Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ভারত কি হিন্দু রাষ্ট্রের কিনারায়? (শেষ পর্ব)

সৌমিত্র বসু
বিজেপি একই সঙ্গে সামন্ততন্ত্র ও ধনতন্ত্রের পূর্ণ সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। বিজেপির অর্থবল সাধারণভাবে বৃহৎ পুঁজিপতিসহ পুঁজিপতি ও ব্যবসায়ী শ্রেণী এবং বৃহৎ ভূস্বামীদেরই মদতপুষ্ট। উচ্চবর্ণ হিন্দুদের একটি অংশ আর ধনপতি শ্রেণী ও ভূমিপতি শ্রেণীর একটি অংশকে নিয়েই বিজেপি গঠিত এবং এই ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষাই বিজেপির শ্রেণী চরিত্রের মৌলিক পরিচয়। অর্থাৎ, বিজেপি ভারতের শাসকশ্রেণীর সেই অংশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি যেটি একাধারে ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদের সমর্থক।
Is India on the brink of a Hindu state Part III

দ্বিতীয় পর্বের পর...

মনুস্মৃতি ও নারী

প্রাক-বৈদিক যুগে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রচলিত থাকলেও বেদের যুগেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা পূর্ণরূপে বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বেদের কালেই সমাজে পুরুষের একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরুষ পরিবারের প্রধান হিসেবে পারিবারিক সম্পত্তির মালিক রূপে স্বীকৃতি পায়। নারী হারায় পারিবারিক সম্পত্তির উপর থেকে অধিকার। বেদ রচিত হয় পুরুষের প্রাধান্যকে অপৌরুষের বিধানের মর্যাদা দিয়ে। নারীর শুধু যে সম্পত্তির উপর থেকে অধিকার হরণ করা হয় তা নয়, নারীকেই পরিণত করা হয় পুরুষের সম্পত্তিরূপে। যে সম্পত্তি পুরুষরা হস্তান্তর করতে পারত। মনুও এই ধারার উত্তরাধিকার বহন করেছেন। তিনি বেদকে লঙ্ঘন করতে চাননি।

মনুর কাছে নারীও সম্পত্তির সমতুল।

'রখ, অশ্ব, হস্তী, ছত্র, ধন, ধান্য, পশু, স্ত্রীলোক, সকল দ্রব্য, সোনা-রাপা ব্যতিত তামা প্রভৃতি যে যে জয় করে তারই হয়'।

বেদের অনুশাসনে পিতার মৃত্যুর পর তার সম্পদের অধিকার পেত পুত্ররা। মনুও ঔরসজাত পুত্রদের শুধু পিতৃসম্পদের অধিকার দিয়েছেন, ঔরসজাত কন্যাদের নয়। পুত্রের অভাবে। অবর্তমানে পিতা এবং পিতারও অভাব। অবর্তমানে শ্রাতারা ছিলেন সম্পত্তির অধিকারী। নারী বলে পিতার সাথে মাতার কিংবা পিতার অভাবেও মাতার অধিকারও স্বীকার করা হয় নি। আর ভগ্নীর অধিকারের মতো বিধান তো চিন্তাই করা যায় নি।

বর্ণবাদে বিভক্ত ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় নারীর সামাজিক অবস্থান কখনও মর্যাদার ছিল না। সব ধর্মশাস্ত্র, স্মৃতি, পুরাণেই নারীকে দেখানো হয়েছে হীনজন্মা রূপে। মনুসংহিতায় তাকে তুলনা করা হয়েছে শূদ্রের সাথে।

