সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সংস্কৃতি
আমাদের ফেব্রুয়ারি
ইমতিয়ার শামীম
দিবসেরও একটি উৎসবমুখর অর্থনৈতিক চরিত্র থাকে, তাকে উপেক্ষা করা সোজা নয়। বসন্ত মেলা, বৈশাখী মেলা কিংবা গ্রামীণ মেলাগুলো যেমন সংস্কৃতির প্রকাশ, তেমনি উৎসব আর অর্থনৈতিকতারও প্রকাশ। তবে সব মিলিয়ে এইসব প্রকাশ কিন্তু সমাজের বহু স্বরের মানুষের মধ্যে ঐকতান গড়ে তোলে। আমার মূল বক্তব্য সেখানে নয়। আমি বলতে চাইছি, সংস্কৃতি চর্চারই হোক আর মুক্তির সংগ্রামেরই হোক, ইতিহাসের নিরিখে বিভিন্ন সময় সেসবের আবার নানা পাঠ তৈরি হতে থাকে। অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেও এমন পাঠ বা টেক্সট নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এই পাঠগুলো কখনো কখনো আক্রমণাত্মক ও মুখোমুখি হয়ে ওঠে। আমরা বোধকরি এখন তেমন এক পর্বে রয়েছি।
...moreইমতিয়ার শামীম
দিবসেরও একটি উৎসবমুখর অর্থনৈতিক চরিত্র থাকে, তাকে উপেক্ষা করা সোজা নয়। বসন্ত মেলা, বৈশাখী মেলা কিংবা গ্রামীণ মেলাগুলো যেমন সংস্কৃতির প্রকাশ, তেমনি উৎসব আর অর্থনৈতিকতারও প্রকাশ। তবে সব মিলিয়ে এইসব প্রকাশ কিন্তু সমাজের বহু স্বরের মানুষের মধ্যে ঐকতান গড়ে তোলে। আমার মূল বক্তব্য সেখানে নয়। আমি বলতে চাইছি, সংস্কৃতি চর্চারই হোক আর মুক্তির সংগ্রামেরই হোক, ইতিহাসের নিরিখে বিভিন্ন সময় সেসবের আবার নানা পাঠ তৈরি হতে থাকে। অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেও এমন পাঠ বা টেক্সট নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এই পাঠগুলো কখনো কখনো আক্রমণাত্মক ও মুখোমুখি হয়ে ওঠে। আমরা বোধকরি এখন তেমন এক পর্বে রয়েছি।
...more২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
রুদ্রনীল চট্টোপাধ্যায়
আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকারের বর্তমান প্রকল্পে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমকে লড়িয়ে দেওয়ার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটি আদতেই দুর্বোধ্য নয়। পূর্বোক্ত রুদ্রাংশু মুখার্জির আলোচনায় ‘জন-গণ-মন’-এর লেখার প্রসঙ্গটি আলোচিত হয়েছে। যা একাধারে পঞ্চম জর্জের ভারতাগমনের প্রতি একরকম বিদ্রোহ উচ্চারণ এবং ভারতের বহুধা বিস্তৃত সত্তার, তার বৈচিত্র্য এবং তার মানুষের সার্বভৌমত্বের উদযাপন। অন্যদিকে আপাতভাবে দুর্গাবন্দনা সদৃশ ‘বন্দে মাতরম্’ গানের রচয়িতা বঙ্কিমের মানবতাবাদী ধর্মভাবনা এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অর্থনৈতিক সমালোচনা তার বিভিন্ন প্রবন্ধে বিদ্যমান। এক কথায় এহেন বঙ্কিম বনাম রবীন্দ্রনাথ তথা হিন্দুত্ব বনাম উদারনীতির প্রকল্পটি অন্তঃসার ...more
২৭-জানুয়ারি-২০২৬
সুধন্ব দেশপান্ডে
ওই অভিনয়ের এবং সেই অভিনয়ে মালার ছবি সারা দেশের খবরের কাগজের প্রথম পাতায় স্থান করে নিল পরদিন। যে মাটিতে ওর নিজের কমরেড, বন্ধু ও জীবনের প্রেমের আধার নিহত হয়েছে, ওই বধ্যভূমিতে, ওই ছোট্ট একটি মুদ্রা, তাঁর সহ-অভিনেতাদের সেদিন যে পথ দেখিয়েছিল, তাতে সবাইকে ছাপিয়ে মালাই হয়ে উঠেছিল ওই আলোকদীপ্ত মুহূর্তটির প্রতীক। পরবর্তী দিনগুলিতে সারা দেশের সমস্ত ছোট বড় শহরে প্রতিবাদী সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ল। মালাকে বম্বে, কেরল, ত্রিপুরায় যেতে হল যেখানে বিশাল বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে হল ওকে। জানুয়ারির শেষে ও গেল কলকাতায়। আমরাও কয়েকদিন পর ওর সাথে সেখানে যোগ দিলাম ‘হল্লাবোল’-এর অভিনয়ের জন্যে। ...more
০১-জানুয়ারি-২০২৬
কুমার রাণা
আজ যখন উন্নয়নের নামে বন উজাড় হচ্ছে, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে— তখন বিরসার কণ্ঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয়: “যে-সমাজ প্রকৃতিকে ভুলে যায়, সে-সমাজ নিজেকে ধ্বংস করে।” এখানে কোথাও আমরা শুনতে পাই— যাঁর রচনার সঙ্গে বিরসার পরিচয় না-থাকা— কার্ল মার্কসের কথার প্রতিধ্বনি: কেউই এ-পৃথিবীর মালিক নয়, আমরা অছি মাত্র। তাই বিরসাকে ‘প্রতীক’ বানিয়ে, পুঁজির নেতৃত্বে এবং আগ্রাসনে তাঁর ভাবনাকে অকার্যকর করার যে-দুষ্কর্ম চলছে তাকে উদ্ঘাটিত ও প্রতিহত করাটা আজকের সুস্থ রাজনীতির অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। ...more
১৫-নভেম্বর-২০২৫
সায়ন্তন সেন
শেষ পর্যন্ত নেল্লির প্রতিরোধ ভাঙে, ভেঙে কান্নায় ফেটে পড়ে। বছর তেরো বয়সের পুঁচকে মেয়েটা মানুষের মনের একটা গোপন সুড়ঙ্গ আমাদের চিনিয়ে দেয়: মানুষ যখন নিজের বুকের ক্ষতগুলো কাউকে দেখাতে পারে না, তখন অন্যকে কষ্ট দিয়ে, অপমান করে, সকলের সাথে অসহযোগ করে সেই যন্ত্রণার উপশম খোঁজে। হয়তো হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে চায়, যতক্ষণ অবরোধ— ততক্ষণ যুদ্ধ করে। ঐ একই কারণে ‘নোটস্ ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড'-এর নায়ক অমন খিটখিটে, মনে-মনে সবাইকে অপমান করে, তারপর ক্ষমা ক’রে সুখ পায়। অপমান করে যে-মেয়েটিকে সে ভালোবেসে ফেলেছে তাকেও, তারপর দুঃখে হাহাকার করে। ...more
১১-নভেম্বর-২০২৫
আদুর গোপালকৃষ্ণন
আমরা যারা সত্যজিৎ ও ঋত্বিককে পরস্পর প্রতিপক্ষ ভাবতাম, এটা তাদের কাছে ছিল একটি অজানা সত্যের আবিষ্কার। কণামাত্র সত্যতা তো দূরঅস্ত, প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ছিলেন পরস্পরের গভীর গুণগ্রাহী। এই তথ্যটি গোপনই রয়ে গিয়েছে যে, ঋত্বিককে পুণে ইনস্টিটিউটে নিয়োগের জন্য সত্যজিৎই মূলত তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সুপারিশ করেছিলেন।
...more০৪-নভেম্বর-২০২৫
বাসব দাশগুপ্ত
দেশটা যে দু’ টুকরো হল, তা ঋত্বিকের গোটা অস্তিত্ব ধরে টান মেরেছিল; তাঁকে নিক্ষেপ করেছিল। নিরতীত নিরালম্বে। এ কথা ঠিক আধুনিক ভারতের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি দেশের সাম্রাজ্যবাদী বিভাজন। আমরা সাদা চোখে দেখি তার অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ফলাফল। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ তার বহু পুরুষের স্বদেশ থেকে উৎখাত হয়ে গেল, সেই মনস্তাত্ত্বিক সংকট বোঝবার চেষ্টা করি না। অথচ এ ব্যাপারটাই ঋত্বিকের হৃদয়ে সব চেয়ে বড় বেজেছিল। তিনি নিজে পূর্ববঙ্গের বলে তার দাহ একটা চিরস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। ...more
০৪-নভেম্বর-২০২৫
রণেশ দাশগুপ্ত
ঋত্বিক ঘটকের ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো' মাতৃতান্ত্রিকতার বিপ্লবী দলিল। এই চলচ্চিত্রের কাজটি বিশেষভাবে পরীক্ষণীয় এ কারণে যে এর মধ্যে ঋত্বিক ও বিজন একত্রিত রয়েছেন। এঁরা দুজনের প্রত্যেকেই রূপসৃষ্টির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রতিভূ হওয়া সত্ত্বেও একটি কাজের অঙ্গনে হাতে-হাত রেখে দাঁড়িয়েছেন। ...more
০৩-নভেম্বর-২০২৫
বিজন ভট্টাচার্য
বুঝতাম জীবনটা যাপন করার ব্যাপারেই একটা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। চিরায়ত সংকট। তবু যে যখন এই সংকটে পড়ে তার কাছে তখন এটা মহাসংকট। সংকট উভয়ত। প্রাণেরও, প্রাণীরও। তারপরই কলকাতার পথে-প্রান্তরে দেখি এক নচিকেতার বিশৃঙ্খল অবিসংবাদী পদযাত্রা। অমৃতের সন্ধানে চূড়ান্ত আত্মপীড়ন। এবং সেই হনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজেকে বস্তুর এলিমেন্টাল অধিষ্ঠানে ফিরে পাওয়া। যুগসন্ধির এই সংক্রান্তি তিথিতে এই কাপালিকব্রতও মিথ্যার সত্য। ঈপ্সিত যখন সোনার পাথুরে বাটি, তখন সবটাই অংকের হিশেবে আসতে বাধ্য। কালের হিশেবে সবটাই ঘটনা। ...more
