সুবিধা পাবে বলে মনে করে একে অপরকে টেক্কা দিতে চাইছে। শ্রমিকের অর্জিত অধিকারগুলি খর্ব করে শ্রম-খরচ কমানোর জন্য নয়া উদারবাদী যুগে রাষ্ট্র ময়দানে অবতীর্ণ। এবং এ ব্যাপারে গত চার দশকের সংস্কার পর্বে এক অদ্ভুত সামাজিক ও রাজনৈতিক সহমত গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে যে - শ্রমিকশ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই উন্নয়ন-বিরোধী, এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণ-বিরোধী, কোনো মতেই একে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়, এবং তাকে যথাসম্ভব অপ্রয়োজনীয় হিসাবে দেখানো দরকার, অথবা জনমানসে কার্য্যত অদৃশ্য করে দিতে হবে। এটা ভুলিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র শ্রম খরচের উপর নির্ভর করে না। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৩
বিজু কৃষ্ণান
২০১৮ সালে যখন কর্পোরেট গণমাধ্যমগুলি লালঝাণ্ডার সমাধিফলক লিখন নিয়ে ব্যস্ত, তখনই সবচেয়ে বেশি জঙ্গি লড়াইগুলি সংগঠিত হয়েছে সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা ও সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের নেতৃত্বে। ৯ আগস্ট ভারত ছাড়োর জয়ন্তীতে নিবিড় ঐক্যবদ্ধ প্রচারের পরবর্তী সময়ে জাতীয় সত্যাগ্রহ ও জেল ভরোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দেশের পাঁচ লক্ষাধিক জায়গায় পালিত হয়। এর পরপরই এই তিনটি সংগঠনের প্রথম মিলিত কার্যক্রম হিসেবে সংসদ ভবনের সামনে বিশাল জমায়েত আয়োজিত হয়। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর মৌলিক নির্দেশক নীতির প্রতিফলন হিসেবে মজদুর কিষাণ সংঘর্ষ সমাবেশ সংগঠিত করা হয়। ...more
৩০-মার্চ-২০২৩
তপন সেন
এই সরকার আমাদের দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের বেঁচে থাকার অধিকারকে একচেটিয়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলির দয়ার ওপর ছেড়ে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে। কোনওরকম তোয়াক্কা না করেই সাংবিধানিক ও সংসদীয় রীতিনীতিগুলিকে লঙ্ঘন করে চলেছে। সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী ও মহিলাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের প্রতিটি আক্রমণ ও নির্যাতনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে নয়া উদারবাদী নীতিসমূহের, যা পুরোপুরি ঔদ্ধত্যের সঙ্গে এবং বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে কার্যকর করছে এই বিজেপি সরকার। এসবের একমাত্র লক্ষ্য হল তাদের কর্পোরেট প্রভুদের মুনাফা ও সম্পদ রক্ষা করার বেপরোয়া প্রচেষ্টা। ...more
২৯-মার্চ-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
পুঁজির বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণির লড়াইকে নয়া উদারবাদ যে ক্রমাগত দুর্বল করে তুলছে সেটা নয়, বরং বর্তমানে যে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তা হ’ল এতদসত্ত্বেও নয়া উদারবাদকে এখন ক্রমশ বর্ধমান শ্রমিকশ্রেণির জঙ্গী আন্দোলনের মুখোমুখি হ’তে হচ্ছে। ব্রিটেনে এই বছরে অনেকগুলি রেল ধর্মঘট হয়েছে, গত গ্রীষ্মে ব্রিটেন গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম রেল ধর্মঘট প্রত্যক্ষ করেছিল। এমনকি এখনো রেল কর্মীরা প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোকে ‘খুবই তুচ্ছ’ ব’লে বলে প্রত্যাখান করেছে এবং ডিসেম্বর- জানুয়ারী মাসে ব্যাপক ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ...more
০৫-জানুয়ারি-২০২৩
সাত্যকি রায়
