Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

অক্টোবর বিপ্লব

মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ
অক্টোবর বিপ্লব যে দুনিয়ার সকল দেশের শ্রমজীবী জনগণের বিপ্লব ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে। দীর্ঘস্থায়ী প্রথম মহাযুদ্ধে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের যে সকল সৈন্য রাশিয়ায় বন্দি হয়েছিল তাদের বড় অংশ প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। প্রত্যেক দেশের বন্দিদের মধ্য হতে একটি অংশ আপন আপন দল হতে বার হয়ে এসে প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
Red October
নভেম্বর বিপ্লবের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৭ সালে এই লেখা প্রকাশিত হয়েছিল গণশক্তির বিশেষ সংখ্যায়। বানান পরিমার্জনা করা হয়েছে।
১৯০৫ সালে রাশিয়ায় প্রথম বিপ্লব হয়েছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিপ্লব হয়েছিল ১৯১৭ সালে। রুশ দেশের পুরানো পঞ্জিকা অনুসারে দ্বিতীয় বিপ্লব হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। এই বিপ্লবে জারের পতন ঘটেছিল। নতুন পঞ্জিকার হিসাবে দ্বিতীয় বিপ্লব হয়েছিল মার্চ মাসে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিপ্লব বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, আর তৃতীয় বিপ্লব সোস্যালিস্ট বিপ্লব। মজুর শ্রেণির পার্টির অর্থাৎ বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে পুরানো পাঁজির হিসাবে এই বিপ্লব আরম্ভ হয়েছিল ২৫শে অক্টোবর তারিখে। তাই তাকে বলা হয় অক্টোবর বিপ্লব। নতুন পাঁজির হিসাবে বিপ্লব আরম্ভ হয়েছিল ৭ই নভেম্বর তারিখে, কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব নামটিই রয়ে গেছে। আমাদের দেশে আমরা নভেম্বর বিপ্লবও বলে থাকি। সোভিয়েত দেশের ও অন্যান্য দেশের লোকেরা তা বলেন না। তাঁরা বলেন অক্টোবর বিপ্লব।

রুশ দেশের মহান অক্টোবর বিপ্লব সমগ্র জগতের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। এই বিপ্লবের দ্বারা পৃথিবীর একটি দেশে অন্তত শ্রমজীবী জনগণ ক্ষমতার আসনে বসেছিলেন। এই একটি দেশেই মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ শেষ করে দেওয়ার কাজ প্রথম আরম্ভ হয়েছিল।
জগতে একের পর এক যে সাম্রাজ্যবাদের দৃঢ় বিন্যাস হয়েছিল তাতে প্রথম ভাঙন ধরিয়েছিল অক্টোবর বিপ্লব। বিরাট-বিশাল জারের সাম্রাজ্যে নিপীড়িত জাতিসমূহকে মুক্তির আস্বাদ শিখিয়েছে অক্টোবর বিপ্লব। অক্টোবর বিপ্লব হতেই ঔপনিবেশিক অধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ দেশগুলি মুক্তির প্রেরণা পেয়েছে। আমাদের ভারতবর্ষও এই প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ দেশগুলির বাইরে ছিল না।

