সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ভারতের নির্মাণ
আইজাজ আহমেদ
‘উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ বিপরীতে, হিন্দুধর্মের অভ্যন্তর থেকেই উদ্ভূত জাতিভেদ-বিরোধী ভক্তিমূলক ঈশ্বরবাদের ঐতিহ্যগুলো মিল খুঁজে পাচ্ছিল ইসলামের নির্দিষ্ট কিছু ভিন্নমতের ধারার মধ্যে। অদ্বৈতবাদ ‘ওয়াহদাত-উল-উজুদ’ (সত্তার/ অস্তিত্বের ঐক্য)-এর সাথে বেশ ভালোভাবেই সাযুজ্যপূর্ণ। এবং শরিয়তের প্রতি সুফিদের যে অনীহা, তা ব্রাহ্মণ্যবাদ-বিরোধী ‘সন্ত’দের কাছে বেশ পরিচিত বলেই মনে হয়েছিল। আর এভাবেই সেই পারস্পরিক সংযোগের ফলে ঐতিহাসিকভাবে অভিনব এক ধরনের সমন্বয়বাদের জন্ম হয়েছিল।

প্রথম পর্ব
ভারতের নির্মাণ— এই শিরোনামে নির্মাণ বা ‘মেকিং’ শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের সক্রিয় ভূমিকা ও অভিপ্রায়। এটা এক প্রক্রিয়া, কোনও চূড়ান্ত ফলাফল নয়, এমন কিছু যা নিরন্তর হয়ে চলেছে এবং সেই কারণেই অসম্পূর্ণ। অন্য শব্দটা, ভারত – একটি ভৌগোলিক পরিসর, কালের প্রবাহে কখনও প্রসারিত হয়েছে, আবার কখনও বা সংকুচিত। নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রাচীন এক সভ্যতা, এক সমাজ যা যে কোনও সমাজতাত্ত্বিক মানদণ্ডেই বিশ্বের সর্বাধিক বৈচিত্র্যময় ও বিচিত্রধর্মী। পাশাপাশি, এটি এমন এক জাতি-রাষ্ট্রকেও বোঝায় যা অত্যন্ত নবীন।
আমরা শুরু করতে পারি, অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল বস্তুগত উৎপাদন এবং সাংস্কৃতিক গঠন প্রক্রিয়াগুলোর ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে, যা বহু শতাব্দী ধরে সুস্পষ্টভাবেই ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত করা যায় এমন একটি অনন্য সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে, অভিন্ন কোনও ভাষা বা ধর্ম বা কোনও আদিম জাতিগত পুরাকথার বাঁধন ছাড়াই। অভিজাত তত্ত্বগুলো ভারতের এই ঐক্যকে, মূলত ভারতব্যাপী বিস্তৃত হিন্দু সামাজিক বিন্যাসের ব্রাহ্মণ্যবাদী ভিত্তি এবং ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যের আদর্শমূলক গ্রন্থাবলির মূল নির্যাস নিয়ে গঠিত একটি ‘মহৎ ঐতিহ্য’-এর আলোকে বিচার করে। এই তত্ত্বগুলো সভ্যতার অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্যগুলোকে অসংখ্য ‘ক্ষুদ্র ঐতিহ্যের’ এক অন্তহীন লীলা হিসেবে গণ্য করে – এগুলোকে বিবেচনা করে স্থানীয়, ক্ষণস্থায়ী এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে। প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণা এবং উচ্চবর্ণের ভারততত্ত্বে অত্যন্ত প্রচলিত আদর্শায়িত চিত্র এই ‘মহৎ ঐতিহ্য’কে প্রাচীন ও আদি-মধ্যযুগীয় ভারতের সর্বত্র শান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্য বিস্তারকারী এক সত্তা হিসেবে গণ্য করে। এবং মনে করে যে, তা ব্যাপক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করেছিল এবং সমস্ত প্রধান ভিন্নমতকে প্রতিহত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। এবং একই সঙ্গে অজস্র ‘ক্ষুদ্র ঐতিহ্যের’ স্থানীয় রূপগুলোকে নিজের মধ্যে স্থান করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট উদারও ছিল।
