Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ভারত ভাবনার উৎস সন্ধানে (২য় পর্ব)

ইরফান হাবিব
যতক্ষণ না হিন্দু মহাসভা/আর.এস.এস. নেতারা সমর্পণ করেন ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দেবার পর গান্ধীজি অনশন প্রত্যাহার করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশে শান্তিও ফিরে আসে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে যে গান্ধীজি সামান্য মানুষ ছিলেন না। প্রচণ্ড সাহসী এই মানুষটি বৃহত্তর কল্যাণের কাজে নিজের আত্মমর্যাদা ও সম্মানকে বিসর্জন দিতেও পিছপা ছিলেন না। দুর্গত মানুষের কাছে তাদের আশ্রয় শিবিরে গান্ধীজি যখন যেতেন তখন ধুলোবালি, ময়লা, কাদা, নোংরা পরিবেশ কোনো কিছুই তিনি গ্রাহ্য না করে নগ্নপদেই যেতেন। হিন্দু ও মুসলিমরা আসলে ভাইবোনের মতো এই বার্তাবহন করে গান্ধীজি হিন্দু ও মুসলিমদের আশ্রয় শিবিরে ঘুরে বেড়াতেন।
bharat vabnar utso sondhane -II

বামপন্থীদের সাহায্যে নেহরু এইসব দাবি জাতীয় কংগ্রেসের সভায় তুলতেন। বস্তুত, ১৯৩১ সালের করাচি কংগ্রেসের প্রস্তাবে (এটি সবাইকে আমি পড়তে বলি) জোর দিয়ে বলা হয় যে, রাষ্ট্রকে অতি অবশ্য ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে, নারী পুরুষের সমান অধিকার থাকবে কৃষকদের হাতে জমি নিতে হবে, তাদের ঋণের বোঝা কমাতে হবে, খাজনা কমাতে হবে এবং মৌলিক শিল্পগুলির নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে থাকবে। আমার মনে হয় করাচি কংগ্রেসের  এইসব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছাড়া ১৯৩০ এবং চল্লিশের দশকে জাতীয় আন্দোলনে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা কখনোই সম্ভব হতো না। আইন অমান্য আন্দোলনে জনগণের মধ্যে যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছিল তার ফলে আইন অমান্য করে অসংখ্য কৃষক জেলবন্দি হন এবং এর ফলে তাঁদের সব কিছু এমনকি সম্পত্তিও হারাতে হয়। মনে রাখতে হবে যে এখনকার সময়ে জেলবন্দি হওয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ আমলে জেলে বন্দি হওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তা সত্ত্বেও ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে দশ লক্ষাধিক মানুষ জেলে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে অনেককেই জমি, বাড়ি, সম্পত্তি সহ সর্বস্ব খোয়াতে হয়। এঁদের অধিকাংশই ছিলেন গরিব মানুষ। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে আইন অমান্য আন্দোলনের একটা পার্থক্য ছিল। এবারের আন্দোলনে মুখ্যত দরিদ্র মানুষ যোগ দিয়েছিলেন যা একটা নতুন বিষয়। আন্দোলন এইভাবে গণচরিত্র গ্রহণ করার ফলে ব্রিটিশ শাসকদের তা মোকাবিলা করা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ে এবং তারা বুঝতে পারেন যে এভাবে এদেশে ব্রিটিশ শাসন চালিয়ে যাওয়াটা আরো দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।