সব চেয়ে বড় কথা এই যে অক্টোবর বিপ্লবের কাজ। কমিউনিস্ট পার্টির (বলশেভিক পার্টির) অবিভক্ত নেতৃত্বে সাধিত হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি মজুর শ্রেণির বিপ্লবী পার্টি। এই বিপ্লবের সময় পার্টি সমগ্র শোষিত ও শ্রমজীবী জনগণকে মজুর শ্রেণির পেছনে জড়ো করতে সমর্থ হয়েছিল। এইভাবেই স্থাপিত হয়েছিল ভূতপূর্ব জারের বিশাল সাম্রাজ্যে দুনিয়ায় সর্বহারা শ্রেণির প্রথম একনায়কত্ব।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা শোষিত ও শাসিত আমাদের ভারতবর্ষ হিন্দুকুশ, হিমালয় ও সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত হলেও, রুশ বিপ্লবের সঠিক খবর যেন ভারতে না পৌঁছয় তার জন্যে ভারতের ব্রিটিশ শাসনকর্তারা নানাভাবে আটঘাট বেঁধে দিলেও, খবর যে এ দেশে পৌঁছায়নি এমন কথা বলা যায় না। ১৯১৮ সালে প্রথম মহাযুদ্ধের বিরতি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দেশের নানাস্থানে মজুরদের ধর্মঘট শুরু হয়ে গিয়েছিল। আরও পরে কৃষকদের সংগ্রাম ও আরম্ভ হয়েছিল, এখনকার উত্তর প্রদেশেই বেশি।
সুদূর অতীতে হিন্দুকুশের গিরিসংকট পার হয়ে কত কত জাতি ভারতে এসেছেন। রুশ বিপ্লবের প্রকৃত খবর যে সেভাবে আসতে পারত না, কিংবা আসেনি এমন কথা বলা যায় না। কিন্তু যুগের পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। রুশ বিপ্লবের পরের সময়ে মানুষ আর বার্তা বহন করে আনতেন না, তখন বার্তা নিয়ে আসছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বৈদ্যুতিক শক্তি। এর সমস্ত কলকবজা ছিল শোষক ও ধনিক শ্রেণির হাতে। কাজেই রুশ বিপ্লবের খবরগুলি ও তার পরবর্তী ঘটনাসমূহের বিবরণ সঠিক হতো না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা তাদের প্রয়োজন সাধনের উদ্দেশ্যে বিবরণগুলিকে মিথ্যার পোশাক পরিয়ে দিনের পর দিন নানা দেশে পাঠাতো।

তখনকার দিনে দেবনাগরী হরফের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তাই হিন্দি কাগজ আমি পড়তে পারতাম না। কেউ কেউ বলছেন অক্টোবর বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে হিন্দি কাগজে লেখা বার হতো। এই সম্বন্ধে “হ্যাঁ” কিংবা “না” কিছুই আমি বলতে পারবো না। কিন্তু, আমাদের বাংলাদেশের কাগজগুলি শুরুর দিকে অক্টোবর বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছে, এমন ঘটনার কথা আমার মনে পড়ে না। বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের পুস্তিকা বিপ্লবের বিরুদ্ধে লিখিত হয়েছিল। রুশ বিপ্লবের বিরুদ্ধে। অপপ্রচার যে কত রকমের হতো তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। প্রচার হতো যে, বলশেভিকরা মায়েদের বুক হতে শিশুদের কেড়ে নিচ্ছে। এখানেই শেষ ছিল না। বলা হতো যে, সোভিয়েত ভূমিতে নারীজাতিকে জাতীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যতিক্রম হিসাবে ১৯২২ সালে আমরা দেখেছি যে, চন্দননগরের প্রবর্তক' গ্রুপের সাপ্তাহিক পত্রিকা “নবসঙ্গ”-তে "লেনিনের সঙ্গে দশ মাস” নাম দিয়ে একটি ইংরেজি লেখার বাংলা অনুবাদ ক্রমশ প্রকাশিত হয়েছিল। ভালো লেখা। এটা কোন ইংরেজি লেখার বাংলা অনুবাদ ছিল তা এখন আমি ভুলে গেছি। প্রথম মহাযুদ্ধের পরে বিপিনচন্দ্র পাল ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে ইংরেজি ভাষায় যে বক্তৃতা তিনি নিয়েছিলেন তা আমি শুনেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, বলশেভিকরা কি এমন খারাপ লোক? "আমিও তো বলশেভিক।” তার পরে আর এ বিষয়ে তাঁকে কিছু বলতে শোনা যায়নি।

