Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

থালা, শ্রম, সমাজ এবং মিড ডে মিল

চন্দন দাস
চোদ্দ বছর আগে রাজ্যে বামফ্রন্টের সরকার ছিল। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার। মমতা ব্যানার্জি সেই সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দলের আরও ৬ জন মন্ত্রী ছিলেন সেই সরকারের। রাজ্যে তৃণমূল, বিজেপি, মাওবাদী, আরএসএস, জামাত সহ নানা বামফ্রন্ট বিরোধী শক্তির জোট নৈরাজ্য কায়েম করেছিল বেশ কিছু এলাকায়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ছাত্রছাত্রীর মিড ডে মিলের বন্দোবস্ত করা দরকার।
Dish, labor, society and mid day meal

মিড ডে মিল-এ মূলত তিনটি অঙ্ক আছে। থালার অঙ্ক, শ্রমের অঙ্ক এবং সমাজের অঙ্ক। 

স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যহ্ন ভোজনের ব্যবস্থা মূলত রাষ্ট্রের একটি কর্মসূচি। তবে রাষ্ট্র এবং সমাজের অবদমিত অংশের দ্বন্দ্বের একটি ছবি ধারণ করে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যাহ্ন ভোজন দেওয়ার এই কর্মসূচি। দেশে নয়া আর্থিক নীতি প্রয়োগ শুরু হয়েছে ১৯৯০-৯১ থেকে। মিড ডে মিল সারা দেশজুড়ে, সুপ্রিম কোর্টের ২০০১-এর ২৮ নভেম্বরের নির্দেশ মোতাবেক চালু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তা চালু হয়েছে ২০০৩-এ। পশ্চিমবঙ্গ দেশে তৃতীয় রাজ্য, যেখানে মিড ডে মিল চালু হয়েছিল।

গরিব পরিবারের সন্তানদের স্কুলমুখী করা, তাদের সামান্য পুষ্টির বন্দোবস্ত করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গে চালুর দু’ বছরের মধ্যেই দেখা যায় স্কুলমুখী ছাত্রছাত্রী ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, নব্যধনী যত বেড়েছে মিড ডে মিল কর্মসূচি তত অবহেলিত হয়েছে। উল্টো দিকে ‘থালার সংখ্যা’ কমেছে– অর্থাৎ নয়া আর্থিক নীতির প্রভাবে নব্য ধনী না-হয়ে আর্থিক অবস্থা যাঁদের আরও খারাপ হয়েছে, সেই সংখ্যাগরিষ্ট অংশ পরিবারে ড্রপ আউট বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ তার একটি উদাহরণ। 

থালার অঙ্ক

 ১৮,৩৯,৪২১। স্কুলে মধ্যাহ্ন ভোজনের এতগুলি থালা রাজ্যে কমেছে গত ১৪ বছরে। 

ফলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাদ্যশস্যের প্রয়োজন কমেছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের। এতজন ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল থেকে ছিটকে যাওয়ায় রাষ্ট্রের খাদ্যশস্যের খরচও কমেছে। 

কতটা? বছরে ২৪,৩০,২৮০কিলোগ্রাম। প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক মিলিয়ে গড়ে ১৫৫দিন ক্লাস হয়েছে বছরে। অর্থাৎ দিনে রাষ্ট্রের খাদ্যশস্য বেঁচেছে প্রায় ১৫,৬৮০ কিলোগ্রাম।

সারা দেশের হিসাব নয়। পশ্চিমবঙ্গের কথা হচ্ছে। 

তবে এই সবই সরকারের হিসাব। দেশের, রাজ্যের শাসক দলের চরিত্র আমাদের নির্বিবাদে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করেছে যে, সরকারি হিসাবে গোঁজামিল, চালাকি থাকবেই। তবু তাদের তথ্যকেই তাদের আয়না হিসাবে ব্যবহারের সুবিধা আছে। চালাকি, মানুষ ঠকানো কিছুতেই তারা আড়াল করতে পারে না। নিজেদের তথ্যের জালে তারা নিজেরাই জড়িয়ে থাকে। 