এই যুক্তিরই স্বাভাবিক পরিণতি হল, এই ‘মহৎ ঐতিহ্য’ ভারতের অভ্যন্তর থেকে উদ্ভূত ভিন্নমতসমূহকে — বৌদ্ধধর্ম থেকে শুরু করে শিখধর্ম পর্যন্ত — নিজের মধ্যে স্থান করে দিতে পেরেছিল। তথাপি ভারতের বাইরে থেকে আসা ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যবস্থাসমূহ — বিশেষত ইসলাম ও খ্রীষ্টধর্ম — এই ‘মহৎ ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারেনি। ভারতীয় সমাজে সেগুলো সর্বদা বিদেশি উপাদান হিসেবেই থেকে যায়। সহজেই বোঝা যায়, ‘মহৎ ঐতিহ্য’ সম্পর্কিত এই আদর্শায়িত ধারণাকে অনায়াসেই দরকার মতো সংকুচিত করে একটি আধুনিক সাম্প্রদায়িক চেহারা দেওয়া যেতে পারে।
অবশ্য আধুনিক গবেষণাকর্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, এমনকি আদি ও প্রারম্ভিক মধ্যযুগীয় ভারতের ক্ষেত্রেও, ব্রাহ্মণ্য সামাজিক ব্যবস্থা এবং সংস্কৃত ধ্রুপদী ঐতিহ্যের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্যের ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। আধ্যাত্মিক আধিপত্যের প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তীব্রতা ও ধারাবাহিকতাই এই সভ্যতার একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে একেবারে আদি কাল থেকেই নজরে আসে। ব্রাহ্মণ্য অধিবিদ্যার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বর্ণাশ্রম’ ব্যবস্থার আদর্শগত ভিত্তি প্রাচীন ভারতের সমাজে মূলত প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধাভোগী শ্রেণিগুলোর নিচেই অবস্থান করত কারুশিল্পী ও কৃষকদের বহুস্তরীয় গোষ্ঠী, সেই সঙ্গে পশুপালক ও আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো। তাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির মূলে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বাসব্যবস্থা। আর ঠিক এই কারণেই তারা অধিকতর সংবেদনশীল ছিল লোকায়ত দর্শনের মতো বস্তুবাদী দার্শনিক চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্বকারী মতবাদগুলোর প্রতি। দুর্ভাগ্যবশত সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। বৌদ্ধধর্মের উত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাসযোগ্যভাবে এই অনুমান করতে পারি যে, যদিও বৌদ্ধধর্মের কোনও কোনও শিক্ষা – যেমন, কর্মফল ও আত্মার পুনর্জন্মের ধারণা – ব্রাহ্মণ্যধর্মের কিছু দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে, তবুও ‘বর্ণাশ্রম’ ব্যবস্থার আমূল প্রত্যাখ্যান সম্ভবত ছিল একটি প্রত্যক্ষ সংঘাতেরই অংশ। সংঘাতের এক পক্ষে ছিল আদিবাসী এবং শূদ্র ও অতি-শূদ্র সম্প্রদায়, আর অপর পক্ষে ছিল ব্রাহ্মণ্যধর্মের ক্ষীয়মাণ আধিপত্য, যা সেই সময়ে এক ‘ব্যক্তি-কেন্দ্রিক ও কর-সংগ্রাহক রাজতন্ত্রের’ জন্য অপরিহার্য ‘শ্রম-বিভাজন’ ব্যবস্থাকে বৈধতা প্রদান করত। বৈচিত্র্যকে এতখানি গুরুত্ব দেওয়া সভ্যতার সংহতির মূলে ঠিক কী থাকতে পারে, এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, আধিপত্যবাদী নয় ক্ষমতার এমন রূপগুলোকে স্থান করে দেওয়ার এক বিশেষ ধরনের সদিচ্ছার উৎস সম্ভবত নিহিত রয়েছে এই আমূল ভিন্নমতাবলম্বীদের ভূমিকায় – অর্থাৎ প্রতিরোধের সেই অবিচল ধারাবাহিকতা ও বহুবিধ রূপ আর সেইসব বিভিন্ন শ্রেণির শূদ্র ও অতিশূদ্রদের ইচ্ছা ও কর্মের মধ্যে, যারা নিজেদেরই শ্রমের বিনিময়ে রচিত হওয়া ইতিহাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বা বেরিয়ে যেতে স্রেফ অস্বীকার করেছিল।
