সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক হামলাকে পরাস্ত করুন!
এম এ বেবি
শাসক শ্রেণিগুলি বিশ্বাস করে যে ওরা আমাদের ক্লান্ত করে ফেলতে পারে। ওরা বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রের মেশিনারি আর মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বিক্ষোভের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দেবে। কিন্তু ওরা ভুল ভাবে। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে শ্রমিক শ্রেণি যখন এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিশ্বের কোনও শক্তিই সেই পরিবর্তনের জোয়ারকে ঠেকাতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট কম্বুকণ্ঠে ঘোষণা করবে যে, ভারতের মেহনতী মানুষ তাদের বহু কষ্টার্জিত অধিকারগুলি কর্পোরেট মুনাফার যূপকাষ্ঠে বলি দেবে না। এখন সময় এসেছে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর। দেশের প্রতিটি কোনায় উড়ুক রক্তিম পতাকা। শোষণ, ঘৃণা এবং বিভাজনের শক্তিগুলির বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে উঠুক শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য।

ভারতের শ্রমিক শ্রেণি আবারও প্রতিরোধের রণদুন্দুভি বাজিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি (সিটিইউজ) যৌথভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে অষ্টমবার বড়সড় ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মঘটে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা (এসকেএম) এবং কৃষি শ্রমিকদের সংগঠনগুলি। ফলে এই দিনটা নিছক প্রতিবাদের একটা দিনই হবে না, বরং এই সাধারণ ধর্মঘট হবে আরএসএস নেতৃত্বাধীন জমানার জনবিরোধী লুঠেরা নীতির বিরুদ্ধে শ্রমজীবী জনতার একটা বিশাল এবং জোরালো আওয়াজ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) [সিপিআই (এম)] এই ধর্মঘটকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে। এখন প্রত্যেক পার্টি সদস্য,পার্টি ক্যাডার এবং প্রত্যেক দরদীর দায়িত্ব হল এটা নিশ্চিত করা যাতে ধর্মঘটের এই আওয়াজ দেশজুড়ে অনুরণিত হয় প্রতিটি কারখানায়, প্রতিটি শস্যক্ষেত্রে, প্রতিটি অফিসে এবং প্রত্যেক পরিবারে।
সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিত
এখন আমরা প্রত্যক্ষ করছি ভারতের শ্রমিক, কৃষি–শ্রমিক ও কৃষকদের ওপর একটা নজিরবিহীন আক্রমণ। মোদি সরকার ‘সংস্কার’–এর নামে তাদের নয়া উদারবাদী অ্যাজেন্ডার বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে। যাকে তারা বলছে ‘ব্যবসা করার সুবিধা’, সেটা আসলে, কর্পোরেটদের কাছে ‘শোষণ করার সুবিধা’। গত এক শতাব্দী ধরে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রমিকেরা যে অধিকারগুলি অর্জন করেছিলেন, চারটি শ্রম কোড সেগুলিকে কবর দিয়ে দিতে চাইছে। এই শ্রম কোড জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে ভারতের মেহনতীদের নিরাপত্তাহীন, নিঃসহায় একদল শ্রমজীবীতে পরিণত করা যায়। সংগঠিত করার অধিকার, যৌথ দর কষাকষির অধিকার, বিধিবদ্ধ আট ঘণ্টার কাজের দিন— এসব কিছুকেই এখন গিলোটিনে ফেলে হত্যা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ন্যাশনাল মানিটাইজেসন পাইপলাইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিমা, ব্যাঙ্কিং, শক্তি এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে (পিএসইউ) নিলামে তোলার জন্য। এবং সেগুলি তুলে দেওয়া হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন ক্রোনি পুঁজিপতির হাতে। এ হল ভারতের জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভিত্তিকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে টুকরো করে ফেলা। এই সাম্প্রদায়িক–কর্পোরেট দুষ্ট চক্র আত্মপরিচিতির রাজনীতির বিষ ছড়িয়ে চলেছে শ্রমিকশ্রেণিকে বিভাজিত করার লক্ষ্যে। তাদের আশা, এক পক্ষকে অন্যের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়ে, তারা আমাদের জাতীয় সম্পদের লুন্ঠন অবাধে চালিয়ে যেতে পারবে।
সিপিআইএম এবং সংগ্রাম
সিপিআইএমের কাছে ট্রেড ইউনিয়নের কর্মসূচিতে সমর্থন জানানো মানে শুধুমাত্র সংহতি জানানো নয়। এটা আমাদের বিপ্লবী কর্তব্যের একটা জীবন্ত অঙ্গ। আমরা মনে করি যে, জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য সংগ্রাম পুঁজির বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে সংযুক্ত। ক্যাডার হিসাবে আমাদের অবশ্যই একথা বুঝতে হবে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট হল একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি যার লক্ষ্য শ্রম কোড বাতিল করা যাতে আমাদের আগের শ্রম আইনগুলি পুনর্বহাল করা যায় এবং সেগুলিকে আরও শক্তিশালী করা যায়। এবং একটা ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি চালু করা যায় যা এখনকার মুদ্রাস্ফীতির চাপকে সামলানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এটা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস। আমরা লড়াই করছি অসংগঠিত ক্ষেত্রের সবার জন্য পেনশন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবিতে। এই অসংগঠিত শ্রমিকেরাই হলেন ভারতের শ্রমজীবি জনতার ৯০ শতাংশের বেশি।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
