Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

রতনলাল ব্রাহ্মণ স্মরণে

অশোক ভট্টাচার্য
১৯৪৩ সালে বাংলায় কৃত্রিম খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সুরাবর্দী দার্জিলিঙে ২ লক্ষ্য ২৪ হাজার টন গম পাঠাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশিত গমের সামান্য কিছু অংশ পৌঁছোয় দার্জিলিঙে। রতনলাল ব্রাহ্মণ ও তাঁর সহকর্মীরা এই দুর্নীতির ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়। ১৯৪৩ সালে দার্জিলিঙে কমিউনিষ্ট পার্টি গড়ে তোলার জন্য প্রাদেশিক পার্টির পক্ষ থেকে সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুশীল চ্যাটার্জীকে। দার্জিলিঙে পৌঁছে সুশীল চ্যাটার্জী স্থানীয় বহু মানুষের সাথে কথাবার্তা বলা শুরু করেন। তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেন দেশের স্বাধীনতা ও ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে। এই সময়েই তিনি শোনেন পাহাড়ের কিংবদন্তী মায়লা বাজের কথা। তিনি তাঁর সাথে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। যদিও সেই সময় রতনলালের বিরুদ্ধে কয়েকজন ইংরেজ পেটাবার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
In memories of Ratanlal Brahmin

১৯০০ সালের ১৬ আগস্ট রতনলাল ব্রাহ্মণের জন্ম হয়। এবছরের ১৬ আগস্ট তাঁর জন্মের ১২৪ বছর পালিত হবে। তাঁর জন্ম এক ধনী পরিবারে হলেও শৈশব কেটেছিল অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে। কারন তিনি অল্প বয়সেই তাঁর পিতাকে হারিয়েছিলেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও ছিল সামান্য। অল্প বয়সেই তিনি ছিলেন খুবই সাহসী এবং যে কোনও অন্যায় দেখলেই তিনি করতেন প্রতিবাদ। মানতেন না জাতপাত। ছিলেন প্রচন্ড ইংরেজ বিরোধী। সেইসময় দার্জিলিঙের বেশিরভাগ চা বাগানের মালিক ও ম্যানেজার ছিল ইংরেজ। বহু ইংরেজ ম্যানেজাররা চা বাগানের অল্পবয়স্ক গোর্খা মহিলা শ্রমিকদের তাদের বাড়িতে নিয়ে এসে ফুর্তি করত। রতনলাল ব্রাহ্মণের কাছ থেকে শুনেছি তিনি এসব ঘটনার খবর পেয়ে বেশ কয়েকবার ইংরেজ ম্যানেজারদের প্রচন্ড মারধর করেছিলেন। কয়েকজনকে মৃতপ্রায় করে রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন। পুলিশ রতনলালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, এই কারনে তাঁকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল। এই সময়ে অবিভক্ত বাংলার দুর্ভিক্ষের প্রভাব পড়ে দার্জিলিং পাহাড়েও। বুভুক্ষু বহু মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকত রাস্তায়। রতনলাল ব্রাহ্মণ এবং তাঁর বন্ধুরা ওই সমস্ত মৃতদেহগুলির কোনও জাতপাত না দেখে সৎকার করতেন। অল্প বয়স থেকেই তিনি ভাবতেন কেন একদল মানুষ এত ধনী হয়! কেনই বা বহু মানুষ হয় এত গরিব। কেনই বা বহু মানুষকে অস্পৃশ্য বলা হয়। খুব ছোটো থেকে তিনি ছিলেন খুবই সাহসী ও প্রতিবাদী। এজন্যই সবাই তাঁকে বলতো মায়লা বাজে বা বড় দাদা। এদিকে তাঁর ছিল না কোনো রোজগার। বাধ্য হয়েই তিনি সামান্য রোজগারের জন্য একটি গাড়ির ড্রাইভারের কাজ জোগাড় করে নেন। দার্জিলিঙে যে কোনও গরিব মানুষ তাদের প্রয়োজন হলেই ডেকে নিত মায়লা বাজে-কে। মায়লা বাজে দাঁড়াতেন তাদের পাশে। এই কারনেই তাঁকে অনেকে বলতো পাহাড়ের রবিনহুড।

