Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

মুসোলিনির মার্চ

আন্তনিও গ্রামশি
১৯২২ সালের অক্টোবরে ইতালির ফ্যাশিস্টরা বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বে যখন অভ্যুত্থান ঘটাচ্ছিলেন, তখন আন্তনিও গ্রামশি মস্কোয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল রুশ ভাষায়। সেই লেখাটির খোঁজ ছিল না প্রায় ১০০ বছর। ২৫ জুন, ২০২১ প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশ করে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক রাজনৈতিক সাময়িক পত্রিকা জ্যাকোবিন (ফরাসি উচ্চারনে জ্যাকোবাঁ)। এখানে তারই ভাষান্তর।
March of Mussolini

৭ নভেম্বর, ১৯২২। মস্কো উৎসাহে ফুটছে। নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে রুশ বিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকী পালন করছেন বলশেভিকরা। ওই বছরের অক্টোবরেই সোভিয়েত সাধারণতন্ত্রে বসেছিল কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের চতুর্থ কংগ্রেস। রুশ বিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মস্কোয় হাজির ছিলেন বহু বিদেশি বিপ্লবী। তাঁদের অন্যতম হলেন গ্রামশি। তবে মস্কোয় উৎসবের আবহে কিছুটা জল ঢেলে দিয়েছিল গ্রামশির স্বদেশে ফ্যাশিস্ট অভ্যুত্থান।

এর ঠিক আগের সপ্তাহে রোমে মার্চ করছিল ফ্যাশিস্ট ব্ল্যাকশার্টরা। ৩১ অক্টোবর ইতালির রাজা তৃতীয় ভিট্টরিও ইমানুয়েল বেনিতো মুসোলিনিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করেন। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইতালির (‌PCd’I)‌ সদস্য গ্রামশি ও তাঁর কমরেডদের কাছে এটা ছিল একটা শোচনীয় পরাজয়। এরপর ১৯২৬ সালে গ্রেপ্তার করা হয় গ্রামশিকে। জীবনের বাকি সময়টা তিনি জেলেই কাটিয়েছিলেন। জেলের সেলে বসেই লিখেছিলেন তাঁর প্রিজন নোটবুকস। তাঁর দলের পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে গ্রামশির বিখ্যাত বিশ্লেষণ পাওয়া যায় প্রিজন নোটবুকস-এ।

গ্রামশির লেখাপত্র সবই সুপরিচিত। কেন ফ্যাশিবাদের উদ্ভব হয়েছিল সে বিষয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা থেকে আমরা এখনও আরও অনেক কিছু শিখছি। গতবছর ক্রিটিকা মার্ক্সসিস্টা একটা নতুন করে আবিষ্কৃত হওয়া নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। রোমে ফ্যাশিস্টদের ক্ষমতা দখলের পরপরই এই নিবন্ধটি লিখেছিলেন সার্ডিনিয়ার কমিউনিস্ট গ্রামশি। ৭ নভেম্বর ১৯২২-এ প্রকাশিত নিবন্ধটি ইতালিয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন নাতালিয়া তেরেখোভা। তেরেখোভা ছিলেন ইতিহাসবিদ এবং মস্কো গ্রামশি স্টাডিজ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা। প্রবন্ধটির ইতালিয় অনুবাদের ভূমিকা লিখেছিলেন তেরেখোভা এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্রামশি সোসাইটি ইতালিয়া–র প্রেসিডেন্ট গুইদো লিগুওরি। এখানে থাকছে কোন পরিস্থিতিতে এই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল সে বিষয়ে তেরেখোভা ও লিগুওরির মন্তব্য।

প্রাভদার নিবন্ধ, ৭ নভেম্বর, ১৯২২

ফ্যাশিস্টরা ক্ষমতা দখল করার ফলে ইতালিয় কমিউনিস্ট পার্টির কার্যকলাপ এখন পুরোপুরি ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতালিতে ইতিহাসের এখন নতুন একটা পর্ব শুরু হচ্ছে, যে পর্বটাকে আমরা এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি:‌ শহুরে পেটি বুর্জোয়াদের একাংশের মতাদর্শগত নেতৃত্বে সম্ভবত রাজনৈতিক ক্ষমতা পুঁজিবাদী বুর্জোয়াদের হাত থেকে চলে যাচ্ছে মাঝারি ও বৃহৎ ভূস্বামীবর্গের হাতে। ইতালির পুনর্গঠনের জন্য নানা যুদ্ধের পর্বের মধ্যে থেকে সৃষ্টি হয়েছিল এককেন্দ্রিক রাজত্বের। তখন থেকেই ইতালিয় সমাজের দ্বন্দ্বগুলি সুপ্ত অবস্থায় ছিল। প্রলেতারিয়েতকে নেতৃত্ব দিয়ে সোশালিস্ট পার্টি ক্ষমতা দখলে অক্ষম— এই বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে গত দুবছরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা ইতালিয় সমাজের দ্বন্দ্বগুলি ক্রমশ স্পষ্টভাবে সামনে চলে এসেছে। 

