সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
এক কমিউনিস্টের উত্তরণ
সৌম্যজিৎ রজক
এমনই এক দুপুরবেলা। কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট আর সূর্য সেন স্ট্রিট (তখন মির্জাপুর স্ট্রিট)-এর সঙ্গমস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন দু’জন। সশস্ত্র বিপ্লববাদী আন্দোলনের কিংবদন্তী আব্দুর রজ্জাক খান ও ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা মুজফ্ফর আহমেদ। ঠিক সেসময়ই ওই রাস্তা দিয়েই এম-জি রোড (তখন হ্যারিসন রোড)-এর দিকে যাচ্ছিল সেই যুবকটি। খান সাহেব তাকে দেখিয়ে মুজফ্ফর আহমেদকে বলেন, “আমি এই ছেলেটির সঙ্গে খিদিরপুর ক্যাম্পে ছিলাম। ভালোই মনে হয়েছিল ছেলেটিকে। আপনি ওর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করুন।”

একালের বাজার-বিশ্বে তামাদি হয়ে গেছে বহু কিছুই। ‘ক্রেতা’-‘ভোক্তা’ ব্যতীত মানুষের আর কোনও সত্তাই স্বীকার করে না বাজার। তাই কব্জিতে বাঁধা সাধারণ ঘড়িটির বদলে চৌকো কালো স্মার্ট-ওয়াচ কিনলে তাকে ‘উত্তরণ’ বলে। বোতাম-টেপা ফোন পালটে হাতে যদি ওঠে স্মার্ট-ফোন, ‘উত্তরণ’ সেটাই তবে বাজার-বিশ্বে।
‘ক্রেতা’ বা ‘ভোক্তা’র ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যতটা সহজ, ‘মানুষ’-এর কাছে ততটা একটেরে নয়। ফোনে বা ঘড়িতে বিশ্বাস বদলায় না মানুষের। বদলায় না জীবন, জগৎ।
মানুষের বিশ্বাস, জীবন, জগৎ কোনোটাই তো আর দাঁড়িয়ে থাকে না এক জায়গায়। বদলে বদলে যায়। একেক জনের একেক রকম বদলে যাওয়া। কোনোটা নেহাতই বাহ্যিক, কোনোটা ভিতরের। কোনোটা স্রেফ বদলে যাওয়াই, কোনোটা কোনোটা ‘উত্তরণ’।
এ এক উত্তরণেরই কাহিনি। আজও, এতদিন পরেও যে কাহিনি উস্কে দেয় উত্তরণের আকাঙ্খা। আজকের প্রজন্মের ভেতরেও। নিদারুণ এই আঁধারে বাতিস্তম্ভ যেন মানুষটি। আজকের প্রজন্মের, আজকের সংগ্রামের কাছে বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক।
ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানো ছেলেটি। দারিদ্র্যের কারণে মাঝপথে লেখাপড়া ছেড়ে বীরভূমের গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে আসে শহর কলিকাতায়। ১৯১৮-’১৯ সাল। যোগ দেয় জাহাজে অস্থায়ী টালি ক্লার্কের চাকরিতে।
এসময় আসমুদ্রহিমাচল কেঁপে উঠছে অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে। চাকরি ছেড়ে ২০ বছরের যুবকটি ঝাঁপিয়ে পড়ে খিলাফৎ-অসহযোগ আন্দোলনে। ১৯২১ সালের ১০ই ডিসেম্বর চিত্তরঞ্জন দাসের সাথে গ্রেপ্তার হয়ে যায় বহু স্বেচ্ছাসেবক। এই যুবা ছিল তাদেরই মধ্যে। খিদিরপুর ক্যাম্প জেলে।
দেশের অন্য এক প্রান্তে তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষে দাউদাউ জ্বলছে পুলিশের থানা। চৌরিচৌরায়। ১৯২২ সালে দেশজোড়া আন্দোলন একক সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনের একচ্ছত্র নেতা। মোহনদাস গান্ধি। সেই বসন্তেই, বাকিদের সাথে, জেল থেকে বেরিয়ে আসে সেই ছেলেটিও। আন্দোলন শেষ; কিন্তু আগুন তো নেভেনি!