মনু তো নারীকে পূর্ণ মানুষরূপেই দেখেননি। নারীর নাকি জন্ম হয়েছে প্রজননার্থে। পুরুষের জন্য বংশধর সৃষ্টিতে। পুরুষের উপভোগের নিমিত্ত ছাড়া নারীর আর কোনও সত্তা মনু স্বীকার করেন নি। মনুর দৃষ্টিতে নারী স্বাধীনতার যোগ্যই নয়। কুমারী অবস্থায় পিতার, যৌবনে পতির এবং বার্ধক্যে পুত্রের অধীনে থাকাটাই নারীদের নিয়তি। সারাজীবন এর মধ্যেই আবদ্ধ থাকতে হবে নারীকে। নারীর পতি ছাড়া কোনও দেবতা নেই। যজ্ঞ নেই, তপ নেই, উপবাস নেই। কোনও ধর্ম কর্ম নেই। ঋকবেদে উল্লেখিত বেদ মন্ত্রের রচয়িতা কৃষিকন্যাদের বেদ পাঠের অধিকার দেয়নি মনু। পুরাকালে নারী শুধু বেদাধ্যয়ন নয় তারা বেদ অধ্যাপনাও করতেন। মনু নারীকে মিথ্যার ন্যায় অশুভ এবং অধর্মজ্ঞ মন্ত্রহীন বলে চিহ্নিত করলেন। শুধু বেদপাঠ নয়, অন্যান্য সব ধর্মশাস্ত্র পাঠও নারীর জন্য নিষিদ্ধ করে তার প্রথাগত সব শিক্ষার পথ বন্ধ করার বিধান দিলেন। তাতে করে নারীর মানসিক বিকাশের পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। নারীর পতি সেবাই হলো পরম ধর্ম, সেই পতি লম্পট, উন্মাদ, ব্যাভিচারী যাই হোক না কেন। অজস্র শ্লোকে মনু পতিব্রতের আদর্শ প্রচার করে গেছেন মনু সংহিতায়। কিন্তু পত্নীব্রত হতে পরামর্শ বা উপদেশ কিছুই দেননি পুরুষকে। তিনি বলেছেন স্বামীর মৃতুর পর তার অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া শেষ করেই নতুন পত্নী সংগ্রহ করে নিতে। নারীর প্রতি এতোটাই অমানবিক ছিলেন মনু।


বেদ মনুর কাছেও ছিল পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। ব্রাহ্মণ্যধর্মের উৎসই হলো বেদ। বেদ অতিক্রম না করেই মনু রচনা করেছেন তার মানবধর্ম শাস্ত্র, মনুসংহিতা। অথচ সেই ধর্মগ্রন্থ পাঠ করার অধিকার পর্যন্ত মনু দেননি নারীকে। বেদের যুগের শিক্ষার প্রাথমিক পাঠ ছিল বেদ অধ্যয়ন। কিন্তু এভাবে মনু নারীর প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার পর্যন্ত হরণ করে নিয়েছিলেন। বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মনুসংহিতায় নারীর স্বাধীন অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নি,, বিচারকার্যে নারীর সাক্ষ্যদানের কোনও অধিকারই ছিল না। শুধু নারীর ক্ষেত্রে, নারী সাক্ষী হতে পারত।

স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য স্ত্রীলোক দেবে, দ্বিজের সাক্ষী হবে তণ্ডুল্য দ্বিজ, সৎশূদ্র শূদ্রদের, চন্ডাল, চন্ডালের সাক্ষী হবে। এই বিধানে বর্ণবৈষম্য যেভাবে প্রকট, তেমনি লিঙ্গবৈষমা। মনু শূদ্রের যেমন পূর্ণমানব মনে করতেন না, তেমনি নারীকেও করতেন না।

এখানে একটি ঠিক বিপরীত উদাহরণ উত্থাপন করলে আশা করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না। রাশিয়ায় বিপ্লবের অব্যবহিত পরের সময় শ্রমজীবী নারীকে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উৎপাদনশীল শ্রমের অংশ হিসাবে বিবেচনা করে তার মাতৃত্বের অন্তঃসত্ত্বার সময় যেকেই সম্পূর্ণরূপে দায়িত্ব গ্রহণ করতো রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেই নারীর সন্তানের জন্মের সময় থেকে চিকিৎসা ও তার পরবর্তী সময়ে নারী যখন পুনরায় রাষ্ট্রের শ্রমমহাযজ্ঞে ঝাঁপ দিচ্ছে তখন তার সন্তান এর দেখভালের দায়িত্ব নেয় রাষ্ট্র। এর জন্য ধীরে ধীরে অসংখ্য প্রসূতি কেন্দ্র' ও শিশুপালন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সেখানে পুষ্টিকর খাদ্য, দুধ সবই উপলব্ধ ছিল। স্কুলেও তখনই নিখরচায় মধ্যাহ্ন ভোজন চালু করা হয়েছিল। কারণ সেই রাষ্ট্র তখনই মনে করতো, যে শ্রমজীবী নারী সম্মিলিত শ্রমের সাহায্যে রাষ্ট্রের সম্পদ বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত তার সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব শুধু সেই নারীর বা তার পরিবারের নয়। রাষ্ট্রের ও দায়িত্ব থাকার কথা এই নবগঠিত রাষ্ট্রের বিরাট কর্মযজ্ঞে। (The labour of women in the evolution of the economy, by Alexandra Kollontai-1921) সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীদের প্রতি রাষ্ট্রের এই দৃষ্টান্তমূলক মনোভাব সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

