সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্রমিকশ্রেণির ভূমিকা (১)
আর কারুমালাইয়ান
ভারতে ব্রিটিশরাজ এই বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রত্যুত্তর দেয় আনাড়ির মতো। ১৯১৭-এর মাঝামাঝি সময়ে ভাইসরয় চেমসফোর্ড ভারতে ব্রিটিশ নীতির বদলের প্রয়োজনের কথা ব্রিটিশ সরকারের নজরে আনেন। একই বছর ই. এস. মন্টাগু ভারত রাষ্ট্রে সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালের ২০ অগাস্ট তথাকথিত দ্বায়িত্ববান সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি তৈরি করতে ভারতের জন্য তিনি একটি নতুন নীতির ঘোষণা করেন। মূল বিষয়গুলি যুক্ত করা হয় গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯১৯-এ। এই অ্যাক্ট, ‘মন্টাগু-চেমসফোর্ড রিফর্ম’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এই নীতি জনরোষের জোয়ার সামলানোর পক্ষে সামান্যই সাফল্য লাভ করেছিল।

পর্ব ১
ভারতে পুঁজিবাদের বিকাশের ফলে তৈরি হয় আধুনিক শ্রমিকশ্রেণি। শিল্পবিপ্লব ছিল এই পুঁজিবাদী বিকাশের পথপ্রদর্শক। শিল্পবিপ্লব যখন তার কেন্দ্রস্থল, ইংল্যান্ড, থেকে পৃথিবীর নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছিল, ভারত তখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ ছিল। ভারতে পুঁজিবাদের প্রথম উপাদানগুলি লক্ষ করা যায় উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। অর্থাৎ ১৮৫০ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে ভারতে আধুনিক শিল্পের ভিত তৈরি হতে শুরু করে, যার ফলে উদ্ভব ঘটে ভারতের আধুনিক শ্রমিকশ্রেণির। এভাবেই ভারতে পুঁজিবাদ, ও তার কবর খননকারী শ্রমিকশ্রেণি একই সঙ্গে জন্ম নিয়েছে।
এদেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানাবিধ শ্রমিক-গোষ্ঠীর সংগঠিত,ও আত্মসচেতন হয়ে ওঠার সঙ্গে, এবং একটি সর্বভারতীয় শ্রেণি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল সেসময়ের উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ভারতের জাতীয় আন্দোলনের বিস্তারলাভ, এবং ভারত নির্মাণের প্রক্রিয়া। কারণ ‘ভারতীয় জনগণ’-এর ধারণার গ্রহণযোগ্যতার আগে ‘ভারতীয় শ্রমিকশ্রেণি’-র ধারণার অস্তিত্ব ছিল না। ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কারণেই ভারতীয়ত্ব-এর ধারণার উদ্ভব হয়। এভাবেই, জৈবিক প্রক্রিয়ায় শ্রমিকশ্রেণি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অংশ হয়ে ওঠে।
পুঁজিবাদী সমাজে আধুনিক শ্রমিকশ্রেণির উদ্ভবের প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণের সময়ে মার্কস তাঁর ‘দি পভার্টি অফ ফিলসফি’ রচনায় লেখেন – “অর্থনৈতিক অবস্থা প্রথমে দেশের জনগণকে শ্রমিকে রূপান্তর ঘটিয়েছিল। পুঁজির দাপট জনগণের জন্য একই রকমের পরিস্থিতি, এবং একই রকমের স্বার্থ তৈরি করে। এভাবে জনগণ পুঁজির বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি হয়ে ওঠে, তবে তা কোনো শ্রেণির জন্য নয়। এই সংগ্রামে…এই জনগণ সংগঠিত হয়, এবং নিজেকে শ্রেণির-জন্য-শ্রেণি হিসাবে গড়ে তোলে। যে-স্বার্থের পক্ষে সে কথা বলে, তা হল শ্রেণি-স্বার্থ। কিন্তু শ্রেণির বিরুদ্ধে শ্রেণির সংগ্রাম হল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম।” ভারতের শ্রমিকশ্রেণি এই রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছে তার গড়ে ওঠার শুরু থেকেই, বিশেষত ভারতের বীরত্বপূর্ণ স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কালে – যা বিশ্বে উপনিবেশবাদের মুক্তির প্রক্রিয়ায় গতি আনে।
