Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ফিনান্স মালিকদের তুষ্ট করতে গরিবদের ভাত কাড়ছে কেন্দ্র

প্রভাত পট্টনায়েক
কেন সরকার খাদ্যশস্যের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে? একটা উত্তর হল, ভারত‌–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে খাদ্যশস্যে স্বনির্ভরতা জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্য এবং তারা চাইছে ভারত যেন খাদ্যসশ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এছাড়াও রয়েছে অতিরিক্ত এবং আশু চাপের কারণও। ফিসক্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বাজেটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (এফআরএমবি)র আওতায় রাজকোষ ঘাটতির যে সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, তার চেয়ে বেশি রাজকোষ ঘাটতি হওয়ার আতঙ্ক। সারা বিশ্বেই তেলের দাম বেড়েছে। তার জেরে সরকারি বাজেট বরাদ্দ থেকে  বেশ কয়েকটি পেট্রো প্রোডাক্ট ব্যবহারকারীদের বেশি ভরতুকি দিতে হয়েছে। এই বাড়তি ভরতুকির টাকা ধনীদের ওপর অতিরিক্ত লেভি বসিয়ে আদায় না করে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবশ্যিক খরচগুলো কমানোর পথে হাঁটছে। অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয় যোজনার খরচ ছাঁটাই করা হচ্ছে।  তার মানে গরিবের ওপর এই আক্রমণ আসলে বিশ্বায়িত ফিনান্সকে তুষ্ট করার প্রয়াসেরই একটা অংশ।
The Central government is depriving the poor of basic sustenance to satisfy financial elites.

ভারতে বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু ছিল। এই ব্যবস্থায় দেওয়া হত খাদ্যশস্য। এই কর্মসূচির মূলে ছিল অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএআই) যার আওতায় ছিলেন দেশের ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ জনগণ এবং শহুরে জনগণের ৫০ শতাংশ। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ভরতুকি যুক্ত দামে প্রতি মাসে দেওয়া হয় ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য। এর ওপর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অতিমারির কারণে প্রতি মাসে জন পিছু অতিরিক্ত ৫ কেজি খাদ্যশস্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায়। তবে এই বাড়তি ৫ কেজি দেওয়া হবে শুধুমাত্র ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সব প্রকল্প চালু থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষের খাদ্যশস্য গ্রহণ বা উপভোগ গড়ে কমেই চলেছে। এর জেরে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে যে ১১৫টি কিংবা তার কাছাকাছি সংখ্যক ক্ষুধার্ত দেশের তালিকা তৈরি করা হয়, তার মধ্যে ভারতের অবস্থান ধারাবাহিকভাবেই ১০০র নীচে থাকছে। তবে যা অবিশ্বাস্য তা হল সাধারণ মানুষের কাছে এখন যে পরিমাণ খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া হয় মোদি সরকার তাতেও কাটছাঁট করার পরিকল্পনা করছে। আর এর পরিকল্পনার পিছনে বোধগম্য কোনও কারণ নেই। এর একমাত্র ব্যাখ্যা এই হতে পারে যে,. মেদি সরকার আসলে খরচ কমানোর পরিক্ল্পনা করছে এবং এভাবে রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে বিশ্বায়িত ফিনান্সকে সন্তুষ্ট করতে চাইছে।

যে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন (এনএফএসএ)-.এর আওতায় অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা চালু রয়েছে,সেই আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। সেই সংশোধনীতে প্রতি মাসে প্রতি পরিবারপিছু ৩৫ কিলোগ্রাম খাদ্যশস্যের বদলে দেওয়া হবে প্রতি মাসে জনপিছু মাসে ৭ কেজি খাদ্যশস্য। এবং এর সর্বোচ্চ সীমা হবে প্রতি মাসে পরিবার পিছু ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য। এর মানে প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্য গড় রেশন কাটছাঁট করা হচ্ছে। অর্থাৎ, কোনও পরিবারে ৫ জনের কম সদস্য থাকলে জনপিছু ৭ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়ার পর যা বাঁচবে, সেটা যে পরিবারে ৫ জনের বেশি সদস্য সেখানে বাড়তি দেওয়া হবে, বিষয়টা মোটেই এমন নয়। অন্যভাবে বললে, বিষয়টা সুবিধাভোগী পরিবারগুলির মধ্যে বণ্টিত হওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্যের পুনর্বণ্টন নয়। এ হল খাদ্যশস্যের পরিমাণ চূড়ান্ত ভাবে কমানো এবং সেই কমিয়ে আনা খাদ্যশস্যই এরপর থেকে বণ্টিত হবে। 

