সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
আজকের সময়ে আম্বেদকরের প্রাসঙ্গিকতা
বাদল সরোজ
করোনা এবং মূর্খতা দুই মিলিয়ে এই মরোনার সময় কোনটা যে বেশি বিপজ্জনক তাই এখন তর্কের বিষয়! প্রকৃতপক্ষে ভাইরাস হল ‘কর্পোরেট হিন্দুত্ব’। ‘হিন্দুত্ব’ মানে বলতে চাইছি-সাভারকরের হিন্দুত্ব। হিন্দুত্বের এই সংজ্ঞা নির্মাণের তার বক্তব্য ছিল- এর সাথে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য এবং মান্যমানতার কোনো সম্পর্কে নেই। এটি শাসন করার একটি পন্থামাত্র। হিন্দুত্ব মানে মনুস্মৃতির বিবর্তিত রূপের বাহ্যিক প্রকাশ। সেখানে গণতন্ত্র চাইনা। সমতা, সাম্য, এসবকেই বলা হবে বহির্ভারতীয় ধারণা, ফলে ভারতে চাইনা। সংবিধান পাশ্চাত্য থেকে এসেছে, তাই চাইনা। কী চাই? একটি বদ্ধ সমাজ, অল্প মানুষের হাতে সমস্ত ক্ষমতা, গণপিটুনির হিংসাত্মক, পাশবিক পরিবেশ। যারা ভাবছেন এরা ব্রাহ্মণ্যবাদী নয় তারা ভুল ভাবছেন। এদের কাছে শূদ্র শুধু জন্মগত নয়, তাঁর নির্দিষ্ট পেশাতেও তারা সীমায়িত। দিল্লি থেকে যারা সদলে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছে, পায়ে হাঁটা সেই পরিশ্রমী শ্রমিকরা, তাদের মতে শূদ্রই। তাদেরকেই মেরে ধরে, জেলবন্দী করে, দোষারোপ করে কুকথা বলেও জ্বালা মিটছে না। আর নারী তো এদের কাছে চিরকালীন শূদ্রাতিশূদ্র।

২০২০ সালে করোনা-বিপদের সময় বাবাসাহেবের জন্ম-জয়ন্তী এসএফআই উদ্দীপনার সাথে পালন করেছিল। এটাই স্বাভাবিক, কারণ আম্বেদকরের জন্মদিন ‘জ্ঞান দিবস’ হিসেবেই পালিত হয়। অনেকেই এই দিনটিকে ‘সমতা দিবস’ হিসেবেও পালন করে। আর আমার মনে হয়, আমাদের পাইরেটেড ব্রহ্মাজীর জ্ঞান এবং সমতা, এর কারোর সাথেই কোনো সম্পর্ক নেই! আসলে এই দুই বিষয়- জ্ঞান এবং সমতা সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত যার জন্য ভারতের ছাত্র ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সূচনালগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত যারা সেই লড়াই জারি রেখেছে। এখনও ভারতবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের যে কোনো লড়াইয়ে এসএফআই সামনের সারিতেই রয়েছে। জেএনইউ, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া, হায়দরাবাদ, এএমইউ, টিস থেকে যাদবপুর রাজস্থান অব্দি ব্যাপ্ত সাথীদের লড়াই দেখে গর্ব অনুভব করি। কারণ এই লড়াইকে সারা দুনিয়ার নিয়ন্ত্রক এবং স্রষ্টা ভাবা ‘সবজান্তা ব্রহ্মাজী’ ভয় পায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নাম শুনলেই আমাদের ব্রহ্মাজীর ঘুম ছুটে যায়। যখনই নিজেদের কুটিল ষড়যন্ত্রের সমস্ত বাঘনখ খুলে নিজেদের পেটোয়া মিডিয়াকে সঙ্গী করে ওরা শিকারে বেরোয়, তখন বারবারই হেরে ফিরে আসে। অন্ধকারের ব্যাপারীদের এমন করেই হারাতে থাকো, জ্ঞানের মশাল এভাবেই জ্বালিয়ে রাখো। জেগে থাকো, জাগিয়ে রাখো। যাঁরা এই ব্রহ্মাজীকে পুজো করে তারা আম্বেদকরকে চিনলে, পড়লে- এমন ভক্ত হতে পারতো না। এটাকে এক ঐতিহাসিক ব্যাকরণগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতো। ইতিহাসে লেখা থাকবে- একবার ভারতীয় নাগরিকদের ইভিএম-এর বোতাম টিপতে গিয়ে একটি বড় ভুল হয়েছিল, যার ফলে এই নতুন ব্রহ্মাজীর জন্ম হয়েছে।
