Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের কথা

বদরুদ্দীন উমর
বদরুদ্দীন উমর। জন্ম এই বাংলার বর্ধমানে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক। এখন বয়স বিরানব্বই। মার্কসবাদী পথের জন্য নিজস্ব চেনা ঢঙে লিখেছেন ‘কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের কথা’। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় অকপট ভাষ্যে যেমন আছে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদকে নিয়ে তাঁর ‘অতৃপ্তি’, ‘আক্ষেপ’, তেমনই আছে ফুপুতো ভাই সৈয়দ শাহেদুল্লাহ, তাঁর ভাই সৈয়দ মনসুর হবিবুল্লাহ; কাছাকাছি বয়সের চাচা মহবুব জাহেদী, আবদুল্লাহ রাসুলের প্রসঙ্গ। আছে ১৯৪৫ সালে বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্মেলনের কথা থেকে বর্ধমানে কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিনয় চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্লাসে হাজির হওয়ার কথা।
Comrade Muzaffar Ahmad

কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের জন্ম ১৮৮৯ সালের আগস্ট মাসে নোয়াখালীর সন্দ্বীপে। তাঁর বাল্যকাল কাটে সেখানেই। ম্যাট্রিক পাশ করার কিছুদিন পর তিনি চলে আসেন কলকাতায়। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া বেশি দূর পর্যন্ত না হলেও নিজের চেষ্টায় তিনি পড়াশোনার চর্চা করতে থাকেন। পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

তখনো পর্যন্ত ভারতে কোনো কমিউনিস্ট পার্টি না থাকলেও তিনি মার্কসবাদী সাহিত্যের মাধ্যমে সাম্যবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষে কাজী নজরুল ইসলাম দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের পরিচয় হয়। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা হন পরস্পরের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের সান্নিধ্যে থেকে তাঁর প্রেরণায় নজরুল ইসলাম সাম্যবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯২৫ সালে তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করেন লেবার স্বরাজ পার্টি নামে একটি পার্টি। তার বিশেষ কোন কার্যকলাপ ছিল না। পরে কমরেড আবদুল হালিম কমরেড আব্দুর রাজ্জাক খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন কমিউনিস্ট পার্টি।

তার আগে ১৯২০ সালে ফজলুল হক নবযুগ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন, এবং কাজী নজরুল ইসলাম, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ যৌথভাবে পত্রিকাটির সম্পাদক নিযুক্ত হন। কিছুদিন পর ফজলুল হকের সঙ্গে তাঁদের মত পার্থক্যের কারণে তাঁরা নবযুগ পত্রিকার সম্পাদক পদে ইস্তফা দেন।

কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা নামে তাঁর বইয়ে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ অবশ্য তাঁদের, বিশেষ করে নজরুলের পদত্যাগ বিষয়ে লিখতে গিয়ে এর জন্য ফজলুল হককে দায়ী না করে দায়ী করেছেন আবুল কাসেমকে। আবুল কাসেম ছিলেন আমার দাদা। অল্প বয়সেই ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, এবং সারা ভারত কংগ্রেস কমিটির সদস্য। ফজলুল হক, তিনি ছিলেন সহপাঠী বন্ধু। মুজফ্‌ফর সাহেব লিখেছেন যে, আবুল কাসেমই ফজলুল হকের ঘাড়ে চড়ে নজরুল ইসলামকে নবযুগ থেকে বরখাস্ত করার জন্য ফজলুল হকের ওপর চাপ দেন, এবং তার ফলেই নজরুল ইসলামকে নবযুগ ছাড়তে হয়। 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে আমি কলকাতা যাই। ১৯৭১ সালে নবজাতক প্রকাশন আমার একটি বই পুনর্মুদ্রণ করেছিলো। প্রকাশনা সংস্থাটির মালিক ছিলেন মজহারুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ সাহেবের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি সিপিআইএম-এর সমর্থক ছিলেন এবং সিপিআইএম নেতাদের কয়েকজনের বইও প্রকাশ করেছিলেন। কথায় কথায় সে সময় আমি মজহারুল ইসলামকে কাজী নজরুল ইসলামের নবযুগ ছাড়ার বিষয়ে বলেছিলাম যে, মুজফ্‌ফর সাহেব লিখেছেন আবুল কাসেমের চাপেই ফজলুল হক নজরুল ইসলামকে নবযুগ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। এটা পড়ে মনে হয় যে, ফজলুল হক সাহেব একজন নাবালক ছিলেন। ব্যাপারে তাঁর কোনো হাত ছিল না। কাসেম সাহেবের কথায় তিনি ওঠাবসা করতেন।