এর পরিণতি হল, প্রলেতারিয়েত ও বুর্জোয়াদের পরাস্ত করে কৃষিজমির মালিক ভূস্বামীবর্গের জয়। আর্থিক ও শিল্পক্ষেত্রের সঙ্কটের কারণেই প্রলেতারিয়েত ও বুর্জোয়ারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং সেকারণেই তারা পরাজিত হয়। এরকম একটা পরিস্থিতিতে যে কেউ সহজেই আগাম অনুমান করে নিতে পারবেন যে, ইতালিতে এখন একটা তীব্র সংগ্রাম আসন্ন হয়ে পড়েছে। কারণ এমনকী বুর্জোয়াদের পক্ষেও ভূস্বামীদের কঠোর, অত্যাচারী আধিপত্য মেনে নেওয়া এবং মুসোলিনির মতো একজন মধ্যমেধার ভাগ্যান্বেষীর কাণ্ডজ্ঞানহীন বাগাড়ম্বর সহ্য করা খুবই কঠিন। সুতরাং,এখনকার পরিস্থিতি বেশ জটিল ও গুরুগম্ভীর হওয়া সত্ত্বেও প্রলেতারিয়েত ও তাদের পার্টির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মোটেই সুনির্দিষ্টভাবে নেতিবাচক নয়। গত দুবছরের বেশি সময় ধরে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় কমিউনিস্ট পার্টি ইতিমধ্যেই বেআইনি পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে। মনে রাখতে হবে ১৯২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিভোরনো কংগ্রেসে ভাঙনের পর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার। তারপর ফ্যাশিস্ট অভ্যুত্থানের সময়ও এই পার্টির সদস্য সংখ্যা রয়ে গিয়েছে ৩৫ হাজারে, এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ইয়ং কমিউনিস্টকে ধরাই হয়নি। লিভোরনো কংগ্রেসের পর সোশালিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষ। একই সময়পর্বে তাদের সদস্য সংখ্যা কমে ৩২ হাজারে নেমে এসেছে। সোশালিস্ট পার্টি কমিনটার্নে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিলেও, সত্যি কথা বলতে কী, বেআইনি পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করার উপযুক্ত প্রস্তুতি তাদের নেই।

নতুন এই পর্বে যদি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ইতালিয় সমাজের বাস্তব পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ করে সেই পরিস্থিতির উপযুক্ত কৌশল রচনার কাজে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে (‌আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অভিজ্ঞতার সারসংকলন করে কেন্দ্রীয় কমিটি সম্ভবত সেটাই করবে)‌, ফ্যাশিস্ট ক্যুদেতার ফলে সমাজে যে দ্বন্দ্বগুলি তৈরি হয়েছে সেগুলিকে উন্মোচিত করতে পারে, তাহলে ১৯২০র সেপ্টেম্বরে ফ্যাক্টরি দখল অভিযান ব্যর্থ হওয়ার ফলে যে অবস্থান প্রলেতারিয়েত হারিয়েছিল, খুব শিগগরিই তারা সেই আগের ঐতিহাসিক অবস্থানে পৌঁছে যাবে।  

গ্রামশি (‌ইতালি)

গ্রামশি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং রোমে মার্চ

১৯২২ সালের নভেম্বরে গ্রামশি ছিলেন সোভিয়েত রাশিয়ায়। জুন মাসেই তিনি পৌঁছে গিয়েছিলন। সঙ্গে ছিলেন আমাদেও বরডিগা এবং আন্তনিও গ্রেজিয়াদেই। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় বর্ধিত এগজিকিউটিভ প্লেনামে অংশ নিতে এসেছিলেন তাঁরা। কমিনটার্নের এগজিকিউটিভ ও প্রেসিডিয়ামে PCd’I-এর প্রতিনিধি হিসাবে তিনি মস্কোয় থেকে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে কমিউনিস্টরা কমিনটার্নকে দেখতেন সত্যিকারের একটা বিশ্ব কমিউনিস্ট পার্টি হিসাবে এবং তাঁরা মনে করতেন সেই পার্টি গঠিত ছিল ‘‌জাতীয় বিভাগগুলির’-এর সমম্বয়ে।

ইতালিতে ফিরে যাওয়ার সময় বরডিগা গ্রামশিকে একটা ফালতু কাজের দায়িত্ব দিয়ে যান। কমিনটার্নের তৃতীয় কংগ্রেসে (‌১৯২১)‌ এবং পরবর্তীতে কমিনটার্নের নেতৃত্বদায়ী সংস্থার বৈঠকগুলিতে ‘‌যুক্ত ফ্রন্ট’‌–এর নীতি মেনে চলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।  সার্ডিনিয়ার কমিউনিস্ট গ্রামশিকে বরডিগা যে বাজে কাজের দায়িত্বটা দিয়েছিলেন তা এইরকম। বরডিগা চেয়েছিলেন যুক্ত ফ্রন্টের নীতি না মেনে তাঁর বিপুল ব্যক্তিত্বের শক্তিতে পরিচালিত PCd’I নিজেদের আলাদা অবস্থান বজায় রাখবে এবং গ্রামশি যেন বরডিগার হয়ে কমিনটার্নের কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি আদায় করার কাজটা করেন। 

এর মানে কমিনটার্নের চতুর্থ কংগ্রেসে অংশ নেওয়ার পর ১৯২৩ সালের গোড়ায় গ্রামশি ইতালিতে ফিরে যাবেন। কমিনটার্নের চতুর্থ কংগ্রেস শুরু হয়েছিল পেট্রোগ্রাডে, ১৯২২ এর ৫ নভেম্বর। এর ঠিক পাঁচ বছর আগে পেট্রোগ্রাড ছিল বিপ্লবের ঝটিকা কেন্দ্র। ফলে ১৯২২ এর নভেম্বরে পেট্রোগ্রাডের মেজাজ ছিল চড়া সুরে বাঁধা। সেখানে প্রতিদিন চলছিল মিটিং, মিছিল, রাস্তায় প্যারেড এবং দারন দারুন সব অনুষ্ঠান। সেই সব মিছিল, মিটিং, অনুষ্ঠানে ভিড় উপচে পড়ছিল। এরপর ৯ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর কমিনটার্নের চতুর্থ কংগ্রেসের বৈঠক নিয়ে যাওয়া হয় মস্কোতে। ইতিমধ্যে ইতালিতে গ্রামশির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ফলে তাঁর ইতালি ফেরা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হন গ্রামশি এবং সেটা ছিল গ্রেপ্তারির হাত থেকে তাঁর রেহাই পাওয়ার ঢাল। ফলে গ্রামশি ইতালি ফেরেন ১৯২৪ সালে। 