আপাতত এখানে এমন একজনকে আমরা স্মরণ করছি- যাঁর সম্পর্কে নিঃসন্দেহে বলা যায়- যদি উনি না থাকতেন তাহলে ভারতবাসী এই অবস্থায় পৌঁছতো না যেখানে আজ আসতে পেরেছে। আবার বাকি যতটুকু এগোনোর, সেদিকে আমরা তখনি এগিয়ে যেতে পারবো যখন মুক্তির লড়াইয়ে আমরা এক ব্যক্তিত্ব এবং এক চিন্তাধারার প্রতিভূ হিসেবে বাবাসাহেবকে আমাদের ঝান্ডার মুখ করতে পারবো। তাঁকে বিশ্লেষণ করবো তিনটি রূপে- বাবাসাহেবের ব্যক্তি, সংগ্রামী ও সংগঠক এবং তাঁর চিন্তাধারার সাপেক্ষে। বাবাসাহেব একদিকে ছিলেন সংস্কারক অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মী। তাঁর কৃতী এবং লড়াইকে ফিরে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ তাঁকে, তাঁর অবদানকে ভুলিয়ে দেওয়ার হাজার প্রচেষ্টা বেড়েই চলেছে। একটি ছোট্ট কথা দিয়ে শুরু করি, ডঃ বি আর আম্বেদকরকে আমরা 'বাবাসাহেব' নামেই ডাকবো। এই নামটি তাঁর প্রিয় সঙ্গী এবং কমরেড আর, বি মোরে দিয়েছিলেন। কমরেড মোরে নিজের জীবনীতে লিখেছেন- কীভাবে বাবাসাহেবের কথায়, সম্মতিতে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং যার ধারাবাহিকতায় পরে সিপিআইএম- এর দলীয় নেতা এবং বিধায়ক হয়েছিলেন।
বাবাসাহেব ভারতীয় সমাজের প্রথম ব্যক্তি এবং কর্মী যিনি যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক ধাঁধা অর্থাৎ জাতির প্রহেলিকা বা ধাঁধাকে তর্ক, যুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন। জাতিগত সমস্যার শেকড় খোঁজা, ব্যাখ্যা করা একই সঙ্গে মুক্তির পথ খুঁজতে খুঁজতে, একইসাথে পথ তৈরি করতে করতে এগিয়েছিলেন। এমনটা নয় যে, তার আগে জাতিবৈষম্য নিয়ে কোনো ভাবনা এবং লড়াই আগে ছিল না বা তৈরি হয়নি। জ্যোতিবা ফুলে, সাবিত্রী ফুলে, ফতিমা শেখ এরা তো এক্ষেত্রে অন্যতম নামই। তবে আম্বেদকর একে আরও বিস্তৃত করে তোলেন তাঁর মৌলিকতা দিয়ে। জনজাতিকে শতকরা হিসেবে দেখার ক্যালকুলেটর, ইভিএম মেশিনের বোতাম, পদমর্যাদা পেয়ে নেতাগিরি করার এটিএম কার্ডে বদলে ফেলার লোকেরা দলগত ভাবে বাবাসাহেবের ভিন্নতর মূর্তি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাঁর ভাবমূর্তি এতটাই বৃহদায়তন যে কোনো ছাঁচেই একে ফেলা সম্ভব হচ্ছেনা।
বাবাসাহেবের অন্যতম অবদান হল, জাতি এবং বর্ণের দ্বৈততাকে অদ্বৈততা হিসেবে চিহ্নিত করা। জাতি, বর্ণ দুটির রূপ আলাদা কিন্তু সারবস্তু একই। এই দুই ধরনের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইকে তিনি সামাজিক মুক্তির সোপান হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর প্রথম রাজনৈতিক দল- ইন্ডিপেনডেন্ট লেবার পার্টির (যার পতাকার রঙ ছিল লাল।) ঘোষণাপত্রে বলেছিলেন- ভারতীয় জনতার শিকল ভাঙার প্রক্রিয়া তখনই সম্ভব হবে যখন আর্থিক এবং সামাজিক দুইরকমের অসাম্য আর গোলামির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করা যাবে।
বাবাসাহেব মার্কসবাদী ছিলেন না একথা সত্য, তাই তিনি মার্কসবাদী পরিভাষাগুলি ব্যবহার করেননি। কিন্তু তাঁর লড়াইয়ের সঙ্গে মার্কসবাদের অসঙ্গতি নেই। মার্কসবাদী পথেও এর ব্যাখ্যা সম্ভব যেমনটা তেলতুম্বড়ে এবং অন্যান্যরা করেছেন। একই প্রজাতির অন্তর্গত হওয়ায় বর্ণ এবং শ্রেণি ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় কীভাবে জড়িয়ে একাকার হয়ে বিরাজমান, তা বোঝার তিনি চেষ্টা করেছিলেন। বিত্তের সঙ্গে এর সম্পর্কও আমরা বুঝতে পারি যখন