১৯৩০ সালে যখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর, ছিলেন সুঠাম দেহের অধিকারী। দার্জিলিঙে রতনলাল ব্রাহ্মণ ও তাঁর আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে গঠন করেছিলেন গোর্খা দুঃখ নিবারণ সমিতি। এই সংস্থাটি ছিল অরাজনৈতিক এবং সেবামূলক। মায়লা বাজে এই সংস্থাটির সাথে যুক্ত থেকে শুরু করলেন বহু সেবামূলক কাজ। এই সংস্থাটির সাথে যুক্ত ছিলেন সেই সময় দার্জিলিঙের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। আজও দার্জিলিং শহরে রয়েছে জিডিএনএস-এর কার্যালয়টি। এইভাবে মায়লা বাজে দার্জিলিঙে পরিনত হলেন এক কিংবদন্তিতে। শহরের বহু গরিবরা তাঁকে যেমন ভালোবাসত, তেমনি তাঁকে করত সম্মানও। তবে শহরের ধনী ব্যক্তিরা ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তারা রতনলালকে ভয় করত এবং আড়ালে আবডালে বলত বদমাশ। রতনলাল ব্রাহ্মণের কাছে শুনেছি ছোট থেকেই তিনি ছিলেন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। ভূত বলে কিছু নেই তাও তিনি শেখাতেন তাঁর ছেলে-মেয়েদের। অথচ তাঁর কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই ছিল না। রতনলালের কাছ থেকে শুনেছি, তিনি কিভাবে মানুষকে কুসংস্কারের বিশ্বাস মুক্ত করতেন, আবার পরিবারের মধ্যেও কখনও তিনি কোনও ধরনের কুসংস্কারে প্রশ্রয় দিতেন না। তাঁর পুত্র তেজেন্দ্রলাল ব্রাহ্মণের কাছে শুনেছি তাঁর বাবা তাঁকে ভূতের ভয় ভাঙাতে বাড়ির পাশে কবরস্থান ঘুরে আসতে বলতেন। এভাবে তিনি পরিবারের মধ্যেও অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করতেন।

১৯৪৩ সালে বাংলায় কৃত্রিম খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সুরাবর্দী দার্জিলিঙে ২ লক্ষ্য ২৪ হাজার টন গম পাঠাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশিত গমের সামান্য কিছু অংশ পৌঁছোয় দার্জিলিঙে। রতনলাল ব্রাহ্মণ ও তাঁর সহকর্মীরা এই দুর্নীতির ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়। ১৯৪৩ সালে দার্জিলিঙে কমিউনিষ্ট পার্টি গড়ে তোলার জন্য প্রাদেশিক পার্টির পক্ষ থেকে সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুশীল চ্যাটার্জীকে। দার্জিলিঙে পৌঁছে সুশীল চ্যাটার্জী স্থানীয় বহু মানুষের সাথে কথাবার্তা বলা শুরু করেন। তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেন দেশের স্বাধীনতা ও ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে। এই সময়েই তিনি শোনেন পাহাড়ের কিংবদন্তী মায়লা বাজের কথা। তিনি তাঁর সাথে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। যদিও সেই সময় রতনলালের বিরুদ্ধে কয়েকজন ইংরেজ পেটাবার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সুশীল চ্যাটার্জী তাঁর সাথে দেখা করার জন্য খবর পাঠান। পরে একদিন মায়লা বাজের প্রতিনিধির নামে সুশীল চ্যাটার্জী যেখানে অবস্থান করেছিলেন সেখানে তিনি যান এবং নিজের পরিচয় না দিয়ে। মায়লা বাজে সুশীল চ্যাটার্জীর সাথে তাঁর প্রথম দেখা হবার ঘটনা আমাকে বলেছিলেন। তিনি আমাকে বলেন তাঁর ধারনা হয়েছিল সুশীল চ্যাটার্জী হয় পুলিশ, নয়তো ইংরেজদের চর। তিনি আমাকে বলেছিলেন যদি পুলিশের চর হয় তাহলে তিনি সুশীল চ্যাটার্জীকে ভোজালির এক কোপ দেবেন। এর জন্য সাথে নিয়েছিলেন একটি ভোজালি। কিন্তু সত্যিই সুশীল চ্যাটার্জী কমিউনিস্ট কী না তা বোঝার জন্য তিনি তাকে একটি প্রশ্ন করবেন। প্রশ্নটি ছিল তিনি যদি কমিউনিস্ট হন তাহলে স্তালিনকে মানেন, কি না? আমি বাজে-কে জিজ্ঞাস করেছিলাম, কেন স্তালিন? বাজে আমাকে বলেছিলেন ‘স্তালিনের কথা তিনি শুনেছিলেন, সে সত্যিকারের পিছিয়ে পড়া জাতি ও ভাষার মানুষের মুক্তিদাতা’।