আমাদের দেশ যখন তার ৭৫-তম স্বাধীনতা উদযাপন করছে, তখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসককে সব সম্ভাব্য পরিষেবা দিয়ে চলা দক্ষিণপন্থী শাসকের রাজনৈতিক রীতি, আমাদের জনগণের, নির্দিষ্টভাবে শ্রমজীবী জনগণের, গৌরবান্বিত আত্মত্যাগকে দখল করার চেষ্টা করছে, এবং ইতিহাসকে পুনর্লিখনের মতো অন্যায় কৌশল অবলম্বন করছে।
স্বদেশী আন্দোলনে শ্রমিকেরা
১৯০৩ থেকে ১৯০৮ সালের মধ্যেকার সময়কালে ঘটা স্বদেশী আন্দোলনের উত্থান শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক মাইলফলক। একটি নিরীক্ষণ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ‘পেশাদারি বিদ্রোহী-র উত্থান’, এবং শিল্পক্ষেত্রে ধর্মঘটে শ্রমিকের ‘সংগঠনের ক্ষমতা’ – এই দুই ছিল সেই সময়ের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট। বহু ধর্মঘট সে-সময়ে সংঘটিত হয়, এবং বহু স্বদেশী নেতা ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার কাজে, ধর্মঘট সংঘটিত করার কাজে, আইনি সহায়তাদানে, অর্থসংগ্রহ অভিযানের কাজে নিজেদের যুক্ত করেন। বি. সি. পাল, সি. আর. দাশ, এবং লিয়াকত হুসেনের মতো নেতারা প্রকাশ্য সমাবেশে ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। অশ্বিনীকুমার ব্যানার্জি, প্রভাত কুমার রায়চৌধুরী, প্রেমতোষ বসু, এবং অপূর্ব কুমার ঘোষ ছিলেন এমনই চার স্বদেশী নেতা, যাঁরা শ্রমিক আন্দোলনে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। বহু ধর্মঘটে সক্রিয়ভাবে এঁরা যুক্ত ছিলেন তো বটেই, তবে, সরকারি প্রেস, রেল, এবং চট শিল্পে, যেখানে বিদেশি পুঁজি, ও ঔপনিবেশিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল, সেখানে শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে তোলার প্রশ্নে, এবং জনপ্রিয়তার প্রশ্নে, এঁদের সাফল্য ছিল সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য।
প্রায়শই ধর্মঘটকারীদের সমর্থনে কলকাতার রাস্তায় মিছিল সংগঠিত করা হত। পথে সাধারণ মানুষ মিছিলে যোগদানকারীদের খাবার দিতেন। মহিলা, এমনকী পুলিশ কনস্টবেলসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অর্থ, চাল, আলু, সবজি দিয়ে এই আন্দোলনের সঙ্গে থেকেছেন। সর্বভারতীয় ইউনিয়নগুলি গড়ে তোলার প্রথম প্রচেষ্টাও এই সময়েই হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। যদিও ইয়োরোপীয় সংস্থায় নিযুক্ত শ্রমিক ও ভারতীয় সংস্থায় নিযুক্ত শ্রমিকদের প্রতি আচরণে এই গোটা সময়কাল জুড়েই তফাত ছিল।
স্বদেশী আন্দোলনের এই সময়কালে শ্রমিক আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট ছিল – কেবলমাত্র শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিদ্রোহ ও সংগ্রাম থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিষয়েও শ্রমিকদের জড়িয়ে পড়া। শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক বিষয়ে তুলনায় অসংগঠিত, ও স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট ছাড়াও, জাতীয়তাবাদীদের সহায়তায় নানা অর্থনৈতিক বিষয়ে ধর্মঘট সংঘটিত করে, ও বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে শ্রমিকশ্রেণি যুক্ত হয়ে সে-সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের এক উত্তরণ ঘটে।