স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও, দলিতদের ওপর হওয়া নৃশংসতাগুলি সংবাদপত্রে পড়ি, আর উচ্চবিত্তদের তালিকায় কোনো দলিতের, আদিবাসীর নাম পাইনা! যখন সবচেয়ে বঞ্চিতদের তালিকা বানাই তখন ৮০% থেকে ৯০% তাঁরাই থাকে যারা বর্ণব্যবস্থায়, মনুকথিত শূদ্র তথা ‘নিচুজাতি’। এই কারণেই মহাড়ের সত্যাগ্রহ, চাবদার পুকুরে সমানাধিকারের লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে মনুস্মৃতি জ্বালানো, ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধিতা এবং গান্ধীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ তর্কে জড়িয়েছেন। একই সঙ্গে সময়পর্বে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং শ্রমিকদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। রেলওয়ে শ্রমিক বম্বে টেক্সটাইল কারখানার মজুরদের হয়ে লড়েছে। ফলে বর্ণ এবং জাতি দুটোর বিরুদ্ধেই সোচ্চার হয়েছে।
সংবাদপত্রে একটি খবর পড়ার পর বাবাসাহেবকে আবার মনে পড়ল। মোদী সরকার করোনাকালের আড়ালে শ্রমের সময় ৮ ঘন্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘন্টা করার জন্য কারখানা আইনের ৫১ নম্বর ধারাকে সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সেই আইন যেটি ভাইসরয় কাউন্সিলের শ্রমিক প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে ২৭ নভেম্বর, ১৯৪২-এ বাবাসাহেব তৈরি করেছিলেন। এই দেশে প্রথম ৮ ঘন্টা শ্রম আইনী স্বীকৃতি পেয়েছিল। কোটি কোটি শ্রমিক ১২/১৪/১৬ ঘন্টা শ্রমের বাধ্যতা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারতে ন্যূনতম বেতন আইনও বাবাসাহেব সদস্য থাকাকালীন তৈরি হয়েছিল। এই পদটি শ্রমমন্ত্রীর সমতুল্য। মাতৃত্বকালীন ছুটি, মহিলা শ্রমিকদের সমবেতন, মহিলা এবং শিশুশ্রমিকদের জন্য সংরক্ষণ আইনও তখনই তৈরি হয়েছিল। খনি শ্রমিকদের জন্য আইনও তখন তৈরি হয়েছিল।
আজ যখন সব অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে, শ্রমিক-মজুরদের কর্পোরেট হাঙরদের সামনে ছুঁড়ে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে, এইসময় বাবাসাহেব সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং তাঁর আদর্শ আমাদের আন্দোলনের সাথী। তাঁর উত্থাপিত বিতর্ক এবং তথ্যভিত্তিক প্রশ্নে নিরুত্তর লোকজন প্রায়ই প্রশ্ন তোলে, বাবাসাহেব গভর্ণর জেনারেলের কাউন্সিলে কেন গিয়েছিলেন! আসলে প্রশ্নটি হওয়া উচিত ওই কাউন্সিলে তাঁর কী কী গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। আইন প্রণয়নই তাঁর একমাত্র অবদান নয়। কীভাবে আইন প্রণয়ন করতে হয় ও তৈরি করতে হয় বাবাসাহেবের কাছে তাও শিখি আমরা। সমতা সংক্রান্ত তাঁর চিন্তার ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আস্থা এবং সাযুজ্য আইন প্রণয়ন ভাবনায় নিহিত ছিল। আইন তৈরি করতে গেলে সেই আইন যাতে একের জন্য নয় দশের জন্য হয়, এমন নীতি প্রযুক্ত হয় যেখানে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ না হয়ে জনগণের মধ্যে তা বিকেন্দ্রীকৃত হয়, সেটাও শিখি। সমস্যা হল- এখন রাষ্ট্র নিয়ম-নীতি-আইন বলতে বোঝে, কিছু সরকার পক্ষের ধনিক গোষ্ঠীর সম্পদের পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে সাহায্য করা। সেটাই এদের কাছে দেশের ‘বিকাশ’! এদের সেবাই রাষ্ট্রবাদ, দেশসেবা! রাষ্ট্রের কাছে কর্পোরেটই মাতা চ পিতা ত্বমেব। জাতীয় আয় যাতে আম্বানি আদানি ইত্যাদি কর্পোরেটদের খাতায় জমা হয়।
