সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
‘প্রাণহীন এই শহরের ইতিকথা’
বিহঙ্গ দূত
খুঁজলে পাওয়া যাবে লাখো বিপ্লব, সুজিত, নিমাই, অরুণরা আজ ফ্যালফ্যালে চোখ মেলে বসে আছে হাজারো স্টেশনের ছোট্ট দোকানঘরে পসরা সাজিয়ে। তারা আজ উচ্ছেদের নোটিশ পাচ্ছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়ের সমনে জানতে পারছে তারাই জবরদখলকারী।... তারা বেবাক চোখ মেলে দেখছে এতদিন যে-সকল মধ্যবিত্ত তাদেরই দোকান থেকে অফিস ফেরত বাজার, সকালের জলখাবার, হঠাৎ বৃষ্টির ফাঁপরে পড়ে সস্তার ছাতা বা আরও সকল জিনিসপত্র কিনত তারা আজ বেমালুম ভোলবদলে ‘রাষ্ট্রবাদী’ হয়ে উঠেছেন। তারা আজ মনে করছেন এই ‘জবরদখলকারী’-রা বিনা ট্যাক্সে খেয়েপরে, ব্যবসা করে বহুত বড়োলোক হয়ে গেছে। তাদের সবক শেখানোর জন্য তুলে দেওয়া দরকার! তুলে সেই জমি লিজ দেওয়া দরকার আদানিকে, আম্বানিকে।

সাদা হাতির কালা মাহুতরা ফিরে এসেছে এ-বাংলায়। হকার ও বস্তি উচ্ছেদের মাধ্যমে মাহুতেরা হাতির খাদ্য খুঁজছে স্টেশন চত্বর ঘিরে। ৪ মে বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর মন্ত্রীসভা গঠন করতে নব্যগঠিত ডাবল ইঞ্জিন সরকার সময় নিয়েছে দেড় মাস। কিন্তু বিজেপি যাদের ভরসায় ক্ষমতা দখল করেছিল তাদের স্বার্থরক্ষা করার জন্য নেমে পড়েছে পনেরো দিনের মধ্যে। আজকের মিডিয়া রাজনীতি যখন পচা ডিম ছোঁড়া আর দলবদলের খেলায় সরগরম এবং তা নিয়ে থেকে থেকে ব্রেকিং নিউজ উগড়াচ্ছে সে-সময় বাস্তবের রাজনীতি গরিব মানুষের রুটিরুজি বনাম হাঙর সরকারের বুলডোজারের ফাঁকে আটকে আছে।
এ-অবস্থায় ফিরে দেখতে চাই ভারতবর্ষে কোম্পানির রেলওয়ে স্থাপনের ইতিহাসকে। কোন প্রয়োজনে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে সূচনা হয়েছিল ভারতীয় রেলব্যবস্থার? সহজ কথায় বলতে গেলে বানিজ্যিক স্বার্থে। কোম্পানি নিজের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করে রেলপথকে সম্প্রসারিত করতে শুরু করে তখন থেকেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রেলপথ স্থাপনই ছিল মূল উদ্দেশ্য যাতে কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থাটিকে সুচারু করা যায়। কিন্তু অচিরেই কোম্পানির ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আর একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রেলওয়ে স্টেশনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে জনবসতি। তৈরি হতে থাকে মফস্বল ও গঞ্জ এলাকা। ওই বাজার অঞ্চলের জমির দাম বাড়তে থাকে। ১৮৬০ সালে নীলদর্পণ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বাংলা জুড়ে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে জনমত গঠিত হতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষে হাত গুটিয়ে উদাসীন হয়ে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। দিকে দিকে বিদ্রোহের আঁচ ছড়াচ্ছিল তার বেশ কিছুদিন আগের থেকেই। এ-অবস্থায় নীলকর সাহেবরা তাদের ডুবন্ত ব্যবসাকে বাঁচানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে দেখে রেললাইনের পার্শ্ববর্তী জমির সম্ভারকে। রেলওয়ে স্টেশনের পার্শ্ববর্তী জমি মূলত তিনটি কারণে মহামূল্যবান ছিল।
১) সে অঞ্চলে কাঠের গুদাম, কাঁচামালের গুদাম বসানো যায় কেন-না পরিবহনের সুবিধা।
