Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ধ্বংস করা হচ্ছে মনরেগাকে

প্রভাত পট্টনায়েক
নির্ভেজাল সত্যটা হল, মনরেগাকে এখন ধ্বংস করা হচ্ছে। মনরেগার অধিকার ভিত্তিক, চাহিদা পরিচালিত যে চরিত্র, তাতে অর্থবরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে প্রকল্পটাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমনের নামে গরিব শ্রমজীবী মানুষের ওপর প্রযুক্তিগত আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় সবকিছুই হয়ে দাঁড়ায় নিছকই বাকচাতুরি।
Dismantling the MGNREGA

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (মনরেগা) ছিল সম্ভবত স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে জারি করা সবচেয়ে গরিমাপূর্ণ আইন। এই কর্মসূচির মানে শুধুমাত্র গরিবদের কাছে কিছু পৌঁছে দেওয়া নয়। এটা আগেকার ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’- এর মতো স্রেফ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী একটা প্রকল্প নয়। যত সীমাবদ্ধ অর্থেই হোক না কেন এই আইন কর্মসংস্থানের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এমজিএনআরইজিএ এর আওতায় কোনও পরিবার চাইলে সেই পরিবার পিছু বছরে সর্বোচ্চ ১০০ দিন কাজ দিতে হবে। এটা ছিল গোটা বিশ্বে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী কর্মসূচি এবং প্রবল অর্থনৈতিক চাপে থাকা গ্রামীণ পরিবারগুলিকে এই কর্মসূচি দিত কাঙ্ক্ষিত সহায়তা। 

যদিও এই অধিকারকে সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে যে আইনে এই অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, সেটা সংসদ পাস করেছিল বহু বিতর্ক ও আলোচনার পর। সেই আলোচনা শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আলোচনা চলেছিল সাংসদদের সঙ্গে সমগ্র সমাজের, যার মধ্যে ছিলেন অ্যাকাডেমিক জগতের অর্থনীতিবিদরা, জনস্বার্থের জন্য লড়াই করা বুদ্ধিজীবীরা, শ্রমিকদের এবং নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই আইন পাস হয়েছিল সর্বসম্মতভাবে যার ফলে এই আইনের ওপর একটা সাংবিধানিক সদৃশ নিশ্চিতির মর্যাদা আরোপিত হয়েছিল। সেই সময় এমনকী ইউপিএ সরকারের মধ্যেও এই আইনের বিরুদ্ধমত ছিল। তবে বামেরা, যারা সেই সময় সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছিল, তাদের চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনা গিয়েছিল। এবং তখন সব দল, এমনকী বিজেপিও এই আইনকে সমর্থন করেছিল। 

এই আইনের বলেই এসেছিল মনরেগা প্রকল্প। এই আইন শুধু গ্রামীণ গরিবদের নয়, শহুরে গরিবদেরও ভরসা হয়ে উঠেছিল। এটা স্পষ্ট হয়েছিল অতিমারির পর্বে। তখন শহুরে গরিব শ্রমজীবীরা বিপুল সংখ্যায় তাদের গ্রামে  ফিরে গিয়েছিলেন এবং এই স্কিমের আওতায় কর্মসংস্থান তাদের সহায়তা করেছিল। এই আইন চালু হওয়ায় সমাজে শ্রেণি শক্তির ভারসাম্যে বদল এসেছিল, তা সে যত সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা হিসাবে হোক না কেন। এর ফলে গ্রামের ভূমধ্যকারী ধনীরা এই ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে এই স্কিমে কাজের ব্যবস্থা থাকলে গ্রামাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধি ঘটবে। আসলে এর ফলে তারা আরও যে ভয় পেয়েছিল তা হল, এর জেরে শ্রমজীবী গরিবদের ওপর তাদের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং গরিবেরা তাদের ‘হাতের বাইরে চলে’ যাবে। মনরেগা প্রকল্পের বিরুদ্ধে শ্রেণি বিরোধিতা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল বিজেপিকে কেন্দ্র করে। কারণ বিজেপি ততদিনে ক্ষমতায় চলে এসেছে এবং তারা নিজেরা কোন্‌ শ্রেণির পক্ষে থাকবে তা প্রকাশ্যে জানানোর সাহস অর্জন করেছিল। তবে ভূমধ্যকারী ধনীদের প্রতি তাদের এই সমর্থনকে স্বাভাবিকভাবেই তারা আড়াল করে রেখেছিল ‘উন্নয়নের’ জন্য উদ্বেগের বুলির আড়ালে: তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, যে মূল্যবান সম্পদ কাজে লাগানো যেতে পারত ‘উন্নয়ন’ এর জন্য তাকে এই স্কিমের আওতায় এনে স্রেফ  তছনছ করা হচ্ছে এবং পুরো প্রকল্পটাই দুর্নীতিতে ভরা। শ্রেণি স্বার্থের দিক থেকে বিরোধিতা করা ছাড়াও বিজেপির  দিক থেকে বিরোধিতার আরও কারণ ছিল। বিজেপির মতো ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের অনুসারী (ফ্যাসিস্টিক) সংগঠন অনিবার্যভাবে জনগণের যে কোনও অধিকারেরই বিরোধী। তারা জোর দেয় শুধুই কর্তব্যের ওপর, অধিকারের ওপর নয়।

