Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্রমিকশ্রেণির ভূমিকা (২)

আর কারুমালাইয়ান
এই পর্বে সম্ভবত সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হল ১৯৪৬ সালে নৌবিদ্রোহের প্রতি সংহতি জানানোর লক্ষ্যে বোম্বের শ্রমিকদের ধর্মঘট ও হরতাল। ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই থেকে তিন লক্ষ শ্রমিক কারখানায় কাজ বন্ধ করে দেন। এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছিল সোশালিস্ট পার্টিও। পুলিশ বাধা দেওয়ায় শান্তিপূর্ণ সভা ও বিক্ষোভ হিংসাত্মক সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়। রাস্তায় রাস্তায় গড়ে তেলা হয় ব্যারিকেড। সেখানে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে শ্রমিকদের তীব্র লড়াই শুরু হয়। শহরের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটেলিয়নকে ডাকতে হয়। ওই দিনের সঙ্ঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন বিক্ষোভকারী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
working class and India's freedom fight

পর্ব ২

অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা

১৯১৫ সালের হোম রুল লিগ আন্দোলন থেকে শুরু করে এবং ১৯১৯ সালে রাওলাট সত্যাগ্রহের ধারাবাহিকতার মধ্যে দিয়ে ১৯২০‌–২২ সালের অসহযোগ এবং খিলাফৎ আন্দোলনের পর্বে জাতীয় আন্দোলন আবার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৯ থেকে ১৯২২ সালের পর্বে শ্রমিকশ্রেণির কাজকর্মে সক্রিয়তার পুনরুত্থান দেখা দিল। নিজেদের শ্রেণির অধিকার রক্ষায় শ্রমিক শ্রেণি এবার নিজেদের জাতীয় স্তরের সংগঠন গড়ে তুলল। এই পর্বেই জাতীয় রাজনীতির মূল ধারায় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করল শ্রমিকশ্রেণি। 

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ১৯২০ সালে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (‌এআইটিইউসি)‌–এর‌ প্রতিষ্ঠা। বোম্বের শ্রমিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন লোকমান্য তিলক। এআইটিইউসি গঠনের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনিই। এআইটিইউসির প্রথম সভাপতি হলেন পাঞ্জাবের বিখ্যাত চরমপন্থী নেতা লালা লাজপত রায় এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন দেওয়ান চমন লাল। পরবর্তীকালে ভারতের শ্রমিক আন্দোলনে তিনি হয়ে ওঠেন একটি অত্যন্ত সুপরিচিত নাম। এআইটিইউসি–র প্রথম সভায় সভাপতির ভাষণে লালা লাজপত রায় জোর দিয়ে একথা বলেছিলেন যে, ‘‌জাতীয় স্তরে নিজেদের সংগঠিত করে তোলার জন্য ভারতের শ্রমিকদের আর দেরি করা চলবে না। সংগঠিত হও, বিক্ষোভ–আন্দোলনে নামো এবং শিক্ষিত করে তোলো — এটাই এখন দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। আমাদের অবশ্যই শ্রমিকদের সংগঠিত করতে হবে এবং তাদের শ্রেণি সচেতন করে তুলতে হবে।’‌ তিনি বললেন, এবিষয়ে সকলেই সচেতন যে ‘‌সামনের আরও কিছুদিনের জন্য ’ শ্রমিকদের দরকার হবে বুদ্ধিজীবীদের সাহায্য, পথনির্দেশ এবং সহযোগিতা। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যাঁরা শ্রমিকদের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত, তাঁরা সেই সহযোগিতা করবেন। তবে একইসঙ্গে লালা লাজপত রায় বললেন, ‘‌ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে থেকেই তাদের নেতাদের খুঁজে নেবেন শ্রমিকেরা।’   

এই সময় এআইটিইউসির ইস্তাহারে শ্রমিকদের উদ্দেশে আর্জি জানানো হল যে, শুধুমাত্র শ্রমিকদের নিজেদের সংগঠিত করলেই চলবে না, একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতেও তাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে। ইস্তাহারে লেখা হল, ‘ভারতের শ্রমিক ভাইয়েরা! ‌আপনাদের দেশের নেতারা স্বরাজ চাইছেন। কিন্তু তাঁরা আপনাদের হিসাবের একেবারে বাইরে রেখে কাজ করে যাবেন এটা অবশ্যই করতে দেওয়া যাবে না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া আপনাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার কোনও দাম নেই। তাই জাতীয় মুক্তির জন্য আন্দোলনকে কোনওভাবেই অবহেলা করা চলবে না। আপনারা এই আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি এই আন্দোলনকে আপনারা অবহেলা করেন তাহলে তা আপনাদের মুক্তিকেই বিপন্ন করে তুলবে।‌’‌