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়, সেইদিন গোটা দেশে ঘটা অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকশ্রেণির উত্তাল ধর্মঘট, ও হরতালেরও সাক্ষী হয়েছিল বাংলা। বিভিন্ন চটকল, চট প্রেস কারখানার শ্রমিকেরা, রেলের কুলি মজুরেরা কাজ বন্ধ করে দেন। কলকাতার স্বদেশী নেতাদের ডাকা ফেডারেশন হলের সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ছুটি মঞ্জুর না-হওয়ায়, হাওড়ার বার্ন কোম্পানির জাহাজ কারখানার ১২০০০ শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে ও সম্প্রীতির প্রতীক স্বরূপ পরস্পরের হাতে রাখি বাঁধার ক্ষেত্রে আপত্তি করলে শ্রমিকেরা ধর্মঘট করেন।
১৯০৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে সুব্রমনিয়া শিবা, এক বিদেশী তুলাকলে ধর্মঘটের পক্ষে প্রচার করতে গিয়ে বলেন যে, মজুরি বৃদ্ধির জন্য ধর্মঘট বিদেশি কারখানার অবসানের কারণ হবে। শিবা, ও বিখ্যাত স্বদেশী নেতা চিদাম্বরম পিল্লাইকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তুতিকোরিন, ও তিরুনেলভেলিতে ধর্মঘট, ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ত্র, ও রেল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রমিকেরা পাঞ্জাবে ১৯০৭ সালের অভ্যুত্থানের অন্তর্গত আন্দোলন হিসাবে ধর্মঘট করে। যে অভ্যুত্থানে লাজপত রাই, এবং অজিত সিং-এর নির্বাসন হয়। বাল গঙ্গাধর তিলকের বিরুদ্ধে যখন আদালতে বিচার চলে, ও তাঁকে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়, সম্ভবত তখনই শ্রমিকশ্রেণির সবচেয়ে বড়ো আন্দোলন সংঘটিত হয়।
স্বদেশী আন্দোলনের সময়কালে কিছু বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী নেতার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ধারার মৃদু সূচনাও লক্ষ করা গিয়েছিল। এঁরা ইউরোপের সমসাময়িক মার্কসবাদী, ও সমাজ-গণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংস্পর্শে আসেন। কার্যকরী রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসাবে রাশিয়ার শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের উদাহরণ ভারতে অনুসরণ করার তাগিদ তৈরি করে।
মহান অক্টোবর বিপ্লব – নতুন যুগের ভোর, এবং তার প্রভাব
মহান অক্টোবর বিপ্লব এক নতুন যুগের ঘোষণা করে। যা গোটা দুনিয়ার শোষিত মানুষকে স্বাধীনতার জন্য সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে দৃঢ়সংকল্প হতে, এবং সমাজের আমূল পরিবর্তনের জন্য সংগ্রামে উৎসাহ দেয়। বিশ্ব-বাজার, ও সাম্রাজ্যের পুনর্বিভাজনের জন্য আন্ত-সাম্রাজ্যবাদী বৈরিতার পরিণাম। এর ফলে ভারতসহ অন্যান্য উপনিবেশে রাজনৈতিক, ও সামাজিক দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়। অক্টোবর বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সামাজিক দ্বন্দ্ব গুণগতভাবে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে – যে-পর্যায়ে সমাজতন্ত্র ও নয়া পুঁজিবাদের দ্বন্দ্ব, বাকি সব দ্বন্দ্বের উপর প্রভাব বিস্তার করে কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব হিসাবে সামনে আসে। ভারতের শ্রেণি-শক্তির আন্তঃসম্পর্ক এর ফলে প্রভাবিত হয়। ফলত ১৯১৭ পরবর্তী সময়কাল সাক্ষী থাকে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের, যাতে করে জাতীয় স্তরে স্বাধীনতা সংগ্রাম এক নতুন বাঁক নেয়।