একথা ঠিক যে, কাসেম সাহেব এক ধরনের ধর্মীয় রক্ষণশীলতার কারণে নজরুল ইসলামের প্রতি খুব বিরূপ ছিলেন। কাসেম সাহেব নিজেও কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। এটাও হয়তো ঠিক যে, তিনি নবযুগ থেকে নজরুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু শুধু তাঁর কারণেই ফজলুল হকের সাথে নজরুল ইসলামের মতবিরোধ হয়েছিল, এবং সেজন্যই তাঁকে নবযুগ পরিত্যাগ করতে হয়েছিল - কেমন কথা? আমি মজহারুল ইসলামকে একথা বলার পর তিনি আবার মুজফ্‌ফর সাহেবকে তা বলেছিলেন। 

মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের জীবনের প্রধান ঘটনাবলীর সাথে ওয়াকিবহাল সকলেই পরিচিত। কাজেই আমি তার বিবরণের মধ্যে যাব না। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে যেভাবে দেখেছি, এবং আমার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাই এখানে বলব। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদকে কাকাবাবু বলার প্রচলন হয়। কিন্তু আমাদের বৃহত্তর পরিবারে অনেকের সাথে তাঁর খুব ভাল ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও তাঁরা কেউ তাঁকে কাকাবাবু বলতেন না। আমার ফুপুতো ভাই সৈয়দ শাহেদুল্লাহ, তাঁর ভাই সৈয়দ মনসুর হবিবুল্লাহ; আমার কাছাকাছি বয়সের এক চাচা মহবুব জাহেদী; তাঁরা কেউ মুজফ্‌ফর সাহেবকে কাকাবাবু বলতেন না, বলতেন মুজফ্‌ফর সাহেব। আমিও ছোটবেলা থেকে তাঁকে বলতাম মুজফ্‌ফর সাহেব। তিনি মাঝে মাঝেই বর্ধমান আসতেন। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার সময়ে তিনি কখনো কখনো থাকতেন আমার এক চাচা আব্দুল আহাদ সাহেবের ইচলাবাজারের বাড়িতে। সেখানে তাঁরা পার্টির বৈঠকও করতেন।

১৯৪৫ সালে বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুর গ্রামে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্মেলন হয়। সেটা ছিল এক বিরাট সম্মেলন। কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পি সি যোশি থেকে নিয়ে বঙ্গীয় কৃষক সভা কমিউনিস্ট পার্টির সব নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। আমিও সেই সম্মেলনে আমার বয়সীদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। আমার মনে আছে, সেখানে এক পুরানো জমিদার বাড়িতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। একটা বড় হলঘরে আমরা ছিলাম। সেখানে বঙ্কিম মুখার্জিও ছিলেন আমাদের সঙ্গে। তিনি আমাদের মত অল্প বয়স্কদের সঙ্গে গল্প করতেন। মুজফ্‌ফর সাহেবও গিয়েছিলেন। তিনি একজন খুব বড় মাপের রাজনৈতিক সংগঠক হলেও অন্য অনেকের মতো জোরালো বক্তৃতা দিতেন না।

