Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতার বিরুদ্ধে ছাত্রদের অভ্যুত্থান

প্রভাত পট্টনায়েক
পুলিশি নিষ্ঠুরতা, ছররা বন্দুক, পেরেক লাগানো লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষামন্ত্রী পদে রেখে দেওয়ার জন্য নির্বোধের মতো গোঁয়ার্তুমি, এসবগুলির লক্ষ্যই ছিল জনগণের মধ্যে ভয়টাকে জিইয়ে রাখা, এই বুঝ জিইয়ে রাখা যে সরকার কখনও একফোঁটাও হেলে না। এ সবের লক্ষ্য ছিল জনগণকে বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত অণুতে পরিণত করা, প্রত্যেককে অভিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণায় পরিণত করা, যাতে প্রত্যেকে আলাদাভাবে বিশ্বাস করে যে তাদের নিজেদের কোনও ক্ষমতা নেই এবং একথাও তাদের বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করা যে সরকারের পিছনে এত লোকের মদত রয়েছে যে এই সরকার অজেয়। এই নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতা ফ্যাশিস্ত শাসনেরই অভিজ্ঞান। তবে ছাত্রদের এই আন্দোলন ভেঙে খান খান করে দিয়েছে  বর্তমান শাসক দলের ‘সর্বোচ্চ নেতা’কে ঘিরে গড়ে তোলা অজেয় ভাবমূর্তির অতিকথাকে। যে সন্ত্রাসের আবহ এত বছর ধরে দেশকে গ্রাস করেছিল এই আন্দোলন সেই ভয়ের পর্দাকেও চুরমার করে দিয়েছে।
The Students' Uprising Against Moral Bankruptcy

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্দোলন সম্পর্কে একটা সাধারণ ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাখ্যাটা হল, গোটা দেশে যে ব্যাপক বেকারি রয়েছে, যথেচ্ছ দুর্নীতির কারণে যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এবং তার ফলে বাজারে যে চাকরিগুলো রয়েছে সেগুলোও পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ দূরায়ত হচ্ছে — এই আন্দোলন সে সবের বিরুদ্ধে জেন জি–র ক্রোধের প্রকাশ। কথাটা অবশ্যই সঠিক। কিন্তু এটা আংশিক ব্যাখ্যা। যখন ১৫ বছরের এক ছাত্রী এ কথা স্বীকার করে যে মাকে মিথ্যে কথা বলে যে যন্তর মন্তরে চলে এসেছিল, তখন বোঝা যায় তাকে যা নাড়িয়ে দিয়েছে সেটা স্রেফ তার চাকরির ভবিষ্যৎ নয়। বরং তাকে অস্থির করে তুলেছে আরও গভীর কোনও বিষয়। আবার যখন জেন জি-র আন্দোলন সারা দেশের অসংখ্য শহরে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন বুঝতে হবে যা বিপন্ন হয়ে পড়েছে সেটা আরও গভীর, আরও গুরুতর কোনও বিষয়। এবং সেই বিষয়টা শাসক দল এবং সরকার আদৌ বুঝে উঠতে পারেনি।

স্পষ্টতই এটা কোনও রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়। এই আন্দোলনের কোনও ‘‌নেতা’‌ও নেই। ভারতীয় জনতা পার্টি ‘‌নেতাদের’‌ সামলানোর কাজে বেশ দক্ষ। এটা তারা করে থাকে নেতাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, তাদের নামে দুর্নাম রটনা করে, তাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে নিয়ে, টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে এবং ইডি এবং ফরেন কনট্রিবিউশন (‌রেগুলেশন)‌ অ্যাক্টের ভয় দেখিয়ে। যদি সাম্প্রতিক এই আন্দোলনও ‘‌নেতাদের’‌ দ্বারা পরিচালিত হত তাহলে আন্দোলন যত দূর গিয়েছে তত দূর যেতে পারত না। এখানে শাসক দল তাদের সব চালু কৌশল কাজে লাগিয়েছিল, কিন্তু সব চালই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এই আন্দোলন কারোর ‘‌নেতৃত্বের’‌ ওপর নির্ভরশীল ছিল না। সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গে এই বিক্ষোভের কিছু এসে যায়নি। একইভাবে, ‘ককরোচ’‌ জনতা পার্টির দুজন নেতা যে মন্ত্রী জে পি নাড্ডার বাড়িতে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন, সেটাও ভালভাবে নেয়নি ছাত্রছাত্রীরা। তাদের অমত  থাকার কারণেই আগাম শর্ত দিয়ে কোনও আলোচনায় তারা সম্মতি দেয়নি। এতেই এই আন্দোলনের ছকভাঙা  চরিত্র স্পষ্ট। ‘‌অনুগামীদের’‌ হয়ে ‘‌নেতারা’‌ পদক্ষেপ করবেন — এই আন্দোলন তেমন প্রথাগত কোনও আন্দোলন ছিল না। বস্তুত, ছাত্রছাত্রীরা ‘‌নেতাদের’‌ পিছনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে জড়ো হয়নি। বরং জড়ো হয়েছিল কয়েক দফা (‌তিন)‌ শর্তের ভিত্তিতে। এবং সেগুলো নিয়ে তারা কোনও রকম সমঝোতা করেনি।

