সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি এবং ইন্ডিয়া ব্লক
এম এ বেবি
বর্তমান সময়ের প্রয়োজন হলো— একদিকে বামপন্থীদের আরও বিস্তৃত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি, অন্যদিকে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লক্ষ্যে এবং হিন্দুত্ববাদী কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ব্লকের মতো ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলির বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ে তোলা। ইন্ডিয়া ব্লক সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এই সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উপলব্ধির ভিত্তিতেই নির্ধারিত।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পার্টি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাকে চিহ্নিত করেছে। ওই বৈঠকে বলা হয়েছে:
‘বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আরএসএস-বিজেপি-র নিয়ন্ত্রণকে আরও সংহত করেছে; পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র জয় বাম প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির কাছে একটা বড়ো ধাক্কা; ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি খোলাখুলিভাবেই আরএসএস-এর অ্যাজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’
আমরা আরও বলেছি যে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের নির্বাচনের ফল ‘বিজেপি নেতৃত্বাধীন দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলির উত্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে, যা সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। পার্টির ২৪তম কংগ্রেসে গৃহীত রাজনৈতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করার কৌশলকে সঠিক বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল:
‘সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে সর্বাধিক বিস্তৃতভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করার জন্য আমরা কাজ করেছি। লোকসভা নির্বাচনে গৃহীত নির্বাচনী কৌশলের ফলেই ইন্ডিয়া ব্লক গড়ে ওঠে। রাজ্যভিত্তিক আসন সমঝোতা হয়েছে, পৃথক নির্বাচনী ইশতেহার হয়েছে এবং ইন্ডিয়া ব্লকের কোনও স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়নি। এসবই বাস্তবে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই নির্বাচনী ঐক্য, যদিও আংশিক ছিল, তবুও বিজেপি-র জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপি লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মাত্র ২৪০টি আসন পায় এবং গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ৬৩টি আসন হারায়। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটভুক্ত দলগুলি মোট ২৩৪টি আসন জিতে বিরোধী শিবিরকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করে।’
তবে একই সঙ্গে, ইন্ডিয়া ব্লকের অংশ হয়েও তার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছিলাম। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল:
‘ইন্ডিয়া ব্লকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করতে হবে।... পার্টির স্বাধীন ভূমিকা ও কার্যকলাপকে যেন ইন্ডিয়া ব্লকের কার্যক্রমের মধ্যে বিলীন করে দেওয়ার কোনও প্রবণতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে, ইন্ডিয়া ব্লকের প্রধান দল কংগ্রেসের শ্রেণিচরিত্র সম্পর্কেও আমাদের স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিতে কংগ্রেস যে নয়া উদারনৈতিক নীতির পক্ষে অবস্থান নেয়, অথবা তাদের পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি যে নীতিগুলি অনুসরণ করে, সেসব বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানের নীতিগত পার্থক্যের সীমারেখা স্পষ্ট রাখতে হবে। এছাড়া, হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কিত প্রশ্নে কংগ্রেস যদি কোনও আপসকামী অবস্থান গ্রহণ করে, তবে তারও সমালোচনা আমাদের করতে হবে।’
এই উপলব্ধি থেকেই ২০২৬ সালের ৮ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকের আগে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি কংগ্রেস সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। সেই চিঠিতে বিরোধী জোটের বৃহত্তম দল কংগ্রেসের কিছু নেতার বিভ্রান্তিকর ও ঐক্যবিরোধী রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে কেরালার বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব যে প্রচারকৌশল গ্রহণ করেছিল, তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট আপত্তি জানানো হয়। ওই প্রচারে অভিযোগ করা হয়েছিল যে সিপিআই(এম) এবং বিজেপি-র মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছিল:
‘এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুৎসাপূর্ণ অভিযোগ, যাকে আমরা হালকাভাবে নিতে পারি না। এই ধরনের প্রচার বিজেপি-র বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐক্যের মূল ভিত্তিকেই আঘাত করে। আপনার জানা উচিত যে, কেরালায় আরএসএস-বিজেপি’র বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের শত শত কর্মী শহিদ হয়েছেন। আমরা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, কেরালায় এলডিএফ সরকারের গত দশ বছরের শাসনকালে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেনি, যেখানে দেশের বহু অন্য রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।’
চিঠিতে এই বিষয়গুলির স্পষ্ট জবাবও দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল:
‘লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার তৎকালীন কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এটিকে কি বিজেপি-বিরোধী অবস্থান বলা যায়, নাকি এটি এমন এক ঘটনা, যেখানে মোদি সরকারকে একজন সম্মানীয় বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কার্যত আহ্বান জানানো হচ্ছে? এই বিষয়গুলির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে ইন্ডিয়া ব্লকের অস্তিত্ব ও উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ঐক্য-বিরোধী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানানো এবং পরিস্থিতি পরিষ্কার করা আপনার ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দায়িত্ব।’
