Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

কমিউনিষ্ট পার্টি ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য সংগ্রাম (শেষ পর্ব)

ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ
শ্রমিক-কৃষক, শিল্পী ও লেখকদের প্রতিভা বিকাশ করা এবং এই সব শিল্পী ও লেখকদের সঙ্গে উচ্চশ্রেণী থেকে আগত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা এই দুই দফা কর্তব্য কমিউনিষ্ট পার্টি তখনই পালন করতে পারেন যদি তারা শাসক শ্রেণীর সংস্কৃতিতে যা কিছু পচা ও ধ্বংসোন্মুখ, তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চালিয়ে যান। পার্টি যদি সংস্কৃতিকে শ্রমিকশ্রেণী ও তার সহযোগীদের তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের অস্ত্র হিসাবে দেখেন তবেই তারা সত্যিকারের জাতীয় গণ-সংস্কৃতি বিকশিত করে তুলতে পারবেন ও প্রতিহত করতে পারবেন শাসক-শ্রেণীর তাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাকে।
struggle for the communist part and cultural progress - II

প্রথম পর্বের পর...

স্বাধীনতা উত্তর যুগে সংস্কৃতি ও সরকার

কিছুদিন আগে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে অবস্থা ছিল, আজ তা থেকে ভিন্ন। কমিউনিষ্ট পার্টি' গোড়ার দিকে যখন সাংস্কৃতিক কাজ কর্ম শুরু করে, দেশ ছিল বিদেশী সরকারের অধীনে। জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে, একেবারে শত্রুমনোভাবাপন্ন না হলেও তারা স্বভাবতই ছিল উদাসীন। সেটা ছিল একটা সরকার যাদের 'বৃটিশ সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব' প্রমাণ করা ছাড়া জ্ঞান বিস্তারের ও সংস্কৃতিকে পুষ্ট করবার আর কোন আগ্রহ ছিল না। আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনে যা কিছু জাতীয়তামূলক ছিল, তাকেই অসভ্যতা ও বর্বরতা বলে অবহেলা করা ছিল তাদের রেওয়াজ। আজকের সরকার আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে উৎসাহী ও তার বিকাশের জন্য কিছু কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। হয় সোজাসুজি নয়ত তারই আনুকূল্যে গঠিত সংগঠনের মারফত সরকার লেখক, সঙ্গীতজ্ঞ, অভিনেতা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। পুরস্কার, প্রশংসাপত্র, উপাধি বিতরণ, সাহিত্য আকাডেমী, সঙ্গীত নাটক আকাডেমী, বুক ট্রাস্ট ইত্যাদি ধরণের সংস্থা গঠন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে (সমাজতান্ত্রিক শিবিরভূক্ত দেশসহ) সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি বিনিময়-সরকার এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে সাহায্য করছে।

সরকারের এই সব কাজকর্ম ও তার পৃষ্ঠপোষিত সংগঠন সম্পর্কে স্বভাবতই কমিউনিষ্ট পার্টি নিস্পৃহ থাকতে পারেন না। কারণ আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রতিভা বিকাশে তাঁরা যতটা সাহায্য করেন, যতটা তাঁরা সাহায্য করেন শিল্প ও বিজ্ঞানের গ্রন্থাদি প্রকাশে, যে পরিমাণে তাঁরা বাড়িয়ে তোলেন জনগণের মধ্যে জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি একটা গর্ববোধ, সেই পরিমাণে তাঁরা জাতীয় সংস্কৃতিতে অনুরাগীদের কাছ থেকে সমর্থন পাবার যোগ্য। এবং সর্বোপরি শ্রমিক শ্রেণীর কাছ থেকে, যে শ্রমিকশ্রেণী হচ্ছে মানব সংস্কৃতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ তার উত্তরাধিকারী, লেনিন যেটা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন। কমিউনিষ্ট পার্টিকে তাই অবশ্যই দেখতে হবে আমাদের দেশ বহু ভাষাভাষী এবং সেই হেতু বহু সংস্কৃতির দেশে সরকার জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে সামান্যভাবে যে কাজটা শুরু করেছেন, তাকে একটা সত্যিকারের গণসংস্কৃতি বিকাশের পথে যাতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

