সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস
মানব ইতিহাসের গতিস্রোতে মে দিবসের স্থান: পর্যায়ক্রমিক ঘটনাপঞ্জি
মৃদুল দে
আগে লীগ অব দি জাস্টের স্লোগান ছিল-'সকল মানুষ ভাই ভাই।' কংগ্রেসে নতুন স্লোগান তৈরি হলো 'সকল দেশের শ্রমজীবী মানুষ এক হও'। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের এটাই হয়ে দাঁড়ালো শাশ্বত আহ্বান। প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন কমিউনিস্ট লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে মার্কসবাদের সম্পৃক্তিসাধন হয়। লীগের তাত্ত্বিক পতাকায় খোদাই হলো বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদ। ...more
মৃদুল দে
আগে লীগ অব দি জাস্টের স্লোগান ছিল-'সকল মানুষ ভাই ভাই।' কংগ্রেসে নতুন স্লোগান তৈরি হলো 'সকল দেশের শ্রমজীবী মানুষ এক হও'। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের এটাই হয়ে দাঁড়ালো শাশ্বত আহ্বান। প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন কমিউনিস্ট লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে মার্কসবাদের সম্পৃক্তিসাধন হয়। লীগের তাত্ত্বিক পতাকায় খোদাই হলো বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদ। ...more
০১-মে-২০২৬
আইজাজ আহমেদ
অক্টোবর বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু ক্রমশ পূর্ব দিকে সরে যেতে থাকে এবং আরও সাধারণ ভাবে বলতে গেলে এটা সেই সব জায়গায় আরও ঘনীভূত হয়, যেখানে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলছিল। সাম্যবাদ (কমিউনিজম) ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার আন্তঃসম্পর্ককেই মহান অক্টোবর বিপ্লবের ঐতিহ্য হিসেবে আজও ফিরে দেখা যেতে পারে।
...more২২-এপ্রিল-২০২৬
মালিনী ভট্টাচার্য
তিনি ভারত চর্চায় মার্কসবাদী তত্ত্ব ব্যবহার করেছেন।অনেকের ভুল ধারণা আছে মার্কসবাদীরা সংস্কৃতিকে অর্থনীতির উপরিকাঠামোর অংশ বলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না। প্রফেসর পানিক্করের লেখা পড়লে এই ভুল ধারণা দূর হতে পারে, কারণ ইতিহাসে সংস্কৃতির ভূমিকা তাঁর বিশ্লেষণে গভীর তাৎপর্য পেয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির যে একটি চলিষ্ণু ও গুরুত্বপূর্ণ রূপ আছে, তা অধ্যাপক পানিক্কর তাঁর বহু লেখায় তুলে ধরেছেন। ...more
১০-মার্চ-২০২৬
কে এন পানিক্কর
সঙ্ঘ পরিবার যে দ্রুততার সাথে শিক্ষার বিষয়গত পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট হয়েছে তা আরও উদ্বেগের। বহু ত্রুটি বিচ্যুতি সত্ত্বেও গত পঞ্চাশ বছর ধরে এদেশে যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা টিকে ছিল সঙ্ঘ পরিবার সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙিয়ে সেই ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে উদ্যত। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও দিল্লির সরকারগুলি একটি হিন্দু পাঠক্রম চালু করার তাগিদে বিশেষ করে ইতিহাস ও সাহিত্যের পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এনেছে। ওইসব পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে শিশুমনে সাম্প্রদায়িক ভাবের সঞ্চার ঘটাবার চেষ্টা হয়েছে। এন সি ই আর টি নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে এর প্রত্যেকটি বই নিশ্চিতভাবে ক্ষতিকারক। ...more
১০-মার্চ-২০২৬
সীতারাম ইয়েচুরি
বুদ্ধদার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সময়ের চাহিদা— শিল্পায়ন করা এবং বাংলার যুবসমাজ যারা তুলনামূলকভাবে শিক্ষায় এগিয়ে থাকা তাদের কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করা, এটা আজ প্রমাণিত হয়েছে। সেই সুযোগ না-থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যকই বাংলার। ...more
২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
লক্ষ্মী সায়গল
তিনি বললেন, বিজয়ীর বেশে যদি নাও পারি, পরাজিতর বেশেই দেশে ঢুকতে হবে যাতে দেশবাসী বুঝতে পারেন কেন এবং কিসের জন্য তাঁরা লড়াই করেছেন। নেতাজি নিশ্চিত ছিলেন, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভারতীয় সৈনিকরা যখন জানবেন ভাড়াটে সেনা হিসেবে নয়, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিপ্লবী সেনা হিসেবেই আইএনএ'র জওয়ানদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ, তখন ভারতীয় সেনারা প্রভাবিত না হয়ে থাকতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশদের এটা বুঝতে আদৌ দেরি হয়নি যে, এরপর তাঁরা কখনোই আর ভারতীয় সেনাদের আনুগত্যের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। ...more
২৩-জানুয়ারি-২০২৬
জ্যোতি বসু
গুজরাটের ঘটনাবলীর ওপর দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিদলের বক্তব্য এবং পার্লামেন্টের উভয় সভায় বিতর্কে যে সমস্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির ভিত্তিতে আমার কিছু মন্তব্য করার রয়েছে। আমি দুঃখিত, লজ্জিত এবং ক্ষুব্ধও; কিন্তু বিমূঢ় নই অন্ধকারের এই শক্তিগুলিতে। গোধরায় করসেবকদের ওপর কিছু সংখ্যক অপরাধী ব্যক্তির নারকীয় আক্রমণের পরবর্তীকালে, রাজ্য বিজেপি সরকারের মদতে এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মৌন সম্মতিতে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর যে বর্বর অভিযান চালানো হয় সেই নৃশংসতার বিরুদ্ধে ঐকমত্য গড়ে ওঠার ঘটনা অবশ্যই আশাপ্রদ। গণতন্ত্র ও সভ্যতার জয় হবে নিশ্চয়। ...more
১৭-জানুয়ারি-২০২৬
সৌমিত্র বসু
বিজেপি একই সঙ্গে সামন্ততন্ত্র ও ধনতন্ত্রের পূর্ণ সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। বিজেপির অর্থবল সাধারণভাবে বৃহৎ পুঁজিপতিসহ পুঁজিপতি ও ব্যবসায়ী শ্রেণী এবং বৃহৎ ভূস্বামীদেরই মদতপুষ্ট। উচ্চবর্ণ হিন্দুদের একটি অংশ আর ধনপতি শ্রেণী ও ভূমিপতি শ্রেণীর একটি অংশকে নিয়েই বিজেপি গঠিত এবং এই ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষাই বিজেপির শ্রেণী চরিত্রের মৌলিক পরিচয়। অর্থাৎ, বিজেপি ভারতের শাসকশ্রেণীর সেই অংশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি যেটি একাধারে ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদের সমর্থক। ...more
৩০-ডিসেম্বর-২০২৫
শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার
৬ ডিসেম্বর শুধুমাত্র একটি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা হয়ে থাকেনি। সেদিনের ৬ ডিসেম্বরের আগেকার ভারত আর তার পরের সময়পর্বে এক পরিবর্তিত সমাজ ও রাষ্ট্রের ভারত অধঃপতিত হতে হতে আজ কার্যত ভারতের সাংবিধানিক সাধারণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোয় ঘা মারছে। যে ভারত সংবিধানে সংজ্ঞায়িত আর ভারতের বর্তমান শাসক দল যে ভারতকে মানুষের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তা সম্পূর্ণ বিপরীত। ১৯৯২ সালে বিজেপি ও আরএসএস বলেছিল অযোধ্যার বিষয়টি ‘প্রতীকী’। অযোধ্যায় মসজিদ ভেঙে মন্দির তৈরি করতে দিলেই ভারতের অন্য জায়গায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের অন্যান্য উপাসনাস্থলগুলি নিয়ে তাদের যে দাবি রয়েছে তা তারা প্রত্যাহার করে নেবে। ...more
০৬-ডিসেম্বর-২০২৫
শ্রীমন্তী রায়
দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছিল। ফলে ন্যায্য কারণেই তার স্মৃতি প্রধানত গড়ে উঠেছিল হিংসা, বিভাজন, রক্তপাতকে কেন্দ্র করে। আবার এটাও সত্যিই যে, সংখ্যায় অল্প হলেও ওই চরম দুঃসময়ে মানুষ মানুষকে সাহায্য করেছিল। এই সাহায্যকারী মানুষগুলো যারা নিজেরা হিংসার আশ্রয় না নিয়ে অন্য মানুষদের বাঁচিয়েছিলেন শুধু সাহসের উপর ভর করে, তাদের কথা বারে বারে মনে করিয়ে দিতে হবে। সেই ইতিহাসকে ভুলে যেতে দেওয়া যাবে না। ...more
০৫-ডিসেম্বর-২০২৫
শ্রীমন্তী রায়
দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছিল। ফলে ন্যায্য কারণেই তার স্মৃতি প্রধানত গড়ে উঠেছিল হিংসা, বিভাজন, রক্তপাতকে কেন্দ্র করে। আবার এটাও সত্যিই যে, সংখ্যায় অল্প হলেও ওই চরম দুঃসময়ে মানুষ মানুষকে সাহায্য করেছিল। এই সাহায্যকারী মানুষগুলো যারা নিজেরা হিংসার আশ্রয় না নিয়ে অন্য মানুষদের বাঁচিয়েছিলেন শুধু সাহসের উপর ভর করে, তাদের কথা বারে বারে মনে করিয়ে দিতে হবে। সেই ইতিহাসকে ভুলে যেতে দেওয়া যাবে না। ...more
০৪-ডিসেম্বর-২০২৫
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টিতে যখন দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ মাথা চাড়া দিয়েছিল সে সময় তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে পি ডি জি'র ভূমিকা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় সারা দেশের মানুষ বিশেষভাবেই স্মরণ করবেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ থেকে সম্পূর্ণত সরে এসে ১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-তে রূপান্তরিত করার পথ-পদ্ধতি গ্রহণে তিনি অন্যতম প্রধান নায়কদের একজন।
...more
২৯-নভেম্বর-২০২৫
প্রমোদ দাশগুপ্ত
তিনি লিখেছেন: আধুনিক পুঁজিবাদের মূল অর্থনৈতিক নিয়মকে সংক্ষেপে বলা যায়, তার লক্ষ্য হল “উচ্চতম লাভ”। এর ফলে যে কোনও দেশের জনগণের অধিকাংশই শোষিত হয়ে দারিদ্র্যের নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। অন্যান্য দেশগুলি এবং বিশেষ পশ্চাদপদ দেশগুলি দাসত্বের বাঁধনে আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এর ফলে যুদ্ধ বেধে যায় এবং জাতীয় অর্থনীতি এক সামরিক অর্থনীতিতে পরিণত হয় এবং তা উচ্চতম লাভ আদায়ের সুযোগ করে দেয়। এই সর্বনাশা উচ্চতম লাভের নেশায় আধুনিক পুঁজিবাদ উন্মত্তের মতো ছুটছে। ...more
২৯-নভেম্বর-২০২৫
সরোজ মুখোপাধ্যায়
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) একমাত্র গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারে সর্বহারার আন্তর্জাতিকতার যে শিক্ষা কমরড লেনিন-স্তালিনের নেতৃত্বে পাওয়া গেছে এই পার্টিই তাকে নিজ দেশের অভিজ্ঞতায় বাস্তবে প্রয়োগ করার অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নভেম্বর বিপ্লবের ফলে যে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে তাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়া, সেই নীতিতে অবিচল থাকা প্রতিটি প্রকৃত কমিউনিস্ট পার্টির কর্তব্য। আমাদের পার্টি কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-ই সর্বহারার আন্তর্জাতিকতার নীতি অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার চেষ্টা করেছে।
...more০৭-নভেম্বর-২০২৫
সরোজ মুখোপাধ্যায়
জাতীয় কংগ্রেসের আমেদাবাদ অধিবেশনে এই ইশতেহারটি বিলি করা হয়। এতে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবে বলা হয়: পুরোনো কংগ্রেসের বিপর্যয় ঘটেছে। কংগ্রেস এবার গর্বের সঙ্গে যে কোনও উপায়ে স্বরাজ অর্জনের দৃপ্ত পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছে। জাতীয় কংগ্রেসের সামনে আজ সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা জাতীয় সংগ্রামে জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা নেওয়া। শ্রমিক ও কৃষক জনগণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। এরাই হল যথার্থ বিপ্লবী শক্তি। এই শক্তি রাষ্ট্রনৈতিক শাসনের পরিবর্তন আনতে পারে। কংগ্রেস যদি এই গণজাগরণের সঙ্গে কোনও যোগ না-রেখেই নেতৃত্বের আশা করে তবে এই কংগ্রেসকেও তার পূর্বসূরীর মতো অতীতের অন্ধকারে অখ্যাতির মাঝে নির্বাসন ভোগ করতে হবে। ...more
১৮-অক্টোবর-২০২৫
সরোজ মুখোপাধ্যায়
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় আন্দোলনের ভিতরকার বামপন্থীদের মধ্যে, বিপ্লববাদীদের মধ্যে, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে কোন্ পথে স্বাধীনতা আসবে, স্বাধীনতার রূপ কি হবে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মীদের মনকে এইসব প্রশ্ন আলোড়িত করে তোলে। প্রকৃত পথের সন্ধান খুঁজতে থাকেন এঁরা। বৈজ্ঞানিক রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। প্রকৃত বৈপ্লবিক পথ সন্ধানের রাজনৈতিক ভিত্তি প্রস্তুত হয় এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২৫
অয়নাংশু সরকার
আজকেও এক কঠিন সময়ে যখন সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ বাড়ছে, সাম্রাজ্যবাদ যখন ঐক্য বিনষ্টকারী শক্তিগুলিকে মদত জোগাচ্ছে, স্থায়ী কাজের জায়গা যখন ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, শিক্ষার উপর যখন আক্রমণ চলছে তখন ডিওয়াইএফআই-এর কর্মী সংগঠকরা রাস্তায় থেকে আপসহীন সংগ্রাম করে চলেছে। আমরা ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন, আমরাই নওজোয়ান ভারত সভার উত্তরাধিকার। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিতে কাঁপন ধরানো ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্তদের সেই প্রিয় স্লোগান ইনকিলাব জিন্দাবাদ আজও শাসকের বুকে কাঁপন ধরায়। ...more
১১-অক্টোবর-২০২৫
ইরফান হাবিব
আমি মনে করি একথা বলাটা সঠিক যে, ভারত ছাড়ো প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল ভুল সময়ে। সেই সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল না। জাপানি ও জার্মান ফ্যাসিবাদকেই তখন প্রধান শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করা উচিত ছিল। পরে ব্রিটিশদের মোকাবিলা করা যেতে পারত। আমি মনে করি, আজকের সময়ে একথাই আমাদের বলা উচিত। তখন কমিউনিস্ট পার্টি এই কথাই বলেছিল এবং আমি মনে করি আমাদের এক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থানের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে:অর্থাৎ হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করার পর, প্রাথমিক কাজ ছিল ফ্যাশিস্ত শক্তিগুলিকে পরাস্ত করা এবং তারপরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের মোকাবিলা করা।
...more২৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫
ইরফান হাবিব
আমার বাবা মহম্মদ হাবিব আমাকে বলেছিলেন যে, ১৯৩০ এর দশকে তিনি একজন বিচারপতি সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর নাম ছিল মিঃ সুলেইমান। সুলেইমান বলেছিলেন যে, তিনি ঘুমাতে পারছেন না। আমার বাবা তাকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি ঘুমাতে পারছেন না। তিনি ছিলেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বা আচার্য (আমার ঠিক মনে নেই) এবং হাই কোর্টের বিচারপতি, পরে সেই সময়কার ফেডারাল কোর্ট অফ দিল্লিতে তার পদোন্নতি হয়। তিনি বলেছিলেন, এই সব ‘শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কমিউনিস্টদের’ জন্য রাতে তাঁর ঘুম হচ্ছে না। যখন বিচার চলছিল তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে যাদের বিচার চলছে তারা নিরপরাধ। এবং ব্রিটিশ আইনজীবীকে তিনি বলেন, উনি যা বলছেন তা পুরোপুরি আজগুবি— এবং কমিউনিস্টরা যা করেছে বলে তিনি দাবি করছেন সেটা বাস্তবত সম্ভব নয়। ...more
২৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫
এম এ বেবি
ট্রেড ইউনিয়ন ও পার্টিতে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি বহুমুখী শিক্ষার অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন। ২০০৬ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি কতটা সুবিবেচনার সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটা বিধানসভার সদস্য হওয়ার সুবাদে আমার স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে। যে বিষয়ই তাঁর বিবেচনার জন্যে নিয়ে আসা হতো, তা তিনি সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট। ...more
২১-আগস্ট-২০২৫
মুজফ্ফর আহ্মদ
তাঁকে হস্পিটালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তাঁর গাড়ী ডেকার্স লেনের ভিতর দিয়ে গিয়েছিল। আমরা গেটে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সুকান্ত অনেকক্ষণ আমার হাত চেপে ধরে থাকলেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন আর যদি দেখা না হয়। ...more
০৫-আগস্ট-২০২৫
আর বি মোরে
১৯২৪ সালকে চিহ্নিত করা যায় এমন বছর হিসাবে যে সনে অচ্ছুৎদের আত্মসম্মান, স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই তীব্র গতি পায়। এই ছিল সেই বছর যেবারে কোলাবা জেলার নিচুজাতের এ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন হবার কথা মাহাদে। এই সিদ্ধান্তের খবর সম্মেলনের ভাবী চেয়ারম্যান ড. আম্বেদকরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল ইতিমধ্যেই। বোম্বের দামোদর ঠ্যাকারসে হলে প্রকাশ্যে তার ঘোষণাও করা হয়। ব্যাপক প্রচারও হয়। এই বছরখানি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বছরেই ড. আম্বেদকর ইউরোপীয় ও মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে নিজের পড়াশোনার যাবতীয় ডিগ্রি অর্জন করে পড়াশোনার পাঠ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন আর এই বছরেই জনসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। প্রতিষ্ঠা করেন বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভা ...more
২৯-জুন-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
১০ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা আরেকটি চিঠিতে দেওরস আজকের বিজেপি নেতাদের দাবির সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেসময়ের সরকার-বিরোধী আন্দোলন থেকে আরএসএস-কে দূরত্বে রেখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন “জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলনের সঙ্গে আরএসএস-এর নাম জড়ানো হচ্ছে। সরকার কোনও কারণ ছাড়াই গুজরাট আন্দোলন ও বিহার আন্দোলনের সঙ্গে আরএসএস-কে যুক্ত করছে... এইসব আন্দোলনগুলির সঙ্গে সঙ্ঘের কোনও সম্পর্ক নেই”। সোজা অর্থে জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ‘সঙ্ঘের কোনও সম্পর্ক’ ছিল না। ...more
২৫-জুন-২০২৫
আর বি মোরে
প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধের সেই সময়কাল ছিল সামাজিক, রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক দিক থেকে টানাপোড়েনের সময়। অচ্ছুৎ আর সামাজিক বৈষম্যের শিকার শ্রেণিরা নিজেদের নিজস্ব সংগঠন গড়ে তুলছিল। শহরগুলিতে শ্রমিক ধর্মঘট, লড়াই-আন্দোলন চলছিল। রাজনৈতিক আন্দোলনের ঢেউ আমাদের উপরেও আছড়ে পড়তে লাগল। তিন-চার বছর বিরতির পরে আমি মাহাদের স্কুলে ফিরি। আর এই অল্প সময়েই দুনিয়াব্যাপী যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে গেছে বহু। অবশ্যাম্ভাবী নানান পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মাহাদের স্কুলের অস্পৃশ্যতার কু-আচারে কোনো বদল আসেনি। ...more
২২-জুন-২০২৫
দেবরাজ দেবনাথ
“His ideas,..., will continue to play a part with the Latin American Left.”