তাই এই পাটিগণিত সিপিআই(এম)-এর নয়। ‘বামপন্থীদের চক্রান্ত’ বলা যাবে না কিছুতেই। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের আমলারা বৈঠক করেছেন। গত ২৯ এপ্রিল নয়াদিল্লির শাস্ত্রী ভবনে সেই বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলারা একমত হয়েছেন ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে মাদ্রাসাগুলি সহ প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক পর্যায়ে মিড ডে মিল পাবে ৮০,১৬,৮৮১ ছাত্রছাত্রীকে।

‘পাবে’ বললে মনে হতে পারে ছাত্রছাত্রী এর থেকে বোধহয় বেশি। আদপে তা নয়। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪-এর গোড়ায় এই দুই সরকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে ৮৫,৯৩,৭৮৩ জন ছাত্রছাত্রীকে মিড ডে মিল দিতে হবে। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেল স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্ন ভোজ দিতে হয়েছে ৭৭,৯১,৯৪৬ জন ছাত্রছাত্রীকে। মোদ্দা কথা ৯ শতাংশ ছাত্রছাত্রীকে মিড ডে মিল দিতে হয়নি। কারণ– তারা স্কুলে আসেনি। 

এই বছর তাই লক্ষ্যমাত্রা নামিয়ে আনা হয়েছে ৮০,১৬,৮৮১-তে। 

২০১০-১১ এবং ২০২৩-২৪-এর পরিসংখ্যানের তুলনামূলক আলোচনা করলেই দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে ১৪ বছরের ব্যবধানে মিড ডে মিল পাওয়া গড় ছাত্রছাত্রী কমেছে ১৮,৩৯,৪২১টি। ২০২৩-২৪-এ মমতা ব্যানার্জির সরকারের এই ক্ষেত্রের কাজের পর্যালোচনা হয়েছে গত ২৯ এপ্রিলের বৈঠকে। আর বামফ্রন্ট সরকারের মিড ডে মিল সংক্রান্ত ২০১০-১১-র কাজের পর্যালোচনা হয়েছিল ৯ মে, ২০১১-তে। সেই বৈঠকও হয়েছিল নয়াদিল্লিতে, কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যালয়ে।

চোদ্দ বছর আগে রাজ্যে বামফ্রন্টের সরকার ছিল। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার। মমতা ব্যানার্জি সেই সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দলের আরও ৬ জন মন্ত্রী ছিলেন সেই সরকারের। রাজ্যে তৃণমূল, বিজেপি, মাওবাদী, আরএসএস, জামাত সহ নানা বামফ্রন্ট বিরোধী শক্তির জোট নৈরাজ্য কায়েম করেছিল বেশ কিছু এলাকায়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ছাত্রছাত্রীর মিড ডে মিলের বন্দোবস্ত করা দরকার।

২০১০-১১-র জন্য সংখ্যাটি কত ছিল? ৯৯ লক্ষ। 

সেবার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ৭৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মিড ডে মিলের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৮,০৯,১৩৮-এ। তার সঙ্গে বাল বাটিকা’র ৭,২৫,৬২৪ জনকে যোগ করলে সংখ্যাটি ৫৫ লক্ষের কিছু বেশি দাঁড়ায়। ১৫ বছরের ব্যবধানে ফারাক দাঁড়ায় প্রায় ১৭ লক্ষের। সেবার উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলির ২৬ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে মিড ডে মিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২৪,৮২,১১৯-এ।

শ্রমের অঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ভাতা পান ২০০০ টাকা। কেরালায় তা ১২,০০০ টাকা। তামিলনাডুতে নানা ভাগ আছে। তবু ভাতার পরিমাণ ৪৬০০ টাকা থেকে ১২,৫০০ টাকা। হরিয়ানায় এই ভাতার পরিমাণ ৭০০০ টাকা। গুজরাট (২৫০০টাকা), পশ্চিমবঙ্গের মতো বাকি সব রাজ্যেই ভাতা সামান্য।

প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল দেওয়া হয়। তার মধ্যে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে চালু শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলিও আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষা কেন্দ্রে চালু এই প্রকল্প। রান্না তৈরি, বণ্টন সহ মিড ডে মিল কর্মসূচির জন্য সরকার নির্দ্ধারিত পদ প্রায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার। কিন্তু মিড ডে মিলের এই কাজে যুক্ত কর্মীর প্রকৃত সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ। 

২লক্ষ ৩৩ হাজারের বেতন ভাগ হয় ওই সাড়ে ৮ লক্ষের মধ্যে! 