ভারতে লাজপত রায়ই প্রথম ব্যক্তি যিনি পুঁজিবাদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদকে সম্পর্কিত করে দেখেছিলেন এবং এই জোটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শ্রমিকশ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ১৯২০ সালের ৭ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন: ‘‌সংগঠিত পুঁজির শক্তিগুলি ভারতকে শোষণ করে একেবারে নিঃশেষিত করে ফেলেছে এবং দেশ এখন মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। সামরিকবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ হল পুঁজিবাদের যমজ সন্তান। এরা তিনের মধ্যে এক, আবার একের মধ্যে তিন। ওই গাছের ছায়া, ওই গাছের ফল, ওই গাছের ছাল— সবকিছুই বিষাক্ত। সম্প্রতি ওদের জব্দ করার মতো একটা প্রতিষেধক পাওয়া গেছে এবং সংগঠিত শ্রমিকই হল সেই প্রতিষেধক।’‌  

ভারতীয় উদ্যোগগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতি জাতীয়তাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গী যে ক্রমশ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলেছে, সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লাজপাত রায় বলেন, ‘‌ একথা আমাদের প্রায়ই বলা হয় যে ম্যাঞ্চেস্টার এবং জাপানের সঙ্গে আমাদের সফল প্রতিযোগিতায় নামতে হলে, ভারতেও পুঁজিকে উঁচু হারে মুনাফা করতে দিতে হবে এবং তা করার আবশ্যিক পূর্বশর্ত হল সস্তা শ্রম.....‌এই যুক্তির বৈধতা মানতে আমরা রাজি নই.....‌দেশপ্রেমের জন্য যদি আবেদন করা হয় তা গরিব ও বড়লোক দুপক্ষকেই সমানভাবে প্রভাবিত করবে, বস্তুত, গরিবদের চেয়ে বড়লোকদেরই বেশি প্রভাবিত করা উচিত.....‌নিশ্চিতভাবে .....‌ভারতীয় শিল্প গড়ে তোলার পথ .....‌শুধুমাত্র শ্রমিকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে.....‌ নয়। .....ভারতীয় পুঁজিপতিদেরও অবশ্যই অর্ধেক পথ এগিয়ে এসে শ্রমিকদের মুখোমুখি হতে হবে এবং যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য অনুপাতে দুপক্ষই মুনাফা ভাগাভাগি করে নেবে— এরই ভিত্তিতে বোঝাপড়ায় পৌঁছতে হবে .....তবে যদি ভারতীয় পুঁজি শ্রমিকদের প্রয়োজনকে অগ্রাহ্য করতে চায় এবং শুধুই নিজেদের বিপুল মুনাফার কথা ভাবে, তাহলে ভারতীয় পুঁজি যেন আশা না করে যে শ্রমিকেরা তাদের সঙ্গে কোনওরকম সহযোগিতা করবে কিংবা সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি কোনওরকম সহানুভূতি দেখাবে।’  

একইভাবে, ঝরিয়ায় এআইটিইউসির দ্বিতীয় অধিবেশনে, দেওয়ান চমনলাল স্বরাজের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পেশ করে বলেন, যে এই স্বরাজ পুঁজিপতিদের স্বরাজ নয়, আমরা চাইছি শ্রমিকদের স্বরাজ। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘‌এই ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ঘোষণা করছে যে ভারতের জনগণের নিজেদের জন্য স্বরাজ অর্জন করার সময় এসে গেছে। স্বরাজ ও শ্রমিকদের মধ্যে কোনওরকম সম্পর্ক নেই— এই ভুয়ো প্রচারের যোগ্য প্রত্যুত্তর দিয়ে চমনলাল প্রস্তাবটি পেশ করে বলেন, যারা বিলাসিতায় ডুবে আছে, যারা মোটর গাড়ি চেপে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে কিংবা সরকারি অতিথিশালায়‌ গিয়ে খানাপিনা করছে, স্বরাজ তাদের জন্য নয়। স্বরাজ দরকার সেই সব লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য যারা তাদের শ্রম দিয়ে ধনীদের সম্পদ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