১৯৬৮ সালের জুনে চে'র মৃত্যুর পরে চে'র চেতনার ক্ষতিকর দিক নিয়ে পিটার শেঙ্খেলের লেখা সিআইএ নথিতে পাওয়া যায় উপরের লাইনটা। পিটারের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করেছিলেন চে। তবে শুধু লাতিন আমেরিকা না, গোটা দুনিয়ার কাছে হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা। এইখানেই মতাদর্শের জোর। সেই মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। এই নিয়ে চে কখনও রাখডাক করেননি। সিআইএ সেই কথা স্বীকারও করেছিল নিজস্ব রিপোর্টে। তার সঙ্গে আরও কিছু দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে সিআইএ।
১৪-জুন-২০২৫
আর বি মোরে
বোম্বে পৌঁছে আমি তিলকের শবযাত্রায় পা মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারলাম। তবুও আমি আমার নিজের জীবনের উন্মুখতা, অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে পারছিলাম না। সর্দার গৃহ থেকে ফ্যামিলি লাইন্স খুবই কাছে। এই ফ্যামিলি লাইন্সেই আমি বোম্বে থাকাকালীন অতটা সময় কাটিয়েছিলাম। আর সর্দার গৃহ থেকে শবযাত্রা শুরু হল। আমার ট্রেন থেকে প্রথম আক্কার কাছে গিয়ে পুণে থেকে জমিয়ে আনা পয়সা আর স্কুল শংসাপত্র জমা করে দেওয়াটাই ছিল সমীচীন। কিন্তু এটুকু করা আমার ধকে কুলালো না। ...more
৩১-মে-২০২৫
আর বি মোরে
এই পরিবেশে থাকতে গিয়ে আমার যেন দমবন্ধ হয়ে আসত ক্রমে। তবে একটা ব্যাপার ছিল নিশ্চিত: আমি স্থির বুঝেছি যে আমি এক জঘন্য আবহে আছি। আমি সবসময় কীকরে এই অন্ধকার কাটিয়ে বেরিয়ে আসা যায় তার জন্যে ছটফট করতাম। কোনও মানুষ যখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে জীবন কাটাচ্ছে এটা জেনে যে সে মহাপাপী, তখন সে-পাপের শাস্তি পেতে পেতে সে অনুতপ্ত হয় আর সেই পাপের জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু সে যদি নিজের পাপ সম্পর্কে অবগতই না-থাকে, তখন পাপের শাস্তি পেলেও সে বুঝে উঠতে পারে না, সেই পাপজগত ছেড়ে বেরিয়ে আসতে কোনও চেষ্টাও করে না। আমি যখন দাপোড়ির অস্বাস্থ্যকর জীবন ত্যাগ করে খাড়কিতে আসি, তখন হলফ করে বুঝি যে আমি ঠিক রাস্তাতে আছি। ...more
২৫-মে-২০২৫
জুলিয়ান বোরচার্ডট
বিশেষ এক রহস্যজনক সুবিধার কারণে কোনও পণ্যের প্রকৃত মূল্য ৫ পাউন্ড হলেও বিক্রেতা তাকে ৫ পাউন্ড ও ১০ শিলিং-এ বিক্রি করতে সক্ষম হলেন। এর অর্থ হবে ওই পণ্য ১০% অতিরিক্ত দামে বিক্রি হল। এতে বিক্রেতা পণ্যের মূল্যের উপর ১০% মুনাফা করলেন। কিন্তু বিক্রেতা হওয়ার পর সেই একই ব্যক্তি পুনরায় ক্রেতা হয়ে উঠবেন। তখন তিনি ওই পণ্যের অন্য মালিকের মুখোমুখি হলে দ্বিতীয় বিক্রেতা একইরকম সুবিধা ভোগ করবেন। অর্থাৎ, তিনিও পণ্যটি ১০% বেশি দামেই বিক্রি করবেন। ফলে বিক্রেতা হিসাবে ১০ শিলিং মুনাফা করলেও একই ব্যক্তি ক্রেতা হিসাবে ১০ শিলিংই হারালেন। বাস্তবে এমন প্রক্রিয়ার মূল কথা হলস যে কোনও পণ্যের বেচাকেনার সময়ই এক মালিক আরেক মালিককে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় ১০% বেশি দামে বিক্রি করে চলেছে। অথচ প্রতিবারই মনে হচ্ছে যেন পণ্য প্রকৃত মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। ...more
২০-মে-২০২৫
এম বাসবপুন্নাইয়া
এখানে হো চি মিন ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি একটা সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত ভূমি সংক্রান্ত রণকৌশল উদ্ভাবনে তাঁদের পাকাপোক্ত মার্কসবাদী বিচক্ষণতার নিদর্শন দেখিয়েছেন। এখানেই আমাদের থামা উচিত এবং একটা বিতর্কে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। ভিয়েতনামী প্রকাশনা থেকে আমার এই উদ্ধৃতি-সংকলনটি ইতিমধ্যেই দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং তা আর ভারাক্রান্ত করা চলে না। গণশক্তির পাঠকদের কাছে আমাকে ক্ষমা করতে অনুরোধ করছি যদি আমি ‘হো চি মিন, একজন মানুষ, একটি জাতি, একটি যুগ, একটি লক্ষ্মন’ শীর্ষক কমরেড ফ্যাম ভান দং এর পুস্তিকাটি থেকে কয়েকটি প্রামাণ্য মন্তব্য উল্লেখ করি। ...more
১৯-মে-২০২৫
আর বি মোরে
আমি যখন সেই সমুদ্রনাবিকের ঘরে কাজ করতাম তখন বাড়িতে যে পয়সা পাঠাতাম তা মায়ের হাতে কখনও পৌঁছাত না। হাজি বন্দরে যখন কাজ করি তখনও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমার সবসময় মনে হত বোম্বের পরিবেশ পড়াশোনার জন্যে ঠিক উপযুক্ত না, পুণে না-গেলে আমার পড়াশোনাটা এগোবে না। আমার মায়ের আত্মীয়রা অবাক হয়ে যেত এটা দেখে যে আমার উপার্জন করে পাঠানো টাকা বড়োবাড়ির লোকেরা মাকে বঞ্চিত করে নিজেদের পকেটস্থ করছে। কিন্তু অন্য অনেকে বলত, বড়োবাড়ির লোকেরাই তো ছেলেটাকে লিখিয়ে পড়িয়ে মানুষ করেছে, তাহলে এখানে অন্যায়টা কী আছে? আদতে আমার পড়াশোনার জন্যে বড়োবাড়ির লোকেদের কানাকড়িও খরচা করতে হয়নি। ...more
১৮-মে-২০২৫
আর বি মোরে
সেই কালে সাধারণ মানুষের বিনোদনের মূল মাধ্যম ছিল তামাশা। সিনেথিয়েটার অতটাও জনপ্রিয় ছিল না। অল্পসংখ্যক মানুষ সেকালে এসব দেখত। আমিও এর আগে মাত্র একবারই থিয়েটার দেখেছি। আমার এক আত্মীয় যে পরে সাধু বনে গিয়েছিল সে আমায় এই একবার বোম্বে থিয়েটারে ললিত কলাদর্শ কিম্বা পাটানকার থিয়েটার কোম্পানির রাজা হরিশ্চন্দ্র পালাখানা দেখাতে নিয়ে যায়। ...more
১১-মে-২০২৫
শান্তনু দে
সেই মহাযুদ্ধের সময় প্রতিটি মিনিটে সোভিয়েত রাশিয়াকে হারাতে হয়েছে ৯টি করে জীবন। প্রত্যেক ঘণ্টায় ৮৫৭। আর প্রতিদিন ১৪,০০০। একজন ব্রিটিশ, একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুপিছু প্রাণ দেন ৮৫ জন সোভিয়েত নাগরিক। তবু জয় তাদেরই হয়েছিল। আমেরিকার পতাকা নয়, হিটলারের রাজধানীতে শেষ পর্যন্ত উড়েছিল সোভিয়েতের কাস্তে-হাতুড়ি খচিত লালঝাণ্ডা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কিংবা ব্রিটেন নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নই নামিয়েছিল ফ্যাসিস্ত পতাকা।
...more০৯-মে-২০২৫
তপন মিশ্র
মার্কসের জীবনচর্চা এবং এঙ্গেলসের সঙ্গে মার্কসের গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রদর্শনী যাদুঘরের অধিকাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে। এই তিন তলা (মাটির নিচের একটি স্টোর (জার্মান ভাষায় “কেলার”) বাদ দিয়ে প্রদর্শনীর মূল ভাগগুলি হল ১। দার্শনিক মার্কস, ২। সমাজ বিজ্ঞানী মার্কস, ৩। অর্থনিতিবিদ মার্কস এবং ৪। সাংবাদিক মার্কস। এছাড়াও দুটি ঘর সম্পূর্ণ রূপে নিবেদিত রয়েছে এককভাবে মার্কস এবং মার্কস ও এঙ্গেলসের যৌথ কিছু সৃষ্টির সংগ্রহের উপর। এঙ্গেলস একাধারে ছিলেন মার্কসের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক এবং বেশ কিছু কাজের অংশীদার। ...more
০৫-মে-২০২৫
জুলিয়ান বোরচার্ডট
১৮৬৭ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ‘পুঁজি’র প্রথম খণ্ড ছেপে বেরোয়। জার্মান ভাষায় হাজারখানেক কপিই ছাপা হয়েছিল। মার্কসের কথায় সেই বই ‘আজ অবধি বুর্জোয়াদের মাথা লক্ষ্য করে ছোঁড়া সবচাইতে বড় মিসাইল’। বইয়ের প্রতিটি পাতার প্রুফ দেখেছিলেন মার্কস নিজেই। সেকাজ শেষ হয়েছিল ১ আগস্ট, রাত দুটোয়। শেষ করেই এঙ্গেলসকে চিঠি লিখতে বসলেন- ‘শেষ পাতার প্রুফ দেখা এই সবে মিটল। অতএব, প্রথম খণ্ডটি ছাপা হচ্ছে… এ কাজ শেষ করার জন্য যদি সত্যিই কাউকে ধন্যবাদ দিতে হয় তবে তা একান্তই তোমার প্রাপ্য, আর কারোর না।’ পুঁজি এক অর্থে মার্কসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। মানবিক জীবনীশক্তির অপূর্ব ও সর্বোচ্চ ব্যবহার করেই একে লেখা। ...more
০৫-মে-২০২৫
রাধাকৃষ্ণন এমবি
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত এক দশকের মার্কিনীদের যুদ্ধাভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপিনসকে নিয়ে গঠিত মিত্র শক্তি ওই দেশের ছোট্ট এলাকার মধ্যে ৭.৮৫ মিলিয়ন টন বোমা বর্ষণ করে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যত বোমা বর্ষণ হয়েছে এটা ছিল তার তিনগুণ। এর মিলিত ধ্বংসক্ষমতা ছিল ৬৪০টি হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার সমান। সেসবকে হেলায় হারিয়ে ভিয়েতনাম তার অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ...more
৩০-এপ্রিল-২০২৫
আর বি মোরে
একবার উনি আগেভাগেই খবর পেয়ে যান যে এক পুলিশ ওঁকে গ্রেপ্তার করতে চলেছে; সেই ইন্সপেক্টরের উপরই উনি কড়া নজর রাখতে শুরু করেন। একদিন, ইন্সপেক্টর ঘোড়ায় চেপে টহলে বেড়িয়েছেন একা। চন্দ্রায়া ওঁকে থামিয়ে বলেন যে পুলিশ অফিসার যদি ঘোড়া থেকে নামেন তাইলে ওকে ডাকসাইটে ডাকাত চন্দ্রায়ার খোঁজ দেবেন উনি। পুলিশ ইন্সপেক্টর ঘোড়া থেকে নামামাত্র ওকে গাছে বেঁধে ঘোড়া নিয়ে চম্পট দেয় চন্দ্রায়া। লোকের মুখে মুখে ওঁকে নিয়ে এই গল্প প্রচলিত ছিল। তালেবাসীদের মধ্যে এ-জাতীয় অসংখ্য কিংবদন্তির চল ছিল। এক-আধবার গরিব মানুষকে অর্থসাহায্যও করতেন বলেও জানা যায়। ...more
২৭-এপ্রিল-২০২৫
শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়
৪ জানুয়ারি ১৯৪৭ তারিখে দিনাজপুর জেলার ছিরিরবন্দর-এর অন্তর্গত তালপুকুর গ্রামে একটি কৃষক সমাবেশের উপরে পুলিশ গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গেই মারা গেলেন শিবরাম নামে একজন ভূমিহীন সাঁওতাল চাষি আর সমিরুদ্দিন নামে আর-একজন ভূমিহীন চাষি। আরও অনেকেই গুলিবিদ্ধ হলেন।... ছিরিরবন্দরে গুলি চালানোর পরের দিনই ভূমি-রাজস্ব মন্ত্রী ফজলুর রহমান সিরাজগঞ্জে একটি জনসভায় ঘোষণা করলেন, অচিরে বাংলা সরকার বর্গাদারদের জমি থেকে উৎখাত রোধ এবং ফসলের তিনভাগের দুইভাগ বর্গাদার ও একভাগ জোতদার পাবে এই মর্মে একটি বিল আনবেন। কোলকাতা গেজেটে ২২ জানুয়ারি ১৯৪৭ তারিখে ‘দি বেঙ্গল বর্গাদারস টেমপোরারি রেগুলেশন বিল’ প্রকাশিত হল।’ ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৫
অলকেশ দাস
আম্বেদকরের স্বপ্নপূরণ দূরে থাক, আম্বেদকরের দেওয়া অধিকারগুলোই কাড়তে উদ্যত মোদি সরকার। আম্বেদকর মেমোরিয়ালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় মোদি ঘোষণা করেছিলেন যে আম্বেদকর নাকি শ্রমসংস্কার ও শিল্পায়নের কথা বলেছিলেন। আম্বেদকর পরাধীন ভারতে শ্রমিক শোষণকারী ঔপনিবেশিক শ্রম আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। অথচ আজকের মোদি প্রণীত শ্রম আইনে ঔপনিবেশিক শ্রম আইন আর শ্রমিক বিরোধিতার ছাপ। ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৫
আর বি মোরে
আমি যখন স্কুল ছেড়ে দাশগাঁওতে থাকা শুরু করি, লকড়ি কুড়িয়ে, বড়বাড়ির ফাইফরমাশ খেটে যখন দিন গুজরান হচ্ছে, তখন বোম্বে থেকে বড়বাড়িতে এক অতিথি এলো। উনি জিগ্যেস করেন আমি কদ্দূর পড়েছি, কী করছি ও আরও নানান খুঁটিনাটি তথ্য। তারপরে উনি আমার চার জ্যাঠতুতো দাদাকে জানান যে রামচন্দ্র অর্থাৎ আমাকে যদি বোম্বেতে ওঁর সঙ্গে পাঠানো সম্ভব হয়, তবে উনি টিকিট কালেক্টর হিসাবে ৪৫ টাকা মাসমাহিনার এক চাকরি জুটিয়ে দিতে পারবেন আমায়। সেই সময়ে আমার সকল দাদাই মাহার স্কুলে শিক্ষকতার কাজ করে মাস গেলে এগারো টাকা করে কামাচ্ছিল। ওরা হিসাব করে দেখল : চার ভাই মিলে যেখানে মোট চুয়াল্লিশ টাকা উপার্জন করছে, সেখানে রামচন্দ্র একাই তার থেকেও এক টাকা বেশি উপার্জন করবে! ফলে ওরা সিদ্ধান্ত নিল যে বোম্বেতে আমাকে কালেক্টর করতে পাঠাবে। ...more
১৩-এপ্রিল-২০২৫
রতন খাসনবিশ
সুইজির পক্ষে জোশেফ শ্যুমপিটার-সহ একদল বুদ্ধিজীবী হার্ভার্ডের ডিন-এর কাছে আবেদন করেন সুইজিকে হার্ভার্ডে ফিরিয়ে আনার জন্য। মার্কিন রাষ্ট্র একেবারেই সেটা চায়নি। সুইজি আর চাকরি করলেন না। বদলে তিনি শুরু করলেন মান্থলি রিভিউ পত্রিকা। সঙ্গে রাখলেন মার্কসীয় বিদ্যাচর্চা। যার দরুন আমরা পেলাম একচেটিয়া পুঁজির ওপর পল ব্যারনের সঙ্গে তাঁর বিস্তৃত গবেষণা। পেলাম হ্যারি ম্যাগডফের সঙ্গে তাঁর কালোত্তীর্ণ গবেষণা, যে গবেষণার কেন্দ্রে আছে স্ট্যাগনেশন বা মন্দা সংক্রান্ত তাঁর মৌলিক চিন্তা, ফিনান্স ক্যাপিটালের যুগে যেটি নতুনতর সমস্যার জন্ম দিয়েছে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে। এই পল সুইজির কাছ থেকে আমরা পেলাম মার্কিন যুদ্ধবাজদের কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। পেলাম কিউবার বিপ্লবের মার্কসবাদী বিশ্লেষণ, পেলাম আলন্দেকে করা তাঁর হুঁশিয়ারি যে, সশস্ত্র বিপ্লব ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকায় সশস্ত্র প্রতিবিপ্লবকে রোধ করা যাবে না। সোভিয়েতের পতনে সুইজি বিব্রত বোধ করেননি। নিজের মতাদর্শে স্থির থেকে তিনি লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত কথাগুলি, পুঁজিবাদের ব্যর্থতার ইতিহাস সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার ইতিহাসের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। আজ পল সুইজির ১১৬তম জন্মদিন।