০২-নভেম্বর-২০২৫
তর্পণ সরকার
দেশ-কাল-সমাজ-মানুষ এবং তাদের যন্ত্রণা-হাহাকার, বাস্তব মাটির কথা কমিক্স শিল্পে নিয়ে আসায় জো স্যাকো’র ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং একই সাথে তিনি হয়ে উঠেছেন গোটা দুনিয়ার আরও বহু শিল্পীর প্রেরণা। জো স্যাকো ২০২৩ সালে প্যালেস্তাইনে ইজরায়েলের আগ্রাসন ও গণহত্যা শুরুর পরেও চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তাঁর ভঙ্গিতে। ...more
২২-অক্টোবর-২০২৫
সৃজনী গঙ্গোপাধ্যায়
গত শতাব্দীর তিন-চারের দশকে লিখছেন ইসমত, যখন পাশাপাশি ঘটছে অনেকগুলো ঘটনা, ভারতের ব্রিটিশ-রাজের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী সংগ্রাম, দেশভাগ, আমাদের এক স্বাধীন জাতিতে রূপান্তর আর প্রগতিশীল লেখক সঙ্ঘের উত্থান। এই যে সময়ে দাঁড়িয়ে ইসমত চুঘতাই লেখালেখি করছেন, তখন, আহ্লাদের কথা যে লেখালেখি ছিল লড়াইয়ের একটা অস্ত্র। লড়াই বলতে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অসংখ্য বিধি নিষেধ ও ধর্মের বেড়াজালের গন্ডির বাইরে পা না ফেলার আদেশের বিরুদ্ধে লড়াই। ইসমত যাকে বারেবারে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ...more
২২-আগস্ট-২০২৫
ছন্দম চক্রবর্তী
সেই সময়টা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থির ও রক্তাক্ত এক পর্ব। বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাতে শেষমেশ প্রাণান্তকর হয়ে ওঠে উপনিবেশের শাসন। মন্বন্তর ও উপর্যুপুরি দাঙ্গায় সাধারণ মানুষের তখন বেঁচে থাকাই দায়। কলকাতার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে-ওঠা সুকান্তের জীবনও এই আর্থ-সামাজিক অনিশ্চয়তায় অস্থির। অথচ তার সামনে রয়েছে এক নবীন রাজনৈতিক আদর্শ, যা শুধু ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের কথাই বলে না, শ্রেণি-শোষণ থেকে মুক্তিরও স্বপ্ন দেখায়। ...more
১৬-আগস্ট-২০২৫
পবিত্র সরকার
সুকান্তর পরিণত জীবন ভারতের রাজনৈতিক স্বাধীনতার আন্দোলনের একটি সন্ধিক্ষণে সচেতন ও সক্রিয় ছিল। তাই তাঁর কবিতা ও গান দেশপ্রেমের আধারে গরিব মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বেশি করে বলেছে। এটা তো আমাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা যে, কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের মুক্তি আর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন হলেও তা সেসব সুনিশ্চিত করে না ; দেশী লোকের তৈরি কোন্ ধরনের সরকার আমরা পাচ্ছি, তার উপর নির্ভর করে। তাই স্বাধীনতার প্রায় আশি বছর পরেও ভারতে দারিদ্র, অশিক্ষা দূর হয়নি, মানুষের কাজের অধিকার সুনিশ্চিত হয়নি। ...more
১৬-আগস্ট-২০২৫
সিদ্ধেশ্বর সেন
কিন্তু, সুকান্ত আমার 'অরণি'র লেখার উপরে জোর দিল। তাতেই। সে সময় আরও দু'একজন কবির কথা আমার মনে পড়ে, যাদের আমরা আলোচনায় পেতাম । এঁদের একজন হলেন কবি জগন্নাথ চক্রবর্তী আর একজন কবি নরেশ গুহ। 'কবিতা'-গোষ্ঠীর সঙ্গে এঁর যোগ ছিল। আর একজনের কথা এ প্রসঙ্গে না বললেই নয়। ইনি শিল্পী দেবব্রত মুখোপাধ্যায় । সুকান্ত বা আমাদের সঙ্গে তাঁর বয়সের ফারাক ছিল বেশ। তবু, তাঁর সঙ্গে সুকান্তর সম্পর্কটা ছিল যেন বয়সের। ...more
১৫-আগস্ট-২০২৫
গোলাম কুদ্দুস
১৯৪২ সালের আন্দোলন এলো । তখন সুকান্ত দেশবন্ধু স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য স্কুলের কর্তৃপক্ষ তার উপর মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। সে স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে গিয়ে সুকান্ত ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিলো। কিন্তু সুকান্ত অঙ্কে ফেল করলো । ইতিমধ্যে ঘনিয়ে এসেছে বাঙালীর চরমতম দুর্দিন, অর্থাৎ ১৯৪৩ সালে মহা দুর্ভিক্ষ শুরু হলো। তার বহু আগেই সুকান্তর কবিতা লেখা শুরু হয়ে গেছে। কলকাতার কঠিন রাজপথে দুর্ভিক্ষগ্রস্ত কৃষক তখন মরছে হাজারে-হাজারে। ...more
১৪-আগস্ট-২০২৫
সৈকত ব্যানার্জী
যা 'সভ্যতা' শব্দের যাবতীয় খুশবু আর পরিপাটি সাজগোজকে এক ঝটকায় মুছে দিয়ে হিংস্র গা ঘিনঘিনে চেহারাটাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোটাটাই ছিল এক বিরাট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জুড়ে ভারতে যা বেড়েছিল তা উৎপাদন নয়, মুনাফা। যা এসেছিল ফাটকাবাজি, শেয়ার কেনা-বেচা আর কালোবাজারির মাধ্যমে। ১৯৪৩ সালে খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে মুনাফাবাজিই বাংলায় ডেকে এনেছিল ভয়াবহ আকাল। খাদ্য শস্যের ঘাটতি আর ক্রমশ দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সময় ভারতে এসে ঢোকে মিত্রপক্ষের বিপুল সৈন্য। ...more
১৪-আগস্ট-২০২৫
বিষ্ণু দে
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়কে জানালুম সুকান্তের অসুখের কথা, অর্থাভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না শুনে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় মর্মাহত হয়ে টাকা তোলার কথা বললেন। যামিনী রায় মহাশয় বললেন ডাক্তার রাম অধিকারীকে তিনি নিয়ে যাবেন, তিনি দিলেন টাকা এবং তাঁর ছেলে অমিয় নিঃশব্দে এনে দিলে এক টিন ওভালটিন। ...more
১৩-আগস্ট-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
ধরুন গিয়ে হিন্দু-মুসলমান দু-তরফই আচারকে আচার বলে। মানে ওই খাবার জিনিসটার কথা বলছি, আচার-আচরণের ব্যাপারটা নয়। ঐটে কিন্তু ফারসি শব্দ একখান। কোত্থেকে যে সুট করে সে ঢুকে পড়েছে বাংলায় জানেন আল্লাপাক আর বিধাতাপুরুষ। কৃষ্ণদাস কবিরাজের মহাগ্রন্থ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত–এ আছে, ‘নেবু-কোলি আদি নানাপ্রকার আচার’। কিন্তু বাংলায় ঢুকে যখন পড়েছে এবং চোখে যখন এবার ফেলেই দিলাম আপনার, তাহলে তো দুটিই মাত্র সম্ভাবনা পড়ে থাকে এরপর। এক, এখন থেকে আচার খেতে গেলেই আপনি বিষম খাবেন, বিদেশি ফার্সি খাবার ছোঁয়া লেগে গেল ভেবে সংকুচিত হবেন। ...more
১৩-আগস্ট-২০২৫
সরযু দেবী
তখন সে পা-জামা-ই পরতো বেশির ভাগ সময়ে। বললাম, অতো তাড়া কিসের– কোথায় যাবি? –পার্টির একটা কনফারেন্স আছে, কলকাতার বাইরে যেতে হবে। সুকান্ত জবাব দিলো। আমি বললাম, কিন্তু দুটো পা-জামা তো এই সময়ের মধ্যে হয়ে উঠবে না। তুই একটা নিয়ে যা না হয়– সুকান্ত বললে, সে আমি জানি না, এই কাপড় রইলো। বিকেলের মধ্যে দুটো পা-জামা-ই চাই।...ওই সময় সুকান্ত পার্টির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতো। শুধু কলকাতায় নয়, পার্টির কাজে কলকাতার বাইরেও যেতো সে। তাছাড়া ছোটদের সংগঠন ‘কিশোর বাহিনী’, ‘স্বাধীনতা’ কাগজের ছোটদের বিভাগ ‘কিশোর সভা’ পরিচালনা করতো। ...more
১২-আগস্ট-২০২৫
দেবরাজ দেবনাথ
জানবার সুযোগ পাচ্ছে, “মজুরেরা দ্রুত খেটেই চলেছে—/ খেটে খেটে হল হন্যে;/ ধনদৌলত বাড়িয়ে তুলছে/ মোটা প্রভুটির জন্যে।” স্পষ্ট হৃদয়গ্রাহী ভাষায় শ্রেণির কথা, শ্রেণির শোষণের কথা সুকান্ত বলছেন। শুধু তাই নয়, “সব চেয়ে ভাল খেতে গরীবের রক্ত॥” কিম্বা “বড়লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়॥” জাতীয় অসংখ্য লাইন সুকান্তের সাফ রাজনৈতিক বোধের প্রতিফলক। ...more