আমি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়- কোনো সময়েই সরাসরি কোনো ছাত্র সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। কিন্তু আমাদের বৃহত্তর পরিবারে রাজনীতির চর্চা ছিল, এবং রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যেই আমি বড় হয়েছিলাম। রাজনীতির খবরাখবর রাখতাম, যদিও কোন রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর আমার জানা ছিল না। বর্ধমান কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে সৈয়দ শাহেদুল্লাহ, হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিনয় চৌধুরী যে রাজনৈতিক ক্লাস নিতেন তাতে আমি মাঝে মাঝে উপস্থিত থাকতাম; যদিও আমি ছাত্র ফেডারেশন করতাম না। আমার সমবয়সী যে আত্মীয়েরা ছাত্র ফেডারেশন করত তাদের সাথে যেতাম। আমার আব্বা আবুল হাশিম ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা, কিন্তু তিনি কোনো সময়েই আমাকে ছাত্র লীগ করতে বলতেন না, এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে যেতে নিষেধ করতেন না। আমাদের পরিবারে এদিক দিয়ে ছিল একটা উদারনৈতিক পরিবেশ। 

মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ সাহেবের সঙ্গে ছেলেবেলায় আমার কোনোদিন সাক্ষাৎ কথাবার্তা হয়নি, যদিও তিনি মাঝেমাঝেই বর্ধমানে আসতেন। সাক্ষাৎ কথাবার্তার কোনো সুযোগ হত না। আমরা ১৯৫০ সালে দাঙ্গার পর ঢাকা চলে এসেছিলাম। এরপর ১৯৭২ সালে পর্যন্ত মুজফ্‌ফর সাহেবকে আর দেখিনি। তবে তাঁর বইপত্র পড়তাম। তিনি প্রথম থেকেই কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিলেন, এবং কৃষকদের অবস্থার ওপর লেখালেখি করতেন। তাঁর সেসব গুরুত্বপূর্ণ রচনার সাথে পরিচিত ছিলাম। শেষ জীবনে তিনি লিখেছিলেন তাঁর সব থেকে পরিচিত বই  আমার জীবন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এই বইটি পড়ে অবশ্য আমি এক ধরনের অতৃপ্তি বোধ করেছিলাম। তাঁর রচনার মধ্যে এটি ছিল সর্ববৃহৎ। কিন্তু বইটিতে যা আশা করা গিয়েছিল তা ছিল না। অবনী মুখার্জী, নলিনী গুপ্ত, এম এন রায়, অমৃত ডাঙ্গের সঙ্গে যে ব্রিটিশ জার্মান গোয়েন্দা বিভাগের সম্পর্ক ছিল বিষয়টি নিয়ে বইটিতে যে সবিস্তার আলোচনা তিনি করেছিলেন সেটা আমার ভাল লাগেনি। উপরোক্তদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী গোয়েন্দা বিভাগের সম্পর্ক ছিল এটা এত সবিস্তারে জানার প্রয়োজন কারো ছিল বলে মনে হয় না। তা না জানালেও চলত। কিন্তু মুজফ্‌ফর সাহেব বইটির প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়ে সেসব কথাই লিখেছেন। এর ফলে কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস, নানা আন্দোলন, দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে, বিশেষত তিরিশ দশক থেকে যা কিছু ঘটেছিল সেসব বিষয়ে, তাঁর থেকে মূল্যবান যেসব তথ্য আমরা আশা করেছিলাম, তা পাইনি। বইটির কোনো দ্বিতীয় খণ্ড লেখার সময় তিনি পাননি। এর ফলে আমার তাঁর লেখা থেকে যা পাওয়ার ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হলাম। এটা অবশ্যই একটা আক্ষেপের ব্যাপার। 

বইটি লেখার পর সিপিআই মহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হয়। সিপিআই নেতা লেখক প্রশান্ত সেহানবিশ মুজফ্‌ফর সাহেবের বইটির এক পাল্টা বই লিখে মুজফ্‌ফর সাহেবকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগের লোক হিসাবে উপস্থিত চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তার মধ্যে যে কোনো সত্যতা ছিল না তা বলাই বাহুল্য।

১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি কলকাতায় গিয়েছিলাম। সে সময় আমার এক ফুপুতো ভাই সৈয়দ মহবুবুল্লাহর সাথে গিয়ে আমি মুজফ্‌ফর সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। এর কিছুদিন পর আমি সপরিবারে আবার কলকাতা যাই। সে সময় মুজফ্‌ফর সাহেব তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য আমাকে খবর দেন। মনসুর ভাই (মনসুর হবিবুল্লাহ)-এর বাড়ি থেকে তাঁর ফোনে মনসুর ভাই মুজফ্‌ফর সাহেবের সাথে কথা বলে দুই তিন দিন পর তাঁর সাথে দেখা করার তারিখ সময় ঠিক করে দেন।