পরে বাজে বলেছিলেন আমি অনেক ভাবে বোঝার চেষ্টা করেছিলাম সত্যিই তিনি কমিউনিস্ট কী না বা কংগ্রেস দলের কোনও নেতা কিনা। পরে তিনি সুশীল চ্যাটার্জির কাছ থেকে কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে পারেন। এরপরে তিনি তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। আস্তে-আস্তে কাজ শুরু করেন চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে। গড়ে তোলেন চিয়া কামান মজদুর ইউনিয়ন। সংগঠিত হয় চা বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে অনেক আন্দোলন। এরপর সংগঠিত হয় দার্জিলিঙে কমিউনিষ্ট পার্টির শাখা। একই সময়ে গঠিত হয় অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ দল। সেই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত চিয়া কামান মজদূর ইউনিয়নগোর্খা লিগ পরিচালিত চা বাগান ট্রেড ইউনিয়ন যৌথভাবে বহু চা বাগানে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেছিল। রতনলাল ব্রাহ্মণ চা বাগানের শ্রমিকদের ওপর ইংরেজ মালিক ও ম্যানেজারদের নানান অত্যাচারের বিরুদ্ধে হট্টবাহার বা শ্রমিক ছাঁটাই-এর বিরুদ্ধে, মজুরি বৃদ্ধির দাবির আন্দোলনকে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত করেন। পরবর্তীকালে পাহাড়ে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন, নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে আন্দোলন। এই সমস্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দার্জিলিঙ পার্বত্য অঞ্চলে, বিশেষ করে চা বাগান শ্রমিকদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি ও রতনলাল ব্রাহ্মণের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। তারই সুবাদে ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় আইনসভা নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি তিনটি আসনে জয়লাভ করে। চা শ্রমিক কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন রতনলাল ব্রাহ্মণ, রেল শ্রমিক কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন জ্যোতি বসু, দিনাজপুর কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন রূপনারায়ন রায়। ১৯৪৬ সাল থেকে জ্যোতি বসুর সাথে রতনলালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা বজায় ছিল রতনলালের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ১৯৪৬ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হবার পর তৎকালীন বিধানসভার স্পিকার রতনলালকে শপথ নিতে বাধা দেন। কারন ওই সময় তাঁর সাথে ছিল নেপালীদের রীতি অনুযায়ী একটি ভোজালি। এ নিয়ে বিধানসভায় উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল ।