আরেক কীর্তি হল, তিনি জাতিবৈষম্যের মধ্যে লিঙ্গগত বৈষম্যকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের গবেষণাপত্রে তিনি লিখেছেন- জাতির প্রধান পালনীয়, জাতের মধ্যে বিবাহ-সম্বন্ধ। কোনো মেয়ের বিবাহ বিষয়ে কোনো স্বাধীনতা থাকে না। এমনকি, প্রেমসম্পর্কও নজরদারির আওতায় নিষিদ্ধ।
বাবাসাহেব বলেছেন, বাল্যবিবাহ এবং সতীপ্রথা বজায় রাখা আর বিধবাবিবাহ রদ করার জন্য বহুযুগ ধরেই ভারতে দেব-দেবী-গ্রন্থ-পুরাণের ছাপ লাগানো চলেছে, মেয়েদের শুদ্ধতা মনুস্মৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত করার চেষ্টা হয়, সেই অনুযায়ী নিয়ম তৈরি হয়। জাতির মধ্যেও নারীকে আরও শোষণে জর্জরিত করার উপায়গুলি চিহ্নিত করেন। জাতিশোষণের দীর্ঘাস্থায়িত্বের মধ্যে লিঙ্গ রাজনীতিকে পরিচিত করিয়ে দেওয়া বাবাসাহেবের মৌলিক কাজগুলির অন্যতম। নেহরু সহ সেই সময়ের প্রখ্যাত সব নেতাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন স্বতন্ত্র যিনি নারীর মুক্তির লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তার জন্যে লড়াই করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে নেহেরুর মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগও করতে হয়েছে তাঁকে। নতিস্বীকার বা সমঝোতা কখনোই করেননি।
১৯৫১ সালে তিনি হিন্দু কোড বিলকে সংসদে পেশ করেন এবং পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে সমাজের জাতি-লিঙ্গ-বর্ণ বৈষম্যের শিকলগুলিকে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে কঠোরতর করার সুদীর্ঘকালের ষড়যন্ত্র বিষয়ে যে বক্তৃতা দেন তা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি তখন এমন সব কথা বলেছিলেন, যা এখন বলতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন। তিনি বলেন, যদি আমি বিচারক হতাম আর সীতা-রামের মামলা আমার কাছে আসতো, তাহলে আমি রামকে আজীবন কারাবাসের শাস্তি দিতাম। তিনি বলতেন, আমাদের আখ্যানগুলিকেও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে নারীর প্রতি জাতি ও বর্ণের শোষণকে আরও কঠোর করা যায়, জাতিবৈষম্যকে ধর্মীয় মোড়কে ঢেকে রাখা যায়। বাবাসাহেবকে আগেকার সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি করে মনে করবো, কারণ সমস্ত লজ্জা-শরম-মর্যাদার লোপ পেয়ে চিন্ময়ানন্দ, কুলদীপ, আসারাম, গুরমীত রাম রহিমদের ‘নতুন আরাধ্য’ বানিয়ে তোলা হচ্ছে। জাতির ঝান্ডা পোঁতার জন্য রয়েছে নারীদেহ! জেএনইউ-এর ঐশী ঘোষই একমাত্র নয় আইটি সেলের নিশানায় জামিয়া, এএমইউ এবং টিসের মেয়েরাও রয়েছে। শিক্ষিত, স্বাধীন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে স্বনির্ভর নারী এদের চক্ষুশূল। তাই তাদের একমাত্র বিধান, নারীকে গার্হস্থ্য সীমায় কয়েদ করে ফেলা। বাবাসাহেব উল্টোদিকে বলেছেন, প্রতিটি মানুষ নারীর কোলে জন্মায়, পালিত হয়; নারীই প্রত্যেককে দেশ চেনায় নাগরিক বানায়। তাই তাঁদের অধিকার সর্বাগ্রে। এখন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের সময়, নারীর ওপর, নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের ওপর আক্রমণের সময় এই কথাগুলি বারবার বলা প্রয়োজন। এই লড়াইয়ে আমরা সকলে একসঙ্গে আছি।