লাজপত রায় ছাড়াও সেই সময়ের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জাতীয়তাবাদী নেতা এআইটিইউসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছিলেন। এআইটিইউসির তৃতীয় ও চতুর্থ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিলেন সি আর দাস। অন্যান্য বিশিষ্টদের মধ্যে ছিলেন সি এফ অ্যান্ড্রুজ, জে এম সেনগুপ্ত, সুভাষ বোস, জওহরলাল নেহরু এবং সত্যমূর্তি। ১৯২২ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের গয়া অধিবেশন এআইটিইউসির গঠনকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং এই সংগঠনের কাজে সহায়তা করার জন্য বিশিষ্ট কংগ্রেসিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল। 

গয়া কংগ্রেসে সি আর দাস সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই ‘‌শ্রমিক ও কৃষকদের সঙ্গে নিতে হবে. . .এবং তাদের সংগঠিত করতে হবে দুদিক থেকে - প্রথমত, তাদের নিজস্ব বিশেষ স্বার্থের দিকে লক্ষ রেখে শ্রমিক–কৃষককে সংগঠিত করতে হবে। এবং দ্বিতীয়ত, উচ্চতর আদর্শের দিক থেকেও তাদের সংগঠিত করতে হবে। এর লক্ষ্য হবে শ্রমিক–কৃষকদের বিশেষ স্বার্থ পূরণ করা। আবার তাদের নিজেদের স্বার্থের লড়াইকে স্বরাজ অর্জনের লড়াইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া।‌’‌ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি এমনটা না ঘটে,তাহলে ‘‌স্বরাজের দাবি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে’‌ শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠন গড়ে উঠবে এবং সেই সংগঠন ‘‌শ্রেণিসংগ্রাম ও শ্রেণির বিশেষ স্বার্থের যুদ্ধের’‌ পথে এগিয়ে যাবে।

পরিবর্তিত এই যে রাজনৈতিক আবহ শ্রমিকশ্রেণি তাতে সাড়া দিল চমৎকারভাবে। ১৯২০ সালে ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল ১২৫টি এবং তাদের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ২,৫০,০০০। এই সব ইউনিয়নের বেশির ভাগই গড়ে উঠেছিল ১৯১৯–২০ সালে।  জাতীয় স্তরে বড় বড় রাজনৈতিক ঘটনায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষ্যণীয়। ১৯১৯-এর এপ্রিলে পাঞ্জাবে নির্যাতন এবং গান্ধীজির গ্রেফতারের পর আমেদাবাদ–সহ গুজরাটের অন্যান্য এলাকায় শ্রমিকশ্রেণি ধর্মঘট, বিক্ষোভ ও জমায়েতের ডাক দেয়। আমেদাবাদে সরকারি ভবনে আগুন লাগানো হয়, ট্রেন লাইনচ্যুত করা হয়, টেলিগ্রাফের তার কেটে দেওয়া হয়। সরকারি দমন–পীড়নে অন্তত ২৮ জন নিহত হন এবং ১২৩ জন আহত হন। বোম্বে ও কলকাতাতেও ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে শ্রমিক আন্দোলন।  

অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে রেলওয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন মিলে গিয়েছিল উপনিবেশ বিরোধী সাধারণ গণ সংগ্রামের ধারায়। ১৯১৯ এবং ১৯২১ সালের মধ্যে, বেশ কয়েকবার, রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে  আন্দোলনের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন রেলের শ্রমিকেরা। সমর্থন করেছিলেন অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলনকেও। ১৯১৯-এর এপ্রিলে উত্তর–পশ্চিম রেলের শ্রমিকেরা সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। দেশের উত্তরাঞ্চলে এই আন্দোলন ভালই সাড়া পেয়েছিল। লাজপত জগ্গা দেখিয়েছেন যে, দেশের বিরাট অংশ জুড়ে রেলশ্রমিকদের কাছে গান্ধীজি হয়ে উঠেছিলেন ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। ঠিক যেমন ভারতীয় রেল হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতীক, ‘‌ব্রিটিশ রাজের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইচ্ছাশক্তির প্রতীক’‌। 