আধ্যাত্মিক ও লৌকিক, উভয় ক্ষেত্রেই সংস্কৃত ধ্রুপদী সাহিত্যের অসামান্য সাফল্য ও প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক ব্যাপ্তি সম্পর্কে এ কথা বলা যায় যে, নারী ও শূদ্রদের জন্য বেদ — এবং ফলস্বরূপ সংস্কৃত — অধ্যয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সংস্কৃত ভাষাটি কারওরই মাতৃভাষা ছিল না। কেবল প্রভাবশালী জাতিগোষ্ঠীগুলোর কাছেই ‘পিতৃভাষা’ হিসেবে গণ্য হত। এমনকি সংস্কৃত ঐতিহ্যের গণ্ডির ভেতরেও নারী ও শূদ্ররা প্রাকৃত ভাষাতেই কথা বলত। এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভক্তি-সুফি-সন্ত ঐতিহ্যের উত্থান ও তার মহিমান্বিত ইতিহাস। এর সূচনা ষষ্ঠ শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে তামিলনাড়ুতে এবং তার প্রায় এক সহস্রাব্দ পরে উত্তর ভারতের উচ্চাঞ্চলে এসে পূর্ণতা লাভ করে। ভারতের বিশাল অংশ জুড়ে এই ঐতিহ্যটি মূলত বিভিন্ন মাতৃভাষার উত্থান ও সংহতকরণের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। ফলস্বরূপ, এই মাতৃভাষাগুলো উচ্চবর্ণের ‘পিতৃভাষা’-কে প্রতিস্থাপিত করে ভাব ও অনুভূতি এবং গান ও বিশ্বাসের বৈধ বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাতৃভাষাগুলো সেই ‘পিতৃভাষা’ থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করেছিল যা তাদের কাছে উপযোগী মনে হয়েছিল এবং সেটুকুকেই তারা প্রচলিত রীতির বাইরে কিংবা নিষিদ্ধ এমন সব উপাদানের সাথে একীভূত করেছিল। এই মাতৃভাষাগুলোই আবার ছিল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জাতিগোষ্ঠীর সর্বজনীন ভাষা, তাই এগুলি ছিল বিচিত্র সব অবদমিত জ্ঞান ও বিশ্বাস-ব্যবস্থার আধার। অনুমোদিত শাস্ত্রগ্রন্থের চেয়ে এগুলি ছিল মৌখিক বা কথ্য ভাষার অনেক বেশি কাছাকাছি, এবং একইভাবে আদিবাসী অতীত, পশুপালক সমাজ, কারুশিল্পীদের সংঘ, নারীর অভিজ্ঞতা এবং এমনকি বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের মতো মহান প্রতিবাদী মতবাদগুলোর আদি রূপেরও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।
এমনটা বলা যাবে না যে, এই অত্যন্ত জটিল ভক্তি-সুফি-সন্ত ঐতিহ্যের প্রতিটি ধারাই প্রভাবশালী ব্রাহ্মণবাদী ব্যবস্থার প্রতি সমভাবে বিরোধী কিংবা বিদ্রোহী ছিল অথবা শেষ পর্যন্ত তেমনই রয়ে গিয়েছিল। বরং এদের অনেকেই ছিল পারলৌকিক বৈরাগ্য এমনকি রক্ষণশীলতার প্রতি ঝুঁকে পড়া; আবার কেউ কেউ সেই প্রভাবশালী ব্যবস্থার পুরাকথা ও উপদেশের সাথে বেশ ভালোভাবেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল। তবে এর কিছু কিছু দিক স্থায়ী রূপ ধারণ করেছিল। ‘পিতৃভাষা’ থেকে ‘মাতৃভাষা’র দিকে পরিবর্তন ছিল অপরিবর্তনীয়; বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার প্রতি অনমনীয় বিদ্বেষও স্থায়ী হয়ে উঠেছিল। ‘উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ বিপরীতে, হিন্দুধর্মের অভ্যন্তর থেকেই উদ্ভূত জাতিভেদ-বিরোধী ভক্তিমূলক ঈশ্বরবাদের ঐতিহ্যগুলো মিল খুঁজে পাচ্ছিল ইসলামের নির্দিষ্ট কিছু ভিন্নমতের ধারার মধ্যে। অদ্বৈতবাদ ‘ওয়াহদাত-উল-উজুদ’ (সত্তার/ অস্তিত্বের ঐক্য)-এর সাথে বেশ ভালোভাবেই সাযুজ্যপূর্ণ। এবং শরিয়তের প্রতি সুফিদের যে অনীহা, তা ব্রাহ্মণ্যবাদ-বিরোধী ‘সন্ত’দের কাছে বেশ পরিচিত বলেই মনে হয়েছিল। আর এভাবেই সেই পারস্পরিক সংযোগের ফলে ঐতিহাসিকভাবে অভিনব এক ধরনের সমন্বয়বাদের জন্ম হয়েছিল। সংস্কৃত ভাষা সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ড জুড়ে সাহিত্য, দর্শন কিংবা প্রামাণ্য ধর্মীয় শাস্ত্র — সর্বত্রই একটি একক ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা লাভ করেছিল। এর বিপরীতে, ভক্তি-সুফি ঐতিহ্যের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য ছিল বহুবিধ ভাষার সংরক্ষণ; এই ঐতিহ্যে কোনও মতাদর্শগত ঐক্য প্রতিষ্ঠার, বিধিবদ্ধ আচরণবিধি মানার কিংবা অন্য সব ভাষার ওপর কোনও নির্দিষ্ট ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়াস ছিল না। এই ঐতিহ্যটি গড়েই উঠেছিল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আধিপত্যের একটি বেশ সুসংহত ব্যবস্থার বিরোধিতার মধ্য দিয়ে। আর তাই এটি কোনও মতাদর্শগত ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি, বরং বিভিন্ন ভাষার সীমানা পেরিয়ে অর্জন করেছিল এক ব্যাপক ও অভিন্ন সংস্কৃতি — এক অভিন্ন বোধ ও সংবেদনশীলতা, গান ও নৃত্য, বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান। এই ঐতিহ্যটি যখন বিভিন্ন ভাষার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল এবং সেই ভাষাগুলোকে সংহত করতে সহায়তা করল, তখন এই ভাষাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলোও — কোনও অভিন্ন ভাষা কিংবা অভিন্ন মতবাদ না থাকা সত্ত্বেও — একটি অভিন্ন প্রকাশভঙ্গি এবং পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি ব্যবস্থা অর্জন করল। এই অর্থেই, ভক্তি-সুফি ঐতিহ্য একটি বিশেষ বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতি নির্মাণে এক বিশাল ও সমগ্র-ভারতব্যাপী ভূমিকা পালন করেছে। লেটা এমন এক সংস্কৃতি যাকে এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ধর্মের একচেটিয়া বিষয় বলা যাবে না। বরং ভারতীয় হিসেবেই অভিহিত করা চলে।
জাতিভেদপ্রথার নিষ্ঠুরতা ও কঠোরতা সত্ত্বেও, ভারতের বৈচিত্র্য হিসেবে আমরা যা বুঝি, তা মূলত নিপীড়িত স্তরের মানুষের মধ্যে ভিন্নমতের স্থায়িত্ব, প্রভাবশালী উচ্চবর্ণের সংস্কৃতির কোনও বৈশিষ্ট্য নয়। ব্রাহ্মণ্যবাদ ব্যর্থ হয়েছিল তার আধিপত্য বিস্তার করার কাজে কিংবা নিজেদেরকে একটি ‘সর্বজনীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে’ সফলভাবে রূপান্তরিত করতে পারার ক্ষেত্রে।
ভাষান্তর: শ্যামাশীষ ঘোষ
(এনবিএ প্রকাশিত ভারত ও ভারততত্ত্ব – অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ, সুকুমারী ভট্টাচার্য সম্মাননা গ্রন্থ থেকে নেওয়া। বইটির প্রকাশকাল ২০০৪ সাল)
প্রকাশের তারিখ: ২৫-মে-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