এ-অবস্থায় ফিরে দেখতে চাই ভারতবর্ষে কোম্পানির রেলওয়ে স্থাপনের ইতিহাসকে। কোন প্রয়োজনে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে সূচনা হয়েছিল ভারতীয় রেলব্যবস্থার? সহজ কথায় বলতে গেলে বানিজ্যিক স্বার্থে। কোম্পানি নিজের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করে রেলপথকে সম্প্রসারিত করতে শুরু করে তখন থেকেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রেলপথ স্থাপনই ছিল মূল উদ্দেশ্য যাতে কাঁচামাল আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থাটিকে সুচারু করা যায়। কিন্তু অচিরেই কোম্পানির ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আর একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রেলওয়ে স্টেশনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে জনবসতি। তৈরি হতে থাকে মফস্বল ও গঞ্জ এলাকা। ওই বাজার অঞ্চলের জমির দাম বাড়তে থাকে। ১৮৬০ সালে নীলদর্পণ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বাংলা জুড়ে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে জনমত গঠিত হতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষে হাত গুটিয়ে উদাসীন হয়ে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। দিকে দিকে বিদ্রোহের আঁচ ছড়াচ্ছিল তার বেশ কিছুদিন আগের থেকেই। এ-অবস্থায় নীলকর সাহেবরা তাদের ডুবন্ত ব্যবসাকে বাঁচানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে দেখে রেললাইনের পার্শ্ববর্তী জমির সম্ভারকে। রেলওয়ে স্টেশনের পার্শ্ববর্তী জমি মূলত তিনটি কারণে মহামূল্যবান ছিল।
১) সে অঞ্চলে কাঠের গুদাম, কাঁচামালের গুদাম বসানো যায় কেন-না পরিবহনের সুবিধা।
২) যাতায়াতের সুবিধার কারণে স্টেশন ঘিরে গঞ্জ ও মফস্বল তৈরি হওয়া এবং বাজার এলাকার সৃষ্টি।
৩) রেলওয়ে অফিসার ও সরকারি আধিকারিকদের বাসস্থান ওই স্টেশন অঞ্চলকে ঘিরেই তৈরি হয় যারা অর্থনীতির দিক থেকে ছিলেন উচ্চ মধ্যবিত্ত।
এই লাভের অঙ্ক বুঝে নীলকর সাহেবরা রেল কোম্পানির সঙ্গে একটি ভয়াবহ ব্যাকডোর ডিল করলেন। প্রাথমিকভাবে রেল কোম্পানিকে উশকানি দিয়ে তারা দখল করালেন রেললাইন পার্শ্ববর্তী বিপুল পরিমানে সারপ্লাস ল্যান্ড। তারপর গোপন চুক্তির মাধ্যমে সেই জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ আকারে নিয়ে নিলেন। এই জমি ছিল কাদের? মূলত ক্ষুদ্র রায়তদের ও কিছু অংশ জমিদারদের। এই জমি রায়তদের কাছ থেকে একপ্রকার গায়ের জোরে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ বা বিনা ক্ষতিপূরণেই হস্তান্তরিত হত টিপছাপের মাধ্যমে। এ-নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি কিন্তু সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ছিল রাষ্ট্রদোহের সামিল। আচমকা জমি হারিয়ে ওই কৃষকরা সম্পূর্ণভাবে নীলকরদের দাদনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই জমিতে কাঁচামালের গুদাম স্থাপিত হয়েছে। কিছু জমিতে নীলচাষ হয়েছে। কিছু জমিতে চড়া ভাড়ায় বাজার বসেছে। নীলকরদের নীলচাষে লালবাতি জ্বললেও তারা এভাবে নিজেদের আধিপত্য কায়েম রেখেছিলেন বহুযুগ। আর রায়তেরা সবহারা হয়ে বাধ্য হয়েছেন সেই গুদামেরই শ্রমিক হতে। বাজারের দোকানদার হতে। কেউ বা খেত-মজুরি করেছেন তাদের কাছ থেকেই কেড়ে নেওয়া জমিতে যা এখন খাসজমি।