১৯২১ সালের নভেম্বরে, প্রিন্স অফ ওয়েলস–এর ভারতে আগমন দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে বয়কটের ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস। সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। সেই সময় বোম্বের সুতাকলগুলি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ১,৪০,০০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসে সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  প্রিন্স অফ ওয়েলসকে যাঁরা স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন সেই সব ইউরোপীয় ও পার্শিদের ওপর তাঁরা হামলা করেন। এই সব ঘটনাবহুল বছরগুলিতে যে চেতনা ও তাগিদ শ্রমিকদের আন্দোলিত করেছিল, জাতীয়বাদী অভ্যুত্থান এবং শ্রমিকদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষার মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা সবচেয়ে ভালভাবে ফুটে উঠেছে অর্জুন আত্মারাম আলওয়ের কথায়: ‘‌যখন আমাদের সংগ্রাম. . .এইভাবে এগিয়ে চলেছিল, তখন সারা দেশজুড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের কাড়া–নাকাড়া বেজে উঠেছিল।  আমরা, ভারতীয়েরা, নিজেদের শাসন  নিজেরাই করবে – এই দাবিতে  বিরাট আকারে বিক্ষোভ শুরু করল কংগ্রেস। সেই সময়ে আমরা, শ্রমিকেরা, বুঝতে পেরেছিলাম যে, স্বরাজ বলতে যা চাওয়া হচ্ছে তার মানে ঠিক এটাই। এর মানে আমদের ঋণের বোঝা আর থাকবে না, মহাজনী নিপীড়ন বন্ধ হবে, আমাদের মজুরি বাড়বে, শ্রমিকদের ওপর মালিকদের অত্যাচার অর্থাৎ আমাদের ওপর যে ভাবে লাথি ও ঘুষি নেমে আসে, তা আইন করে বন্ধ করা সম্ভব হবে। শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের অবসান হবে। এই সব, এবং এধরনের আরও অনেক ভাবনা আমাদের শ্রমিকদের মনে টগবগিয়ে ফুটতে থাকে, এবং আমাদের মধ্যে থেকে অনেক ভাল ভাল শ্রমিক এবং আমি নিজেও, অসহযোগ আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নাম নথিভুক্ত করি।’‌ একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, অর্জুন আত্মারাম আলওয়ে ছিলেন বোম্বের সুতোকলের একজন নিরক্ষর শ্রমিক এবং পরে তিনি শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেছিলেন।   

বর্তমানে ভারতে দক্ষিণপন্থীরা উগ্র–জাতীয়তাবাদী অবস্থানে আরও কট্টর হয়ে উঠছে। সেই পরিপ্রক্ষিতে  অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু মহাসভার ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যাপক সুমিত সরকারের উদ্ধৃতি ব্যবহার করা এখানে আরও প্রাসঙ্গিক হবে। তাঁর কথায়, ‘‌১৯১৫ সালে হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় হিন্দু মহাসভার সূচনা করেছিলেন মদনমোহন মালব্য। সঙ্গে ছিলেন পাঞ্জাবের কয়েকজন নেতা। অসহযোগ আন্দোলনের গোটা বছরগুলো জুড়ে কার্য অস্তিত্বই ছিল না হিন্দু মহাসভার।’‌ 

 আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা

১৯২০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন প্রবণতাগুলি এক জায়গায় এসে সংহত হল। এবং বামপন্থীরা জাতীয় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করল। দেশের বিভিন্ন অংশে বেড়ে ওঠা কমিউনিস্ট গোষ্ঠীগুলি ১৯২৭ সালের গোড়ার দিকেই নিজেদের ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টি (‌ডব্লিউপিপি)‌–তে সংগঠিত করেছিল। এই প্রয়াসের নেতৃত্বে ছিলেন এস এ ডাঙ্গে, মুজফফর আহমেদ, পি সি যোশী এবং সোহন সিং জোশ প্রমুখ। ডব্লিউপিপি কংগ্রেসের মধ্যেই একটা বামপন্থী ধারা হিসাবে সক্রিয় থাকায়, প্রাদেশিক এবং সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেস সংগঠনের মধ্যে এই দলের শক্তি দ্রুত বেড়ে উঠল। 