এই সংশোধনীর একটি দিক সঠিকভাবেই প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছে। সেটা হল, এই সংশোধনীতে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণী রাজ্যগুলিকে। পরিহাসের বিষয় এটাই যে তাদের শাস্তি  দেওয়া হচ্ছে সাফল্য অর্জন করার জন্য। সাফল্যটা হল, তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল। এই সাফল্যের মানে হল পরিবার পিছু তুলনায় কম সদস্য। এর মানে দক্ষিণের রাজ্যগুলি, বিশেষত তামিলনাড়ু ও কেরালা, মাথাপিছু ৭ কেজি হিসাবে মাসে ৩৫ কেজির চেয়ে কম খাদ্যশস্য পাবে। অথচ এতদিন তারা পুরনো নিয়মে ৩৫ কেজিই পাচ্ছিল। তুলনায় উত্তরের রাজ্যগুলি সামাজিক সূচকের নিরিখে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তারা বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তাই পরিবার পিছু তাদের সদস্য সংখ্যা বেশি। ফলে পরিমাণের বিচারে তাদের খাদ্যশস্য পাওয়ার পরিমাণ খুব বেশি কমবে না। আরও পরিহাসের বিষয় হল, এনএফএসএ সংশোধনীর ফলে যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশি সফল হয়েছে তারাই বেশি শাস্তি পাবে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, অত্যন্ত জঘন্য এই সংশোধনীর বিরোধিতায় একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে তামিলনাড়ু ও কেরালা। 

বিষয়টা এখানে নিছক আরও প্রগতিশীল দক্ষিণের রাজ্যগুলির নিরিখে বৈষম্যমূলক আচরণ নয়। আসলে প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি গরিব অথচ ছোট পরিবারগুলির প্রতিও বৈষম্যমূলক আচরণ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বোঝা দরকার তা হল, যদি ধরে নেওয়াও যায় যে গড়ে প্রতিটি ছোট পরিবার সরকার যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেই মাফিক খাদ্যশস্য পায়, অর্থাৎ মাসে পরিবার পিছু ৩৫ কেজি ও জনপিছু ৫ কেজি, তাহলেও এই সব পরিবার ও ব্যক্তি অপুষ্টিতে ভুগবে। অন্যভাবে বললে, বর্তমানে সরকারি ভাবে প্রতিটি পরিবারকে মোট যে পরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে, এবং যেটা সরকার এখন আরও কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করছে, সেই মোট পরিমাণ খাদ্যশস্যও  গড়ে কোনও পরিবারকে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয় এবং তার ফলে পরিবারগুলির ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পুষ্টি যে দরকার, সেটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। 

একটা রাজ্যের কথা ধরা যাক যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। সেখানে সাফল্যের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে স্থির জনসংখ্যা। এর মানে অন্ততপক্ষে চারজনের পরিবার – বাবা, মা ও দুই সন্তান। একইভাবে যে রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তেমনভাবে সফল হয়নি, সেখানেও আমরা পরিবারের ন্যূনতম যুক্তিসঙ্গত আয়তন ধরে নিতে পারি চার জন: বাবা, মা ও দুই সন্তান।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন বয়স, লিঙ্গ, এবং কাজের চরিত্রের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি ভারতীয়ের দৈনিক খাদ্যের যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে নির্দেশিকা স্থির করে দিয়েছে। তবে এই ‘মান’ হল আদর্শ আহার। বাস্তবে আহার সংক্রান্ত যে ধাঁচা চালু রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে কত খাদ্যশস্যের প্রয়োজন — এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটাই। এই পরিমাণ নির্ধারণে আমরা একটা সহজ পদ্ধতি কাজে লাগাব।