...more১০-এপ্রিল-২০২৫
মহম্মদ সেলিম
আবার একশ মানে, শুধু ইতিহাস চর্চা নয়। পিছনে ফিরে দেখা নয়। অতীতকে দেখা মানে আজকের সময়কে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। অতীতকে আমাদের জানতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু, কমিউনিস্টরা কখনও অতীতের কারাগারে বন্দি হয়ে থাকতে পারে না। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, লড়াই-সংগ্রাম, নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েই বোম্বাই থেকে মাদুরাই, ২৪-তম কংগ্রেসের পথে। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৫
আর বি মোরে
আমাদের স্কুলে আমি সবরকম পড়াশোনাই করতে পারতাম, সকলের চেয়ে খানিক দূরে বসে, স্বচ্ছন্দে। কিন্তু আঁকা ও শারীরশিক্ষার ক্লাসে সকলকে একসঙ্গেই বসতে হত। এটাকে এড়াতে, শিক্ষকেরা আমাকে এই ক্লাসগুলো করবার অনুমতি দিত না। স্বাভাবিকভাবেই, এই পিরিয়ডগুলি চলবার সময়ে কিম্বা মধ্যাহ্নের বিরতিতে আমি শহরের দিকে চলে যেতাম ঘুরতে ঘুরতে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় মজে যেতাম, চেনাজানা কেউ বেরিয়ে যায় কি-না তা খুঁজে দেখবার আগ্রহ ছিল পরম। ...more
৩০-মার্চ-২০২৫
শংকর মণ্ডল
জাতীয় ক্ষেত্রে এ-সময়ে বিজেপি লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। এর ফলে নয়া-উদারনীতির সাহায্যে ও আরএসএসের নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে অতি-দক্ষিণপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় ও লাগাতার সংগ্রাম পরিচালনা করার প্রস্তাব নেওয়া হয়। তাছাড়া পার্টি ও গণসংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব গৃহীত হয়। পলিট ব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে সংগঠন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি সাংগঠনিক প্লেনাম করা নির্দেশ দেওয়া হয়। ২১তম কংগ্রেস থেকে ৯১ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ১৬ জনের পলিট ব্যুরো গঠিত হয়। সীতারাম ইয়েচুরি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সুকোমল সেন। ...more
১১-মার্চ-২০২৫
শংকর মণ্ডল
১৯৯৮ সালের ৫-১১ অক্টেবর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় পার্টির ষোড়শতম কংগ্রেস। অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন জ্যোতি বসু। দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬৮০ জন প্রতিনিধি কংগ্রেসে যোগ দেন। সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিনিধি ছিলেন পশ্চিমবাংলার নরেন সেন (৮৯) এবং সর্বকনিষ্ট প্রতিনিধি ছিলেন তামিলনাড়ুর এস কন্নান (২৮)। ১৯৯৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, বিজেপি অন্যান্য আঞ্চলিক দল নিয়ে সরকার গঠন করে। ১৩ দিনের মাথায় সেই সরকারের পতন ঘটে। পরে এইচডি দেবগৌড়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় সংযুক্ত মোর্চা সরকার। সংযুক্ত মোর্চার সরকার বেশ কয়েকটা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদারীকরণের জনবিরোধী নীতিই গ্রহণ করে। ...more
১০-মার্চ-২০২৫
শংকর মণ্ডল
১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল দিল্লিতে জাতীয় পরিষদের বৈঠক থেকে ৩২ জন সদস্য বেরিয়ে আসেন এবং জুলাই মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের তেনালীতে অনুষ্ঠিত পার্টির সর্বভারতীয় জাতীয় কনভেনশনে পার্টিকে মার্কসবাদী-লেনিনবাদের নীতির ভিত্তিতে বিপ্লবী পার্টি গঠন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তম কংগ্রেস আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সেই অনুসারে ১৯৬৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর কলকাতার ত্যাগরাজ হলে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম কংগ্রেস। ১০৪৪২১ জন পার্টি সভ্যের পক্ষ থেকে ৪২২ জন প্রতিনিধি এই কংগ্রেসে যোগ দেন। ...more
০৯-মার্চ-২০২৫
আর বি মোরে
পরে জানতে পারি ওঁদের একজন ছিলেন মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত নাট্যকার যশবন্ত নারায়ণ টিপনিস। আরেকজন ঠিক কে ছিলেন আমি বহু সন্ধানেও জেনে উঠতে পারিনি। উনি সম্ভবত ছিলেন গোবিন্দ গোপাল টিপনিস বা অনন্ত বিনায়ক চিত্রে। যে ভিকোবাকে আমি গোন্ডালেরে বাগানে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম, তিনিই ছিলেন কৃষিবিশেষজ্ঞ আর প্রখ্যাত শিল্পী ভিকোবা যিনি মাহাদের প্রথম ঐতিহাসিক কৃষি সম্মেলন সংগঠিত করেন। আমি যখন জানতে পারি, তখন ওঁর মহত্বের খানিক নাগাল পাই। আমার জানাবোঝায় উনি মহারাষ্ট্রের প্রথম সমাজসংস্কারক যিনি নিজের জাতের বাইরে অন্য কাউকে বিয়ে করেন। ...more
০৯-মার্চ-২০২৫
রবিকর গুপ্ত
১৯ তারিখ ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ল ক্যাসেল ব্যারাক সহ বোম্বের তীরবর্তী ১১টি নৌ-প্রতিষ্ঠান এবং ২০টি জাহাজে। গঠিত হল প্রায় ২০ হাজার রেটিং-এর প্রতিনিধিত্বকারী ছত্রিশ জনের কেন্দ্রীয় ধর্মঘট কমিটি। সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন এম.এস. খান ও সহ-সভাপতি মদন সিং। সমস্ত জাহাজ ও প্রতিষ্ঠান থেকে ইউনিয়ন জ্যাক টেনে নামিয়ে দেওয়া হল। তীরের লরিগুলিতে একত্রে বেঁধে দেওয়া হল জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা। Royal Indian Navy-এর নাম পাল্টে রাখা হল Indian National Navy। বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ল করাচি, মাদ্রাজ, বিশাখাপত্তনম ও কলকাতার নৌবাহিনী জাহাজেও, যদিও আংশিকভাবে করাচিতে ছাড়া তা বোম্বের আকার ধারণ করেনি। বোম্বেতে সত্যিই সামগ্রিক ঘটনাবলি এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক সম্ভবনা তৈরি করেছিল। ১৯ তারিখ সন্ধ্যে যখন অস্তমিত হচ্ছে, জনৈক ব্রিটিশ অফিসার, পার্সি গর্জে লিখেছেন বোম্বে নিদ্রায় গেল বাতাসে বিপ্লব নিয়ে। যাকে অধ্যাপক গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেছেন ‘Almost Revolution’, ‘প্রায় বিপ্লব’। ...more
১৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
আর বি মোরে
আমি দাশগাঁও ফিরলাম বটে, কিন্তু বাড়ি তখনও বন্ধ ছিল। দরজায় তালা দেওয়া ছিল। ক্রমে যেন আমার সম্বিৎ ফিরল: আমি পিতৃহারা এখন! মাকে দেখবার জন্যে প্রাণটা কেঁদে উঠল। এইভাবে এক দুই দিন কেটে গেল। মামা তারপর খবর পেল যে আমি বোম্বে থেকে ফিরে এসেছি। আমাকে নিতেই উনি দাশগাঁওতে এলেন। ওঁর সঙ্গে আমি গেলাম লাডাওয়ালিতে। মা আমাকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। মামা আর দিদা মাকে সান্ত্বনা দেয়। তখন থেকে আমার মা, বোন আর আমি মামার বাড়ি থাকতে শুরু করি। ...more
০৯-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
মাও সে তুং
অন্যদিকে হিটলারের দফারফা হয়ে যাচ্ছে দেখে ইতালী, রুমানিয়া ও হাঙ্গেরী হতাশ হয়ে পড়বে এবং তার থেকে বেশি বেশি করে দূরে সরে যাবে। এক কথায়, ৯ই অক্টোবরের পর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার একমাত্র একটি পথই হিটলারের সামনে খোলা থাকছে। এই আটচল্লিশটি দিন ধরে স্তালিনগ্রাদে লালফৌজের প্রতিরোধের সঙ্গে গত বছরের মস্কোর প্রতিরোধের কিছু মিল রয়েছে। অর্থাৎ বলা যায়, হিটলারের এই বছরের পরিকল্পনা ঠিক গত বছরের তার পরিকল্পনার মতোই একেবারে ভণ্ডুল হয়ে গেছে। ...more
০২-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
রাম পুনিয়ানি
রশিদ ও নাথুরাম যে ঘৃণা পোষণ করত আজকের প্রেক্ষাপটে তার অর্থ হল, যে যুবকেরা লাঠি, তরোয়াল ও পিস্তল উঁচিয়ে হাঁটছে ধর্মীয় মিছিলগুলিতে তারা নিঃসন্দেহেই অপরাধী, কিন্তু অপরাধের দায় অনেক বেশি পড়বে ঘৃণার মতাদর্শে মগজ ধোলাই, ঘৃণা ভাষণ এবং সামাজিক গণমাধ্যমের সেই পোস্টগুলির ওপর যা দিনরাত ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিরোধী বিদ্বেষ বর্ষণ করে চলে। পাড়া প্রতিবেশের দিকে একটু তাকালেই দেখা যাবে ধর্মমিশ্রিত জাতীয়তাবাদকে অস্ত্র করে কীভাবে ঘৃণার চাষ ও বিস্তার ঘটছে। ...more
৩০-জানুয়ারি-২০২৫
আর বি মোরে
আমার শৈশব অবধিও কামগাত সম্বৎসর অনুষ্ঠিত হত। এই উপলক্ষ্যে অস্পৃশ্য আর বর্ণহিন্দুরা পাশাপাশি বসত, হাঁটুতে হাঁটু ঘেঁষে। একবাক্যে বলতে গেলে, অস্পৃশ্যতার দরুণ অন্যত্র যে ভয়াবহ নিপীড়নের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হত, দাশগাঁওনিবাসীদের তা পোহাতে হত না। ...more
২৬-জানুয়ারি-২০২৫
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
এটা ছিল ভারতের নতুন গণ-অভ্যুত্থানের একটি সংকেত। আইএনএ বন্দিদের মুক্তির দাবি এবং তাঁদের বিচারের বিরোধিতা করার বিষয়টি সমস্ত রাজনৈতিক দলের সীমানা অতিক্রম করে সামনের সারিতে চলে আসে। এমনকি যাঁরা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বসুর 'শত্রুর শত্রু'-র সঙ্গে আঁতাত করার নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাঁরাও তাঁর দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের মনোভাবকে প্রশংসা করেছিলেন। কমিউনিস্ট, সোস্যালিস্ট, গান্ধীবাদী, মুসলিম লিগ পন্থী নির্বিশেষে সবাই আইএনএ বন্দি মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলেন। ...more
২৩-জানুয়ারি-২০২৫
হো চি মিন
নিপীড়িত মানুষ প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি যে এই পৃথিবীতে কোথাও এমন একজন মানুষ ও এমন কোনও পরিকল্পনার অস্তিত্ব থাকতে পারে। কিন্তু অস্পষ্টভাবে হলেও পরবর্তীতে তারা কমিউনিস্ট পার্টির কথা জেনেছে, জেনেছে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগঠনের কথা, যারা শোষিত জনগণের জন্য, সমস্তরকম শোষিত জনগোষ্ঠীর জন্য লড়াই করেছে; এবং তারা জেনেছে যে সেই সংগঠনের নেতা হলেন লেনিন। ...more
২১-জানুয়ারি-২০২৫
আর বি মোরে
এরা নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্তব্য একনিষ্ঠভাবে পালন করত মনুস্মৃতি অনুসরণ করে, আর এদের চোখের সামনেই ছিল পেশোয়া রাজের কালে অস্পৃশ্যদের সঙ্গে কী ব্যবহার করতে হয় তার উদাহরণ। সেই সব দিনে অস্পৃশ্যদের পাথরের বাড়ি বানানো বা ছাদে টাইলস বসানোর অনুমতি টুকু ছিল না, এবং নাগরিকত্বের অসংখ্য অধিকার তাদের আয়ত্তের বাইরে ছিল। ...more
১২-জানুয়ারি-২০২৫
রোমিলা থাপার, তিস্তা শীতলাবাদ
এখন প্রশ্ন উঠবে, কেন ওরা নিজেদের স্থাপনাগুলি বিদ্যমান স্থাপনাগুলির এতটা গা ঘেঁষে তৈরি করেছিল? এটা কি এ-জন্যে যে তাদের মনে হয়েছিল, এগুলো পবিত্র স্থান, সুতরাং আমরা এভাবে এর পবিত্রতাকেও আত্মস্যাৎ করছি? এটা একটা কারণ হতে পারে। আবার এমনটাও হতে পারে, আমরা অনেক বেশি উন্নত ধর্ম, সেজন্যে আমরা এভাবে এর জায়গায় নিজেদের স্থলাভিষিক্ত করছি। এটাও একটা সমভাবে সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। বৌদ্ধধর্ম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পরবর্তী সময়ে আমরা দেখছি হিন্দুরা এসে বৌদ্ধদের ধর্মস্থানগুলিকে মন্দিরে রূপান্তরিত করতে। ...more
২৪-ডিসেম্বর-২০২৪
আর বি মোরে
বেশিরভাগ দেবতার বাছাই করা মানুষেরা অস্পৃশ্য আর বেশিরভাগ গ্রামবাসীও বর্ণহিন্দু। অনেকে এটা শুনে অবাক হতে পারেন। দু-চারটে ব্যতিক্রম বাদ দিলে সমস্ত গ্রামের মূল অঞ্চলে মন্দিরের দেবতার বাছাই করা লোকগুলো মাহার সম্প্রদায়ের। যারা এই রীতি সম্পর্কে অবহিত তারা জানে আমার কথার সারসত্যটা। ...more
২২-ডিসেম্বর-২০২৪
শান্তনু দে
বস্তুত, শুরু থেকেই বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম আর পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকে একাত্ম করে দেখেছিল সিপিআই(এম)। একদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শোষিত, বঞ্চিত বাংলার মুক্তিকামী মানুষের সমর্থনে শুরু থেকেই দৃঢ় অবস্থান, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ, সিআরপিএফ, মিলিটারির দাপটের মুখে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম– একইসঙ্গে দুই লড়াই। উদ্বাস্তু কলোনি, মহল্লায় তখন তুমুল উত্তেজনা। দিনভর রেডিওতে কান পেতে থাকা। চা-দোকানের আড্ডায় একটাই আলোচনা। এক-একটা মুক্তাঞ্চলের লড়াই, এক-একটা জয়ের খবরে পাড়ার গলিঘুঁজিতে মুহূর্তে মিছিল। নরসিংদীর শিবপুর রণাঙ্গন– বাংলার স্তালিনগ্রাদ। এক লড়াই। একই উদ্দীপনা। ...more
১৬-ডিসেম্বর-২০২৪
ইরফান হাবিব
সে গর্ত থেকে খোদাই করা কিছু মূর্তি পাওয়া গেছিল। অদ্ভুত বিষয় হল, যখন এসব মূর্তিগুলি 'উদ্ধার' করা হল তখন কিন্তু আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে জানানো হয়নি। অথচ কোনও প্রত্নতত্ত্ব উদ্ধার তা ওই সংস্থাকে জানানো আইনগত দিক থেকে বাধ্যতামূলক। বরং এই উদ্ধারের সংবাদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হঠাৎ ঘোষণা করল। তাদের 'বিশেষজ্ঞরা' বলতে শুরু করলেন, ওই মূর্তিগুলি একাদশ শতাব্দীর। এরকম একজন বিশেষজ্ঞ হলেন স্বরাজ প্রকাশ গুপ্ত, যিনি কোনও দিনই মধ্যযুগের গোড়ার দিকের স্থাপত্য সম্পর্কে কোনও কাজ করেননি। ...more
