Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

দুর্দশার কবলে মনরেগা শ্রমিকরা : ক্রমবর্ধমান সংকটের কবলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান

বিক্রম সিং
কৃষিশ্রমিক সংগঠনগুলি ও এনরেগা সংঘর্ষ মোর্চা ভিবি-গ্রাম (জি) আইন বাতিল এবং মনরেগা প্রকল্পের পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে দৈনিক ৭০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি সহ প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের জন্যে ন্যূনতম ২০০ দিন কাজের সুনিশ্চয়তা।
MGNREGA Workers in Distress

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আইন বা মনরেগা (MGNREGA) ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারভিত্তিক গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প যা দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামীণ গরিবদের জীবনরেখা হিসেবে থেকেছে। এই আইন প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে বিধিগতভাবে বার্ষিক ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার কার্যত মনরেগাকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দিয়ে গ্রামীণ শ্রমজীবী জনগনকে অনিশ্চয়তার গর্ভে ঠেলে দিয়েছে।

সাধারণভাবে এটা উপলব্ধি করা গেছে যে, বিধিনির্ভর অর্থ বরাদ্দের সাথে জুড়ে দেওয়ার ফলে এই প্রকল্পে চাহিদা নির্ভরতার বৈশিষ্ট্য থাকল না এবং পরিবর্তে হয়ে গেল বাজেট বরাদ্দের উপর নির্ভরশীল আর দশটা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমতুল। ধারণা করা যাচ্ছে যে এই পরিবর্তন রাজ্যগুলির ওপর গুরুতর আকারের অর্থনৈতিক বোঝা চাপাবে যখন উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ব্যতীত অন্যত্র খরচের অংশীদারী কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এসে দাঁড়াবে ৬০:৪০-এ। কার্যক্ষেত্রে মনরেগায় এই অনুপাত ছিল ৯০ : ১০ এর কাছাকাছি। তাছাড়া বর্তমান ব্যবস্থায় মজুরি সংশোধন বা সূচক নির্ভরতা নেই। অধিকন্তু, এখানে সুযোগ রয়েছে কৃষির তুঙ্গ মরশুমে ৬০ দিন অবধি কাজ বন্ধ রাখার। এই প্রকল্পের সর্বজনীন চরিত্র দুর্বলতর হয়েছে প্রজ্ঞাপিত এলাকায় (notified areas) এর বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধ রাখার বিধানের ফলে। অন্য এলাকা অন্তর্ভুক্ত বা পুরোপুরি বর্জিত হবে কিনা সে সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এই প্রকল্প কৃষি শ্রমিক ও গ্রামীণ শ্রমজীবী জনতার আইনগতভাবে পাওয়া কাজের অধিকারের নিশ্চয়তাকে সুনির্দিষ্টভাবে হরণ করেছে। এর ফলে তাদের জীবনজীবিকার অনিশ্চয়তা আর‌ও বেড়ে গেল।

এই পদক্ষেপ যা প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে সেই ভিবি-গ্রাম (জি)-কে কেন্দ্র সংসদে পাশ করেছে কোন‌ও পূর্ববর্তী শলাপরামর্শ ছাড়াই। এর ফলে মনরেগার চাহিদা নির্ভর ‘কাজের অধিকার’ সুনিশ্চয়তার যে বিন্যাস তা বাতিল হয়েছে যেখানে অর্থসংস্থানের বিষয়টি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিধিগত দায়িত্ব। একইসাথে, অভিজ্ঞমহল জানাচ্ছে, এই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সংসদে বাজেট বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল যা নতুন করে এই আশঙ্কারই জন্ম দিচ্ছে যে সরকার গ্রামীণ শ্রমজীবীদের কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করছে না অথবা গ্রামীণ অর্থনীতির চাহিদা সম্পর্কে ততটা মনোযোগী নয়।