১৮৯৪ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনে এই রাহাজানি সম্পূর্ণত সরকারি শিলমোহর পেয়ে গেল। রেলওয়ে স্থাপনকে ‘জনকল্যাণমূলক’ আখ্যা দিয়ে ওই বিপুল সারপ্লাস ল্যান্ডকে রেলওয়ের নিজস্ব জমি হিসাবে ধরে নেওয়া হল। এ-ব্যাপারে ইংরেজ সরকারের নীতি ছিল স্পষ্ট। তারা কোম্পানির পোঁতা খুঁটির পুরো জমিটাকেই খাস বলে দাবি করলেন। জমি হারানো রায়তেরাও কোর্টে আপিল করতে পারবেন না কেন-না তাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বৃহৎ জনকল্যাণমূলক স্বার্থে।
মজার ব্যাপার ঘটে ১৯৩৫ সালের ভারতশাসন আইনে। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপনকারী সেই আইনে এই জমি অধিগ্রহনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আমলাদের চতুরতায় রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণকে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। কেন-না রেল আধিকারিকরা ততক্ষণে ওই বিপুল পরিমাণে সারপ্লাস ল্যান্ডের ক্ষীর ভালো মতোই খাওয়া শুরু করেছেন। তারা ১৮৯৪ সালের আইনের ওই বিশেষ ফাঁকটিকে ব্যবহার করলেন। জনকল্যাণের দোহাই দিয়ে তারা রেলের সীমানার ভেতরে থাকা জমিগুলির কোনও অরিজিনাল ডিড বা ক্ষতিপূরণের রসিদ দেখার প্রয়োজনই মনে করলেন না। এভাবে রেললাইনের দু-ধারের জমি রেলের সম্পত্তি হিসাবে ব্ল্যাঙ্কেট এন্ট্রি পেয়ে গেল। গোটা অডিট চলাকালীন রায়ত বা বর্গাদারদের নিজেদের জমির অধিকার প্রমাণ করার আইনি সুযোগকে বারবার চেপে দেওয়া হয়েছে। কখনো বা সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।
স্বাধীনতার পর আমরা জানতে পারি যে ভারতীয় রেলে একটা বড়ো অংশের জমির কোনও মূল দলিল রেল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। ফলে জমি রাহাজানি যে ব্রিটিশ আমলে হয়নি একথা হলফ করে বলা যায় না। এই সূত্র ধরে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করার চেষ্টা করি— কোন স্টেশনের কত শতাংশ জমির মূল দলিল রেল কতৃপক্ষের কাছে নেই সেটা কি স্বাধীন ভারতের জনগণের জানার অধিকার নেই? আমাদের হাওড়া, শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ, যাদবপুর, দমদম স্টেশনের কত ভাগ জমির দলিল আছে রেলের কাছে তা কি রেল কর্তৃপক্ষ জানাবেন জনসাধারণকে?
কিন্তু ওই জমির দখল আর রেলওয়ে আধিকারিকদের হাতে সম্পূর্ণভাবে ছিল না। এর কারণ দেশভাগ ও রিফিউজি ক্রাইসিস। দক্ষিণবঙ্গে রেলওয়ের পাশের বস্তি এলাকা গড়ে ওঠার মূল কারণই ছিন্নমূল উদবাস্তুদের ভিড়। আছে ৪৩-র ভয়াবহ মন্বন্তরে বাস্তুচ্যুত কৃষক পরিবার! এর সঙ্গে আছে গাঁ, গেরাম থেকে শহরাঞ্চলে কাজ করতে আসা মানুষদের ভিড় যারা ওই অঞ্চলে ছোটো দোকান বসিয়ে পেট চালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। আর আছেন সেই হতভাগ্য রায়তের দল যাঁরা জমি হারিয়ে বংশ পরম্পরায় মজুরের কাজ করছিলেন রেলওয়ের গুদামগুলোয়। স্বাধীন ভারতে সাবসিটাইজড পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম দৃষ্টান্ত রেলওয়ে। ফলে বিপুল পরিমাণে জনসমাগম ঘটতে থাকে প্রতিদিন স্টেশনগুলোতে। যাঁরা এতযুগের ভাগ্যহত তাঁরা রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে দুটো পয়সার মুখ দেখে। উদাহরণ হিসাবে ধরতে পারেন যাদবপুর