রাশিয়ায় গ্রামশি

১৯২২ এর জুন থেকে গ্রামশি কমিনটার্নের নানা কাজে যুক্ত ছিলেন। এমনকী মস্কো সহ অন্যান্য শহরে রুশি কমিউনিস্ট পার্টির কাজেও যুক্ত হন। খুব দ্রুত তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। মস্কোর কাছে সেরেব্রানই বোর (‌সিলভার উড)‌ স্যানাটোরিয়ামে তিনি প্রথমে বিশ্রাম নেন। গ্রামশি যে কটেজে থাকতেন, সেই কটেজেরই অন্য একটা ঘরে থাকতেন ক্লারা জেটকিন। তবে বিশ্রাম নিলেও গ্রামশি রাজনৈতিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ করেননি। 

অক্টোবরের মাঝামাঝি গ্রামশি কাজে ফেরেন। কারণ তখন কমিনটার্নের চতুর্থ কংগ্রেস এগিয়ে আসছিল। ২৫ অক্টোবর লেনিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। লেনিন নিজেও তখন অসুস্থ। দুজনে প্রায় দু ঘণ্টা বৈঠক করেন। গুইলিয়ানো গ্রামশিকে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে লেখা একটি চিঠিতে লেনিন ও গ্রামশির আলোচনার বিষয়টা বিস্তারিত লিখেছিলেন ক্যামিলিয়া রাভেরা। এর প্রায় ৪০ বছর পর গুইলিয়ানোর ছেলে, যিনি নিজেকে আন্তোনিও বলে  পরিচয় দিতেন, তিনি নিজের একটি বইয়ে চিঠিটি প্রকাশ করেন। 

তুরিন শহরের সময় থেকেই রাভেরা ছিলেন গ্রামশির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ছিলেন PCd’Iএর প্রথম সারির নেতা।  ছিলেন চতুর্থ কংগ্রেসের প্রতিনিধিও।  কমিউনিস্ট মহিলাদের একটি সভায় যোগ দিতে আগেই রাশিয়ায় পৌঁছেছিলেন তিনি। মস্কোতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, এমনকী লেনিনের সঙ্গে গ্রামশির বৈঠক নিয়েও রাভেরা–গ্রামশি কথা হয়। তবে ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীতেও গ্রামশি–লেনিন বৈঠকের কথা জানাননি রাভেরা। যদিও সেই বইয়ে তিনি তাঁর মস্কোয় থাকার দিনগুলির কথা, অর্ডিন নুয়োভো–র (‌১৯১৯ এর ১ মে তুরিন শহরে সাপ্তাহিক পত্রিকা অর্ডিন নুয়োভো প্রকাশ শুরু করেন গ্রামশি, এতে যুক্ত ছিলেন তোগলিয়াত্তিও)‌ বছরগুলির সময় থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মত বিনিময়ের কথা বিস্তারিত লিখেছেন। রাভেরা মস্কো পৌঁছনোর কয়েকদিন পরই সেখানে পৌঁছন বরডিগা। তাঁকেও স্বাগত জানিয়েছিলেন লেনিন। বরডিগা চেয়েছিলেন লেনিনের সঙ্গে দেখা করার সময় তাঁর সঙ্গেই থাকুন রাভেরা। 

লেনিন-গ্রামশি বৈঠক নিয়ে গ্রামশি নিজে কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা কিছুই লিখে যাননি — ১৯২২ সালে, কিংবা ১৯২৩–১৯২৪ সালে গ্রামশি ও অন্যান্য ক্যাডারদের মধ্যে যে পত্র বিনিময় হয়েছিল (‌মূলত অর্ডিন নুয়োভো–র প্রাক্তনীদের মধ্যে )‌ তাতেও এবিষয়ে কিছু লেখা হয়নি। এই সব ক্যাডাররাই  PCd’I এর একটা নতুন নেতৃত্বদায়ী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন। এবং ১৯২৫–১৯২৬ সালে কমিনটার্নের সমর্থনে দলের গ্রামশিপন্থী নেতৃত্ব গঠনের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। 

রাভেরার স্মৃতিচারণ এবং ১৯৭২ সালের লেখা চিঠিতে আলোচনা, এগুলি সবই দীর্ঘকাল র‌য়ে গিয়েছিল ব্যক্তিগত স্তরে। এসব লেখা নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক (‌যদিও এগুলো সতর্কতার সঙ্গেই পড়তে হবে, কারণ বিষয়গুলো লেখার পর বহু বছর সময় পার হয়ে গেছে)‌এখানে রাভেরা লিখেছেন কীভাবে আন্তর্জাতিকের সঙ্গে বরডিগার মতবিরোধের বিষয়ে গ্রামশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। রাভেরা একথাও লিখেছেন যে গ্রামশি বিভিন্ন প্রশ্নে বরডিগার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের কথা লেনিনকেও জানিয়েছিলেন। এসবের মধ্যে ছিল ফ্যাশিবাদ সংক্রান্ত বিশ্লেষণ নিয়ে মতবিরোধও। রাভেরা লিখেছেন কীভাবে বরডিগা মস্কো পৌঁছলেন এবং সঙ্গে নিয়ে এলেন ‘‌রোমের রাজপথে ফ্যাশিস্টদের মার্চ’‌ করার খবর।

রাভেরা লিখেছেন, আমার সঙ্গে গ্রামশির আলোচনার মাঝেই মস্কোয় তথাকথিত ‘‌মার্চ অফ রোম’‌–এর খবর এসে পৌছল। এবং খবর এল যে ইতালিতে ক্ষমতায় এসেছে মুসোলিনি সরকার। এরপরেই মস্কো পৌঁছলেন বরডিগা। রোমে ঠিক কী ঘটেছে তা সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শোনা গেল। তখন এসব ঘটনা নিয়েই আমাদের আলোচনা চলতে লাগল। এই আলোচনাতেই গ্রামশি ও বরডিগার রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার অনতিক্রম্য ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে গেল। ইতালিতে ফ্যাশিস্তদের ক্ষমতায় আসার পরিণামকে খাটো করে দেখলেন বরডিগা। তাঁর আন্দাজ ছিল, নতুন সরকারের সোশাল ডেমোক্রেসির সঙ্গে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েতের রাষ্ট্র যে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নেই, সেই বিষয়টার ওপর তিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার জোর দিতে লাগলেন।  ‌


