সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
মুজফ্ফর আহ্মদ কীভাবে কমিউনিস্ট হলেন (২)
সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়
শ্রমিকশ্রেণির সঙ্গে কাজ করবেন, একটি বামপন্থী সংগঠন গড়ে তুলবেন, এই সংকল্প নিলেও তা ঠিক কীভাবে হবে – এই নিয়ে মুজফ্ফর আহ্মদের মনে নানা প্রশ্ন ছিল। শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে এনে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করার তাগিদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই চেতনার ভিত্তিতে কোনো সুস্পষ্ট লড়াইয়ের পদ্ধতি তখনও তিনি নিতে পারেননি। মুজফ্ফর আহ্মদ তখনও জানতেন না প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে কিছু মুহাজির যুবক রুশ-অধিকৃত মধ্য এশিয়ার তাশখন্দ শহরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলেছেন। ১৯২০ সালের শেষে এই প্রবাসী পার্টি গড়ে ওঠার বছর খানেক পর ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের পক্ষ থেকে নলিনী গুপ্ত আকস্মিকভাবেই কলকাতায় এসে নজরুল এবং মুজফ্ফরের সঙ্গে দেখা করেন।

৫ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মার্কসবাদী পথ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রথম পর্বের পর…
দ্বিতীয় পর্ব
রাজনৈতিক সাংবাদিকতার পরিসর
১৯২০ সালে জননেতা ফজলুল হক্ মুজফ্ফর আহ্মদ এবং নজরুল ইসলামকে প্রস্তাব দেন একটি দৈনিক প্রকাশনার সাথে যুক্ত হতে। ফজলুল হকের মালিকানায় প্রকাশিত সান্ধ্য দৈনিক ‘নবযুগ’-এর দায়িত্ব নেন নজরুল আর মুজফ্ফর। এই নামকরণে হকের আপত্তি থাকলেও নজরুল আর মুজফ্ফর অনড় ছিলেন। পত্রিকার নাম থেকে বোঝা যায় তাঁরা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সময়ের বদলে নতুন কোনো দুনিয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বছরের মাঝামাঝি চালু হলেও ‘নবযুগ’ দ্রুত উচ্চমানের দৈনিকের খ্যাতি অর্জন করে। গণ-আন্দোলনে শ্রমিক-কৃষকদের বিশাল সংখ্যায় অংশগ্রহণের কথা তাঁরা লিখতেন। পুলিশের গোয়েন্দারা গোপন নথিতে এই কাগজের গদ্যের মুনসীয়ানার তারিফ করেন। সরকার-বিরোধী লেখা ছাপানোর অপরাধে ‘নবযুগ’ জরিমানার শিকার হয়। ফজলুল হক্ তাঁদের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করেননি। কিন্তু বছরের শেষের দিকে তিনি নরমপন্থার দিকে ঝোঁকেন। রাজনৈতিক মত আর মিলবে না বুঝে মুজফ্ফর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র দরজা খোলা ছিল। মুজফ্ফর রোজ যেতেন কলেজ স্ট্রিটের আপিসে। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মীজীবনের প্রতি তাঁর আর পিছুটান ছিল না। ‘নবযুগ’এ সাংবাদিকতার সূত্রে শ্রমিক আন্দোলনের সমর্থনে লেখার উৎসাহ জন্মেছিল। ১৯২০-২১ সালের বিরাট শ্রমিক বিক্ষোভের পরিবেশে মুজফ্ফরের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। ১৯২১ সালের মাঝামাঝি নজরুলের সাহায্যে একটি সাম্যবাদী সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভাবেন। এই সময় আর একটি যোগাযোগ তৈরি হয়। সাহিত্য সমিতির কিছু ছাত্র-সদস্যের মাধ্যমে শ্রমিক নেতা কুত্বুদ্দীন আহ্মদের সঙ্গে আলাপ হয়। কুত্বুদ্দীন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনীতি করতেন। মুসলিম বস্তিবাসী ও শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে খিদিরপুর ডক অঞ্চলে কুত্বুদ্দীন বক্তৃতা দিতেন। তিনি ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদের সেক্রেটারি। আজাদের সম্পাদনায় বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে কলকাতা থেকে দুটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী উর্দু পত্রিকা বেরিয়েছিল। ‘আল-হিলাল’ এবং ‘আল-বালাঘ’ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের রোষানলে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। কুত্বুদ্দীন আহ্মদ ছিলেন এই দুই পত্রিকার ম্যানেজার। যুদ্ধের পর উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে কুত্বুদ্দীন বাবুর্চি ও খানসামাদের সংগঠন গড়ে তোলেন। ‘আঞ্জুমান-ই-খানসামা’ ছিল একটি লড়াকু শ্রমিক সংগঠন। সেই সাথে যুগান্তর গোষ্ঠীর বিপ্লবীদের সাথে কিঞ্চিৎ ঘনিষ্ঠতা হয়। পুলিশ সন্দেহ করতে থাকে খানসামাদের বেশে হিন্দু ভদ্রলোক সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীরা উচ্চপদস্থ রাজপুরুষদের হত্যা করতে উদ্যত। এসব কিছুই ঘটেনি। কিন্তু এই সংগঠনভুক্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট করে বড়ো বড়ো সাহেবি হোটেলগুলি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সামান্য মাইনে এবং বর্ণবিদ্বেষী অপমানের বোঝা সইতে না-পেরে তাঁরা অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া এবং আত্মসম্মান অর্জনের লক্ষ্যে বিখ্যাত গ্র্যান্ড এবং কন্টিনেন্টাল হোটেলকে অকেজো করে দেন। সাহেবরা ভীষণ চটেন। স্ট্রাইক সংগঠিত করার অপরাধে খানসামাদের নেতা, সিরাজুদ্দিনের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। মুসলিম শ্রমিকরাই ছিলেন কলকাতার মুসলিম সমাজের প্রায় নিরানব্বই শতাংশ। তাঁদের সংগঠিত করতে গিয়ে কুত্বুদ্দীন সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন। শ্রমিক আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে নানা বই কিনে বাড়ির লাইব্রেরি ঘর ভরিয়ে ফেলেন। গান্ধীর দ্বারা অনুপ্রাণিত কয়েকজন মাদ্রাসার ছাত্র ‘স্বদেশী বস্ত্রবয়ন সমিতি’ গড়ে তোলেন। ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র লাইব্রেরিতে তাঁরা পড়তে আসতেন। তাঁদের মাধ্যমে কুত্বুদ্দীনের সঙ্গে মুজফ্ফ্রের আলাপ। মুজফ্ফর এবং নজরুলকে একটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শ্রমিক ও গণ-আন্দোলনমুখী পত্রিকা বার করতে অর্থ সাহায্য করেন কুত্বুদ্দীন। পত্রিকার বিজ্ঞাপনে ‘প্রলেতারিয়েত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহত্তর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষার কথা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত পত্রিকাটি বেরোয়নি। কিন্তু কুত্বুদ্দীনের সাথে বন্ধুত্বের কারণেই শ্রমিকদের সান্ধ্য মিটিং-এ যাতায়াত শুরু করেন মুজফ্ফর আহ্মদ। শ্রমিকরা কী চান অনুধাবন করতে গিয়েই রাজনৈতিক সাংবাদিকতা থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। এই সময় এক সহকর্মী-বন্ধু তাঁকে মার্কসবাদী সাহিত্য যোগাড় করতে সাহায্য করেন। লেখক মাখনলাল গঙ্গোপাধ্যায় ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি কলেজ স্ট্রিটের চক্রবর্তী, চ্যাটার্জী অ্যান্ড কোং-এর দোকান থেকে বামপন্থী বই সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন। কুত্বুদ্দীনের মাধ্যমে কলেজ স্কোয়ারের বুক কোম্পানির সঙ্গে মুজফ্ফরের সম্পর্ক স্থাপন হয়। এই বিক্রেতারা চোরাগোপ্তা পথে অতি সন্তর্পণে পুলিশের নজর এড়িয়ে বামপন্থী এবং মার্কসবাদী বই বিক্রি করতেন। বন্ধুদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে পৌঁছে মুজফ্ফরের পড়াশোনার পরিধি বিস্তৃত হয়।