এত কম সময়ের মধ্যে এই আন্দোলন যে এমন এক পরিব্যাপ্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে তার পিছনে রয়েছে গভীরতম একটি বিষয় —সেটা হল বর্তমান শাসকদের নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতায় ছাত্রছাত্রী ও তরুণ তরুণীদের মোহভঙ্গ হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিশাল জমায়তকে যা ঐক্যবদ্ধ করেছে সেটা নিছক চাকরি না পাওয়ার হতাশা কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিশাপ নয়। আসল বিষয় হল তারা বুঝতে পেরেছে যে এই ব্যবস্থায় কারোর কোনও দায়বদ্ধতা নেই, চলতি ব্যবস্থায় সৃষ্টিছাড়া ব্যর্থতার জন্য কাউকে নৈতিক ভাবে দায়ী করা যাবে না, যা আসলে একটা নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতার প্রকাশ।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি এ কারণে তোলা হয়নি যে তিনি পদত্যাগ করলেই প্রশ্ন ফাঁস সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে কিংবা ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবে। যন্তরে মন্তরে জড়ো হওয়া সকলেই এটা জানত। তবুও ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল সকলেই কারণ এভাবেই একমাত্র নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতাকে অতিক্রম করে যাওয়া যেত। একমাত্র এভাবেই নিশ্চিত করা যেত যে, রাজনৈতিক শাসকপক্ষের কাউকেই, কোনও আমলা বা ছোটখাটো স্তরের কাউকে নয়, এই পরীক্ষা নামক নাট্যরঙ্গের জবাবদিহি দিতে হবে। ঠিক এই কারণেই, যারা প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী তাদের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার হবে — মোদির এই প্রতিশ্রুতিতেও কোনও কাজ হয়নি। সংক্ষেপ এটা ছিল নৈতিক আচরণ পালন করার একটা দাবি যা ছাত্রছাত্রী ও যুবদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, ঐক্যবদ্ধ করেছিল বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা ১৫ বছরের ছাত্রী থেকে সেই সব নির্ভীক তরুণ ও মহিলাদের যারা ছররা বন্দুকের গুলির সামনে বুক ও মুখ পেতে দাঁড়িয়ে পড়েছিল।  

বস্তুত বর্তমান শাসককুলের একেবারে অন্তঃস্থলে বিরাজ করছে একটা নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতা। এটা এদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রনৈতিক কাঠামো ও সমাজ জীবনকে একেবারে দূষিত করে ফেলেছে। যারা বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে বলে এরা মনে করে তেমন লক্ষ লক্ষ লোকের ভোটাধিকার এরা কেড়ে নিয়েছে এবং সেটাও করেছে সেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে একটা অনৈতিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে (এই কমিশন মূলত গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত একজন ব্যক্তি)। নির্বাচিত বিরোধী সদস্যদের কিনে নিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে পক্ষ বদল করিয়ে তাদের শাসক দলে যোগ দিতে বাধ্য করার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী ফলাফলকেই এরা অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। এ ভাবে গণতন্ত্রের নামে এরা যথার্থ ভাঁওতা সৃষ্টি করে চলেছে। এই কপটতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে ছাত্র-যুবরা।  অথচ এমন কপটতারই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে গোদি মিডিয়া। যে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কপটতা সম্পর্কে সচেতন, তাদেরও সন্ত্রস্ত করে তুলে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে ছাত্ররা এ সব সহ্য করেনি এবং এই কপটতার প্রকাশ্য বিরোধিতা করার মতো কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। পোস্টার ও কার্টুনের মাধ্যমে মোদি কাল্টকে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রুপ করাটা ছিল এই বিরোধিতার সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি। ভয়ে মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ার যে আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে ক্রমশ গ্রাস করছিল, ছাত্রদের এই বিরোধিতা সেই ভয়ের আবহ থেকে বহু মানুষকে মুক্ত করেছে। 