যেদিন মুজফ্‌ফর সাহেবের সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা সেদিন দুপুরের দিকে মনসুর ভাই আমায় বলেন মুজফ্‌ফর সাহেবের কাছে যাওয়া হবে না। যথাশীঘ্র আমাকে কলকাতা ছাড়তে হবে। তিনি বলেন যে, মুজফ্‌ফর সাহেব আবদুল্লাহ রাসুল সাহেবকে জরুরিভাবে ফোন করে বলেছেন- মনসুর ভাইকে বলতে যে, আমি যেন কোন দেরি না করে যথাশীঘ্র সম্ভব কলকাতা ছেড়ে ঢাকা ফিরে যাই। এটা শুনে আমার তো হতভম্ব অবস্থা। যাই হোক মুজফ্‌ফর সাহেবের কথামতো আমি পরদিন সকালে কলকাতা ছাড়লাম। এর আগের দিন মজহারুল ইসলাম আমাকে বলেছিলেন যে, গোয়েন্দা বিভাগের লোক তাঁর অফিসে গিয়ে আমার খোঁজ করেছিল। তারা আমার চেহারা জানত না, এজন্য আমি দেখতে কেমন সে কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। 

১৯৭২ সালের শেষ দিকে মুজফ্‌ফর সাহেব ঢাকা এসেছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন তাঁর জামাই কবি আব্দুল কাদেরের বাসায়। আমি সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। সে সময় তিনি আমাকে কলকাতা ছাড়তে বলার কথা প্রসঙ্গে বলেন, জানেন কী হয়েছিল। তিনি যেখানে থাকতেন সে বাড়ির সামনে সব সময় গোয়েন্দা বিভাগের দুজন লোক ডিউটি করত। যেদিন তাঁর কাছে আমার যাওয়ার কথা ছিল সেদিন সকালে দেখা গেল দুজনের জায়গায় চারজন। যেহেতু গোয়েন্দা বিভাগের লোকরা নিয়মিত পাহারা দিত, সেজন্য মুজফ্‌ফর সাহেব পার্টির যে ডেরায় থাকতেন তার লোকদের কাছে তারা পরিচিত ছিল। দুজনের জায়গায় সেদিন চারজন দেখে অন্য দুজনকে এর কারণ জিজ্ঞাস করায় তারা বলেছিল, আজ বদরুদ্দীন উমরের এখানে আসার কথা। সেজন্য অতিরিক্ত দুজন গোয়েন্দাকে ডিউটির জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। মুজফ্‌ফর সাহেবের ফোন গোয়েন্দা অফিস আড়ি পেতে শুনত। তার থেকে তারা জেনেছিল ওই দিন আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাব। পুলিশ গোয়েন্দাদের কথা শুনে মুজফ্‌ফর সাহেব সাথে সাথে আবদুল্লাহ রাসুলকে ফোন করেছিলেন। আমাকে যদি পুলিশ গ্রেপ্তার করত তাহলে আমার দুর্দশার শেষ থাকত না, কারণ জেলের ভেতরের অবস্থা তখন খুব খারাপ ছিল। 

১৯৭৩ সালের শেষ দিকে আমি যখন কলকাতায় গেলাম তখন মুজফ্‌ফর সাহেব মৃত্যু শয্যায়। তিনি তখন ছিলেন পার্ক সার্কাসের এক নার্সিং হোমে। তাঁকে দেখতে গেলাম। সেই তাঁর সাথে শেষ দেখা। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর মৃত্যু হয়।


প্রকাশের তারিখ: ০৫-আগস্ট-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইতিহাস বিভাগে প্রকাশিত ১৪৮ টি নিবন্ধ
০৫-মে-২০২৬

০১-মে-২০২৬

২২-এপ্রিল-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

১০-মার্চ-২০২৬

২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-জানুয়ারি-২০২৬

১৭-জানুয়ারি-২০২৬

৩০-ডিসেম্বর-২০২৫

০৬-ডিসেম্বর-২০২৫