স্টেশনকে। ভারতের প্রাচীনতম রেলওয়ে স্টেশনগুলির মধ্যে একটি এই স্টেশন। ১৮৬২ সালে এই স্টেশনের জন্ম। বিপুল অংশের জমি অধিগৃহীত হয়েছিল স্টেশনকে কেন্দ্র করে। দক্ষিণে সন্ধ্যাবাজার থেকে উত্তরে পালবাজার অব্দি বিপুল জমি ছিল রেলওয়ের। তখন ক্যানিং বন্দর গড়ে তোলার কাজে ইংরেজ সরকার তৎপর। ফলে যাদবপুর স্টেশনের পার্শ্ববর্তী জমি তাদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠবে এই ছিল ভাবনা। পরে অবশ্য ব্যাপক সাইক্লোনের প্রকোপে ওই বন্দরের কাজ ব্যহত হয় এবং পরিকল্পনাটি বাতিল হয়। এই অংশের জমি বেআইনিভাবে অধিগৃহীত হয় যাঁদের কাছ থেকে তাঁরা অধিকাংশই ছিল নিম্নবিত্ত কৃষক। কোনও গল্পকথা নয়। পাথুরে প্রমাণ মেলে এক বীভৎস রাহাজানির।

ক্ষেত্রমোহন নস্কর, পাঁচুগোপাল সর্দার, ভূপতিচরণ প্রামাণিক, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলদের ভূত আজও ঘোরে এই স্টেশনের আনাচে কানাচে। আজ যেখানে যাদবপুর ১ নং স্টেশন সেখানে ছিল ক্ষেত্রমোহনের দেড়বিঘা শালিধানের জমি ও পুকুর। আজ যেখানে পালবাজার তার ভেতরের দিকে সব্জির বাগান ছিল পাঁচুগোপালের। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির সীমানা ঘেঁষে যে নীচু জলাজমি তা আদপে ভূপতিচরণ প্রামাণিকের জমি। যাদবপুর লোকো কোয়ার্টার ও রেল খালাসিদের থাকার জন্য অস্থায়ী ডেরা আসলে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের বাস্তুভিটা!
এদের প্রত্যেকের জমি জবরদখল করা হয়েছিল ইংরেজ আমলে। কাউকে ভুয়ো নকশা দেখিয়ে ঠকানো হয়েছে। কারুর জমি স্রেফ ঠ্যাঙারে প্রশাসনের হাতযশে আদায় হয়েছে। ফৌজদারি আদালতে সেইসব কেসের রক্তাক্ত ইতিহাস জমা রয়েছে।
কিন্তু নিট ফলাফল?
ক্ষেত্রমোহনের নাতি সুজিত নস্কর আজকের দিনে যাদবপুর রেলস্টেশনে সবজির ডালি নিয়ে বসেন। পাঁচুগোপালের প্রপৌত্র নিমাই সর্দার আজ যাদবপুর পালবাজারের মুখে একটা ছোটো চায়ের দোকান চালান। ভূপতিচরণের নাতি অরুণ প্রামাণিক আজ ৯বিতে সস্তা জামাকাপড়ের অস্থায়ী স্টল চালান। যোগেন্দ্রনাথের নাতি বিপ্লব মণ্ডল আজ যাদবপুর স্টেশনের অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পাশে একটি ছোটো ফাস্ট ফুডের দোকান চালান।
এই হল আমাদের প্রাণহীন শহরের ইতিকথা। খুঁজলে পাওয়া যাবে লাখো বিপ্লব, সুজিত, নিমাই, অরুণরা আজ ফ্যালফ্যালে চোখ মেলে বসে আছে হাজারো স্টেশনের ছোট্ট দোকানঘরে পসরা সাজিয়ে। তারা আজ উচ্ছেদের নোটিশ পাচ্ছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়ের সমনে জানতে পারছে তারাই জবরদখলকারী। হঠাৎ শুনতে পাচ্ছে তাদের রক্তঘামে স্টেশন দূষিত হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে যাত্রী পরিষেবা। তাদের দু-ফালি জায়গার দোকান রেলের কাছে বিপজ্জনক এবং অলাভজনক। এখানেই শেষ নয়। তারা বেবাক চোখ মেলে দেখছে এতদিন যে-সকল মধ্যবিত্ত তাদেরই দোকান থেকে অফিস ফেরত বাজার, সকালের জলখাবার, হঠাৎ বৃষ্টির ফাঁপরে পড়ে সস্তার ছাতা বা আরও সকল জিনিসপত্র কিনত তারা আজ বেমালুম ভোলবদলে ‘রাষ্ট্রবাদী’ হয়ে উঠেছেন। তারা আজ মনে করছেন এই ‘জবরদখলকারী’-রা বিনা ট্যাক্সে খেয়েপরে, ব্যবসা করে বহুত বড়োলোক হয়ে গেছে। তাদের সবক শেখানোর জন্য তুলে দেওয়া দরকার! তুলে সেই জমি লিজ দেওয়া দরকার আদানিকে, আম্বানিকে। তাহলে যদি রেলওয়ে লাভবান হয় তবে রাষ্ট্রের লাভ!