মনুস্মৃতি সম্পর্কে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর তাঁর বিভিন্ন লেখায় ও বক্তব্যে বিশদে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, "Manu Smriti is a book of Law, Religion and Ethics rolled into one. It is Ethics because it deals with the duties of men. It is Religion because it deals with Caste which is the soul of Hinduism. It is Law because it prescribes penalties for breach of duties."

In this view there is nothing wrong in going to Manu Smriti to ascertain the moral standards and religious notions of the Hindus.

মনুস্মৃতি থেকে হিন্দুদের সামাজিক রীতি ও সামাজিক বিন্যাসের যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে কি সমতা বা সমান অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো প্রমাণ আছে? উত্তরটা নেতিবাচকই হবে। "That men are born equal is a doctrine which is repugnant to the Hindu social order. In the spiritual sense, it treats the doctrine as false”. হিন্দুদের সামাজিক বিশ্বাস থেকে যেটা দেখা যায় যে সব মানুষ হচ্ছে প্রজাপতির (যাকে ব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা বলা হয়) সন্তান, কিন্তু সেই ভিত্তিতে তারা কিন্তু সবাই সমান নয়। কারণ স্রষ্টার শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে তারা সৃষ্ট হয়েছে। ব্রাহ্মণরা স্রষ্টার মুখ, ক্ষত্রিয়রা তাঁর বাহু থেকে, বৈশারা তাঁর উরু থেকে এবং শুদ্ররা তাঁর পাদমূল থেকে, "The limbs from which they were created being of unequal value, the men thus created are as unequal".

সেই একই কারণে হিন্দুদের সামাজিক বিন্যাসে ব্রাহ্মণকে সর্বোচ্চ স্থান প্রদান করা হয়েছে। তারপর ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং একদম শেষে রয়েছে শূদ্ররা আর সেভাবেই সমাজে তাদের অধিকার ও তাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই ব্যবস্থায় নিম্নবর্গীয়রা হচ্ছে উচ্চবর্ণের নিয়ন্ত্রণাধীন। আম্বেদকর বলেছেন. ’There is no sphere of life (of Hindus) which is not regulated by this principle of graded inequality’, হিন্দুদের সামাজিক ব্যবস্থায় (মনস্মৃতি অনুযায়ী) এই বৈষম্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। (From each according to his ablity, to each according to his need- is not the principle of the Hindu social order. The principle of the Hindu social order is - From each according to his need; to each according to his nobility. The Hindu social order does not recognize equal need, equal work or equal ability as the basis of reward for the labour.)

মনুস্মৃতির এই সামাজিক রীতি অনুযায়ী জীবনের ভালো জিনিসগুলো ও উৎকৃষ্ট সুযোগ-সুবিধাগুলি ভোগ করার বিধান আছে যারা সমাজে উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত শুধু তাদের জন্যে এবং যারা নিম্নবর্গীয় তাদের জন্যে উপলব্ধ অপ্রতুল ও নিকৃষ্ট মানের সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থা।

মনুস্মৃতি অনুযায়ী হিন্দুদের ৪টি বর্ণেরই ভিন্ন ভিন্ন পেশা নির্দিষ্ট করা আছে এবং বিধান হল, এগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে একই ভাবে ধারাবাহিকভাবে চলবে। সেই কারণেই এটা বলা যায় যে "The Hindu social order leaves no choice to the individual. It fixes his occupation, it fixes his status”. আসলে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের দ্বারা নিম্নবর্গীয়দের আর্থ-সামাজিক হীনস্থানকে চিরায়ত করার উদ্দেশ্যেই মনুস্মৃতির এই অনুশাসন। এছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়, হিন্দু সামাজিক অনুশাসন জনগনের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের পরিপন্থী। মানুষ আইনের দ্বারা পরিচালিত হবে এটা তারা মানে কিন্তু তাদের মতে, একমাত্র বেদে উল্লেখিত আইনের বিধানই প্রযোজিত হবে হিন্দু সমাজের মানুষদের ক্ষেত্রে।

