Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ধর্মঘটের অধিকার রাখতেই ধর্মঘট

কে হেমলতা
নয়া উদারনীতির সবচেয়ে বড় আক্রমণ এসেছে শ্রম আইন সংস্কারের নামে। এই তথাকথিত সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকার হরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে দুর্বল করা। ১৯৯১ সালের আগে এই ধরনের আক্রমণ দেখা যায়নি, যদিও অতীতেও শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ১৯৯১ পরবর্তী সময় থেকে এই আক্রমণ ধারাবাহিক ও কাঠামোগতভাবে জোরদার হয়েছে।
Strike is for right to strike

ঠিক ছিল, নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট হবে ২০ মে। ‘দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে’ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক বৈঠক থেকে তা পিছিয়ে ৯ জুলাই করার কথা ঘোষণা করেছে। সিআইটিইউ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, দেশ যখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, এমনকি তখনও সরকার শ্রম কোড রূপায়নে আগ্রাসী। বাড়াতে চাইছে শ্রমঘণ্টা। ছাঁটাই করতে চাইছে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার। ধর্মঘটের এই দিনতারিখ পিছিয়ে দেওয়া তাই পুঁজিপতিশ্রেণি বা সরকারকে কোনও ছাড় দেওয়া নয়। কোনও রেয়াত দেওয়া নয়। বরং, ধর্মঘটকে আরও সর্বাত্মক করার প্রস্তুতির লক্ষ্যেই রণনীতিগত পুনর্সমন্বয়। 
দেশজোড়া যুদ্ধ জিগির, উগ্র জাতীয়তাবাদ কি প্রভাব ফেলবে এই ধর্মঘটে? এবারের ধর্মঘটের মূল বর্শামুখ শ্রম কোডের বিরুদ্ধে, অতীতের সাধারণ ধর্মঘটগুলির থেকে কোন প্রশ্নে ভিন্নতর এবারের ধর্মঘট? কেমন হবে শ্রমজীবী মহিলাদের অংশগ্রহণ? যেসব ক্ষেত্রের শ্রমিকরা এখনও সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন বৃত্তের বাইরে, তাঁরা কতটা যোগ দেবেন এই ধর্মঘটে? এরকমই নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মার্কসবাদী পথ-কে একান্ত আলাপচারিতায় দিয়েছেন সিআইটিইউ-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী কে হেমলতা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্বাতী শীল  

যে যুদ্ধোন্মাদনা ও উগ্র জাতীয়তাবাদের জিগির তোলার চেষ্টা হল, তাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? পহেলগাম হামলার পর দেশে বিভাজনের রাজনীতি যে হারে শক্তিশালী হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী শ্রেণির পক্ষ থেকে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন?

হেমলতা: সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি। তাই সন্ত্রাসীদের উপর আঘাত হানা প্রয়োজন। তবে আমাদের বিশ্বাস, সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই। কিন্তু সরকার, বিশেষত সামাজিক মাধ্যমে আরএসএস-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একে হিন্দু-মুসলিম বা ধর্মীয় দ্বন্দ্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে। যারা শান্তির পক্ষে কথা বলছেন, যেমন শহীদ নৌ-অফিসারের পরিবার পরিজন বা তাঁর স্ত্রী, তাদের পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ট্রোল করা হচ্ছে। এটাই আসল সমস্যা। এইভাবে উগ্র জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ, প্রতিশোধ ইত্যাদি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে- কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হলে কে লাভবান হবে, আর কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? বিশ্বজুড়ে এত যুদ্ধ চলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরায়েলের যুদ্ধ, আরও অনেক জায়গায় সংঘর্ষ কিন্তু কোনওটাই তো সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দেয়নি। যুদ্ধ কোনও সমাধান না। 

আমাদের নিজেদেরও চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু সেগুলিও সন্ত্রাসবাদ বা অন্য কোনও সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেনি। তাই আমরা বলি, আলোচনা করতে হবে। বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। পাকিস্তানকে বাধ্য করতে হবে যাতে তারা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে এবং সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করে। এইভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, উভয় পক্ষই রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা ছড়াচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মানুষ শুধু মারা যাচ্ছে তাই নয়, আহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, জীবনে নানান সমস্যা ভোগ করছে। যুদ্ধ বাড়লে শ্রমজীবী মানুষের উপর আরও চাপ পড়বে।