গ্রামীণ ভারতে দৈনিক মাথাপিছু ২২০০ ক্যালরির কম এবং শহুরে ভারতে দৈনিক মাথাপিছু ২১০০ ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণের পরিস্থিতি রয়েছে — এই যদি আহারের ছাঁদ হয় তাহলে সেটাকেই দারিদ্রের সংজ্ঞা বলে নির্দিষ্ট করেছে পূর্বতন পরিকল্পনা কমিশন। হিসাব কষে দেখা গেছে ভারতে যারা নিম্ন আয়ের পরিবার তাদের দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির কমবেশি ৮০ শতাংশ আসে খাদ্যশস্য থেকে। এক গ্রাম চাল কিংবা গম দেয় ৩.৫ ক্যালরি। তাহলে যে ব্যক্তি পুষ্টিগত ‘দারিদ্র রেখা’য় রয়েছেন তিনি গ্রামীণ বাসিন্দা হলে তাঁর দরকার দৈনিক ৫০২ গ্রাম খাদ্যশস্য এবং তিনি শহরের বাসিন্দা হলে তাঁর দরকার দৈনিক ৪৭৯ গ্রাম খাদ্যশস্য। যদি সংখ্যাদুটিকে আমরা ৫০০ ও ৪৮০ গ্রাম ধরি, তাহলে চারজনের একটি পরিবারের মাসিক খাদ্যসশ্যের দরকার হয় যথাক্রমে ৬০ কেজি ও ৫৭.৬ কেজি। 

এর মানে হল অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় পরিবার পিছু যে মাসিক ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়, এবং পিএমজিকেএওয়াই প্রকল্পে মাসে মাথাপিছু যে ৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়,(মানে চার জনের পরিবারের জন্য মাসে ২০ কেজি), তাতে চারজনের একটি পরিবার যথেষ্ট খাদ্যশস্য পায় না যা দিয়ে তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটে না। এক্ষেত্রে যথেষ্ট খাদ্যের চাহিদা বলতে ধরা হচ্ছে সরকারি ভাবে পুষ্টিগত বিচারে যাকে দারিদ্র রেখা ধরা হয় সেই পরিমাণ খাদ্য।  পুষ্টিগত এই হিসাবে চারজনের গ্রামীণ পরিবারের ৬০ কেজি এবং শহুরের পরিবারের ৫৭.৬ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া উচিত। অথচ তারা পাচ্ছেন মাত্র ৫৫ কেজি।

এখন সরকার চারজনের পরিবারের জন্য  বরাদ্দ খাদ্যশস্য ৩৫ কেজি থেকে কমিয়ে ২৮ কেজি করতে চাইছে। এতে এই পরিবারগুলির খাদ্যশস্য পাওয়ার পরিমাণ কমে হবে মাসে ৪৮ কেজি। গ্রামীণ ও শহুরে ভারতে এই পরিবারগুলির পুষ্টিভিত্তিক ‘দারিদ্র সীমা’য় থাকতে যতটা খাদ্যশস্য দরকার, মাসে ৪৮ কেজি তার তুলনায় যথাক্রমে ২০ এবং ১৬.৭ শতাংশ কম। এর মানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলিকেই শুধু বঞ্চিত করা হচ্ছে না। আসলে প্রতিটি রাজ্যে গড় ন্যূনতম সদস্যের পরিবারের বিরুদ্ধেই এই বৈষম্য করা হচ্ছে। এটা করা হলে সরকারি ভাবে সংজ্ঞায়িত দারিদ্র রেখায় পৌঁছতে যতটুকু খাদ্যসশ্যের দরকার, পরিবারগুলি তার চেয়েও অনেক, অনেক কম খাদ্যশস্য পাবে। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সংধোনীটিকে অবশ্যই দেখতে হবে গরিব পরিবারগুলির ওপর একটা সাধারণ আক্রমণ হিসাবে।

‘‌দারিদ্র রেখা’‌য় পৌঁছনোর সংজ্ঞা মাফিক যদি মাসে ৫৫ কেজি খাদ্যশস্য একটা ছোট পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে অনেক বেশি হয় তাহলে ওপরের যুক্তিটা খাটে না। তবে মনে রাখতে হবে যে ‘‌নিয়ম’‌ ইতিমধ্যেই ঠিক করা রয়েছে তার তুলনায় পরিবার পিছু মাসে ৫৫ কেজি খাদ্যসশ্য আসলে কমই। এর ওপর যদি অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় খাদ্যশস্য আরও কমানো হয় তাহলে সেটা হবে গরিবের পেটে লাথি যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না।