পুলিশি নিষ্ঠুরতা, ছররা বন্দুক, পেরেক লাগানো লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষামন্ত্রী পদে রেখে দেওয়ার জন্য নির্বোধের মতো গোঁয়ার্তুমি, এসবগুলির লক্ষ্যই ছিল জনগণের মধ্যে সেই ভয়টাকেই জিইয়ে রাখা, এই বুঝ জিইয়ে রাখা যে সরকার কখনও একফোঁটাও হেলে না। এ সবের লক্ষ্য ছিল জনগণকে বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত অণুতে পরিণত করা, প্রত্যেককে অভিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণায় পরিণত করা, যাতে প্রত্যেকে আলাদাভাবে বিশ্বাস করে যে তাদের নিজেদের কোনও ক্ষমতা নেই এবং একথাও তাদের বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করা যে সরকারের পিছনে এত লোকের মদত রয়েছে যে এই সরকার অজেয়। 

এই নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতা ফ্যাশিস্ত শাসনেরই অভিজ্ঞান। ১৯৩০ সালে জার্মানির নাৎসি আন্দোলন শুরু হয়েছিল একচেটিয়া পুঁজির বিরুদ্ধে সোচ্চার নির্ঘোষে। অথচ গোপনে নাৎসিদেরই মদত দিয়েছিল কয়েকজন একচেটিয়া পুঁজির মালিক, যাদের সঙ্গে ক্ষমতায় আসার জন্য চুক্তি করেছিল নাৎসিরা। এই চুক্তি সফল করার জন্য এমনকী নিজেদের বহু সমর্থককেও নাৎসিরা হত্যা করেছিল। এই সব সমর্থকদের নেতা ছিলেন আর্নস্ট রোহম। সেই হত্যাকাণ্ড কুখ্যাত হয়ে আছে ‘নাইট অফ দ্য লঙ নাইভস’ নামে। নীতিনিষ্ঠতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এরা মুখে ছিল একচেটিয়া বিরোধী। সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে একচেটিয়া পুঁজির সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তোলার ফলে এরা পৌঁছে গিয়েছিল নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতায়। আজকের দিনের নয়া ফ্যাশিস্তরা একচেটিয়া পুঁজির সঙ্গে প্রকাশ্যেই সমঝোতা করে, বিশেষ করে চুক্তি করে একচেটিয়া পুঁজির একটা নতুন অংশের সঙ্গে এবং তা করে ক্ষমতায় আসার আগেই। এই চুক্তি যা একচেটিয়া পুঁজিকে অবাধ লুঠের লাইসেন্স দেয়, সেখান থেকে আবশ্যিক ভাবে উঠে আসে নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতা। 

এমন অন্তঃসারশূন্যতা বা ফাঁকা বুলি সর্বস্বতার অস্তিত্ব ছিল বলেই গোয়েবলসীয় প্রচারের দরকার হয়ে পড়েছিল। ভারতে এখনকার শাসকদের একেবারে অন্তঃস্থলে ফাঁকা বুলি সর্বস্বতা যদি না থাকত, এবং যদি তাকে ঢেকে রাখার বাধ্যতা না থাকত, তাহলে ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ জাতীয় ছেলেভোলানো ছড়া গেয়ে শোনানোর জন্য বলিউডের নায়কদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হত না।

বস্তুত ছাত্ররা হল সেই সামাজিক গোষ্ঠী যাদের অবস্থান অন্তঃসারশূন্য এই নৈতিক ঢক্কানিনাদের বিরোধিতা করার জন্য একেবারে আদর্শ। এরা নিষ্পাপ, আদর্শবাদী, চারপাশের জগৎ সম্পর্কে অবহিত, চিন্তাশীল এবং নির্ভীক। নৈতিক আচার-আচরণের প্রতি তাদের অঙ্গীকার খুবই জোরালো এবং এসবের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। এই সব গুণগুলি তাদের সুসজ্জিত করেছে সেই সব শাসকের নৈতিক অন্তঃসারশূন্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রের ধারে ও ভারে, যে সব শাসকেরা স্রেফ গোয়েবলসীয় প্রচারকে হাতিয়ার করে মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করে পত্রেপুষ্পে শুধুমাত্র নিজেদেরকেই পল্লবিত করে তোলে। একই কারণে এই সব শাসকেরা নৈতিক আচরণের স্রেফ ভঙ্গিমার একটা জোব্বা নিজেদের গায়ে চাপিয়ে দিতে সফল হয়, ঠিক যেমনটা এখন সফল হয়েছে, তাতে অবশ্য ব্যবস্থার কোনও বদল হয় না। ঠিক যেমন কোনও চিতাবাঘকে বন্দি করলেই তার স্বভাব বদলায় না। যাকে সাদা বাংলায় বলা যায় ‘স্বভাব যায় না মলে’।