পার্টি অবশ্য এ ব্যাপারে চোখ বুঁজে থাকতে পারে না যে, জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে সরকারী প্রচেষ্টায় গুরুতর সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি রয়েছে। কারণ যদিও এটা বিদেশী সরকার নয়, তা হলেও এটা একটা শ্রেণী সরকার; তাই যদিও সংস্কৃতি বিকাশে এরা কিছুটা উৎসাহী, এরা সত্যিকারের জাতীয়, মানে গণসংস্কৃতি হিসাবে তাকে গড়ে তুলতে উৎসাহী নয়।

সাধারণ মানুষ ও তাদের সাংস্কৃতিক কাজকর্মের জন্য এরা অসংখ্য বাধ্য সৃষ্টি করে। একদিকে এরা যেমন বিভিন্ন আকাডেমী গঠন ক'রে তার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহায্য করে, অপর দিকে তারা এগুলি এমনভাবে পরিচালনা করে যে বেশীরভাগ সাহায্যই জোটে তাদের, যারা শাসকশ্রেণীর প্রতি বিশ্বস্ত, ড্রামাটিক সোসাইটিজ অ্যাক্টের মত দমনমূলক আইন বলবৎ রাখে ও প্রয়োগ করে, যাতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক লেখা ও নাটক মঞ্চস্থ করা বন্ধ রাখা যায়। 

এটা একটা লজ্জাকর অবস্থা যে একজন সামান্য পুলিস অফিসারকে শ্রেষ্ঠ নামজাদা শিল্পীর সঙ্গীত ও নাটককে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সরকার যখন নিজেই জাতীয় সংস্কৃতির অভিভাবক ও পৃষ্টপোষকের ভূমিকা নিয়েছেন সেই সময়েও সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের কার্যকলাপের উপর পাইকারী ভাবে নিষিদ্ধকরণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত জাতীয় শিল্পগুরুর সঙ্গীতে ও নাট্যাভিনয়ে বাধাদান সচরাচরই ঘটছে। বিভিন্ন আকাডেমীগুলো, অল ইণ্ডিয়া রেডিও, প্রস্তাবিত বুক ট্রাস্ট, পুরস্কার পারিতোষিক বিতরণ ব্যবস্থা - এগুলো সবই এমন ভাবে পরিচালিত হয় যে-শ্রমিক-কৃষক-শিল্পী ও লেখকেরা সংস্কৃতিকে প্রকৃত জনগণতন্ত্র ও স্থায়ী শান্তির জন্য সংগ্রামের হাতিয়ার হিসাবে দেখেন, এমন কোন সুযোগই তাদের দেওয়া হয় না।

সত্যিকারের জাতীয় গণসংস্কৃতির জন্য

কমিউনিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীদের তাই পরিষ্কার মনে রাখা দরকার যে একটি প্রকৃত জাতীয়, মানে গণসংস্কৃতি-মেহনতী জনতার এবং মেহনতী জনতাদের জন্য সংস্কৃতি গড়ে তুলবার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই সংগ্রাম অবশ্য বিদেশী শাসকের সামনে যে বাধার সম্মুখীন হত, এখন ততটা হবে না; অপরদিকে জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশের প্রচেষ্টা, শাসকশ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতার ছত্রছায়ায় থাকলেও, এতে কিছুটা সহায়তা করবে। কিন্তু কমিউনিষ্ট পার্টি যে খাঁটি গণসংস্কৃতির জন্য লড়ছে, তার বিকাশ হতে পারে শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেত- মজুর, কুটীরশিল্পী ইত্যাদি জনগণের মধ্যে কমিউনিষ্ট ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক পার্টি'গুলির স্বাধীন সাংস্কৃতিক কাজকর্মের ওপর ভিত্তি করেই। সরকারী বা আধা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা নয়, গণতান্ত্রিক সংগঠনের মধ্যে সংগঠিত লক্ষ লক্ষ মেহনতী মানুষের পৃষ্ঠপোষকতাই গণসংস্কৃতিকে বিকশিত হতে সহায়তা করবে। পার্টি'কে উপলব্ধি করতে হবে ট্রেড ইউনিয়ন, কিষাণ 