১০-আগস্ট-২০২৫
অমিতাভ দাশগুপ্ত
১৯৪৯ সালে বে-আইনি কমিউনিস্ট পার্টির নিষিদ্ধ ইশতেহার বিলি করতে গিয়ে, খাদ্য আন্দোলনের শহীদের ভেজা শব্দ নিয়ে মিছিলে হেঁটে ব্যর্থ ক্ষোভে উদাসীন কলকাতার পাথর-বাঁধানো পথে মুখ থুবড়ে ফেটে যেত যে জ্বালা। সেই আগুনের দিনগুলিতে রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে পলাতক। পথে-গঞ্জে ক্রোধে-বিপ্লবে শামিল ছিলেন সুকান্ত। তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে রক্তে-মাংসে জড়িয়ে যেন আমাদের তাজা প্রাণের অমোঘ বিশ্বাস ...more
০৯-আগস্ট-২০২৫
বুদ্ধদেব বসু
তার কবিতা প'ড়ে মোটের উপর এ-কথাই মনে হয় যে তার কিশোর-হৃদয়ের স্বাভাবিক উন্মুখতার সঙ্গে পদে-পদে দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়েছে একটি কঠিন, সংকীর্ণ তথাকথিত বৈজ্ঞানিক মতবাদ। কবিতাগুলি যেন সেই মতবাদের চিত্রণ মাত্র; জোর গলায় চেঁচিয়ে বলা, কবিতা না-হ'য়ে খবরকাগজের প্যারাগ্রাফ হ'লেই যেন মানাতো। ‘পদাতিক' লেখবার সময় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের যে-স্বাধীনতা ছিলো, যার জন্য একই মতবাদ সম্বন্ধে মুগ্ধতা সত্ত্বেও ঐ ক্ষীণ বইখানার কাব্যের মর্যাদা পাওয়া সম্ভব হয়েছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যে সে-স্বাধীনতার কিছুই তো বর্তালো না। ...more
০৮-আগস্ট-২০২৫
আবুল হাসনাত
আর একটি মজার ব্যপার। মুসলমান যখন ‘হিন্দু হোটেলে’ বা রেস্তোরাঁয়, বাজার-দোকানে বা ‘হিন্দু-পরিবেশে’ কথাবার্তা বলেন, তখন ‘পানি’ না-বলে ‘জল’-ই বলেন; কিন্তু মুসলমানের সঙ্গে বা মুসলমানি পরিবেশে কথা বলার সময় বলেন ‘পানি’। অপরদিকে হিন্দুরা সাধারণত সর্বক্ষেত্রেই ‘জল’ বলেন, ‘পানি’ ব্যবহার করেন না,— বাংলার বাইরে গেলে অবশ্য অন্য কথা। এর থেকে আর একটি দুঃখজনক দূরত্বের প্রতি আমাদের দৃষ্টি যায়। দেশের মধ্যে অসংখ্য হিন্দু হোটেল এবং মুসলিম হোটেল অহরহ হিন্দু-মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে চলেছে, যার ভূমিকা জল ও পানির মতোই। ...more
০৭-আগস্ট-২০২৫
সৌম্যজিৎ রজক
ক্যালেণ্ডারের পাতার থেকেও দ্রুততায় প্রেক্ষাপট পালটে পালটে গেছে বাংলায়। ৪১-এর বোমাতঙ্কের দিন পেরিয়ে ৪২-এ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে শহর। '৪৩-'৪৪ সালের মেজাজ আবার ভিন্নতর। মজুতদারি, ব্ল্যাকমার্কেটিং, মড়ক, আকাল। খিদের জ্বালায় আকাতরে মানুষ মরল লাখো। সুকান্ত ততদিনে কমিউনিস্ট পার্টিতে। মন্বন্তরের দিনগুলিতে কমিউনিস্ট কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন রিলিফের কাজে। ...more
০৬-আগস্ট-২০২৫
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
গদ্য-সাহিত্যের অগ্রগতির সঙ্গে পিছিয়ে পড়া কাব্য-সাহিত্যের মন্থরগতি মিলিয়ে দেখলে, আন্তরিক পরীক্ষা গবেষণাদির সীমার বহু বিচিত্র সৃষ্টির মধ্যে মৌলিক কবিতার দৈন্য বিচার করলে আমরা এক শোচনীয় সিদ্ধান্তে আসি, কিশোর কবি সুকান্তের অকালমৃত্যু যার মর্মান্তিক বাস্তব পরিচয়। কাব্য-সাহিত্যে নতুন যুগকে প্রাণ দিতে আজ কবির যে অভিজ্ঞতা ও সাধনা দরকার তার পুরস্কার মৃত্যু, সুকান্ত এই ভয়ানক সত্য ও কাব্য-সাহিত্যের চরম সাফল্যকে, আমাদের সমস্যাকে স্পষ্ট করে দিয়ে গেছে। ...more
০৪-আগস্ট-২০২৫
দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
মেডিকেল হস্টেলের প্রাঙ্গণে মুখ থুবড়ে দু-হাতে মাটি আঁকড়ে ধরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল বরকত সালাম, আরও কতজন। পুলিসের সতর্ক প্রহরা এড়িয়ে রাতারাতি সেইখানে মাথা তুলল শহীদের স্তম্ভ। আবার দিনের আলোয় সেই পবিত্র স্মৃতি-মন্দির সৈন্যদের বুটের লাথিতে মাটিতে মিশে গেল। ...more
০৩-আগস্ট-২০২৫
অবন্তীকুমার সান্যাল
কিন্তু সুকান্তর কলমেই সর্বপ্রথম খাটি স্লোগান খাঁটি কবিতা হয়ে উঠেছিল। একমাত্র সুকান্তর কবিতা থেকে এমন প্রচুর স্লোগান জড়ো করা যায় যা দিয়ে একটা পুরো মিছিলকে সাজানো চলে, আর সে-স্লোগানগুলির বেশির ভাগ অব্যর্থ বলেই কবিতা অথবা কবিতা বলেই অব্যর্থ। স্লোগান লিখতে গিয়েই সুকান্ত লিখেছে এমন আশ্চর্য লাইনটি ...more
০২-আগস্ট-২০২৫
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সুকান্তর সাহিত্যিক গুণগুলোকে আন্দোলনের কাজে লাগানোর ব্যাপারে অন্নদারও যথেষ্ট হাত ছিল। সুকান্তর আগের যুগের লোক ব'লে আমি পার্টিতে এসেছিলাম কবিতা ছেড়ে দিয়ে ; আর সুকান্ত এসেছিল কবিতা নিয়ে। ফলে, কবিতাকে সে সহজেই রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে পেরেছিল। তার ব্যক্তিত্বে কোনো দ্বিধা ছিল না। ...more
০১-আগস্ট-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
কারণ সেখানে কিছু বিপজ্জনক শব্দ ও শব্দবন্ধ রয়েছে। কী শব্দ? ‘শ্রেণি-সংগ্রাম’, ‘পথে নামুন’ ইত্যাদি আর রয়েছে নয়া-উদারবাদের সমালোচনা করে কিছু কথা। আরও আশ্চর্য, এই ভিডিওটির শিরোনাম ছিল রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার নামে – ‘ওরা কাজ করে’। আমরা নিশ্চিত বেঁচে থাকলে এই বিধি-নিষেধ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়াই জানাতেন বুদ্ধদেব বসু— ব্যক্তি-স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে রেখে সমালোচনায় বিদ্ধ করতেন সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপকে। সুকান্তের কবিতা বিষয়ে বুদ্ধদেব বসু অভিমতের সাথে নয়া-উদারবাদী সোশ্যাল মিডিয়ার নিদানের যোগসূত্র রচনা আমরা করতে চাইছি না, বরং বিনীতভাবে বলতে চাইছি খবর-কাগজে, কবিতায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লেখা-বলা সহি নাগরিকের কর্তব্য তা ঠিক করে দেওয়াটাও এক অর্থে কোনও মতবাদের দাসত্ব-ই। ...more
৩১-জুলাই-২০২৫
রজত বন্দ্যোপাধ্যায়
তবু, সলিলের কবিতা আমাদের ভালো লাগে কেন? কারণ, তাঁর কবিতার সহজ চলন আমাদের আকর্ষণ করে। কঠিন বাস্তব যেমন তাঁর কবিতায় ধরা পড়ে ঠিক তেমনই-তাঁর হতাশা, ব্যর্থতা, প্রেম, যন্ত্রণা তারও প্রতিফলন আমরা সেখানে দেখতে পাই। মনে পড়ে যায় পাবলো নেরুদা-র কথা, ‘যে কবি বাস্তববাদী নন তিনি মৃত। আর যে কবি শুধুই বাস্তববাদী, তিনিও ততোধিক মৃত।’ বোধহয় সেইজন্যই সলিল চৌধুরীর কবিতা সময়কে অতিক্রম করে আজও আমাদের আলোড়িত করে। ...more
২৮-জুন-২০২৫
আবুল হাসনাত
রুমির কর্মচঞ্চল, পৌরুষপূর্ণ ‘আমি’-র সঙ্গে নজরুল শোষণ-বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আধুনিক মনকে যুক্ত করেছেন। এইখানেই ‘বিদ্রোহী’-র বিশেষত্ব। আবার সাম্যবাদীর বিখ্যাত চরণ “এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই” (তুলনীয় রুমির: “আজ হাজারাঁ কা’বা ইয়াক দিল বেহতর আস্ত”) এবং এই সুরের আরো সব চরণ ওমর খৈয়াম এবং রুমির কাব্য থেকেই নজরুল গ্রহণ করেছেন। আর এঁদের কাছ থেকেই তিনি তথাকথিত শাস্ত্রের বিরোধিতার ভাবটিও গ্রহণ করেছেন। অনেকেই রুমির বিখ্যাত কথা স্মরণ করতে পারেন, আমি কোরান থেকে মজ্জা গ্রহণ করেছি আর এর অস্থিগুলি চতুষ্পদ জন্তুর দিকে ছুঁড়ে দিয়েছি। আর আচার-সর্বস্বতার প্রতি হাফেজের বিদ্রোহ তো প্রবাদবাক্যের মতো। ...more
২৬-মে-২০২৫
নিরুপমা রাও