আম্বেদকরের আদর্শ সমাজ এক এমন সমাজ যা বিন্যস্ত হবে স্বাধীনতা, সাম্য মৈত্রীর ওপর। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র শুধু দেশের ঐক্য নয়, মানবিকতা এবং মনুষ্যত্বের জন্যও ক্ষতিকর। এখন বাবাসাহেবকে কিছু জাতিবিশেষের সাথে যুক্ত করে অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষের চাষ করা হচ্ছে! তাঁকে এরকম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বিচারব্যবস্থায় প্রতীক নির্বাচন বিষয়েও বাবাসাহেব এই কারণেই সচেতন ছিলেন। যখন তিনি মনুস্মৃতি পোড়ানোর আহ্বান জানান তখন মহারাষ্ট্র ব্রাহ্মণ সভার অধ্যক্ষ আম্বেদকরকে চিঠি লেখেন- উনি এই সভায় সামিল হতে চান দর্শক হিসেবে। কিন্তু তার একটি শর্ত আছে, মনুর বইয়ে আগুন আম্বেদকরকে নিজের হাতে লাগাতে হবে। বন্ধু সহস্রবুদ্ধেকে দিয়ে সেটা করালে হবে না। ষড়যন্ত্রটি খুব স্পষ্ট, অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে বাবাসাহেব মনুস্মৃতি পোড়ালে বিষয়টিকে তৎক্ষণাৎ দলিত বনাম ব্রাহ্মণ হিসেবে দেখানো যাবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তাবটি বাবাসাহেব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মনুস্মৃতির সঙ্গে বা মনু এবং তার চিন্তাধারার বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র দলিতদের নয়-সমস্ত সচেতন বোধসম্পন্ন নাগরিকের লড়াই। সহস্রবুদ্ধে বাবাসাহেবের বন্ধু এবং সহযোগী ছিলেন এবং জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ। আগুন তিনিই লাগাবেন। মনুস্মৃতি পোড়ানোর কাজটি তিনি বহু সত্যাগ্রহেই করেছেন রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই। তিনি জানতেন, জাতিব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই এক জাতির সাথে অন্য জাতির লড়াই নয়। জাতিব্যবস্থার মধ্যে বন্দী থেকে এই লড়াই সম্ভব নয়। যেমন রয়েছে প্রবাদে- নুন থেকে নোনতা স্বাদ পৃথক করা সম্ভব নয়।
এখন আবার ধর্মান্ধতা কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাসের বাড়-বাড়ন্ত শুরু হয়েছে। থালা-বাসন-বালতি বাজিয়ে করোনা-তাড়না চলছে-ধূপ দীপে আরতি করা হচ্ছে-সেনারা বিমান থেকে ফুল ছড়াচ্ছে। এই করোনাকালকে স্বাস্থ্য সচেতনতা- পরিচ্ছন্নতাকে বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে যখন ব্যবহার করতে পারতাম; সেখানে দেশের নেতারাই প্রত্যক্ষভাবে তাদের আরও অন্ধবিশ্বাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, গোবর-গোমূত্র, ধর্মীয় সূত্রাবলীর গুণগান করছে। চাণক্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে একটি মজার কথা বলেছেন- রাজার ঈশ্বরবিশ্বাসী হওয়া উচিত নয়, তাহলে সে রাজত্ব করতে পারবেনা; কিন্তু রাজা জনতাকে ঈশ্বরবিশ্বাসী করে তুলবে, কারণ জনতা ঈশ্বরবিশ্বাসী না হলে, রাজার রাজত্ব বিনা তর্কে মানবেনা।