আমরা বলছি, এই উগ্র জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়া উচিত নয়। সরকারের উচিত উত্তেজনা কমানো। যুদ্ধ না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা। সন্ত্রাসবাদ দমন হোক, সন্ত্রাসবাদীদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক কিন্তু যুদ্ধ নয়। এবং এই পরিস্থিতিকে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

এই যে যুদ্ধের আবহ, তাতে কি শ্রমিকদের ধর্মঘটে অংশগ্রহণ প্রভাবিত হবে?

হেমলতা: এই পরিস্থিতি আরেকটি বিপজ্জনক দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজ প্রকাশ্যে বলা কঠিন হলেও, বাস্তব এটাই যে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নয়া উদারবাদের নীতির ফলে তৈরি হওয়া সংকট, জনগণের উপর বাড়তে থাকা চাপ– এই সমস্ত বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে এই জাতীয়তাবাদী উত্তেজনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই সময় বড় একটা ধর্মঘট হওয়ার কথা ছিল, তার প্রস্তুতিও ভালো চলছিল। কিন্তু এখন মানুষ সেই দিক থেকে সরে যাচ্ছে। যেসব গুরুত্বপূর্ণ জনজীবনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ লড়াই হচ্ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে ব্যাহত হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, মানুষের ঐক্যকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে আমাদের দেশের উপর। দেশের ঐক্য, অগ্রগতি, উন্নয়ন সবকিছুই বাধাপ্রাপ্ত হবে। যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়।

তাই আমরা বলি, সরকারের উচিত উত্তেজনা কমানো, শান্তির পথে হাঁটা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতকেও সেই দায়িত্ব নিতে হবে। উভয় পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিল যুদ্ধ পরিস্থিতি না বাড়িয়ে যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা হয়। ‘দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে’ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি বৃহস্পতিবার এক বৈঠক থেকে সাধারণ ধর্মঘটের দিন পিছিয়ে ৯ জুলাই করার কথা ঘোষণা করেছে। আমাদের লক্ষ্য এখন প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করা। যাতে এই ধর্মঘট আরও সর্বাত্মক হয়। স্তব্ধ হয় গোটা দেশ। 

১৯৯১ সালে নয়া উদারবাদ চালু হবার পর থেকে এযাবৎ ২১ টি সাধারণ ধর্মঘট সংগঠিত হয়েছে। এবারের ধর্মঘটের বিশেষ তাৎপর্য কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

হেমলতা: ১৯৯১ সাল থেকে এযাবৎ পর্যন্ত ২১টি সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘট সংগঠিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমজীবী জনগণের উপর নয়া উদারবাদী নীতির প্রতিকূল প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই ধারাবাহিক ধর্মঘটের মাধ্যমে শ্রমিকশ্রেণি কিছুটা হলেও এই নীতিগুলোর গতি রোধ করতে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত করতে সক্ষম হয়েছে।

নয়া উদারনীতির সবচেয়ে বড় আক্রমণ এসেছে শ্রম আইন সংস্কারের নামে। এই তথাকথিত সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকার হরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে দুর্বল করা। ১৯৯১ সালের আগে এই ধরনের আক্রমণ দেখা যায়নি, যদিও অতীতেও শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ১৯৯১ পরবর্তী সময় থেকে এই আক্রমণ ধারাবাহিক ও কাঠামোগতভাবে জোরদার হয়েছে।

এই ২১টি ধর্মঘটের ফলে দীর্ঘদিন সরকার শ্রম আইনে পরিবর্তন আনতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে শ্রম কোড সংসদে পাস হয়েছে। সরকার তা বাস্তবায়নের পথেও অগ্রসর হচ্ছে। একবার শ্রমকোড কার্যকর হলে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, যৌথ আন্দোলনের অধিকার, বিশেষ করে ধর্মঘটের অধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যাবে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ধর্মঘট কার্যত অবৈধ হয়ে উঠবে। কারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী ধর্মঘটের আগে নোটিশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সালিশি প্রক্রিয়া শুরু হবে, এবং সেই অবস্থায় ধর্মঘটে গেলে তা বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হবে। 

