সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সিন্ধের ভগৎ সিং : জীবন ও জীবনের উত্তরপারে পাকিস্তানের হেমু কালানী
রাজা নাঈম
অধ্যাপক মহম্মদ লাইক জারদারি লিখেছেন, হায়দ্রাবাদে বিদ্রোহীরা দূর্গ দখল করার পরিকল্পনা করেছিল যাতে পরবর্তীতে দিল্লীর লালকেল্লার মত বিদ্রোহ আত্মপ্রকাশ করে এবং ক্রমান্বয়ে বিদ্রোহের আঁচ এসে পড়ে জাকোবাবাদ, সুক্কুর এবং শিকারপুর অঞ্চলে। সামরিক ব্রিগেডিয়ারদের কানে এই খবর পৌঁছতেই বিদ্রোহী নেতাদের কামানের গোলায় উড়িয়ে দেওয়া হয়। শিকারপুরে বিদ্রোহীরা তিন ইয়োরোপীয় নাগরিকদের নিশানা করেছিল, তাঁদেরকেও গ্রেপ্তার করে কামানের গোলায় নিহত করা হয়। একইভাবে এমনকি সুক্কুরের বিদ্রোহীদের বার্তাবাহকদেরও গ্রেপ্তার করে নদীর তীরে ফাঁসি দেওয়া হয়। এভাবেই, বিদ্রোহের উদ্যোগ আরো তৈরি হতে থাকে।

হেমু কালানীর মা জেথি বাইয়ের আলিঙ্গনে ভগৎ সিংয়ের মা (বাঁদিকে)
প্রথম পর্ব
(একদিকে বিভাগোত্তর পাকিস্তানে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং তার অপর পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের বামপন্থীদের উদ্যোগে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষপাতমুক্ত সামগ্রিক ইতিহাসকে জনসাধারণ্যে নিয়ে আসার লড়াই তার পরিপ্রেক্ষিতেই রচিত এই নিবন্ধ। এই নিবন্ধে একদিকে উঠে এসেছে স্বাধীনতা পূর্ব সিন্ধের বিপ্লবী হেমু কালানীর জীবনের প্রথম পর্ব, স্বাধীনতা আন্দোলনের অভিঘাতে কী করে তাঁকে বিপ্লবীতে রূপান্তরিত করে, ব্রিটিশের হাতে তাঁর ধরা পড়া, তাঁর বিচার, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা এবং সেই সাজার মৃত্যুদণ্ডে পরিবর্তিত হওয়া, কীভাবে তাঁর শীতল মরদেহ শ্রদ্ধাবনত জনতার মাঝখান দিয়ে জন্মভূমি সুক্কুরের মাটিতে পৌঁছয় তার কথা। আবার জীবনের উত্তর সময়ে দ্বিখণ্ডিত স্বদেশের স্বাধীনতায় কীভাবে তাঁর পরিবার অন্য সিন্ধিবাসী স্বজন পরিজনদের মত বাস্তুহারা হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। হেমু কালানীর স্মৃতিও দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। ভারতে সংসদ ভবনের সামনে স্থাপিত হয় তাঁর মূর্তি, কোথাও উদ্যান, কোথাও সড়কের নামকরণ হয় তাঁর নামে। অথচ জন্মভূমিতে হেমু চলে যান বিস্মৃতির অতলে। এমনকী তাঁর একমাত্র স্মারক হিসেবে থাকা সুক্কুরের উদ্যানটিও নামাঙ্কিত হয়ে যায় মহম্মদ বিন কাসেমের নামে। ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী এবং ২০২৩ সালে হেমু কালানীর জন্মশতবর্ষের মধ্যবর্তী সময়ে লিখিত এই নিবন্ধ পাকিস্তানের বামপন্থী আন্দোলনের তরফে অসাম্প্রদায়িক ইতিহাস রচনার উদ্যোগেরই একটি অংশ। বামপন্থায় গভীরভাবে বিশ্বাসী রাজা নাঈম একজন পাকিস্তানী সমাজ বিজ্ঞানী, গ্রন্থ সমালোচক ও পুরস্কার বিজয়ী অনুবাদক।। বর্তমানে লাহোর নিবাসী রাজা নাঈম লাহোরের প্রগতি লেখক সঙ্ঘের সভাপতি।)
লাল টুপি পরা ব্রিটিশ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে আসা সুক্কুর জেলখানার মিলিটারি ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হল এক যুবকের মৃতদেহ। পেছনে হাজার হাজার মানুষ যারা সকাল থেকে শহর ও তার সংলগ্ন এলাকা থেকে এসে হাজির হয়েছে।
ফুলের পাপড়ি দিয়ে আবৃত মৃতের লাশ। দৃশ্যমান শুধু তার মুখখানি যা থেকে আন্দাজ করা যায় যে মৃতের বয়স উনিশ-কুড়ির মাঝামাঝি।
যুবকের নাম হেমু কালানী।যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্যের মর্যাদায় অভিষিক্ত। যখন তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তিনি সে সময় সদ্য ম্যাট্রিক পাশ করেছেন।
কে ছিলেন হেমু কালানী?