ডব্লিউপিপির অধীনে বৃহত্তর বামপন্থী ধারার ভিতরে থেকে কাজ করার মধ্যে দিয়ে ট্রেড ইউনিয়গুলিতে কমিউনিস্টদের প্রভাব, যা ১৯২৭ সালের গোড়ার দিকে ছিল প্রান্তিক চরিত্রের, তা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠল ১৯২৮ সালের শেষদিকে। বোম্বের সুতাকল শ্রমিকেরা ঐতিহাসিক ৬ মাসের ধর্মঘট করেছিলেন ১৯২৮ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর জেরে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বাধীন গিরনি কামগার ইউনিয়ন (‌জিকেইউ)‌ একটা বিশেষ জায়গা করে নিল। এই ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা ৩২৪ থেকে ১৯২৮ সালের শেষে গিয়ে দাঁড়াল ৫৪ হাজারে। কমিউনিস্টদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল বাংলা ও বোম্বের রেল, চটকল, পুরসভা, কাগজ কল ইত্যাদির শ্রমিকদের মধ্যে। ছড়িয়ে পড়ল মাদ্রাজে বার্মা অয়েল কোম্পানির শ্রমিকদের মধ্যেও। ১৯২৮ সালের ঝরিয়া অধিবেশনের সময় এআইটিইউসিতেও, বামেদের বৃহত্তর ধারাসহ কমিউনিস্টরা একটা আধিপত্যকারী অবস্থানে পৌঁছে গেল। এর ফলে এন এম জোশীর মতো লোকেদের নেতৃত্বে একটা কর্পোরেটবাদী প্রবণতা গড়ে উঠল। এরই ফলশ্রুতিতে এআইটিইউসির পরবর্তী অধিবেশনে, যেখানে নেহরু সভাপতিত্ব করেছিলেন, সেই অধিবেশনে যোশীরা এআইটিইউসিতে ভাঙন ধরিয়ে বেরিয়ে গেলেন। ১৯২৮ সালের শেষদিকে সরকার উদ্বিগ্ন অবস্থায় এই মর্মে রিপোর্ট পাঠাতে থাকে যে, ‘‌কমিউনিজমের ঢেউ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এমন কোনও সরকারি পরিষেবা বা শিল্প নেই, যা সম্পূর্ণত বা আংশিকভাবে এই ঢেউয়ে প্রভাবিত হয়নি।’‌ ১৩

কমিউনিস্ট এবং র‍্যাডিকাল জাতীয়তাবাদীদের প্রভাবে থাকা শ্রমিকেরা সারা দেশজুড়ে ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে বিরাট সংখ্যায় ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে এআইটিইউসি সাইমন কমিশন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং বহু সংখ্যক শ্রমিক বয়কটের বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া মে দিবস, লেনিন দিবস, রুশ বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপনসহ আরও অনেক বিষয়ে শ্রমিকেরা অসংখ্য সভা সংগঠিত করেছিলেন। 

কংগ্রেসের অনেক আগেই শ্রমিকশ্রেণি সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পাশ করিয়ে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছিল। ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় শ্রমিকশ্রেণি তাদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও প্রজ্ঞার নিদর্শন হিসাবে একটা নজরকাড়া বিক্ষোভ সংগঠিত করেছিল। তখন ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টস পার্টির নেতৃত্বে হাজার হাজার শ্রমিক কংগ্রেসের অধিবেশনে গিয়ে হাজির হন, তাঁরা অধিবেশনের মণ্ডপ দুঘণ্টার জন্য দখল করে নেন এবং পূর্ণ স্বরাজের (‌পূর্ণ স্বাধীনতা)‌ প্রস্তাব পাশ করান। 

 শ্রমিকশ্রেণির ক্রমবর্ধমান জঙ্গি মনোভাব এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখে সরকার রীতিমতো চিন্তিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থী ধারা এক জায়গায় এসে যাওয়ায়। তখন সরকার শ্রমিক আন্দোলনের ওপর দুদিক থেকে হামলা নামিয়ে আনে। একদিকে সরকার জারি করে জন নিরাপত্তা আইন এবং ট্রেড ডিসপিউট অ্যাক্টের মতো দমনমূলক আইনি ব্যবস্থা। এবং অন্যদিকে এক ঝটকায় গ্রেফতার করে ফেলে শ্রমিক আন্দোলনের র‍্যাডিকাল নেতাদের প্রায় সবাইকেই, এবং তারপরেই গ্রেফতার হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিখ্যাত মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা। 