কেন্দ্রীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভিবি-গ্রাম (জি) (VB-GRAM (G)) প্রকল্পের জন্যে ৯৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই বরাদ্দ অপ্রতুল এবং অতিরিক্ত উদ্বেগটি হল, রাজ্যওয়ারি বিধিগত বরাদ্দ আদৌ সুস্পষ্টভাবে প্রজ্ঞাপিত হয়েছে কি না। এ ধরনের স্পষ্টতা না-থাকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক কারণ অধিকাংশ রাজ্য তাদের অংশীদারিত্ব জানার আগে ইতিমধ্যেই তাদের বাজেট চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এর ফলে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি ঘোলাটে এবং এক অর্থে যদৃচ্ছ হয়ে গেল। রাজ্যগুলিকে এখন ৪০ শতাংশ বরাদ্দের ভার নিতে হবে, অথচ তারা এখনও অবধি জানেই না কেন্দ্র থেকে কতটা অর্থসাহায্য এসে পৌঁছবে। এই অনিশ্চয়তার ফলে রাজ্যের তরফে নিজেদের ভাগ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ার ফলে গোটা প্রকল্পের বাস্তবায়ন এক জটিলতার গ্রাসে পতিত হল।

এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার জন্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ। যদিও মনরেগার অধীনে বার্ষিক মজুরি সংশোধনের হার ঐতিহাসিকভাবেই অপ্রতুল ছিল, কিন্তু সংশোধিত মজুরি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রথাগতভাবে প্রতি বছর মার্চ মাসেই হয়ে যেতো। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে, এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে ২৭ মার্চ। একইভাবে ২০২৩ সালে সরকারের তরফে ২৪ মার্চ, ২০২২ সালে ২৮ মার্চ, ২০২১ সালে ১৫ মার্চ এবং ২০২০ সালে ২৪ মার্চ প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতি অর্থবর্ষে এই সংশোধিত মজুরি বলবৎ হত ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু এক দশকের অভূতপূর্ব ভাবে এই প্রথম, বর্তমান অর্থবর্ষ আসার আগে মনরেগার মজুরি সংশোধন প্রজ্ঞাপিত হয় নি যা মজুরি প্রদানের বিলম্ব ও অনশ্চিয়তা নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সারা দেশেই গ্রামীণ শ্রমজীবীদের মধ্যে এক গভীর অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে। অনেকেই জানাচ্ছে যে তারা জোরালোভাবে কাজের দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো ধরনের সুরক্ষিত কর্মসংস্থান এখন অবধি করে উঠতে পারেননি। শ্রমজীবীরা বলছেন যে তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়ে সরকারি কর্তারা জানিয়ে দিচ্ছে যে মনরেগার অধীনে আর কোন‌ও কাজ হবে না। এর ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, এখন কি তবে নতুন চালু করা ভিবি-গ্রাম (জি) ব্যবস্থাপনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে? লক্ষ্য করার বিষয়, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। মনরেগা বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আশা করা গিয়েছিল যে ১ এপ্রিল থেকে নতুন ব্যবস্থাপনা চালু হবে। কিন্তু এ সম্পর্কিত আইন দ্রুততার সাথে পাশ করিয়ে নেওয়া হলেও এ সংক্রান্ত বিধিমালা এখনও তৈরি করা হয়নি। এর ফলে ২০২৬ এর এপ্রিলে গ্রামীণ শ্রমজীবীরা নিজেদেরকে আইনত শূন্যতার মধ্যে আবিষ্কার করছেন যেখানে মনরেগার অধীনে বিধিগত কাজের অধিকার নেই আবার একইসঙ্গে ভিবি-গ্রাম (জি)-র অধীনে কাজের নিয়মাবলীও নেই। এই অবস্থার নিটফলে এই মুহূর্তে তাঁদের সুনিশ্চিত কর্মসংস্থানের অধিকার নেই এবং বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা প্রদত্ত তথ্য বলছে যে পূর্বতন প্রকল্পে নতুন করে আর কর্মসংস্থান না দেওয়ার জন্যে সরকারি কর্তাদের নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয়স্তরের প্রধান সংবাদ মাধ্যমগুলি এই বিষয়টি তুলে ধরা থেকে বিরত থাকলেও স্থানীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যমগুলি মনরেগার ফলে গ্রামীণ শ্রমজীবীদের ‍দুর্দশার বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্থান হয়েছে। ডাউন টু আর্থ-এর মতে, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল নাগাদ মনরেগার অধীনে মাত্র ৯৫ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে যা ২০২৫-এর এপ্রিলের মাত্র ৪%। তুলনায় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ২.৬ কোটি শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ চতুর্থার্ধে যখন ভিবি গ্রাম (জি) পাশ হয়ে গেছে, তখন সারা দেশজুড়ে মাত্র ২.১ কোটি শ্রমদিবস সৃষ্টি হয় যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের একই সময়পর্বে সৃষ্ট শ্রমদিবসের চেয়ে ৩১% শতাংশ কম। মনরেগার অবস্থান নিয়ে এই নিয়ে অস্পষ্টতার ফলস্বরূপ মজুরি প্রদানেও উল্লেখযোগ্য বিলম্বের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সংসদে নতুন আইন পাশ হওয়ার পর, বিভিন্ন রাজ্যেই মজুরি প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যার ফলে বকেয়া মজুরির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