মার্কস এর মতে, যে শ্রমকে পুঁজি নিয়োগ করছে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টির কাজে এবং তা যদি উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি করতে পারে তবে পুঁজিবাদের চোখে সেটাই উৎপাদনশীল শ্রম। আর যে সব পরিষেবা মূলত অর্জিত আয় থেকে খরচ করে কেনা হয় সে সবই অনুৎপাদনশীল শ্রম। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে রেস্তোরাঁর মালিক যখন শেফ নিয়োগ করে তার উদ্দেশ্য তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে নিজে খাওয়া নয়, বরং তার বিশেষ দক্ষতার শ্রমশক্তি ক্রয় করে তাকে দিয়ে খাবার বানিয়ে বিক্রি করে লাভ করা। এই কারিগর পুঁজির চোখে উৎপাদনশীল শ্রম করছে। আবার এই রাঁধুনিকেই কেউ বাড়িতে নিয়োগ করলেন ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ানোর জন্য এবং নিজের আয় থেকে মাইনে দিলেন তখন ওই একই রাঁধুনির শ্রমকে অনুৎপাদনশীল ধরা হবে। ...more
০৩-জানুয়ারি-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
কোভিড আবার আগের মত মারণক্ষমতায় ফিরবে না এই অনুমানের উপর ভিত্তি করে বর্তমানের স্থিতাবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হল অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত কি পুনরায় নয়া-উদারবাদী অবস্থায় ফিরবে? আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন অন্তত নিজেদের দেশে এমন দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যদিও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তারা এই একই অবস্থান নেবেন কিনা সেই নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা তারা করেননি। আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে ঘোষিত ২ ট্রিলিয়ন ডলার আর্থিক মূল্যের রিলিফ প্যাকেজের উপরে আরো ২ ট্রিলিয়ন ডলারের রিলিফ ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপতি বাইডেন। আগামী দিনে দেশের পরিকাঠামো খাতে একই কায়দায় সরকারি ব্যয়বরাদ্দের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি। ...more
২৯-নভেম্বর-২০২২
ওয়াল্টার মিকিন
১৯২০ সালের গ্রীষ্মে, বিপ্লবের ঠিক ৩ বছরের মাথায়, ব্রিটিশ লেবার পার্টি এবং ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস এক প্রতিনিধিদল পাঠায় রাশিয়ায় -- ঠিক কী হয়েছে বুঝতে। ব্রিটিশ সাংবাদিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন এক্টিভিস্ট ওয়াল্টার মেকিনও ছিলেন সেই প্রতিনিধিদলে। সেদিনের 'ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান' আজকের 'দ্য গার্ডিয়ানের' সাংবাদিক মেকিন ফিরে এসে ধারাবাহিকভাবে ডেইলি নিউজে লিখলেন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারভাষ্য- যা দেখেছি রাশিয়ায়। ...more
১৬-নভেম্বর-২০২২
সুদীপ দত্ত
শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘটের চব্বিশ বছর আগে হাওড়া স্টেশনে একই দাবিতে ধর্মঘট। পরে আরও প্রতিবাদ-ধর্মঘটের পথ বেয়ে ১৯২০র ৩১ অক্টোবর। ভারতের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক কেন্দ্র। অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (এআইটিইউসি)-র প্রতিষ্ঠা। ১০০ বছর অতিক্রান্ত। এআইটিইউসি গঠন ও এর ক্রমবিভাজনের ইতিহাস আসলে শ্রমিকশ্রেণির মতাদর্শগত সংগ্রামের পথ চলার ইতিহাস। এর উত্তরাধিকার বহন করার যোগ্য হয়ে ওঠার দায়িত্ব আজ আমাদের কাঁধে তুলে নিতে হবে। আমাদের মতাদর্শ হলো শ্রেণিবিভক্ত সমাজে শ্রেণি সংগ্রামের মতাদর্শ, তার বাইরে এক পা ও নয়। আমাদের ঐক্য হলো সংগ্রামের ঐক্য, তা ছাড়া আর কোনও আকাঙ্ক্ষা যেন আমাদের না ছুঁয়ে যায়। সব সংগ্রাম ধাবিত হোক শ্রেণি ঐক্যের দিকে, শ্রেণি ঐক্য নিয়ে আসুক শোষণের অবসান- পবিত্রতম স্বপ্নের যাপন সত্য হয়ে উঠুক। ...more
৩০-অক্টোবর-২০২২
অর্ক রাজপন্ডিত
মার্কস কি কখনও লন্ডনের রাস্তায় উবের চেপেছেন? কিংবা মার্কস কি কখনও চুরুট আনিয়েছেন ফ্লিপকার্টে অর্ডার করে? অথবা এঙ্গেলসকে কোনও বই উপহার দিয়েছেন অ্যামাজনে অর্ডার করে? তাহলে কীভাবে লিখে ফেলতে পারলেন পিস ওয়েজ (টুকরো মজুরি, নির্দিষ্ট একটিই কাজের ভিত্তিতে মজুরি) হল টাইম ওয়েজ (সময় মজুরি)-রই পরিবর্তিত রূপ। আর সময় মজুরি হল শ্রমশক্তির মূল্যের পরিবর্তিত রূপ। ...more
২৮-অক্টোবর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