০৬-ডিসেম্বর-২০২৪
তপন মিশ্র
এই কর্মকাণ্ডে মার্কসের দার্শনিক জ্ঞানের এবং অর্থনৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কে গভীরতার পরিপূরক ছিল শ্রমিক-শ্রেণির জীবন সম্পর্কে এবং তৎকালীন বিজ্ঞান গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে এঙ্গেলসের অভিজ্ঞতামূলক পর্যবেক্ষণ। ...more
১১-অক্টোবর-২০২৪
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
যুব জীবনে সংকটের প্রশ্নে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে আমরা পিষ্ট হচ্ছি, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী এবং আশু সংগ্রামের গুরুত্ব সর্বাধিক। বেকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, জমির জন্য আন্দোলন, শিল্পায়নের জন্য আন্দোলন— এইগুলির পাশাপাশি বর্তমান কাঠামোটিকে পরিবর্তন করে মৌলিক সংগ্রামের ব্যাপক ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য বেশি বেশি করে উদ্যোগ নিতে হবে। এই আন্দোলনের প্রক্রিয়াটি নিরন্তর চলবে। সামন্তবাদী-পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মৌলিক চরিত্রটিকে চেনাতে এবং পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যাপক যুব সমাজের স্থির বিশ্বাস সৃষ্টি করার কাজ নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। কিন্তু আমরা বাস্তবে সেই আন্দোলনকে গড়ে তুলতে না পারলে সমস্যার সমাধানের পথে অগ্রসর হতে পারবো না। ...more
২১-আগস্ট-২০২৪
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
আর এই সময়েই ভারতে কম্যুনিস্টদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় গৃহীত (কাবুলে) শুভেচ্ছাবাণীর উত্তরে লেনিন 'ভারতের বিপ্লবী অ্যাসোসিয়েশনের' উদ্দেশে একটি অভিনন্দনবার্তা পাঠান। সেটি রেডিও মারফত প্রচারিত হয়। যার মধ্যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা (ভারতে) মুসলিম ও অ-মুসলিম জনগণের ঐক্যকে অভিনন্দন জানাই। পূর্ব-দুনিয়ার সমস্ত দেশে এই ঐক্য প্রসারিত হোক। যখন ভারতীয়, চীনা, কোরিয়া, জাপানী, পারসীয় ও তুর্কীর শ্রমিক ও কৃষক হাতে হাত মিলিয়ে মুক্তির একই লক্ষ্যে অগ্রসর হবে তখনই শোষকদের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জয় সম্ভব হবে। মুক্ত এশিয়া দীর্ঘজীবী হোক।” ...more
২০-আগস্ট-২০২৪
অশোক ভট্টাচার্য
১৯৪৩ সালে বাংলায় কৃত্রিম খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সুরাবর্দী দার্জিলিঙে ২ লক্ষ্য ২৪ হাজার টন গম পাঠাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশিত গমের সামান্য কিছু অংশ পৌঁছোয় দার্জিলিঙে। রতনলাল ব্রাহ্মণ ও তাঁর সহকর্মীরা এই দুর্নীতির ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়। ১৯৪৩ সালে দার্জিলিঙে কমিউনিষ্ট পার্টি গড়ে তোলার জন্য প্রাদেশিক পার্টির পক্ষ থেকে সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুশীল চ্যাটার্জীকে। দার্জিলিঙে পৌঁছে সুশীল চ্যাটার্জী স্থানীয় বহু মানুষের সাথে কথাবার্তা বলা শুরু করেন। তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেন দেশের স্বাধীনতা ও ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে। এই সময়েই তিনি শোনেন পাহাড়ের কিংবদন্তী মায়লা বাজের কথা। তিনি তাঁর সাথে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। যদিও সেই সময় রতনলালের বিরুদ্ধে কয়েকজন ইংরেজ পেটাবার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ...more
১৬-আগস্ট-২০২৪
হরেকৃষ্ণ কোঙার
তিনি শুধু কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎই ছিলেন না, তিনি সেই আদর্শে নিজেকেও ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তুলেছিলেন। মনে হয় যেন সহজভাবেই তিনি তা করতে পেরেছিলেন। কমিউনিস্ট হতে হলে নিজেদের "শ্রেণিচ্যুত" (ডিক্লাসড) করতে হবে বুর্জোয়া সমাজের প্রভাব হতে নিজেদের মুক্ত করে বিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণির গুণাবলী আয়ত্ত করতে হবে, নিজেদের স্বভাব, চালচলন, ব্যবহার সেই মতো ঢেলে সাজাতে হবে- এই কথাগুলি আমরা জানি। কিন্তু এগুলি নিজেদের জীবনে কতটুকু করতে পেরেছি তাই হল বড় কথা। এ বিষয়ে অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। কিন্তু কাকাবাবুর জীবনে আমরা এগুলির সার্থক প্রয়োগ দেখতে পাই। ...more
০৫-আগস্ট-২০২৪
পি সুন্দরাইয়া
গত পঞ্চাশ বছরের কথা স্মরণ করলে আমরা দেখতে পাই, শুধু শ্রমিক-কৃষকদের জন্য নয়, ব্রিটিশ আমলে স্বাধীনতার জন্য এবং তারপর স্বাধীনতাকালে এবং আবার ১৯৬২ সালেও বারবার তিনি কারাবরণ ও আত্মগোপনের দুঃখবরণের কঠিন জীবন গ্রহণ করেছেন। কি জেলের মধ্যে, কি জেলের বাইরে, নিদারুণ দুঃখ-দারিদ্র্যের মধ্যে অটলভাবে তিনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সফল প্রয়োগের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। ...more
০৪-আগস্ট-২০২৪
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
কিন্তু কমিউনিস্ট পরিবারের অতীব শ্রদ্ধেয় কর্তা হিসেবে তাঁর গুণাবলীর প্রশংসা করার জন্য তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কোনও প্রয়োজন হয় না। কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস কলকাতায় স্থানান্তরিত হবার পর যাঁদের সঙ্গে আমি কাজ করতাম তাঁদের অধিকাংশ কাকাবাবুকে অনেক কাছ থেকে দেখেছিলেন এবং তাঁদের উপর বর্ধিত পিতৃসুলভ স্নেহ ও সেবা উপভোগ করেছিলেন। বয়ঃকনিষ্ঠ কমরেডদের প্রতি তাঁর স্নেহবর্ষণ উপভোগ করার অভিজ্ঞতা আমারও বারকতক হয়েছিল। তাঁদের অবশ্যই আরও বেশি সুযোগ হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতায় অন্যান্য কমরেডদের মতো আমিও তাঁকে ‘আমাদের কাকাবাবু’ বলেই মনে করতাম। ...more
০৩-আগস্ট-২০২৪
মুজফ্ফর আহ্মদ
১৯২৯ সালের মার্চ মাসের ২০ তারিখে কমিউনিস্টদের ওপরে প্রচণ্ড আঘাত এল। এই তারিখে সারা ভারতে কমিউনিস্ট নেতৃত্বগণ গ্রেফতার হলেন মিরাট কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মোকদ্দমার সংস্রবে। মোকদ্দমা চলতে থাকল। পৃথিবীর ইতিহাসে দীর্ঘতম রাজকীয় মোকদ্দমা (State trial) কিন্তু কমিউনিস্টদের কাজ বন্ধ হল না। কিছু কিছু কাগজও তাঁরা চালাতে থাকলেন। হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি যে, ওয়াসে মজদুর (মজুরের বাণী) নামক একখানা উর্দু কাগজও কিছুদিন বোম্বে হতে বার হয়েছিল। ১৯২৯ সালের ২৬শে জানুয়ারি তারিখে, অর্থাৎ প্রথম স্বাধীনতা দিবসে বোম্বে হতে ওয়ার্কার্স উইকলি (Workers' Weekly) নাম দিয়ে একখানা সাপ্তাহিক ইংরেজি কাগজ বার হয়েছিল। কাগজের নামের ওপরে লেখা থাকত ‘দুনিয়ার মজুর এক হও’, আর নামের নিচে লেখা থাকত ‘সংগ্রামী মজুরশ্রেণির মুখপত্র’ (The Organ of Militant Working Class)। অন্য সব কমিউনিস্ট কাগজের মতো এ-কাগজখানাও দীর্ঘকাল চালু থাকেনি, তবে অনেক সপ্তাহ চলেছে। ...more
০২-আগস্ট-২০২৪
মুজফ্ফর আহ্মদ
মুসলিম লীগের শাসন মোটেই সুশাসন ছিল না। প্রতিবাদ হল ছাত্র ও যুব শক্তির তরফ থেকে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন শামসুল হক, তসদ্দুক [হোসেন], [মোহাম্মদ] তোয়াহা প্রভৃতি ছাত্র ও যুবনেতা। তাঁরা ঢাকায় কনফারেন্স করলেন, তাতে [শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও যোগ দিলেন। তিনি সম্ভবত আবুল কাশেম সাহেবের ছাত্র ও যুবলীগের তরফ হতে এসেছিলেন। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মি: জিন্নাহ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ছাত্রদের তরফ থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠল। মি: জিন্নাহর মুখের সামনে তারা বলল যে বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করতে হবে। এই বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা গুলির মুখে প্রাণও দিল। ...more
০১-আগস্ট-২০২৪
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
শ্রমিক-কৃষক, শিল্পী ও লেখকদের প্রতিভা বিকাশ করা এবং এই সব শিল্পী ও লেখকদের সঙ্গে উচ্চশ্রেণী থেকে আগত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা এই দুই দফা কর্তব্য কমিউনিষ্ট পার্টি তখনই পালন করতে পারেন যদি তারা শাসক শ্রেণীর সংস্কৃতিতে যা কিছু পচা ও ধ্বংসোন্মুখ, তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চালিয়ে যান। পার্টি যদি সংস্কৃতিকে শ্রমিকশ্রেণী ও তার সহযোগীদের তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের অস্ত্র হিসাবে দেখেন তবেই তারা সত্যিকারের জাতীয় গণ-সংস্কৃতি বিকশিত করে তুলতে পারবেন ও প্রতিহত করতে পারবেন শাসক-শ্রেণীর তাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাকে। ...more
২৬-জুলাই-২০২৪
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
মাদ্রাজের ডাককর্মীরা যে সম্বর্ধনার আয়োজন করেন, সে সম্বর্ধনার উত্তরে এক ভাষণে বলেন: "আট ঘণ্টা কাজের পর যে ডাককর্মী ঘরে ফেরেন, তিনি রাত ১১টার আগে লেখা-পড়ার কাজ শুরু করতে পারেন না। স্বভাবতঃই তার স্বাস্থ্য দিনে দিনে ভেঙ্গে পড়ে। তাছাড়া ডাককর্মী যে গল্পই লিখুন, সেটাই তাকে সুপারিন্টেন্ডেন্টের মারফত পোষ্টমাষ্টার জেনারেলের কাছে দাখিল করতে হয়, যাতে গল্পটি ছাপানোর অনুমতি মেলে।” শ্রীমহম্মদের ধৈর্য ও প্রতিভা প্রশংসনীয় যে এই সব বাধা অতিক্রম করে কেরালার অন্যতম লেখক ও শিল্পী হয়ে উঠেছেন। ...more
২৫-জুলাই-২০২৪
তপন মিশ্র
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে আমরা জিওর্দানো ব্রুনো-কে পুড়িয়ে মারার কথা জানি। ১৮১৩ সালে পার্সে বিশে শেলির এক বিখ্যাত কবিতায় (Queen Mab, section VII, lines 1 to 14) জিওর্দানো ব্রুনোর মত একজন নাস্তিকের মর্মান্তিক হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এই কবিতার শেষ ছত্রে কবি লিখছেন যে, শিশু শেলী যখন মায়ের হাত ধরে ব্রুনোর হত্যা প্রত্যক্ষ করছিলেন (কাল্পনিক) তখন কান্নায় তাঁর চোখ ভরে যায়। তাঁর মা তাঁকে বলেন 'Weep not, child!' cried my mother, 'for that man: Has said, There is no God’। ...more
১৯-জুলাই-২০২৪
আবদুল হালিম
৪১, জাকারিয়া স্ট্রীট হইতে আমরা আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সহিত যোগসূত্র স্থাপন করিয়াছিলাম। ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টিকে কেন্দ্রীয়ভাবে গড়িয়া তুলিবার জন্য বিভিন্ন কমিউনিস্ট গ্রুপগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হইবার জন্য যেসব আন্তর্জাতিক আবেদন; দলিলপত্র আসিয়াছিল তাহার মূলেও ছিল আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। এই প্রসঙ্গে একজন চীনা কমরেডের কথা আজ সবচাইতে মনে হয়। কমরেড জন জেমসন্। ১৯৩০ সালে প্রথমে কলিকাতায় তাহার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় এবং পরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়। বিশ বছরের যুবক ১৯২৭ সালে ক্যান্টন-বিপ্লবে যোগদান করিয়াছিলেন। প্রতিক্রিয়াশীল চিয়াং কাইশেকের কবল হইতে কোনো রকমে আত্মরক্ষা করিয়া সিঙ্গাপুরে আসেন এবং সেখান হইতে পলাইয়া আসেন। তিনি বেন্টিঙ্ক স্ট্রীটে এক জুতার দোকানে থাকিতেন এবং ইনকামট্যাক্স অফিসে একটি চাকুরী জোগাড় করেন। তাঁহার সহিত আলাপ হইবার অল্পদিন পরেই আমার জেল হয়। ...more
২৯-এপ্রিল-২০২৪
চিরশ্রী দাশগুপ্ত
রোজা লুক্সেমবার্গের জীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরা দরকার সেটা হল মৃত্যুদণ্ড ও জেলখানার বন্দীদের পরিস্থিতি বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা। অধ্যাপক ইরফান হাবিব উল্লেখ করেছেন, ১৯১৮ সালের ৯ই নভেম্বর রোজা যখন জেল থেকে ছাড়া পেলেন সেটা জার্মানি জুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিপ্লবী অভ্যুত্থানের সময়। মুক্তি পাবার পর রোজা এই বিষয়ে লিখেছিলেন। স্বাস্থ্য ভালো ছিল না তা সত্ত্বেও তিনি লড়াইয়ের কর্মকান্ডে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে বিষয়ে লিখলেন, তা হল মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির সমালোচনা। ...more
১৭-জানুয়ারি-২০২৪
উৎসা পট্টনায়েক