তাই বোধবুদ্ধি বিতর্কের ওপর বারবার হামলা করা হচ্ছে। গত পাঁচ হাজার বছরে আমরা যেটুকু শিক্ষা সহবৎ সহিষ্ণুতা শিখেছিলাম সেসব মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন করা ও পর্যালোচনাকে দেশদ্রোহ নাম দেওয়া হয়েছে। ১৮৫৭ র প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ৯০ বছরের লড়াই, ১৯১৯ এর জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস গণহত্যার পরে ইংরেজদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ লড়াই এবং আন্দোলনকারীদের নিজেরদের মধ্যে ও একে অপরের সঙ্গে ভাবনা-চিন্তা-পন্থার ভাঙাগড়া-পার্থক্য-মতান্তর- সমতা- তর্ক-মন্থন সবই ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক-সামাজিক-দার্শনিক ভাবে একসঙ্গে ঘটে চলেছিল। এই ভাঙাগড়া-মন্থন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ছিল- এক, পলাশির যুদ্ধের পর আমরা কীভাবে ইংরেজদের গোলাম হয়ে পড়লাম? দুই, স্বাধীন কীভাবে হব? তিন, স্বাধীনতার পর আমাদের কী কী করা উচিত যাতে আবার দাসত্বের আশঙ্কা মুক্ত হতে পারি এবং ‘নতুন ভারতের’ নির্মাণ সম্ভবপর হয়।
ভারতবর্ষের সংবিধান এই তর্ক-মন্থন থেকে উঠে আসা দস্তাবেজ, যেখানে কোনোরকম ব্যক্তিপ্রাধান্য কাঙ্খিত নয়। যাতে ৫১ নম্বর ধারার এ, এইচে বলা হয়েছে- ‘সমস্ত নাগরিক নিজের এবং দেশের মধ্যে সচেতনতা বজায়ের সদিচ্ছা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসাকে বিকশিত করবে’। থালা বাসন বালতি বাজাবে না!
করোনা এবং মূর্খতা দুই মিলিয়ে এই মরোনার সময় কোনটা যে বেশি বিপজ্জনক তাই এখন তর্কের বিষয়! প্রকৃতপক্ষে ভাইরাস হল ‘কর্পোরেট হিন্দুত্ব’। ‘হিন্দুত্ব’ মানে বলতে চাইছি-সাভারকরের হিন্দুত্ব। হিন্দুত্বের এই সংজ্ঞা নির্মাণের সময় তার বক্তব্য ছিল- এর সাথে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য এবং মান্যমানতার কোনো সম্পর্কে নেই। এটি শাসন করার একটি পন্থামাত্র। হিন্দুত্ব মানে মনুস্মৃতির বিবর্তিত রূপের বাহ্যিক প্রকাশ। সেখানে গণতন্ত্র চাইনা। সমতা, সাম্য, এসবকেই বলা হবে বহির্ভারতীয় ধারণা, ফলে ভারতে চাইনা। সংবিধান পাশ্চাত্য থেকে এসেছে, তাই চাইনা। কী চাই? একটি বদ্ধ সমাজ, অল্প মানুষের হাতে সমস্ত ক্ষমতা, গণপিটুনির হিংসাত্মক, পাশবিক পরিবেশ। যারা ভাবছেন এরা ব্রাহ্মণ্যবাদী নয় তারা ভুল ভাবছেন। এদের কাছে শূদ্র শুধু জন্মগত নয়, তাঁর নির্দিষ্ট পেশাতেও তারা সীমায়িত। দিল্লি থেকে যারা সদলে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছে, পায়ে হাঁটা সেই পরিশ্রমী শ্রমিকরা, তাদের মতে শূদ্রই। তাদেরকেই মেরে ধরে, জেলবন্দী করে, দোষারোপ করে কুকথা বলেও জ্বালা মিটছে না। আর নারী তো এদের কাছে চিরকালীন শূদ্রাতিশূদ্র।
এই হিন্দুত্ব, জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের খোলোস পরে এসেছে। এই ধারণা সভ্য সমাজের সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি নষ্ট করে ফেলতে চায়। ভিন্নমত, বিশ্লেষণ পরায়নতা, চিন্তাচর্চায় এদের ভয়। বৌদ্ধিকচর্চা তর্কশীলতায় এদের থরহরি কম্পন শুরু হয়। অনেক বৈচিত্র্য এবং অসঙ্গতিতে ভরা আমাদের দেশে এদের রাজনীতি আসলে মনুর নতুন রূপ। বাবাসাহেব বলতেন- ‘হিন্দুত্ব, স্বাধীনতা সাম্য এবং মৈত্রীর পক্ষে বিপজ্জনক'। ১৪ এপ্রিল যখন সর্বত্র আম্বেদকরের জন্ম-জয়ন্তী পালিত হচ্ছিল তখন মোদি-সরকার বাবাসাহেবের পৌত্রীর জীবনসঙ্গী অধ্যাপক আনন্দ তেলতুম্বড়ে এবং গৌতম নওলখাকে জেলবন্দী করে। আমি আম্বেদকরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে চাইনা, তা বলার বিষয় নয়। তেলতুম্বড়ের ওপর হামলা, আম্বেদকরের ওপরই হামলা। অধ্যাপক তেলতুম্বড়ে আমাদের সময়ে বাবাসাহেব এবং তাঁর ভাবনাচিন্তার উত্তরাধিকার