Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

হকের দাবিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা ব্রিগেডের পথে

এস এম সাদি
নয়া-উদারবাদী অর্থনীতিতে লগ্নীপুঁজির মুনাফা লাভের হৃদয়হীন শোষণের শিকার হচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। কর্পোরেট পুঁজি বেশি বেশি লাভের জন্য কম মজুরিতে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগায়। পরিযায়ী শ্রমিকরা এই সমাজে হয়ে উঠেছেন সস্তার কাজের লোক। এদের ক্ষেত্রে বেতনের অঙ্ক সাজিয়ে নেওয়া যায় নিজেদের মর্জিমাফিক। খাটানো যায় যন্ত্রের মত। এই জীবনযন্ত্রণা শুধু পুরুষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নয়, নারী পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 
Migrant workers march to Brigade for their rights

ভারতবর্ষের শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী শ্রমিকের ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Migrant Workers' । পরিযায়ী শ্রমিক বলতে এমন একজন শ্রমিক বা কর্মীকে বোঝায় যিনি কাজের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যান। কিন্তু সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না বা বসবাসের ইচ্ছা রাখেন না। সাধারণভাবে বলা যায় যে সমস্ত শ্রমিক বা কর্মীরা কাজের জন্য নিজ রাজ্য, নিজ দেশের মধ্যে বা দেশের বাইরে যান তাদের পরিযায়ী শ্রমিক বলা হয়। পরিযায়ী শ্রমিকরা সাধারণত অস্থায়ীভাবে বা মরসুমি ভিত্তিতে কাজ করেন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কাজের জন্য যেতে হয়। যে সব পরিযায়ী শ্রমিক নিজ দেশের বাইরে কাজ করেন তাদের বিদেশী শ্রমিক, ‘এপ্যাট্রিয়েট’ বা অতিথি শ্রমিকও বলা হয়। 

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আনুমানিক হিসাব বিশ্বজুড়ে ১৬.৯ কোটি আন্তর্জাতিক পরিযায়ী শ্রমিক বিদ্যমান। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী পরিযায়ী শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৪৫.৫৮ কোটি যা মোট জনসংখ্যার (প্রায় ১২১ কোটি) ৩৭.৬৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিন রাজ্যে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। রাজ্যে প্রায় বেশিরভাগ জেলাতেই কমবেশি পরিযায়ী শ্রমিক আছে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সংখ্যা ৩,৬৬,৩৩৮ এরপরে স্থান মালদহ জেলা ২,৬৯,৬৮৭ জন, নদিয়া জেলার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ১,৫৯,৭৪১ জন, কোচবিহারে এই সংখ্যা ১,৪৫,০৫৫ জন। 

পরিয়ায়ী শ্রমিকদের নিজ রাজ্য বা দেশ ছেড়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য রাজ্য বা দেশে গিয়ে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। সমাজ, সভ্যতার ও দেশের প্রকৃত মেরুদণ্ড হল কৃষক ও শ্রমিক সম্প্রদায়। তাদের মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করার মধ্য দিয়ে সমাজ, সভ্যতা, দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হয়। ভারতের স্বাধীনতা ৭৬ বৎসর অতিক্রান্ত। অথচ ভারতের সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম মেরুদণ্ড শ্রমিক, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের নানা সমস্যার বেড়াজালে জীবনযন্ত্রণার মধ্য দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাসস্থান ও পরিবার এক রাজ্যে, আর অন্যদিকে পেটের টানে পরিবারকে ভালো রাখার তাগিদে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তাদের কাটাতে হয় অন্য রাজ্যে, অন্য দেশে। দেখা যায় তাদের ছাড়া মানুষের জীবন একেবারেই অচল। তারাই সভ্যতা নির্মাণের কারিগর। অথচ এই শ্রমিকরা ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার সাড়ে সাত দশক পরেও স্বাধীনতার স্বাদ কতটা পেয়েছেন শ্রমিকরা? তাদের শ্রমের মর্যাদার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কি? উত্তরে বলা যায় না হয়নি। সময় যত এগোচ্ছে, সমাজে তারা যেন ক্রমশই অবাঞ্ছিত হয়ে উঠেছেন। একপ্রকার অনিশ্চিত এবং অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে বেঁচে আছেন ও দিন যাপন করছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ২০১১ সালের পর এ রাজ্যে কাজ নেই, নতুন শিল্প-কারখানা নেই, কৃষির সঙ্কট, নেই কোন‌ও নতুন কর্মসংস্থান। কী করে চলবে তাদের জীবন, সংসার, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া? উপায় নেই, অগত্যা জীবনকে বাজি রেখে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে কাজের জন্য পাড়ি দেওয়া। 