১৯২০-২১ সালে ফ্যাশিবাদ সম্পর্কে গ্রামশির বিশ্লেষণ

একথা সুবিদিত যে, ১৯২০ সালে শুরুর পর্ব থেকেই গ্রামশি ফ্যাশিবাদী আন্দোলনকে মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সেই আন্দোলনের বিশ্লেষণ করতেন। প্রথমত, ‘‌ফর আ রিনিউয়াল অফ সোশালিস্ট পার্টি’‌ শীর্ষক দলিলে (‌যে দলিলটিকে ১৯২০ সালে আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসের সময় লেনিন দারুনভাবে প্রশংসা করেছিলেন)‌ গ্রামশি লিখেছিলেন,

ইতালিতে শ্রেণি সংগ্রামের বর্তমান স্তর হল নীচের যে কোনও একটি সম্ভাবনার পূর্ববর্তী বা অগ্রবর্তী স্তর : হয় উৎপাদন ও বণ্টনের নতুন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে সমাজের রূপান্তর হবে যেখানে উৎপাদনশীলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে এবং সেই রূপান্তর সম্ভব হবে বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের দ্বারা রাজনৈতিক ক্ষমতাদখলের মধ্যে দিয়ে। অথবা দেখা যাবে সম্পত্তিবান শ্রেণিগুলি ও শাসক গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া একটা প্রবল প্রতিক্রিয়ার জমানা।  শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রের সর্বহারাকে দাস শ্রমিকে পরিণত করার জন্য ব্যবহার করা হবে সব ধরনের হিংসা। রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য শ্রমিকশ্রেণির যে সংগঠন তাকে ( সোশালিস্ট পার্টিকে) ভেঙে ফেলার একটা অদম্য প্রয়াস জারি থাকবে এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধের সংগঠনগুিলকে  (ইউনিয়ন ও সমবায়) বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার অঙ্গীভূত করে ফেলা হবে। 

পরবর্তী মাসগুলিতে গ্রামশি ফ্যাশিবাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছিলেন এবং যখন ঘটনাগুলি ঘটছে সেই সময়েই এল'অর্ডিন নুয়োভো পত্রিকায় সেগুলির বিশ্লেষণ করছিলেন (যেটা আসলে খুবই কঠিন কাজ)সেই সময় তিনি যে সব মতামত ও সিদ্ধান্তে  পৌঁছেছিলেন সেগুলির মধ্যে কয়েকটি  মতামত ও সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। তবে এর পাশাপাশি তিনি এমন কতগুলি সংজ্ঞা সূত্রায়িত করেছিলেন যা পরে হয়ে দাঁড়িয়েছিল একেবারে ক্ল্যাসিক্যাল সূত্রায়ন। নিঃসন্দেহে, ইতালির লিবারাল জিওলিট্টিয়ান গণতন্ত্র সম্পর্কে তার অবস্থান ছিল পুরোপুরি নেতিবাচক (ইতালির দীর্ঘকালীন লিবারাল প্রধানমন্ত্রী জিওভান্নি জিওলিট্টির নামে এই গণতন্ত্রের নামকরণ করা হয়েছিল)।  এর ফলে কখনও কখনও ফ্যাশিস্ট ‌ঘটনাবলির গুরুত্বকে খাটো করে দেখা হয়েছিল।  বিশেষত, ‘‌ভাগ্যান্বেষী’‌ মুসোলিনি ও জিওলিট্টির মধ্যে সাময়িক সমঝোতার ঘটনায় বিষয়টা প্রমাণিত হয়েছিল।  আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, দ‌্য ফাসশি ইতালিয়ানি ডি কমব্যাট্টিমেন্টো (‌The Fasci italiani di combattimento)‌ ন্যাশনাল ব্লকের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল (‌অর্থাৎ, ১৯২১ সালের নির্বাচনে জিওলিট্টির পেশ করা নির্বাচনী কোয়ালিশন)‌। 

এসব সত্ত্বেও গ্রামশি ফ্যাশিবাদের নতুন, অপরিচিত দিকটিকে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন। ফ্যাশিবাদের একটা শ্রেণিভিত্তিক— এবং মার্কসবাদী বিশ্লেষণ হাজির করেছিলেন তিনি। যদিও এই বিশ্লেষণের কাজটা তিনি এমনভাবে করেছিলেন যা অর্থনীতিবাদী, খর্বিত–খণ্ডিত দৃষ্টিভঙ্গীর খোপে পড়ার বদলে বরং ফ্যাশিবাদের বৈশিষ্ট্যগুলির ওপর জোর দিতে চেয়েছিল। ‘‌শহুরে পেটি বুর্জোয়া’‌র ভূমিকা বোঝাতে তিনি রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘‌এপ পিপল’‌এর (‌মূল উপন্যাসে বান্দর লোগ)‌  উদারহণ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‌গত শতকের শেষ দশকে’‌ই ‘‌শহুরে পেটি বুর্জোয়া’র ‘‌ভাঙনের প্রক্রিয়া’ শুরু হয়ে গিয়েছিল। 

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘‌বৃহৎ শিল্প ও ফিনান্স পুঁজির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ’‌ পেটি বুর্জোয়ারা ধীরে ধীরে ‘তাদের গুরুত্ব হারায় এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম তারা জলাঞ্জলি দেয়।’  শেষ পর্যন্ত পেটিবুর্জোয়ারা  ‘‌বান্দর লোগের মতো শ্রমিকশ্রেণির অনুকরণ করে রাস্তায় নেমে পড়ে।’‌  পদচ্যুত ও ছাঁটাই হওয়া সেনা অফিসারেরাই  এই ‘‌বিদ্রোহ’‌–এর ক্যাডার হিসাবে কাজ করেছিল এবং সেই ক্যাডাররাই এই বিদ্রোহকে ‘‌বিপ্লবী  শ্রমিক ও গরিব কৃষক শ্রেণির  হামলার হাত থেকে শিল্প ও কৃষি সম্পত্তি রক্ষার কাজে সরাসরি পরিচালিত করেছিল।’