মিড ডে মিল কর্মীদের বেতন মাসে ২ হাজার টাকা। একজন কর্মীর বেতন যদি ৫-৬ জনে ভাগ হয়, তাহলে মাসে একেকজন পান ৪০০ টাকার কাছাকাছি। তাও ১২ মাসের টাকা তাঁরা পান না। পান ১০ মাসের। 

কিন্তু সাড়ে ৮ লক্ষ কর্মী এল কোথা থেকে? রাজ্যে মিড ডে মিলের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী। একেকটি গোষ্ঠীতে গড়ে ৭-৮ জন আছেন। অনেক জেলাতেই দেখা যায় একটি স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পে তিন কিংবা তার বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী যুক্ত। তারা নিজেদের মধ্যে দিন অথবা মাস ভাগ করে নিয়েছেন। তা নিয়ে মাঝেমাঝে গোলমালও হয়। যেমন এই ঝামেলায় পুরুলিয়ার একটি স্কুলে ৬ মাস মিড ডে মিল বন্ধ ছিল। মোদ্দা কথা— এই ভাবে একজনের মজুরি একাধিক জনকে ভাগ করে নিতে হয়। 

তাছাড়া এই মিড ডে মিল কর্মীদের সেই কাজের জন্য কোনও স্বীকৃতি নেই। নেই সামাজিক সুরক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা। ক্রমাগত বেড়ে চলে জিনিসপত্রের দাম। তার সঙ্গে যুঝে উঠতে পারেন না মিড ডে মিল কর্মীরা। কিছু ক্ষেত্রে গোষ্ঠীর তহবিল থেকে টাকা বেরিয়ে গেছে মিড ডে মিলের জন্য, এমনও হয়েছে।

মিড ডে মিলে ছাত্রপিছু বরাদ্দের সর্বশেষ নির্দেশিকা জারি হয়েছে গত ২৪ মে। সেই নির্দেশিকা অনুসারে প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ মাথাপিছু ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। উচ্চ প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দ মাথাপিছু ১০ টাকা ১৭পয়সা। দু’মাসে এর জন্য খরচ হবে ২৫৬ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা প্রায়। এর ৬০ ভাগ টাকা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য সরকারের দেওয়ার দায়িত্ব ৪০ ভাগ টাকা। এই টাকায় ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়, এটি আর কোনও বিতর্কের বিষয় নয়– এটি প্রশ্নাতীত সত্য। 

মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবি প্রধানত, ১০ মাস নয়, ১২ মাসের ভাতা দিতে হবে। মিড ডে মিল কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো করতে হবে ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা। তারা অবসর ভাতা বা পেনশন, গ্র্যাচুইটির অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাঁদের দাবি এককালীন গ্র্যাচুইটির ৫ লাখ টাকা এবং সমস্ত মিড ডে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার স্বার্থে তাঁদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁরা উৎসব ভাতা পান না। সেই দাবিও তাঁদের আছে। 

মিড ডে মিল কর্মীদের কাজে অনিশ্চয়তা মারাত্মক। গত কয়েক বছরে অনেক স্বনির্ভর গোষ্ঠী কিংবা মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ-ছাড়া করা হয়েছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিজেদের পছন্দের গোষ্ঠী, ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতে এই ছাঁটাই করেছে। আবার দেখা যাচ্ছে, স্কুলে ছাত্র কমছে বলে মিড ডে মিল কর্মীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। কাজের নিশ্চয়তা তাই তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম ইঁস্যু।

