সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ওদের বলো, সোভিয়েতের কথা
জ্যোতি বসু
প্রয়াত জননেতা জ্যোতি বসুর নিজস্ব কলমে এই প্রতিবেদনটি ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত হয়েছিল৷ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছিল ইন্দো-সোভিয়েত জার্নালে৷ বাংলায় এটি আগে অনূদিত ছিল না৷ তাঁর রচনাবলীতেও এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি৷ অথচ, সংক্ষিপ্ত পরিসরে সাংবাদিকের নিরাসক্ত ভঙ্গিতে রচিত প্রতিবেদনটি পড়লে বোঝা যায় কত অনায়াসে তিনি সহজ করে রাজনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারছেন৷ যৌবনকালেই কত গভীর রাজনৈতিক প্রত্যয় ছিল তাঁর৷

গান্ধিজির অনশনের সংকটজনক দিনগুলির সময়ে আমি পূর্ববঙ্গ, উত্তরবঙ্গ এবং আসামে বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন গঠন ও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষে সফর করছিলাম৷ কিন্তু আমার এই কাজের ফাঁকেই, এই-সব এলাকার মানুষের কাছে F.S.U [Friends of Soviet Unions]-এর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যও খানিকটা সময় বের করে নিচ্ছিলাম৷
নারায়ণগঞ্জের একটি গ্রামে
আমি ২০ তারিখ নারায়ণগঞ্জ মহকুমার একটি গ্রামে পৌঁছাই৷ ক্ষয় এবং দারিদ্র্যবেষ্টিত এক অদ্ভূত গ্রাম৷ এক বছর আগে লক্ষ্য করেছিলাম এখানে সমাজের মধ্যবর্তী স্তরের তরুণ ও প্রবীণরা, বছরের পর বছর অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে, ভারতের পরিবর্তন প্রত্যাশা করতেন৷ এখনো পর্যন্ত চরম অনাহার তাদের মোকাবিলা করতে হয়৷ নিজেদের শক্তি এবং ক্ষমতায় কোনো আস্থা না থাকায় তারা গ্রেট ব্রিটেনের শত্রুদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন তাদের রক্ষাকর্তা ভেবে৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন গ্রেট ব্রিটেনের সহযোগী শক্তি হওয়া ছাড়া তাদের কাছে এর আর কোনো তাৎপর্য ছিল না বললেই চলে৷ কিন্তু এখন, সোভিয়েত মানুষের রোমাঞ্চকর প্রতিরোধ এবং হিটলারের যুদ্ধ-পরিকল্পনা ও গোয়েবেলস-এর সন্ত্রস্ত এবং পরাজয়ী মনোভাবাপন্ন দিয়ামার বাহিনীর বিরুদ্ধে লালফৌজের পরাক্রমশালী প্রত্যাঘাতের ঘটনাবলি এই গ্রামের কিছু কিছু তরুণকে, বাস্তবের জগতে, জাগিয়ে তুলেছে৷ তাঁদের কয়েকজন আমার কাছে এসেছিলেন এবং বন্যার জলের মতো প্রশ্নে প্রশ্নে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ তাঁরা আমার কাছে জানতে চান, সোভিয়েতের প্রতিরোধের গোপন রহস্যটা কী? সোভিয়েত ব্যবস্থা সত্যিই কী অভিনব কিছু? আমাদের তরুণ যুবকদের ভবিষ্যৎ কী এবং আমাদের ভারতবর্ষে, নিরক্ষরতা, ধর্মীয় বিভাজন এবং ভাষাগত পার্থক্য সত্ত্বেও, ভারতে কী এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব? আর একটি প্রশ্ন, যা তাদের মনের গভীরে জমাট বেঁধে ছিল, তা হল সমঝোতার (Alliance) প্রকৃত বাস্তবতা কী রকম— তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ড, যারা যুদ্ধের বিষয়ে খুব সামান্যই মাথা ঘামাচ্ছে— সোভিয়েতের বিজয় মুহূর্তে, তাদের আন্তর্জাতিক প্রভাব বজায় রাখতে হস্তক্ষেপ করবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়? আমি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি যে, সোভিয়েত সম্পর্কে তাদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়লেও এই যুদ্ধে