এরই পরবর্তীতে মনরেগা-র বিকল্প হিসাবে আনা হল নতুন একটা আইন। এবং সেই আইন পাস করানোর ব্যাপারটা ছিল স্রেফ কারসাজি: আইনটা তাড়াহুড়ো করে পেশ করা হল, সংসদে এ নিয়ে আলোচনা প্রায় হলই না, এবং তড়িঘড়ি ধ্বনি ভোটে পাস করিয়ে নেওয়া হল। এবং তা কার্যকর হচ্ছে ১ জুলাই থেকে। নতুন আইনে অনেকগুলি বদল আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আগে এই প্রকল্পে খরচের ৯০ শতাংশ বহন করত কেন্দ্র এবং রাজ্য বহন করত ১০ শতাংশ খরচ। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের খরচের অনুপাত ধরা হয়েছে ৬০:৪০ (ব্যতিক্রম হবে একমাত্র ‘বিশেষ বর্গের রাজ্যগুলির’ ক্ষেত্রে)। এই বদল একতরফাভাবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে এবং এবিষয়ে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হয়নি। বর্তমান নয়া উদারবাদী ব্যবস্থায় রাজ্য সরকারগুলি আর্থিক উৎসের সঙ্কটে জর্জরিত এবং সেই উৎসগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স যা চালু হয়েছে রাজ্যগুলি আরোপিত সেলস ট্যাক্সের বদলে, যে সেলস ট্যাক্স রাজ্যগুলি নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী আরোপ করতে পারত। এখন মনরেগা প্রকল্পের ৪০ শতাংশ খরচ বহন করতে বাধ্য করার মানে হল টাকার অভাবে প্রকল্পের কাজই বন্ধ হয়ে যাবে এবং এর সব দোষটাই চাপানো হবে রাজ্যের ঘাড়ে।

📲এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

নতুন আইনটিকে (বিভিজিআরজিএ) দেখে মনে হচ্ছে, এখানে সবাইকে মনরেগার আওতায় আনার বিষয়টি জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন দেওয়া হয়েছে এই আইনের চাহিদাভিত্তিক দিকটিকে, কারণ চাইলেই কাজ দিতে হবে এটা ছিল অধিকারের সমান। নতুন প্রকল্পটি কার্যকর হবে একমাত্র ঘোষিত গ্রামীণ এলাকায় (যদিও এধরনের এলাকাগুলিতে কর্মসংস্থানের সর্বোচ্চ সীমা ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন করা হয়েছে)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের মুখপাত্ররা এই বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। নতুন আইন পাশ হওয়ার অল্প কিছুদিন বাদেই তারা দাবি করেছেন, মনরেগার আওতায় সবাইকে কাজ দেওয়া হবে এবং চাইলেই কাজ দিতে হবে, এই ব্যবস্থাতেও কোনও বদল আনা হচ্ছে না। এবং চাইলেই কাজ দিতে হবে এটা বজায় থাকবে কাজ পাওয়ার দিন বাড়িয়ে ১০০ থেকে ১২৫ করার পরেও। 

