সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সারনা, ওআরপি এবং ‘আদিবাসিয়ত’
কুমার রাণা
জনগণনায় অন্যান্য ধর্মবিশ্বাস বা ওআরপি বিলুপ্তির প্রস্তাবটির দু’টি অভীষ্ট: আদিবাসী সমাজকে হিন্দু পরিচিতিতে বিলীন করে দেওয়া, আদিবাসীদের মধ্যে আঞ্চলিক, জাতিসত্তাগত এবং ধর্মীয় পার্থকক্যে উস্কানি দিয়ে একটি সম্ভাব্য সার্বিক আদিবাসী সত্তাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। আদিবাসীদের ধর্মবিশ্বাসের বিষয়টি একান্তভাবে আদিবাসী সমাজের বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। গণতন্ত্র চর্চার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকেই একে বিবেচনায় আনতে হবে– ঝাড়খণ্ড ঠেকলে পশ্চিমবঙ্গ, সর্বত্র।

‘খুবই সতর্ক থাকুন! জনগণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। গণনাকর্মীরা এসে চাপ দেবে আপনার ধর্ম পরিচয় হিন্দু বলার জন্য। তাদের কথায় ভুলবেন না, বলবেন, সারনাই আপনার ধর্ম। সারনা আদিবাসীদের পরিচিতি। কোনোভাবেই আমরা একে হারিয়ে যেতে দেব না।’
এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডে এই কথাগুলো সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে।
ভারত সরকারের তরফে ‘অন্যান্য ধর্মীয় আচরণকারী’ বা ওআরপি সূচক (সূচক ৭) বাতিল করার প্রস্তাব এসেছে। আর সঙ্গে সঙ্গে জনগণনায় সারনা-কে একটি স্বতন্ত্র জনগণনা সূচক বা সেনসাস কোড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিটি ঝাড়খণ্ড-সহ পড়শী রাজ্যগুলিতে আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। একাধিক আদিবাসী সংগঠন এই প্রস্তাবটিকে আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আদিবাসী খ্রিস্টানদের তফসিলি জনজাতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
মে মাসের মাঝামাঝি দুমকার এক পথসভায় শুনলাম, একজন আদিবাসী সমাজকর্মীর কথা। তাঁর বক্তব্য, আসলে এই পদক্ষেপ ‘যে আদিবাসীরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়ছে, তার উপর একটি আঘাত।’ তাঁর মতে, সরকার শুধুমাত্র সারনা-র স্বীকৃতির দাবিকেই খারিজ করছে না, একইসঙ্গে অন্যান্য ধর্মবিশ্বাস বা ওআরপি-র অধীনে মূলবাসীদের ধর্মীয় স্বপরিচয়ের যে সীমিত সুযোগটুকু ছিল, তাকেও নির্মূল করে দিতে চাইছে।
তালিকা থেকে বেমালুম ছাঁটাই করে দেওয়া নিয়ে প্রচার-আন্দোলনের একটা প্রধান বক্তব্য: সরকারের এই প্রস্তাব আদিবাসীদের পরিচতি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা— উভয়কেই দুর্বল করার একটি চেষ্টা। এর ফলে পৃথক সারনা কোডের দাবিটি পরিণত হয়েছে ‘আদিবাসিয়ত’ বা আদিবাসী গোষ্ঠীসত্তার এক বৃহত্তর অভিব্যক্তিতে। এই প্রচারাভিযান ঝাড়খণ্ডের বাইরেও সমর্থন পাচ্ছে। তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে ছত্তিশগড়ের জশপুরে ২৩ মে এক বিশাল সমাবেশে শোনা গিয়েছে এই দাবিরই প্রতিধ্বনি।
এর বিপরীতে, সরকারের ধামাধরা সংগঠনগুলি আদিবাসীদের বৃহত্তর হিন্দু সম্প্রদায়ের খোপে ঠেলে দিতে তৎপরতা বাড়িয়েছে। ২৪ মে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ (জেএসএম) নয়াদিল্লিতে একটি সমাবেশ করে, যার স্লোগান ছিল, ‘তু ম্যায় এক রক্ত, বনবাসী-গ্রামবাসী-নগরবাসী, হম সব ভারতবাসী’ (তুমি-আমি একই রক্ত, বনবাসী-গ্রামবাসী-নগরবাসী, আমরা সবাই ভারতীয়)। ‘আদিবাসী’-র পরিবর্তে ‘বনবাসী’ শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ— কারণ হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এই শব্দবন্ধটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসার চেষ্টা করছে— যাতে এই শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আদিবাসী অভিধায় যে মূলবাসিত্বের স্বীকৃতি রয়েছে, তাকে অস্বীকার করা যায়। এই সভার প্রধান বক্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখ থেকে বারংবার শোনা গিয়েছে ‘বনবাসী’ শব্দটা।
আদিবাসীদের আশঙ্কা অতএব অমূলক নয়। সরকার একই তিনটি কাজ করছে: ওআরপি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব, খ্রিস্টান আদিবাসীদের তফসিলি জনজাতি তালিকা থেকে ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ, এবং সারনা কোডের দাবিকে খারিজ। এই সবের আসল উদ্দেশ্য হল পরিচিতিসত্তা, প্রতিনিধিত্ব এবং ক্ষমতার রাজনীতিকে নতুন রূপ দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