সভা ও মেহনতী জনগণের 'অন্যান্য গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলি শুধু মাত্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবি আদায়ের হাতিয়ার নয়, এগুলো হচ্ছে তেমন উপায় যার মাধ্যমে শ্রমিক কৃষক অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও পশ্চাদপদতা, যা দিয়ে শাসকশ্রেণীরা তাদের বেঁধে রেখেছে, সেই শেকলকে ভেঙ্গে বের হয়ে আসেন-লেনিন যাকে বলেছেন, এগুলো হল 'সাম্যবাদের বিদ্যালয়'। আমাদের তাই দেখতে হবে যেন সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন, কিষাণ সভা ও অন্যান্য গণসংগঠন তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে প্রতিভাবান শ্রমিক কৃষককে কবি, গায়ক, অভিনেতা, চিত্রকর, লেখক বৈজ্ঞানিক হয়ে উঠতে সাহায্য করেন। পার্টিকে তাই সচেষ্ট হতে হবে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে এবং সাহায্য করতে হবে এই সব সংগঠনকে সাধারণ মানুষের প্রতিভাকে খুঁজে বের করে তার বিকাশ করতে, যে প্রতিভা এখন শাসকশ্রেণীর সৃষ্ট অবস্থার মধ্যে চাপা পড়ে আছে। মেহনতী মানুষদের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক সংগঠনে সাহিত্য, নাটক ইত্যাদি গ্রুপ গঠনে পার্টিকে উদ্ব্যোগী হতে হবে।

পার্টিকে অবন্ধু মেহনতী জনগণের এইসব গণতান্ত্রিক সংগঠনের সাংস্কৃতিক কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উচ্চ শ্রেণীর সাংস্কৃতিক কর্মীদের দিকেও তাকে দৃষ্টি রাখতে হবে- যে সব সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, এবং যাদের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। প্রতিভাবান শ্রমিক-কৃষকের সঙ্গে এই ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মিলিত কার্যক্রমে টেনে আনা, গানের স্কোয়াড, নাটকের দল, লেখক-সংঘ ইত্যাদি গঠন যাতে সর্বশ্রেণীর সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ গ্রহণ করতে পারেন, এইসব সর্বশ্রেণীভুক্ত সংগঠন থেকে প্রতিযোগিতা, অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ- এসব কিছু শ্রমিক-কৃষক শিল্পী ও লেখকদের প্রতিভা বিকাশের সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে উচ্চ শ্রেণী থেকে আগত শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের সাহায্য করবে আরও ঘনিষ্ট হতে ও শ্রমিক শ্রেণী ও কৃষক সমাজের প্রচণ্ড সৃজনী ক্ষমতাকে হৃদয়ঙ্গম করতে। এ ভাবেই গড়ে উঠবে একটি সত্যিকারের জাতীয় সংস্কৃতি-যে সংস্কৃতিতে শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীর মানবিকতাবাদ ও প্রগতিধর্মী দৃষ্টিভঙ্গী এসে মিলবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কৃষকের অর্ধবিকশিত প্রতিভার সঙ্গে এবং নিয়ে আসবে সমগ্র জাতির বুদ্ধিগত ও চেতনার অগ্রগতি।

শ্রমিক-কৃষক, শিল্পী ও লেখকদের প্রতিভা বিকাশ করা এবং এই সব শিল্পী ও লেখকদের সঙ্গে উচ্চশ্রেণী থেকে আগত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা এই দুই দফা কর্তব্য কমিউনিষ্ট পার্টি তখনই পালন করতে পারেন যদি তারা শাসক শ্রেণীর সংস্কৃতিতে যা কিছু পচা ও ধ্বংসোন্মুখ, তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চালিয়ে যান। পার্টি যদি সংস্কৃতিকে শ্রমিকশ্রেণী ও তার সহযোগীদের তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামের অস্ত্র হিসাবে দেখেন তবেই তারা সত্যিকারের জাতীয় গণ-সংস্কৃতি বিকশিত করে তুলতে পারবেন ও প্রতিহত করতে পারবেন শাসক-শ্রেণীর তাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে জাতীয় সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টাকে।