এমন নয় যে মার্কস তাঁর পুঁজিবাদী সঞ্চয়নের মডেলটি শুধুমাত্র শ্রমিক এবং পুঁজিপতিদের নিয়ে একটি বদ্ধ সমাজে সংঘটিত করতে চেয়েছিলেন। কারণ যদি আমরা মার্ক্সের নিজের কাজের পরিকল্পনা পড়ি - যা তিনি ১৮৫৯ সালে ‘আ কন্ট্রিবিউশান টু দি ক্রিটিক অফ পোলিটিকাল ইকোনমি’ বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছিলেন - তাহলে খুব স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মার্কস কখনই তাঁর বিশ্লেষণকে একটি বদ্ধ অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। পুঁজিবাদের বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ড অধ্যয়ন করারই উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। ...more
১৬-জানুয়ারি-২০২৪
ইরফান হাবিব
মার্কসের মতে – পুঁজি দুটি ভাগে বিকশিত হয় – ধ্রুবক পুঁজি (কনস্ট্যান্ট ক্যাপিটাল) এবং পরিবর্তনশীল পুঁজি (ভ্যারিয়েবল্ ক্যাপিটাল)। পরিবর্তনশীল পুঁজি হল সেই পুঁজি, যা শ্রমের জন্য ব্যয় করা হয়, অন্যান্য অর্থনীতিবিদেরা যাকে মজুরি ফান্ড বলেন। অতএব, মজুরি ফান্ড শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করা হলে, শ্রমিক কেবল যতটুকু তাঁর মজুরি ততটুকুর সমপরিমাণ কিনতে পারেন – তার বেশি কিনতে পারেন না কারণ তাঁরা কেবল শ্রমিক। ...more
১৫-জানুয়ারি-২০২৪
হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত লেখায় স্তালিন তাঁর চিন্তাধারা ও বিপ্লবী কাজকর্ম চালানোর চেষ্টা করেছেন লেনিন, একমাত্র লেনিনেরই আদর্শ অনুযায়ী। তাতে খুঁজে পাওয়া যাবে না ট্রটস্কির নির্ভীক বুদ্ধিদীপ্ত ও অলঙ্কারপূর্ণ রচনার কণামাত্র বিচ্ছুরণ। যিনি ছিলেন তাঁরই একদা বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, নিজের গৌরবময় ছায়া অনুসরণ করতে গিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিলেন, এমনকি যখন বাহ্যত পেরেস্ত্রৈকার সুবাদে প্রতিবিপ্লব জাঁকিয়ে বসেছে তখনও ট্রটস্কির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোনো অভাজনকে দেখা যায়নি। ...more
২১-ডিসেম্বর-২০২৩
অর্ণব ভট্টাচার্য
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এরিক হবসবম এঙ্গেলসের এই ভাবনাকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন যে, এঙ্গেলসের সমকালীন ইংল্যান্ডে চরম মন্দার মধ্যে ছিল পুঁজিবাদী অর্থনীতি। স্বভাবতই এঙ্গেলসের ধারণা হয়েছিল যে পুঁজিবাদ মৃত্যু শয্যায় এবং তার আশু ধ্বংস অনিবার্য। ১৮৪৮ সালে ইউরোপ জুড়ে যে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড হয়েছিল তার পূর্বাভাস এঙ্গেলস খুব সঠিকভাবেই দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। ...more
০১-ডিসেম্বর-২০২৩
অর্ণব ভট্টাচার্য
২৯-নভেম্বর-২০২৩
অর্ণব ভট্টাচার্য
‘‘আমি এই চার্চের অধীনস্ত এলাকায় এরকম দৈন্য আগে কখনও দেখিনি। শ্রমিকদের ঘরে আসবাবপত্র বলতে কিছুই নেই। একই ঘরে দু-জোড়া দম্পতি থাকছে। একদিন সাতটি বাড়ি ঘুরে দেখলাম যে সেখানে একটিতেও বিছানা নেই, কোথাও খড় পর্যন্ত নেই। আশি বছরের বৃদ্ধকে বোর্ডের ওপর শুয়ে থাকতে দেখেছি। দুটি স্কট পরিবারের দুরবস্থা দেখলাম যারা মাত্র কয়েকমাস আগে গ্রাম থেকে এসেছে। এরই মধ্যে তাদের দুটি সন্তান মারা গিয়েছে এবং আরেকজন মুমূর্ষু। ঘরের এক কোণে কেবল প্রত্যেক পরিবারের জন্য খড়ের ছোটো একটি আঁটি রয়েছে। ভর দুপুরবেলায় ঘরটিতে এমন অন্ধকার যে আলো না-জ্বেলে মানুষের মুখ দেখা সম্ভব নয়— পাথরের হৃদয়েও আমাদের দেশের মানুষের এই দুর্দশা দেখে রক্তক্ষরণ হবে।’’ ...more
২৮-নভেম্বর-২০২৩
ইলিয়া এরেনবুর্গ
যুদ্ধ আমাদের ইতিহাসকে বুঝতে শিখিয়েছে। অতীতের বীরেরা পাঠ্যপুস্তক থেকে বেরিয়ে ট্রেঞ্চে হাজির হতেন। আমরা লেনিনগ্রাদের সহিষ্ণুতার প্রশংসা করি। আমরা জেনেছি যে পিটার ছাড়া পুশকিন আসতেন না আর সেন্ট পিটার্সবুর্গ না-থাকলে আসত না পুতিলভ কারখানার সেই শ্রমিকেরা যারা পঁচিশ বছর আগে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। ...more
১৮-নভেম্বর-২০২৩
ইলিয়া এরেনবুর্গ
১৭-নভেম্বর-২০২৩
ইলিয়া এরেনবুর্গ
নাৎসি বাহিনীর স্তালিনগ্রাদ অভিযানের তিনটি পৃথক দিনের ধারাভাষ্য। সোভিয়েত সাহিত্যিক এবং যুদ্ধোত্তর ইউরোপে শান্তি আন্দোলনের অন্যতম বিশিষ্ট সংগঠক ইলিয়া এরেনবুর্গের কলমে যা পেয়েছিল এক অভিন্ন রূপ। ইংরেজি অনুবাদ (1942) থেকে বাংলায় তার ভাষান্তর মার্কসবাদী পথ-এ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালের আগস্টে। স্তালিনগ্রাদের ঐতিহাসিক যুদ্ধে হিটলারের সেনাবাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পরে আট দশক অতিক্রান্ত। ফিরে দেখা সেই তিনটি দিন।
...more১৬-নভেম্বর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
১৪-নভেম্বর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
২৪-অক্টোবর-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
১৯২৩ সালের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কানপুরে শওকৎ উস্মানী, কলকাতায় মুজফ্ফর আহ্মদ ও লাহোরে গোলাম হোসায়ন গিরেফ্তার হন। ভারত গবর্নমেন্ট তাঁদেরও পেশোয়ারের মোকদ্দমায় শামিল করতে চেয়েছিল। শওকৎ উস্মানী আর গোলাম হোসায়নকে তো পেশোয়ার জেলে নিয়েও যাওয়া হয়েছিল। ...more
১৯-অক্টোবর-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
১৮-অক্টোবর-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
এবারে আমাদের কির্কি ছাড়ার পালা। সৈন্য নিয়ে যে স্টীমার এসেছিল আমরা ষাট জন তাতেই চড়ে বসলাম। স্টীমার আমাদের চারজও নিয়ে গেল। লালফৌজের সৈন্যরা ব্যান্ড বাজিয়ে স্টীমার ঘাটে এসে আমাদের স্বাগত জানালেন। চারজওতে আমরা তিন দিন ছিলাম। এখানে আমাদের খুবই অতিথি-আপ্যায়ন হয়। চারজওতে থাকাকালেই আমরা নিজেদের ভিতরে পরস্পরের মনের পরিচয় পেলাম।
...more১৭-অক্টোবর-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
১৬-অক্টোবর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
উত্তর আমেরিকায়, স্থানীয় পুঁজিপতিদের উত্থান ঘটছিল; ডুপন্ট, অ্যাস্টর, রকফেলার এবং মরগ্যানরা শীঘ্রই সম্পদ এবং শক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুঁজিবাদের দূর্গে পরিণত করবে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় স্বৈরাচার এবং সামন্তবাদের ধ্বংসাবশেষ, ব্রিটিশ, ফরাসি এবং জার্মান পুঁজিপতিদের তীব্র শোষণের সাথে মিলিত হয়ে উন্নয়নকে আটকে রেখেছিল। প্রাচ্যে, ভারত প্রত্যক্ষ এবং চীন পরোক্ষ শোষণের জন্য রয়ে গিয়েছিল। ...more
১০-অক্টোবর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
ইউরোপীয় পুঁজিবাদী উদ্যোগের জন্য সমগ্র বিশ্বকে উন্মুক্ত করা ছিল জ্যোতির্বিদ্যা এবং ভৌগলিক বিজ্ঞানের প্রথম সচেতন প্রয়োগের ফল। জাহাজ নির্মাণ এবং নৌচলাচলের জন্য কম্পাস, মানচিত্র এবং যন্ত্র নির্মাণ এক নতুন প্রশিক্ষিত কারিগর শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। এশিয়ার পুরনো এবং ধনী দুটি সভ্যতার এবং আমেরিকার নতুন বিশ্বের যুগল আবিষ্কার, মানুষকে উৎসাহিত করেছিল যে তাঁরা নতুন কিছু অর্জন করতে সক্ষম, যা প্রাচীনদের চিন্তার বাইরে ছিল। ...more
০৩-অক্টোবর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
চিলি ছেড়ে মেক্সিকো যাওয়ার ঠিক একদিন আগে নেরুদা যান সান্তিয়াগোর সান্তা মারিয়া ক্লিনিকে। তাঁর গাড়ির চালক ও দেহরক্ষী ম্যানুয়েল আরায়া পরে জানান, ক্লিনিকে কোনও কারণ ছাড়াই নেরুদাকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। আর তারপরই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এবং ওই সন্ধ্যাতেই তিনি মারা যান। এবছর ফেব্রয়ারিতে ফরেন্সিক বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক টিম চিলির বিচারপতির কাছে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতেই স্পষ্ট যে ক্যান্সারের কারণে নয়, বিষ প্রয়োগেই কবির মৃত্যু হয়েছে। ...more
২৩-সেপ্টেম্বর-২০২৩
পাবলো নেরুদা
এবছর ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার জন্মের ১২৫ বছর। স্পেনে ফ্র্যাঙ্কোর জমানায় তাঁকে হত্যা করা করা হয়। এখনও পর্যন্ত তাঁর দেহ নিখোঁজ। এবছর পাবলো নেরুদার হত্যার ৫০ বছর। লোরকার মৃত্যুর পর নেরুদা লিখেছিলেন, ‘স্পেনের সেরা ফুলটি ঝরে গেল।’ নেরুদার কলমে ‘লোরকার স্মৃতি’। ...more
২২-সেপ্টেম্বর-২০২৩
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
সেই কারণেই যখন আলেন্দের বিধবা স্ত্রী কফিনে তার মুখ দেখতে চেয়েছিলেন, তারা খুলে দেখাতে অস্বীকার করেছিল, শুধু চাদর ঢাকা একটা শরীরের গড়ন দেখিয়েছিল। তাঁকে সান্তাইনেস কবরখানায় মারমাদুকো গ্রোভের পরিবারের শবগৃহে কবর দেওয়া হয়েছিল, আর কিছু না, শুধু এক স্তবক ফুল রেখেছিলেন তাঁর বিধবা স্ত্রী, সঙ্গে লেখা ছিল- ‘সালভাদর আলেন্দে, চিলির রাষ্ট্রপতি, এখানে সমাধিস্থ হয়েছেন।‘ ...more
২১-সেপ্টেম্বর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
বার্নাল গ্রীক বিজ্ঞানের আলোচনা করেছেন চারটি পর্যায়ে – আয়োনিয়ান, এথেনিয়ান, আলেকজান্দ্রিয় বা হেলেনীয় এবং রোমান। আয়োনিয়া গ্রীক বিজ্ঞানের জন্মস্থান – খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে। প্রথাগত গ্রীক দার্শনিকদের প্রথম থালেস পৃথিবীর সৃষ্টির ধারণায় সৃষ্টিকর্তার ভূমিকা সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরিবর্তনশীলতার দার্শনিক হেরাক্লিটাস বিপরীতের ধারণা এনেছিলেন – দ্বান্দ্বিক দর্শনের প্রথম উচ্চারণ। গণিত, বিজ্ঞান এবং দর্শনের যোগাযোগ পিথাগোরাসের স্কুলের মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছিল। এদের তত্ত্ব এবং অনুশীলন গ্রীক বিজ্ঞানে এনেছিল চিন্তাপদ্ধতির দুটি ধারা। ...more
১২-সেপ্টেম্বর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
চিলির কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে আক্রমণ নতুন নয়। ১৯১২-তে ওয়ার্কার্স পার্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২ সালে নাম পরিবর্তন করে কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯২৭-৩১ প্রথম নিষিদ্ধ করা হয়। তারপর আবার। ১৯৪৮-৫৮। ১৯৭৩, সামরিক অভ্যুত্থানের এগারো দিন পর ২২ সেপ্টেম্বর দেশের সমস্ত মার্কসবাদী পার্টিকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সামরিক বাহিনী হত্যা করে কমিউনিস্ট পার্টির ৬ জন সদস্যকে। ১১ জন এখনও নিখোঁজ। যেমন অভ্যুত্থানের পর বেশ কয়েকবছর কারগারে বন্দি রেখে গুয়েলার্মো টিলিয়ারকে অকথ্য অত্যাচার করা হয়। মুক্তি পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখনও কমিউনিস্ট পার্টি ছিল নিষিদ্ধ। ...more
১১-সেপ্টেম্বর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
২০০৮ সালে যে বিশ্বায়িত আর্থিক সংকট গ্রাস করেছিল তামাম বিশ্বের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে, আজ তার প্রায় দেড় দশক পরেও, বিশ্বায়িত পুঁজিবাদী অর্থনীতি সেই সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এমনকী, সুড়ঙ্গের শেষে দেখা যাচ্ছে না তেমন কোনও আলোর রেখাও। বরং, সম্প্রতি দুনিয়া দেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক এবং সিগনেচার ব্যাঙ্কের পতন। ক্রেডিট সুইসের মত বহুল পরিচিত ব্যাঙ্কেরও শেয়ারের দামে ধ্বস। শুধু তাই নয়, তাদেরই ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ সুইৎজারল্যান্ডের কাছে বিক্রী হয়ে যাওয়া। ...more
১০-সেপ্টেম্বর-২০২৩
টিম মার্কসবাদী পথ
এডওয়ার্ডকে সঙ্গে নিয়ে সিআইএ প্রধান হেলম সেই ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেন, যার মধ্যে ছিল চিলির সেনাপ্রধান জেনারেল রেনে শ্নাইডারকে সরিয়ে দেওয়ার ছক, যিনি ছিলেন সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ত, সেনা অভ্যুত্থান, সামরিক দখলদারি, সংসদে আলেন্দের অনুমোদন ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। রেনেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা শেষে বাস্তবায়িত হয় তাঁকে হত্যার মধ্যে দিয়ে। গুরুতর জখম হয়ে তিনি মারা যান। ...more
০৯-সেপ্টেম্বর-২০২৩
শ্যামাশীষ ঘোষ
শ্রেনিসমাজের প্রথম গঠন থেকেই, ভাববাদী এবং বস্তুবাদী, এই দুটি প্রধান বিরোধী ধারণার মধ্যে একটি ধারাবাহিক তাত্ত্বিক বিতর্ক চিহ্নিত করেছেন তিনি। উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বস্তুবাদ দার্শনিকভাবে অপর্যাপ্ত ছিল কারণ এটি সমাজ ও তার পরিবর্তনের সাথে নিজেকে যুক্ত করেনি। মার্কস এবং তাঁর অনুসারীরা এগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বস্তুবাদের সম্প্রসারণ ও রূপান্তর করেছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রথমে কার্যকরী হয়ে, দ্বান্দ্বিক মতবাদ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। ...more
০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৩