সামাজিক অঙ্ক

পূর্বস্থলীর কিশোরীগঞ্জ একটি অশনি সঙ্কেত হাজির করেছে। 

সম্প্রতি জানা যায় পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নাদনঘাট থানা এলাকার কিশোরীগঞ্জ মনমোহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা মিড ডে মিল-এর ব্যবস্থা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পড়াশোনা একসঙ্গে করলেও ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিলের বাসনকোসন হয়েছিল আলাদা। রাঁধুনিও ছিল আলাদা। 

রাজ্যে এর আগে এমন ঘটনা দেখা যায়নি। কিন্তু যেভাবে তৃণমূল, বিজেপি ভোটের জন্য সমাজে ধর্মীয় বিভাজনের সুপ্ত ধারাকে জাগিয়ে তুলেছে, তা শিশুদের স্কুলে মিড ডে মিলে পৌঁছবে, সেই আশঙ্কা অনেক অভিভাববক, শিক্ষকদের ছিল।

মিড ডে মিল কর্মসূচির একটি সামাজিক আঙ্গিক ছিল। পাশাপাশি বসে যারা পড়াশোনা করছে, পাশাপাশি পাত পেড়ে বসে তারা খাবে– তার ফলে সামাজিক বৈষম্য, ভেদাভেদ মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা আরও সহায়ক হবে, এই ছিল মিড ডে মিল কর্মসূচির অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য। শুরুর সময় রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো কিছু রাজ্যে এই নিয়ে গোলমাল দেখা গেছিল। তথাকথিত উচ্চবর্ণের কিন্তু গরিব পরিবারগুলি তাদের সন্তানদের তথাকথিত নিচু জাতের বাড়ির ছেলেদের পাশে বসে খাবে, এটির বিরোধিতা করেছিল। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছিল। 

পশ্চিমবঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি। কিন্তু ২০০৫-এ প্রকাশিত প্রতীচী ট্রাস্টের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের গ্রামগুলিতে কোনও কোনও জায়গায় জাতপাতের এই প্রশ্ন আছে মিড ডে মিল-কে ঘিরে। যেমন মুসলমান রমনী যেহেতু রান্না করেন মিড ডে মিলের, তাই ব্রাহ্মণ পরিবার তাদের সন্তানদের সেই খাবার খেতে দেয় না, অথবা স্কুলে সেই খাবার খেলে বাড়ি এসে স্নান করে ঘরে ওঠে। তফসিলি জাতির মহিলাদের রান্না খাওয়ার ক্ষেত্রেও এমন চিত্র কিছু কিছু পাওয়া গেছিল। কিন্তু এই প্রবণতা মাথা তুলতে পারেনি। পঞ্চায়েত থেকে রাইটার্স যারা সরকার চালাচ্ছিল, সেই বামপন্থীদের প্রভাবে গ্রামাঞ্চলে এই বিভেদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দমন করা হয়েছিল। তাছাড়া প্রথমে জমির দাবিতে আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীভূত রূপ পঞ্চায়েতে সব ধর্মের, জাতের মানুষের অংশ গ্রহণ জাত, ধর্মের ভেদাভেদকে স্কুলের অঙ্গনে প্রবেশ করতে দেয়নি।

কিন্তু আজকের পশ্চিমবঙ্গ আলাদা। সঙ্ঘের প্রভাবে, তৃণমূলের মদতে ধর্মীয় পরিচিতি সত্তার বিকৃত রূপ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। ফলে রাজ্যের অনেক জায়গাতেই ‘পূর্বস্থলী’ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাববক, মিড ডে মিল কর্মীরাও।

এক ক্লিকেই যুক্ত হন মার্কসবাদী পথের সঙ্গে


প্রকাশের তারিখ: ০২-জুলাই-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

সঠিক তথ্যভিত্তিক সুন্দর লেখা। বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- রবীন রায় , ০২-জুলাই-২০২৫


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৩ টি নিবন্ধ
০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫

০৮-জুলাই-২০২৫

০৭-জুলাই-২০২৫