আদপেই কি ধর্মীয় আফিমের ঘোরে মধ্যবিত্তের মধ্যে এই মানবিক মড়ক? এই অদ্ভুত শ্রেণীঘৃণা কি শুধু ‘রাষ্ট্রবাদী’ হওয়ার প্রাণপণ তাগিদে? নাকি এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অর্থনীতির খেলা? তারা রেলওয়ের এই সারপ্লাস ল্যান্ডকে ঘিরে বহুজাতিক বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখছেন। সেই সকল বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার কিনে রাতারাতি বড়োলোক হওয়ার খেয়ালি পোলাও রাঁধছেন। বিগ ক্যাপিটালের লাভেই আমার লাভ এ-কথা তারা কায়মনোবাক্যে মেনে নিয়েছেন। সারা ভারতের শাইনিং মধ্যবিত্ত এখন এই গরিবমারা উন্নয়ন চায়। শেয়ার স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই আদানি!
তাই সে-যুগের নীলকর সাহেবরা আজ ফিরে এসেছে বহুজাতিক সংস্থার রূপে। সরকারের সঙ্গে বিগ ক্যাপিটালের ধারক বাহকদের নিঃশব্দে স্বাক্ষরিত হচ্ছে গোপন চুক্তি। এই চুক্তিপত্রের খুঁটির উপর দিয়ে চলবে ফ্যাসিবাদের রেল। নিশ্চয় তা সময়েই চলবে। তবে টিকিটের দাম কত হবে জানা যাচ্ছে না। ৬ টাকার লেবু চায়ের বদলে নামী কাফের ৭০ টাকার সেকেন্ড ফ্লাশ কোন দিনমজুরের ব্যাটা খাবে জানা যাচ্ছে না। রাস্তায় জুতো ছিঁড়ে গেলে মুচির দোকানে না-গিয়ে সোজা স্কেচার্সের শোরুমে কোন কলেজ পড়ুয়া ঢুকবে জানা যাচ্ছে না। জানা যাচ্ছে না এই সকল বাস্তুহারা, কর্মসংস্থানহারা মানুষের ভবিষ্যত সম্পর্কেও। কেন-না স্বাধীনতার পরবর্তীকালে বোধহয় এই প্রথমবার সরকার এত বড়ো উচ্ছেদকাণ্ডটি ঘটাচ্ছে পুনর্বাসনের কোনওরকম ব্যবস্থা না-করে। সুকান্ত সেতু তৈরি হওয়ার সময় যাদবপুর রেলওয়ে বস্তিতে হাজারখানেক মানুষের উচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল শহীদনগর কলোনিতে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে যে অপারেশন সানশাইনের কথা বলে বলে বিজেপির আইটি সেল ফ্যানা তুলে ফেলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ক্ষেত্রেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যথাযথ কিন্তু এক্ষেত্রে সেসবের কোনও বালাই দেখা যাচ্ছে না।
এই চরম রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা আর নিষ্ঠুরতাই হয়তো স্টেট পলিসি! কিন্তু এই কঠিন সময় আমাদের আবার এক বেসিক লড়াইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিজেপি যেখানে সরাসরি বিগ ক্যাপিটালের স্বার্থ রক্ষা করতে বাউন্ড টু বি সেখানে লাল ঝান্ডাও গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে বাউন্ড টু বি! একদলের কাছে ক্যাপিটাল, পুলিশ, প্রশাসন, মিডিয়া থেকে শুরু করে সবকটি চালিকাশক্তি হাজির আর অপরদলের হাতে মানুষ ছাড়া কিছু নেই। অতএব সেই আদিম লড়াইয়ের ময়দান আজ আবার উন্মুক্ত যা যুগে যুগে নতুন রূপে ফিরে ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই
১৮৯৪ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইনে এই রাহাজানি সম্পূর্ণত সরকারি শিলমোহর পেয়ে গেল। রেলওয়ে স্থাপনকে ‘জনকল্যাণমূলক’ আখ্যা দিয়ে ওই বিপুল সারপ্লাস ল্যান্ডকে রেলওয়ের নিজস্ব জমি হিসাবে ধরে নেওয়া হল। এ-ব্যাপারে ইংরেজ সরকারের নীতি ছিল স্পষ্ট। তারা কোম্পানির পোঁতা খুঁটির পুরো জমিটাকেই খাস বলে দাবি করলেন। জমি হারানো রায়তেরাও কোর্টে আপিল করতে পারবেন না কেন-না তাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বৃহৎ জনকল্যাণমূলক স্বার্থে।