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ঘোরতর বিরোধী আরএসএস। ১৯৬১ সালে জাতীয় সংহতি পরিষদের প্রথম অধিবেশনে গোলওয়ালকার যে প্রতিবেদন লিখেছেন তা হল 'বর্তমানের যুক্তরাষ্ট্রীয় ধাঁচের কাঠামো এক জাতির ধারণাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এবং তাকে শৃঙ্খলিত করে। একে মসৃন ভাবে উৎপাটিত করতে হবে, সংবিধানকে শুদ্ধ করতে হবে এবং একীভূত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।'

আম্বেদকর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন "Another special feature of the Hindu social order is that it is a Divine order designed by God himself, As such it is sacred not open to abrogation, amendment, not even to criticism. There are no instances of where a particular social order has been consecrated by Religion that made it sacred and inviolate." এই প্রসঙ্গে গোলওয়ালকারের কথাও চলে আসে, তিনি বলেন "overall supremacy of religion in social life. This has little to do with religiosity. This has to be established to achieve the political objective Golwalkar sets out for the RSS. He dismissed the modern concept of secularism where religion is separated from both politics and State and treated as an individual question. According to him, this is a misconception and he went on to assert that Religion cannot be ignored in individual or public life. It must have a place in proportion to its vast importance in politics as well. ('India Nationhood under Attack by Sitaram Yechury)

মনস্মৃতি অনুযায়ী হিন্দু সামাজিক বিন্যাসের ভিত্তিটা ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর স্থাপিত। মনুস্মৃতির বর্ণিত সমাজে বর্ণব্যবস্থা রয়েছে। বৈষম্য রয়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই। বর্ণভেদে অধিকারের তারতম্য রয়েছে। সেখানে ব্রাহ্মণ্যবাদকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, গণতন্ত্রের কথা, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-ন্যায় এর কথা, সমতার কথা, মৌলিক অধিকারের কথা, ব্যক্তি-স্বাধীনতার কথা, ভ্রাতৃত্ববোধর কথা বলা হয়েছে।

🔍︎ আরও পড়ুন — আদিবাসীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আরএসএস

আমাদের দেশের সংবিধানের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বা অসম্পূর্ণতা রয়েছে ঠিকই, আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক। এই কারণেই আমাদের দেশের সংবিধান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক, অন্যদিকে, মনুস্মৃতির সারমর্ম হলো অগণতান্ত্রিক, বৈষম্যমূলক ও সংকীর্ণ।

আরএসএস- এর মতাদর্শের বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া

এতক্ষণে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে আরএসএস কি চায়? আরএসএস-এর মতাদর্শ কি। আরএসএস নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু, 'হিন্দুরাষ্ট্র' প্রতিষ্ঠা করার ভাবাদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করতে তারা নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতেও 'গুরুজি' বলে খ্যাত গোলওয়ালকারের প্রভাব রয়েছে। 'Golwalkar's abiding influence in providing the Saffron Brigade with an ideological formation, not merely in terms of ideas and principles but also in establishing and organisational structure to achieve the aim of a fascistic Hindu Rashtra.

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৫১ সালে জনসংঘ ও পরে ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ধর্মীয় শাখার জন্ম। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে আরএসএস ছাত্রদের মধ্যেও এবিভিপি নামক একটি ছাত্র সংগঠন এবং এছাড়াও বিএমএস নামক একটি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনও গঠন করেছে। এছাড়াও বজরং দল (জঙ্গি ধর্মীয় সংগঠন) ও ১৯৯১ সালে অর্থনৈতিক শাখা হিসেবে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ গঠন করেছে আরএসএস। সারা দেশ জুড়ে তারা কয়েক লাখ সরস্বতী শিশু মন্দির নামক বিদ্যালয় পরিচালনা করে, একদম তৃণমূল স্তর থেকে মানুষদের মনকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃথক ধারায় প্রভাবিত ও প্রশিক্ষিত করার জন্যে। আদিবাসীদের মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করার জন্য তারা 'বনবাসী কল্যাণ আশ্রম' নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছে। সংঘ পরিবারের এইসব সংগঠন ছাড়াও সারা দেশে ছড়িয়ে আছে আরএসএস-এর নিজস্ব প্রায় ৬০,০০০ শাখা।