বিপ্লবের পূর্বে আমাদের বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রিয় লোকেরা রুশ সাহিত্য ভালোবাসতেন। তাঁরা তলস্তয়, তুর্গেনিফ ও দস্তয়ভস্কি প্রমুখ লেখকের লেখা পড়তেন। উনিশ শ' বিশের দশকে গোর্কির 'মা' এ দেশে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। কিন্তু আশ্চর্য এই যে, অক্টোবর বিপ্লবের পূর্বে আমাদের বাংলাদেশের লোকেরা রুশ দেশের রাজনীতিক সংগ্রামের কথা বিশেষ কিছু জানতেন না। তাঁরা নিহিলিস্ট ও এনার্কিস্টের কথা জানতেন। কিন্তু রাশিয়ান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির এবং তার বলশেভিক ও মেনশেভিক বিভাগের কথা কেউ তেমন জানতেন বলে আমার মনে হয় না। আমার নিজের কথা যদি বলি, ফিলিপস প্রাইসের বিখ্যাত পুস্তক “রুশ বিপ্লব সম্বন্ধে আমার স্মৃতিকথা" (My Reminiscences of the Russian Revolution) প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে বলশেভিক অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠন সম্বন্ধে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। পার্টি সম্বন্ধে প্রথম উপলব্ধি আমার এই পুস্তক পড়েই হয়েছিল।
ভারতের ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট এ দেশে শুধু বিকৃত খবর পরিবেশন করতেন বটে, কিন্তু ব্রিটেনে ও আমেরিকায় ছাপানো মাসিক, পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পত্র-পত্রিকায় এ দেশে আসা তাঁরা বন্ধ করতে। পারেননি। এইসব কাগজেও রুশ বিপ্লবের বিরুদ্ধ প্রচারই বেশি থাকতো, কিন্তু মাঝে মাঝে সত্য ঘটনা দিয়েও কোনো কোনো লেখক প্রবন্ধ লিখে বসতেন। বাংলাদেশের লেখকদের চোখে এসব লেখাও পড়তো। দেশের ভিতরে মজুরদের ধর্মঘট যে হচ্ছিল সেকথা আমি আগেই বলেছি। এত বেশি সংখ্যায় ধর্মঘট হতে আগে কেউ কোনো দিন দেখেননি। তার উপরে মুক্ত খিলাফৎ-অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে দেশের সাধারণ মানুষেরাও সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯২২ সালের মে মাস হতে শুরু করে ভারতের প্রবাসী কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রগুলি "ভ্যানগার্ড অব ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডন্স", "এডভান্স গার্ড" ও "ভ্যানগার্ড" প্রভৃতি জার্মানিতে ছাপা হয়ে এ দেশে প্রচারিত হচ্ছিল। এই সবই বাংলা সাহিত্যের উপরেও ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছিল। বাংলা গল্প ও উপন্যাসে ক্রমশ জমিদার ও উচ্চ মধ্যবিত্তের জায়গায় সাধারণ মানুষদেরও স্থান হতে লাগলো। আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যের এই দিকটা একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে।

অক্টোবর বিপ্লব সমস্ত জগৎকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। জগতের শোষিত ও নির্যাতিত মানুষেরা অক্টোবর বিপ্লবকে শুধু রাশিয়ার বিপ্লব মনে করেননি, তাঁরা মনে করেছেন অক্টোবর বিপ্লব তাঁদেরও বিপ্লব। এই বিপ্লব হতে পাওয়া সুফলকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে একদিন তাঁরাও তার অনুসরণে আপন আপন দেশে ক্ষমতা দখল করতে পারবেন, এই ছিল তাঁদের আশা।
বিপ্লবের পরের বছরই রুশ দেশে প্রতিবিপ্লব আরম্ভ হয়ে যায়। এই প্রতিবিপ্লবে যোগ দিয়েছিল সে দেশের জমিদার, ধনিক, ধনী কৃষক, জারের আমলের বড় বড় সৈন্যাধ্যক্ষরাণ (সবই জমিদার শ্রেণির লোক) এবং রাজনীতিক দলগুলির মধ্যে ন্যাশনালিস্ট পার্টিগুলি, কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, মেনশেভিক পার্টি, সোস্যালিস্ট রেভোলিউশনারি পার্টি ও এনার্কিস্টগণ। ব্রিটিশ, ফরাসি, জাপানি ও আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে প্রতিবিপ্লবীদের সাহায্য করেছিল। ইউরোপের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বেই কাইজার বিহেলমের জার্মানিও সোভিয়েত দেশের দক্ষিণাংশ আক্রমণ করেছিল। তারা ট্রান্স-ককেশিয়াকে সোভিয়েত রাশিয়া হতে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। জর্জিয়া ও আজারবাইজানের ন্যাশনালিস্টদের অনুরোধে তারা জার্মান ও তুর্কি সৈন্য ওসব দেশে পাঠিয়েছিল এবং বাকু ও তিবলিসির উপরে প্রভু হয়ে বসেছিল।