কবি এমন এমন একটি এশীয় চেতনার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে সকলে নানা ধরনের চিন্তা প্রবাহ ও বাণিজ্যিক আদান প্রদানের মধ্যেও এক অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের ভিত্তিতে শান্তিতে সহাবস্থান করছে। এখানেই একুশ শতকে কবির প্রাসঙ্গিকতা।
...more০৯-মে-২০২৫
টিম মার্কসবাদী পথ
এমন একটি কৃষিকেন্দ্রিক অসাম্প্রদায়িক উৎসবকে ধর্মের রঙে রাঙিয়ে দিতে গত ১৪ এপ্রিল রঙালি বিহুর দিনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে একটি বার্তায় গরুবিহু উদযাপনের সাথে গোমাতার পূজনকে জুড়ে দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গরুর পবিত্রতা সম্পর্কিত প্রচলিত হিন্দু বয়ানের সাথে উত্তরপূর্ব ভারতের স্থানীয় সমাজের কোনো সম্পর্ক নেই। রঙালি বিহু বা বহাগ (বৈশাখ) বিহু উদযাপিত হয় বিচিত্রভাবে। নানা ধরনের উদযাপনের মাধ্যমে একমাস ধরে চলে এই বিহু। বিহুর প্রথম দিনকে বলা হয় গরুবিহু। অসমীয়া ভাষায় গরু বলতে ইংরেজি কাও বোঝায় না। ইংরেজি কাও-এর অসমীয়া প্রকৃত প্রতিশব্দ গাই। গরু শব্দের অর্থ যে কোনো চতুষ্পদ গবাদি পশু। গরু শব্দ দিয়ে বুদ্ধিহীন, বোকাও বোঝায়। ...more
০২-মে-২০২৫
সায়ন্তন সেন
চার্লি যে হাসায়, সেটা বড় কথা না। বড় কথা হল, সেই হাসির ফাঁকে-ফাঁকে, কোথায়— অতর্কিতে— লুকিয়ে থাকে রুদ্ধ অশ্রুধারা। কান্নাধারার দোলা... কেউ জানে না, কেউ আগে থেকে বুঝতেই পারে না, কখন সে গলায় এসে ধাক্কা দেবে। অথচ সেটাই হয়। ...more
১৬-এপ্রিল-২০২৫
শান্তনু দে
আমরা গুজরাট দেখেছি, উত্তর প্রদেশ দেখেছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বাতাবরণ সাম্প্রতিক অতীতে কখনও দেখিনি। নিজের চেনা জায়গা এখন নিজেরই কেমন অচেনা লাগে। পরিচিত মানুষকেও মনে হয় অপরিচিত। এমন তো দেড়দশক আগেও ছিল না। ভোট আসবে-যাবে। কিন্তু যে দেওয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাকে ভাঙবে কে! যত দিন বামপন্থীরা ছিলেন, তত দিন বিজেপি ছিল একেবারে প্রান্তিক শক্তি। মাথা তুলতে পারেনি উগ্র দক্ষিণপন্থীরা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভায় ছিল না একজনও বিজেপি-র বিধায়ক। বামপন্থীদের সমর্থনের হার কমে এখন সওয়া ৬ শতাংশ। বামপন্থীরা যত দুর্বল হয়েছে, তত মাথাচাড়া দিয়েছে উগ্র দক্ষিণপন্থা। ...more
১৫-এপ্রিল-২০২৫
ট্রাইকন্টিনেনটাল রিসার্চ
এটির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল নেটওয়ার্ক প্রকল্প, যা কুন্নুরে শুরু হয়েছিল জেলার আদিবাসী অঞ্চলে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রচারের উদ্দেশ্যে। প্রকল্পটি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ড. ভি. শিবদাসন, একজন সিপিআই(এম) রাজনীতিবিদ এবং ভারতের রাজ্যসভার সদস্য, এবং শীঘ্রই এটি পিপলস মিশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর (পিএমএসডি) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, যা কুন্নুর জেলা লাইব্রেরি কাউন্সিলের অধীনে একটি ট্রাস্ট, যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ী বিজয়ন এবং শিবদাসনের চেয়ারম্যান। ...more
০৪-মার্চ-২০২৫
ট্রাইকন্টিনেনটাল রিসার্চ
এই সাফল্যগুলি ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের পরপরই চীন কমিউনিস্ট পার্টি (CPC) দ্বারা বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলির ফলস্বরূপ হয়েছিল। এই উদ্যোগগুলি দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-মধ্য চীনে যথাক্রমে জিয়াংসি সোভিয়েত (১৯৩১-১৯৩৪) এবং ইয়ান’অন সোভিয়েত (১৯৩৬-১৯৪৮) এর মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর ভিত্তি করে হয়ে উঠেছিল, যা বিভিন্ন ধরনের সাক্ষরতা প্রচার উদ্যোগকে মাথায় রেখে করা হলেও গ্রামীণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাকে প্রাথমিক লক্ষ্য করেছিল। উভয়ই সোভিয়েত ইউনিয়নের সাক্ষরতা প্রচেষ্টার উপর ভিত্তি করে ছিল, যেমন সাক্ষরতা নির্মূল প্রচারণা "লিকবেজ", যা সমস্ত সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে আসে যখন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতার অভিজ্ঞতাকে সংগঠিতভাবে কার্যকর করা শুরু হয়। ...more
০৩-মার্চ-২০২৫
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
দুর্দশাটা এমনকি একুশে ফেব্রুয়ারির উদযাপনের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান। আয়োজনের অভাব নেই, কিন্তু একুশের উদযাপনে মৌলিক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, সেটা হলো মধ্যরাতে উদযাপনের সূচনাকরণ। বাঙালির উৎসব শুরু হয় সকালে, ইউরোপীয়দেরটা মধ্যরাতে। ওদের মধ্যরাত আক্রমণ করেছে আমাদের সকালবেলাকে। যা ছিল স্বাভাবিক তাকে কৃত্রিম করে দেবার আয়োজন বৈকি! সাংস্কৃতিকভাবে মধ্যরাত থার্টিফার্স্ট নাইটের ব্যাপার, পহেলা বৈশাখের নয়। থার্টিফার্স্ট নাইট আর পহেলা বৈশাখ এখন আলাদা হয়ে গেছে, ইংরেজি নববর্ষ হুমকি দিচ্ছে বাংলা নববর্ষকে; হুমকির লক্ষণ একুশের উদযাপনেও দেখা দিয়েছে। ...more
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
সৈকত ব্যানার্জী
তাহলে কীভাবে ঝাপসা হল পুরনো সব স্মৃতি? শুধুই কি সরকারের বিরুদ্ধে জায়েজ কিছু রাগ থেকেই? নাকি শ্রেণির চিহ্ন এমনকি ভাষার চিহ্নের থেকেও তাদের কাছে বড় করে তোলা হচ্ছে ধর্মীয় চিহ্নগুলোকে? জাগিয়ে তোলা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক জিগির! অধিকাংশ যুবসমাজকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে রক্তঝরানো ইতিহাস৷ তাই ফিরে-ফিরতি যাদের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা, সেই পাকিস্তানমুখী হয়ে উঠতেও সময় লাগছে না তাদের। এমনকি ভাষা আন্দোলনের শহীদ বেদিতেও নামছে আক্রমণ। শুধু কি বাংলাদেশে? আমাদের ভারতবর্ষেও ধর্মের চিহ্নগুলো কেবল বদলে আক্রমণ নামছে সেই ভাষার ওপরেই। ভাষার গায়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মের নামাবলি। উর্দুর ভাষাগত সৌন্দর্যকে অস্বীকার করে তাকে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে 'মুসলমানের ভাষা' হিসেবে। ...more
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
নবারুণ চক্রবর্তী
ঋত্বিকের ছবিতে প্রাকৃতিক দৃশ্য অবশ্যই পুঁজিবাদ ও পাশ্চাত্য যন্ত্রসভ্যতার অন্ধকারাচ্ছন্নতার বিরোধী, তবে কোনো সরল জটিলতাহীন মায়াময় অতীতে ফিরে যাওয়ার প্রগতি বিরোধী আহ্বান ঋত্বিক জানাননি। বরং, মানবসভ্যতা ও প্রকৃতির মধ্যে অনুভূতিগত যোগাযোগের দিকে তাকিয়ে সম্প্রদায়গত বিভাজন ও পরিসরের মধ্যে যে এত হিংসা, দ্বেষ, আর যাতনা লুকিয়ে আছে, তারই মধ্যে অখণ্ডতা খুঁজতে চেয়েছেন, চেয়েছেন বিভাজনের পরেও টিকে থাকা অখণ্ডতার স্মৃতিকে উস্কে তুলতে। স্মৃতি ঘটনাচক্রে অনন্ত শক্তিশালী, বিভাজিত রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে অখণ্ডতার স্মৃতিকে হাতিয়ার করেছেন ঋত্বিক। ...more
১৪-জানুয়ারি-২০২৫
সফদার হাসমি
ঋত্বিকই প্রথমবার দেখিয়েছিলেন যে সিনেমার ক্যামেরা কেবল এক বাধাহীন আড়ি পাতার যন্ত্র নয় বরং সে হতে পারে একাধারে একজন ভাষ্যকার, দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, সমালোচক এবং কবি। তার সার্থকতা একদল চরিত্রের জীবনের জানালা হয়ে নয় বরং মানুষের বেঁচে থাকার একজন সাক্ষী হয়ে। ...more
