সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ভাষা― রাজনীতির 'প্যাঁচাল'
অম্লান দেব
চণ্ডাল এই কাজ করতে পারেনি, পালিয়েছে। ‘রাজা তখন অনুচরবর্গকে আজ্ঞা করিলেন, ‘দোসরা লোক লইয়া আইস — মুসলমান।” এই মুসলমান পেশায় কসাই। নিজের শহরে সে ‘গোরু কাটিতে পারিত না’, ‘নগরপ্রান্তে বকরি মেড়া’ কাটে ও বেচে। ‘অতিশয় বলবান’ ও ‘কদাকার’ সেই মুসলমান কসাই বেত উঁচু করে সন্ন্যাসিনীকে বলিল, ‘কাপড়া উতার — তেরি গোস্ত টুক্রা টুক্রা করকে হাম দোকানমে বেচেঙ্গে।’ কদাকার, কসাই মুসলমান দ্বারা একজন মহিলার মাংস কেটে বেচার আকাঙ্ক্ষা তৈরির নৃশংসতাকে উপেক্ষা করেও এখানে আমাদের একটু থামতে হয়, কারণ ১৮৮৭ সালের একটি বাংলা উপন্যাসের একজন মুসলমান চরিত্র বাংলায় কথা বলছেন না! বাংলা কি তবে হিন্দুর ভাষা, মুসলমানের নয়? ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন তবে কোন ভাষার জন্য হয়েছিল? ১৮৮১ সালের লোকগণনা অনুযায়ী বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের লোকসংখ্যার ৫০.১৬% মুসলমান, ৪৮.৪৫% হিন্দু। ১৮৯১ সালের গণনাতেও বাংলায় হিন্দুর থেকে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। ‘সীতারাম’-এর সমকালে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা কি বঙ্কিমের কদাকার কসাই মুসলমানের মতো ভাষাতেই কথা বলতেন?

‘মাথার ভিতরে গিট্টু পাকায়া যাইতেছে। ঢুকতেছে যা তার থিকা বাইরিয়া যাইতেছে বেশি। চিন্তাভাবনাগুলারে এক জায়গায় কইরা তারপর তো কথা কওয়া লাগে। ফাকুয়া ফাল পাইড়া লাভ নাই। চেষ্টা একটা নিয়া দেখা যাইতে পারে, কিন্তু শ্যাষে গিয়া কী হবে আগে থিকা কইত্যে আরবো না।’
প্রিয় পাঠক, দীর্ঘ বিলাপের যে সামান্য অংশ আপনি পড়লেন, তা ময়মনসিংহ থেকে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামে পালিয়ে আসা এক রিফিউজি পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের মাতৃভাষা। আমি যে ভাষায় ভাবি সেই ভাষায় প্রবন্ধ লেখার নিয়ম নেই। তাই হাটের মাঝখানেই জামাকাপড় বদলে নিতে হল। বড়ই আফসোস! মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের আশেপাশে দাঁড়িয়ে কাগজ-কলমের ভেতর থেকে যে ভাষায় আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি, তা আমার মাতৃভাষা নয়!
ধরুন, আপনি অনেকদিন পর শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। ফেব্রুয়ারি মাস। লেপ-কম্বল সরিয়ে রাখা হয়েছে, ভোরের দিকে তবুও একটা চাদর লাগে। পড়ে থাকা সাইকেলে চড়ে আসুন, আমরা ঘুরতে যাই আমাদের ভাষা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন গলি-রাস্তায় — কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ক্লাস-করিডোরে ঝুলে আছে আমার দুখিনী বর্ণমালা। ‘একুশ’-এর চিন্তা-তর্ক নিয়ে ভরে উঠেছে সেমিনার। চারিদিকে ‘ওয়াও!’ । আপনি হ্যাণ্ডেল ঘুরিয়ে নিন। শব্দের পরে শব্দ সাজিয়ে কীভাবে তৈরি হয় ভাষার শরীর; তৎসম-তদ্ভব, হ্রস্ব ‘ই’- দীর্ঘ ‘ঊ’ সংক্রান্ত জরুরী গবেষণাকে কিছুক্ষণের জন্য ডানদিকে রেখে আপনি বাঁদিকে তাকান। রাজনীতিই কি সেই অমোঘ নিয়ন্ত্রক নয় যা যুগে যুগে ভাষার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে আসলে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে আপনাকে? এই যে আপনি যে ভাষায় চিন্তা করেন সেই ভাষায় সভা-সমিতিতে