এসবের মাধ্যমে সুপরিকল্পিভাবে ও ধারাবাহিভাবে সমাজের সমস্ত অংশের মানুষকে তাদের মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে চলেছে আরএসএস যাকে বলা হচ্ছে সামাজিক প্রকৌশল।

আরএসএস-বিজেপি-র শ্রেণীচরিত্র ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

বিজেপি একই সঙ্গে সামন্ততন্ত্র ও ধনতন্ত্রের পূর্ণ সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। বিজেপির অর্থবল সাধারণভাবে বৃহৎ পুঁজিপতিসহ পুঁজিপতি ও ব্যবসায়ী শ্রেণী এবং বৃহৎ ভূস্বামীদেরই মদতপুষ্ট। উচ্চবর্ণ হিন্দুদের একটি অংশ আর ধনপতি শ্রেণী ও ভূমিপতি শ্রেণীর একটি অংশকে নিয়েই বিজেপি গঠিত এবং এই ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের শ্রেণীস্বার্থ রক্ষাই বিজেপির শ্রেণী চরিত্রের মৌলিক পরিচয়। অর্থাৎ, বিজেপি ভারতের শাসকশ্রেণীর সেই অংশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি যেটি একাধারে ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, ধনতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদের সমর্থক।

আরএসএস-এর রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি চরম দক্ষিণপন্থী, তা সর্বজনবিদিত। বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শুরুতে নেহেরু মডেল হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গড়ে তোলা, পরিকল্পনা কমিশন গঠন, ভারী ও বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার মধ্যে দিয়ে দ্রুত শিল্পায়ন, ১৯৬৯ সালে ব্যাঙ্ক-শিল্প জাতীয়করণ, রাজন্য ভাতা বিলোপ বা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে ভূমিসংস্কার করার তদানিন্তন কংগ্রেস সরকারের নীতিগুলিকে দক্ষিণপন্থী দৃষ্টিকোণ থেকে জনসংঘ ও স্বতন্ত্র দল চরম বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেস সরকার যখন সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুজি পরিচালিত নয়া উদারনীতির অনুপ্রবেশ ঘটায় আমাদের দেশে, বিরোধী দলে থাকা বিজেপিও এই নীতির সমর্থন করে।

এখন, নয়া উদারনীতির শর্ত অনুযায়ী, সরকারের কল্যাণকর ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ কমেছে। কৃষিক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য কমেছে, ব্যক্তিগত পুঁজির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমদানি-শুদ্ধ হ্রাস করা হয়েছে, আমদানির ক্ষেত্রে পরিমাণগত বাধা দূর করা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামাজিক বিষয়গুলি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মুক্ত বাজারের উপর। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলি যেমন লোহা, ইস্পাত, কয়লা, রেল, ব্যাঙ্ক প্রভৃতিকে বেসকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিমা এমনকি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, উৎসাহিত করা হচ্ছে। এককথায় বিদেশি বিনিয়োগের জন্যে ভারতের বাজারকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে, বিশ্বায়নের সূত্র ধরে।

এই নীতি এতদিন পালন করে এসেছে কংগ্রেস। এখন শাসন ক্ষমতায় এসে বিজেপি এই নয়া উদারনীতিকে আরো আগ্রাসীভাবে প্রবর্তন করছে। এতে সবথেকে বেশি লাভবান হচ্ছে একচেটিয়া ও কর্পোরেট পুঁজি। সেই কারণে কর্পোরেট দুনিয়া আজ ব্যাপকভাবে বিজেপির পিছনে রয়েছে।