এখানে আমি প্রাক সাতচল্লিশ পর্বে করাচি থেকে প্রকাশিত তদানীন্তন মুসলিম লিগের মুখপত্র দৈনিক পত্রিকা 'ডন'-এ লিখিত একটি নিবন্ধের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এই নিবন্ধে লেখক বলছেন যে, আমাদের পাকিস্তানের দাবিতে আন্দোলনের একটি দুর্বল দিক হলো এই যে, আমাদের জাতির কোনো শহিদ নেই, কোনো জননায়ক নেই। কারণ, পাকিস্তানপন্থীরা কখনোই ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করেননি। তারা শুধু বিরোধিতা করেছেন একই দেশের মানুষ হিন্দুদের। চারিদিকে পর্যবেক্ষণ করে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি? দেখতে পাচ্ছি যে, আজকে যেসব অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়েছে সেখানকার খুল-ই-মিনগারেরা, পাঞ্জাবের কংগ্রেসিরা সিন্ধুপ্রদেশের জাতীয়তাবাদীরা ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করে জেলে গিয়েছেন। অথচ, পাকিস্তানপন্থী নেতারা জেলে যাননি। এটা অবশ্য শুধুমাত্র পাকিস্তানের চিত্র নয়। এখন যারা ভারতে ক্ষমতাসীন হয়েছেন তারাও একই পথের পথিক অর্থাৎ এরাও কখনো জেলখানার কষ্ট ভোগ করেননি।

হিন্দু মহাসভা এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সমস্যাটাও পৃথক কিছু নয়। আর. এস. এস. এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে। এখন যদি তাদের প্রশ্ন করা যায় যে, দীর্ঘ বাইশ বছর ধরে (১৯৪৭ পর্যন্ত) আপনারা করছিলেনটা কী? কেন আপনারা জাতীয় আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারান্তরালে যাননি। আপনারা যদি মহান দেশপ্রেমিক হয়েই থাকেন তবে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে কেন কিছুই করলেন না। হিন্দু মহাসভাকেও একই প্রশ্ন করা যায়। আন্দামানে বন্দি থাকার সময়ে সাভারকর ব্রিটিশ সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এক চিঠিতে লেখেন যে, তিনি আর কোনোদিন ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করবেন না এবং এইভাবে তিনি তাঁর 'দেশপ্রেমিক' অতীতকে সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে ফেলে দেন। আর কখনো ব্রিটিশ সরকার বিরোধী কাজে নিজেকে যুক্ত করেননি। বরং মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়ে মহম্মদ আলি জিন্নারও আগে থেকে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রচারক হয়ে ওঠেন।

এখন আর.এস.এস. কী করছে? এরা সুকৌশলে ভগৎ সিং-এর মতো বিপ্লবী নায়ককে কুক্ষিগত করে তাঁকে আর.এস.এস -এর "হিরো' হিসেবে দেখাতে চাইছে। যে মানুষটি ফাঁসির আগের রাতে জেলখানায় বসে 'কেন আমি নাস্তিক' লিখছেন, যিনি বলছেন, কংগ্রেস দলের মধ্যে একমাত্র জওহরলাল নেহরুকে নেতা হিসেবে তিনি সমর্থন করেন, তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের কিসের সম্পর্ক? যিনি লিখেছেন যে জাতীয় আন্দোলনের বিরোধীদের মধ্যে সবচাইতে ক্ষতিকারক হলো হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাবাদ, তিনি কীভাবে আপনাদের নায়ক বলে গণ্য হতে পারেন? বল্লভভাই প্যাটেল সর্বদাই জানিয়ে এসেছেন যে তিনি গান্ধীজির আদর্শ অনুসরণ করে চলেন, একথাটা কি আপনারা জানেন না?