আগে শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলোর ক্ষেত্রেই ১৪ দিনের নোটিশ দেওয়ার বিধান ছিল। কিন্তু এখন সব ক্ষেত্রেই এই বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যা কার্যত ধর্মঘটের অধিকারে হস্তক্ষেপ। এভাবে ট্রেড ইউনিয়নের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলা হচ্ছে।

এই ধর্মঘট তাই পূর্ববর্তী ধর্মঘটগুলির তুলনায় ভিন্নতর। এবার শ্রম কোড আইন পাশ হয়ে গেছে। এবং সরকার তা বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত বৃহৎ শ্রমিক প্রতিরোধের কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এই প্রতিরোধে প্রায় সবক’টি বড় ট্রেড ইউনিয়ন অংশ নিয়েছে– শুধু বিএমএস এবং তার ঘনিষ্ঠ কিছু সংগঠন বাদে। বিএমএস যদিও সামাজিক নিরাপত্তা ও মজুরি কোডকে সমর্থন করেছে, তবে শিল্প সম্পর্ক এবং পেশাগত সুরক্ষা বিষয়ক কোডে তাদের অবস্থান পুরোপুরি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী নয়।

সরকার এখন নানা ফাঁকফোকরের মাধ্যমে এই আইনগুলো কার্যকর করতে চাইছে। শ্রমিক সমাবেশ, মিছিলের অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে ট্রেড ইউনিয়নের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে ত্রুটি খুঁজে ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যায়। কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।

কাজের সময় বাড়ানোর চেষ্টা, ফ্যাক্টরি আইনে সংশোধন, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ছাঁটাই সহজতর করার চেষ্টা– এইসবই একই নয়া উদারবাদী আক্রমণের অংশ। এ ধরনের আক্রমণ কেবল বিজেপি নয়, কংগ্রেসও শুরু করেছিল এবং বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক সরকারগুলোও তা বাস্তবায়ন করছে।

এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে প্রচার ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এমনকি যেসব শিল্পাঞ্চলে কোনও ট্রেড ইউনিয়নের উপস্থিতি নেই– যেমন আসাম, হায়দরাবাদ সংলগ্ন অঞ্চল, পুনে, মাইসোর, বেঙ্গালুরু ইত্যাদি– সেখানেও শ্রমিকরা ধর্মঘটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন, কারণ তাঁরা এই আক্রমণকে নিজের উপরে আক্রমণ বলে মনে করছেন।

শ্রমজীবী মহিলাদের কোন কোন অংশ এই ধর্মঘটে সামিল হচ্ছেন? সাম্প্রতিক ধর্মঘটের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আপনি কি মনে করেন যে, মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে?

হেমলতা: মহিলা শ্রমিকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। কেবলমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি, আশা, মিড ডে মিল, রুরাল লাইভলিহুড মিশনের মতো প্রকল্প কর্মীরা নয়– চা বাগান, নির্মাণ, এমনকি ডিডি কর্মীরাও ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে কেরালা, উত্তরবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গিগ শ্রমিক বা আধুনিক আইটি ক্ষেত্রে যুক্ত তরুণ শ্রমিকদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছে?

হেমলতা: আইটি এবং গিগ ইকোনমি-র কর্মীরাও যথেষ্ট সক্রিয়। যদিও তারা সরাসরি ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার, অফিস চত্বর ও আইটি হাবগুলিতে সভা আয়োজনের মাধ্যমে তারা ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে আইটি কর্মীদের সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

যেসব শিল্পাঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন নেই সেসব এলাকার শ্রমিকরাও কি এই ধর্মঘটে অংশ নেবেন?