তবে নতুন আইনে কী সুবিধা আছে বা নেই সেটা এখন অপ্রাসঙ্গিক। পুরনো প্রকল্পটিকে এখন যে ভাবে কার্যকর করা হবে, সেই জন্যই তা অপ্রাসঙ্গিক। আসলে পুরনো প্রকল্পটিকে এখন ক্রমাগত কাটছাঁট করে কার্যকর করা হবে। শিক্ষাব্রতী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের কনসর্টিয়াম লিবটেক ইন্ডিয়া ২০২৫-২৬ সালের জন্য যে রিপোর্ট তৈরি করেছে তা থেকেই এটা পরিষ্কার। 

লিবটেক ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মনরেগাতে আগে যত পরিবার কাজ পেতেন তাদের সংখ্যা ২০২৪-২৫ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ সালে ৮.২ শতাংশ কমেছে। এবং যতজন শ্রমিক কাজ পেয়েছেন তাদের সংখ্যাও কমেছে ৯.১ শতাংশ। শ্রমদিবসের সংখ্যা কমেছে আরও বেশি, প্রায় ২১.৫ শতাংশ। এর মানে হল, মনরেগার আওতায় একজন কর্মপ্রার্থীর পাওয়া গড় কাজের দিনের সংখ্যাটিও ভালরকম কমেছে। যদি সামগ্রিকভাবে কতজন কাজ পেয়েছে সেই হিসাব ধরা হয়, তাহলে দেখা যাবে ২০২৪-২৫ সালে মনরেগার আওতায় শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে ২৬৮ কোটি ৪৪ লক্ষ। অথচ ২০২৫-২৬ সালে সংখ্যাটা নেমে এসেছে মাত্র ২১০ কোটি ৭০ লক্ষে। লিবটেকের হিসাব হল, যদি ২০২৫-২৬ সালে পরিবার পিছু গড় শ্রম দিবস ২০২৪-২৫ এর মতোই থাকত, তাহলে প্রতিটি পরিবার ২০২৫-২৬ সালে ১৯৩৮ টাকা বেশি আয় করত। অন্য ভাবে বললে, এই পরিমাণ আয়টারই ক্ষতি হচ্ছে মনরেগা প্রকল্প কাটাছাঁট করার ফলে।

ধরে নেওয়া যাক যে ২০২৪-২৫ সালটা ছিল একটা অস্বাভাবিক বছর। তাই ওই বছরের সঙ্গে তুলনাটা করলে তার তেমন কোনও গুরুত্ব থাকে না। তাই আরও একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। এটা মনে করা উপযুক্ত হবে যে, ২০১৯-২০ সালে, অতিমারি শুরুর ঠিক আগে, মনরেগার আওতায় ২৬৫ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রমদিবস কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার মানে ২০২৫-২৬ সালে সেই কর্মসংস্থান যতটা কমল, তা শুধু ২০২৪-২৫ সালের নিরিখেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, প্রাক অতিমারি কালের ‘মানদণ্ডের’ আপেক্ষিকেও গুরুত্বপূর্ণ। 

কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৫-২৬ সালে যে কম কর্মদিবস সৃ্ষ্টি করা হয়েছিল, তা হয়েছিল কাজের চাহিদা কমার কারণে। সেটাও আবার ঘটেছিল ভারতের গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র হ্রাস পাওয়ায়। তবে এটা নেহাতই আজগুবি একটা যুক্তি। দারিদ্র কমার দাবিটা শুধুমাত্র অলীক কল্পনা মাত্র নয়। আসলে ২০২৫-২৬ সালে এমজিএনআরইজিএসের আওতায় কর্মপ্রার্থী নথিবদ্ধ পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ৩.২ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে যেখানে কর্মপ্রার্থী নথিবদ্ধ পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৯৮ লক্ষ, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছিল ১৫ কোটি ৪৬ লক্ষ। যদি কর্মসংস্থান পাওয়ার ব্যাপারে লোকের আদৌ আগ্রহ না থাকে, তাহলে কেন তারা বিশাল সংখ্যায় কাজ চেয়ে নাম নথিভুক্ত করবে। 