নয়া-উদারবাদী অর্থনীতিতে লগ্নীপুঁজির মুনাফা লাভের হৃদয়হীন শোষণের শিকার হচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। কর্পোরেট পুঁজি বেশি বেশি লাভের জন্য কম মজুরিতে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগায়। পরিযায়ী শ্রমিকরা এই সমাজে হয়ে উঠেছেন সস্তার কাজের লোক। এদের ক্ষেত্রে বেতনের অঙ্ক সাজিয়ে নেওয়া যায় নিজেদের মর্জিমাফিক। খাটানো যায় যন্ত্রের মত। এই জীবনযন্ত্রণা শুধু পুরুষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নয়, নারী পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 

অসংগঠিত ও অরক্ষিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে পরিযায়ী শ্রমিকরা অত্যন্ত কম মজুরিতে এবং কঠোর পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে বাধ্য হন। পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান আইনি চুক্তিভিত্তিক না হওয়ার ফলে তারা জীবিকা সংক্রান্ত সবরকম সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সময়মত প্রাপ্য মজুরি পান না। অনিয়মিত বেতনের জন্য তাদের নিয়োগ কর্তাদের বা ঠিকাদারদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের লাশ পরিবারের কাছে ফিরে আসে। কেরালার বামপন্থী সরকার ব্যতীত কোনও সরকারই অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে না। সে কারণে ১৯১৭ সালের মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স আইন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কার্যকরী ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের দাবিতে ২০শে এপ্রিল ব্রিগেডের সমাবেশ।

কোভিড-১৯ অতিমারি কালে পরিস্থিতিকে আরও প্রকট এবং জটিলতর করে তোলে। সি এম আই ই বা সেন্টার ফর মনিটরিং ইণ্ডিয়ান ইকনমির একটি রিপোর্টে দেখা যায় অতিমারির দ্বিতীয় প্রবাহের ২০২১-এর এপ্রিল-মে মাসে ২ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষ তাদের কাজ হারান; তার মধ্যে ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষই দিনমজুর। এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকারের কাছে ৭ হাজার টাকা প্রতি পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারকে দেওয়ার দাবি করা হয়। বিজেপি সরকার তার উপেক্ষা করে। নগদ টাকা সাহায্য না পাওয়ার ফলে তাদের আর্থিক সঙ্কট তীব্র হয়। বলা বাহুল্য, সেই মহামন্দার সময় থেকে আজও তারা তীব্র আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। 

পরিযায়ী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তাহীনতা। পরিযায়ী শ্রমিকদের রেশনকার্ড গ্রামে তাদের পরিবারের কাছে থেকে যাওয়ার ফলে যে শহরগুলিতে তারা কাজ করেন সেখানে সরকারি ভর্তুকির স্বল্প মূল্যের খাবারের যোগান থেকেও তারা বঞ্চিত হন। ২০১০ সালে আমেদাবাদে আজীবিকা ব্যুরোর করা সমীক্ষায় রিপোর্টে দেখা যায় স্থানীয় অঞ্চলে বসবাসের আইনি কাগজপত্র না থাকার ফলে তারা ভর্তুকি ব্যতিত গ্যাস কানেকশন থেকে বঞ্চিত হন, ফলে তারা ভর্তুকি ব্যতিত গ্যাস সিলিন্ডার অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হন অথবা রান্নার জন্য কাঠ ব্যবহার করেন। যেহেতু এই শ্রমিকদের নিজেদের গ্রামে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে হয়, শহরে বেঁচে থাকার খরচ যোগাতে দেনার জালে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এছাড়া রয়েছে বাসস্থানের সমস্যা, বাড়ি ভাড়ার খরচ। অনেকে খরচ কমাতে ফুটপাত, স্টেশন বা বাস ডিপোগুলিতে রাত কাটান। অনেকে আবার বাইরের রাজ্য থেকে আসা মানুষ দেখলে অস্বাভাবিক বেশি টাকা চেয়ে বসেন, যা অসাম্যতার আরও একটি পরিচয়। আর কোনও কিছু না জুটলে দিনের শেষে খালি হাতে এই পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন নিজের মুলুকে। 

মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকরা বিশেষত: গর্ভবতী মহিলা, স্তনদায়িনী মা এবং শিশুরা অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান ও শৌচালয়, অপ্রতুল পুষ্টি এবং দারিদ্রের ফলে বেশি করে রোগের প্রকোপে পড়েন। তাছাড়া তাঁরা যৌন নির্যাতন ও পারিবারিক হিংসার শিকার হন। ফলে নারী-পুরুষ উভয় পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনজীবিকা কষ্ট, যন্ত্রণার মধ্যে অতিবাহিত হয়। এই সময়কালে বিশেষভাবে লক্ষণীয় তৃণমূল সরকারের কর্মনাশা নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, কাজ ও প্রয়োজনীয় মজুরি না থাকায় পারিবারিক আর্থিক অনটনের জন্য শিশু পরিযায়ী শ্রমিক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে বহুসংখ্যক ছাত্র যাদের বিদ্যালয়ে নাম আছে তারাও পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত লুট হচ্ছে শিশু ও ছাত্রের স্বপ্ন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত। 

পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রায় সকলেই নিম্ন বর্ণের হিন্দু বা মুসলমান। এদের মধ্যে বেশিরভাগই দলিত আদিবাসী ও গরিব মুসলিম পরিবারের মানুষ। পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগ অংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রে (Informal Sector) কাজ করে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষক ও শ্রমিক। সেখানে কোন‌ও সংবাদ মাধ্যমই এই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে তেমন কোন আলোচনা করেনা। সরকারও তাদেরকে উপেক্ষা করে চলেছে। 

এ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ রাজ্য ছেড়ে কাজের সন্ধানে মহারাষ্ট্র, কেরালা, ওড়িষা, রাজস্থান, কর্ণাটক, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, গুজরাট, দিল্লি, আসাম এবং অন্যান্য রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া ভিন দেশ আরব, আমির আমিরাত ও ইউরোপের দেশেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, তার প্রধানমন্ত্রী ‘সবকা আশ্বাস, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস' এবং ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' বলেছেন, আলোকিত ভারতের কথা বলেছেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকার ও তার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলা হাসছে, বাংলায় উন্নয়নের ফল্গুধারা প্রবাহমান। জোর করে সাফল্যের ঢাক পেটাচ্ছেন। অথচ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কেউই পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কোভিড-১৯-এর সময় সারা দেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার মর্মান্তিক দৃশ্য আমাদের চোখে ভেসে ওঠে। 

করোনা কালে ভয়াবহ স্মৃতি রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে যন্ত্রণায় ক্ষত হয়ে আছে, আজও তারা সেই দিনগুলির কথা ভোলেনি। ৪ ঘন্টার নোটিশে হঠাৎ ঘোষিত লকডাউনে সেই সময় ভিন রাজ্যে থাকা হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়েন। নিরাপত্তা, কাজ, রেশন, খাবার, ঘরে ফেরানোর কোনও উদ্যোগ তৃণমূল ও বিজেপি সরকার নেয়নি। করোনার ভয়ানক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য, নিরাপত্ত, ঘরে ফেরা প্রভৃতি নানাবিধ বিষয়ে সি আই টি ইউ, ট্রেডইউনিয়ন সংগঠন ও তার নেতৃত্ব ভিন রাজ্যে ও এ রাজ্যে তাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় যা নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মুখ্যমন্ত্রী লকডাউনের সময়ে অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ না নিয়ে বরং পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ট্রেনকে 'করোনা এক্সপ্রেস' বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাদের অপমান করেছিলেন। এই দুঃসহ স্মৃতি শ্রমিকরা ভোলেননি। তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। পঞ্চায়েত অফিস তালা বন্ধ করে পালিয়েছিলেন। সেই সময় একমাত্র সি আই টি ইউ নেতৃত্ব রাজ্য ও সারা দেশে তাদের পাশে ছিল। গভীর সঙ্কটকালে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহস দিয়েছেন। খাবার, নিরাপত্তা, ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করেছে। না বিজেপি, না তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব, সাংসদ, মন্ত্রী কেউই সেই সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করেনি। বর্তমান কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ৪টি শ্রম-কোডের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পরিযায়ী শ্রমিকদের আইন সহ সমস্ত অধিকার কেড়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছে। রাজ্যের বাইরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ধর্মীয় ও জাতপাতের রাজনীতির আক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। ব্যাঙ্গালোর, ওড়িষার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি উল্লেখযোগ্য। সংখ্যালঘু হলেই তাদের বাংলাদেশী বলে জোর করে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