এর মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে কর্মসংস্থান নেই, কর্মসংকোচন আছে।হায়ার এন্ড ফায়ার- এর তত্ত্ব ব্যাপকভাবে প্রয়োগ হয়েছে। কৃষকরা ফসলের সহায়ক মূল্য পাচ্ছে না, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক ও কল্যাণকর প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ হ্রাস পাচ্ছে। জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন তুলে দিয়ে সীমাবদ্ধ ক্ষমতা সম্পন্ন 'নীতি আয়োগ’ গঠন করা হয়েছে। শ্রম আইনে মালিকদের স্বার্থে শ্রমিক বিরোধী সংশোধনী আনা হচ্ছে। অতি সম্প্রতি এই জনবিরোধী চারটি শ্রম কোড চালু করে দিয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।

এই আর্থিক সংকটের সময়েও বৃহৎ শিল্পপতিদের ব্যাঙ্ক ঋণ মুকুব করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের দায়ে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে, গণবণ্টন ব্যবস্থাকে শিথিল করা হয়েছে। দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে এবং সেই কারণে একাধিক শিল্প আজ রুগ্নতর পথে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের কারণে বহুজাতিক সংস্থারগুলির সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে না পারার জন্যে দেশীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তথা প্রযুক্তি, টেলিকম,, ব্যাঙ্কিং, রেল এবং বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা যা এক সময়ে কর্মসংস্থানের অন্যতম বৃহত্তর ক্ষেত্র ছিল, সেইসব সংস্থা এখন কর্ম সংকোচনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি, দারিদ্র প্রভৃতি যেমন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তেমন অন্যদিকে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের জন্য বিপুল-পরিমাণ কর ছাড়, ঋণ মুকুব প্রভৃতি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বস্তুতপক্ষে, বিজেপি সরকারের আমলে বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠী যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে তা নজিরবিহীন।অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের জাঁতাকলে পড়ে আরএসএস মুখে স্বদেশিয়ানার কথা বললেও তাদের সমর্থন ছাড়া বিজেপির এই জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করা সম্ভবপর হতো না, এটা সহজেই অনুমেয়। এই নীতির পথ ধরেই আমাদের দেশের সরকার ক্রমশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জুনিয়র পার্টনার হিসাবে পরিণত হতে চলেছে। তার সব শর্তের কাছেই নতজানু হচ্ছে আমাদের দেশের সরকার। সাম্রাজ্যবাদ ও লগ্নিপুঁজির কাছে মোদি সরকার এখন ডেলিভারি বয়।

🔍︎ আরও পড়ুন —আরএসএস: সন্দেহজনক অতীতের ১০০ বছর   

কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা অর্থনৈতিক অসাম্য নিরাপত্তজনিত সংকট (সাম্প্রতিকালে পহেলগাম ও দিল্লীর ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা, সীমাহীন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত রাজ্য সরকারের সাথে সংকীর্ণ স্বার্থে সেটিং, মহিলাদের নিরাপত্তা দানে ব্যর্থতা ইত্যাদিতে থেকে মানুষের মন ঘুরিয়ে দেওয়া ও শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকে বিনষ্ট করতে এসআইআর, এনআরসি ও সিএএ করে প্রান্তিক মানুষকে পরিযায়ী শ্রমিক, দলিত, আদিবাসী ও অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘু মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়াও বর্তমানের আর্থিক সংকট থেকে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরানোর জনাই ধর্মকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। সরকারের এই জনবিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনরোষকে দানা বাঁধতে না দেওয়ার জন্যই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাস্তা বেছে নেওয়া হচ্ছে। ধর্মের নামে মেহনতি মানুষের ঐকাকে বিনষ্ট করার জন্যে সাম্প্রদায়িক আবহাওয়া সৃষ্টি করা হচ্ছে। উগ্র জাতীয়তাবাদের বাতাবরণ সৃষ্টি করে মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনা, শোষণ এর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। করতে বিজেপি সরকার মূলত পাকিস্তানের জুজু দেখিয়ে আসছে, কিছুদিন আগে চীনকেও তারা সামনে এনেছিল বিকল্প কন্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়ণের রাস্তা নেওয়া হচ্ছে। ভারাভারা রাও, সুধাভরদ্বাজ, কাফিল খান, উমর খালিদ, শারজিল ইমান, নাফিসা ফতিমা ও এমনকী প্রশান্ত ভূষনের প্রতি রাষ্ট্র যে কর্তৃত্ববাদী আচরণ করেছে সেটাই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