চাকরিতে আর ফিরে গেল না, তাই, সে। ঘুরে বেড়াতে লাগল রাস্তায় রাস্তায়। খানিকটা বিভ্রান্তি ছিল তার ভুরুতে, বেপরোয়া ছিল চোখমুখ। পথে পথে ছিল পথের সন্ধান।
এমনই এক দুপুরবেলা। কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট আর সূর্য সেন স্ট্রিট (তখন মির্জাপুর স্ট্রিট)-এর সঙ্গমস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন দু’জন। সশস্ত্র বিপ্লববাদী আন্দোলনের কিংবদন্তী আব্দুর রজ্জাক খান ও ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা মুজফ্ফর আহমেদ। ঠিক সেসময়ই ওই রাস্তা দিয়েই এম-জি রোড (তখন হ্যারিসন রোড)-এর দিকে যাচ্ছিল সেই যুবকটি। খান সাহেব তাকে দেখিয়ে মুজফ্ফর আহমেদকে বলেন, “আমি এই ছেলেটির সঙ্গে খিদিরপুর ক্যাম্পে ছিলাম। ভালোই মনে হয়েছিল ছেলেটিকে। আপনি ওর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করুন।”
কলেজস্ট্রিটের ৩২নং বাড়ির দোতলায় ‘মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র পাঠাগারে মুজফ্ফর আহমেদের সাথে আলাপ ছেলেটির। আলাপ থেকে আলোচনা। যুক্তি-তর্কের পথ বেয়ে পথের সন্ধান পায় সে যুবা। আব্দুল হালিম।
বিগত শতকের ২০-৩০ দশকজুড়ে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে অক্লান্ত কাকাবাবু। হালিম সাহেব তাঁর সাথী। কমরেড-ইন-আর্ম। সংগঠনের বিপুল কাজের চাপ ভাগ করে নিচ্ছেন দু’জন। ভাগ করে নিচ্ছেন অবিরাম সংগ্রামের উত্তাপ। ভাগ করে নিচ্ছেন খিদে ও খাবার দুটোই। সেইসব যখন-তখন পুলিশিহানার দিন। সারাক্ষণ গুপ্তচরের নজরবন্দী থাকার দিন। ‘আমার পঁয়তাল্লিশ বছরের সাথী’ শীর্ষক স্মৃতিকথায় মুজফ্ফর আহমেদ আরো লিখছেন, “আমার সব যোগাযোগ সকলের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। আমি সারাদিন ৭ নম্বর মৌলবী লেনে বন্ধু কুতুবুদ্দিন আহমেদের বাড়িতে বসে থাকি। এসময়ও বিপদ অগ্রাহ্য করে হালিম কিছু কিছু যোগাযোগ ঘটিয়ে দিত; কিছু কিছু ডাকও সংগ্রহ ক’রে আনত।”
একদিকে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ। আরেকদিকে মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব। একদিকে গড়া হচ্ছে ‘লেবার স্বরাজ পার্টি অব দি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস’। ক’দিন পরেই নাম পাল্টে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি অব বেঙ্গল’। অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ‘লাঙল’ প্রকাশ। অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুল হালিম।
ইতিমধ্যে ১৯২৪ সালে কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গেছেন মুজফ্ফর আহমেদ। সংগঠনের সব দায়-দায়িত্ব এসে পড়েছে আব্দুল হালিমের কাঁধে। জেল খেটে বেরিয়ে আসছেন কাকাবাবু। প্রকাশ করছেন নতুন পত্রিকা ‘গণবাণী’। তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামলাচ্ছেন হালিম সাহেব। কাকাবাবু আবার গ্রেপ্তার হয়ে যাচ্ছেন মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায়।
১৯২৯ সালে মীরাট কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মামলায় দেশজোড়া ব্যাপক ধরপাকড়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে যান কমিউনিস্ট নেতারা অনেকেই। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সর্বভারতীয় পার্টি। স্থানীয় পার্টিগুলো স্থানীয় আন্দোলন পরিচালনা করতে থাকে। এগুলির মধ্যে কলকাতা-পার্টি আর বোম্বে-পার্টিই সবচেয়ে শক্তিশালী। আব্দুল হালিম, এই পরিস্থিতিতে, মীরাটে গিয়ে আলোচনা করে আসেন মুজফ্ফর আহমেদের সাথে। ফিরে এসে গড়ে তোলেন কমিউনিস্ট পার্টির ‘কলকাতা কমিটি’।
