Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

সংরক্ষণ ও সঙ্ঘের রঙবদল

শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
২০১৬ সালে দ্য ওয়ার পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে গোবিন্দাচার্য বলেন, আমাদের সংবিধানের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সংরক্ষণ হয়ত কিছুটা সহায়তা করে এবং তার চেয়েও বেশি ‘আবেগের’ দিক থেকে গুরুত্বও রয়েছে, তবু আমাদের আলোচনা করা উচিত অন্য আর কী করা যায়। আমাদের সংবিধান অত্যন্ত অস্পষ্ট, অনির্দিষ্ট এবং প্রকৃতপক্ষে হবস, লক ও কান্টের মত পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের অনুকরণে তৈরি। এর সবটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং শুধু বাহ্যিক উন্নতির কথা ভেবে তৈরি। আমাদের সভ্যতা ৪০০০-৫০০০ বছরের পুরোনো। সেজন্যেই নতুন সংবিধান প্রয়োজন।
Reservation and RSS

আরএসএস কি সংরক্ষণ সমর্থন করে? 

নাকি বিরোধিতা করে? 

সম্ভবত এটিই হতে পারে ভারতীয় রাজনীতির একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। কারণ এই একটি প্রশ্ন নিয়ে আরএসএস এত বার রঙবদল করেছে বা একইসঙ্গে একাধিক ভাষ্যে বক্তব্য রেখেছে যার দৃষ্টান্ত ভারতীয় রাজনীতিতে খুবই কম। 

স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে ৩০ নভেম্বর আরএএস-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার-এর সম্পাদকীয় স্তম্ভে দলিতবিরোধী ও নারীঅবমাননাকারী মনুস্মৃতিকে ভারতের সংবিধানের চেয়ে উন্নত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। লেখা হয়েছিল, ‘কিন্তু আমাদের সংবিধানে প্রাচীন ভারতের সাংবিধানিক উন্নতির অনন্য অবদানের কোনো উল্লেখ নেই। স্পার্টার লাইকারগাস ও পারস্যের সোলনের অনেক আগেই মনুর বিধান লিখিত হয়েছিল। আজকের সময় অবধি মনুর বিধানগুলি সারা বিশ্বে প্রশংসাধন্য এবং সেটা সকলের স্বতঃস্ফূর্ত মান্যতা ও সম্মতি আদায় করছে।’

ভারতের সংবিধানে নাগরিক নির্বিশেষে সমানাধিকার প্রদানের বৈশিষ্ট্যেরও নিন্দা করেছিল আরএসএস। ১৯৬০ সালে ‘হিন্দু রাষ্ট্র কেন?’ শীর্ষক একটি পুস্তিকায় আরএসএস প্রধান গোলওয়ালকার লিখেছিলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সংবিধান... সকলকে সমানাধিকার দিয়েছে এমনভাবে যেন কোনো গৃহস্থ কিছু না বুঝেই নিজের সন্তান ও তার বাড়িতে থাকা চোরেদের সমানাধিকার দিয়েছে এবং তারপর সকলকে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছে।’ 

উপরোক্ত দু’টি উদ্ধৃতি থেকেই স্পষ্ট, জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমানাধিকার সম্পর্কে আরএসএস-এর দৃষ্টিভঙ্গি কী? যে মনুস্মৃতিতে নারী ও নিম্নবর্ণের জনগনের জন্যে অবমাননাকর অবস্থান নির্দিষ্ট হয়েছে তাকেই আরএসএস আধুনিক সংবিধানের চেয়েও উন্নত বলে দাবি করেছে সবসময়। প্রকৃতপক্ষে গোড়া থেকেই আরএসএস পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে অগ্রাধিকারের সাংবিধানিক সমস্ত ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। এবং বরাবরই তাদের ঝোঁক ছিল ব্রাহ্মণ ও বণিক সম্প্রদায়ের প্রতি। নেতৃত্বেও মহারাষ্ট্রের চিৎপবন ব্রাহ্মণরাই সবসময় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর সরকারের সিদ্ধান্তে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্যে সংরক্ষণের বিধি বলবৎ হওয়ার পর সারা দেশে যে উচ্চবর্ণের নেতৃত্বে সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার নেপথ্যে ছিল আরএসএস। মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেই বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় বিজেপি। মণ্ডল বনাম কমণ্ডল এই আওয়াজ তুলে রামজনমভূমি আন্দোলনের ডাক দিয়ে রথযাত্রা শুরু করে আদবানির নেতৃত্বে বিজেপি। দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলিতে সংরক্ষণ বিরোধী উচ্চবর্ণের ছাত্রদের যে বিক্ষোভ আন্দোলন হয় তার সবক’টিতেই ছিল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন বিদ্যার্থী পরিষদ। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সেই ভাবাবেগে ভর করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি সংরক্ষণের প্রশ্নে সুর বদল করতে শুরু হয়। যে আম্বেদকরের তীব্র বিরোধিতা করে এসেছিল তারা এতদিন, সেই আম্বেদকরকেই নিজেদের আইকন হিসেবে তুলে ধরার নানা উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়। এ সত্ত্বেও মাঝেমাঝেই আরএসএস নেতৃত্বের তরফে এবং বিজেপির মধ্যস্তরের নেতাদের বয়ানে সংরক্ষণ বিরোধিতার সুর শোনা গেছে।

এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি আইটি সেলের তৈরি একটি পোস্ট হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কী কী কারণে বিজেপিকে ৪০০টি আসনে জয়ী করা জরুরি। এই কারণগুলির মধ্যে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার জন্যে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি ছিল সংরক্ষণ ব্যবস্থা চিরতরে তুলে দেওয়ার বিষয়টি। বলা হয়েছে এর জন্যে বিজেপিকে এককভাবে ৪০০ আসনে জয়ী করা জরুরি। ভারতবর্ষের নানা ভাষায় অনুবাদ করে এই পোস্টটিকে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ প্রচারের পাশাপাশি বিজেপির মধ্যস্তরের নানা নেতারাও জনসভায় এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার কথা বিক্ষিপ্তভাবে বলতে শুরু করে। এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য উচ্চবর্ণের ভোটকে জমাটবদ্ধ করা। 

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দু’টি পর্যায়ের ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর বিজেপি ও আরএসএস নেতারা অশনি সংকেত দেখছেন। ফলে হঠাৎ করেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ২৯ এপ্রিল ঘটা করে ঘোষণা করে বসলেন যে সামাজিক মাধ্যমে আরএসএস-সংরক্ষণের বিরোধী বলে প্রচার করে যে ভিডিওটি ঘুরছে তা ভূয়ো। আরএসএস নাকি সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত ধরনের সংরক্ষণের ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক। তিনি দাবি করেন, সঙ্ঘ চায় যতদিন সমাজে বৈষম্য বজায় থাকবে ততদিন সংরক্ষণ অব্যাহত থাকুক। অভিজ্ঞ মহল কথাটি শুনে চমকে গেছে। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় চারটি দশক ধরে আরএসএস নাগাড়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। শুধু সংরক্ষণের বিরোধিতাই নয়, তারা ভারতের সংবিধান ও জাতীয় পতাকাকেই প্রত্যাখান করেছে স্বাধীনতার প্রথম লগ্নে। ২০০২ সালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট আইন প্রণীত হওয়ার আগে অবধি আরএসএস-এর সদর দপ্তরে কখনো ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। হেডগেওয়ার তিনটি রঙে তৈরি পতাকাকে অশুভ বলেছিলেন কারণ হিন্দু ধর্মে নাকি তিন সংখ্যাটি অশুভ।

আরএসএস কখনো সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি বলে মোহন ভাগবত যে দাবি করেছেন তার সত্যতা যাচাই করেছেন রাহুল নামে এক এক্স-হ্যান্ডেলের গ্রাহক। তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন নিম্নলিখিত তথ্যগুলি।

১। মনমোহন বৈদ্য, ২০১৭– ‘সংরক্ষণ তুলে দেওয়া উচিত’।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জয়পুর সাহিত্য উৎসবে আরএসএস-এর তৎকালীন মুখ্য প্রচার সচিব এবং বর্তমানের সহ-কার্যাবহ বা সহ সাধারণ সম্পাদক মনমোহন বৈদ্য বলেছিলেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা একটি ‘ভিন্ন প্রেক্ষিতে’ চালু হয়েছিল। ঐতিহাসিক কিছু অবিচারের অবসানের জন্যেই সংবিধানে এর ব্যবস্থা রাখা হয়। আম্বেদকরও বলেছেন এর দীর্ঘমেয়াদ উচিত নয়। এর একটি ‘সময়সীমা’ থাকা উচিত। এটা অব্যাহত থাকলে সংকীর্ণতা উৎসাহিত হবে।

২। কে এন গোবিন্দাচার্য, ২০১৬, ‘সংবিধানকে সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।’

২০১৬ সালে দ্য ওয়ার পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে গোবিন্দাচার্য বলেন, আমাদের সংবিধানের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সংরক্ষণ হয়ত কিছুটা সহায়তা করে এবং তার চেয়েও বেশি ‘আবেগের’ দিক থেকে গুরুত্বও রয়েছে, তবু আমাদের আলোচনা করা উচিত অন্য আর কী করা যায়। আমাদের সংবিধান অত্যন্ত অস্পষ্ট, অনির্দিষ্ট এবং প্রকৃতপক্ষে হবস, লক ও কান্টের মত পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের অনুকরণে তৈরি। এর সবটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং শুধু বাহ্যিক উন্নতির কথা ভেবে তৈরি। আমাদের সভ্যতা ৪০০০-৫০০০ বছরের পুরোনো। সেজন্যেই নতুন সংবিধান প্রয়োজন।

৩। এম জি বৈদ্য, ২০১৫ : ‘এখন আর সংরক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই।’