০৩-জানুয়ারি-২০২৫
সৈকত ব্যানার্জী
ব্রেখটিও যে ভাবনা নাটককে ক্রিটিকাল করে তুলতে আগ্রহী, সাফদার নিজেও যে ভাবনায় রেখেছিলেন আস্থা, তার মৃত্যুর পরেও জন নাট্য মঞ্চ সেই ভাবনাকে বয়ে নিয়ে গিয়েছে। আর বয়ে নিয়ে গিয়েছে অজস্র নাটক তথা পথনাটকের দল। যারা পথে, ঘাটে, বাজারে, ট্রেনে, বাসে নানা আঙ্গিকে অভিনয় করে চলেছে, আর বলে চলেছে সমাজ বদলের কথা। ...more
০১-জানুয়ারি-২০২৫
অম্লান দেব
বিলডিহির দত্ত বোস মিত্তিররাও এদেশে এসেছেন। তাদের অসুবিধা হয়নি। সেখানে তাদের ছিল দোতলা বাড়ি এখানে হয়েছে চার তলা। তারা হলেন বড়ো বড়ো বাস্তুহারা মাতব্বর। দেশে যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত এখন তাদের বাড়ির দরজায় মোটর গাড়ি। বলির পাঁঠা হয়েছে কেবল সুঁচাদরা সরকারি রিফিউজির তালিকায় যাদের নাম নেই। নাম থাকে না কোনোদিন। “মাঝে মাঝে সুঁচাদের মনে হয়, মানুষের বোকা হওয়ার একটা সময় আসে। সব মানুষের একসঙ্গে। তা না-হলে সব মানুষ একসঙ্গে ভাগাভাগি মানল কেমন করে। এমন কি হয় না সব মানুষ একসঙ্গে ভাগাভাগিটা তুলে দেবে। হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে।” ...more
১১-ডিসেম্বর-২০২৪
সলিল চৌধুরী
যেহেতু আমি গণআন্দোলন করি, যেহেতু আমি কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য বা ঘনিষ্ঠ, আমি সমস্ত আন্দোলনে আছি, তার মানে এটা কখনোই নয় যে আমি গণসংগীত রচনা করতে পারব। কাজেই প্রথমে ভাবাদর্শগত দিকে সবথেকে বেশি জোর দিয়েও আমি এ কথা বলব যে ভাবাদর্শগত দিকে দক্ষতাই শেষ কথা নয়, গণসংগীত রচনার ক্ষেত্রে আমাদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যা কিছু progress হচ্ছে তার সম্বন্ধে আমাদের young composer সুরকার যাঁরা আছেন তাঁদের অবহিত হতে হবে। ...more
১৯-নভেম্বর-২০২৪
কুমার সাহানি, সঈদ আখতার মির্জা
ঝড়ের কাছে ঠিকানা গচ্ছিত রেখেছিলেন ঋত্বিক কুমার ঘটক। অজানা সংকটময় পথে হেঁটেছিলেন এবং হাঁটতে হাঁটতে জুড়তে চেয়েছিলেন। ছিন্নমূল হওয়া এবং জুড়ে থাকতে চাওয়ার আকুতি নিয়তই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সৃষ্টি কর্মে। সেই ঝড়ের ঠিকানা-ঠিকুজির খোঁজে রত হয়েছেন দুই পরিচালক সঈদ আখতার মির্জা (জ. ১৯৪৩) ও কুমার সাহানি (১৯৪০-২০২৪)। ঋত্বিক ঘটক এবং তাঁর অসামান্য সৃষ্টি মেঘে ঢাকা তারা প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। মেলোড্রামা, সংগীত, সুফি ঐতিহ্য, দেশভাগ নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তাঁদের কথাবার্তায়। ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষে সেই কথোপকথন মার্কসবাদী পথ-এ তর্জমাকারে প্রকাশিত হল। ‘গ্রেট মাস্টার’-এর প্রতি রইল মার্কসবাদী পথ-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য। আজ দ্বিতীয় পর্ব। ...more
০৬-নভেম্বর-২০২৪
কুমার সাহানি, সঈদ আখতার মির্জা
ঝড়ের কাছে ঠিকানা গচ্ছিত রেখেছিলেন ঋত্বিক কুমার ঘটক। অজানা সংকটময় পথে হেঁটেছিলেন এবং হাঁটতে হাঁটতে জুড়তে চেয়েছিলেন। ছিন্নমূল হওয়া এবং জুড়ে থাকতে চাওয়ার আকুতি নিয়তই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সৃষ্টি কর্মে। সেই ঝড়ের ঠিকানা-ঠিকুজির খোঁজে রত হয়েছেন দুই পরিচালক সঈদ আখতার মির্জা (জ. ১৯৪৩) ও কুমার সাহানি (১৯৪০-২০২৪)। ঋত্বিক ঘটক এবং তাঁর অসামান্য সৃষ্টি মেঘে ঢাকা তারা প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। মেলোড্রামা, সংগীত, সুফি ঐতিহ্য, দেশভাগ নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তাঁদের কথাবার্তায়। ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষে সেই কথোপকথন মার্কসবাদী পথ-এ তর্জমাকারে প্রকাশিত হল। ‘গ্রেট মাস্টার’-এর প্রতি রইল মার্কসবাদী পথ-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য। আজ প্রথম পর্ব। ...more
০৫-নভেম্বর-২০২৪
হরেকৃষ্ণ কোঙার
সাধারণ মাঝারি চাষীর মনোভাব ঠিক এইরকম নয়। তারা বেশি দামে ধান বিক্রির সুযোগ বিশেষ পায় না. তবু তার সুযোগ সে পেতে চায়। সরকারি সাহায্যের পিছনে সে ছোটে, কিন্তু তা বিশেষ পায় না বলে ক্ষুব্ধ। সে যা কিনতে চায় তার ক্রমবর্ধমান মূল্য তাকে অসন্তুষ্ট করে তোলে। আবার তার নিজের জমি কিছু আছে বলে সে গরিবদের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে দ্বিধা করে। উচ্চবর্ণ ও অনুন্নত জাতির প্রশ্ন এদেরকে এখনও প্রভাবিত করে। এরা উপরের দিকে উঠতে চায়, তাই কায়েমী স্বার্থের প্রচারে মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়, আবার শোষণ, অভাব ও বঞ্চনার বাস্তব আঘাত তাকে গরিবের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে নিজে মেহনত করে, তাই তার টান মেহনতী মানুষের দিকেই বাড়ছে। ...more
১৩-আগস্ট-২০২৪
হরেকৃষ্ণ কোঙার
কমিউনিস্টদের কাজ শুধু সমাজকে বিশ্লেষণ করা নয়, তাকে পরিবর্তন করার জন্য জনগণকে প্রস্তুত করা। সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাজ হবে এরই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাদের সৃষ্টির কাজ পরিচালনা করা। শ্রমিকশ্রেণি ও জনগণের জীবন নিয়ে আলেখ্য রচনা করলেই বা তাদের বর্তমান জীবনকে বাস্তবে প্রতিফলিত করলেই বৈপ্লবিক সংস্কৃতি বা জনগণের সংস্কৃতি হয় না। বুঝতে হবে যে, বর্তমান সমাজে শোষকশ্রেণির সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার প্রাধান্য জনগণের উপর বেশ প্রভাব বিস্তার করে আছে। শ্রেণিসমাজের স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে তাদের মধ্যেও হিংসা, দ্বেষ, ক্ষুদ্রতা, গোলামির মনোভাব প্রভৃতি আছে। বাস্তবতার নাম করে এইগুলিকে তুলে ধরলে বা শোষকশ্রেণি ও কোন ব্যক্তি বিশেষের উদারতাকে ফুটিয়ে তুললে শোষকশ্রেণিরই সাহায্য করা হয়। ...more
১২-আগস্ট-২০২৪
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ফ্যাসিবাদের অধীনে যে সাহিত্য যে শিল্প রচিত হবে তার কথা চিন্তা করতে গেলে আমার মনে পড়ে জেলখানার সতরঞ্জির কথা, ছোবড়া-পাকানো দড়ির কথা; যার গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে পাকে পাকে নির্যাতিত মানবাত্মার অভিশাপ। এমন কূট কৌশলে রচিত ধনবণ্টন-ব্যবস্থার উপর এদের নববিধান রচিত হবে যে, এক পুরুষ কি দু-পুরুষ পরে মানুষ আর কল্পনাই করতে পারবে না যে, সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতায় তাদের অধিকার আছে। উন্নততর জীবন, বৃহত্তর কল্যাণ, মহত্তর কল্পনা, সুন্দরতর সম্ভাবনার সাধনার কথা মনে করতে তারা শিউরে উঠবে। এক কথায় মানুষের জীবনের সুদীর্ঘ গৌরবময় উর্ধ্বমুখী প্রেরণা এবং আত্মদানের যজ্ঞের বিরুদ্ধে এতবড় আসুরিক অভ্যুত্থান আর পৃথিবীর ইতিহাসে হয়নি। ...more
২৩-জুলাই-২০২৪
হীরেন ভট্টাচার্য
বুর্জোয়া উত্তরাধিকারের ইতিবাচক উপাদানগুলি সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে কমরেড স্তালিনের ধৈর্য্যশীল পদক্ষেপ পুরোপুরিভাবে 'লেনিনিক'। লেনিন তাঁর বহু রচনায় বারবার এই কথার উপর জোর দিয়েছেন যে বুর্জোয়া উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ইটকাঠ দিয়েই আমাদের সমাজতন্ত্র গড়তে হবে; সমাজতন্ত্র আকাশ থেকে পড়বে না। সমাজতন্ত্র গড়ার উপাদানগুলির মধ্যে সোভিয়েতের নিজস্ব উপাদান হচ্ছে একমাত্র সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট শ্রমিকরা, কিন্তু এ'দের সম্পর্কে লেনিন বলেছেন- "এরা যথেষ্ট শিক্ষিত নয়। শ্রেষ্ঠ যন্ত্র গড়ে দিতে তারা উৎসুক। কিন্তু কী করে তা করতে হবে তা তারা জানে না। সেটা তারা করতে পারে না। তার জন্য যে বিকাশ মাত্রা, যে সংস্কৃতি দরকার সেটা এখনো পর্যন্ত তারা অর্জন করেনি।" ...more