এমজিএনআরইজিএ বাতিলের কথা ধরলে, এ হল বেকারি বিরোধিতা করার একটা সংগ্রাম। এই প্রকল্প পুনরায় চালু করার দাবির পাশাপাশি, আমরা চাই এমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক যাতে কাজের কাজ হয়, এবং সরকারি চাকরিতে পড়ে থাকা লক্ষ লক্ষ শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হয়। এই ধর্মঘট আমাদের কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ উপভোক্তাদের স্বার্থরক্ষার লড়াই । কারণ মোদি সরকারের চালু করা বীজ বিল এবং বিদ্যুৎ (সংশোধন) বিল কৃষিতে ও বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে এবং এমএসএমইর বিদ্যুৎ উপভোক্তাদের মধ্যে বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি করবে এবং দেশের সাধারণ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও বিপর্যয় ডেকে আনবে।
যখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক ও স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে ঢালাও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যখন বিমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই)এর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে এই ধর্মঘট ব্যাপকহারে বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে একটা গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ। আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত সেক্টরের ইউনিটগুলিকে (পিএসইউ) রক্ষা করা মানে ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করা। এই সমস্ত বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই সিপিআইএম সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ধর্মঘটের আহ্বানে। নির্দিষ্টভাবে এই কারণেই ধর্মঘটের দিনে পার্টির ক্যাডারদের খুব বেশি সংখ্যায় রাস্তায় নামানো হবে ধর্মঘটের সমর্থনে।
এই ধর্মঘটের সাফল্য পরিমাপ করা হবে শুধুমাত্র কারখানা ও অফিসের নৈঃশব্দের মাধ্যমে নয়, বরং পরিমাপ করা হবে রাজপথে এবং কৃষিক্ষেত্রে মেহনতী জনতার গর্জনের মাত্রা থেকে। রাজ্য কমিটি থেকে স্থানীয় শাখাগুলিকে পর্যন্ত — সব পার্টি ইউনিটকে ব্যাপক মাত্রায় মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য একেবারে ঝাঁপ দিতে হবে। কারখানা গেটে, নির্মাণ ক্ষেত্রে, আইটি পার্কে, কৃষি হাবে — সর্বত্র শ্রমিকদের কাছে আমাদের যেতে হবে এবং বুঝিয়ে বলতে হবে কীভাবে এই ধর্মঘট কাজ করবে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের স্বার্থে এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য। শহর ও গ্রামের গরিবদের প্রতিটি বাড়িতে আমাদের যেতে হবে। যখন ‘খেত মজদুর’, ‘মজদুর’ ও ‘কিসান’ একসঙ্গে নেমে পড়ে, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী সিংহাসনের ভিতও কেঁপে ওঠে। সুতরাং, দেশের শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকে আরও জোরদার করতে হবে এবং তা করতে এটা নিশ্চিত করে যে, আমাদের প্রচারে যেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের দাবিও সমন্বিত হয়। এই ধর্মঘট হল একটা সুযোগ যেখানে আমরা শ্রেণি ঐক্যের ওপর জোর দিতে পারি।
মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করে না। ধর্ম এগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে তোলে না। বিভাজনের বাক্যচ্ছটায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে আমাদের সাম্প্রদায়িক ফন্দিফিকিরের মুখোশও খুলে দিতে হবে। প্রতিটি পার্টি সদস্যকে অবশ্যই মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকতে হবে নিজের নিজের জায়গায় এবং তাদের এলাকায় ধর্মঘট যাতে সফল হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ধর্মঘটের দিন সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে পথে নামতে হবে। 
বিজয় অর্জনে এগিয়ে চলুন
শাসক শ্রেণিগুলি বিশ্বাস করে যে ওরা আমাদের ক্লান্ত করে ফেলতে পারে। ওরা বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্রের মেশিনারি আর মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বিক্ষোভের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দেবে। কিন্তু ওরা ভুল ভাবে। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে শ্রমিক শ্রেণি যখন এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিশ্বের কোনও শক্তিই সেই পরিবর্তনের জোয়ারকে ঠেকাতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট কম্বুকণ্ঠে ঘোষণা করবে যে, ভারতের মেহনতী মানুষ তাদের বহু কষ্টার্জিত অধিকারগুলি কর্পোরেট মুনাফার যূপকাষ্ঠে বলি দেবে না। ক্ষমতার মসনদের কাছে এটা আমাদের হুঁশিয়ারি — এই দেশের যা কিছু সম্পদ তার মালিক তারাই যারা এই সম্পদ উৎপাদন করে, যারা লুঠ করে এই সম্পদ তাদের নয়। এখন সময় এসেছে আমাদের উঠে দাঁড়ানোর। দেশের প্রতিটি কোনায় উড়ুক রক্তিম পতাকা। শোষণ, ঘৃণা এবং বিভাজনের শক্তিগুলির বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে উঠুক শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য।
এগিয়ে চলুন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটের দিকে! ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
সূত্রঃপিপলস ডেমোক্রেসি
ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস
প্রকাশের তারিখ: ০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