সুভাষচন্দ্র বসুকেও সংঘ পরিবার নিজেদের নায়ক হিসাবে দেখাতে চায়। সুভাষ কি একবারও বলেছেন যে তিনি হিন্দুরাষ্ট্রের সমর্থক। সুভাষচন্দ্র ইকবালের কবিতা সারে জাঁহাসে আচ্ছা হিন্দোস্তাঁ হামারা কে আজাদ হিন্দ বাহিনীর জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। এই বাহিনীর সরকারি ভাষা ছিল হিন্দি এবং উর্দু। আজাদ হিন্দ ফৌজের নামটির প্রতি আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনিই 'জয় হিন্দ' নামক সেই বিখ্যাত স্লোগানের স্রষ্টা। তিনি 'হিন্দুরাষ্ট্র' কথাটিও উচ্চারণ করেননি। সংঘ পরিবার কখনোই 'জয় হিন্দ' বা 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগান ব্যবহার করে না। অথচ ভগৎ সিং-এর প্রিয় স্লোগান ছিল এটি। ১৯৪৭ সালের আগে আমি কংগ্রেস দলের বহু সভায় যোগ দিতে গিয়ে দেখেছি যে এইসব সভা সর্বদাই শুরু হতো উচ্ছ্বসিত জনতার 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' ধ্বনির মাধ্যমে। ভগৎ সিং-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আওয়াজ তোলা হতো। কাজেই আমাদের সংবাদপত্রে যখন বলা হয় যে, কংগ্রেস দল ভগৎ সিংকে ভুলে গিয়েছে অথবা সুভাষচন্দ্র এক সময় আর. এস. এস. এর প্রশংসা করেছিলেন, তা একেবারেই মিথ্যে কথা। সুভাষচন্দ্রের জীবন ও কর্ম নিয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ জীবনী প্রকাশিত হয়েছে তাতে কোথাও এমন কথা নেই যাতে করে বলা যায় যে আর.এস.এস-এর সাথে তাঁর কোনোদিন কোনো সম্পর্ক ছিল। আর.এস.এস.-এর পূজিত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অথবা দীনদয়াল উপাধ্যায় কখনো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। কেন দিল্লির জওহরলাল মিউজিয়ামে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবি রাখা হবে? জাতীয় আন্দোলনে তাঁর অবদান কতটুকু? কোথায় ছিলেন তিনি? কোথাও না। ১৯৪২ সালে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলায় মুসলিম লিগ পরিচালিত মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। এত বড়ো আন্দোলনের সময়ও তিনি মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেননি। ব্রিটিশ শাসনের দিকে আঙুল না তুলে তিনি বরাবরই মুসলিমদের বিরোধিতা করে গিয়েছেন। সুতরাং জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে হিন্দুত্ববাদীদের কোনো ভূমিকা না থাকায় তাদের কোনো 'নায়ক'-ও থাকা সম্ভব নয়। তাদের সমগ্র তত্ত্ব এবং বিশ্বাস ছিল জাতীয় আন্দোলন বিরোধী। সমস্ত জাতীয় আন্দোলন পর্বে কেউ কি হিন্দু হিন্দি এবং হিন্দুত্বের স্লোগান দিয়েছিলেন। কেউ না। শুধুমাত্র হিন্দু মহাসভা এই আওয়াজ তুলেছিল। জাতীয় আন্দোলন পর্বে একমাত্র আর এস.এস. ছাড়া আর কেউ কি হিন্দুরাজ অমর রহে এই আওয়াজ তুলেছিল। কেউ না। এখন আবার এই স্লোগানটি নতুন করে ফিরিয়ে আনছে আর.এস.এস। এখন আরো বলা হচ্ছে যে হিন্দুত্ববাদীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা করেছিল। আসলে আপনারা ব্রিটিশ রাজশক্তিকে সাহায্য করেছিলেন, কারণ, আপনাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় আন্দোলনকে বিভক্ত করা। হিন্দুদের এইভাবে মুসলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করা ছিল আপনাদের লক্ষ্য। সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুটিকে আপনারা সবসময়ে সামনে নিয়ে আসতে চান। আর.এস.এস- এর আচার আচরণে কোনো পরিবর্তন নেই, তারা একই রকম থেকে গেছে। উত্তরপ্রদেশে আখলাককে পিটিয়ে মারার মতো জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কেন কোনো বিবৃতি দিলেন না তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। আমার মতে এটা ভালোই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি বিবৃতি দিতেন তবে তা হতো একটা বিরাট ছলনামাত্র। তাই দাদবর ব্যাপারে এঁকে ঘুমিয়েই থাকতে দিন।