বহন করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি মার্কসবাদী বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে ভারতবর্ষ সম্পর্কে বাবাসাহেবের বক্তব্য-ভাবনা-সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করেছেন; শুধু তাই নয়, যে ভাবনাগুলিকে একরৈখিকভাবে ব্যাখ্যা করা হত তাকে বহুমাত্রিক এবং সর্বাঙ্গীন করে তুলেছেন। শুধুমাত্র দলিতদের পক্ষ নিয়েই নয়, বাবাসাহেব সমস্ত নাগরিকের, মানুষের মৌলিক অধিকার বিষয়ে, সমকালীন সমস্ত বৈষম্যের প্রশ্নকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন সেটাই তিনি তুলে ধরেছেন। বাবাসাহেব সম্পর্কে সীমাবদ্ধ বিশ্লেষণকে বিস্তৃত করে দেখিয়েছেন তিনি। এইরকম অধ্যাপককে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা আর তাদের ফ্যাসিস্ট ভাইয়েরা দেশদ্রোহী নাম দিয়ে জেলবন্দী করছে যাতে অসম্মতি এবং প্রতিরোধের সমস্ত শিকড়কে তুলে ফেলা যায়। আরেকদিকে সরকারী তরফে আম্বেদকরকে শ্রদ্ধা জানানোর নাটক করে চলেছে, ভোটব্যাংক বাড়াতে।
পরিস্থিতি এখন, ইংরেজদের চাটুকার আর পাশবিকতার নেকড়েদের হাতে শাসনভার- কিন্তু প্রশ্ন হল এদের হাতে শাসনভার এল কীভাবে?
যারা মহান তারা কেবল মহৎকাজে অংশগ্রহণে মহৎ হয়না, তাদের পূর্বানুমান, দূরদৃষ্টির মাধ্যমেও তারা মহান হন। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞান চিরকালীন এবং সমকালীন। প্রতিমুহূর্তে যা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। বাবাসাহেবও তেমনই একজন মহান মানুষ। ২৫ নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে শেষ ভাষণে তিনি পরিষ্কার তিনটি বিষয়ে সাবধান করেছিলেন-
আমরা রাজনৈতিক গণতন্ত্র লাভ করেছি ঠিকই কিন্তু আমাদের সমাজে গণতন্ত্র নেই। ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় দুটি জিনিস অনুপস্থিত, এক, স্বাধীনতা এবং দুই, ভ্রাতৃত্ব। যদি শীঘ্রই সামাজিক গণতন্ত্র অর্জন করা না যায়, তাহলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের আয়ু বেশিদিন নয়।
দ্বিতীয় সাবধান বাণী যেটা সেটা আরো বেশি এইসময়ে প্রযোজ্য- যদি মানুষ নিজের সমস্ত শক্তি নিয়ে একজন সে যত মহানই হোক তার পায়ে আত্মসমর্পণ করে এবং তাকে শক্তিধর বানিয়ে তোলে, তখন সে সংবিধানকেই বদলে ফেলতে চায়। সেটাই সংবিধান এবং গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। রাজনীতিতে ব্যক্তিপূজা এবং ভক্তি সংবিধানের পতন এবং তার ফলশ্রুতিতে অপশাসনে দেশের ভয়ঙ্কর দুর্দশাকে সুনিশ্চিত করে।
১৯৭৫ থেকে ৭৭ এর মধ্যে জরুরি অবস্থায় ভুক্তভোগী দেশ যেভাবে বিগত কয়েকবছরে ভক্তযুগ এবং একনায়কতন্ত্র স্বৈরতন্ত্রকে প্রত্যক্ষ করছে, তার আর বেশি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
তবে হ্যাঁ, একটি বড় পার্থক্য রয়েছে- বাবাসাহেব তাঁর সমকালে জনগণকে যাঁদের সম্পর্কে সাবধান করেছিলেন তারা সত্যিই বড় মাপের মানুষ ছিলেনযাঁর। নেহেরু ছিলেন, প্যাটেল ছিলেন, রাজাজী ছিলেন। গান্ধী তার কিছুদিন আগেই মারা যান। এরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মী ছিলেন, বড় মানুষ ছিলেন, জেল খেটেছিলেন, এঁদের একধরণের কঠিন পথ দিয়ে যেতে হয়েছিল। এঁদের তুলনায় আজকে যারা নেতা হয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা কিছুই নয়!