প্রভাত পট্টনায়েক
পয়লা সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-বিরোধী শান্তি সংহতি দিবস। ১৯৩৯ সালের এই দিনটিতেই জার্মান নাৎসি বাহিনী আক্রমণ করে পোল্যান্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু। পুরোনো ধরনের উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের চেহারা আজ নেই। এখন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যকে ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে নয়া উদারবাদের পথে। তবে বিশ্বের একটি অংশে পুরনো ধরনের উপনিবেশবাদকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া এতদিন থমকে ছিল। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নতুন করে সংগ্রাম শুরু হয়েছে ফরাসিভাষী আফ্রিকার দেশগুলিতে। এবছরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবসে ওই দেশগুলিতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম কীভাবে বিকশিত হচ্ছে, এই নিবন্ধে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। ...more
০১-সেপ্টেম্বর-২০২৩
অতীতের পাতা থেকে
ছোট একটা জায়গা বেরিয়ে যাবার সব পথ বন্ধ করে যে অমানুষিক লাঠি চার্জ হল তার কোন নজির ইতিহাসে নেই। জালিয়ানওয়ালাবাগে ইংরেজ পুঙ্গব মাইকেল ও ডায়ার রাইফেল আর মেশিন গানের গুলিতে খুন করেছিল অনেক মানুষ। কিন্তু স্বাধীন ভারতে তদানীন্তন সরকারের পুলিশ শুধু লাঠি পেটা করে কয়েক মিনিটের মধ্যে খুন করল ৮০ জন মানুষকে। ...more
৩১-আগস্ট-২০২৩
সৈকত ব্যানার্জী
‘১৯৪৩’ এ যেমন খিদের তাড়নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, ‘উনিশ-শো চুয়াল্লিশ’ গল্পে তেমনি মুনাফার লোভ আর পুঁজির ষড়যন্ত্র খতম করতে থেকেছে মানবিক মূল্যবোধগুলোকে। প্রথম গল্পে যা ছিল অভুক্ত মানুষের অসহায়তা, দ্বিতীয় গল্পে তা লোভী ও ক্ষমতাবান লোকের নিষ্ঠুরতা হয়ে উঠেছে। ...more
২৮-আগস্ট-২০২৩
উৎসা পট্টনায়েক
১৯৪০ সালে বিলেতফেরৎ জ্যোতি বসু ছিলেন ২৬ বছরের তরুণ কমিউনিস্ট। তিনি মুক্ত ছিলেন, ফলে দুর্ভিক্ষের ত্রাণের কাজে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। লন্ডন, কেম্ব্রিজ ও অক্সফোর্ডের দেশপ্রেমিক ভারতীয় ছাত্রদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এই পুস্তিকাটি যদি জ্যোতি বসুরই রচনা হয়ে থাকে, সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও যার সম্ভাবনা খুবই বেশি, ১৯৪৩ সালে যখন এটা প্রকাশিত হয়, তখন দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্যে ব্রিটিশ জনসাধারণের প্রতি তাঁর কাতর আবেদন অনেকটাই বিলম্বিত হয়ে গিয়েছে। ততদিনে লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েই গিয়েছে। ...more
২৬-আগস্ট-২০২৩
উৎসা পট্টনায়েক
সর্বোপরি, ‘ফাটকা ও মজুতদারি’ দুর্ভিক্ষ পর্বের ত্বরিত মুদ্রাস্ফীতির একটা সর্বকালীন বিভ্রান্তিকর ‘ব্যাখ্যা’, যার দ্বারা উপসর্গ পরিবর্তিত হয়ে যায় কারণে। এটাও এক ধরনের ‘পোস্ট হক’ বা ‘ইহার পর উহা, অতএব ইহাই হেতু’ জাতীয় ভ্রান্তি যার মাধ্যমে একটি পরিস্থিতি যা আগে তৈরি হয়নি, বরং দুর্ভিক্ষের সমান্তরালে ঘটেছে, তাকে ভ্রান্তভাবে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটা অনেকটা ‘জ্বর হয়েছে বলেই রোগী মারা গিয়েছে’, ডাক্তারের এমন নিদান দেওয়ার মতোই, যেখানে উপসর্গ কেন দেখা দিল তাকে ধর্তব্যে আনা হয় না। জ্যোতি বসুই স্পষ্ট ভাষায় এবং সঠিকভাবেই প্রত্যাখান করেন সরকারি এই ঘোষণাকে যে মজুতদারির জন্যেই ত্বরিত মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গিয়ে বাজার থেকে ক্রয়ের ওপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ জনগনের আওতার বাইরে চলে গিয়েছে খাদ্যসামগ্রী। ...more
২৫-আগস্ট-২০২৩
ইরফান হাবিব
যতক্ষণ না হিন্দু মহাসভা/আর.এস.এস. নেতারা সমর্পণ করেন ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দেবার পর গান্ধীজি অনশন প্রত্যাহার করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশে শান্তিও ফিরে আসে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে যে গান্ধীজি সামান্য মানুষ ছিলেন না। প্রচণ্ড সাহসী এই মানুষটি বৃহত্তর কল্যাণের কাজে নিজের আত্মমর্যাদা ও সম্মানকে বিসর্জন দিতেও পিছপা ছিলেন না। দুর্গত মানুষের কাছে তাদের আশ্রয় শিবিরে গান্ধীজি যখন যেতেন তখন ধুলোবালি, ময়লা, কাদা, নোংরা পরিবেশ কোনো কিছুই তিনি গ্রাহ্য না করে নগ্নপদেই যেতেন। হিন্দু ও মুসলিমরা আসলে ভাইবোনের মতো এই বার্তাবহন করে গান্ধীজি হিন্দু ও মুসলিমদের আশ্রয় শিবিরে ঘুরে বেড়াতেন। ...more
১৬-আগস্ট-২০২৩
ইরফান হাবিব
আর একটা বিপজ্জনক দিক হলো যে আমাদের বিজেপির বন্ধুরা ও তাদের নিয়ন্ত্রণকর্তা আর.এস.এস দাবি করছে যে ঋক্ বেদের যুগ থেকেই ভারত একটি জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ঘটনা হলো যে, 'ঋক্ বেদ তো দূরের কথা পরবর্তী তিনটি বেদ বা আরো পরের 'ব্রাহ্মণ' এমনকী তুলনামূলকভাবে অনেক নবীন উপনিষদগুলির যুগেও 'ভারত' বলে কোনো দেশের উল্লেখ পাওয়া যায় না। ঋক বেদে কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের কথাও নেই, উল্লেখ আছে কেবল নদী এবং আদিবাসীদের। এমন কী সপ্তসিন্ধুর বা সাতটি নদীবিধৌত অঞ্চল বলতে তখন পাঞ্জাবকে বোঝাত না। বোঝাত সাতটি নদীর কালধারার কথা যার থেকে সিন্ধুনদীর উৎপত্তি। এটা অনেক পরবর্তীকালের সংযোজন। পাঞ্জাব এবং আফগানিস্তানের কয়েকটি অংশে বসে বেদ মন্ত্র বা শ্লোক লিখিত হয়েছিল। তখন সেখানে বসবাস করতেন ভ্রাম্যমাণ আদিবাসীরা। কাজেই কোনো অঞ্চল বা ন্যূনপক্ষে 'দেশ'-এর ধারণাই তখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। ...more
১৫-আগস্ট-২০২৩
রাজা নাঈম
পীর আলী মুহম্মদ রাশদী তাঁর 'দোজ ডেজ, দোজ ওয়েজ' বইতে লিখেছেন যে হেমুর আত্মীয়রা অনেকেই ক্ষমাভিক্ষার আবেদন করেছিলেন কিন্তু হেমু তার একটিতেও স্বাক্ষর করেননি। এই সমস্ত অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামরিক অধিকর্তা তার প্রতিনিধিদের হেমুর কাছে পাঠিয়েছিলেন যাতে তারা তাঁর সাথে দেখা করে জানতে পারে যে হেমু তাঁর কাজের জন্য অনুতপ্ত কি না। কিন্তু তিনি আগাগোড়া দৃঢ় থেকে জানিয়ে দেন বেঁচে থাকলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন। ...more
১৪-আগস্ট-২০২৩
রাজা নাঈম
অধ্যাপক মহম্মদ লাইক জারদারি লিখেছেন, হায়দ্রাবাদে বিদ্রোহীরা দূর্গ দখল করার পরিকল্পনা করেছিল যাতে পরবর্তীতে দিল্লীর লালকেল্লার মত বিদ্রোহ আত্মপ্রকাশ করে এবং ক্রমান্বয়ে বিদ্রোহের আঁচ এসে পড়ে জাকোবাবাদ, সুক্কুর এবং শিকারপুর অঞ্চলে। সামরিক ব্রিগেডিয়ারদের কানে এই খবর পৌঁছতেই বিদ্রোহী নেতাদের কামানের গোলায় উড়িয়ে দেওয়া হয়। শিকারপুরে বিদ্রোহীরা তিন ইয়োরোপীয় নাগরিকদের নিশানা করেছিল, তাঁদেরকেও গ্রেপ্তার করে কামানের গোলায় নিহত করা হয়। একইভাবে এমনকি সুক্কুরের বিদ্রোহীদের বার্তাবাহকদেরও গ্রেপ্তার করে নদীর তীরে ফাঁসি দেওয়া হয়। এভাবেই, বিদ্রোহের উদ্যোগ আরো তৈরি হতে থাকে। ...more
১৩-আগস্ট-২০২৩
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
শ্রমিকশ্রেণির সঙ্গে কাজ করবেন, একটি বামপন্থী সংগঠন গড়ে তুলবেন, এই সংকল্প নিলেও তা ঠিক কীভাবে হবে – এই নিয়ে মুজফ্ফর আহ্মদের মনে নানা প্রশ্ন ছিল। শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে এনে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করার তাগিদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই চেতনার ভিত্তিতে কোনো সুস্পষ্ট লড়াইয়ের পদ্ধতি তখনও তিনি নিতে পারেননি। মুজফ্ফর আহ্মদ তখনও জানতেন না প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে কিছু মুহাজির যুবক রুশ-অধিকৃত মধ্য এশিয়ার তাশখন্দ শহরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলেছেন। ১৯২০ সালের শেষে এই প্রবাসী পার্টি গড়ে ওঠার বছর খানেক পর ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের পক্ষ থেকে নলিনী গুপ্ত আকস্মিকভাবেই কলকাতায় এসে নজরুল এবং মুজফ্ফরের সঙ্গে দেখা করেন। ...more
০৬-আগস্ট-২০২৩
বদরুদ্দীন উমর
বদরুদ্দীন উমর। জন্ম এই বাংলার বর্ধমানে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক। এখন বয়স বিরানব্বই। মার্কসবাদী পথের জন্য নিজস্ব চেনা ঢঙে লিখেছেন ‘কমরেড মুজফ্ফর আহ্মদের কথা’। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় অকপট ভাষ্যে যেমন আছে মুজফ্ফর আহ্মদকে নিয়ে তাঁর ‘অতৃপ্তি’, ‘আক্ষেপ’, তেমনই আছে ফুপুতো ভাই সৈয়দ শাহেদুল্লাহ, তাঁর ভাই সৈয়দ মনসুর হবিবুল্লাহ; কাছাকাছি বয়সের চাচা মহবুব জাহেদী, আবদুল্লাহ রাসুলের প্রসঙ্গ। আছে ১৯৪৫ সালে বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্মেলনের কথা থেকে বর্ধমানে কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিনয় চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্লাসে হাজির হওয়ার কথা। ...more
০৫-আগস্ট-২০২৩
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
সাহিত্য জগতে বিচরণ করলেও মুজফ্ফর আহ্মদ শ্রমিকদের একাংশের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। নোয়াখালি– চট্টগ্রামের দরিদ্র্য লস্কররা কলকাতায় কাজের সন্ধানে আসতেন। মুজফ্ফর তাঁদের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। আঞ্চলিকতার সূত্রে সংযোগ তৈরি হলেও ১৯২১ সালে শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাবে এই সম্পর্কগুলি ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও সামাজিকতায় আবদ্ধ থাকেনি। কলকাতার শহরতলী ও হুগলীর দুই তটের শিল্পনগরীগুলি এই সময় সমাজের নিচুতলার মানুষের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের ঘাঁটি হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ-সচেতন বুদ্ধিজীবীরা এই আলোড়ন অগ্রাহ্য করতে পারেননি।
...more
০৫-আগস্ট-২০২৩
সৈয়দ শাহেদুল্লা
১৯৪১ সালে হিটলার কর্তৃক সোভিয়েত আক্রান্ত হবার পর অবস্থার এক বিরাট পরিবর্তন ঘটল। সারা বিশ্বে ফ্যাসিবিরোধী যুদ্ধ মুক্তির যুদ্ধে পরিণত হল। আর.পি.ডি.- র (রজনী পাম দত্তের) সে সময়কার লেখার ভাষার, থার্মোমিটার সব অবস্থাতেই একই পরিমাপ দেয় না। সুতরাং পার্টির নীতি পুনর্মূল্যায়ন করতে হল এবং ফ্যাসিবিরোধী যুদ্ধ যাতে সার্থক হয় তার সহায়ক নীতি কর্মসূচী গৃহীত হল। পরিবর্তিত অবস্থার স্বীকৃতিতে এবং ভারত ও বিশ্বের জনমতের দাবিতে পার্টির উপর থেকে "বে-আইনি” ঘোষণার শৃঙ্খল তুলে নিতে হল। পার্টি আইনসঙ্গত উপায়ে কাজ করার অধিকার অর্জন করল। কমরেড হরেকেষ্ট জেল থেকে বেরিয়ে এসে প্রকাশ্যেই কাজে নামলেন। ...more
২৩-জুলাই-২০২৩
সৌভিক ঘোষ
আমাদের দেশে রজনী পাম দত্ত প্রসঙ্গে যে কোনও আলোচনায় তার লেখা ‘ইন্ডিয়া টুডে’ বইটির উল্লেখ থাকেই। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতের ইতিহাস চর্চার ধারায় অনেকেই সেই বইটিকে প্রথম লেখা বই বলেও চিহ্নিত করেন। ১৮৯৯ সালে লিখিত ভি আই লেনিনের অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত রচনা ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্যাপিটালিজম ইন রাশিয়া’র ধারা মেনেই দত্তের লেখা ‘ইন্ডিয়া টুডে’ (১৯৪০) অবশ্যই মার্কসবাদী ইতিহাস চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি সন্দেহ নেই, কিন্তু ওটাই প্রথম কাজ এমনটা বলা উচিত না। সেই কাজ করেছিলেন এম এন রায়’ই। রায়ের লেখাটি অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ, বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সঠিক নয় বলে পরে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সন-তারিখের বিচারে সেই লেখাই প্রথম। ...more
১৯-জুন-২০২৩
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
মার্কসবাদ আর নন্দনতত্ত্বের সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনায় আমাদের প্রতিবন্ধকতা হলো মার্কস-এঙ্গেলস অথবা লেনিন-স্তালিনের মতো অনুগামী এবং এঁদের উত্তরসূরিদের কেউই নন্দনতত্ত্ব সম্পর্কে তাঁদের উপলব্ধির কোনো সংকলনগ্রন্থ নির্মাণ করেননি। যদিও, যেমনটি আগে বলা হয়েছে, মার্কস-এঙ্গেলস এবং তাঁদের উত্তরসূরিরা দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দর্শনের যে বিকাশ ঘটিয়েছেন তা শিল্প-সাহিত্যের মতো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদিরও উৎস নির্দেশ করে। এই মার্কসবাদী দর্শনের ওপরে ভিত্তি করেই গোর্কি তাঁর 'ব্যক্তিত্বের বিভাজন' রচনায় মার্কসবাদী নন্দনতত্ত্বের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। ...more
১৩-জুন-২০২৩
গৌতম গাঙ্গুলী