কিন্তু অতি সাম্প্রতিক কালে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক সন্ত্রাসের আক্রমনে বিজেপি সরকারের বিদেশ নীতি দোদুল্যমান। সাময়িক কৌশলগত কারণে (আত্মস্বার্থ) ভারত এখন চীনের বিরুদ্ধে বৈরিতামূলক প্রচার বন্ধ রেখেছে। কয়েকটি বিষয়ে তারা চীন ও রাশিয়ার কাছাকাছি যেতে চাইছে এটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধি করছে। স্বল্প দামে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল ক্রয় করতে চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে আবার ট্রাম্পের হুমকিতে সেখান থেকে সরে আসার পথ খুঁজছে। একটু সমস্যায় তো পড়েছে বিজেপি সরকারের বিদেশ নীতি। শ্যাম রাখি, না কূল রাখি এই নিয়ে দিশেহারা বর্তমান বিজেপি সরকার। কারণ তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে নিজেরা পুরোপুরি মুক্ত হতে চাইছে না।

কেন্দ্রে বিজেপি এবং আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণের ফলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক ভিত্তি বিপদের মুখে। উপরন্তু, তারা দেশের শাসক শ্রেণীর এজেন্ট। ভারতের শাসক শ্রেণী ও লগ্নি পুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনে তারা সাহায্য করে চলবে। এই সময় ধান্দার ধনতন্ত্রের সবচেয়ে জঘন্য রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর অর্থ শ্রমিক শ্রেণী ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ আক্রমণ। এর থেকে সর্বাধিক লাভবান হচ্ছে বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর আদানি ও আম্বানি প্রভৃতিদের। সেই কারণে বিজেপি সরকারের উপর কর্পোরেট সংস্থারা বেজায় খুশী। এই সময়টা ভারতবর্ষে চলেছে "কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক আঁতাত"-এর পর্ব, সেই কারণে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন ভারতবর্ষ এখন হিন্দুরাষ্ট্রের কিনারায়।

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে একথা বলা প্রয়োজন যে অঅরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বস্তরে এবং সর্বাত্মকভাবে লড়াই চালানো জরুরি। এই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মতাদর্শগত সাংস্কৃতিক, আদর্শগত, শিক্ষা-সংস্কৃতির জগৎ প্রভৃতি ক্ষেত্রে। বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে এই লড়াইয়ে সামিল করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদীদের বিষাক্ত প্রচার ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বামপন্থী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ সমস্ত রাজনৈতিক দল, সংগঠন, আন্দোলন ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরও সচেতন করতে হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কোয়ালিশন করে সাম্প্রদায়িকতাকে পুরোপুরি পরাস্ত করা যাবে না, সাময়িক কিছু সুবিধা হতে পারে। মৌলিক লড়াই মতাদর্শগত ও সাংগঠনিকভাবে লড়তে হবে। মতদর্শগতস্তরে সাম্প্রদায়িকতার আক্রমণকে ও ধর্মান্ধতার বাতাবরণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে, জনগণের ঐকোর ভিত্তিতে সাংগঠনিকভাবে তাদের পরাস্ত করতে হবে। এই লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের রাজ্যের শাসক তৃণমূল সরকারের প্রতিযোগিতা মূলক সাম্প্রদায়িকতা (বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন ও নিতানতুন নির্মান মন্দির তৈরী করা) দিয়ে দেখনদারী হবে মূল সমস্যার কোন সুরাহা হবে না। তাই এই লড়াইয়ের কোন বিকল্প নেই।

নিবেন্ধ উল্লেখিত উদ্ধৃতির উৎস এবং এছাড়াও যে বই ও বিবৃতিরও সাহায্য নেওয়া হয়েছে, তার তালিকা দেওয়া হল:
১। মনুসংহিতা ও নারী- কঙ্কর সিংহ
২। Beyond the Four Barnas - Prabhati Mukherjee
৩। Statement of CPI(M) Polit Bureau of October 1, 2025


প্রকাশের তারিখ: ৩০-ডিসেম্বর-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

তথ্য সমৃদ্ধ সময়োপযোগী লেখা।
- Chandan Sarkar, ১৩-জানুয়ারি-২০২৬


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