এরপর যখন ১৯২২ সালের ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ‘‌মার্চ অন রোম’‌ ঘটল, তার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই গ্রামশি ফ্যাশিবাদ সম্পর্কে তাঁর নিজের ধ্যানধারণাগুলিকে বিকশিত করে তুলছিলেন। যদি এই সব ধ্যানধারণা তখনও বিকশিত হচ্ছিল এবং সেগুলি ছিল অস্থায়ী। কিন্তু ফ্যাশিবাদী শক্তির স্কোয়াড অ্যাকশন (‌রাস্তার হিংসা)‌ ক্রমশ বাড়ছিল, কারণ ‘‌ভূস্বামী’‌রা চাইছিল নিজেদের জন্য হোয়াইট গার্ড (‌অর্থাৎ প্রতিবিপ্লবী)‌ বাহিনী তৈরি করতে’‌শহর ও গ্রামের ফ্যশিবাদের মধ্যে দ্বন্দ্বেরও বিশ্লেষণ করেছিলেন গ্রামশি। শহর ও গ্রামের ফ্যাশিবাদী শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য সংঘাতের জায়গায় চলে আসে যখন মুসোলিনি ১৯২১ সালের গ্রীষ্মে সোশালিস্টদের সঙ্গে ‘‌প্যাসিফিকেশন প্যাক্ট’ বা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন। (‌বাহ্যত মুসোলিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে  তিনি সোশালিস্ট ও ফ্যাশিস্ট— দুপক্ষকেই নিরস্ত্র করে ফেলার পক্ষপাতী)‌।

নিশ্চিতভাবেই গ্রামশির এই ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছিল যে, ‘‌এই সংকটের ধাক্কায় ফ্যাশিবাদী শক্তি দুটুকরো হয়ে যাবে।’‌ তবে একইসঙ্গে সঠিকভাবেই তিনি এটাও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, যেটা ‘সত্যিকারে ফ্যাশিবাদ’ কী সেটা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন এমিলিয়া, ভেনেতো এবং টাসকানির কৃষক...‌ এবং শ্রমিকেরা। এটাই হল সবচেয়ে হিংসাত্মক ফ্যাশিবাদ যা যে কোনও মূল্যে যে কোনও সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত— ‘এমনকী সম্ভবত নিজের নাম বদলেও রাজি এই ফ্যাশিবাদ’‌ (‌যদিও এরকম কোনও প্রয়োজন পড়েনি)‌।  

প্রাভদার বিশেষ সংখ্যা

এবার নজর দেওয়া যাক সেই ছোট্ট নিবন্ধটির দিকে যেটি চিহ্ণিত করেছিলেন নাতালিয়া তেরেখোভা। ক্রিটিকা মার্ক্সসিস্টা-র সাম্প্রতিক ইস্যুতে এই নিবন্ধ প্রথম ইতালিয় ভাষায় অনূদিত হয়। বুঝে নেওয়া যাক মূল প্রবন্ধ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতটিকেও। বলশেভিকদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও মস্কো কমিটির মুখপত্র প্রাভদা-য় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর। বিষয়বস্তু এবং প্রাভদার সেদিনের সংস্করণের নির্দিষ্ট চরিত্রের বিচারে এই লেখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটি প্রাভদায় প্রকাশিত হয়েছিল অক্টোবর বিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে। 

প্রাভদার ওই সংখ্যাটির প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই স্পষ্ট যে এটা ছিল খুবই বিখ্যাত একটা সংখ্যা। প্রথম পৃষ্ঠায় ছিল লেনিনের পাঠানো সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বার্তা। তার পরেই বড় বড় অক্ষরে সেই মুহূর্তের শ্লোগান (‌বলা যায় ঘোষণাই)‌: ‘‌‌আন্তর্জাতিক অক্টোবরের সদর দপ্তর, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের চতুর্থ কংগ্রেস দীর্ঘজীবী হোক।’‌ এবং ‘পশ্চিমের শ্রমিক শ্রেণিকে স্যালুট জানাই‌: কারণ আপনারাই রাশিয়ার শ্রমিকদের প্রজাতন্ত্রকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন!’‌ পৃষ্ঠার ঠিক মাঝখান থেকে মাথা বের করেছিল বেশ জমকালো একটা গ্রাফিক্স। সেখানে প্রবল শক্তিশালী একটা মুষ্টিবদ্ধ হাত আগ্রাসীর অস্ত্রকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছিল। 

দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ছিল নভেম্বর ১৯১৭ থেকে শুরু করে এপর্যন্ত সোভিয়েতের ক্ষমতা–র বিজয়ের একটা কালপঞ্জি। পৃষ্ঠার মাঝখানে ছিল বিদেশের খবর। তার মধ্যে ছিল ‘পোল্যান্ডে শ্রেণি সংগ্রাম’ ও ইতালিতে ‘ক্ষমতায় ফ্যাশিস্টরা’এই অংশে ছিল মুসোলিনির প্রথম কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে, ক্যাথলিক পপুলার পার্টি সম্পর্কে, এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে ফরাসি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন। তবে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইতালিয় সরকার সম্পর্কে কোনও মূল্যায়ণ ছিল না। পাতার নীচের পুরো অংশটা জুড়ে ছিল ১৯১৯ থেকে ১৯২২ পর্যন্ত লাল ফৌজের সামরিক অভিযানের তথ্য। এই অংশের বড় অক্ষরে ছাপা শিরোনাম ছিল, ‘‌গোলাগুলি–রক্ত–বিজয়’‌।