আমি এখন অন্যদুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমটি হলো ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের জন্য সংগ্রাম এবং দ্বিতীয়টি হলো উন্নত ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম। যেহেতু আপনারা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাই আপনাদের ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের একটি ঘটনার কথা আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। এই সময়ে আলিগড়কে মুসলিম লিগের দূর্গ বলা হতো। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ সেই সময়ে আলিগড় রেলওয়ে স্টেশনের উপর দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তখন তাকে আমাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়। এখন আমাদের কী হবে। নেহরু প্রথমেই আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য কুমায়ুন রেজিমেন্টকে সেখানে পাঠালেন। কিন্তু একটা রেজিমেন্ট কি একটা গোটা জেলাকে রক্ষা করতে পাবে! আজকে যা হরিয়ানা বলে পরিচিত তখন সেটাই ছিল একটি জেলা এবং সম্পূর্ণ জেলাতেই আগুন জ্বলছিল। তাহলে নির্বিচারে মুসলিমদের হত্যা করা হয়। আমাদের বাড়ির কাছাকাছি মর্গে মুসলমানদের মৃতদেহ এনে জড়ো করা হচ্ছিল। বাইরের কোনো জায়গা থেকে মুসলিম সেনারা আলিগড়কে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসছিলেন। কুমায়ুন রেজিমেন্ট সমস্ত শক্তি দিয়ে আলিগড় শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার চেষ্টা করেছে। এ সময় জ্বলন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আগুনের মধ্য দিয়ে তারা দেখতে পায় যে এক বিরাট মারমুখী জনতা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে তারা মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। কিন্তু, তা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি রুখে দাঁড়ানোয়। তাঁর নাম এম. কে গান্ধী। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং মুসলিম গণহত্যা প্রতিরোধে এই মানুষটিই এগিয়ে এসেছিলেন। জামা মসজিদে তিনি যখন মুসলমান উদ্বাস্তু শিবিরে যান তখন তাকে অপমান করা হয়। আবার তিনি যখন হিন্দু উদ্বাস্তু শিবিরে যান সেখানেও তাকে অপমানিত হতে হয়। দিনের পর দিন তাঁকে এসব সহ্য করতে হয়েছে। মুসলিমদের রক্ষার জন্য তিনি পানিপথে যান। ১৯৪৮ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে তিনি অনশন আরম্ভ করেন। এ সময় তাঁর দাবি কী ছিল? প্রথম দাবি ছিল যে মুসলিমদের অতি অবশ্য রক্ষা করতে হবে। এবং যেসব লোক মুসলিমদের উপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করতে হবে যে তারা ভবিষ্যতে আর কখনো এ জাতীয় কাজে নিজেদের যুক্ত করবেন না। গান্ধীজি এ ব্যাপারে যে তালিকা প্রস্তুত করেন তাতে বেশ কিছু হিন্দু মহাসভা এবং আর. এস. এস. নেতার নাম ছিল। দ্বিতীয়ত, যেসব মুসলিম দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে না গেলেও বর্তমানে আশ্রয় শিবিরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের নিজগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং যদি দেখা যায় যে এসব গৃহে পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা দখল করে বসবাস করছেন তবে তাদের তা ফিরিয়ে দিতে হবে। অনুমান করতে পারছেন যে গান্ধীজির অনশন ভাঙার শর্ত সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কত কঠিন ছিল। দ্বিতীয়ত, পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো পাকিস্তানের হাতে অনতিবিলম্বে ৫৫ কোটি টাকা যা সেসময়ে একটা বিরাট অর্থ, দিতে হবে। কারণ পাকিস্তানের কর্মচারীরা গত একমাস ধরে বেতন না পেয়ে কষ্টে আছেন। ভাবতে পারেন যে এক দেশের এক নাগরিক নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিদেশি সরকারকে আর্থিক সাহায্যের দাবিতে অনশন করছেন? তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে খোলাখুলিভাবে গান্ধীজি জবাব দেন আমি যতটা ভারতীয় অতটাই পাকিস্তানি। দুটি দেশই আমার।