এছাড়া আর‌ও একটি উদ্বেগ রয়েছে মনরেগার আওতায় থাকা চলমান ও অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে। চলতি বাজেটে ৩০,০০০ কোটি টাকা এক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা হলেও, এর বাস্তবায়ন নিয়ে মাঠপর্যায়ে ন্যূনতম স্বচ্ছতা নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে বরাদ্দ পরিমাণ নিতান্তই অপ্রতুল কারণ এর সিংহভাগই ব্যয়িত হবে পুরোনো বকেয়া মেটাতে। তাছাড়া, সরকারি কর্তারা অধিকাংশ চলমান কাজগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও গ্রামীণ বিকাশ মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কর্তারা ঘোষণা করেছেন যে নতুন প্রকল্পে প্রবেশের আগে মনরেগার অধীনে চলমান কাজগুলো সম্পূর্ণ না হওয়া অবধি চলবে, কিন্তু মাঠপর্যায় থেকে উল্টো খবর আসছে। শ্রমজীবীরা কাজ পাচ্ছে না। এমনকী স্থানীয় প্রশাসনও এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে সন্দিহান। উদাহরণ স্বরূপ, একমাত্র উত্তরপ্রদেশেই মনরেগার আওতায় থাকা ১,২২৭,৬৭০-টি কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এছাড়া রাজ্যে অতিরিক্ত বকেয়া তাৎপর্যপূর্ণ দায়ের পরিমাণও প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা। সঙ্গে থাকা বকেয়া মজুরি কাজ বন্ধ রাখা ও বিলম্বিত হওয়ায় ভূমিকা রাখছে।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মনরেগা বাস্তবায়নের দুর্দশা থেকেই গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে যায়। দিল্লি ভিত্তিক লিবটেক ইন্ডিয়ার তরফে অন্ধ্রপ্রদেশ সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত মনরেগা বিষয়ক নজরদারির প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর প্রতি মোট জন-দিবসের কাজ ২,৪২২.৮৪ লক্ষ থেকে ১,৮৫৯.৭৭ লক্ষে কমে মোট হ্রাস পেয়েছে ২৩.২%। এই সংকোচন বিস্তৃত পরিসরে : নথিভুক্ত পরিবারের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৬.১% হারে, কাজ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৮.৬% হারে, মোট শ্রমিক সংখ্যা কমেছে ১০.১% এবং পরিবারপিছু কর্মদিবসের সংখ্যা কমেছে ১৬%। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, পুরো ১০০ দিনের কর্মসংস্থান পেয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৫.১ লক্ষ থেকে ২.১৬ লক্ষে নেমে একধাক্কায় হ্রাস ঘটেছে ৫৭.৬%। ফলস্বরূপ এমন পরিবারের অনুপাত ১০.৯% থেকে কমে ৫%-এ এসে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। ত্রৈমাসিক তথ্যে আরও স্পষ্ট হচ্ছে যে, অধোগতি শুরু হয়েছে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার অনেক আগে থেকেই। তবে নিম্নগামিতা গতি পেয়েছে শেষ তিন মাসে (জানুয়ারি – মার্চ ২০২৬) এসে যা নতুন ভিবি-গ্রাম (জি) কাঠামোয় পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গী হয়ে।