পরের পৃষ্ঠার নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘‌আমরা আন্তর্জাতিক প্রলেতারিয়েতের দিশারি’‌এটা ছিল একটা ফিচার। তাতে প্রথম সারির বলশেভিক নেতাদের লেখা ছিল। একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন জিনোভিয়েভসেই লেখায় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘‌রুশ বিপ্লবের অমর চরিত্র এখানেই যে এই বিপ্লব বিশ্ববিপ্লবেরই সূচনা।’
বিপ্লবের বিজয়ে বলশেভিক পার্টির ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছিলেন নিকোলাই বুখারিন। তাঁর মতে, পুরো ব্যাপারটাই মনে হবে একটা ‘আশ্চর্য ঘটনা’বলশেভিক এই তাত্ত্বিকের মতে, আশ্চর্য কাণ্ড মনে হলেও বিষয়টা সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়: ‘‌এই আশ্চর্য ঘটনা ঘটতে পেরেছিল কারণ পার্টি মার্ক্সীয় পথে প্রস্তুতি নিয়েছিল, কারণ পার্টি মার্কসবাদকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হয়েছিল, তবে সেটা মোটেই মৃত এবং আপ্তবাক্যের মতো করে নয়।’ বুখারিন আরও লিখেছিলেন, আমাদের মার্কসবাদ সবসময় ছিল অনুশীলনের জীবন্ত অস্ত্র। এই জীবন্ত বিপ্লবী মার্কসবাদ সত্যি সত্যিই আশ্চর্য সব কাণ্ড ঘটাতে পারে। এখান থেকেই উঠে এসেছে আমাদের অনুশীলনের মহান সাবলীলতা।’  ‌

পঞ্চম পৃষ্ঠায় ছিল কাজকর্মের বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন বিষয়ে আলোচনা। মার্কিন শিল্পপতি হেনরি ফোর্ড টেলর পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন। সেব্যাপারে বলশেভিকদের আগ্রহ ছিল খুব বেশি। এই বিষয়ের ওপর লেখা একটি সোভিয়েত বই তিন বছরে পাঁচবার ছাপতে হয়েছিল। এমনকি ফোর্ডের স্মৃিতকথাও ইংরেজিতে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে তা অনুবাদ করে সেই বইয়ের হাজার হাজার কপি সোভিয়েতে ছাপা হয় পর পর দুবার। সোভিয়েত দেশে ফোর্ডের উৎপাদন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক প্রচার করা হয়েছিল। 

প্রাভদা–র ওই সংখ্যার পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলিতে ছাপা হয়েছিল মেনশেভিকদের ব্যঙ্গ করে নিবন্ধ। ছাপা হয়েছিল সেই সময়কার সবচেয়ে বিখ্যাত কবি ডেমিয়ান বেন্ডির কবিতা (‌ডেমিয়ান বেন্ডি ছদ্মনাম, রুশ ভাষায় এর অর্থ ‘‌গরিব মানুষ’‌)‌ছাপা হয়েছিল ককেশাস ও মধ্য এশিয়ায় ‘বুর্জোয়াদের’ পরাজয়ের খবর। গ্রামশির নিবন্ধ ছাপা হয়েছিল ৮ পৃষ্ঠায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, প্রাভদা–র মতো কমিউনিস্ট পত্রিকার ওই সংখ্যার শেষের দিকে একটা বেশ মোটাসোটা বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছিল (‌সময়টা ছিল নিউ ইকনমিক পলিসি বা নেপ–এর সময়)‌পৃষ্ঠা সংখ্যার বিচারে বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্র ছিল রাজনৈতিক অংশের সমান। ম্যাসাজ থেকে যৌন রোগের উপশম— সব ধরনের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্রে। একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় (‌গোটা পাতা জুড়ে)‌ ছিল বিশাল বিজ্ঞাপন, যেটা দিয়েছিল গ্রজনি ও বাকুর দুটি জ্বালানি তেলের কোম্পানি।

যে পৃষ্ঠায় গ্রামশির লেখা ছাপা হয়েছিল তাতে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। সেখানে ছাপা হয়েছিল বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপনে তাদের উৎসাহমূলক সমর্থন, সঙ্গে ছিল তাঁদের প্রিয় ভজদি (‌নেতা)‌–দের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা। বিস্ময়কর ভাবে তাঁদের ছাপা শুভেচ্ছাবার্তায় একজন মাত্র নেতাকেই তুমি (informal you) ‌বলে সম্বোধন করেছিলেন শ্রমিকেরা, ঠিক যেন তাঁরা ‌তাঁদের সত্যিকারের প্রিয় এবং ভালবাসার জনকে সম্বোধন করছেন:

‌বিখ্যাত ডায়নামো প্ল্যান্টের শ্রমিকেরা এই ধরনের অভিবাদন অবশ্য লেনিনকে করেননি। বরং তাদের সম্ভাষণ ছিল ‘‌ডিয়ার কমরেড ট্রটস্কি।’

গ্রামশির লেখা

সম্প্রতি যে নিবন্ধটি খুঁজে পাওয়া গেছে সেই লেখার নীচে শুধু সাক্ষর রয়েছে ‘‌গ্রামশি (‌ইতালি)’।‌ প্রথমে রয়েছে ৫৫টি দল ও সংগঠনের নাম যারা কমিনটার্নে যোগ দিয়েছে। তারপরেই রয়েছে প্রায় বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের ১২টি লেখা। ‘দ্য গ্রোথ অফ কমিনটার্ন’ এই হেডিংটাকে খুব স্টাইল করে ছাপা হয়েছিল। সেই শিরোনামের নীচে ছাপা হয়েছিল গ্রামশি এবং অন্যদের লেখা। সব লেখাগুলিই এক মাপের।  ইতালির লেখাটির নীচেই ছিল জার্মান, ফরাসি ও ব্রিটিশ কমিউনিস্টদের লেখা। এরপর ছাপা হয়েছিল সুইৎসজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গারি, বুলগেরিয়া, ভারত সহ নানা দেশের প্রতিনিধিদের লেখা। 