সোভিয়েত দেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও দেশের শ্রমজীবী জনগণের সাহায্যে অসীম দৃঢ়তার সহিত লড়াই করে প্রতিবিপ্লবীদের ও জগতের তাবৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাজিত করেছিল। মনে রাখতে হবে যে, ওই সময়ে সোভিয়েত দেশকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা সব দিক হতে ঘেরাও করে রেখেছিল।

অক্টোবর বিপ্লব যে দুনিয়ার সকল দেশের শ্রমজীবী জনগণের বিপ্লব ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে। দীর্ঘস্থায়ী প্রথম মহাযুদ্ধে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের যে সকল সৈন্য রাশিয়ায় বন্দি হয়েছিল তাদের বড় অংশ প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। প্রত্যেক দেশের বন্দিদের মধ্য হতে একটি অংশ আপন আপন দল হতে বার হয়ে এসে প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এক কথায়, সকল সাম্রাজ্যবাদী দেশের বহু সংখ্যক লোক বিপ্লবের পক্ষেও লড়েছিলেন। বিপ্লবের পূর্বে উত্তর-পূর্ব চীনের প্রায় দুই লক্ষ মজুর রুশ দেশে নানান ধরনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। গৃহযুদ্ধের সময়ে এই চীন দেশীয় মজুরেরাও বিপ্লবের ভিতর দিয়ে পাওয়া সোভিয়েত দেশকে রক্ষা করার জন্যে লড়াই করেছিলেন। প্রতিবিপ্লবের বিরুদ্ধে অন্য কোনো দেশের এত বৃহৎ সংখ্যক লোক লড়াই করেছেন বলে আমি জানিনে।
সোভিয়েত দেশের ইতিহাসের ছাত্ররা পুরানো কাগজপত্র ঘেঁটে এখন এই সকল তথ্য আবিষ্কার করেছেন। আমার ধারণা ছিল যে সোভিয়েত রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময়ে আমরা ভারতীয়রা বুঝি। কিছুই করতে পারিনি। অথচ, সোভিয়েত দেশ আমাদের তো প্রতিবেশী দেশ। এখন দেখতে পাচ্ছি, আমাদেরও তাতে অবদান আছে। গৃহযুদ্ধের সময়ে রেড আর্মিতে আন্তর্জাতিক ব্রিগেড গঠিত হয়েছিল। তাতে ভারতীয় সৈনারাও ছিলেন। ১৯১৮ সালে ইরান হতে ব্রিটিশ দখলকার সৈন্য এসে ট্রান্স-ককেসাস দখল করেছিল।। এই সৈন্যদের ভিতরে ভারতীয় সৈন্যরাও ছিলেন। তাঁদের গায়ে রুশ বিপ্লবের কোনো ছোঁয়াচ যাতে না লাগতে পারে সে জন্যে ব্রিটিশ অফিসাররা তাঁদের উপরে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিলেন। স্থানীয় লোকেদের সঙ্গে তাঁদের মেলামেশা করা বারণ ছিল। তা সত্ত্বেও ভারতীয় সৈন্যদের ভিতরে চাঞ্চল দেখা দিয়েছিল। কিছু সংখ্যক ভারতীয় সৈন্য ব্রিটিশ অফিসারদের নাকের ওপরে বেগুনেট তুলে ধরে লালফৌজে এসে যোগ নিলেন। তাঁরাই সাগিস্তান ও কাবাদার পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধ করেছিলেন। নিজেদের বাঁচিয়ে তাঁরা যুদ্ধ করেননি। তাঁদের অফিসার মুর্তজা আলির সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধের কথা ও-দেশে প্রবাদে পরিণত হয়েছে।

