Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

উত্তর আধুনিকতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ (৩য় পর্ব)

আইজাজ আহমেদ
নির্বাচনী ব্যবস্থার উদারনৈতিক অস্তিত্বটি ঠিক ততদিনই সুরক্ষিত থাকবে যতদিন না আরএসএস এই ব্যবস্থায় নিজেদের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত। কেউ বলতে পারবেনা নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় অনুধাবন করতে পারলে তারা কিই না করতে পারে।
Postmodernism, Fascism and Marxism (III)

কংগ্রেসের ভরাডুবি বামেদের পক্ষে না গিয়ে দক্ষিণপন্থীদের দিকে চলে গেছে, এর সঙ্গে পশ্চিমবাংলার নির্বাচনে বামেদের বিপর্যয়ও বিজেপি'র সুবিধা করে দিয়েছে। সর্বোপরি অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেসি জোটের ভরকেন্দ্র হিসাবে কাজ করে একদা নিজেদের তৃতীয় বিকল্প হিসাবে তুলে ধরা বামেদের নির্বাচনী বিপর্যয় ও কংগ্রেসের ভরাডুবির ফলে এই মুহূর্তে তৃতীয় বিকল্পের সম্ভাবনা শূন্য হয়ে গেছে। ২৪৫টি বিরোধী আসনের ঠিক কতজন প্রকৃত অর্থে বিজেপি'র বিরোধী তাও স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই অপ্রাসঙ্গিক ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স বা এন ডি এ তে ভিড়েছেন, বিজেপি'র পক্ষ থেকে উপযুক্ত দর হাঁকলে আরও অনেকেই হয়ত শিবির পাল্টাবেন। আরএসএস'র মুখ হিসাবে বিজেপি'র কাছে কোনোরকম জোটের আর প্রয়োজনীয়তা নেই। নির্বাচনী ময়দানে আরএসএস'কে কার্যকরী প্রতিরোধ করার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, তার জন্য বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি দায়ী নয় বরং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষুদ্রকায় হয়ে পড়াই কারণ।


প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যর্থতার বিবরণ

মোদী রাজত্বের শেষ পাঁচ বছরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির থেকে সরকার কোনমাত্রায় পার্টিজানসম আনুগত্য আদায় করে নিতে পেরেছে। পার্টির প্রতি এরকম আনুগত্যের পরিচয় ছোট শহরের থানায় কর্মরত পুলিশের থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট অবধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ১৯৯২'র বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারীদের একজনকেও শাস্তি না দিয়ে ঐ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে তথ্যপ্রমাণের উপরে নির্ভর না করে আস্থার উপরে বা বলা চলে একটি নির্দিষ্ট ধরণের আস্থার উপরে ভরসা রাখা। অপরাধের শাস্তি বিধানের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে নিষ্ক্রিয় থেকে এবং অন্যায়ের বহুবিধ দিকগুলিকে আড়াল করে এই রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিজের কর্তব্যের সমাধা করেছে। আনুগত্যের এরকম উদাহরণ আরও পাওয়া যাবে।

এর পরেই উল্লেখ করতে হয় সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের মুখ্য হিসাবে জেনারেল বিপিন রাওয়াতের নিয়োগ। তিনিও মুখ্য জাতীয় নিরাপত্তা আধিকারিকের পদে বসেই দেশজুড়ে চলা বিভিন্ন সরকার বিরোধী আন্দোলনগুলির প্রতি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নিন্দা ও সমালোচনায় নেমে পড়েছেন। এতে কার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন তিনি?

এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের সেইসব পুলিশকর্মীদের কথা বলতে হয় যারা জনগণের কাছে নিজেদের কৃতকর্মের ভিডিও ক্লিপিংস ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকেও নানা জায়গায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে সরাসরি কাজ করেছে। এদের কারোরই কোন ক্ষেত্রেই শাস্তি হয়নি।

একই কায়দায় ক্যামেরার সামনে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ও জামিয়া মিলিয়ায় পাঠাগারের ভিতরে ঢুকে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের সেল চার্জ করার ঘটনা অথবা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে প্রকাশ্যেই গুন্ডাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে রামচন্দ্র গুহর মতো প্রখ্যাত ঐতিহাসিক বা যোগেন্দ্র যাদবের মতো পরিচিত সেফলজিস্ট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হেনস্থা করার ঘটনা মনে রাখতে হবে। উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ অভিযোগকারীদের নামেই এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং এটি এখন রোজকার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এইসব থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই দিল্লি পুলিশ জেএনইউ'র বর্তমান ছাত্রসংসদের সভানেত্রীর নামে মামলা দায়ের করেছে যার নিজেরই মুখোশধারী হামলাবাজদের আক্রমণে মাথা ফেটেছিল।

উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন ব্যক্তিবর্গ এবং আরও বিশদে বলতে গেলে পুলিশ কর্মীদের কথা এজন্যেই বারে বারে বলতে হচ্ছে কারণ সংঘ পরিবারের জন্য এই ক্ষেত্রগুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা একান্তই জরুরী যাতে সময় হলেই ভারতে জার্মানির মতো “ব্যতিক্রমী রাষ্ট্র” বা সহজ ভাষায় "জরুরী অবস্থা" জারি করা যায় - ইন্দিরা গান্ধীর মতো করে আংশিক, নাতিদীর্ঘ জরুরী অবস্থা নয় বরং সমস্ত দাঁত-নখ বের করা প্রকৃত জরুরী অবস্থা"।

এরকম একটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই ইতিপূর্বে ঐতিহাসিকভাবে অভুতপূর্ব এক “উত্তর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে যা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের দুটি ধ্রুপদী কাঠামো থেকেই বাছাই করা বৈশিষ্ট্য সম্বল করে পৃথিবীর নানা প্রান্তে গজিয়ে উঠছে। ভারতও সম্ভবত সেই দিকেই গতিশীল। এধরণের রাষ্ট্র উদারনীতির পরিচিতি প্রাপ্ত অধিকারগুলি (নির্বাচনের অধিকার, গণমাধ্যমের অধিকার, সংসদ ইত্যাদি) নামেমাত্র চলতে দিলেও কর্তৃত্বকারী রাজনৈতিক শক্তির আড়ালে অতি দক্ষিণপন্থী কর্মসূচিগুলিকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর চাপিয়ে দেয়। সবকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির একসাথে ধ্বংসসাধন না করলেও তাদের বেশিরভাগেরই চরিত্র পাল্টে দিতে থাকে।

নিপীড়ক রাষ্ট্র কাঠামোর এই ব্যবস্থা নিজের নাৎসি ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে রক্ত ও ভূমির নামে লড়াইয়ের বিনিময়ে জনগণের ওপর অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ প্রয়োগ না করে সাম্প্রদায়িকতার ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়। নাৎসিরা নিজেদের এরকম ভাবনা কার্যকর করতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বিদেশি চিহ্নিত করে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। ইজরায়েলে প্রচলিত আরেক ব্যবস্থায় ২০ শতাংশ প্যালেস্তিনীয়দের যাকে যখন খুশি হত্যা করা যায়, হামলা চালিয়ে যতদূর সম্ভব সন্ত্রস্ত করে তোলা যায় কিন্তু তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন না করে উচ্চপর্যায়ের বিধিনিষেধ লাগু করে খুব বেশি হলে একধরনের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়। আরএসএস'র হাতে উত্তর গণতান্ত্রিক ভারত মুসলমানদের ওপর নাৎসি মডেলের ফ্যাসিবাদ প্রয়োগ না করে হয়ত ইজরায়েলের প্রত্যক্ষ মদতেই সেখানকার মতো ব্যবস্থাপনা কায়েম করবে। জনগণের একটি অংশকে রাষ্ট্রীয় অবদমনের সামনে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করার কাজে তার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে হিন্দুরাই (আমি সচেতনভাবেই এখানে হিন্দু বলতে কোন ধর্মীয় পরিচিতির কথা বলছিনা, বরং পারিবারিক সুত্রে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার হিসাবে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট যুক্ত এক সামাজিক গোষ্ঠীর উল্লেখ করছি)।