১০-জুন-২০২৪
দেবরাজ দেবনাথ
“বিংশ শতাব্দীর অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এরই অভিযান সেনাদলের তূর্য্যবাদকের একজন আমি— এই হোক আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশেরই, এই সমাজেরই নই; আমি সকল দেশের, সকল মানুষের। কবি চায় না দান, কবি চায় অঞ্জলি। কবি চায় প্রীতি। কবিতা আর দেবতা সুন্দরের প্রকাশ। সুন্দরকে স্বীকার করতে হয়, যা সুন্দর তাই দিয়ে। সুন্দরের ধ্যান, তাঁর স্তবগানই আমার ধর্ম। তবু বলছি, আমি শুধু সুন্দরের হাতে বীণা, পায়ে পদ্মফুলই দেখিনি, তাঁর চোখে চোখ ভরা জলও দেখেছি। শ্মশানের পথে, গোরস্তানের পথে তাঁকে ক্ষুধাদীর্ণ মুর্তিতে ব্যথিত পায়ে চলে যেতে দেখেছি। যুদ্ধভূমিতে তাঁকে দেখেছি। কারাগারের অন্ধকূপে তাঁকে দেখেছি। ফাঁসির মঞ্চে তাঁকে দেখেছি। ...more
২৫-মে-২০২৪
হায়দার আকবর খান রনো
প্রয়াত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর খান রনো। মাঠে-ময়দানের সংগ্রামী রাজনৈতিক নেতা থেকে একাত্তরের রণাঙ্গনের সৈনিক। বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে মার্কসবাদী তাত্ত্বিক। চারবার জেলে গিয়েছেন। হুলিয়া নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েছেন সাতবার। পুলিশ-মিলিটারি তাঁর বাড়িতে চালিয়েছে তল্লাশি। একবার-দু’বার নয়। ৫০ বারের বেশি। মার্কসবাদী পথের লেখক রনো মার্কসবাদ, রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, দর্শন, সাহিত্য ও বিজ্ঞান (পদার্থবিদ্যা) নিয়ে লিখেছেন মোট পঁচিশটি বই। প্রবন্ধের সংখ্যা অসংখ্য। তাঁর শতাব্দী পেরিয়ে বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পায়। ...more
১২-মে-২০২৪
শান্তনু দে
দেশভাগের ঘোষণার ক’দিন বাদে ফয়েজ কবিতাটি লিখেছিলেন নিদারুণ যন্ত্রণায়। সীমান্তের দু’পারে রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা, জীবিকা হারিয়ে সবহারা উদ্বাস্তু স্রোত, ধর্ষণ। দেখে ফয়েজের বিস্ময়, এই স্বাধীনতাই কি আমরা চেয়েছিলাম? ভারত, পাকিস্তানকে ভাগ করে যে স্বাধীনতা এসেছে, আমরা কি আদৌ তেমন কখনও চেয়েছিলাম? আমরা কি সত্যিই মুক্ত? ঋত্বিকের ‘কোমল গান্ধার’, মান্টোর ‘টোবা টেক সিং’র মতোই ফয়েজের ‘সুবহ্-এ-আজাদী’। ...more
১৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
আদতে ব্রেশ্ট্ ছিলেন বিপ্লবী চিন্তাবিদ। নাটক তাঁর সমাজদর্শন প্রকাশের ও প্রচারের মাধ্যম। সেই মাধ্যমের উপযোগী প্রযোজনার ধাঁচও তাঁকে তৈরি করে নিতে হয়েছিল। চীনে ও জাপানি থিয়েটারের সঙ্গে সঙ্গে স্তানিস্লাভ্স্কির কাছ থেকেও তিনি অনেক কিছু শিখেছিলেন। কিন্তু স্তানিস্লাভ্স্কির চেতনায় 'সমাজের প্রতি দায়িত্ব... মানুষের মহত্ব' ইত্যাদি যেসব সদ্গুণ থাকে (ব্রেশ্ট্ও এগুলির প্রশংসা করেছেন)৮ তার সঙ্গে ব্রেশ্ট্-এর বৈজ্ঞানিক সমাজবাদী ধারনাকে এক করে দেখলে ভুল হবে। নিছক সদিচ্ছা আর ঐতিহাসিক বস্তুবাদ অত অনায়াসে মেলে না। ...more
১০-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
উৎপল দত্ত
আঙ্গিককে রাজনীতির অধীন রাখলেও পরিচালক জীবনে প্রয়োজনানুযায়ী স্টাইলের বহু পরিবর্তন ঘটালেও, নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে ব্রেখট্ শেষ কটি প্রযোজনায় ফর্ম সম্পর্কে কতকগুলি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। সেগুলোকেই তাঁর রাজনৈতিক মতবাদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিমূর্ত কতকগুলি ফর্মূলায় পর্যবসিত করেছেন পশ্চিমা কিছু নাট্যবিদ। ভেরফ্রেমডুং, অ্যালিয়েনেশন, এপিক, এমপেথি প্রভৃতি কথাকে ব্রেখট্-এর রচনা থেকে ছিঁড়ে এনে তাঁকে বিশুদ্ধ এক আঙ্গিকবিদে পরিণত করতে চেয়েছেন তাঁরা যাঁরা ব্রেখট- এর রাজনীতি সইতে পারেন না। ...more
০৯-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
‘মেশিন’ ছিল এই প্রক্রিয়ার ফসল।” মাত্র ১৩ মিনিটের নাটক, অথচ তার ক্যানভাসটি ছিল সুবিস্তৃত। হিন্দি কবি মনমোহন বলেছিলেন, ‘মনে হল কার্ল মার্ক্সের ক্যাপিটেল গ্রন্থটিকে কেউ যেন ১ মিনিটের নিবন্ধে নামিয়ে এনেছে।’ এরপর আর থেমে থাকেনি জনম। শ্রমিক আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে নির্মিত নাটক ও তার ভাষা সফদারদের থিয়েটারকে এক স্বতন্ত্র রূপ দিল। এই ধারাতেই পরবর্তী সময়ে একের পর এক নাটকের জন্ম।
...more০২-জানুয়ারি-২০২৪
কঙ্কণ ভট্টাচার্য
গৌতম চট্টোপাধ্যায় লিখছেন, ‘১৯৪৭এর শেষে পশ্চিমবঙ্গে জারী হল বিনাবিচারে আটকের কালাকানুন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হলেন এ রাজ্যের মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লৌহমানব’ সর্দার প্যাটেল কলকাতায় এলেন সমাবেশে বলতে, আন্দোলন দমন করতে। সেদিনই আকাশবাণীতে গান গাইবার কথা সুচিত্রার। নি:শঙ্ক চিত্তে তিনি গান ধরলেন ‘ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে’। কর্তৃপক্ষ সুচিত্রার কন্ঠরোধ করলেন বেতার-কর্মসূচীতে বহুদিন, কিন্তু মাথা নত করলেন না তিনি’। ...more
১৯-সেপ্টেম্বর-২০২৩
সৌমিত্র লাহিড়ী
শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ও ম্যালেরিয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল৷ গ্রামকে গ্রাম উজাড় করে সাধারণ মানুষ কলকাতা মহানগরী ও অন্যান্য শহর এলাকায় বিপন্নতা নিয়ে এসেছিলেন এক মুঠো খাবারের আশায়৷ কলকাতার রাজপথ মৃতদেহের স্তূপে জর্জরিত হয়ে উঠেছিল, আর নগর কলকাতার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল একটু ফ্যানের জন্য কর্ণভেদী চিৎকারে৷ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন : 'কী দিনই না গেছে৷ উপোসী মানুষের চিৎকার---ফ্যান দাও, ফ্যান দাও৷ রাস্তায় চোখকান খুঁজে মড়া ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে হাঁটা৷ ভাবলে আজও বুকের মধ্যে হাঁফ ধরে৷ তবু গেলে চলবে না৷ যেন মনে থাকে৷ সে ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়৷' ...more
২৭-আগস্ট-২০২৩
ফ্রাঁ ড্রেশচার
সারা পৃথিবীর চোখ এবং বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণির চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই মুহূর্তে এখানে যা ঘটছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের সাথে এই মুহূর্তে যা হয়ে চলেছে তা শ্রমিক শ্রেণির জন্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটছে। এটা তখনই ঘটে যখন মালিকেরা ওয়াল স্ট্রিট এবং তাদের লোভকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যাদের সুবাদে এই ব্যবস্থা চলছে তাদের ভুলে যান। ...more
১৮-জুলাই-২০২৩
জাঁ পল সার্ত্র