ভারতে ব্রিটিশরাজ এই বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রত্যুত্তর দেয় আনাড়ির মতো। ১৯১৭-এর মাঝামাঝি সময়ে ভাইসরয় চেমসফোর্ড ভারতে ব্রিটিশ নীতির বদলের প্রয়োজনের কথা ব্রিটিশ সরকারের নজরে আনেন। একই বছর ই. এস. মন্টাগু ভারত রাষ্ট্রে সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালের ২০ অগাস্ট তথাকথিত দ্বায়িত্ববান সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি তৈরি করতে ভারতের জন্য তিনি একটি নতুন নীতির ঘোষণা করেন। মূল বিষয়গুলি যুক্ত করা হয় গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯১৯-এ। এই অ্যাক্ট, ‘মন্টাগু-চেমসফোর্ড রিফর্ম’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এই নীতি জনরোষের জোয়ার সামলানোর পক্ষে সামান্যই সাফল্য লাভ করেছিল।
প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ১৯১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বৈপ্লবিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রকৃতি, ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য, ও প্রতিবেদন জমা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন কুখ্যাত ব্রিটিশ বিচারপতি রাওলাট। রাওলাটের সুপারিশ একটি বিশেষ বিলের প্রস্তাব করে যার নাম ছিল রাওলাট বিল। এই বিল ১৮ মার্চ ১৯১৯ তারিখে পাশ হয়ে রাওলাট আইন তৈরি হয়।
রাওলাট আইনের বিরুদ্ধ পক্ষও ছিল সমান তৎপর, যা কি না সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক নতুন গতি আনে - রাওলাট বিলের বিরুদ্ধে শুরু হয় সত্যাগ্রহ আন্দোলন। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে গান্ধীর প্রবেশ ঘটে। ৩০ মার্চ ১৯১৯ সত্যাগ্রহ আন্দোলন, ও ৬ এপ্রিল হরতালের সাক্ষী থাকে গোটা ভারত। ১০ এপ্রিল ১৯১৯, গান্ধীর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে ভারত জুড়ে হরতাল হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ ঘটে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, যা গোটা দেশকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হাজারেরও বেশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীকে কোনোরকম সতর্কিকরণ ছাড়াই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যা জাতীয় স্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষিতে ছিল নতুন এক মোড়, যা কি না নতুন নতুন শক্তির উদ্ভব ঘটায়।
ভারতের নানা প্রান্তে ১৯১৮ সালে একের পর এক ধর্মঘট সংঘটিত হয়। সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠার আগে, গোড়ায় ধর্মঘটের প্রচারে গতি আনার প্রশ্নে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী, ও মানবতাবাদীরা উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৭ অক্টোবর ১৯১৮, অ্যানি বেসান্তের সহযোগী বি. পি. ওয়াদিয়া ম্যাড্রাস লেবার ইউনিয়ন গঠন করেন। ভারতে এটিই ছিল আধুনিক ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার প্রথম সুষ্ঠু প্রচেষ্টা। এর ফলে ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে একাধিক আঞ্চলিক ও শিল্প-ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গিয়েছিল। ১৯১৮ সালে বম্বে কটন মিল-এ প্রথম ব্যাপক ধর্মঘট হয়; এতে ১,২৫,০০০ শ্রমিক সামিল হয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে যে হরতাল হয় তা প্রমাণ করে যে, শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক আন্দোলন জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের প্রথম সারিতে উঠে আসছে। এই ধর্মঘট ১৯২০ সালে চরমে পৌঁছায়। এর নজরকাড়া সাফল্য একটি সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগে ব্যাপক গতি আনে।
প্রথম প্রকাশ: অগাস্ট ২০২২, ওয়ার্কিং ক্লাস
ভাষান্তর: উর্বা চৌধুরী
প্রকাশের তারিখ: ৩০-মে-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