কথা বলতে পারেন না, পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারেন না — এই গ্রহণ-বর্জন অথবা মান্য-অমান্যর ধারণা তৈরি হয় কোন্ পথে? ৫২’র ভাষা আন্দোলনের রাজনীতি বা সেই রাজনীতির ক্রম ইতিহাস কি এইসব বুঝতে আমাদের সাহায্য করতে পারে? এই পর্যন্ত ‘ফ্যাড়া প্যাঁচাল’ বন্ধ করে আসুন সাইকেল দাঁড় করাই। যেখানে আমরা জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বসবো সেই জায়গাটার বয়স ১৮৮৭ সাল। এই বছরেই বই হিসাবে বেরিয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ‘সীতারাম’।
সন্ন্যাসিনী জয়ন্তীকে বেত মারার হুকুম দিয়েছেন রাজা সীতারাম। চণ্ডাল এই কাজ করতে পারেনি, পালিয়েছে। ‘রাজা তখন অনুচরবর্গকে আজ্ঞা করিলেন, ‘দোসরা লোক লইয়া আইস — মুসলমান।” এই মুসলমান পেশায় কসাই। নিজের শহরে সে ‘গোরু কাটিতে পারিত না’, ‘নগরপ্রান্তে বকরি মেড়া’ কাটে ও বেচে। ‘অতিশয় বলবান’ ও ‘কদাকার’ সেই মুসলমান কসাই বেত উঁচু করে সন্ন্যাসিনীকে বলিল, ‘কাপড়া উতার — তেরি গোস্ত টুক্রা টুক্রা করকে হাম দোকানমে বেচেঙ্গে।’ কদাকার, কসাই মুসলমান দ্বারা একজন মহিলার মাংস কেটে বেচার আকাঙ্ক্ষা তৈরির নৃশংসতাকে উপেক্ষা করেও এখানে আমাদের একটু থামতে হয়, কারণ ১৮৮৭ সালের একটি বাংলা উপন্যাসের একজন মুসলমান চরিত্র বাংলায় কথা বলছেন না! বাংলা কি তবে হিন্দুর ভাষা, মুসলমানের নয়? ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন তবে কোন ভাষার জন্য হয়েছিল? ১৮৮১ সালের লোকগণনা অনুযায়ী বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের লোকসংখ্যার ৫০.১৬% মুসলমান, ৪৮.৪৫% হিন্দু। ১৮৯১ সালের গণনাতেও বাংলায় হিন্দুর থেকে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। ‘সীতারাম’-এর সমকালে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা কি বঙ্কিমের কদাকার কসাই মুসলমানের মতো ভাষাতেই কথা বলতেন?
“আমাদের বঙ্গীয় মুসলমানের কোনো ভাষা নাই। শরীফ সন্তানেরা এবং তাহাদের খেদমতদারগণ উর্দু বলেন বাংলা ভাষা ঘৃণা করেন... পাঠশালার হিন্দু শিক্ষকের নিকট হিন্দুর প্রকাশিত পুস্তক পাঠ করিয়া যাহারা বাংলা শিখিয়াছেন, তাহারা তোতাপাখির মত সংস্কৃতমূলক সাধু বাংলা শিখিয়াছেন। তাহারা বলিবার সময় ও লিখিবার কালে সংস্কৃত পণ্ডিতগণের ব্যবহৃত সাধু ভাষার শব্দ প্রয়োগ করিয়া থাকেন।”৩ বঙ্কিমচন্দ্র ও অন্যান্য হিন্দু লেখকরা উপন্যাসে-নাটকে যেসব মুসলমান চরিত্র তৈরি করেছিলেন তা শিক্ষিত মুসলমানকে ব্যথিত করছিল, ক্রুদ্ধ করছিল। কিন্তু আত্ম-আবিষ্কারের প্রেরণায়, স্বাতন্ত্র্যবোধের তাগিদে বাঙালি মুসলমান যে ভাষাগত পরিচয় তৈরি করতে চাইছিলেন তা নিয়েও মতভেদ কম নয়।
‘যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়
নিজ দেশত্যাগী কেন বিদেশে না যায়।’৪
সপ্তদশ শতকের কবি আব্দুল হাকিম এহেন নিদান দেওয়ার পরও বাংলা-উর্দুর বিবাদ মেটানো যায়নি। ষোড়শ-সপ্তদশ শতকে মোগল সেনাবাহিনীর ছাউনি থেকে বেরিয়ে উত্তর ভারতের হিন্দুস্থানী জুবানের রাস্তা ধরে সুবাদার, মনসবদার, জায়গীরদার ও শাসকের আরো হোমরা-চোমরাদের সঙ্গে ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, কলকাতায় এসে পৌঁছেছিল উর্দু। বাদশাহী সময় থেকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী থাকা পর্যন্ত কলকাতায় এসে বসবাস করেন বহু অবাঙালি, উর্দুভাষী মুসলমান। জীবিকার তাগিদে রাজধানীর দিকে আসা ছিল। ছিল শিক্ষার সুযোগ। ‘কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পাঞ্জাব থেকে রেঙ্গুন পর্যন্ত অঞ্চলসমূহ ছিল। কলিকাতা মাদ্রাসায় কাশ্মীর থেকে ছাত্ররা অধ্যয়ন করতে আসতো।’