মজার ব্যাপার ঘটে ১৯৩৫ সালের ভারতশাসন আইনে। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপনকারী সেই আইনে এই জমি অধিগ্রহনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আমলাদের চতুরতায় রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণকে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। কেন-না রেল আধিকারিকরা ততক্ষণে ওই বিপুল পরিমাণে সারপ্লাস ল্যান্ডের ক্ষীর ভালো মতোই খাওয়া শুরু করেছেন। তারা ১৮৯৪ সালের আইনের ওই বিশেষ ফাঁকটিকে ব্যবহার করলেন। জনকল্যাণের দোহাই দিয়ে তারা রেলের সীমানার ভেতরে থাকা জমিগুলির কোনও অরিজিনাল ডিড বা ক্ষতিপূরণের রসিদ দেখার প্রয়োজনই মনে করলেন না। এভাবে রেললাইনের দু-ধারের জমি রেলের সম্পত্তি হিসাবে ব্ল্যাঙ্কেট এন্ট্রি পেয়ে গেল। গোটা অডিট চলাকালীন রায়ত বা বর্গাদারদের নিজেদের জমির অধিকার প্রমাণ করার আইনি সুযোগকে বারবার চেপে দেওয়া হয়েছে। কখনো বা সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।
স্বাধীনতার পর আমরা জানতে পারি যে ভারতীয় রেলে একটা বড়ো অংশের জমির কোনও মূল দলিল রেল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। ফলে জমি রাহাজানি যে ব্রিটিশ আমলে হয়নি একথা হলফ করে বলা যায় না। এই সূত্র ধরে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করার চেষ্টা করি— কোন স্টেশনের কত শতাংশ জমির মূল দলিল রেল কতৃপক্ষের কাছে নেই সেটা কি স্বাধীন ভারতের জনগণের জানার অধিকার নেই? আমাদের হাওড়া, শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ, যাদবপুর, দমদম স্টেশনের কত ভাগ জমির দলিল আছে রেলের কাছে তা কি রেল কর্তৃপক্ষ জানাবেন জনসাধারণকে?
কিন্তু ওই জমির দখল আর রেলওয়ে আধিকারিকদের হাতে সম্পূর্ণভাবে ছিল না। এর কারণ দেশভাগ ও রিফিউজি ক্রাইসিস। দক্ষিণবঙ্গে রেলওয়ের পাশের বস্তি এলাকা গড়ে ওঠার মূল কারণই ছিন্নমূল উদবাস্তুদের ভিড়। আছে ৪৩-র ভয়াবহ মন্বন্তরে বাস্তুচ্যুত কৃষক পরিবার! এর সঙ্গে আছে গাঁ, গেরাম থেকে শহরাঞ্চলে কাজ করতে আসা মানুষদের ভিড় যারা ওই অঞ্চলে ছোটো দোকান বসিয়ে পেট চালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। আর আছেন সেই হতভাগ্য রায়তের দল যাঁরা জমি হারিয়ে বংশ পরম্পরায় মজুরের কাজ করছিলেন রেলওয়ের গুদামগুলোয়। স্বাধীন ভারতে সাবসিটাইজড পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম দৃষ্টান্ত রেলওয়ে। ফলে বিপুল পরিমাণে জনসমাগম ঘটতে থাকে প্রতিদিন স্টেশনগুলোতে। যাঁরা এতযুগের ভাগ্যহত তাঁরা রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে দুটো পয়সার মুখ দেখে। উদাহরণ হিসাবে ধরতে পারেন যাদবপুর স্টেশনকে। ভারতের প্রাচীনতম রেলওয়ে স্টেশনগুলির মধ্যে একটি এই স্টেশন। ১৮৬২ সালে এই স্টেশনের জন্ম। বিপুল অংশের জমি অধিগৃহীত হয়েছিল স্টেশনকে কেন্দ্র