সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
হলিউড কর্তাদের লোভের বিরুদ্ধে এই ধর্মঘট
ফ্রাঁ ড্রেশচার
সারা পৃথিবীর চোখ এবং বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণির চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই মুহূর্তে এখানে যা ঘটছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের সাথে এই মুহূর্তে যা হয়ে চলেছে তা শ্রমিক শ্রেণির জন্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটছে। এটা তখনই ঘটে যখন মালিকেরা ওয়াল স্ট্রিট এবং তাদের লোভকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যাদের সুবাদে এই ব্যবস্থা চলছে তাদের ভুলে যান।

(গত বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এসএজি (স্ক্রিন অ্যাক্টর্স গিল্ড)-আফট্রা (অ্যামেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন এন্ড রেডিও আর্টিস্ট) জানান দেয় যে তারা মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে। হলিউডের মুখ্য কার্য নির্বাহীদের (সিইও) সীমাহীন লোভকে তীরবিদ্ধ করে ইউনিয়নের প্রধান ফ্রাঁ ড্রেশচার একটি বক্তব্য রাখেন এবং বলেন যে, ‘ওরা ইতিহাসের ভ্রান্ত প্রান্তে অবস্থান নিয়েছে’।
ড্রেশচার এ-এম-পি-টি-পি’র আওতাধীন স্টুডিওর মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে তারা ‘বাণিজ্যের প্রকরণকে যতটা বদলে ফেলেছে ততটা করতে তারা পারে না এবং আশা করতে পারে না যে এভাবে চুক্তিরও বদল হয়ে যাবে’। এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের স্ট্রিমিং-এর ফলে অভিনেতা, রচয়িতা এবং অন্যান্যদের অবশিষ্ট আয়ের ক্রমসংকোচনেরই দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছিলেন। পরম্পরাগত ভাবেই অবশিষ্ট আয় বিনোদন শিল্পের কর্মীদের আয়ের এক মুখ্য অংশ হয়ে এসেছে।
চুক্তি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এ-আই বা কৃত্রিম মেধা ব্যবহার সম্পর্কিত প্রস্তাবে বলা হয় যে অভিনেতাদের এক দিনের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাদের স্বরূপ বা লাইকনেস কম্পিউটারে স্ক্যান করে নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিনা সম্মতি বা পারিশ্রমিকে চিরদিনের জন্যে সেই স্বরূপগুলি স্টুডিওগুলিকে ব্যবহারের অধিকারের বিষয়টিও সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখিত হয়।
ড্রেশচারের বক্তব্য হলিউডের লোভী শিল্পমহলকে জোরালো ভাষায় অভিযুক্ত করেছে এবং সমগ্র শ্রমিক আন্দোলনের কাছে এই সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে ড্রেশচারের বক্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিপলস ওয়ার্ল্ড’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এখানে তার বঙ্গানুবাদ তুলে ধরা হল।)
সারা পৃথিবীর চোখ এবং বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণির চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই মুহূর্তে এখানে যা ঘটছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের সাথে এই মুহূর্তে যা হয়ে চলেছে তা শ্রমিক শ্রেণির জন্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটছে। এটা তখনই ঘটে যখন মালিকেরা ওয়াল স্ট্রিট এবং তাদের লোভকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যাদের সুবাদে এই ব্যবস্থা চলছে তাদের ভুলে যান।
আমরা একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি এবং সেটাই আমরা এই মুহূর্তে অনুভব করছি। এটা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী একটি সময়পর্ব আমাদের জন্যে। আমরা মন থেকেই ভেবেছিলাম, হয়ত এই ধর্মঘটকে আমরা শেষ পর্যন্ত এড়াতে পারবো। এই পদক্ষেপের গুরুত্ব আমি কিংবা আমাদের মধ্যস্ততাকারী সমিতি বা আমাদের পরিচালন সমিতির সদস্যরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয় নি যারা সর্বসম্মতিতে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এটা অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় যার অভিঘাত দেশব্যাপী এবং সারা পৃথিবী জুড়ে হাজার হাজার, যদি লক্ষ লক্ষ না-ও বলি, মানুষের ওপর পড়বে। শুধু এই ইউনিয়নের সদস্যরাই নয়, অন্য শিল্পক্ষেত্র যার জনগন আমাদের শিল্পক্ষেত্রের সদস্যদের পরিষেবা প্রদান করে তারাও এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এবং ফলেই এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে আমাদেরকে এই পথসন্ধিতে এসে দাঁড়াতে হল। এ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।