অন্যান্য বিদেশি প্রতিনিধিদের মতো, গ্রামশি শুধুমাত্র রুশ জনসাধারণ এবং রুশ পার্টিকেই নয়,এমনকী কমিনটার্নের নেতৃত্বকেও সেই লেখায় জানিয়েছিলেন PCd’I কীভাবে এগোচ্ছে এবং কয়েকদিন আগেই ‘রোমের রাস্তায় মার্চ’–এর যে ঘটনা ঘটেছে তার ব্যাখাও সেই লেখায় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। 

প্রথমত, তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে PCd’I বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, এবং ইতালির কয়েকটি অঞ্চলে পার্টি ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলনের স্তরে পিছিয়ে গেছে।  আসলে ইতালিতে ফ্যাশিস্ট হিংসা ও হামলা কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। ফ্যাশিস্টদের সরকারি ক্ষমতা দখল ও রাষ্ট্রের পরিকাঠামোর একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনার ঘটনা গ্রামশির ভবিষ্যৎবাণীকে সত্য প্রমাণিত করেছিল (‌খুব শিগগরিই, জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে,গ্রামশিসহ সব সেই সব কমিউনিস্ট নেতাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল যাঁরা কমিনটার্নের চতুর্থ কংগ্রেস চলাকালীন ফ্যাশিবিরোধী আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ১৯২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হন বরডিগা)‌। 

বরডিগা ‘মার্চ অন রোম’‌–এর ঘটনা ও ফ্যাশিবাদকে খাটো করে দেখেছিলেন (‌ওপরে রাভেরার উদ্ধৃত করা লেখা দেখুন)‌উল্টোদিকে গ্রামশি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ইতালিতে ইতিহাসের ‘এক নতুন পর্ব’ শুরু হচ্ছে। এই পর্বের বৈশিষ্ট্য হল পুঁজিবাদী বুর্জোয়াদের শিল্প গোষ্ঠীর হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা চলে গিয়েছিল। এই ক্ষমতা তারা ছেড়ে দিয়েছিল ‘‌মাঝারি এবং বৃহৎ ভূস্বামীদের হাতে, যারা আবার মতাদর্শগতভাবে পরিচালিত হত শহুরে পেটি বুর্জোয়ার একটি অংশের দ্বারা’‌এর মানে কৃষিক্ষেত্রের ভূস্বামীবর্গের ফ্যাশিবাদের শক্তির জোরেই মুসোলনি ক্ষমতা দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আবার গ্রামশির মত ছিল, ভূস্বামীদের এই জয়ের ফলে নিশ্চিতভাবেই ‘‌তীব্র সংগ্রামের একটা আসন্ন পর্ব’‌ দেখা দেবে। কারণ এটা আশা করা যেতে পারে যে, নিজেদের ক্ষমতা হারানোটা মেনে নেবে না শিল্প বুর্জোয়ারা কিংবা মুসোলিনির নিম্নস্তরের ‘‌ভাগ্যান্বেষী’‌র নেতৃত্বও তারা মানতে চাইবে না।  

কয়েকদিন বাদে চতুর্থ কংগ্রেসেও ফ্যাশিবাদ হয়ে উঠল আলোচ্য বিষয় (‌যদিও খুব বেশি গুরুত্বের নয়)‌এর পিছনে রয়েছে কার্ল রাডেক ও বরডিগার তৈরি করা দুটি রিপোর্ট। দুজনকেই আলাদাভাবে রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগেই আমরা উল্লেখ করেছি যে, বরডিগার বিশ্লেষণের সঙ্গে লেনিন আদৌ একমত হতে পারেননি। ঐতিহাসিক পাওলো স্প্রিয়ানোর মতে, রাডেক ‘‌ফ্যাশিবাদের উত্থানের আরও নির্ভুল সামাজিক মূল্যায়ণের চেষ্টা করেছিলেন, এবং দেখাতে চেয়েছিলেন যে, পেটিবুর্জোয়ার সার্বিক, যুক্তিহীন অস্থিরচিত্ততাই হল সেই মূল গর্ভ যা থেকে ফ্যাশিবাদের উত্থান হয়।’‌ স্প্রিয়ানো বলেন, ‘গ্রামশি পেটি বুর্জোয়ার ভূমিকা এবং শ্রমিক আন্দোলন ও সেনাবাহিনীর অফিসারদের মধ্যেকার সম্পর্ক বিষয়ে কিছু কিছু সূত্র নিয়ে মতামত রেখেছিলেন। এবিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গভীর উপলব্ধিও ছিল। রাডেকও ফ্যাশিবাদের উত্থানে পেটিবুর্জোয়া অস্থিরচিত্ততা সম্পর্কে জোর দিতে গিয়ে গ্রামশির আলোচনা করা বিষযগুলি নিয়ে গভীর ভাবনাচিন্তা করেছিলেন। যদিও সেই ভাবনাটা ছিল কিছুটা রূপরেখার আকারে।’‌