হেমলতা: রেলওয়েতে সরাসরি ধর্মঘট না হলেও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন প্রতীকী বিক্ষোভ ও সংহতি জানাবে। ডিআরইউ-এর মতো ইউনিয়ন ধর্মঘটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

সরকারি পরিষেবা ক্ষেত্রে– বিশেষ করে বিএসএনএল, ব্যাংক ও বিমা– ধর্মঘটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত। ডিএফআই, এআইবিইএ, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনসমূহ একযোগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেসরকারি ক্ষেত্রে ও বিদেশি বহুজাতিক সংস্থাগুলিতে কি ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে? স্যামসাঙ শ্রমিকদের ধর্মঘটের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এই ধরনের সংস্থাগুলিতে ট্রেড ইউনিয়নের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

হেমলতা: বহুজাতিক ও বৃহৎ বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘটের প্রস্তুতি চলছে। যেমন, হায়দরাবাদের আশেপাশে তোশিবা, স্যান্ডভিক, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা-র মতো সংস্থায় ট্রেড ইউনিয়ন ধর্মঘটের নোটিশ দিয়েছে। যদিও সংগঠিত বেসরকারি ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তথাপি এই আইনবিরোধী প্রচারে শ্রমিকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

পরিবহণ ক্ষেত্রেও পাঞ্জাব, রাজস্থান ইত্যাদি রাজ্যে ধর্মঘটের ডাকে সাড়া মিলেছে। এর ফলে অনেক জায়গায় একরকম ‘বনধ’ এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

কৃষক সংগঠন এবং কৃষিশ্রমিক সংগঠনগুলোও ধর্মঘটকে সমর্থন করছে। সংযুক্ত কিষান মোর্চা ব্লক ও জেলা স্তরে রেল ও রাস্তা অবরোধের ডাক দিয়েছে। তাঁরা তাঁদের নিজস্ব দাবি– ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, কৃষি বিপণন আইন বাতিল এইসব বিষয়েও আন্দোলনে থাকবেন।

সব মিলিয়ে, এবারের ধর্মঘটে পূর্ববর্তী সব ধর্মঘটের তুলনায় অনেক বিস্তৃত অংশগ্রহণ হবে। সংখ্যার বিচারে, ক্ষেত্রের বিচারে, এবং ভৌগোলিক পরিসরের দিক থেকেও। এমনকি গুজরাটের মতো রাজ্যে, যেখানে সাধারণত ধর্মঘট হয় না, সেখানেও এবারে যৌথ শ্রমিক সভা, প্রচার এবং ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


প্রকাশের তারিখ: ১৬-মে-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

লেখাটি খুবই প্রাসঙ্গিক, প্রয়োজনীয় এবং তথ্যবহুল। বহু শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজক একটা ছুটি হিসেবে এখনও গণ্য করে, উদারবাদী নীতি অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝতে অসমর্থ, অঞ্চলের মানুষের তথা নিজস্ব কর্মীদের শিক্ষিত করাতেও অজ্ঞ। আগামী ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক কৃষক শ্রেণীর অধিকার আদায়ের ও সেগুলি হরণকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু এবং মৌলিক চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে। আমাদের নেতৃত্ব বিশেষতঃ কমরেড জ্যোতি বসু বারে বারে বলতেন ধর্মঘটের অধিকার সব সময় মাথার মধ্যে রাখতে হবে, এই অধিকার যেন বজায় রাখার পক্ষে লড়াই জারি থাকে।
- নির্মল মুখার্জি , ১৬-মে-২০২৫


মেহনতী মানুষের ধর্মঘটের অধিকার ,ন্যায্য দাবি আদায়ে র অধিকার রক্ষা, শ্রমজীবী মানুষ তার আন্দোলনের ধর্মঘটের দ্বারা ই রক্ষা করবে ই।
- Dipak K Ghosh, ২২-মে-২০২৫


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শ্রমিক কৃষক বিভাগে প্রকাশিত ৫৩ টি নিবন্ধ
০৭-মার্চ-২০২৬

০১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৯-ডিসেম্বর-২০২৫

০২-ডিসেম্বর-২০২৫

০১-ডিসেম্বর-২০২৫

৩০-নভেম্বর-২০২৫

২৬-অক্টোবর-২০২৫

১২-সেপ্টেম্বর-২০২৫

০৮-জুলাই-২০২৫

০৭-জুলাই-২০২৫