৫ বিদ্রোহ দমন করার জন্য ইংরেজরা বিভিন্ন রাজপরিবারকে নিয়ে আসেন কলকাতায়। মুর্শিদাবাদের নবাব গার্ডেনরিচে, মহীশূরের নবাব টালিগঞ্জে, অযোধ্যার নবাব মেটিয়াবুরুজে পরিবার লোকলস্কর সহ বসবাস করতে শুরু করেন। যাঁরাই বাইরে থেকে বাংলায় এসেছেন তাঁরা সকলেই আরব, তুর্কি বা পাঠানদের বংশধর - এইরকম দাবি করা হত। বংশগত আভিজাত্য ও অর্থসংগতির বোধ যে বিভাজন তৈরি করেছিল তার একদিকে ছিল শহুরে উর্দুভাষী ‘শরিফ’ বা ‘আশরাফ’ উল্টোদিকের বাকি সবাই যাদের ভাষা মূলত বাংলা এবং যাদের ‘আজলাফ’ বা ‘আতরাফ’ বলা হত।
“In almost all the villages some descendants of Prophet Muhammad or the caliphs of Islam, or at least descendants of some Mughal or Pathan began to crop up. They would not like to call themselves Bengalis, because that would show that they were converts and they thought the caste Hindus would look down upon them as non-Aryans.”৬
এমনকি,
“For a long time a Muslim was not accepted as an aristocrat or a cultured person if he could not recite Persian couplets, appreciate ghazals, or Urdu kawalis.”৭
বিত্ত, ক্ষমতা, বংশগত কৌলিন্যের চিহ্ন উর্দু। কিন্তু এর বাইরে বিরাট সাধারণ মুসলমান জনসমাজ, তারা কোন্ ভাষায় কথা বলবে?
“বাংলার অর্ধেকের অধিক অধিবাসী মুসলমান তাহারা কথিত ভাষায় নিত্য যে সমস্ত শব্দ ব্যবহার করে, তাহাদের লিখিত সাহিত্যে তাহা ব্যবহার হইতে বঞ্চিত হইবে কোন যুক্তি বলে?... স্কুলে দেখা যায় ছাত্রগণ পানি খাইতে যাইব বলিলেই সকলে হাসিয়া উঠে, বাধ্য হইয়া তাহাকে জল খাইতে হয়। ব্যাপার দেখিয়া মনে হয়, মুসলমান যেন হিন্দু ভাষায় কথা কহিতেছে।"৮
অতএব বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব যাপনের ভাব বইতে পারে এমন ভাষা চাই। উর্দু ও বাংলার এই বিরোধাভাসকে স্পর্শ না করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত পৌঁছনো সম্ভব নয়।
একদিকে বাংলা ভাষার প্রতি অভিযোগ যে এই ভাষা সংস্কৃত ঘেঁষা — পৌত্তলিকতার হাজার ছাপওয়ালা, অন্যদিকে উর্দুও আমার মাতৃভাষা নয় — এই বিরোধকে জিইয়ে রেখেই গঙ্গা-পদ্মা দিয়ে বয়ে গেল লাহোর প্রস্তাব। দুয়ারে এসে হাজির হলো ১৯৪৭। পাকিস্তান তৈরি, ভারতীয় মুসলমানের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও জাতিচেতনার লড়াইয়ে এগিয়ে দেওয়া হল উর্দুকে। ভারতীয় ইসলামি ‘তমদ্দুন’–এর প্রতীক হয়ে উঠল উর্দু। বাঙালি মুসলমানের ভাষাকে ব্রাত্য করেই নবগঠিত পাকিস্তানের গান হয়ে উঠল ‘পাক সর জমিন সাদ বাদ’। হ্যাঁ উর্দুতেই।
পাকিস্তান তৈরি হওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের এনভেলাপ, পোস্টকার্ড, ডাকটিকিট ইত্যাদিতে ইংরেজি, উর্দুর পাশাপাশি বাংলার অনুপস্থিতি বাঙালি মুসলমানকে বুঝিয়ে দিল, এতদিন যা ছিল অর্থ — উচ্চশ্রেণির অহংকার, এবার তা-ই হতে চলেছে শাসকের ফতোয়া, রাষ্ট্রের নিদান। তাই ১৯৪৮ থেকে শুরু হল আরেকবার বাঙালি মুসলমানের ভাষার অধিকারের লড়াই, ১৯৫২-তে গিয়ে যার বিস্ফোরণ আমরা প্রত্যক্ষ করলাম মাত্র।