রাজনৈতিক কর্মী
শ্রমিকশ্রেণির সঙ্গে কাজ করবেন, একটি বামপন্থী সংগঠন গড়ে তুলবেন, এই সংকল্প নিলেও তা ঠিক কীভাবে হবে – এই নিয়ে মুজফ্ফর আহ্মদের মনে নানা প্রশ্ন ছিল। শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে এনে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করার তাগিদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই চেতনার ভিত্তিতে কোনো সুস্পষ্ট লড়াইয়ের পদ্ধতি তখনও তিনি নিতে পারেননি। মুজফ্ফর আহ্মদ তখনও জানতেন না প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নেতৃত্বে কিছু মুহাজির যুবক রুশ-অধিকৃত মধ্য এশিয়ার তাশখন্দ শহরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলেছেন। ১৯২০ সালের শেষে এই প্রবাসী পার্টি গড়ে ওঠার বছর খানেক পর ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের পক্ষ থেকে নলিনী গুপ্ত আকস্মিকভাবেই কলকাতায় এসে নজরুল এবং মুজফ্ফরের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের বামপন্থী মতামতের কথা কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলের খিলাফতপন্থী ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানতেন। গুপ্ত তাঁদের মারফত উপস্থিত হন মুজফ্ফর আর নজরুলের কাছে। তিনি তৃতীয় আন্তর্জাতিক এবং মানবেন্দ্রনাথ রায়ের খবর জানান। ১৯২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথে মুজফ্ফর আহ্মদ সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন। সাহিত্য সমিতির মাধ্যমে তিনি আবদুর রজ্জাক খানকে আগে থেকেই চিনতেন। তাঁর পরামর্শে সাহিত্য সমিতির লাইব্রেরির এক পাঠক আবদুল হালীমের সঙ্গে মুজফ্ফর কথা শুরু করেন। রজ্জাক খান আর হালীম অসহযোগ আন্দোলনে যথাক্রমে সংগঠক এবং কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। গ্রেপ্তার হয়ে তাঁরা কিছুদিন জেলে ছিলেন। মুক্তি পেয়ে তাঁরাও শ্রমিক আন্দোলনের দিকে ঝোঁকেন। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে মুজফ্ফরের পত্রালাপ শুরু হয়। এই চিঠি চালাচালির সূত্রে তিনি অচিরেই পুলিশের নজরে পড়েন। চিঠিগুলিতে তিনি রায়ের পুরোনো বিপ্লবী বন্ধুদের শ্রমিক-কৃষকদের লড়াইয়ের প্রতি অনাশক্তির কথা জানিয়ে তাঁদের পথের সমালোচনা করেন। এই কথাগুলি রায়ের খুব পছন্দ হয়। মুজফ্ফরের প্রধান কাজ ছিল রাজনৈতিক, সাহিত্যিক ও শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে রায়ের পাঠানো মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সাহিত্য ছড়িয়ে দেওয়া। ‘যুগান্তর’ গোষ্ঠীর কিছু বিপ্লবী তাঁকে এ-কাজে সাহায্য করেছিলেন। এই সময় বুদ্ধিজীবীদের নানা অংশের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক কথোপকথন চলছিল। নজরুল সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’র পাতায় মুজফ্ফর আহ্মদ ভদ্রলোক শ্রেণির লড়াকু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মীদের ‘কর্তার ভূত’কে কাঁধ থেকে নামিয়ে শ্রমিক এবং কৃষকদের নেতৃত্বে মুক্তি আন্দোলন গড়ে তুলতে বলেন।