সেই সময়, ও তার পরেও জ্যোতি বসু যতবার দার্জিলিঙে গেছেন ততবারই তিনি উঠেছিলেন রতনলাল ব্রাহ্মণের বাড়িতে। চা বাগান শ্রমিকদের বহু আন্দোলনে অংশগ্রহন করতে ও মার্গারেটস্ হোপ চা বাগানে কংগ্রেস সরকারের পুলিশের নৃশংস গুলি চালনার ঘটনা ও বেশ কয়েকজন মহিলা সহ চা শ্রমিককে হত্যার প্রতিবাদে রতনলাল ব্রাহ্মণের সাথে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টির বিধায়কদের এক প্রতিনিধিদল। ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার পর রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের কাছে দার্জিলিঙের জন্যে ষষ্ঠ তপশিলে অন্তর্ভুক্তি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও নেপালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালের ৯ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের প্রদত্ত রিপোর্টের ওপর জ্যোতি বসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হল যদি রিজিওনাল অটোনমি তাদের দেওয়া হয় এবং এমনকি সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের অন্তর্ভূক্ত  ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় যদি সংবিধানের পরিবর্তন করে এই ক্ষমতার সম্প্রসারণ করা হয় এবং প্রয়োগ করা হয়, তাহলে দার্জিলিঙে নেপালি ভাষা-ভাষী জনগনের মধ্যে বিভেদকামী মনোভাব দূর হবে বলেই আমি মনে করি এবং এই কারনেই আমি রিজিওনাল অটোনমির দাবি করছি।’ সেই বক্তৃতার শুরুতেই জ্যোতি বসু বলেছিলেন, রাজ্য পুনর্গঠন বা রাজ্যের সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে কমিউনিস্ট পার্টির একটি সুনির্দিষ্ট নীতি আছে। এসব বিষয়ে কমিউনিস্ট পার্টি কিছু কথা বলে সেই নীতির ভিত্তিতে।

যদিও সেই সময় রতনলাল ব্রাহ্মণ রাজ্য বিধানসভার সদস্য ছিলেন না। কিন্তু এই নীতির ওপর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল থেকেছেন।

রতনলাল ব্রাহ্মণের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ ও পরিচয় হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। যখন শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক ছাত্র ফেডারেশনের ১৯তম রাজ্য সম্মেলন। অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ছিলেন রতনলাল ব্রাহ্মণ। আমি ছিলাম অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদক। তখন তাঁর পরামর্শে কাজ করার প্রথম সুযোগ পেয়েছিলাম।

১৯৭১ সালে রতনলাল ব্রাহ্মণ দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্র থেকে পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংসদ হিসাবে তিনি চেয়েছিলেন নেপালি ভাষায় শপথ নিতে। কিন্তু তাকে শপথ নিতে বাধা দেওয়া হয়, তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। বিভিন্ন দলের নির্বাচিত সাংসদদের স্বাক্ষর সম্বলিত নেপালি ভাষাকে অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্ত করার এক দাবিপত্র তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি তিনি উত্থাপন করেছিলেন লোকসভাতেও।

উল্লেখ করা প্রয়োজন আশির দশকে দার্জিলিঙে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড করার দাবি নিয়ে যে হিংস্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার হাত থেকে বাদ যায়নি রতনলাল ব্রাহ্মণের বাড়িও। তাকে বাধ্য করা হয়েছিল দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়িতে নেমে আসতে। যদিও ১৯৮৮ সালে এক ত্রি-পাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দার্জিলিঙের পৃথক রাজ্যের আন্দোলনের নিরসণ হয়। গঠিত হয় দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ। এক্ষেত্রেও ছিল রতনলাল ব্রাহ্মণ এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।

১৯৮৯ সালে ত্রিবান্দ্রমে অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসে তিনি প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেই সময়ই বলেছিলেন এটাই হবে তাঁর শেষ পার্টি কংগ্রেস। দুঃখের কথা সেই পার্টি কংগ্রেস থেকে ফেরার পথে ট্রেনে বিজয়ওয়াড়া স্টেশনে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সেই সময় আমরা কয়েকজন ছিলাম তাঁর শেষমুহূর্তের সাথী। রতনলাল ব্রাহ্মণের মরদেহ আমরা নিয়ে গিয়েছিলাম দার্জিলিঙ শ্মশান-ঘাটে শেষকৃত্য করতে, সেইদিন দার্জিলিঙে ছিল এক অশান্ত পরিবেশ। সেই দিনগুলির কথা আজও মনে পড়ে।


প্রকাশের তারিখ: ১৬-আগস্ট-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

শিক্ষণীয় স্মৃতিচারণ।
- Amitabha Ray, ১৬-আগস্ট-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