১৯৪৮ সালের ১৩ জানুয়ারি গান্ধীজি যখন অনশন শুরু করেন তখন সারা দিল্লি জুড়ে স্লোগান ওঠে ‘গান্ধী মুর্দাবাদ’এই স্লোগান দিতে দিতে একদল লোক মিছিল করে গান্ধীজির প্রার্থনা সভার দিকে অগ্রসর হয়। অনশনের তৃতীয় দিনে নেহরু লাল কেল্লার সামনে দশ হাজার লোকের সমাবেশ ভাষণ দেন। কার হিম্মৎ ছিল সেই গোলমেলে সময়ে দিল্লিতে এমন সভা ডাকার? বিক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি হবার? প্যাটেল না রাজেন্দ্র প্রসাদের? কারোর না। সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব বিক্ষোভকারীদের সামনে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের অনেককে স্বমতে আনতে সক্ষম হন। তারপর মাত্র দুদিনের মধ্যে দিল্লির রাজপথে দশ লক্ষ লোকের এক মিছিল হয়। সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন আলিগড়, মিরাট, মুজফ্ফর নগরের কৃষকেরা, সম্ভবত যারা সাম্প্রতিক দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারীদের পিতা কিংবা পিতার মত তারাও এই মিছিলে অংশ নেন। যোগ দেন ঝাড়ুদার ইউনিয়নের সদস্যরা, টাঙ্গাওয়ালা ও কারখানা শ্রমিকেরাও। এরপর মিছিলের জনতা হিন্দু মহাসভা ও আর.এস. এস. এর মাতব্বরদের বাড়ি কার্যত ঘেরাও করে তাদের দাঙ্গা বিরোধী শপথ পত্রে স্বাক্ষরদানে বাধ্য করে এবং গান্ধীজি যেখানে অনশন করছিলেন সেখানে তাদের টেনে নিয়ে যায়।

যতক্ষণ না হিন্দু মহাসভা/আর.এস.এস. নেতারা সমর্পণ করেন ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দেবার পর গান্ধীজি অনশন প্রত্যাহার করেন। এবং সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশে শান্তিও ফিরে আসে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে যে গান্ধীজি সামান্য মানুষ ছিলেন না। প্রচণ্ড সাহসী এই মানুষটি বৃহত্তর কল্যাণের কাজে নিজের আত্মমর্যাদা ও সম্মানকে বিসর্জন দিতেও পিছপা ছিলেন না। দুর্গত মানুষের কাছে তাদের আশ্রয় শিবিরে গান্ধীজি যখন যেতেন তখন ধুলোবালি, ময়লা, কাদা, নোংরা পরিবেশ কোনো কিছুই তিনি গ্রাহ্য না করে নগ্নপদেই যেতেন। হিন্দু ও মুসলিমরা আসলে ভাইবোনের মতো এই বার্তাবহন করে গান্ধীজি হিন্দু ও মুসলিমদের আশ্রয় শিবিরে ঘুরে বেড়াতেন।

এই ধরনের মানুষেরাই আমাদের একটা জাতি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন। এটা কোনো স্বর্গের আশীর্বাদ নয়। স্বাধীনতার পর কোথায় কী কী ঘটেছে তা নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনায় যাব না। তবে কয়েকটি বিষয় আমি সংক্ষেপে উল্লেখ করতে চাই। ১৯৫৫-৫৬ সালে ভারতে যে হিন্দু কোড বিলটি আইনে পরিণত হয় তা নিয়ে মুসলমানদের বিশেষ আগ্রহ না থাকলেও ভারতের পক্ষে এটি একটি বিরাট ঘটনা। এর আগে হিন্দু মহিলাদের জন্য পারিবারিক সম্পত্তির কোনো উত্তরাধিকার ছিল না। এই আইনে তার অধিকার দেওয়া হলো। কয়েকটি ছোটোখাটো ব্যাপার ছাড়া অন্য বিষয়ে মহিলা এবং পুরুষের সমান অধিকার চালু হলো। কোনো গোষ্ঠীর দ্বারা জোর করে নয়, সাধারণ নির্বাচনী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদে 'ধর্মশাস্ত্র' কে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে এই অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট পার্টি সে সময়ে নির্বাচনে গিয়েছিল এই কথা বলে যে জীবনের সর্বত্র নারীকে পুরুষের সমান অধিকার দিতে হবে। অন্যদিকে জনসংঘ এবং রামরাজ্য পরিষদ সেই পুরনো "ধর্মশাস্ত্র কেই ধরে রাখার পক্ষপাতী ছিল। আজ, এই নিয়েই তাদের প্রশ্ন করা যায় যে সেই পঞ্চাশের দশকে আপনারা কেন নারী পুরুষের সমানাধিকারের বিরোধিতা করেছিলেন? আপনারা কি নারী পুরুষের সমান অধিকার চান না? এসব প্রশ্নের জবাব মানুষ চায়। সৌভাগ্যক্রমে বিজেপির পূর্বসূরি জনসংঘ এবং হিন্দু মহাসভা ও রামরাজ্য পরিষদ ১৯৫২ সালের নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়। এইভাবে ভারতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, নাগরিক আইনে বিরাট পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে ন্যূনপক্ষে ৮০ শতাংশ মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার অর্জন করেন — যদিও বৈষম্যমূলক পণপ্রথার মতো আরো কিছু সামাজিক অনাচার থেকেই যায়। এরই পাশাপাশি জমিদারি প্রথার অবসানের ফলে ভারতের লক্ষ লক্ষ চাষি জমির অধিকার পান। উত্তরপ্রদেশ ও কাশ্মীরের জমিদারি বিলুপ্তির আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। অবশেষে ১৯৬০- সালে জমির সর্বোচ্চ সীমা সংক্রান্ত বিল বিধিবদ্ধ হয়। শুরু হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের। ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে নতুন ভারতের ভিত্তি স্থাপিত হয়, নানা দুর্বলতা সত্ত্বেও তা এখনও বজায় আছে।