হেমুর পুরো নাম হল হেমনদাস কালানী এবং তার জন্ম পেসুমল কালানীর ঘরে। তাঁকে ভালবেসে সকলে ডাকত 'হেমু' ডাকত বলে। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন ঠিকাদার।
কিছু সুত্রে জানা যায় হেমুর জন্ম ১১ মার্চ, ১৯২৩, আবার সুক্কুর শহরের সাংবাদিক মুমতাজ বুখারী জানিয়েছেন যে সরকারি পৌরসভার হাইস্কুলের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী, হেমুর জন্ম হয় ২২ ফেব্রুয়ারী, ১৯২২ সালে। এই স্কুলটির নাম ছিল মিউলস স্কুল (পরবর্তীতে নাম পাল্টে করা হয় তিলক হাই স্কুল) এবং এখান থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করেন হেমু। হেমু কালানীর ওপর লেখা জেঠো লালওয়ানীর বই (সাম্প্রতিক কালে যার ইংরেজি অনুবাদ করেছেন মোহন গেহানী) থেকে জানা যায় যে হেমুর জন্ম ১৯২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থাৎ এই বর্তমান বছরই তার জন্ম শতবর্ষ।
লেখাপড়ার পাশাপাশি হেমু কুস্তির আখড়ায় যেতেন। আখড়ার প্রতি ঝোঁক থেকে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন কৃষণ মণ্ডল আখড়ায়। তাঁর বন্ধুদের লেখা থেকে জানা যায় যে তিনি একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন এবং সিন্ধু নদী এপার ওপার করার ক্ষমতাও তার ছিল।
ভারতীয় সংসদের একটি পুস্তিকা অনুযায়ী হেমু প্রভাবিত হয়েছিলেন তার কাকা ড মঙ্গরাম কালানীর দ্বারা। সেসময় তিনি স্বরাজ সেনা নামক ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
ফতুমল টেকচন্দনী তার ১৯৮১-এর নিবন্ধ 'বীর মায়ের বাহাদুর সন্তান' -এ লিখেছেন যে, সে সময়ের উনিশ থেকে পঁচিশ বছরের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়ারা স্বরাজ সেবার সাথে যুক্ত হতেন যার উদ্দেশ্য ছিল তরুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করা।
স্বাধীনতার সংগ্রাম ও আন্দোলনের প্রভাব
মৌলাই শেদাই সুক্কুরের ইতিহাস লিখতে গিয়ে বলেছেন ভারতের যেখানেই আন্দোলন হত তার প্রভাব পড়ত সুক্কুর করাচি ও হায়দ্রাবাদে কারণ করাচি অবস্থিত ছিল বম্বের কাছাকাছি আর সে সুত্রে সুক্কুরকে ধরে নেওয়া হত লাহোরের কাছাকাছি হিসেবে। সিন্ধও ছিল তখন বম্বে প্রেসিডেন্সির অংশ যা ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় ১৮৪৩ থেকে ১৯৩৬ সময়পর্বে।
'তেহরিক এ পাকিস্তান মে সিন্ধ জো হিস্সো'’ (পাকিস্তান আন্দোলনে সিন্ধের ভূমিকা) বইয়ের লেখক অধ্যাপক মহম্মদ লাইক জারদারি লিখেছেন যে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ শুরু হলে তার প্রভাব সিন্ধ করাচি, হায়দ্রাবাদ, শিকারপুর, জাকোবাবাদের মতন বড় শহরেও এসে পড়ে।
ইতিমধ্যে, ১৪ সেপ্টেম্বর খবর আসে যে ২৪ জন স্থানীয় সৈনিকের যারা জেনারেল কমান্ডিং কমিশনার এবং অন্যান্য কর্তাদের ওপর হামলা করার পরিকল্পনা করেছে। তাদের মধ্যে চৌদ্দ জনকে ফাঁসি, তিনজনকে হত্যা এবং বাকি চারজনকে কামানের গোলায় উড়িয়ে দেওয়া হয়।
অধ্যাপক মহম্মদ লাইক জারদারি লিখেছেন, হায়দ্রাবাদে বিদ্রোহীরা দূর্গ দখল করার পরিকল্পনা করেছিল যাতে পরবর্তীতে দিল্লীর লালকেল্লার মত বিদ্রোহ আত্মপ্রকাশ করে এবং ক্রমান্বয়ে বিদ্রোহের আঁচ এসে পড়ে জাকোবাবাদ, সুক্কুর এবং শিকারপুর অঞ্চলে। সামরিক ব্রিগেডিয়ারদের কানে এই খবর পৌঁছতেই বিদ্রোহী নেতাদের কামানের গোলায় উড়িয়ে দেওয়া হয়। শিকারপুরে বিদ্রোহীরা তিন ইয়োরোপীয় নাগরিকদের নিশানা করেছিল, তাঁদেরকেও গ্রেপ্তার করে কামানের গোলায় নিহত করা হয়। একইভাবে এমনকি সুক্কুরের বিদ্রোহীদের বার্তাবাহকদেরও গ্রেপ্তার করে নদীর তীরে ফাঁসি দেওয়া হয়। এভাবেই, বিদ্রোহের উদ্যোগ আরো তৈরি হতে থাকে।