আরও যেটা বিষয় তা হল, অতিমারির সময় জরুরি ব্যবস্থা হিসাবে পিএমজিকেএওয়াই চালু করা হয়েছিল। এবং তা চলার কথা ২০২৮ এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। যখন কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণের মধ্যে বিতর্কের লক্ষ্যে এনএফএসএর সংশোধনী  উপস্থিত করছে, তখন তারা পিএমজিকেএওয়াই কেন ২০২৮এর ৩১ জানুয়ারির পর চলবে না তার স্বপক্ষে কোনও নির্দিষ্ট যুক্তি হাজির করছে না। পিএমজিকেএওয়াই ২০২৮ সালের পরেও চলবে এমন প্রস্তাবও নেই। কিংবা একথাও বলা হয়নি যে পিএমজিকেএওয়াইকে গণ খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার স্থায়ী অংশ করে নেওয়া হবে। তাই আমাদের একথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে যে, ২০২৮ সালের পর গ্রামীণ ও শহুরে ভারতের জনসংখ্যার কাছে বিষয়টা আরও ভয়ানক হবে।

এতে স্পষ্টভাবে যে প্রশ্নটা ওঠে তা হল‌: কেন সরকার খাদ্যশস্যের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে? একটা উত্তর হল, ভারত‌–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে খাদ্যশস্যে স্বনির্ভরতা জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্য এবং তারা চাইছে ভারত যেন খাদ্যসশ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে একটা বড় প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। সেটা হল, এতদিন পর্যন্ত সরকার যে মাত্রায়  গণ বন্টন ব্যবস্থা চালিয়ে আসছিল, তা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সরকারের আদৌ আর থাকছে কিনা? দেখাই যাচ্ছে  ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকার কর্মসূচিটিকে তুলে দেওয়ার জন্য গুটিয়ে আনছে। 

এছাড়াও রয়েছে অতিরিক্ত এবং আশু চাপের কারণও। সেটা হল  ফিসক্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বাজেটারি ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (এফআরএমবি)র আওতায় রাজকোষ ঘাটতির যে সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, তার চেয়ে বেশি রাজকোষ ঘাটতি হওয়ার আতঙ্ক। সারা বিশ্বেই তেলের দাম বেড়েছে। তার জেরে সরকারি বাজেট বরাদ্দ থেকে  বেশ কয়েকটি পেট্রো প্রোডাক্ট ব্যবহারকারীদের বেশি ভরতুকি দিতে হয়েছে। এই বাড়তি ভরতুকির টাকা ধনীদের ওপর অতিরিক্ত লেভি বসিেয় আদায় না করে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবশ্যিক খরচগুলো কমানোর পথে হাঁটছে। শোনা যাচ্ছে, সরকার ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের বাজেট ছাঁটাই করেছে। ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বরাদ্দ অর্থ কমবে। একই ভাবে অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয় যোজনার খরচ ছাঁটাই করা হচ্ছে।  তার মানে গরিবের ওপর এই আক্রমণ আসলে বিশ্বায়িত ফিনান্সকে তুষ্ট করার প্রয়াসেরই একটা অংশ। এদেরই নির্দেশে এফআরএমবি কার্যকর করা হয়েছিল। নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদী অর্থনীতির এমন নির্মম কার্যকলাপ আর কোনওভাবেই এতটা প্রকট হয় না যতটা নির্মমভাবে এখন ভারতে তা প্রকট হয়ে চলেছে। 

ঋণ:পিপলস ডেমোক্রেসি
ভাষান্তরঃ সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ৩০-আগস্ট-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২২০ টি নিবন্ধ
৩০-আগস্ট-২০২৬

২৮-আগস্ট-২০২৬

২৬-আগস্ট-২০২৬

১৩-আগস্ট-২০২৬

১১-আগস্ট-২০২৬

০৯-আগস্ট-২০২৬

০২-আগস্ট-২০২৬

০২-আগস্ট-২০২৬

০১-আগস্ট-২০২৬

১৬-জুলাই-২০২৬