এবার আসা যাক আমাদের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত। দেশবিভাগ ও দাঙ্গার পর ১৯৪৯ সালে মাত্র ৯০০ জন ছাত্র থেকে গিয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূলত দান খয়রাতের উপরেই একে চলতে হতো। ব্রিটিশ সরকার দিত মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা। ১৯৫১ সালে ভারত সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করে। সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালন ব্যবস্থায় কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করত না। তারা শুধু আর্থিক দায়ভার বহন করত। এটা করা না হলে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো। আমি ১৯৪৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ছোট্ট বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রসংখ্যা সর্বোচ্চ আড়াই হাজার। এখন ছাত্রসংখ্যা কত তা আমার জানা নেই। মোটামুটি আঠাশ হাজার অথবা তারও বেশি। আছে বিরাট বিরাট বিল্ডিং। সবকিছুই জাতির দান!

এখন আসল প্রশ্ন হলো এই সময় পর্বে গরিব মানুষের অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে? তাদের অবস্থার বিশেষ কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কেউ যদি উৎসা পট্টনায়ক রচিত The Republic of Hunger' (ক্ষুধার প্রজাতন্ত্র) নামক প্রবন্ধটি পড়েন তবে তিনি নিশ্চয়ই জেনে যাবেন স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ভারতীয়দের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ক্রমাগতই বেড়েছে। এমনকি নিদারুণ খরার বছরেও মাথাপিছু ক্যালোরি গ্রহণের হার কমেনি। ফুড কর্পোরেশন ও অন্যান্য ভর্তুকির মাধ্যমে এটা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। আপনারা কি জানেন যে, ১৯৯১ সালের পর থেকে এর হাল কি হয়। মাথাপিছু ক্যালোরি গ্রহণ বৃদ্ধির বদলে ক্রমাগত কমেছে। কমতে কমতে ২০০৩ সালে তা এসে এমন জায়গায় এসে দাঁড়ায় যা ব্রিটিশ শাসনের শেষ বছর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের সমতুল। মিঃ মোদী ও তাঁর দলবল যখন বিদেশি পুঁজির আগমনের কথা বলেন তখন তা যেমন বেসরকারি কর্পোরেশনের হাতে যায়, তেমনি এঁরা যখন বিদেশে বিনিয়োগের কথা সোচ্চারে বলেন তখনও বুঝতে হবে যে এরা সেইসব দেশের বেসরকারি কর্পোরেশনের হাতে ডলার তুলে দেওয়ার কথাই বলছেন। মুসলিম লিগের মতই আর.এস.এস এরও কোনো অর্থনৈতিক কর্মসূচি নেই। দরিদ্র মানুষজনের দুঃখ দারিদ্রের কথা তাদের ভাবনাতে থাকে না। শুধুমাত্র তাদের দলীয় তহবিল যারা উপচে পড়তে সাহায্য করেন তাদের নিয়েই যত ভাবনা।