কাজের খোঁজে ভারতবর্ষের নাগরিক বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছে, এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার । এই অধিকার বিজেপি কেড়ে নিতে চায়। কেন্দ্র-রাজ্য সরকার কর্পোরেটের মুনাফার স্বার্থে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারগুলি সঙ্কুচিত বা বাতিল করছে। শ্রমকোডের মধ্য দিয়ে আট ঘন্টা কাজের অধিকার ফাটকা পুঁজির স্বার্থে বিজেপি সরকার কেড়ে নিতে চলেছে। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার হে মার্কেটে আট ঘন্টা কাজের দাবির লড়াইয়ের সেই সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আজও তাদের উত্তরসূরীরা দীপ্ত কন্ঠে আওয়াজ তুলে সেই অধিকার রক্ষায় মেহনতি মানুষের ব্রিগেডের সমাবেশে সামিল হবেন। অতিসম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লংঘন করে পশুর ন্যায় হাতেপায়ে বেড়ি পড়িয়ে ভারতে ফেরত পাঠায় যা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। নরেন্দ্র মোদি দেশের নাগরিক পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিকার না করে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। ভারতীয় সংবিধানের ২১ এবং ৩৯ নম্বর ধারায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের জীবনজীবিকা সুরক্ষা দেওয়া। নাগরিক হিসাবে সংবিধান প্রদত্ত এইটুকু সুরক্ষা পরিযায়ী শ্রমিকরা দাবি করতেই পারে। কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রের সরকারই কোনও অজুহাতে এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। 

তাই আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৫ হকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মেহনতি মানুষের ব্রিগেড সমাবেশে রাজ্য ও ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরা বন্ধু, পরিবার-পরিজন সহ অংশগ্রহণ করে স্লোগানে আওয়াজ তুলবেন রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের দাবি- ভিন রাজ্যেও নিরাপত্তা চাই, ওষুধ সহ জিনিসের দাম কমাতে হবে, সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে, ওয়েলফেয়ার বোর্ড কার্যকরী করা, ন্যূনতম ২৬০০০ টাকা মজুরী, মৃত শ্রমিক পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, নিখরচায় শ্রমিকদের মৃতদেহ বাড়িতে আনার ব্যবস্থা, ঠিকাদারদের লাইলেন্স বাধ্যতামূলক, দূরপাল্লার ট্রেনে দু'টি বগি সংরক্ষণের দাবি, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা, ১০০০০ টাকা পেনশনের দাবি, অন্য রাজ্যগুলিতে রাজ্য সরকারের নোডাল অফিসার ও মিশন অফিস চালু ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সরকারি পরিচয়পত্র চালু করতে হবে।  


প্রকাশের তারিখ: ১৮-এপ্রিল-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

পোস্টটি ভালো লাগলো। এই মানুষদের কথা বলার জন্যই তো ২০এপ্রিলের ব্রিগেড। পরিযায়ী শ্রমিকদের এবং তাদের পরিবারের কোনোরকম সামাজিক নিরাপত্তাই তো নয়।
- মৈত্রেয়ী দাশগুপ্ত , ১৮-এপ্রিল-২০২৫


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৩ টি নিবন্ধ
০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫

০৮-জুলাই-২০২৫

০৭-জুলাই-২০২৫