মোদী জমানার দ্বিতীয় পর্যায় সবে শুরু হয়েছে এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি কত দ্রুততার সাথে তিনি আরএসএস'র কর্মসূচিগুলি পালন করার জন্য কাশ্মীর ইস্যুতে, রামমন্দিরের ক্ষেত্রে, নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের ব্যাপারে অথবা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে কাজে লাগিয়েছেন। বিজেপি'র কর্মকান্ড ও আরএসএস'র কর্মসূচির মধ্যেকার পার্থক্য প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে আশা করা যায়। বাজপেয়ী সরকারের আমলে আরএসএস'কে সেভাবে সামনে আসতে দেখা যায় নি। যেমন সদ্য হায়দ্রাবাদে খাঁকি পোশাকের এক আধাসামরিক কুচকাওয়াজ নজরে আনা হল। মোদী জমানার প্রথম পর্যায়েও এইসব খুবই সন্তর্পনে শুরু হয়েছিল। এই আমলে ভোটে জিতে আসা একের পর এক বিজেপি'র নেতা মন্ত্রী বা এমএলএ'রা যেভাবে প্রকাশ্যেই আরএসএস'র ভাষায় বিষ উগরানো বক্তব্য পেশ করছেন তা এই জন্য নয় যে তারা আরএসএস'র রাজনীতিতে প্রাজ্ঞ বরং এইজন্যেই যে আরএসএস এই সময়ে সবকিছুর ওপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত বুঝেই সর্বত্র নিজেদের ভাবনা চিন্তাকে প্রকাশ্যে আনছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে সেইসব বক্তব্যের দায়ও স্বীকার করেছে। মোদী রাজত্বের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে ভারত রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী চরিত্র ক্রমাগত উত্তর গণতান্ত্রিক চরিত্রের দিকে সরে যাচ্ছে যার ফলে উদারনীতিগুলি বিসর্জন দিয়ে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিভিন্ন ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ। অথবা বলা যায় এধরনের স্থানান্তর ঘটছে সেই লক্ষ্যেই। নির্বাচনী ব্যবস্থার উদারনৈতিক অস্তিত্বটি ঠিক ততদিনই সুরক্ষিত থাকবে যতদিন না আরএসএস এই ব্যবস্থায় নিজেদের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত। কেউ বলতে পারবে না নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় অনুধাবন করতে পারলে তারা কিই না করতে পারে।

এই ধরনের একনায়কত্বের টিকে থাকার খুঁটি হিসাবে দুটি ব্যাপার কাজ করে। এক জনমানসে হিন্দুত্ববাদী হিস্টিরিয়ার জন্ম দিয়ে সুশিক্ষিত যুদ্ধবাজ এবং মূলত নির্বোধ এমন পাঁচ কি দশ লক্ষের এক সেনাবাহিনী গঠন করে। দুই, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে নিচের তলার পুলিশি ব্যবস্থা অবধি একেবারে নড়বড়ে করে দিয়ে। উত্তরপ্রদেশ ও অন্যান্য জায়গায় পুলিশী দুষ্কর্ম এবং কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার নৃশংসতার যে ঘটনাগুলি বহুল প্রচারিত তার ভিত্তিতে বলাই যায় আরএসএস তাদের চারপাশে এমন অনেক সরকারি পদাধিকারিদের পাবে যারা ফ্যাসিস্ত আদবকায়দায় রীতিমত সিদ্ধহস্ত।