আজকের খবরের কাগজ পাঠ করে জানতে পারলাম যে ২০১৫ সালের বিহার বিধানসভার নির্বাচনে উচ্চবর্ণের মানুষজন স্বাভাবিকভাবেই বিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছে। শুধু উচ্চবর্ণ নয়, উচ্চশ্রেণির মানুষজনও একই পথ অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন। সুতরাং, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিজেপিকে একের পর এক সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে তুলে ধরতে হবে। ইতিহাসে এরাই যে এ পথের অগ্রপথিক তা কিন্তু নয়। নাজিরা জার্মানিতে এই জাতিগত প্রশ্ন তুলেছিল। আর এস.এস. গুরু গোলওয়ালকার এ ব্যাপারে হিটলারেরা ইহুদি নীতির প্রশংসা করে বলেছিলেন, ভারতেও মুসলিমদের সম্পর্কে একই নীতি অনুসরণ করা উচিত। সুতরাং মুসলিম বিরোধী জিগিরকে সদা জাগরুক রাখার ক্ষেত্রে আর.এস.এস সতর্ক প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। ধর্মীয় গোঁড়ামি অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদের কোনো রকম বিরোধিতা সহ্য করা হবে না। সাধারণ ইতিহাস বইতেও কবেদের রচনা কালকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সাল বলা যাবে না। বলতে হবে খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ সাল। এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কাজেই এখন যা ঘটছে যেমন, দাভোলকার, পানসারে এবং কালবুর্গির হত্যাকাণ্ডে সবকিছুর পিছনেই একটা সুনির্দিষ্ট পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত কাজ করছে। এসবের মধ্য দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর হিস্টরিকাল রিসার্চ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর সোস্যাল সায়েন্স রিসার্চ অথবা জওহরলাল নেহরু মিউজিয়ামে কারা যুক্ত থাকলেন বা থাকলেন না তা নিয়ে কংগ্রেস দলের কোনো মাথাব্যথা না থাকলেও মাথাব্যথা রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের। সমস্ত জায়গাতেই তার অতিমাত্রায় গোঁড়া ব্যক্তিদের বসাচ্ছে। ফলে সর্বত্র তারা ভারতীয় ইতিহাস এবং ভারতের সংবিধানের সম্পূর্ণ বিকৃত চিত্র পেশ করছেন। সুতরাং ভারতের সমস্ত শিক্ষিতমহল এবং যাঁরা লেখায়, দেখায়, কথায়, বক্তৃতার মাধ্যম এই সর্বনাশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে জবাব দিতে পারেন তাদের বর্তমান সময়ে এক একটি গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন মুসলমানকে হত্যা করা মানে শুধু মুসলিম সমাজের উপরই আক্রমণ নয়, প্রকৃত অর্থে এটা ভারতবর্ষের উপর আক্রমণ। সৌভাগ্যের কথা হলো যে, এখন আরো বেশি বেশি করে মানুষ একথাটা বুঝতে পারছেন। বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের পাতায় পাতায় মানুষের এই উপলব্ধির অজস্র নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। আনন্দের কথা হলো হিন্দি পত্রিকাগুলিও এখন আর এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই। এখন সময় এসেছে নিজেদের ভিতরকার ক্ষুদ্র বাদ-বিসংবাদ, কলহ, পারস্পরিক দোষারোপ ভুলে গিয়ে বিজেপি এবং আর.এস.এস মিলে একেবারে ভারত-ভাবনার মূলে কুঠারাঘাতের যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


২০১৫ সালের ৭ই অক্টোবর অধ্যাপক ইরফান হাবিব আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনেডি অডিটোরিয়ামে 'ভারত ভাবনার উৎস সন্ধানে' শীর্ষক ভাষণটি দেন।

অনুবাদ: শ্যামল সেনগুপ্ত


প্রকাশের তারিখ: ১৬-আগস্ট-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