পীর আলি মহম্মদ রাশদি নিজস্ব স্মৃতিকথার ওপর ভিত্তি করে তাঁর বইয়ে লিখেছেন যে সেই সময়ের তিনজন মহান নেতা সুক্কুরের আজাদ ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন। এখানে একসময় গান্ধী বক্তব্য রেখেছিলেন, সরোজিনী নাইডু গান গেয়েছিলেন এবং নেহরুর স্লোগান মাঠজুড়ে ছেয়ে গিয়েছিল। আবার এখানেই কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবকদের সমাবেশ করা হয় এবং রক্তপাতের কিছুটা চিহ্নে এখানেও স্বাধীন ভারতের মানচিত্র আঁকা হয়।
গান্ধীর নিদের্শনা এবং বিপ্লবী কার্যক্রম
উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাল ছিল ১৯৪২। মহাত্মা গান্ধী ১৮ আগস্ট 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন শুরু করেন এবং সেই সুত্রেই তিনি করাচি এসে একটি সভায় বক্তৃতা প্রদান করেন।
হেমু কালানীর সহপাঠী লছমনদাস কেসওয়ানী তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন যে একদিন জানা যায় যে গান্ধী করাচি আসছেন। তখনি তিনি তার বন্ধু হাশু সান্তানীর সাথে ঠিক করেন যে তারা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন এবং সেইমত করাচি পৌঁছে যান।
এখানে এসে তারা একটি বিশাল জনতার মুখোমুখি হন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তারা দেখেন সুক্কুরের মাস্টার রঙ্গমল সম্মানিত অতিথিদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। আমি তাঁর কাছাকাছি গিয়ে বললাম, আজ্ঞে আপনি হাওয়া দিতে দিতে নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আমাকেও একটু সেবা করা সুযোগ দিন।
পাখার হাওয়া করতে করতে আমি গান্ধির কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। সবেমাত্র ওনার বক্তব্য শেষ হয়েছে। আমি কাছে গিয়ে তাঁকে বললাম, আমাকে দেশসেবার একটা সুযোগ দিন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী করো তুমি? আমি বললাম যে আমি একজন ছাত্র। সেই শুনে গান্ধি বলেন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে প্রস্তুত করুন এবং স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যান।
লছমনদাস ফিরে গিয়ে তার বন্ধুদের এই কথা জানালেন এবং তারপর তিনি, হাশু, হেমু কালানী, হরি লিলানী এবং টিকম ভাটিয়া বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত নেন।
সুক্কুরে বিস্ফোরণ ও কিছু অচেনা বিদ্রোহী
লছমনদাস স্বীকার করেছেন যে তিনি এবং হেমু পাঁচ বারেরও বেশি অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়েছেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, তাদের প্রথম অপরাধ ছিল এক রবিবারের রাতে সুক্কুরের কালেক্টরের অফিসের মাথায় ইউনিয়ন জ্যাকের পতাকা হটিয়ে তেরঙ্গা পতাকা বসানো।
এই ঘটনা নিয়ে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এই মর্মে যে এই বিপ্লবীরা এলো কোথা থেকে। হেমু সত্য কথাটা বলে দিল তার কাকা মঙ্গারাম কালানীর কাছে এবং এতে তিনি হেমুর সহযোগীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলেন।
এর পর ঠিক হল সুক্কুর রেলস্টেশনের লাগোয়া পুরোনো একটি পুলিশ আউটপোস্ট বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হবে।
বোমা এনে দিলেন মঙ্গারাম নিজে। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম সে এই বোমা তিনি কোথায় পেলেন। তার উত্তরে মাঙ্গারাম বললেন সেই তথ্য আমাদের জানার প্রয়োজন নেই। বোমার যখনই দরকার পড়বে তিনি এনে দেবেন৷