সংস্কৃতিতে যুক্তফ্রন্ট

জনগণের মধ্যে স্বাধীনভাবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক কার্যাবলী চালিয়ে যাবার ও গণ-সংস্কৃতি বিকাশের চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিষ্ট পার্টিকে সরকারী ও আধা-সরকারী সাংস্কৃতিক কাজকর্মের আরও প্রসার ও গণতান্ত্রিকরণের জন্যেও লড়তে হবে। কারণ, যদিও পার্টি-বহির্ভূত লেখক ও শিল্পীরা সরকারের বর্তমান নীতিকে বৃটীশ আমলের সাংস্কৃতিক নীতি থেকে একটা বাঞ্ছনীয় পরিবর্তন বলে স্বাগত জানিয়েছেন, এ সবের মধ্যেকার সাংস্কৃতিক আমলাতান্ত্রিকতা, স্বজনপোষণ, কুসংস্কার ও পক্ষপাতিত্বের জন্য তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন স্কীমে যে সব পুরস্কার, সম্মান, উপাধি বিতরণ করা হয়, সেগুলো প্রায়শঃই জোটে তাঁদের যাঁরা এই সব বিতরণের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের "সুনজরে" আছেন। নাটক ও অন্যান্য শিল্প-সাহিত্যের লেখা প্রায়ই এমনভাবে নির্বাচিত হয় যার ফলে প্রচুর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়; সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কোন কোন গ্রুণ ও ঝোঁকের বিরুদ্ধে শুধু নয়, কোন কোন ভাষাগত গ্রুপের বিরুদ্ধেও বৈষম্যের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এইসব সংস্থাগুলির কাজকর্মে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য আন্দোলন করাও তাই কমিউনিষ্ট পার্টির একটা কর্তব্য। তাকে দেখতে হবে এই সংগঠনগুলি যাতে আরও বেশী বেশী গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। 

সরকারী প্রচেষ্টায় গঠিত সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলি গণতান্ত্রিকরণের জন্য সংগ্রামে পার্টির এই শ্লোগান তোলা উচিত "রাজনৈতিক কারণে কোন বৈষম্য চলবে না।" এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রতিটি নিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক কর্মীই স্বীকার করেন যে সরকারী ও আধা-সরকারী সংগঠনগুলির একটা পরিষ্কার বিরূপ মনোভাব রয়েছে সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে সংস্কৃতি শাসক-শ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটা খোলাখুলি হাতিয়ার। এ ধরনের কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছায়াচিত্র ইত্যাদি-যাতে বর্ণিত হয় শ্রেণী শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামরত শ্রমিক-কৃষকের জীবনের আলেখ্য, সে-সব বিষয় নিন্দিত হয়, তাদের শিল্পগত উৎকর্ষ যত বেশীই থাকুক না কেন-অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে যেখানে উচ্চগুণসম্পন্ন শিল্প ও সাহিত্য কর্মকে বাদ দিয়ে নিকৃষ্ট ধরনের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে কারণ তাতে এমন সব বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা ক্ষমতাসীন ব্যক্তির মনঃপুত নয়। এই রাজনৈতিক বিরূপতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম সাংস্কৃতিক কার্যকলাপকে গণতান্ত্রিকরণের জন্য সংগ্রামের একটা অংশ এবং এর পেছনে বৃহৎ সংখ্যক সৎ অ-কমিউনিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীরা নিশ্চয়ই এসে দাঁড়াবেন কারণ তাঁরা শাসক পার্টি'র সংকীর্ণ স্বার্থের চেয়ে বরং জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে অনেক বেশী অনুরাগী।

জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশের জন্য সরকার যে-সব সুযোগের সৃষ্টি করেছেন, এ-সব কার্যাবলী যদিও সেইসব সুযোগগুলোর পূর্ণ ব্যবহার করার সংগ্রামকে জোরদার করবে, কিন্তু পার্টি'কে সাহায্য করবে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে আগত সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে একটা ব্যাপক যুক্তফ্রন্ট গড়ে তুলতে; পার্টিকে এ কথা কখনও ভুললে চলবে না যে তার মৌলিক কর্তব্য রয়েছে-শ্রমিক ও কৃষক শিল্পীদের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলা। মেহনতী জনগণের মধ্যে বিরামহীন কাজের মাধ্যমে যে পরিমাণে পার্টি' জনগণের মধ্যে সবচেয়ে অত্যাচারিত, পদদলিত মানুষদের মধ্য থেকে শত-সহস্র কবি, লেখক, নাট্যকার অভিনেতা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মী গড়ে তুলতে পারে, সেই পরিমাণে পার্টি' সত্যিকারের জাতীয় গণসংস্কৃতি বিকাশে তার ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হবে। আর ঠিক সেই পরিমাণেই কর্মীরা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পার্টি'র তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা দেখতে পাবেন।


[রচনাটি ১৯৫৫ সালে মাসিক নিউ এজ-এর ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। অতীতের আন্দোলনের চিন্তা পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্যই এই প্রবন্ধটি প্রকাশ করা হল— সম্পা. গণনাট্য
সূত্র— লেখাটির তর্জমা গণনাট্য পত্রিকার ডিসেম্বর, ১৯৮৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। বানান অপরিবর্তিত।


প্রকাশের তারিখ: ২৬-জুলাই-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