সারা দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যায় শ্রমিকেরা আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। শোলাপুরের সুতাকল শ্রমিক, করাচির ডক শ্রমিক, কলকাতার পরিবহণ ও মিল শ্রমিক, মাদ্রাজের মিল শ্রমিকেরা — এই আন্দোলনের সময় বীরের মতো সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে নেমে পড়েন। শোলাপুরে ব্রিটিশ বিরোধী মিছিল থামাতে পুলিশ গুলি চালালে তার প্রতিবাদে ৭ থেকে ১৬ মের মধ্যে সুতাকাল শ্রমিকেরা তুলকালাম বাধিয়ে দেন। সরকারি অফিস, আদালত, থানা এবং রেলস্টেশনের ওপর হামলা হয় এবং বিদ্রোহীরা কার্যত কয়েকদিনের জন্য শহরের প্রশাসন নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। শহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দিতে শেষ পর্যন্ত সরকারকে মার্শাল ল  জারি করতে হয়। বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অনেককে দীর্ঘকালের জন্য কারাবাসে পাঠানো হয়। 

বোম্বেতে আইন অমান্য আন্দোলনে কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘‌শ্রমিক ও কৃষকেরা হলেন কংগ্রেসের হাত আর পা’‌। সেই আন্দোলনের সময় ১৯৩০–এর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, যাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন জিআইপি রেলের, তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন। যেদিন গান্ধীজি লবণ আইন ভঙ্গ করলেন, সেই ৬ এপ্রিল জিআইপি রেলওয়েমেন্স ইউনিয়ন শুরু করে এক নতুন ধরনের সত্যাগ্রহ। সেই দিন দলে দলে শ্রমিকেরা পৌঁছে যান নর্থ বোম্বে মফসসল স্টেশনে এবং সামনে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে লাইনের ওপর শুয়ে পড়লেন। এরপর লাইন অবরোধ মুক্ত করতে পুলিশ গুলি চালায়। ব্যাপক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ৬ জুলাই ‘গান্ধী দিবস’ পালন করার ডাক দেয়। ওই দিন হরতালে  অংশ নেন ৫০ হাজার মানুষ এবং ৪৯টি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।  

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা

১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এবং গোটা বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম যারা ১৯৩৯ এর ২ অক্টোবর যুদ্ধ বিরোধী ধর্মঘটে সামিল হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল বোম্বের শ্রমিকশ্রেণি। সেই ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন ৯০ হাজার শ্রমিক। যুদ্ধ প্রচেষ্টা যাতে কোনওরকম ভাবে ব্যাহত না হয় সেবিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল সরকারের এবং সেজন্য সরকার তীব্র নিপীড়ন নামিয়ে এনেছিল। সেসব অগ্রাহ্য করেই নানা অর্থনৈতিক বিষয়ে সারা দেশে অনেকগুলি ধর্মঘট হয়েছিল। 

ভারত ছাড়ো আন্দোলনও শ্রমিকশ্রেণিকে স্পর্শ করেছিল। ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করার পরই ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট গান্ধীজি ও অন্য নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে সারা দেশজুড়ে ধর্মঘট ও হরতাল সংগঠিত করা হয়, যা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলেছিল। এইসব ধর্মঘট ও হরতালে সামিল হয়েছিলেন দিল্লি, লখনউ, কানপুর, বোম্বে, নাগপুর, ঔরঙ্গাবাদ, জামশেদপুর, মাদ্রাজ, ইন্দোর ও বাঙ্গালোরের শ্রমিকেরা। সেই সময় টানা ১৩ দিন বন্ধ ছিল টাটা স্টিল প্ল্যান্ট। সেই ধর্মঘটের স্লোগান ছিল, জাতীয় সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যান্টে কাজ শুরু করা হবে না। আমেদাবাদের সুতাকলে ধর্মঘট চলেছিল প্রায় সাড়ে তিন মাস। এমনকী জাতীয়তাবাদী মনোভাবে উজ্জীবিত মিল মালিকরাও এই ধর্মঘটে সহযোগিতা করেছিল।