শেষে বলি, একটি সমস্যা এবং এক সমাধানের কথা-সমস্যা হল, বাবাসাহেবকেই তাঁর তথাকথিত ভুঁইফোঁড় ফড়েরা, ঠিক তাই বানিয়ে তুলতে চাইছেন, যা হয়ে উঠতে বাবাসাহেবের নিজের সারাজীবনে চরম আপত্তি ছিল; বাবাসাহেবের মূর্তি বানিয়ে হাতে সংবিধান ধরিয়ে তারা পূজা শুরু করে দিয়েছে এবং তাঁর সবচেয়ে মহৎ, বৈপ্লবিক লেখা ‘অ্যানাইহিলেশন অফ কাস্ট’ (জাতির বিনাশ) সংক্রান্ত বই এবং চিন্তাধারাকে কবরে পাঠিয়েছে। পুজোর জয়ঢাকে বাবাসাহেবের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্বর এবং চিন্তাধারা চাপা পড়ে গেছে। এরা না ভালো করে বাবাসাহেবকে পড়েছে, না বুঝেছে; এরা তারাই যাদেরকে বাবাসাহেব জনসভাগুলিতে ডান্ডা মেরে ভাগিয়ে দিতেন। ঔরঙ্গাবাদের এক সভায় বাবাসাহেব সত্যিই তা করেছিলেন- যে মুহূর্তে বাবাসাহেবের গাড়ি সভায় পৌঁছয়, কিছু লোক বাবাসাহেবকে প্রণাম করবে বলে ভিড় করে আসে। বাবাসাহেব তখন লাঠি উঁচিয়ে তাদেরকে মারতে যান এবং বলেন- আমার ভক্তের প্রয়োজন নেই, আমার চিন্তাধারার জন্য সমর্পিত সচেতন, বোধসম্পন্ন কর্মী প্রয়োজন।
সম্ভাবনার কথা হল- রাত্রি যত আঁধারই হোক, তার শেষে ভোর হবেই। এই আলো ঝলমলে সকাল কীভাবে আসবে? স্বাভাবিকভাবেই সেই তর্ক-বিশ্লেষণের মাধ্যমে , যা বাবাসাহেব ১৯৩৮ সালে নিজের পার্টির ঘোষণাপত্রে সূত্রাকারে দিয়েছিলেন এবং ২৫ নভেম্বর ১৯৪৯ এ সাবধানবাণী হিসেবে বলেছিলেন। রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে বাঁচাতে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং সমতা কায়েমের পথেই সকাল আসবে। এই পথেই আমাদের লড়াই জারি রয়েছে। ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় এই লড়াই তখনই জেতা সম্ভব হবে যখন কর্পোরেট এবং মনুর বাহ্যিক সংস্করণ হিন্দুত্ব, দুইয়ের বিরুদ্ধেই লড়বো। আর এই লড়াই লড়তে তারাই সক্ষম যাদের একহাতে- বাবাসাহেবের ১৯৩৬ এ লেখা ‘অ্যানাইহিলেশন অফ কাস্ট’ এবং আরেকহাতে ১৮৪৮ লিখিত মার্কস এবং এঙ্গেলসের 'কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো' থাকবে। এমনটা কী হবে কখনও? হ্যাঁ আজকাল এমনটা সত্যি সত্যিই ঘটছে।
বাদল সরোজঃ ১৯৭২ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত এসএফআই কর্মী, পাটনা সম্মেলনে এস এফ আই-এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত। সম্প্রতি অখিল ভারতীয় সভার সংযুক্ত সচিব এবং ‘লোকযত্ন’- এর সম্পাদক।
(১৪ এপ্রিল, ২০২০ তে TISS এর প্রোগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ফোরাম আয়োজিত বক্তৃতার সম্পাদিত রূপ)
* চিহ্নিত অংশগুলি বক্তৃতা থেকে সামঞ্জস্য রক্ষা করে যুক্ত করা হয়েছে।
ভাষান্তর: বীথিকা সাহানা
প্রকাশের তারিখ: ১৫-এপ্রিল-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