‘কলকাতা কমিটি’র পক্ষ থেকেই একটি সর্বভারতীয় ঐক্যবদ্ধ এবং কেন্দ্রিভূত পার্টি গড়ে তোলার আবেদন প্রকাশিত হয়। ১৯৩৩ সালে কলকাতাতেই গোপনে পার্টির এক সর্বভারতীয় সম্মেলন আয়োজিত হয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, আবার, সুসংবদ্ধ হয়। তৈরি হয় কেন্দ্রিয় কমিটি। সামগ্রিক কর্মযজ্ঞের মূল উদ্যোক্তা আব্দুল হালিম।
এত কিছুর মাঝে, এক মুহূর্তের জন্যও কিন্তু, ঢিলে পড়েনি ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী কমরেডদের খোঁজখবর নেওয়ার কিংবা মোকদ্দমা চালানোর ইন্তেজামে। কমরেডদের হয়ে মামলা চালানোর জন্য ‘ডিফেন্স ফান্ড’ সংগ্রহ করতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিউট হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন। এরই সাথে আরেকটি কাজ করলেন তিনি। বিশেষ একটি কাজ। তবে তা কলকাতা থেকে বহু দূরে।
আদালতে তখন কমিউনিস্ট বন্দীদের বিবৃতি দেওয়া শুরু হয়েছে। এদেশে প্রথমবার কমিউনিস্টরা প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। বহু কষ্টে যাতায়াতের খরচটুকু যোগাড় করে মীরাটে পৌঁছে গেলেন আব্দুল হালিম। সেখানে থাকলেন টানা দু’মাস। ‘ইউনাইটেড প্রেস অব্ ইন্ডিয়া’র কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়ে তাদের সাংবাদিক হয়ে হাজির হলেন রোজ কোর্টে। রোজ ফিলিপ স্প্র্যাট, অয্যোধাপ্রসাদ, শামসুল হুদা, মুজফ্ফর আহমেদদের বিবৃতি লিখতেন। তারপর দেশের নানানদিকে পাঠিয়ে দিতেন সেই রিপোর্ট।
ভারতবর্ষের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে থাকা অগ্নিযুগের সশস্ত্র বিপ্লবীরা যে অনেকেই পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যুক্ত হয়েছিলেন, তার পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মীরাট কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মামলার বন্দীদের এই বিবৃতি।
১৯৩৪-’৩৬ আব্দুল হালিম আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। আলবার্ট হল কেসে বন্দী। বোমা-বন্দুক মামলায় ওই জেলেই আটক সশস্ত্র বিপ্লববাদীরা। অগ্নিযুগের এই যুবকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে সমাজতন্ত্রের বার্তা। মানব মুক্তির হদিশ। জেলের ভেতরেই সকাল-সন্ধে মার্কস্বাদের ক্লাস নিতেন হালিম সাহেব। এমনকি, কী আস্পর্ধা, জেলের ভেতরেই প্রকাশ করতেন হাতে লেখা পত্রিকা! নাম ‘বলশেভিক’।
সেই পত্রিকা, আবার, দু’কপি নকল করে পাঠিয়েও দিতেন জেলের বাইরে। গোপন পথে একটি কপি নকল হতে হতে পৌঁছে যেত ভারতবর্ষের অন্যান্য জেলখানাগুলোতে। আরেকটা কপি, সূর্যের আলো যেখানে পৌঁছত না, পৌঁছে যেত সেই সেলুলার জেলে। কালাপানি পার আন্দামানে।
জেল থেকে বেরিয়ে আবার পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আব্দুল হালিম। সংগঠন গড়ছেন। বেলেঘাটা, লিলুয়া, ঘুষুড়ি, রাজগঞ্জ, ব্যারাকপুরে গভীর মমত্বে নিজের হাতে বানাচ্ছেন ট্রেড ইউনিয়ন। গার্ডেনরিচে পরিচালনা করছেন শ্রমিক আন্দলন। রেল-ট্রাম-চটকলের শ্রমিকদের জড়ো করছেন সংগ্রামে। মনুমেন্টের তলায় আগুন ঝরানো বক্তৃতা করছেন। গ্রেপ্তার হয়ে যাচ্ছেন রাজদ্রোহমূলক বক্তৃতার জন্য। জেল থেকে ফিরে আসছেন। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে শাণিত করার জন্য মেটিয়াবুরুজে শ্রমিকদের নিয়ে ‘ইয়ং ওয়ার্কার্স লিগ’ গড়ে ক্লাস নিচ্ছেন মার্কস্বাদের। একের পর এক পত্রিকা প্রকাশ করছেন। ‘মার্কসবাদী’, ‘মার্কসপন্থী’ ইত্যাদি। রাজদ্রোহমূলক প্রবন্ধ লেখা ও প্রকাশের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে যাচ্ছেন আবার। জেল খেটে বেরিয়ে আসছেন তিনি। নোয়াখালি, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নদীয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর ঘুরে ঘুরে তৈরি করছেন কৃষক সভা। কলকাতায় গড়ে তুলছেন ‘মার্কসিস্ট ছাত্র লিগ’। কঠোর পরিশ্রম।
অক্লান্ত আব্দুল হালিম।
‘কমরেড আব্দুল হালিম স্মরণে’ লিখেছেন মনোরঞ্জন রায়... “তখন ৬ পয়সা হলে একবেলা পেটভরে হোটেলে খাবার জুটত। নতুন ভাত অর্থাৎ ১ পয়সার ভাত চালু হলে ৫ পয়সাই ছিল যথেষ্ঠ। কমরেড হালিম ও তাঁর সাথীদের তাও জুটত না। ২ পয়সার তন্দুরি রুটি ও ১ পয়সার দাল-গোস্তই ছিল যথেষ্ঠ। তাও রোজদিন দু’বেলা জুটত না। দারুন শীতের রাতে কমরেড হালিম তাঁর সাথীদের নিয়ে ২৫ নং ঘরে খবরের কাগজ বিছিয়ে ছেঁড়া মাদুর বা ঐ জাতীয় কিছু গায়ে দিয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করতেন।”
এসব ৪১ নং জ্যাকারিয়া স্ট্রিটের কথা। হালিম সাহেব ও তাঁর সাথীদের তখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। তিনজন ছাত্র, এমনই সময়, তাদের ৪১ নং জ্যাকারিয়া স্ট্রিটের মেসবাড়ির ২৫ নং ঘরটিতে তাঁদের থাকতে দেন। কথায় বলে, “মানুষ খেতে পেলে শুতে চায়”। কমিউনিস্টরা, সত্যিই, অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ! মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পেতেই, আব্দুল হালিম, সেই ঘরেই গড়ে তুললেন ‘গণশক্তি পাবলিশিং হাউস’। ওই ছাত্রদের সাহায্যেই প্রকাশ করলেন নতুন পত্রিকা – ‘মজুর-চাষী’।
নিরলস সংগ্রাম, সংগ্রামী যাপন আর অকল্পনীয় নিষ্ঠার মূর্তরূপ কমরেড আব্দুল হালিম। প্রায় অসম্ভবকে সাবলীলভাবে সম্ভব করে তুলতে পারতেন যিনি।
জীবনের একটা বড়ো সময় কেটেছে জেলখানায়। কখনো পায়ে-হাতে বেড়ি। কখনো পুলিশের অকথ্য অত্যাচার। এটা সেই সময়, যখন ভারতবর্ষের জেলখানাগুলো গিজগিজ করত মুক্তিসেনাদের ভিড়ে। কারাগারে কারাগারে যখন একদা সত্যাগ্রহী, সশস্ত্র বিপ্লববাদী, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বন্দি। এঁরাই তো ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সন্তান। আব্দুল হালিম যখন জেলের বাইরে, তখন তিনি ক্ষেতে কিষাণ-কলে মজুরকে সংগঠিত করেন লাল পতাকার তলে। আর যখন জেলের ভেতর, তখন ‘কমিউনিস্ট কনসলিডেশন’ গড়ে বন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগঠিত করেন।
তাঁর উদ্যোগে গত শতকের ৩০-এর দশকে ব্রিটিশের জেলে জেলে তৈরি হয় কমিউনিস্ট সংগঠন। এমনকি, আন্দামান সেলুলার জেলেও। এইসব সংহতিতে সামিল হওয়া বন্দীরা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মেরুদণ্ডের জোরেই এদেশের মাটিতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি। হালিম সাহেবের পার্টি।
আমাদের পার্টি।
এই গর্ব আমাদের। এই আমাদের ঐতিহ্য।
আজকের ভাঙাচোরা সময়ে এই উত্তরাধিকারই যোগান দিক হিম্মতের। যেভাবে মশাল জ্বলে, যেভাবে জ্যোৎস্না ঝরে... সেভাবেই আলোকিত হোক আজকের সংগ্রামের পথ।
প্রকাশের তারিখ: ২৮-এপ্রিল-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