বরডিগা কমিনটার্নের ‘‌যুক্ত ফ্রন্ট’‌-এর নীতিকে খারিজ করে দিয়েছিলেন। এই বিষয় এবং আরও অনেক বিষয়কে কেন্দ্র করে চতুর্থ কংগ্রেসে বরডিগা ও আন্তর্জাতিকের মধ্য সংঘাত তীব্রতর হয়। ইতালিয় শ্রমিকদের উদ্দেশে কংগ্রেস যে বার্তা পাঠিয়েছিল তাতে মূলত গ্রামশির প্রবন্ধে লেখা মূল্যায়নেরই প্রতিধ্বনি ছিল। কংগ্রেসের বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘‌ফ্যাশিস্টরা মূলত বৃহৎ ভূস্বামীদেরই হাতের একটা অস্ত্র। শিল্প ও বাণিজ্যিক বুর্জোয়ারা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে এই পরীক্ষানিরীক্ষার দিকে নজর রাখছে। এবিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াও খুব আগ্রাসী। কারণ শিল্প ও বাণিজ্যিক বুর্জোয়ারা মনে করে ফ্যাশিবাদ হল কালো বলশেভিকবাদ। ফ্যাশিস্ত শক্তির ক্ষমতায় গেড়ে বসা— এবং ব্যক্তিগতভাবে মুসোলিনির  ক্ষমতা— এই দুই শক্তিকেই বিরাট সংঘাতের পর্ব অতিক্রম করতে হবে। এথেকেই স্পষ্ট যে, তাঁর ৭ নভেম্বরের নিবন্ধে গ্রামশি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন তার সঙ্গে কংগ্রেসের বিচারধারা মিলে যাচ্ছে (‌যদিও সেই লেখায় বেশী আশাবাদী সুর ধ্বনিত হয়েছিল)‌‘‌ম্যাট্টেওটি সঙ্কট’‌ ছিল এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। (‌১৯২৪ সালের গ্রীষ্মে সংস্কারবাদী–সমাজতান্ত্রিক সাংসদ গিয়াকোমো ম্যাট্টেওটিকে খুন করে ব্ল্যাকশার্টরা। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলি সংসদ ছেড়ে বেরিয়ে আসে)‌।   

গ্রামসি দাবি করেছিলেন যে, ‘‌প্রলেতারিয়েত এবং তাদের পার্টি— দুপক্ষেরই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্দিষ্টভাবে ততটা নেতিবাচক নয়।’‌  কোনও সন্দেহ নেই যে, গ্রামশির এই দাবিটা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মনে হয় ভুল। গ্রামশির আশা ছিল, এবং ছিল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণেই, যে PCd’I এমন একটা কৌশল গ্রহণ করতে পারবে যা ‘‌ইতালিয় সমাজের বাস্তবতার উপযুক্ত’‌তিনি ফ্যাশিস্ট গ্রুপের সৃষ্ট দ্বন্দ্বগুলির ওপর জোর দিয়েছিলেন। বন্ধনীর মধ্যে থাকা প্রসঙ্গের উল্লেখ থেকেও (‌‘‌আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অভিজ্ঞতা সংকলন করলে’‌)‌ মনে হয়, এখানে তাঁর ও বরডিগার অবস্থানের মধ্যে একটা পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছেএবং বাস্তবিকই লেনিন ও কমিনটার্ন এবং বরডিগার অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ছিল। শেষ পর্যন্ত, এই আশা তৈরি হয়েছিল যে, বরডিগার দৃষ্টিভঙ্গী এবং ফ্যাশিবাদকে তিনি যে খাটো করে দেখছেন, দুটোই  আন্তর্জাতিক সংশোধন করে দেবে। 
২৫ অক্টোবর লেনিন ও গ্রামসির বৈঠকে দুজনেই ফ্যাশিবাদ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, আলোচনা করেছিলেন কীভাবে ফ্যাশিবাদকে ব্যাখ্যা করা যাবে এবং এর মোকাবিলা করা যাবে। কমিনটার্নের ‘‌যুক্ত ফ্রন্ট’‌-র নীতি বরডিগা খারিজ করে দিয়েছিলেন। ফলে চতুর্থ কংগ্রেসে বরডিগা ও আন্তর্জাতিকের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছিল। 
এর মানে এই নয় যে, গ্রামশি নিজে সব সংশয় কাটিয়ে উঠেছিলেন এবং পার্টির সবচেয়ে বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ নেতার বিরোধিতা শুরু করেছিলেন।  তবে ১৯২৩ সালের শেষ দিকে এবং ১৯২৪ সালের গোড়ার দিকে ধীরে ধীরে সমস্ত বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার আগে অবশ্য নদী দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেছে। তবে এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ফ্যাশিবাদ সম্পর্কে এই ভিন্ন পর্যবেক্ষণ, এই দুই নেতার মধ্যে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা বৈপরীত্যের প্রক্রিয়ায় ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
চতুর্থ কংগ্রেসের পরবর্তী মাসগুলিতে বরডিগার নেতৃত্বাধীন ইতালিয় কমিউনিস্ট পার্টির ওপর নিপীড়নকারী রাষ্ট্রীয় কাঠামো শুধু প্রবল আক্রমণই নামিয়ে আনেনি, একইসঙ্গে কমিনটার্নের সংকীর্ণতা–মুক্ত লাইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে দলের প্রচুর শক্তিও ক্ষয় করেছিল। সোশালিস্ট পার্টির সঙ্গে পুনরৈক্য গড়ে তোলার কাজটা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন বরডিগা, যে সোশালিস্ট পার্টি ‘‌মার্চ অন রোম’‌–এর মাত্র কয়েকদিন আগেই ফিলিপ্পো তুরাত্তি এবং গিয়াকোমো মাট্‌টিওট্টির নেতৃত্বাধীন সংশোধনবাদী শাখাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। 
১৯২৪ সালে গ্রামশি ইতালিতে ফিরে আসেন। তার আগে ভিয়েনায় কাটিয়েছিলেন কয়েক মাস। খুব শিগগরিই তিনি হয়ে উঠলেন PCd’I এর আসল নেতা, এতে অবশ্য বিরাট সমর্থন দিয়েছিল আন্তর্জাতিক— ফলে মাট্টিওট্টির হত্যার পরের পর্বের সঙ্কটের মোকাবিলা করতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম কয়েক মাসে মনে হয়েছিল মুসোলিনির ফ্যাশিবাদ বোধহয় ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেটা আবার অন্য গল্প— অক্টোবর বিপ্লবের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রাভদা–য় ‘‌মার্চ অন রোম’‌ নিয়ে গ্রামশি যে মূল্যায়ণ করেছিলেন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল তার তুলনায় অন্যরকম।

নাতালিয়া তেরেখোভা ও গুইদো লিগুওরি

সূত্র: জ্যাকোবাঁ

শিরোনাম মার্কসবাদী পথের 

ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ১২-নভেম্বর-২০২২
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