ভারতের ভবিষ্যত কী হতে পারে তা তারা নির্দিষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না, কারণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ তাদের মন আচ্ছন্ন করে রেখেছে এখনো৷ তাদের একটি প্রগতিশীল ক্লাব গড়ে পঠনপাঠন, আলোচনা ইত্যাদি সংগঠিত করার সম্পর্কে এক ধরনের অস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল৷ আমি তাদের এই ক্লাব অবিলম্বে গঠন করার জন্য এবং নতুন সোভিয়েত সভ্যতা সম্পর্কে পঠনপাঠন ব্যবস্থা করতে উৎসাহিত করলাম, যাতে তারা আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য লড়াই করতে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ পান৷ আমি কিন্তু অনুভব করছি যে, ফ্রেন্ডস অব দ্য সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে আমরা যথাযথভাবে আমাদের ভূমিকা পালন করতে পারিনি৷ কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নের সাফল্যের প্রসঙ্গে খুব সংক্ষিপ্ত এবং সরল বাংলায় লিফলেট প্যামপ্লেট খুব সামান্যই আমরা প্রকাশ করতে পেরেছি৷
ঢাকা
এখান থেকে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম৷ এক বছর আগে তরুণ লেখক এবং শ্রমিকশ্রেণির নেতা সোমেন চন্দ ফ্যাসিবিরোধী একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মিছিলে নেতৃত্ব করার সময় ফ্যাসিবাদীদের এজেন্টদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন এই ঢাকা শহরেই৷ গান্ধীজির সুস্পষ্ট ফ্যাসিবিরোধী অবস্থানের জন্য এখন সাধারণ মানুষ আমলাতন্ত্রের প্ররোচনামূলক ষড়যন্ত্র বুঝতে পারছেন ধীরে ধীরে৷
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তাঁরা এখন অনুভব করতে শুরু করেছেন৷ সেই কারণেই যখন আমরা জনসভায় বক্তৃতা করলাম, এবং ঐক্যের কথা বললাম, গান্ধীজির মুক্তি, সাবোতাজের বিরুদ্ধে এবং একটি জাতীয় সরকারের পক্ষে বললাম, বললাম ফ্যাসিস্টদের প্রতিরোধ করতে, আমরা ধৈর্যশীল এবং সহানুভূতিসূচক মনোভাব দেখলাম৷ সময়াভাবে এখানে আমি সংগঠন গড়ার প্রশ্নে কোনো কিছু সুনির্দিষ্টভাবে করতে পারিনি৷ কিন্তু সোভিয়েতের অনেক বন্ধু ইন্দো-সোভিয়েত জার্নালের স্থায়ী-ক্রেতা ও গ্রাহক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷
ময়মনসিংহ
আমার সফরের পরবর্তী কেন্দ্র ছিল ময়মনসিংহ৷ সোভিয়েতকে পরিচিত করা এবং যুদ্ধ ও শান্তির সময়ে সে দেশের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যসমূহ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার প্রশ্নে অধিকতর সাংগঠনিক উদ্যোগ এখানে ছিল৷ কিছু সময়ের নিষ্ক্রিয়তার পরে তাঁরা স্থানীয় স্তরের ফ্রেন্ডস অব সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি সক্রিয় কার্যকরী কমিটি গঠন করতে পেরেছেন৷ তাঁরা সোভিয়েত জীবনের নানা দিক নিয়ে সাপ্তাহিক আলোচনা বাসর আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং সম্ভব হলে পোস্টার প্রদর্শনী এবং ইন্দো-সোভিয়েত জার্নাল এবং সোভিয়েত প্রসঙ্গে অন্যান্য লিটারেচর বিক্রয় করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন৷ এখানে পাবলিক লাইব্রেরির ছত্রছায়ায় একটি আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল৷ এখানে আমি আজকের সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা প্রসঙ্গে বক্তৃতা করি৷ সভাটিতে সমাজের মধ্যবিত্ত অংশের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ ছিল— অধ্যাপক, আইনজীবী এবং হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল৷ সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে আমি উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, সাম্রাজ্যবাদ এবং উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে সে দেশকে ঠিক যেমনটি আছে তেমনটাই থাকতে হবে৷ জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ফ্যাসিবাদের বুটের তলায় নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য তাদের অব্যাহত রাখতে হবে৷ তাদের পুরোনো শাসকদের পচাগলা সমাজকে উজ্জীবিত করার জন্য সব রকমের ষড়যন্ত্রমূলক হস্তক্ষেপ চেষ্টা ঝেঁটিয়ে বিদায় করে ইউরোপীয় জনগণকে তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রেক্ষাপট বাস্তবে কীভাবে লাল ফৌজের এগিয়ে চলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা আমি উল্লেখ করার চেষ্টা করি৷ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই আঘাত আমাদের দেশের জন্যও ‘অ্যাডভান্টেজ’ হবে, যেহেতু আমরাও একই বর্বরতার মোকাবিলা করছি৷ সোভিয়েত-জার্মান চুক্তি প্রসঙ্গ আলোচিত হয় এবং ব্রিটিশ ও আমেরিকান প্রতিক্রিয়াশীলরা সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসকানি দেবে কিনা ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর আক্রমণের মুহূর্তে, উঠে আসে সেই আলোচনাও৷
প্রচণ্ড আশা ও প্রত্যয়ের সঙ্গে আমি অনুভব করেছি যে আমাদের জনগণকে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার জনগণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহর দায়িত্ব যথাযথভাবে আমরা বহন করতে পারিনি৷
জলপাইগুড়ি
উত্তরবঙ্গের চা-বাগান বেষ্টিত ছোট্ট শহর জলপাইগুড়ি কয়েক বছর আগেও কোনো রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডহীন বিচিত্র জায়গা ছিল৷ আমি এবার লক্ষ করলাম দারুণ পরিবর্তন ঘটেছে৷ কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের আহ্বানে আয়োজিত একটি সভায় আমি ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন— একটি নতুন সভ্যতা’ প্রসঙ্গে বললাম৷ এই সভাটি ছিল অনন্য, শুধুমাত্র ছাত্র এবং পেশাদার মানুষ সেখানে ছিলেন না, অন্তত ৬ জন তরুণ অধ্যাপকও উপস্থিত ছিলেন৷
আমার বক্তৃতার পর যে আলোচনা হয় তাতে স্পষ্ট হয় যে, তাঁরা সোভিয়েত ব্যবস্থা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন৷ সবাই দ্বিধাহীনভাবে অনুভব করেন যে, সোভিয়েত একটি নতুন সভ্যতা৷ সেখানে মুনাফার জায়গায় এসেছে মানুষের প্রয়োজন এবং ব্যবহারের চেতনা৷ প্রত্যেককে সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, এবং জন্মের দুর্ঘটনা কোনো বিবেচ্য বিষয়ই নয়৷ সোভিয়েত সামাজিক বীমা, বার্ধক্য পেনশন, বিনা খরচের চিকিৎসার সুযোগ, ইত্যাদি প্রকল্প তুলনাহীন, এবং তা অন্য সব রাষ্ট্রের চিন্তারও অতীত৷ প্রত্যেক সোভিয়েত নাগরিকের কাজের ও শিক্ষার অধিকার আছে৷ সোভিয়েত শিল্প সংস্থা, কৃষি খামার এবং দেশ সামাজিক সম্পত্তি, কয়েকজন শিল্প জগতের দিকপাল ব্যক্তি এবং জমিদারদের নয়৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এখানেও সোভিয়েতগুলি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, বিশেষত সেইসব দেশপ্রেমিক জনগণের অংশের মধ্যে যারা জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং সমৃদ্ধি দেখতে আগ্রহী৷