লছমনদাসের কথা অনুযায়ী, পুলিশ আউটপোস্টের পাশাপাশি, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ঘড়িবাবাদ পুলিশ আউটপোস্ট, রেলওয়ে পুলিশ স্টেশন এবং বন্দর রোড পুলিশ ঘাট চত্বরে।
কিছু দিন বাদে, সবাই জড়ো হলেন মাঙ্গারামের ঘরে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে পরের বিস্ফোরণটা হবে কোর্টে। একটা বড় ব্যাগে বোমা নিয়ে কোর্ট অবধি যাওয়া হল কিন্তু সেখানকার এক কেরানির সন্দেহ তৈরি হওয়ায় বোমাটিকে অকেজো করে দেওয়া হল।
হেমু কালানী ধরা পড়লেন
লছমনদাস লিখেছেন, ২২ অক্টোবর, ১৯৪২ সালে হেমুর কাকা মাঙ্গারাম তাদের খবর দিলেন যে ব্রিটিশদের একটি মিলিটারি ট্রেন গোলাবারুদ বোঝাই করে সুক্কুর থেকে রোহরির পথে এগোবে। মাঙ্গারাম তাদের ওই ট্রেনটি লুট করার নির্দেশ দিলেন। আমরা সেই সময়ে প্রভাত টকিজে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বিরতির ঘন্টা বাজতেই বাইরে অপেক্ষা রত হেমু আর হরি এসে আমাদের এ খবর দিল।
আমরা সুক্কুরের পুরোনো গেট থেকে কিছুটা দূরে ট্র্যাকের ফিশপ্লেট থেকে বোল্টগুলো খুলতে শুরু করলাম। প্যাঁচকলটা ছোট থাকায় বারবার ঘুরছিল। আমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে বোল্টগুলো ঢিলে করতে লাগলাম এমন সময় এক সেনা আমাদের দিকে টর্চের আলো ফেলে জানতে চাইল আমরা কারা। তখনি আমরা চারজন- হরি, হাশবু, টিকম আর আমি লাফিয়ে পালালাম কিন্তু কেন জানি না হেমু নড়ল না। যথারীতি, পুলিশ তাকে নিয়ে গেল।
জেঠো লালওয়ানি লিখছেন যে আসলে বারবার হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে পাশের বিস্কুট ফ্যাক্টরির দারোয়ান পুলিশকে টেলিফোন করে খবর দেয়। অথচ, হেমুর ভাই টেকচাঁদ বলেছেন যে দারোয়ান স্বয়ং হেমুকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ রেকর্ড বলছে পুলিশ নিজেই এসে হেমুকে গ্রেফতার করে।
পরেরদিন সকালে খবরের কাগছে ঘটনাটি এই মর্মে প্রকাশিত হয় - কোয়েটাগামী ট্রেনকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা ব্যর্থ, একজন বিদ্রোহী গ্রেফতার হয়েছে
কমরেডদের নাম তিনি বলেন নি
অপরাধে যুক্ত কারোর নামই হেমু প্রকাশ করেন নি। বহু বছর বাদে লছমনদাস তার আত্মজীবনীতে দাবি করেন যে সেদিন হেমুর সাথে তিনি ও তার বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন।
লছমনদাস লিখছেন, "রেলওয়ে লাইনটা ১২ ফুট উঁচু ছিল ফলে আমরা চোট পেয়ে গিয়েছিলাম। হরি আর টিকম চলে গেল পুরোনো সুক্কুরে। আমি আর হাশো রোহরি ওব্দি এলাম নৌকায় এবং রাতের ট্রেন ধরে শিকারপুর পৌঁছলাম। আমরা খুব চিন্তায় ছিলাম- হেমু আমাদের নাম না বলে দেয়। পুলিশ তাকে নির্যাতন করেছে, প্রলুব্ধ করেছে সাথীদের নাম প্রকাশ করার জন্য কিন্তু হেমু বলেছে যে এই কাজ সে একাই করেছে।
কম্যুনিস্ট নেতা সোভো জ্ঞানচন্দানী তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে হেমু কালানীর নেতা ছিলেন পার্চো বিদ্যার্থী যিনি পরবর্তীতে ভারতে চলে যান ও কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন।
নবি বক্স খোসো ১৯৭৩ সালে এক নিবন্ধে লিখছেন, যে পুরোনো সুক্কুরের এক ট্যাঙ্কের পিছন থেকেই সমস্ত বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।
সেই বৈপ্লবিক কর্মশালার প্রধান নেতা ছিলেন হেমু কালানী, পার্চো বিদ্যার্থী ও তার ভাই আইঁসি বিদ্যার্থী। পার্চো বিদ্যার্থী এর আগে বিভিন্ন সামরিক কার্যকলাপের অংশ ছিলেন কাম্বার থেকে করাচির ক্লিফটন এলাকা পর্যন্ত।
(পরবর্তী সংখ্যায় সমাপ্য)
অনুবাদ : সৃজনী গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কিতা পাল
প্রকাশের তারিখ: ১৩-আগস্ট-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