আইএনএর বিচার এবং নৌবিদ্রোহে শ্রমিকদের ভূমিকা

১৯৪৫–৪৭ সালের মধ্যে শ্রমিকশ্রেণির সক্রিয়তা দুর্দম বেগে পুনরুজ্জীবিত হয়। বিশাল সংখ্যায় শ্রমিকেরা যুদ্ধ–পরবর্তী রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। আইএনএর বিচারের ইস্যুতে দেশের ছোটবড় বহু শহর ও নগরে (‌ বিশেষ করে কলকাতায়)‌ অসংখ্য সভা ও বিক্ষোভে শ্রমিকেরা অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৫ সালের শেষদিকে বোম্বে ও কলকাতার ডক শ্রমিকেরা ইন্দোনেশিয়াগামী জাহাজে মালপত্র তুলতে অস্বীকার করে। কারণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম দমনের জন্য সেনাবাহিনীর রসদ ওই জাহাজে পাঠানো হচ্ছিল। 

এই পর্বে সম্ভবত সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হল ১৯৪৬ সালে নৌবিদ্রোহের প্রতি সংহতি জানানোর লক্ষ্যে বোম্বের শ্রমিকদের ধর্মঘট ও হরতাল। ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই থেকে তিন লক্ষ শ্রমিক কারখানায় কাজ বন্ধ করে দেন। এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছিল সোশালিস্ট পার্টিও। পুলিশ বাধা দেওয়ায় শান্তিপূর্ণ সভা ও বিক্ষোভ হিংসাত্মক সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়। রাস্তায় রাস্তায় গড়ে তেলা হয় ব্যারিকেড। সেখানে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে শ্রমিকদের তীব্র লড়াই শুরু হয়। শহরের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটেলিয়নকে ডাকতে হয়। ওই দিনের সঙ্ঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন বিক্ষোভকারী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। 

একথা সব সময় মনে করানো হয় না যে, ব্রিটিশ শাসনকে টিকিয়ে রাখতে মুসলিম লিগের চেয়ে হিন্দু সাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের ভূমিকা কিছু কম ছিল না। মদন মোহন মালব্যই ছিলেন ‘‌হিন্দ–হিন্দি–হিন্দু’‌র উদ্গাতা। তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের প্রাণপণ বিরোধিতা করেছিলেন। আবার পরবর্তীকালে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, যে জনসঙ্ঘ আসলে বিজেপির পূর্বসূরি, ১৯৪২ সালের আগস্টে তিনি  ছিলেন বাংলার মন্ত্রী। সেটা ছিল এমন এক সময় যখন ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে ব্রিটিশ রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছিল। 

এখন দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়ার শক্তিগুলি তাদের সর্বশক্তি দিয়ে নেমে পড়েছে ‘‌আধুনিক ভারত ভাবনা’‌–‌কে ধ্বংস করার জন্য। ‘‌আধুনিক ভারত ভাবনা’‌ বিকশিত হয়েছিল ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে আমাদের মহান সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এবং স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের যৌথ প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে। আধুনিক ভারত ভাবনায় আমাদের দেশকে দেখা হয় গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণতন্ত্র হিসাবে। প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের অস্তিত্বই হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলন বিকশিত হওয়ার শর্ত। যেসব শক্তি পূর্বতন ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল তারাই পরে হয়ে ওঠে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ বিশ্বস্ত মিত্র। তাদের নীতি হল, তাদের কর্পোরেট প্রভুদের সেবা করা। যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকা পালন করেছিল সেই সব বিশ্বাসঘাতক এবং তাদের দেশবিরোধী পরিকল্পনাগুলির স্বরূপ উন্মোচন করাটা আমাদের দায়িত্ব। 


প্রথম প্রকাশ: অগাস্ট ২০২২, ওয়ার্কিং ক্লাস  
ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস 


প্রকাশের তারিখ: ৩১-মে-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

লেখাটা ভালো লাগলো ধন্যবাদ
- UTPAL KUMAR GHOSH, ০৪-ডিসেম্বর-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৩ টি নিবন্ধ
০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫

০৮-জুলাই-২০২৫

০৭-জুলাই-২০২৫