সৈয়দপুর শ্রমজীবীদের মধ্যে
কিন্তু সৈয়দপুরে আমার জন্য আরও এক বিস্ময় জমা হয়েছিল৷ এটা একটা রেলওয়ে এবং ফ্যাক্টরি সেন্টার, যেখানে জলপাইগুড়ির মতো কোনো কলেজ নেই, তাছাড়া সেখানে তাদের নিজস্ব ছোটো দুনিয়া ছাড়া আর কোনো কিছু জানার বা অধ্যয়ন করার কোনো বাসনার কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই, সর্বোপরি সোভিয়েত সম্পর্কে অবিশ্বাস্য মিথ্যা প্রচার ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আমাদের শাসকদের সেই দেশ সম্পর্কে বৈমাত্রেয় সক্রিয়তারও প্রভাব বিদ্যমান ছিল৷ এই জন্যই হয়তো তাঁরা এখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে আলোচনা করতে ভয় পাচ্ছিলেন৷
কিন্তু দ্বিতীয় ফ্রন্টের কোনো রকম সাহায্য ছাড়াই মস্কো, লেনিনগ্রাদ এবং স্তালিনগ্রাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ, লালফৌজের দাপটে হিটলারের দানবদের লেজ গুটিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করা— জনগণের দৃষ্টি সোভিয়েতের দিকে অনিবার্যভাবে ঘুরিয়ে দিতে পেরেছে৷ এখানে রেলওয়ে মেনস ক্লাবে সোভিয়েত জীবনের সামাজিক প্রেক্ষিত প্রসঙ্গে বলার জন্য আমি আমন্ত্রিত হয়েছিলাম৷ রেল শ্রমিকরা আমাকে অসংখ্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলার ঘটনাবলীর মধ্যবর্তিতায় স্পষ্ট প্রতিভাত হয়েছিল যে, ভীষণভাবে সাড়া পড়েছিল৷ তাঁরা সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে পত্রপত্রিকা ও সাহিত্যপাঠের জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, হতে চেয়েছিলেন ইন্দো-সোভিয়েত জার্নালের গ্রাহক-ক্রেতা এবং তাঁদের ক্লাবে একটি সাংস্কৃতিক বিভাগ গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাফল্যগুলি বিশেষভাবে আলোচিত হবে৷
আমি আমার সফর থেকে ফিরে এসেছি এই অনুভব নিয়ে যে, বিগত কয়েক মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের জনগণের বড়ো অংশের মধ্যেই প্রচণ্ড মর্যাদা-সম্ভ্রম অর্জন করতে পেরেছে৷ সেখানে সোভিয়েত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করার আকাঙ্ক্ষা এবং সেই ব্যবস্থা বোঝার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রসঙ্গে জ্ঞান অত্যন্ত সামান্য৷ ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গেও অসংখ্য ভুল ধারণা বিদ্যমান আছে৷
তাই আমাদের দায়িত্ব এই ব্যবধান ঘুচাতে এবং সোভিয়েত রাষ্ট্র ও জীবনধারার প্রতিটি প্রেক্ষিত জনগণের ভাবনা-চিন্তার জগতে হাজির করতে হবে অতি দ্রুত গতিতে৷
জ্যোতি বসু
বার-অ্যাট-ল
(ইন্দো-সোভিয়েত জার্নাল, মার্চ ২২, ১৯৪৩)
ভাষান্তর: সৌমিত্র লাহিড়ী
জ্যোতি বসুর নামের সাথে 'বার-অ্যাট-ল' শব্দবন্ধটি কমরেড মুজফ্ফর আহ্মদের পরামর্শে যুক্ত করা হয়। বেশ কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি পরিচালনার পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা গেলেও তখনও নানাভাবে পুলিশি হেনস্থা চলছিল। 'বার-অ্যাট-ল' যুক্ত হলে সেই সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে এই ভাবনা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজকের প্রজন্মের কর্মী-সমর্থকদের এই বিষয়টি অজানা থাকতে পারে, তাই উল্লেখ করা হল।
প্রকাশের তারিখ: ০৭-নভেম্বর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