মনরেগার সামগ্রিক বিস্তৃতিও বিগত বছরগুলিতে হ্রাস পেয়েছে। একদিকে অংশগ্রহণকারী পরিবারের সংখ্যা ৫.৭৮ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৫.৩৪ কোটি, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকের সংখ্যা ৭.৮৮ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭.২ কোটিতে। এই পরিসংখ্যানগুলি এটাই দেখিয়ে দিচ্ছে যে নীতিগত পরিবর্তনে ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সীমা কমতে শুরু করেছে, অথচ গ্রামীণ কর্মহীনতা ও অর্থনৈতিক দুর্দশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থান প্রদান করাও মনরেগার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু অনুসূচিত জাতি (এসসি) জনগোষ্ঠীর এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ ২০২৪-২৫ সালের ১৮.৬৩% থেকে কমে ২০২৫-২৬-এ ১৬.৮% হয়েছে। একইভাবে নারীর অংশগ্রহণেও ২০২৪-২৫-এর ৫৮.০৮% থেকে ২০২৫-২৬-এ ৫৭.২৫% নেমে এসে সামান্য হ্রাস ঘটেছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে ২০২৫-২৬-এ মনরেগার কাজ দুর্বলতর হয়েছে। আবার অনলাইন হাজিরার মত প্রশাসনিক প্রতিবন্ধক, প্রযুক্তিগত বিপাক এই প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিশেষে বলা যায়, মনরেগার মত একটি অধিকারকেন্দ্রিক আইনকে দুর্বল বা ধ্বংস করে দেওয়ার একটি গুরুতর অভিঘাত পড়বে সারাদেশ জুড়ে গ্রামীণ জীবনজীবিকায়। নতুন ভিবি-গ্রাম (জি) পরিকাঠামো কর্মসংস্থানের কোন‌ও আইনগত সুনিশ্চয়তা যেমন দেয় না, তেমনি মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান প্রদানেরও সক্ষমতা নেই এর। বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা, নীতির ক্ষেত্রে জটিলতা এবং প্রশাসনিক দিশাহীনতা গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের দুর্বলতার আরো বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে এমন একটা সময় যখন গ্রামীণ অর্থনীতি ইতিমধ্যেই চরম দুর্দশাগ্রস্ত, তখন সরকারের তরফে কাজের আইনগত অধিকারকে পুনরুদ্ধার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের সুনিশ্চিতকরণ এবং নীতিকাঠামোর পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শ্রমজীবীদের স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনজীবিকার সুনিশ্চয় করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইত্যোবসরে, কৃষিশ্রমিক সংগঠনগুলি ও এনরেগা সংঘর্ষ মোর্চা ভিবি-গ্রাম (জি) আইন বাতিল এবং মনরেগা প্রকল্পের পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে দৈনিক ৭০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি সহ প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের জন্যে ন্যূনতম ২০০ দিন কাজের সুনিশ্চয়তা। 

ভাষান্তর: শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার


প্রকাশের তারিখ: ১৫-মে-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৪ টি নিবন্ধ
১৫-মে-২০২৬

০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫

০৮-জুলাই-২০২৫