অন্যদিকে কোন একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে সর্বসম্মত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রভেদ, ভাষাগত বৈচিত্র্য, আচার-অনুষ্ঠানের বিভিন্নতা, আদব-কায়দা এবং রাজনীতির ফারাকের দিক থেকে ভারতের চারিত্রিক বৈচিত্র্য বড় বেশি। ১.৩ লক্ষ কোটি জনতার দেশ হিসাবে ভারত বড্ড বেশি বড় দেশ। একইভাষায় কথা বলা ৫০ লক্ষ বা তার কিছু বেশি মানুষের দেশ জার্মানিতে নাৎসিরা সফল হয়েছিল। একতাবদ্ধ হিন্দু সমাজের ধারনাটিও এখনও মূলত কষ্টকল্পনা। ব্রাহ্মণ্যবাদের নির্দিষ্ট গন্ডিবদ্ধ হিন্দু আচার-আচরণের বিপরীতে অনেক হিন্দুগোষ্ঠী রয়েছে যারা নিজেদের স্বকীয় অভ্যাসে এককেন্দ্রিক হিন্দুত্বের ধারণা থেকে অনেকটাই আলাদা। এছাড়াও শহুরে শিক্ষিত মানুষদের একটি বড় অংশের মধ্যে উদার-বাম অথবা বাম মনস্কতার এক গভীর চর্চা রয়েছে। প্রত্যেকের নাগরিকত্ব যাচাই করার সরকারি ঘোষণা মাত্রই যেভাবে দেশজুড়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিক্ষোভ, বিরোধ এবং প্রতিবাদ প্রদর্শনকারী আন্দোলনের সূচনা হয়েছে তাতে নিশ্চিত হয়েই বলা যায়। এগুলির শক্তি নিহিত রয়েছে জনজীবনে বিধিনিষেধের নাগপাশ ও ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধাচারণ করার মনোভাবের মধ্যেই।


উপসংহার অথবা ফয়সালা

শেষ অনুচ্ছেদটির একেবারে শেষে যে মনোভাবের কথা বলা হয়েছে তা মোদী জমানার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু থেকেই মাথা চাড়া দিয়েছে এবং এখনও অবধি এই মনোভাব নিয়ে কোন আলোচনা এই প্রবন্ধে করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত মুসলমান মহল্লাগুলি ছুঁয়ে গিয়ে একেবারে বস্তির নোংরা গলির মুখ অবধি ধর্মের নামে নাগরিকত্ব প্রদানের বিরুদ্ধে অথবা প্রত্যেকের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ঘোষণার বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিদিন আন্দোলন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তা সামগ্রিকতায় সেই মনোভাবকেই ব্যাক্ত করেছে।

এই আন্দোলনের বর্শাফলকটি কোন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে নেই, একমাত্র বামেদেরকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর ছাড়িয়ে দেশজুড়ে এই আন্দোলনগুলিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা। এই প্রবন্ধ যখন লেখা চলছে তার দুদিন আগেই সারা ভারত ধর্মঘট সাড়া ফেলে দিয়েছে। ধর্মঘটের আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৫ কোটি শ্রমজীবী জনতা এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছে যার ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘট হিসাবে এটি নিজেই ইতিহাস রচনা করেছে। একদিকে শিক্ষিত নবপ্রজন্মের নেতৃত্বে দেশজুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি আরেকদিকে ২৫ কোটি শ্রমজীবী জনতার জোরে এই ঐতিহাসিক ধর্মঘট। এই দুই শক্তি কি কোনোভাবে একে অন্যের সাথে মিলে যেতে পারে না মিশে যেতে পারে না? এমন হবার অগণিত সম্ভাবনা রয়েছে।


ভাষান্তর: সৌভিক ঘোষ

* ফ্রন্টলাইন পত্রিকার ৩১শে জানুয়ারি ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত ইংরাজি নিবন্ধের অনুবাদটি উত্তর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শিরোনামে নন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল

* উত্তরআধুনিকতা, ফ্যাসিবাদ ও মার্কসবাদ শিরোনাম মার্কসবাদী পথের


প্রকাশের তারিখ: ২৪-ডিসেম্বর-২০২২
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২১১ টি নিবন্ধ
১৬-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১২-জুলাই-২০২৬

২৯-জুন-২০২৬

২৮-জুন-২০২৬

২৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৬-জুন-২০২৬