করে। দক্ষিণে সন্ধ্যাবাজার থেকে উত্তরে পালবাজার অব্দি বিপুল জমি ছিল রেলওয়ের। তখন ক্যানিং বন্দর গড়ে তোলার কাজে ইংরেজ সরকার তৎপর। ফলে যাদবপুর স্টেশনের পার্শ্ববর্তী জমি তাদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠবে এই ছিল ভাবনা। পরে অবশ্য ব্যাপক সাইক্লোনের প্রকোপে ওই বন্দরের কাজ ব্যহত হয় এবং পরিকল্পনাটি বাতিল হয়। এই অংশের জমি বেআইনিভাবে অধিগৃহীত হয় যাঁদের কাছ থেকে তাঁরা অধিকাংশই ছিল নিম্নবিত্ত কৃষক। কোনও গল্পকথা নয়। পাথুরে প্রমাণ মেলে এক বীভৎস রাহাজানির।

ক্ষেত্রমোহন নস্কর, পাঁচুগোপাল সর্দার, ভূপতিচরণ প্রামাণিক, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলদের ভূত আজও ঘোরে এই স্টেশনের আনাচে কানাচে। আজ যেখানে যাদবপুর ১ নং স্টেশন সেখানে ছিল ক্ষেত্রমোহনের দেড়বিঘা শালিধানের জমি ও পুকুর। আজ যেখানে পালবাজার তার ভেতরের দিকে সব্জির বাগান ছিল পাঁচুগোপালের। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির সীমানা ঘেঁষে যে নীচু জলাজমি তা আদপে ভূপতিচরণ প্রামাণিকের জমি। যাদবপুর লোকো কোয়ার্টার ও রেল খালাসিদের থাকার জন্য অস্থায়ী ডেরা আসলে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের বাস্তুভিটা!
এদের প্রত্যেকের জমি জবরদখল করা হয়েছিল ইংরেজ আমলে। কাউকে ভুয়ো নকশা দেখিয়ে ঠকানো হয়েছে। কারুর জমি স্রেফ ঠ্যাঙারে প্রশাসনের হাতযশে আদায় হয়েছে। ফৌজদারি আদালতে সেইসব কেসের রক্তাক্ত ইতিহাস জমা রয়েছে।
কিন্তু নিট ফলাফল?
ক্ষেত্রমোহনের নাতি সুজিত নস্কর আজকের দিনে যাদবপুর রেলস্টেশনে সবজির ডালি নিয়ে বসেন। পাঁচুগোপালের প্রপৌত্র নিমাই সর্দার আজ যাদবপুর পালবাজারের মুখে একটা ছোটো চায়ের দোকান চালান। ভূপতিচরণের নাতি অরুণ প্রামাণিক আজ ৯বিতে সস্তা জামাকাপড়ের অস্থায়ী স্টল চালান। যোগেন্দ্রনাথের নাতি বিপ্লব মণ্ডল আজ যাদবপুর স্টেশনের অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পাশে একটি ছোটো ফাস্ট ফুডের দোকান চালান।
এই হল আমাদের প্রাণহীন শহরের ইতিকথা। খুঁজলে পাওয়া যাবে লাখো বিপ্লব, সুজিত, নিমাই, অরুণরা আজ ফ্যালফ্যালে চোখ মেলে বসে আছে হাজারো স্টেশনের ছোট্ট দোকানঘরে পসরা সাজিয়ে। তারা আজ উচ্ছেদের নোটিশ পাচ্ছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়ের সমনে জানতে পারছে তারাই জবরদখলকারী। হঠাৎ শুনতে পাচ্ছে তাদের রক্তঘামে স্টেশন দূষিত হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে যাত্রী পরিষেবা। তাদের দু-ফালি জায়গার দোকান রেলের কাছে বিপজ্জনক এবং অলাভজনক। এখানেই শেষ নয়। তারা বেবাক চোখ মেলে দেখছে এতদিন যে-সকল মধ্যবিত্ত তাদেরই দোকান থেকে অফিস ফেরত বাজার, সকালের জলখাবার, হঠাৎ বৃষ্টির ফাঁপরে পড়ে সস্তার ছাতা বা আরও সকল জিনিসপত্র কিনত তারা আজ বেমালুম ভোলবদলে ‘রাষ্ট্রবাদী’ হয়ে উঠেছেন। তারা আজ মনে করছেন এই ‘জবরদখলকারী’-রা বিনা ট্যাক্সে খেয়েপরে, ব্যবসা করে বহুত বড়োলোক হয়ে গেছে। তাদের সবক শেখানোর জন্য তুলে দেওয়া দরকার! তুলে সেই জমি লিজ দেওয়া দরকার আদানিকে, আম্বানিকে। তাহলে যদি রেলওয়ে লাভবান হয় তবে রাষ্ট্রের লাভ!