ফরাসি বিপ্লবের কারণ সম্পর্কে সাধারণ মতামত হল সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাবলী সেই সময়কার ফরাসি শাসক ষোড়শ লুই সামলাতে পারছিলেন না। প্রচলিত প্রাচীন ব্যবস্থার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। এই ব্যবস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছিল। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ও সরকারি ঋণ শোধ করার ব্যর্থতা এক অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনে। তার ফলাফল হ'ল অর্থনৈতিক নিম্নগামীতা, বেকারি ও ভয়ংকর খাদ্য সংকট। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দমবন্ধ করা কর-ব্যবস্থা যার সংশোধনে অভিজাতরা নারাজ ছিলেন। এই সংকট ষোড়শ লুই সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সামাজিক অস্থিরতা এমন পর্যায়ে যায় যে ১৭৮৯ সালে এস্টেট জেনারেলের সভা ডাকা হয়। যা শেষ বসেছিল দেড়শো বছর আগে। ১৭৮৯ সালকে ধরা হয় ফরাসি বিপ্লবের শুরু হিসাবে। ...more
০৩-মে-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
বীরভূম জেলার কির্নাহারের নিকটবর্তী শরডাঙ্গা গ্রাম আব্দুল হালিমের জন্মস্থান। থানার নাম নান্নুর। চেষ্টা করে হালিমের সঠিক জন্মদিবস পাওয়া গেছে। শরডাঙ্গা গ্রামের জিল্লুর রহমান সাহেব যেদিন জন্মেছিলেন সেদিন আব্দুল হালিম ও জন্মেছিল। জিল্লুর রহমান সাহেবদের পরিবারে জন্ম-মৃত্যুর পারিবারিক রেজিস্টার রক্ষিত আছে। তা থেকে জানা যাচ্ছে যে, ১৩০৮ বঙ্গাব্দের ২০শে অগ্রহায়ণ, শুক্রবার অপরাহ্ন ২টার সময় জিল্লুর রহমান ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তার চার ঘণ্টা পরে ওই দিনই ভূমিষ্ঠ হয়েছিল আব্দুল হালিমও। খ্রীষ্টীয় সনের হিসাবে এই তারিখটি ছিল ১৯০১ সালের ৬ই ডিসেম্বর। কাজেই ১৯০৫ সালে হালিমের জন্মাবার কথা যে কাগজে ছাপা হয়েছে তা ভুল। ...more
২৯-এপ্রিল-২০২৩
সৌম্যজিৎ রজক
এমনই এক দুপুরবেলা। কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট আর সূর্য সেন স্ট্রিট (তখন মির্জাপুর স্ট্রিট)-এর সঙ্গমস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন দু’জন। সশস্ত্র বিপ্লববাদী আন্দোলনের কিংবদন্তী আব্দুর রজ্জাক খান ও ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা মুজফ্ফর আহমেদ। ঠিক সেসময়ই ওই রাস্তা দিয়েই এম-জি রোড (তখন হ্যারিসন রোড)-এর দিকে যাচ্ছিল সেই যুবকটি। খান সাহেব তাকে দেখিয়ে মুজফ্ফর আহমেদকে বলেন, “আমি এই ছেলেটির সঙ্গে খিদিরপুর ক্যাম্পে ছিলাম। ভালোই মনে হয়েছিল ছেলেটিকে। আপনি ওর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করুন।” ...more
২৮-এপ্রিল-২০২৩
অশোক ধাওয়ালে
মুম্বইয়ে ঐতিহাসিক নৌবিদ্রোহের দিনগুলিতে মহিলা সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে নৌসেনাদের খাদ্য সরবরাহ করার কাজে অহল্যা রঙ্গনেকর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৪৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্রিটিশ বুলেটের মুখোমুখি হন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন আরেক সাহসী নারী কোমল ডোন্ডে, যিনি পুলিশের গুলিতে শহিদের মৃত্যু বরণ করেন। অহল্যার বোন কুসুম রণদিভের পায়েও গুলি লাগে। তবে সর্বক্ষণ গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হওয়া প্রতিবাদকারীদের পাশে থাকা সত্ত্বেও বিস্ময়কর ভাবে অক্ষত থেকে যান অহল্যা। ...more
২৩-এপ্রিল-২০২৩
অর্ণব ভট্টাচার্য
মাঠটা সম্পূর্ণ ভর্তি হয়ে গেলে রেজিনাল্ড ডায়ার গুলি চালানোর নির্দেশ দিলেন। টানা দশ মিনিটে গুলি চলল ১৬৫০ রাউন্ড। বর্বরতার বলি হলেন এক হাজারেরও বেশী মানুষ। আহত কয়েক শত। তবে ছাড়া পাননি পাঞ্জাবের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মাইকেল ও' ডায়ার। বিপ্লবী উধম সিংএর গুলিতে ১৯৪০ সালের ১৩ মার্চ নিহত হন তিনি। এদিকে মোদি সরকার জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতিসৌধ সংস্কারের নামে সেখানকার প্রবেশপথে বুলেটের চিহ্নগুলিই মুছে ফেলেছে। ...more
১৩-এপ্রিল-২০২৩
অর্কপ্রভ সেনগুপ্ত
যাকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তা অনেকের চোখেই সঙ্গত ভাবেই ধরা দিয়েছে রাজনৈতিক ভাবে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমকে প্রভাবিত করারই আরেক প্রচেষ্টা রূপে। এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে যেটুকু সন্দেহ এরপরেও পড়ে থাকে, তাও মুছে যায় যখন আমরা দেখি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মুখপত্র অর্গানাইজার-এ খবর প্রকাশিত হয়েছে ইতিহাসের এই ব্যবচ্ছেদকে সোৎসাহে সমর্থন জানিয়ে। ...more
১২-এপ্রিল-২০২৩
মুজফ্ফর আহ্মদ
চোরবাজারের বিরুদ্ধে কৃষক সভাকে জোর লড়াই করতে হবে। চোরবাজারের লোকেরা শকুনেরও অধম। শকুন মরা জানোয়ারের মাংস খায়, কিন্তু চোরবাজারের ব্যবসায়ীরা খায় জ্যান্ত মানুষের মাংস। এই চোরবাজারকে ধ্বংস না করতে পারলে সমাজজীবন কিছুতেই গড়ে তুলতে পারা যাবে না। বাঁধা দরে যাতে সকলে, বিশেষ করে কৃষকরা জিনিস পায় সেই ব্যবস্থা কৃষক সভাকে করতে হবে। চোরা কারবারিদের উপর কড়া নজর না রাখলে, তাদের জীবন বিষময় করে না তুললে কিছুতেই তা সম্ভবপর হবে না। ...more
১১-এপ্রিল-২০২৩
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে ভগৎ সিং পাঞ্জাবিতে একটা গোপন চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠি পুলিশের হাতে পড়ে যায়। তাতেই স্পষ্ট হয় যে, বামপন্থী রাজনৈতিক কার্যকলাপে তাঁর স্থায়ী আগ্রহ ছিল। সেই সময় পাঞ্জাবের জেলে যে অনশন ধর্মঘট চলছিল চিঠিতে সেবিষয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সেই আন্দোলন সম্পর্কে কমিউনিস্ট ও সোশালিস্ট নেতাদের মতামত কী এবং অনশনকারীরা কমিউনিস্ট ও সোশালিস্ট নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন কিনা তাও জানতে চেয়েছিলেন। জেলের রেকর্ডে ভগৎ সিংয়ের যে বর্ণনা লিপিবদ্ধ রয়েছে তা এরকম, ‘গড় উচ্চতার একজন হিন্দু/শিখ’ (৫ ফুট ৮ ইঞ্চি), ‘ফরসা’, ‘স্বাস্থ্য মোটের ওপর ভাল’, ‘বাঁ চোখের ঠিক নীচে একটা কাটা দাগ রয়েছে’, এছাড়া ‘বাঁ হাতের তর্জনীর বাইরের দিকের একেবারে গোড়ায় আরও একটা কাটা দাগ রয়েছে’ ...more
২৩-মার্চ-২০২৩
বিজয় প্রসাদ
১৭৮৯ ও ১৮৪৮ সালের পরাজয় শ্রমজীবী মানুষকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁরা জানতেন ১৮৭১ সালের লড়াই আরও কঠিন হবে। শেষ অবধি তাঁদের পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছিল সেই লড়াই; চরম নিষ্ঠুরতার নজির রেখে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষকে খুন করে বুর্জোয়াশ্রেণি। হোটেল ডি ভিলায় উড়েছিল লাল পতাকা। ৭২ দিনের সেই হাতে-কলমে পরীক্ষা প্যারি কমিউন নামে সুপরিচিত ছিল। একে ‘কমিউন’ বলা হত কারণ ১৭৯২ সালে বিপ্লবীরা তাঁদের নগরগুলিকে এক একটি প্রশাসনিক-অঞ্চল (এনক্লেভ) হিসাবে গড়ে তুলেছিল; এখান থেকেই জন্ম নেয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের নীতিসমূহ। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্যারিসের বিদ্রোহীরা তাঁদের নির্বাচিত সরকারের নাম রেখেছিল ‘প্যারি কমিউন’। ...more
১৮-মার্চ-২০২৩
নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া
... এ কথা বুঝতেই হবে যে কোনও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বা কোনও বস্তুবাদ কখনই একটা সুদৃঢ় দার্শনিক ভিত্তি ছাড়া বুর্জোয়া চিন্তাধারার আক্রমণ, বা বুর্জোয়া বিশ্বদৃষ্টির বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে পারবে না। সংগ্রামের মধ্যে আত্মরক্ষা করে এবং শেষ পর্যন্ত জয়যুক্ত হতে হলে, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীকে হতে হবে এক আধুনিক বস্তুবাদী, মার্কস যার প্রতিনিধি সেই বস্তুবাদের সচেতন অনুগামী– অর্থাৎ তাকে হতে হবে দ্বান্দিক বস্তুবাদী। ...more
২৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া
মার্কসবাদের এই অপবক্তারা কখনও ভেবে দেখেনি সমালোচনার অস্ত্রের বদলে অস্ত্রের সমালোচনা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে মার্কস কী বলেছেন। মিথ্যেই তারা মার্কসের নাম করে, আদতে রণকৌশলের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা সম্পূর্ণ ফ্র্যাঙ্কফুর্টের বাচাল বুর্জোয়াদের মতো, যারা স্বৈরতন্ত্রের অবাধ সমালোচনা করে গণতান্ত্রিক চৈতন্যকে গভীর করে তুললেও একথা বুঝতে অক্ষম, যে বিপ্লবের কাল হল ওপর-নীচ দুদিক থেকেই সংগ্রামের কাল। ...more
২৫-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
নন্দন রায়
অন্য সব কিছু বিচার ও ব্যাখ্যা করার মাপকাঠি হিসেবে মার্কস ও এঙ্গেলস ব্যবহার করেছিলেন ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা। ইতিহাসের এইরূপ ধারণা, যা ইশতেহারের মেরুদন্ড স্বরূপ, তার চারটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, ইতিহাস যে স্থাণু নয় বরং চলমান, মার্কস ও এঙ্গেলস ইশতেহারে প্রথম এই ধারণাকে স্বীকৃতি দিলেন এবং এই চলমানতার মূলে রয়েছে সামাজিক উৎপাদিকা শক্তি ও সামাজিক উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যেকার দ্বান্দ্বিক গতিপ্রকৃতি এবং সম্পত্তি-সম্পর্কই হল এই দ্বন্দ্বের নিয়ামক। ...more
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মাতৃভাষার মর্যাদা আমরা তখনি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো যখন আমাদের এই রাষ্ট্র পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হবে। পুঁজিবাদী বিশ্ব আমাদেরকে গণতান্ত্রিক হতে দেয় না। আমাদের শাসক শ্রেণির সঙ্গে যোগসাজস করে তারা কখনো নির্বাচিত কখনো অনির্বাচিত অগণতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দেয়, যাতে করে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে যেতে পারে, এবং দেশকে একটি বৃহৎ বাজারে পরিণত করা সম্ভব হয়। পুঁজিবাদী বিশ্ব এ রাষ্ট্রকে স্বাধীন হতে দিচ্ছে না, তাঁবেদার করে রাখছে। অথচ একুশের আন্দোলনের মূল প্রেরণাটাই ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব সেদিন বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নেবার ভয়ঙ্কর অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। ...more
২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সীতারাম ইয়েচুরি
এবিষয়ে সকলেই একমত যে গান্ধী হত্যার জন্য দায়ী ছিল সাভারকারের নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভার একটা উগ্রপন্থী শাখা। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে যখন গান্ধীজিকে হত্যা করা হল, তখন এই ষড়যন্ত্রের মাথা হিসাবে সাভারকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে গান্ধী হত্যার বিচারে তিনি রেহাই পেয়েছিলেন। সেটাও হতে পেরেছিল এই মামলার রাজসাক্ষীর বিবৃতির সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণাদির অসঙ্গতির কারণে, যদিও সেটা ছিল ফৌজদারি দণ্ডবিধির একটা টেকনিক্যাল পয়েন্ট মাত্র। সর্দার প্যাটেল ছিলেন অত্যন্ত উচ্চমানের ফৌজদারি আইনজীবী। তবে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে সাভারকারের অপরাধ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। না হলে তিনি নিজেই সাভারকারকে বিচারের কাঠগড়ায় তুলতে দিতেন না। সর্দার প্যাটেল খুব স্পষ্টভাষায় জওহরলাল নেহরুকে বলেছিলেন, ‘সরাসরিভাবে সাভারকারের অধীনে থাকা হিন্দু মহাসভার একটা উগ্রপন্থী শাখা এই ষড়যন্ত্রের সলতে পাকিয়েছিল এবং ষড়যন্ত্র যাতে শেষ পর্যন্ত সফল হয় সেজন্য তৎপর ছিল। ...more
৩০-জানুয়ারি-২০২৩
জাদ মাহমুদ
এই সংবিধানটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় চরিত্রকে, সংসদীয় গণতন্ত্রকে, ও তার নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে সুনিশ্চিত করে। এর মুখবন্ধ সাধারণতন্ত্রের প্রধান মূল্যবোধের উল্লেখ করে ভারতকে সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। যেকোনো বিশ্বাসকে নাগরিকের উপর চাপানোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে এর ড্রাফটিং কমিটি “ঈশ্বরের নামে” শব্দবন্ধটিকে বাতিল করে; উপরন্তু তা ভারতের নাগরিককে কর্তৃত্ব হিসাবে উল্লেখ করে। অসাম্য, ও বৈষম্যকে নিকেশ করার প্রতিশ্রুতির উপর জোর দিতে, প্রথাগত অবিচারের চর্চাকে সংশোধন করতে এই সংবিধান ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমানতার প্রসঙ্গকে উল্লেখযোগ্যভাবে উত্থাপন করে। ...more
২৫-জানুয়ারি-২০২৩
কল্পনা দত্ত