জনবিন্যাসের চিত্রটি একবার দেখা যাক। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, ৭৯.৪ লক্ষ ভারতীয়— অর্থাৎ, দেশের মোট জনসংখ্যার ০.৬৬ শতাংশকে— ওআরপি-র অধীন হিসেবে গণনা করা হয়েছিল। এই জনসংখ্যার সর্ববৃহৎ বসতি রয়েছে ঝাড়খণ্ড (৪২.৪ লক্ষ), মধ্যপ্রদেশ (৬ লক্ষ), ছত্তিশগড় (৪.৯ লক্ষ), ওড়িশা (৪.৮ লক্ষ) এবং অরুণাচল প্রদেশে (৩.৬ লক্ষ)।
জাতীয় স্তরে, ওআরপি বিভাগের মধ্যে সারনা হল বৃহত্তম আদিবাসী ধর্ম। ২০১১-তে, সমস্ত ওআরপি অনুসারীদের প্রায় ৬২.৫ শতাংশ নিজেদেরকে সারনা অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যদি সারি ধর্মের অনুসারীদেরও এতে যোগ করা হয়, যাঁরা একই বৃহত্তর সম্প্রদায়ের, বিশেষত সাঁওতালদের অংশ, তাহলে এই অনুপাত আরও বাড়বে। পরবর্তী বৃহত্তম বিভাগগুলি— গোণ্ড/গোন্ডি এবং সারি ধর্ম (যদি পৃথক হিসেবে বিবেচনা করা হয়)— যথাক্রমে মাত্র ১২.৯ শতাংশ এবং ৬.৪ শতাংশ ছিল।
এই পরিসংখ্যানগুলির রাজনৈতিক তাৎপর্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ঝাড়খণ্ডে। ওআরপি-র অধীনে ৪২.৪ লক্ষ মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১২.৮ শতাংশ। ৪১.৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের সারনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা রাজ্যের ওআরপি জনসংখ্যার ৯৭.৫ শতাংশ। ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের মধ্যে, যাঁরা নিজেদের হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের তুলনায় সারনা অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই জনবিন্যাসগত বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর মতো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পরিচিতিসত্তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন থেকেই অনেকখানি নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। একটি পৃথক সারনা কোডের দাবি হয়ে উঠেছে এক জোরালো দাবি। বস্তুত, ঝাড়খণ্ডে সারনা ধর্ম পরিচিতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংযোগ একটি বৈশিষ্ট্য; ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের জনগণনাতেও তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছিল।
পূর্ব ও মধ্য ভারতে বিজেপির সমর্থনভিত্তির ব্যাপক বিস্তারের মধ্যেও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার নির্বাচনী সাফল্য আদিবাসী পরিচিতিসত্তার রাজনৈতিক শক্তিরই সাক্ষ্য দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই, ওআরপি বাতিলের বিষয়টি জনগণনার একটি সূচকের অপসারণ মাত্র নয়, এর থেকে আরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যদি সারনা অনুসারীদের হিন্দু ধর্মের পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়, তবে সরকারি পরিসংখ্যানে তাদের আদিবাসী সম্প্রদায়গত পরিচিতি উধাও হয়ে যাবে। এমন পদক্ষেপ এই দাবিকে জোরদার করবে যে আদিবাসীরা হিন্দু সমাজেরই অঙ্গ– যেটা বিজেপ-আরএসএস বলে আসছে। পাশাপাশি, আদিবাসিন্দা পরিচিতির সুস্পষ্ট একটি আধারে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার ব্যাপারটাকে দুর্বল করে দেওয়া হবে।
📲এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
এর প্রভাব ঝাড়খণ্ডের বাইরেও বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গ— যেখানে আদিবাসীদের মধ্যে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, যাদের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং গোষ্ঠীগত মিল রয়েছে— সেখানেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ওআরপি জনসংখ্যা রয়েছে। ২০১১-র জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে প্রায় দশ লক্ষ মানুষকে ওআরপি-র অধীনে গণনা করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে সারনা এবং সারি ধর্ম অনুসারীরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ।
এই বিষয়টি আদিবাসী প্রশ্নে বিজেপির নীতিগত স্ববিরোধিতাকেই বেআব্রু করে। আদিবাসীদের মধ্যে যখন বিজেপির প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে তখনও তার মধ্যে থাকা অনেক গোষ্ঠীই হিন্দুধর্ম বহির্ভূত নিজেদের ধর্মীয় পরিচিতিকে বজায় রেখেছে। ঝাড়খণ্ডের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে কীভাবে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের দাবি সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং আদিবাসী অধিকারের বৃহত্তর দাবিতে রূপান্তরিত হয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও রাজনৈতিক স্বৈরাচারের ছককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