ছাত্রদের দাবিগুলির মধ্যে ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বদল আনার কোনও বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। যদি তেমন দাবি থাকত, তাহলে বিষয়টা আরও বেশি আলোচনায় গড়াত এবং সারা দেশে এই আন্দোলন এত দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ছড়িয়ে পড়ত না। এখানেই এই আন্দোলনের সঙ্গে কৃষক আন্দোলনের ফারাকটা খুব স্পষ্ট। কৃষক আন্দোলন ছিল মৌলিক একটি শ্রেণির স্বার্থরক্ষায় শ্রেণির আন্দোলন যা নৈতিক আচরণ মেনে চলার দাবিতে সৃষ্টি হওয়া বিক্ষোভের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কৃষক আন্দোলনের দাবিগুলি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, ছিল আইন জারি করে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে চালু করতে চাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনগুলি প্রত্যাহারের দাবি। সেই সাম্রাজ্যবাদই নয়া উদারনীতিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করে তাকে টিকিয়ে রেখেছে এবং তার সঙ্গে ভারতীয় একচেটিযা পুঁজি পুরোপুরি গাঁটছড়া বেঁধেছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পিছনে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন কার্যকর করার প্রশ্ন ওঠেনি। সেই কারণেই নয়া ফ্যাশিস্ত শাসকের ভাবমূর্তিতে, বিশেষ করে সন্ত্রাসের যে আবহ তারা এতদিন ধরে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তুলেছে, তাতে জোর ধাক্কা লেগেছে। ফলে শাসকেরা সেই হারিয়ে যাওয়া জমি ফিরে পেতে যে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়বে তাতে সন্দেহ নেই।

আগামী দিনগুলোতে তারা এই কাজটাই করবে সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলির কাছে ধর্মীয় আবেদন জোরদার করে, সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটিয়ে, সীমান্তে আন্তর্জাতিক ঘটনায় উস্কানি দিয়ে ( তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ে মাথা গলানোর ঝোঁক দেখাচ্ছেন তাতে এই শেষ অস্ত্রটাকে কাজে লাগানো বেশ কঠিন হবে)। আগামী দিনগুলিতে শাসকেরা চেষ্টা করবে এই ছাত্র আন্দোলনের ‘নেতৃত্ব’কে (একমাত্র নেতৃত্ব নামক শব্দের সাহায্যেই এরা কোনও আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা গড়ে তুলতে পারে) আত্মস্যাৎ করে নেওয়ার জন্য কিংবা কোনও ভাবে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য।

নয়া ফ্যাশিবাদের চালাকি ও প্রতারণার মুখোশ খুলে দেওয়ার কাজে ছাত্র আন্দোলন একেবারে খাঁটি সোনার মতোই ভূমিকা রেখেছে। নয়া ফ্যাশিবাদ সাম্প্রদায়িকতাকে নির্মমভাবে কাজে লাগায়। সেই কুৎসিৎ চেহারাও উন্মোচিত করে দিয়েছে এই আন্দোলন। ভেঙে খান খান করে দিয়েছে তাদের ‘সর্বোচ্চ নেতা’কে ঘিরে তৈরি করা অজেয় ভাবমূর্তির অতিকথাকে। যে সন্ত্রাসের আবহ এত বছর ধরে দেশকে গ্রাস করেছিল এই আন্দোলন সেই ভয়ের পর্দাকেও চুরমার করে দিয়েছে। নয়া ফ্যাশিবাদের কবল থেকে বেরিয়ে এসে একটা রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে এই আন্দোলন এবং এখনকার সময়টাই হতে পারে সেই পরিবর্তনের রথে আরূঢ় হওয়ার মুহূর্ত। 

ঋণ:পিপলস ডেমোক্রেসি
ভাষান্তরঃ সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ০২-আগস্ট-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২১৩ টি নিবন্ধ
০২-আগস্ট-২০২৬

০১-আগস্ট-২০২৬

১৬-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১২-জুলাই-২০২৬

২৯-জুন-২০২৬

২৮-জুন-২০২৬

২৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