ফরাসি নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্র (১৯০৫-১৯৮০)-র What is Literature? বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সনে। এই বইয়ে চারটি প্রবন্ধ আছে : 'What is Writing?', 'Why Write?', 'For Whom Does One Write?' এবং 'Situation of the Writer in 1947'। প্রবন্ধগুলি প্যারিসের একাধিক পত্রিকায় আগে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৫০ সালে বার্নার্ড ফ্রিখম্যান বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এই বই-এর প্রথম প্রবন্ধ থেকে নির্বাচিত অংশের বাংলা অনুবাদ, অবশ্যই ফ্রিখম্যান-এর অনুবাদের অনুবাদ — ...more
২৩-জুন-২০২৩
চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য
সামন্তযুগের শুরুতেই যেমন শ্রেণীবিভাগ কায়েম হল সমাজে, তেমনি ছবির আদর্শও বিভক্ত হয়ে গেল এক-এক শ্রেণীর এক-এক আদর্শের তাগিদে। সেই আদর্শভেদটা পরিণত ও স্পষ্ট দেখা গেল মুসলমান আমলে। একদিকে প্রভুত্বের এবং দাসত্বের জয়গান চলতে লাগল রাজা-বাদশাদের দরবারে ও অন্দরে, অন্যদিকে শাসিত সমাজে প্রেম-মৈত্রী-সাম্যের আদর্শ— রাজশক্তিকে উপেক্ষা না করেও মনুষ্যত্বের জোরেই টলিয়ে দেবার ভরসা নিয়ে- মাথা তুলে দাঁড়াল; জনতার এই ‘বিদ্রোহী' আদর্শের ছবি হল রাধাকৃষ্ণের ছবি— ...more
২২-জুন-২০২৩
শিবাদিত্য দাশগুপ্ত
‘দেশের নানা অংশে কৃষক সম্মেলনগুলিতে সে-সময়ে কৃষকেরা তাদের সর্বভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতোই চিত্তপ্রসাদকে দেখবার জন্য প্রতীক্ষা করে থাকতেন। একবার মহারাষ্ট্রের কোনও এক কৃষক সম্মেলনে ছবি আঁকতে গিয়ে শিল্পী তাঁদের হাতে আটক হয়ে গেলেন। প্রায় মাস দুয়েক ধরে গ্রামের পর গ্রামের দরিদ্র কৃষকেরা তাঁকে ভালবাসার বন্ধনে বেঁধে সমস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মহারাষ্ট্র ঘুরিয়ে দিয়েছিল।’ এইভাবেই কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে চিত্তপ্রসাদের সমগ্র অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল প্রান্তিক মানুষ ও তার নানা অভিব্যক্তির চিত্রণ।' ...more
২১-জুন-২০২৩
অম্লান দেব
নদী আর বাজারের মাঝামাঝি সাজান মাস্টারের বাড়ি। টিনের চাল, মুলিবাঁশের বেড়া, উঠোন পেরিয়ে টালির রান্নাঘর। পেঁপে গাছের পাশ দিয়ে কলতলা। উঠোনের দিকে আর বাইরের দিকে মাটির বারান্দা। সাইকেল ধীরে ফিরছিল বাড়ির দিকে। আচ্ছা গানটা কি একতালের? নাকি কাহারবা ছিল? প্যাডেল করতে করতে মাত্রা গুণছিলেন সাজান মাস্টার। এই যে তার জীবন ভরা নজরুলের গান সেও তো এমনি এমনি নয়। কত বছর আগে, সেবার বটতলার বড়ো অনুষ্ঠান, গণ্যমান্যদের সামনে গান গেয়েছিলেন উঠতি গায়ক শাহজাহান। সে গানে মঞ্চের একদম সামনের দিকে রাখা একটি চেয়ারে জ্বলে উঠেছিল সন্ধ্যাবাতি! ...more
২৬-মে-২০২৩
শবনম সুরিতা
জামাইকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘর বাঁধা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হ্যারি। তার জীবনজুড়ে শ্রমজীবী মানুষ, নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার আবেশ ভুলে সিভিল রাইটস বা নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে গান দিয়ে নিয়ে গেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশবিদেশের বহু মানুষের কাছে। কিন্তু তবুও তিনি 'নিশ', অ্যামেরিকায় জোয়ান বায়েজ বা আমাদের বাংলার মৌসুমী ভৌমিকের মতো। ...more
৩০-এপ্রিল-২০২৩
জেতা সাংকৃত্যায়ন
সভা মঞ্চে এক ৯৩ বছরের প্রবীণকে নিয়ে আসা হল। উনি ছিলেন বকাস্ত আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা। সবাই তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে সেনানীজী বলে ডাকছিলেন। ঘোষণা হল, তিনি আমাদের কৃষক আন্দোলনের গান গেয়ে শোনাবেন। ঋজু ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা অথচ তখনও শক্তিশালী কণ্ঠে তিনি গাইলেন বকস্ত আন্দোলনের সম্মেলক সংগীত। এক পরাবাস্তব মুহূর্ত। অতীতের রাতের স্মৃতি ছায়া, নিষ্প্রভ আলো এবং নানা অবয়বের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠছিল। সবার শেষে, সংগঠকরা তখন সেই প্রবীণকে কথা শেষ করতে বলেন, তিনি চিৎকার করে ওঠেন ‘চলো!’ ‘চলো’…(এগিয়ে চলো!... এগিয়ে চলো!) ...more
০৯-এপ্রিল-২০২৩
সৌম্যজিৎ রজক
১২ বছরের এক বালকের লেখা (অবশ্য কেউ কেউ বলেন এটি ইজরায়েলের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ঘটনা, তাহলে তো ৮ বছরের বালকের)। বোঝাই যাচ্ছে যে বন্ধুর উদ্দেশ্যে লেখা, জন্মসূত্রে সে ইহুদি। তা যাই হোক, বালক দরবিশ স্কুলে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ কবিতা পাঠ করল। নিশ্চয় বেশ গর্ব হয়েছিল তার; জীবনে প্রথম স্বরচিত কবিতা পাঠ করে কোন বাচ্চার গর্ব হবে না? তবে দরবিশের বেলায় সে গর্বের মেয়াদ ছিল, বড়জোর, একদিন। পরদিনই তাকে তলব করে ইজরায়েলি সামরিক কমান্ডার। আর এরকম কোবতে-টোবতে লিখলে তার বাবা যে সামান্য চাকরিটা করে সেটাও খোয়াতে হবে, হুমকি দেয় স্পষ্টাস্পষ্টি। ...more
১৩-মার্চ-২০২৩
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কি উর্দুবিরোধী ছিল? হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু ছিল কি সে ইংরেজিবিরোধী? হ্যাঁ, সেটাও হওয়ার কথা ছিল বৈকি। কেননা, আন্দোলন ছিল বাঙালি নিজের পায়ে দাঁড়াবে, বাংলাভাষার মধ্য দিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, ইহজাগতিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে মানুষের পরিচয় ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা অর্থনৈতিক শ্রেণির দ্বারা চিহ্নিত হবে না, পরিচয় হবে ভাষার দ্বারা। ...more
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
অম্লান দেব
চণ্ডাল এই কাজ করতে পারেনি, পালিয়েছে। ‘রাজা তখন অনুচরবর্গকে আজ্ঞা করিলেন, ‘দোসরা লোক লইয়া আইস — মুসলমান।” এই মুসলমান পেশায় কসাই। নিজের শহরে সে ‘গোরু কাটিতে পারিত না’, ‘নগরপ্রান্তে বকরি মেড়া’ কাটে ও বেচে। ‘অতিশয় বলবান’ ও ‘কদাকার’ সেই মুসলমান কসাই বেত উঁচু করে সন্ন্যাসিনীকে বলিল, ‘কাপড়া উতার — তেরি গোস্ত টুক্রা টুক্রা করকে হাম দোকানমে বেচেঙ্গে।’ কদাকার, কসাই মুসলমান দ্বারা একজন মহিলার মাংস কেটে বেচার আকাঙ্ক্ষা তৈরির নৃশংসতাকে উপেক্ষা করেও এখানে আমাদের একটু থামতে হয়, কারণ ১৮৮৭ সালের একটি বাংলা উপন্যাসের একজন মুসলমান চরিত্র বাংলায় কথা বলছেন না! বাংলা কি তবে হিন্দুর ভাষা, মুসলমানের নয়? ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন তবে কোন ভাষার জন্য হয়েছিল? ১৮৮১ সালের লোকগণনা অনুযায়ী বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের লোকসংখ্যার ৫০.১৬% মুসলমান, ৪৮.৪৫% হিন্দু। ১৮৯১ সালের গণনাতেও বাংলায় হিন্দুর থেকে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। ‘সীতারাম’-এর সমকালে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা কি বঙ্কিমের কদাকার কসাই মুসলমানের মতো ভাষাতেই কথা বলতেন? ...more
২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
বের্টোল্ট ব্রেখট
যদি সংস্কৃতি জনগনের কৌম উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে, যদি সংস্কৃতির ব্যাপারটা একেবারে কড়ায়গণ্ডায় বাস্তবে বুঝে নেওয়ার বিষয় হয়, তাহলে একে নিয়ে যুঝতে পারা যাবে কেমন করে? সে কী নিজেই লড়তে পারে? ...more
১০-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
জ্যোতি বসু