আদপেই কি ধর্মীয় আফিমের ঘোরে মধ্যবিত্তের মধ্যে এই মানবিক মড়ক? এই অদ্ভুত শ্রেণীঘৃণা কি শুধু ‘রাষ্ট্রবাদী’ হওয়ার প্রাণপণ তাগিদে? নাকি এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অর্থনীতির খেলা? তারা রেলওয়ের এই সারপ্লাস ল্যান্ডকে ঘিরে বহুজাতিক বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখছেন। সেই সকল বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার কিনে রাতারাতি বড়োলোক হওয়ার খেয়ালি পোলাও রাঁধছেন। বিগ ক্যাপিটালের লাভেই আমার লাভ এ-কথা তারা কায়মনোবাক্যে মেনে নিয়েছেন। সারা ভারতের শাইনিং মধ্যবিত্ত এখন এই গরিবমারা উন্নয়ন চায়। শেয়ার স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই আদানি!
তাই সে-যুগের নীলকর সাহেবরা আজ ফিরে এসেছে বহুজাতিক সংস্থার রূপে। সরকারের সঙ্গে বিগ ক্যাপিটালের ধারক বাহকদের নিঃশব্দে স্বাক্ষরিত হচ্ছে গোপন চুক্তি। এই চুক্তিপত্রের খুঁটির উপর দিয়ে চলবে ফ্যাসিবাদের রেল। নিশ্চয় তা সময়েই চলবে। তবে টিকিটের দাম কত হবে জানা যাচ্ছে না। ৬ টাকার লেবু চায়ের বদলে নামী কাফের ৭০ টাকার সেকেন্ড ফ্লাশ কোন দিনমজুরের ব্যাটা খাবে জানা যাচ্ছে না। রাস্তায় জুতো ছিঁড়ে গেলে মুচির দোকানে না-গিয়ে সোজা স্কেচার্সের শোরুমে কোন কলেজ পড়ুয়া ঢুকবে জানা যাচ্ছে না। জানা যাচ্ছে না এই সকল বাস্তুহারা, কর্মসংস্থানহারা মানুষের ভবিষ্যত সম্পর্কেও। কেন-না স্বাধীনতার পরবর্তীকালে বোধহয় এই প্রথমবার সরকার এত বড়ো উচ্ছেদকাণ্ডটি ঘটাচ্ছে পুনর্বাসনের কোনওরকম ব্যবস্থা না-করে। সুকান্ত সেতু তৈরি হওয়ার সময় যাদবপুর রেলওয়ে বস্তিতে হাজারখানেক মানুষের উচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল শহীদনগর কলোনিতে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে যে অপারেশন সানশাইনের কথা বলে বলে বিজেপির আইটি সেল ফ্যানা তুলে ফেলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ক্ষেত্রেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল যথাযথ কিন্তু এক্ষেত্রে সেসবের কোনও বালাই দেখা যাচ্ছে না।
এই চরম রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা আর নিষ্ঠুরতাই হয়তো স্টেট পলিসি! কিন্তু এই কঠিন সময় আমাদের আবার এক বেসিক লড়াইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিজেপি যেখানে সরাসরি বিগ ক্যাপিটালের স্বার্থ রক্ষা করতে বাউন্ড টু বি সেখানে লাল ঝান্ডাও গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে বাউন্ড টু বি! একদলের কাছে ক্যাপিটাল, পুলিশ, প্রশাসন, মিডিয়া থেকে শুরু করে সবকটি চালিকাশক্তি হাজির আর অপরদলের হাতে মানুষ ছাড়া কিছু নেই। অতএব সেই আদিম লড়াইয়ের ময়দান আজ আবার উন্মুক্ত যা যুগে যুগে নতুন রূপে ফিরে ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই
প্রকাশের তারিখ: ১৬-জুন-২০২৬
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৩৪ টি নিবন্ধ
১৬-জুন-২০২৬
১৩-জুন-২০২৬
০৭-জুন-২০২৬
০৬-জুন-২০২৬
০৪-জুন-২০২৬
০৭-মে-২০২৬
২৯-মার্চ-২০২৬
১৩-মার্চ-২০২৬
২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
২২-জানুয়ারি-২০২৬