📌 আরও পড়ুন: দুর্দশার কবলে মনরেগা শ্রমিকরা

কর্মসংস্থান যে হ্রাস পেয়েছিল সেজন্য দুটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম, মনরেগাতে বাজেট বরাদ্দ ৫ শতাংশ কমানো হয়েছিল।অথচ এর আগে মজুরি বাবদ ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ছিল। এবং তা সবচেয়ে আগে মেটানোর কথা। কম বরাদ্দ ও বকেয়া মেটানোর টাকাও নেই মানে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থেই টান পড়েছে। আর টাকার অভাবটাই কম কর্মসংস্থানের চেহারায় আত্মপ্রকাশ করেছে। মনরেগার অধিকার ভিত্তিক, চাহিদা পরিচালিত যে চরিত্র, তাতে অর্থবরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে প্রকল্পটাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। যদি এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অপ্রতুল হয়,এবং সে জন্য কোনও বছরের মজুরি যদি দেওয়া না হয়, কিংবা বরাদ্দ অর্থ যদি বকেয়া মজুরি দিতে খরচ হয়ে যায়, তাহলে যত কাজের চাহিদা রয়েছে তত কাজ দেওয়া হয় না। এমনকী সেই বছরে কাজ কমানো হয়। তার মানে কার্যকর বাধা হল প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়া, এবং বাস্তবে সেটাই হয়েছে। 

দ্বিতীয় কারণ হল, ‘দুর্নীতি’ এড়ানোর অজুহাতে পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসা এবং এর মানে দাঁড়ায় কার্যত এক বিরাট সংখ্যক শ্রমিকের নাম বাদ দেওয়া। বাধ্যতামূলক আধারভিত্তিক টাকা মেটানোর ব্যবস্থা এবং অনলাইনে হাজিরার মানে যারা ই-কেওয়াইসির কাজ করে উঠতে পারেননি তেমন বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের নাম বাদ যাওয়া। 

এখানে আমরা দেখছি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের মতো একটি ঘটনা, যার মাধ্যমে সম্প্রতি কয়েক লক্ষ লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসআইআরে ‘অনুপ্রবেশকারী’দের নাম ভোটার তালিকার বাইরে রাখার অজুহাতে, এমন প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে যাতে গণ হারে নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মনরেগাতেও ‘দুর্নীতি’ দমনের নামে এমন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে তাতে বিপুল সংখ্যক গরিব শ্রমজীবীদের কাছে যা অধিকার হিসাবে বিবেচিত, তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার (নির্বাচন কমিশন যাদের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে) এই প্রযুক্তিকে ব্যবহারের কৌশল আয়ত্ত করেছে যার সাহায্যে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যায় এবং সেটা অবশ্যই এক নতুন উদ্ভাবন। 

ভিবিজিআরজিএতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অর্থ বরাদ্দের যে ছাঁদ এখন নিয়ে আসা হয়েছে তা রাজ্যগুলির পক্ষে মেনে চলা কঠিন, এবং ‘দুর্নীতি’ দমনের নামে গরিব শ্রমজীবী মানুষের ওপর প্রযুক্তিগত আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতা সর্বজনীন হোক বা না হোক, ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়া হোক বা হোক, নতুন আইনের আওতায় সবকিছুই হয়ে দাঁড়ায় নিছকই বাকচাতুরি। নির্ভেজাল সত্যটা হল, মনরেগাকে এখন ধ্বংস করা হচ্ছে। 

ঋণ: পিপলস ডেমোক্রেসি
ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ১৭-মে-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৫ টি নিবন্ধ
১৭-মে-২০২৬

১৫-মে-২০২৬

০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