এই শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। তাই আমরা আক্রান্ত শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণকে সচেতন করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। একাজে এই রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের কাছে আমাদের অনেক আশা। তাঁরা অতীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের ঐতিহ্য রচনা করে গেছেন। আজ ব্যাপক জনগণের সঙ্গে লেখক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীরাও আক্রান্ত। আপনাদের কাছে অনুরোধ ভূলুণ্ঠিত গণতন্ত্র ও বিপন্ন মানবিকতার রক্ষার জন্য আপনাদের অসামান্য শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুন। বিবৃতি দিন, আপনাদের লেখার মধ্য দিয়ে, শিল্পের মধ্য দিয়ে, জনগণের উপর সীমাহীন নিপীড়নের কথা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিন। সকলের সাহায্য নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারব আমাদের বিশ্বাস। ...more
০৬-জানুয়ারি-২০২৩
সফদার হাসমি
কিছু গুরুত্ববহ কালপর্বে, বিভিন্ন দেশেই পথনাটক আত্মপ্রকাশ করল— স্পেনে গৃহযুদ্ধের সময়ে, ভিয়েতনামে ৪৫ বছর ধরে চলা জাপান, ফরাসি ও মার্কিন হানাদার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কালে, কিউবাতে বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই (এবং এখনও ব্যাপকভাবে এর চর্চা হয়ে থাকে), লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা জুড়ে, যেখানে যেখানে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সংগঠিত হয়। এমনকি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও, মেক্সিকোর খামারকর্মী ও নিগ্রোদের কাছে সংগ্রাম ও সংগঠনের হাতিয়ার হিসেবে পথনাটক খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। টালমাটাল ষাটের দশকের শেষে ফ্রান্সে এর আবির্ভাব হয়। ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রেও শ্রমিক জমায়েতে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলিতে এ খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ...more
০২-জানুয়ারি-২০২৩
রাজা নাঈম
গালিবের মেজাজটাই ছিল ব্যঙ্গ ও হাস্যে ভরপুর। নিজের ক্ষতিকে নিয়ে তামাশা করবার ক্ষমতাও তার ছিল। তুমি ঘৃণা করতেন কেবল ভাবের অগভীরতা, লোকদেখানো জমক ও ছেলেমানুষিপনা; উনি পছন্দ করতেন উদ্ভাবনী ক্ষমতা, মৌলিকত্ব, অনন্যতা, লালিত্য ও বিশুদ্ধতা। ...more
২৯-ডিসেম্বর-২০২২
কাকলী মুখার্জি
যুগান্তর দলের চল্লিশ জন বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের মানিকতলার বাগানবাড়ি থেকে বোমা, ডিনামাইট, বন্দুক, কার্তুজ, রিভলবার ও গোপনীয় কাগজপত্র সহ পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। এই ঘটনা আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা নামে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে পরিচিত। এই মামলার থেকেও যে বিষয়টি এই সময় আলোড়ন তুলেছিল তা হল, এই মামলার রাজসাক্ষী নরেন গোঁসাইয়ের হত্যা। দুই বিপ্লবী কানাই লাল দত্ত ও সত্যেন বসু গোপনে বাইরে থেকে পিস্তল আনিয়ে এই হত্যা সংঘটিত করেন। ...more
২৩-নভেম্বর-২০২২
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
গণনাট্যের গান কি শুধু লড়াই সংগ্রামের তাৎক্ষণিক আবেদনের সাময়িক সৃষ্টির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে? গান কি শুধুমাত্র তৈরি হবে মিছিলের, হরতালের আর গণসমাবেশকে উপলক্ষ্য করে? যে মানুষ এই মিছিলের গানে উদ্বুদ্ধ হল, সে ঘরে ফিরে তার বিনোদনের সময়ে, বিশ্রামের সময়ে কী গান গাইবে বা শুনবে? সে কি আবার ফিরে যাবে ওই ধর্মীয় সংগীত আর বাণিজ্যিক গানের ছত্রছায়ায়? তবে মাঠের গানে তার যে উত্তরণ হল সেটা তো মাঠেই ফুরিয়ে গেল, ঘরে কিছুই এলো না। উত্তরের খোঁজে সলিল চৌধুরী। আজ তাঁর জন্মদিনে সলিল-স্মরণ। ...more
১৯-নভেম্বর-২০২২
কন্সটান্টাইন ফেদিন
আমাদের জীবন সম্পর্কে, আমাদের সোভিয়েত জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ দূরদেশ থেকে আগত বিদেশীকে সর্বাগ্রে এবং সর্বপরি বিস্মিত করে এই জনগণই। নিজের সংস্কৃতির প্রতি জনগণের এই যে সার্বজনীন আকর্ষণ তা কোথা থেকে এলো, কিভাবে জন্মালো, কিভাবে উন্নত এবং শক্তিশালী হলো? জনগণের হৃদয়ের অন্তর্নিহিত জগৎটা কেমন?
...more০৮-নভেম্বর-২০২২
রণেশ দাশগুপ্ত
জীবনানন্দ দাশের কবিতা সম্বন্ধে একটা জোর প্রচার, তিনি জীবনের অগ্রসর উদ্দেশ্য ও উত্তরণকে অস্বীকার করেছেন, তিনি অবিপ্লবী। অথচ মার্কসবাদের দৃষ্টিতে ইতিবাচকতা দাবি করে জীবনের অগ্রসর উদ্দেশ্য ও উত্তরণের অনিবার্যতা। মার্কসবাদ হচ্ছে বিপ্লবী দর্শন। মার্কসবাদ একটি অগ্রসর উদ্দেশ্যভিত্তিক মানবীয় জীবনদর্শন। এই উদ্দেশ্য শোষণমুক্ত মানবসমাজ। সুতরাং কোনভাবেই ব্যক্তিজীবনকে ভেসে চলতে বলতে পারেনা মার্কসবাদ। ইতিহাসে বৈপ্লবিক সামাজিক পরিবর্তনের অব্যাহত ধারায় আসে ব্যক্তিজীবনের উদ্দেশ্যপ্রবণতা। বিশ্বজগতের একটা বিশেষ গতিধারা আছে। এই গতিধারা অবিশ্রান্ত বিকাশের স্বন্যাত্মক অগ্রগতির ধারা, পরিমাণগত থেকে গুণাত্মক পরিবর্তনে উত্তরণ। ...more
০৪-নভেম্বর-২০২২
ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া ধারণাসম্পন্ন ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক সাহিত্য-গোষ্ঠীভুক্ত নারী ও পুরুষেরা এই নূতন ভাবধারা দারুণভাবে অপছন্দ করত। সাহিত্যকে রাজনীতির অবাঞ্ছিত আবর্তে বিপথগামী করার দোষারোপ দিত তাঁরা প্রগতিশীল লেখকদের প্রতি,'শিল্পের জন্যই শিল্প'এই স্লোগান তুলে। 'সমাজের জন্য শিল্প' এই স্লোগান প্রতিষ্ঠার জন্য প্রগতি লেখক সংঘকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল। ...more
০১-নভেম্বর-২০২২
ফার্নান্দো সোলানাস
হ্যাঁ,সার্বিক মুক্তির জন্য সংগ্রামে প্রত্যেককে যুক্ত হতেই হবে। কেউই একেবারে নির্দোষ, নিষ্পাপ দর্শকমাত্র নয়। আমরা সবাই রয়েছি আমাদের মাটির পাঁকে আর আমাদের মস্তিষ্কের ভয়ঙ্কর শূন্যতায় হাত নোংরা করার প্রক্রিয়ায়। যে কোন নীরব দর্শকই হয় ভীতু নয়ত বিশ্বাসঘাতক। ...more
২৬-অক্টোবর-২০২২
আলাঁ সেরে
আলাঁ সেরে- ফরাসী, পেশায় স্কুলশিক্ষক। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য বই লেখেন। লিখলেন পিকাসোর জীবনী। গোয়ের্নিকার জীবনীও। যদিও এই সৃষ্টিকে জীবনী না বলে কবিতা বলাই ভালো। আজ, পিকাসোর জন্মদিনে তার ভাষান্তর প্রকাশ করা হল। ...more
২৫-অক্টোবর-২০২২
রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ক্রিস্টোফার কডওয়েলের আজ জন্মদিন। ছিলেন ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। ১৯৩৭, স্পেনে ফ্র্যাঙ্কোর বিরুদ্ধে ফ্যাসি-বিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক ব্রিগেডে যোগ দিয়ে যখন শহীদ হয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৯। তাঁর বিখ্যাত বই স্টাডিজ ইন এ ডাইং কালচার- এর অনুবাদ করেন রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুবাদকের ভূমিকাটি এখানে প্রকাশ করা হল। ...more
২০-অক্টোবর-২০২২
সলিল চৌধুরী
চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে বাংলার গণসংগীতে যে জোয়ার এসেছিল, তার ধ্রুবতারা সলিল চৌধুরী, খানিকটা স্মৃতি চারণের ভঙ্গীতে লিখেছেন (১৯৯৩ সালে) তার ধারণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