বেশিদিন মুজফ্ফর এভাবে চলতে পারেননি। পুলিশ তাঁর ওপর নিঃশব্দ লক্ষ রাখছিল। এক পিয়ন তাঁকে প্রথম জানায় পুলিশ তাঁর চিঠি খুলে পড়ছে। ১৯২৩ সাল থেকে শুরু হয় খোলাখুলি নজরদারী। এই সময় পেশোয়ারের বিচারালয়ের গোপন কক্ষে প্রাক্তন মুহাজির কমিউনিস্টদের শাস্তি দেবার প্রস্তুতি চলছিল। পেশোয়ার বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলার পাশাপাশি রায়ের সঙ্গে ভারতের ভেতরে আর যাঁদের যাঁদের পত্রালাপ ছিল, তাঁদের জেলে পোরার পরিকল্পনা শুরু হয়। অবশেষে কিছু বলশেভিক মতালম্বীকে খুঁজে পেয়ে ঔপনিবেশিক স্বরাষ্ট্র বিভাগ সন্তুষ্ট হন। ১৯২৩ সালের গ্রীষ্মকালের এক ভোরবেলায় কুত্বুদ্দীনের বাড়ির সিঁড়িতে ভারি বুটের আওয়াজ শোনা যায়। টাকা-পয়সার অভাবে মুজফ্ফর তখন ওখানেই থাকছিলেন। পুলিশরা তাঁকে ধরে নিয়ে যায় এলিসিয়াম রো-র (বর্তমান লর্ড সিনহা রোড) স্পেশাল ব্রাঞ্চের আপিসে। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজবন্দী হিসেবে প্রায় এক বছর মুজফ্ফর আহ্মদকে কয়েদ করে রাখা হয় বাংলার বিভিন্ন জেলে। ১৯২৪ সালে কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলায় নলিনী গুপ্ত, শওকত উসমানী এবং শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গের পাশাপাশি তিনি চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সাংস্কৃতিক কর্মীর জীবন ত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মী হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতার পর্ব তাঁর জীবনে এইভাবেই সমাপ্ত হয়।
জেলে ক্ষয়রোগ ধরা পড়লে ১৯২৫ সালে মুজফ্ফর আহ্মদ মুক্তি পান। বেরিয়েই কানপুরে অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম কমিউনিস্ট সমাবেশে অংশ নেন। এভাবেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশের কমিউনিস্টদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ১৯২৬ সালের শুরুতে কলকাতায় ফিরে বাংলার প্রথম সমাজতান্ত্রিক সংগঠন, কৃষক-শ্রমিক দলকে প্রসারিত করতে নানা উদ্যোগ নেন। পরবর্তী জীবন কেটেছিল কমিউনিস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে দেবার কাজে। নানা জটিল পরিস্থিতির সন্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে তাঁর চেতনা যেভাবে বদলে ছিল– সেই অবস্থান থেকে কখনো সরে আসেননি। সমকালীন অভিজ্ঞতার প্রভাবে বামপন্থী রাজনীতির পথে তিনি এগিয়েছিলেন। সেই চেতনা থেকেই জাতীয়তা এবং সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক চিন্তার বিকল্পে শ্রেণিভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিলেন। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের সমাজ দর্শন শ্রমিকের শহরে বহু দূর থেকে তাঁকে কাছে টেনে নিয়েছিল।
লেখাটি ‘বাংলা জার্নাল’ থেকে পুনর্মুদ্রিত।
ঋণ স্বীকার- রাকিব
তথ্যসূত্র:
১। আবদুল হালীম, ‘নবজীবনের পথে’, ন্যাশানাল বুক এজেন্সি, কলকাতা, ১৯৬৬।
২। মুজফ্ফর আহ্মদ, ‘সমকালের কথা’, ন্যাশানাল বুক এজেন্সি, কলকাতা, ১৯৬৩।
৩। মুজফ্ফর আহ্মদ, ‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’, ন্যাশানাল বুক এজেন্সি, কলকাতা, ১৯৬৫।
৪। মুজফ্ফর আহ্মদ, ‘আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’, ন্যাশানাল বুক এজেন্সি, কলকাতা, ১৯৬৯।
৫। বাংলার গোয়েন্দা পুলিশ অথবা ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের নথি।
৬। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নথি।
৭। ব্রিটিশ ক্যাবিনেট অফিসের নথি।
৮। সুচেতনা চট্টোপাধ্যায়, ‘অ্যান আর্লি কমিউনিস্ট: মুজফ্ফর আহ্মদ ইন ক্যালকাটা ১৯১৩-১৯২৯’, তুলিকা, দিল্লী, ২০১১।
প্রকাশের তারিখ: ০৬-আগস্ট-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