মাশহাদকে কেন্দ্র করে ইরানের খুরাসান প্রদেশে একটি বিশাল ব্রিটিশ বাহিনী আড্ডা গেড়ে বসেছিল। এখান থেকেও পাঠান সেনারা পালিয়ে গিয়ে লালফৌজের আন্তর্জাতিক ব্রিগেডে যোগ দেন। রাইফেলের যুদ্ধে তো তাঁদের তুলনা ছিলই না, যান্ত্রিক যুদ্ধও তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করে নিলেন। তখনকার দিনে ভারতীয় সেনাদের যান্ত্রিক যুদ্ধ শেখানো হতো না। রুশ বিশেষজ্ঞরা এসে তাঁদের গেরিলা যুদ্ধও শিখিয়ে নিলেন। দুর্ধর্ষ হন। উঠলেন তাঁরা। প্রথমে তাঁরা রুশ অফিসারদের অধীনে যুদ্ধ করতেন। তারপরে তাঁদের ভিতর হতেই সেনারা অভিসারের পদে উন্নীত হলেন। প্রথমে তাঁরা ক্রাসনোভদৃপ্ত মার্চ রেল এরো রোডকে নিরাপন করে নিলেন। তাতে ককেসাস হতে মধ্য এশিয়ায় পেট্রোল পাঠানোর সুবিধা হয়ে গেল। ইরানের বিপ্লবী ও আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের সৈনাদের সঙ্গে একত্রে ভারতীয় সৈন্যরা আকাবাদ-মাহান রোড বিপন্ন করে তুললো। আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের ইরানি সৈনারা কোয়েটা মাশহান রোডের ওপরে প্রায়ই এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগলেন যে, ভারতবর্ষ হতে ইরানে ব্রিটিশ সৈনাদের জনো রসদ আসাই বন্ধ হয়ে গেল। ইরানের সাধারণ বাসিন্দারাও এই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে, ব্রিটিশের ভারতীয় ও ব্রিটিশ সৈন্যদলকে মাশহান হতে গুটিয়ে নিতে হলো। ইরানের সমতা খুরাসান প্রদেশ ব্রিটিশ প্রভাব মুক্ত হলো।

খুরাসান হতে বিতাড়িত হয়ে ব্রিটিশ সৈনাদল চিত্রল ও গিলগিটে তাদের আড্ডা গেড়েছিল। হতেই তারা রানার পার্বত্য এলাকার ভিতর দিয়ে বুখারায় অস্ত্রশস্ত্র পাঠাতো।

**************************************************************************************************************************************************************
এখন ক্রুশ্চভ ও তাঁর পরবর্তী নেতারা আস্ত সোভিয়েত রাশিয়াকে যেখানেই এনে দাঁড় করান না কেন, আমি বলবো যে অক্টোবর বিপ্লব আমাদেরও বিপ্লব। অক্টোবর বিপ্লব দুনিয়াকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে। আমি নিজেকে অক্টোবর বিপ্লবের দ্বারা সৃষ্ট একজন অতি সামানা লোক বলে মনে করি।


১২ ই অক্টোবর, ১৯৬৭

প্রকাশের তারিখ: ০৯-নভেম্বর-২০২২
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Osadharon
- Debattam Mukherjee, ০৯-নভেম্বর-২০২২


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৭ টি নিবন্ধ
০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫

০৫-ডিসেম্বর-২০২৫