এখানে আমরা ভুক্তভোগীর দলে। একটি লোভী ব্যবস্থা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যাদের সাথে আমরা ব্যবসায় সম্পৃক্ত তারা আমাদের সাথে এমন আচরণ করতে পারে এটা দেখে আমি স্তম্ভিত। সত্যি কথা বলতে কী, আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারি না যে আমরা আসলেই অনেক বিষয়েই কতটা আলাদা। যখন তাদের কর্মকর্তাদের তারা শত শত মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, তখন তারা কী করে যে ডাইনে বাঁয়ে অর্থ ক্ষয় হচ্ছে বলে দারিদ্র্যের দোহাই দিতে পারে! এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর! তীব্র নিন্দা করছি তাদের। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে একটি ভুল দিকে দাঁড়িয়ে আছে তারা।
আমরা পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গঠন করতে সমর্থ হয়েছি। আমাদের সংগঠন, আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলি এবং সারা দুনিয়া জুড়ে থাকা সংগঠনগুলি, এমনকী শ্রমিক সংগঠনগুলিও, আজ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তার কারণ, একটা সময়ে এসে সব ছলাকলা ফাঁস হয়ে গেছে। বিধ্বস্ত, প্রান্তিকায়িত, অসম্মানিত এবং অমর্যাদাকর পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে পারে না। আমাদের বাণিজ্য জগতের সামগ্রিক পরিবর্তন হয়ে গেছে স্ট্রিমিং, ডিজিটাল এবং কৃত্রিম মেধার আগমনের সাথে সাথে। এটাই ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ, এটাই সত্যের মুহূর্ত। এখন যদি আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারি, তবে আমরা সকলেই সংকটে নিক্ষিপ্ত হব।
যন্ত্র এবং বৃহৎ ব্যবসা আজ আমাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আমাদেরকে সর্বনাশের দোড়গোড়ায় নিয়ে এসেছে। আমরা আর আমাদের পরিবার ছাড়া আর কে ভাবিত হবে এই মুহূর্তে ওয়াল স্ট্রিট নিয়ে! বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকেরই জরুরি প্রয়োজনে হাতে ৫০০ ডলারের বেশি অর্থ নেই। এটা একটা বড় সমস্যা এবং এর চাপ আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। কিন্তু একটা সময় আসে যখন বলতে হয়, ‘না, এই অবস্থা আমরা আর মেনে নিতে পারছি না। তোমরা উন্মাদ হয়ে পড়েছো! কী করছো তোমরা এসব? কেনইবা করছো এসব?’
ব্যক্তিগত আলোচনায় ওরা সবাই বলে যে আমরাই নাকি এই চাকাটার কেন্দ্র। এরা সকলে আমাদের শিল্প নিয়ে একটা জোড়াতালি করে চলেছে। সমস্ত কথাবার্তাই অর্থহীন হয়ে পড়ে যদি সেই মত কোনো উদ্যোগ না থাকে। প্রকৃতপক্ষে কোনো উদ্যোগই কোথাও ছিল না। এটা অত্যন্ত অপমানকর। সেজন্যেই আমরা আমাদের সংগঠনের ইতিহাসে ধর্মঘটের অনুমোদনের বৃহত্তম ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এক ব্যাপকতম শক্তি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য গড়ে তুলেছি। এখানে দাঁড়িয়ে সেই কঠিন সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এটা একটা খুব বড় বিষয়। এটা সত্যিই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত যা শ্রমক্ষেত্রের প্রতিটি ব্যক্তির ওপর অভিঘাত ফেলবে। আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা এই মুহূর্তে একটি শ্রম-বান্ধব দেশে বসবাস করছি। তারপরও আমরা যে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি তারা এতটাই শ্রম-বৈরী এবং বধির যে আমাদের কথাই অনুধাবন করতে পারছে না। ব্যবসার প্রকরণে তোমরা যে বদল এনেছো তা তোমরা করতে পারো না। আর তার পথ ধরে আমাদের সাথে চুক্তিও পাল্টে যাবে এমন আশাও করতে পারো না।
আমাদেরকে অবহেলিত করার বিনিময়ে ক্রমান্বয়ে চুক্তি বদল হয়ে চলবে, যেমনটা বাণিজ্যের এই নতুন প্রকরণের মাধ্যমে আমাদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হল, তা আমরা হতে দেবো না। আমাদের নিয়ে কী হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে- ডুবন্ত টাইটানিকের আসবাবপত্রের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে ফেরা? এটা পুরোপুরি পাগলামো।
অতএব আপনাদের কায়দাবাজী ধরা পড়ে গেছে, এ-এম-পি-টি-পি (অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার্স এন্ড টেলিভিশন প্রডিউসারস)! আমরা সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। এবার আপনারা টের পাবেন! আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা সোজা হয়েই দাঁড়াই। আমাদের অবদানের জন্যে ন্যায়সঙ্গত মর্যাদা ও সম্মানের দাবি জানাচ্ছি আমরা। আমাদের ছাড়া তোমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই তোমাদের ধনের অংশীদারিত্ব দাও আমাদের।
ধন্যবাদ
ভাষান্তরঃ শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার
প্রকাশের তারিখ: ১৮-জুলাই-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