একইসঙ্গে, আরএসএস-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থেকেই বলা হয়েছিল যে, মোদি সরকারের কর্তৃত্ববাদী, সাম্প্রদায়িক এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে সিপিআই(এম) সংসদে ইন্ডিয়া ব্লক ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। আবারও জোর দিয়ে বলা হয় যে, নানা ধরনের আক্রমণ ও অপপ্রচার সত্ত্বেও এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সিপিআই(এম)-কে কখনও পিছিয়ে থাকতে দেখা যাবে না।
সিপিআই(এম)-এর দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। আরএসএস-বিজেপি-কে পরাজিত করতে হলে সমগ্র বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। একই সঙ্গে আমরা এটাও জানি যে, এই সংগ্রামে বামপন্থী শক্তি ও সিপিআই(এম)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস যখন সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলবে, তখন তাদের সেই আচরণকে উপেক্ষা করা যায় না। ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক দলগুলির বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণাত্মক মনোভাব সম্পর্কে কংগ্রেসের আত্মসমালোচনামূলক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যেমন কেরালায় সিপিআই(এম) এবং পলিট ব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়নকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তেমনই তার আগে দিল্লিতে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং তাদের শীর্ষ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও একইভাবে নিশানা করা হয়েছিল। আবার তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে তারা রাজনৈতিক সুবিধাবাদের পরিচয় দেয় এবং যে কোনও উপায়ে নতুন সরকারের অংশ হওয়ার চেষ্টা করে।
ডিএমকে ও আপ— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দলের অনুপস্থিতি ইন্ডিয়া ব্লকের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চকে দুর্বল করেছে। ইন্ডিয়া ব্লককে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন একটি সাধারণ নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং, এটি সেইভাবেই বিবেচনায় থাকা দরকার, যেভাবে শুরুতে কল্পনা করা হয়েছিল— ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলির একটি বিস্তৃত ও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে। রাজনৈতিক পর্যালোচনা রিপোর্টের উপসংহারে আমরা বলেছিলাম: ‘নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের ইন্ডিয়া ব্লকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাধারণ প্রশ্নে ও বিজেপি-আরএসএস-এর সাম্প্রদায়িক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সহযোগিতা ও সংগ্রাম যৌথভাবে চালিয়ে যেত হবে।’
এই মনোভাব থেকেই ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পরিচালিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) কর্মসূচির বিরুদ্ধে একটি যৌথ অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছিল। আগামী দিনে মোদি সরকার যখন নির্বাচনী কেন্দ্রসমূহের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রস্তাব এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত বিল সংসদে পাস করানোর চেষ্টা করবে, তখন আমরা সংসদে ইন্ডিয়া ব্লকভুক্ত দলগুলির পাশাপাশি ডিএমকে ও আপের মতো বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেব। গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ, ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর কর্তৃত্ববাদী হামলার বিরুদ্ধে জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব প্রশ্নে ইন্ডিয়া ব্লককে একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ হিসেবে কাজ করতে হবে। ৮ জুনের বৈঠকে গৃহীত পাঁচ দফা পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত সেই দিক থেকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন জীবিকা ও রুজি-রুটির প্রশ্নই স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে এবং কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন-প্রতিবাদ প্রমাণ করছে যে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ জমে উঠছে। তাই সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নগুলোকে আমাাদের সামনে নিয়ে আসা এখন অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম লাগাতার বৃদ্ধি, শ্রম আইনসংক্রান্ত কোডগুলির প্রয়োগ, মনরেগা কার্যত তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা, পর্যাপ্ত সার না পাওয়া— এই ইস্যুগুলিই মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, ত্রুটিপূর্ণ নিট ও সিবিএসই পরীক্ষাব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে ছাত্র-যুব সমাজ গভীর হতাশার মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পার্টিকে স্বাধীন উদ্যোগে এবং বামপন্থী শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন অংশের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শ্রেণি ও গণসংগঠনগুলির সর্বাধিক বিস্তৃত ঐক্য গড়ে তোলার দাবি আজকের পরিস্থিতি করছে।
একটি শ্রমিকশ্রেণির দল হিসেবে শ্রেণিগত ও জনগণের সমস্যাগুলি তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘জন আক্রোশ যাত্রা’গুলি এবং এর শেষে দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘জন আক্রোশ সমাবেশ’-এর মাধ্যমে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমান সময়ের প্রয়োজন হলো— একদিকে বামপন্থীদের আরও বিস্তৃত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি, অন্যদিকে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লক্ষ্যে এবং হিন্দুত্ববাদী কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ব্লকের মতো ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলির বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ে তোলা। ইন্ডিয়া ব্লক সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এই সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উপলব্ধির ভিত্তিতেই নির্ধারিত।
ভাষান্তর: শঙ্কর মুখার্জি
শিরোনাম মার্কসবাদী পথ পত্রিকার
প্রকাশের তারিখ: ১৭-জুন-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