২০১৫ সালে দ্য হিন্দু পত্রিকার সাথে কথা বলতে গিয়ে আরএসএস-এর তাত্ত্বিক নেতা এম জি বৈদ্য বলেন, সংরক্ষণ তুলে দেওয়া উচিত। ‘এখন আর জাতপাত ভিত্তিক সংরক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই কারণ কোনো জাতই এখন আর পশ্চাৎপদ নয়। যদি করতেই হয় তবে শুধু এসসি ও এসটির জন্যে হোক, তাও মাত্র ১০ বছরের জন্যে। এরপর এই গোটা ব্যবস্থা তুলে দেওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, জাতপাত ভিত্তিক সংরক্ষণ জাতপাতের বিভাজন দূর করে নি, বরং বৃদ্ধি করেছে।

৪। মোহন ভাগবত, ২০১৫: ‘সংরক্ষণ ব্যবস্থার পুনর্বিচার হওয়া কাম্য’।

২০১৫ সালে মোহন ভাগবত নিজেই দাবি করেন যে সংরক্ষণের ব্যবস্থাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সুতরাং এর পুনর্বিচার প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সমগ্র জাতির জন্যে প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক সাম্যের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হোক, সেখানে সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব। সেই কমিটিই সাব্যস্ত করুক সমাজের কোন অংশের জন্যে সংরক্ষণ প্রয়োজন এবং সেটা কত সময়ের জন্যে।’ দ্য হিন্দু পত্রিকার মতে, তিনি বলেন, ‘স্বয়ংশাসিত কমিশনের আদলে গঠিত একটি অরাজনৈতিক কমিটি এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকুক। রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এর তদারকি অবধি।’

২০১৯ সালে তিনি আবার এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের অবস্থান খোলসা না করলেও বলেন যে যারা সংরক্ষণ সমর্থন করেন এবং যারা বিরোধিতা করেন তাদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের বাতাবরণে মতবিনিময় হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ ২০১৯ সালেও মোহন ভাগবত সংরক্ষণ বিরোধীদেরকে মর্যাদা দিতে প্রস্তুত, অথচ ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দু’টি পর্যায়ের ভোটগ্রহণের পর তিনি হঠাৎ করে সংরক্ষণ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়িত্বের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে নিজেকে প্রতিপন্ন করছেন।

প্রকৃতপক্ষে আর সমস্ত কিছুর মত এই প্রশ্নেও আরএসএস-এর ইতিহাস শঠতাপূর্ণ এবং বহুরূপীর মত। তারা যেমন একইসাথে মহাত্মা গান্ধী ও নাথুরাম গডসের প্রতি অনুরক্তি ব্যক্ত করে, ঠিক তেমনি আম্বেদকর নিয়েও তাদের অবস্থান অসত্য ভাষণে ভরা। খুব সুচতুরভাবে তারা সারা দেশে এই কথাটি ছড়িয়ে দিয়েছে যে আম্বেদকর চেয়েছিলেন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু থাক দশ বছরের জন্যে শুধু। এটি একটি অর্ধ সত্য। সংবিধানে তিনটি স্থানে সংরক্ষণ সম্পর্কে সবিস্তারে বলা রয়েছে। এগুলি হল মৌলিক অধিকার, নির্দেশাত্মক নীতিমালা ও কয়েকটি বর্গের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনার অংশে। মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত সংবিধানের ১৬ থেকে ১৬ (৪খ) ধারায় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারি চাকরিতে যেখানে যেখানে ‘যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব নেই’ সেখানে সংরক্ষণ চালু করার জন্যে। ৪৬ নং ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দুর্বলতর শ্রেণির শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্যে বিশেষ নজর দেবে এবং বিশেষ করে অনুসূচিত জাতি ও জনজাতি গোষ্টীকে সমস্ত ধরনের সামাজিক অবিচার ও শোষণ থেকে রক্ষা করবে। ৩৩৫ নং ধারায় সংবিধানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারি ক্ষেত্র ও শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্যে। আরএসএস-এর মতে এই সমস্ত সংরক্ষণই আম্বেদকর চেয়েছিলেন মাত্র ১০ বছরের জন্যে এবং একে অব্যাহত রাখাটা আম্বেদকরের নির্দেশিকাকে অমান্য করা। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংবিধানের ২৯৫-ক ধারায় তিনি বিধানসভা ও লোকসভার ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণকে ১০ বছরের জন্যে বলবৎ রাখার কথা বলেছিলেন শুধু। তাঁর এই বক্তব্য চাকুরি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি ১০ বছরের মেয়াদ শেষে লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংরক্ষণের নীতিরই পর্যালোচনা করার কথাই বলেছিলেন তিনি।

সংরক্ষণ, সংবিধান কিংবা আম্বেদকর— সমস্ত ক্ষেত্রেই আরএসএস-এর অবস্থান হল নিরন্তর রঙবদলের। তার সাথে নীতি বা আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই।


প্রকাশের তারিখ: ১০-মে-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

মনুবাদী দৃষ্টিতে যারা চলে তাদের কাছ থেকে আর কি আশা করা যায়। এদের কাছে মানবাধিকার, সমানাধিকার বা নারী স্বাধীনতার দাম নেই।
- Gautam Bh, ১০-মে-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৪৯ টি নিবন্ধ
২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