ফাঁসির হুকুম হয়ে গেল ১৯৩৩-এর ১৪ই আগষ্ট দু'জনেরই। মাস্টারদা আমাকে আশ্বাস দিয়ে বললেন: "আমরা হাইকোর্ট করব, প্রিভি কাউন্সিল করব, তা ছাড়া ফাঁসির আগে তোর সঙ্গে দেখা করবই।” শাস্তির পরেই আমাকে চাটগাঁয়ের বাইরে নিয়ে যায়। দেখা আর হয়নি। ১৯৩৪-এর ১২ই জানুয়ারী মাস্টারদার ফাঁসি হয়। ফাঁসির সময়ও জানতে পারিনি। বহুদিন পরে রাজশাহী জেলে ব'সে চাটগাঁয়ের ছেলেদের মুখে শুনি—সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ক'রে রাত বারোটায় দিয়েছে ফাঁসি। মৃতদেহ আত্মীয় স্বজনকেও দেওয়া হয়নি। মাস্টারদা আমাদের জন্য বাণী রেখে গেছেন : “আমার অসমাপ্ত কাজের ভার তোমাদের হাতেই দিয়ে গেলাম, এগিয়ে যাও, বন্ধুগণ, এগিয়ে যাও।" ...more
১২-জানুয়ারি-২০২৩
কে এম আশরফ
নিজগৃহে বসে নাগরিকদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে গালিব লিখছেন, "যদিও প্রবেশদ্বার (রাস্তায় যাওয়ার) রুদ্ধ ছিল, তথাপি এমন নির্ভীকতা (পরিবেশের মধ্যে) বজায় ছিল যে জনগণ বলপূর্বক দরজা খুলে, মুক্ত হাওয়ায় বেড়িয়ে তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে আসতে পিছপা ছিল না।" ...more
২৭-ডিসেম্বর-২০২২
সুব্রত দত্ত
ট্রটস্কিরা লেনিনকে ব্যবহার করতে শুরু করলেন স্তালিনের বিরুদ্ধে। তখন স্তালিন ১৯২৪ সালে লিখলেন 'লেনিনবাদের ভিত্তি' এবং ১৯২৬ সালে লিখলেন 'লেনিনবাদের সমস্যা'। এই সমস্ত লেখায় ও বক্তৃতায় স্তালিন প্রকাশ করলেন, লেলিনবাদ হল সাম্রাজ্যবাদের যুগে, প্রলেতারিয় বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। সাধারণভাবে লেনিনবাদ হল প্রলেতারিয় বিপ্লবের তত্ত্ব ও কৌশল, আরো নির্দিষ্ট করে বললে শ্রমিকশ্রেণির একনায়কত্বের তত্ত্ব ও কৌশল। ...more
২১-ডিসেম্বর-২০২২
হায়দার আকবর খান রনো
এই যুদ্ধ ছিল প্রধানত জনতার যুদ্ধ। বামপন্থীদের অংশগ্রহণ ছিল গৌরবজনক যদিও সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল আওয়ামী লীগের হাতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকলেও তার স্পিরিট যেন সমগ্র জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রেরণা যোগাত এ কথাও অস্বীকার করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধকে একরৈখিকভাবে দেখা ভুল হবে। তার বৈচিত্রময় দিককে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলেই ইতিহাসকে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব। ...more
১৫-ডিসেম্বর-২০২২
হরবংশ মুখিয়া
মন্দির ধ্বংস করার ব্যাপারেও একই কথা খাটে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে সেযুগের গোঁড়া মুসলমান ঐতিহাসিকরা যেরকম উৎসাহের সঙ্গে সেসব কথা বর্ণনা করে গেছেন, আজকের দিনের গোঁড়া হিন্দু ঐতিহাসিকরাও ঠিক একইভাবে তা বর্ণনা করেছেন। হিন্দু মন্দির ধ্বংস করার উদ্দেশ্য আর যাই হোক না কেন, হিন্দুদের মুসলমান ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করা নিশ্চয় নয়। কেননা কী করে আমরা ভাবতে পারি যে, কোনো সম্প্রদায়ের হৃদয় জয় করা যায় তাদের মন্দির ধ্বংস করে। এই ধ্বংসক্রিয়া তাদের মনে ইসলাম সম্বন্ধে প্রেম নয়, বরং ঘৃণারই উদ্রেক করতে পারে। তাহলে এধরনের কার্যকলাপের উদ্দেশ্য তাদের ধর্মান্তরিত করা নয়, নিশ্চয়ই অন্য কোনো অভিপ্রায় ছিল। ...more
০৪-ডিসেম্বর-২০২২
সুকুমারী ভট্টাচার্য
এ আতঙ্ক ওই কলির আতঙ্ক, যে কলির প্রধান ভয় নারী ও যথাক্রমে স্বামী এবং উচ্চবর্ণের প্রভুকে লঙ্ঘন করবে। বিদেশি আক্রমণে অরক্ষিত নারীর পরহস্তগতা হওয়ার একটা রূপক চিত্র রাবণের সীতাহরণ। এইসব অপহৃতা নারীদের সমাজ ফিরে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখেনি। ...more
০৩-ডিসেম্বর-২০২২
সুকুমারী ভট্টাচার্য
তাহলে এই সেই যুগ, যখন নারী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বঞ্চিত, স্বাধীন বৃত্তির অধিকারও তাঁর নেই, পণ্য-দ্রব্য রূপে পরিগণিত, একা তারই দোষে বর্ণসংকর হয়, এবং তার চেয়ে পাপিষ্ঠ কেউই নেই। বিদেশী আক্রমণের ফলে আরো প্রবল হলো বর্ণসংকরের আতঙ্ক। বার্ডোসানেস নামে এক সিরিয় গ্রন্থকার রচনা করেন 'বুক্ অব্ দ্য লস্ অব্ দ্য কান্ট্রিস্' ১৪০ খ্রিস্টাব্দে। তাতে তিনি লিখেছেন কুষানেরা নিজেদের স্ত্রীদের রক্ষিতার মতো দেখত, তাদের কাছে কোনো যৌন আনুগত্য প্রত্যাশা করত না। তাহলে হয়তো আক্রমণ-পরম্পরার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জাতির দাম্পত্য সম্পর্কের শিথিলতার প্রভাবে আর্যাবর্তের সমাজ জীবনে কিছু শৈথিল্য দেখা দিয়ে থাকবে, যে-আতঙ্কে নারীজাতিকে মোটামুটি অন্তঃপুরে বন্দিত্বের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। ফলে, তাকে সন্দেহ করা অত্যন্ত ব্যাপকভাবে সমর্থিত হয়।' ...more
০২-ডিসেম্বর-২০২২
সুকুমারী ভট্টাচার্য
বনে যাবার প্রসঙ্গে লক্ষ্মণ সঙ্গে যেতে চাইলে খানিকটা আপত্তির পর রাম রাজি হলেন। সীতা যেতে চাইলে, বনবাসের কষ্টের কথা বলে তাঁকে নিবৃত্ত করতে চাইলেন, বললেন, -- 'তুমি শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কর রাজধানীতে।' ব্রাহ্মণ-সাহিত্যে আমরা পড়ি, 'কুলায় কন্যা প্রদীয়তে'; অর্থাৎ, বধূকে শ্বশুর কুলে দান করা হয়। রামচন্দ্রও এখানে প্রায় তেমন কথাই বলেছেন। ...more
০১-ডিসেম্বর-২০২২
আইজাজ আহমেদ
আমরা যখনই ধারণার দিকে তাকাব, এটা লক্ষ্য করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে রাজনীতি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে উত্তর-আধুনিকতাবাদী ধারণা দাঁড়িয়ে আছে উন্নত পাশ্চাত্যের যুদ্ধোত্তর পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে তাদের বোঝাপড়ার উপর। ভারতে তাদের জনপ্রিয়তা বেমানান, এই বিবেচনায় যে এমন একটা দেশ যেখানে শিল্প বিকাশ নিজেই একটা এলোমেলো বিষয়, এবং যেখানে জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশই বাস করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায়। ...more
২২-নভেম্বর-২০২২
আন্তনিও গ্রামশি
১৯২২ সালের অক্টোবরে ইতালির ফ্যাশিস্টরা বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বে যখন অভ্যুত্থান ঘটাচ্ছিলেন, তখন আন্তনিও গ্রামশি মস্কোয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল রুশ ভাষায়। সেই লেখাটির খোঁজ ছিল না প্রায় ১০০ বছর। ২৫ জুন, ২০২১ প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশ করে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক রাজনৈতিক সাময়িক পত্রিকা জ্যাকোবিন (ফরাসি উচ্চারনে জ্যাকোবাঁ)। এখানে তারই ভাষান্তর। ...more
১২-নভেম্বর-২০২২
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
৪১ জ্যাকারিয়া স্ট্রীট থেকেই কলকাতার কমিউনিস্ট পার্টি তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। কমরেড জন জেমিসন, চীন থেকে পালিয়ে আসা এক বিপ্লবী কমরেড কলকাতার পার্টির কাজকর্ম যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৩১ সালে নিয়মিত অর্থ সাহায্য করতেন। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে বৈদেশিক আইন প্রয়োগ করে ভারত থেকে বহিষ্কার করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে জেলে পুরে দেয়। তারপর আর তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
...more১০-নভেম্বর-২০২২
মুজফ্ফর আহ্মদ
অক্টোবর বিপ্লব যে দুনিয়ার সকল দেশের শ্রমজীবী জনগণের বিপ্লব ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে। দীর্ঘস্থায়ী প্রথম মহাযুদ্ধে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের যে সকল সৈন্য রাশিয়ায় বন্দি হয়েছিল তাদের বড় অংশ প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। প্রত্যেক দেশের বন্দিদের মধ্য হতে একটি অংশ আপন আপন দল হতে বার হয়ে এসে প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
...more০৯-নভেম্বর-২০২২
জ্যোতি বসু
প্রয়াত জননেতা জ্যোতি বসুর নিজস্ব কলমে এই প্রতিবেদনটি ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত হয়েছিল৷ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল ইন্দো-সোভিয়েত জার্নালে৷ বাংলায় এটি আগে অনূদিত ছিল না৷ তাঁর রচনাবলীতেও এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি৷ অথচ, সংক্ষিপ্ত পরিসরে সাংবাদিকের নিরাসক্ত ভঙ্গিতে রচিত প্রতিবেদনটি পড়লে বোঝা যায় কত অনায়াসে তিনি সহজ করে রাজনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারছেন৷ যৌবনকালেই কত গভীর রাজনৈতিক প্রত্যয় ছিল তাঁর৷ ...more
০৭-নভেম্বর-২০২২
ইরফান হাবিব
ট্রিবিউনে প্রকাশিত মার্কসের স্বাক্ষরিত ভারত সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলি সামনে আসে সোভিয়েত ইউনিয়নে মার্কসের রচনাসমগ্র প্রকাশের উদ্যোগ নেবার সময়ে। ভারতে তা প্রথম পাওয়া যায় মুলক রাজ আনন্দের সম্পাদনায় সোস্যালিস্ট বুক ক্লাব প্রকাশনা, সংখ্যা ৪-এ। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে। রজনী পাম দত্ত দীর্ঘ ভূমিকা ও প্রচুর টীকাসহ এই প্রবন্ধাবলী প্রকাশ করেন। ...more
২৯-অক্টোবর-২০২২
রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যর নিষ্ঠাবান ছাত্র, বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে চর্চা করেছিলেন প্রাচীন ভারতের দর্শন, বিশেষ করে বেদান্তদর্শন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগ ছিল কর্মক্ষেত্র। এমন একজন মানুষ মার্কসবাদী হবেন,শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যয়ে নয়, রীতিমতো অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, তার জন্য কারাবাসও করেছেন দীর্ঘকাল। ...more
২৭-অক্টোবর-২০২২
নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া
বলশেভিক পার্টি, অত্যন্ত সুচিন্তিত পরিকল্পনার সঙ্গেই অক্টোবরে ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি নিয়েছিল। জুলাইয়ের অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে; কিন্তু পার্টির সংযমী মন তাকে অকালপ্রসূত বলে বিবেচনা করেছিল। সত্যের মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপার ছিল, আর সে সত্যটা ছিল এই যে, মানুষ তখনও একটা অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত ছিল না। কেন্দ্রীয় কমিটি তাই তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল। যে বিদ্রোহীদের রক্ত টগবগ করছিল, তাঁদের সংযত করার কাজটা সহজ ছিল না। কিন্তু, বলশেভিকরা তাঁদের কর্তব্য করেছিলেন; যদিও তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কেন না তাঁরা বুঝেছিলেন অভ্যুত্থানের সঠিক সময় বেছে নেওয়াটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ...more
২২-অক্টোবর-২০২২
ইরফান হাবিব
ঐতিহাসিক ঘটনাদি আয়ত্ত করা যায় এবং সেই ঘটনাদির উন্মোচন, নির্বাচন ও ব্যাখার মাধ্যমে অতীত সম্পর্কে আমরা আমাদের জ্ঞানকে নিখুঁত করতে পারি। তিনি ইতিহাসের যথার্থতা সম্পর্কে মার্ক ব্লচের ধারণাকেও সমানভাবেই সমর্থন জানান, যেখানে মার্ক ব্লচ বলেছেন যে, ইতিহাসের যথার্থতা প্রকাশ পায়, কি কাজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। ...more
১৯-অক্টোবর-২০২২
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
রায় স্মৃতিচারণ করেছেন ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীতে তাদের যে-সাথীরা তখনও ছিল তাদের কাছে এই কথা অজানা রইল না এবং এই খবরগুলি পৌঁছে যাওয়ার ফলে ব্রিটিশ বাহিনীতে বিভেদ সৃষ্টি হল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে পলাতকদের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে যেতে থাকল। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
সরোজ মুখোপাধ্যায়
পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবসে বিগত বছরগুলির কাজকর্ম ত্রুটি-বিচ্যুতি আলোচনা করে তার থেকে শিক্ষাগ্রহণ আমাদের করতে হবে ঠিকই, কিন্তু পার্টির বিগত দিনের বিরাট সাফল্য যেন আমরা কখনও ছোট করে না দেখি। পার্টির আন্দোলন-সংগ্রামের কোন কোন পর্যায়ে যে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে সেগুলি বর্ণনা ও পর্যালোচনা এমনভাবে পেশ করা উচিত নয়, যাতে মনে হতে পারে যে, আমরা অতীতে যা করেছি সবই ভুল ছিল। এ দৃষ্টিভঙ্গি মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নয়। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
সৌভিক ঘোষ
কী ছিল সেই তারবার্তায়? ছিল ‘একনিষ্ঠ সংহতি’। ছিল প্রত্যয়ী ঘোষণা: ‘রুশ বিপ্লবের আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ সংহতি জানিয়েই আমরা ঘোষণা করছি ভারত ও রাশিয়ার মুক্তি আন্দোলন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুক্তিসংগ্রামের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।’ ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