তাদের এই বৈচিত্র্য আবার আদিবাসী রাজনীতিতে সম্ভাব্য ফাটলের জন্ম দিতে পারে। বিশেষত, সারনা-কেন্দ্রিক আন্দোলনকে সমস্ত আদিবাসী সমাজের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তির বদলে শুধুমাত্র তাদের ধর্মবিশ্বাসগত একটিমাত্র আঞ্চলিক ধারার আত্মপ্রতিষ্ঠা হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে সারনাই আদিবাসী অভিব্যক্তির মুখ্য প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু এটাই একমাত্র আদি ধর্মীয় পরম্পরা নয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অরুণাচল প্রদেশে, প্রায় ৯০ শতাংশ ওআরপি জনগোষ্ঠী দোনি পোলো সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। মণিপুরে, ৯৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ সানামাহি অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। মেঘালয়ে, আদি জনগোষ্ঠীগুলি খাসি, নিয়ামত্রে এবং সংসারেক পরম্পরা অনুসরণ করে। অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের ওআরপি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হেরাকা ঐতিহ্যের প্রাধান্য রয়েছে। সিকিমের অনেক আদিবাসী নিজেদেরকে ইউমাসাম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পরম্পরার সঙ্গে বলে চিহ্নিত করেন।
এই সমস্ত পরম্পরাগুলি পরস্পর স্বতন্ত্র ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে নিহিত। এবং সারনার বিকাশের সঙ্গে এদের বিকাশ সম্পর্কহীন। ফলত, সারনা স্বতঃসিদ্ধভাবে সারা দেশের আদিবাসী সমাজের অভিন্ন ধর্মীয় পরিচিতির ভূমিকা পালন নাও করতে পারে।
সংঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ জেএসএম-এর নতুন দিল্লির সমাবেশে উত্তরপূর্বের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির সংখ্যা ছিল বেশ ভালো। যদিও, একে প্রকাশ্যে ‘এক আদিবাসী সংস্কৃতি’ এবং ‘জাতীয় ঐক্য’-এর উদ্যাপন হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে, কিন্তু এটি এও দেখিয়েছে ধর্মবিশ্বাসের পরিচিতি কাঠামোর বাইরেও আদিবাসী সমাজের নানা গোষ্ঠীকে সংগঠিত করা সম্ভব।
সংগঠিত করার এই ধরনটির একটি কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এটি ভারতীয় আদিবাসী সমাজের অভ্যন্তরে বিরাজমান আঞ্চলিক পার্থক্যগুলোকে প্রকট করে তুলতে পারে। উত্তরপূর্বের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্মসাধনার পৃথকতর ধারাগুলির সমান্তরালে সারনাকে যদি প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র ঝাড়খণ্ড-কেন্দ্রিক প্রস্তাবনা হিসেবে দেখা হয়, বা দেখানো যায়, তখন আদিবাসী সমাজের একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। উল্টোদিকে, ঝাড়খণ্ড থেকে অরুণাচল প্রদেশ অবধি বিস্তৃত আদিবাসী সমাজের ধর্মবিশ্বাসের স্বীকৃতির একটি ব্যাপকতম আন্দোলন হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক একীকৃতকরণের ছককে চ্যালেঞ্জের মুখ দাঁড় করাতে সক্ষম।
ফলে অন্যান্য ধর্মবিশ্বাস বা ওআরপি-কেন্দ্রিক বিতর্কটি জনগণনার চেয়ে বৃহত্তর তাৎপর্য বহন করে। বিষয়টি মূলগতভাবে ভারতীয় জাতিরাষ্ট্রে আদিবাসী সমাজকে কীভাবে দেখা বা গণ্য করা হবে, তারই একটি লড়াই। ওআরপি-র বিলুপ্তির প্রস্তাবটির দু’টি পরস্পর সম্পর্কিত অভীষ্ট রয়েছে: আদিবাসী সমাজকে হিন্দু পরিচিতিতে বিলীন করে দেওয়া। এবং ভারতীয় আদিবাসী সমাজের অভ্যন্তরে বিরাজমান আঞ্চলিক, জাতিসত্তাগত এবং ধর্মীয় পার্থক্যকে উস্কানি দিয়ে একটি সম্ভাব্য সার্বিক আদিবাসী রাজনীতির সত্তাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
সমস্ত আদিবাসী পরম্পরাকে একটি বৃহত্তর ভূমিসন্তান পরিচিতির সংহতির আধারে সংগঠিত করা আদৌ সম্ভব কিনা, সে-প্রশ্নকে কিছুক্ষণের জন্য সরিয়ে রেখে এটা বলা যায় যে, আদিবাসীদের ধর্মবিশ্বাসের স্বীকৃতির বিষয়টি একান্তভাবে শুধুমাত্র আদিবাসী সমাজের বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। গণতন্ত্র চর্চার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকেই একে বিবেচনায় আনতে হবে।
ভাষান্তর: শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
ঋণ: ন্যাশনাল হেরাল্ড
শিরোনাম মার্কসবাদী পথ পত্রিকার
প্রকাশের তারিখ: ১৩-জুন-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