আমাদের প্রস্তাবে ভাষা আন্দোলন নিছকই ভাষা বিষয়ক ঘটনা নয় এবং আকস্মিক বা বিছিন্ন ঘটনাও নয়। এই আন্দোলন একটি অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতার প্রকাশ এবং এর মধ্যে দিয়ে বাঙালি মুসলমানের ভাষাচেতনা তথা জাতীয়তাবোধের প্রকাশ ঘটেছে। ব্রিটিশ আমলে ইংরিজি শিক্ষায় মুসলমানের চেয়ে হিন্দুরা এগিয়ে ছিল, এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে হিন্দু প্রাধান্য পাকিস্তান তৈরির পক্ষে একটা বড় যুক্তি ছিল। মুসলিম শিক্ষিত সমাজের আশা ছিল পাকিস্তানে হিন্দু আধিপত্যের প্রতিকার হবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বাঙালি মুসলমান বুঝল, উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে সেই একই ব্যাপার ঘটতেই থাকবে। এর পাশাপাশি ছিল পশ্চিমের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিগত অযুত ব্যবধান। ভাষার ওপর আঘাত যেমন আর্থ সামাজিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল নিজস্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার লড়াই। আর সে কারণেই – “একুশের চেতনা ছিল গণতন্ত্রের চেতনা, বাঙালিত্বের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা – সকলের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের চেতনা। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নটি ছিল তাৎক্ষণিক, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত ছিল সুদূরপ্রসারী মূল্যবোধ”।৯
ভাগ করনেওয়ালা শাসক ভেবেছিল, দ্বিজাতিতত্ত্বভিত্তিক পাকিস্তান আন্দোলনকে বাঙালি মুসলমান যেমন সমর্থন জানিয়েছিল, তেমনি শিশু রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে পাকিস্তান রক্ষার আবেগে উর্দুকেও তারা মেনে নেবে। ধর্মীয় ঐক্যের স্লোগান পূর্ব–পশ্চিমের বৈষম্য বা পার্থক্যকে মুছে দিতে পারেনি, বরং ভাষার ঐক্যবোধ বাঙালি মুসলমানকে রাস্তায়, মিছিলে পাশের মানুষের পাশে এনে দাঁড় করিয়েছিল। ‘আমি যে আসলে আমি, এবং আমি যে আমারই মতো, ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি মুসলমানের সেই উচ্চারণের অভিজ্ঞান। নিজেকে, নিজের ইতিহাসকে আবিস্কারের দিনই ২১ শে’র দিন। বাদবাকি, আমার জিভে আমি ‘জল’ বলব না ‘পানি’ – এই ক্যাচাল করতে চাওয়া, ‘পিঠা’ ভাগ করার স্বপ্ন দেখা বানরসেনাদেরও ‘হেপি মাতৃভাষা দিবস’।
এদের নিয়ে ‘প্যাঁচাল’ না হয় আর একদিন!
তথ্যসূত্র :
১. ‘সীতারাম’ উপন্যাসের সমস্ত উদ্ধৃতি বঙ্কিম রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ থেকে গৃহীত।
২. ঐ।
৩.উদ্ধৃত, চৌধুরী সেকান্দর মোহাম্মদ, ‘বাংলার মুসলিম সমাজ ও রাজনীতি’, অ্যাডর্ণ পাবলিকেশন, ২০১৩, পৃ. ২২৪।
৪.শরীফ আহমদ, ‘মধ্যযুগের সাহিত্যে সমাজ ও সংস্কৃতির ছাপ’, ১৯৭৭, পৃ. ৮৩।
৫.উদ্ধৃত, ইসলাম নজরুল, ‘বাংলায় হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক’, মিত্র ও ঘোষ, ১৪১২, পৃ. ২০০।
৬.উদ্ধৃত, সরকার পবিত্র, ‘ভাষা, দেশ, কাল’, ১৩৯২, পৃ. ১৯৯।
৭. ঐ, পৃ. ২০০।
৮. চৌধুরী সেকান্দর মোহাম্মদ, ‘পূর্বসূত্র’, পৃ. ২২৬।
৯. আহমদ রফিক, ঘোষ বিশ্বজিৎ (সম্পা,), ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর, মাওলা ব্রাদার্স, ২০০৩, পৃ.১৩২।
প্রকাশের তারিখ: ২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
