সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
বাঁকিপুর, দাতিয়া ও সঙ্ঘের ‘বোধোদয়’
টিম মার্কসবাদী পথ
গত ১৪ বছরে মোদি সরকারের স্কুল শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ কমিয়েছে ৫০ শতাংশ। উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ কমিয়েছে ৩৩ শতাংশ। গত ১২ বছরে প্রায় ১ লক্ষ সরকারি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। খোলা হয়েছে ৪৩ হাজার বেসরকারি স্কুল যার বেশির ভাগটাই চালায় আরএসএস। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক পরিমােণ বেড়েছে বেসরকারি শিক্ষার পরিসর যা বিপুল ব্যয়সাধ্য এবং দুর্নীতিতে ভরা। নিজেদের সন্তানদের ভবিষযৎ সুরক্ষিত করতে জমি কিংবা সোনা বিক্রি করে বা বাঁধা রেখে, বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বেসরকারি শিক্ষার খরচ জুগিয়েছেন বাবা-মােয়রা। এর পরিণতি হয়েছে পরিবারের ঋণফাঁদে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে এবং সন্তানদের চরম বেকারত্বে। সেই সন্তানেরা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলে চলছে লাঠি, টিয়ার গ্যাস, ছররা বন্দুক। সন্তানদের এমন দুঃসহ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে জেন জির বাবা মায়েদেরও।

যন্তর মন্তরের যুবছাত্র আন্দোলন বিজেপি-আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী শাসনের ভিতে কতদূর ধাক্কা দিয়েছে, দিনে দিনে তা স্পষ্ট হচ্ছে। প্রথমত আন্দোলনের প্রবল চাপে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রযুবদের শাস্তি না দিয়ে ক্ষমার বার্তা দিতে হল খোদ প্রধানমন্ত্রীকে মোদিকে। এরপর যুবছাত্রদের সভা ডেকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে বলতে হল, ‘আন্দোলনকারী যুবছাত্ররা আমাদেরই লোক। গণতন্ত্রে প্রতিবাদও আলোচনার একটি উপায়।’ অথচ যখন যন্তর মন্তরে পুলিশ ও সিআরপির লাঠি, পেরেক লাগানো লাঠি, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও ছররা বন্দুক চলছিল, তখনও মোদি কিংবা ভাগবতের এমন বোধোদয় হয়নি। কে বা কারা পুলিশি নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিল, সেই প্রশ্ন সরকার এড়িয়ে চলছে। এমনকী আন্দোলনের প্রতি মুখে সহানুভূতি দেখালেও পুলিশ নির্যাতনের নিন্দা করেননি ভাগবত। যথেষ্ট তথ্য জানা নেই বলে পুলিশি ভূমিকাকে আড়াল করেছেন।
প্রশ্ন হল, বিজেপি ও আরএসএসের শীর্ষ নেতাদের এই বোধোদয় কেন? আসলে যন্তর মন্তরের আন্দোলন শুধুমাত্র প্রশ্নফাঁসে আটকে ছিল না। এই আন্দোলন ১৪ বছর ধরে চলা হিন্দুত্ববাদী শক্তির শাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া সব ধরনের ক্ষোভের পুঞ্জীভূত প্রকাশ ঘটিয়ে দেশের বৃহত্তম নাগরিক সমাজকে সফল ভাবে তাদের আন্দোলনে জড়িয়ে নিতে পেরেছিল। এবং ক্রমশ দিল্লি থেকে একে একে দেশের সব বড় শহরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করছিল এই আন্দোলন। এটা যে নিছক ছাত্রযুব আন্দোলেন সীমাবদ্ধ নেই, এই আন্দোলন যে সমগ্র দেশের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠছে, দেরিতে হলেও তা বুঝতে পেরেছে হিন্দুত্ববাদী শাসকেরা।
তারপরে ধাক্কা এল উপনির্বাচনে। সাধারণত, উপনির্বাচনে শাসক দল হারে না। অথচ বাঁকিপুরে সেটাই হল। ১৯৯৫ সাল থেকে জিতে আসা আসনটি উপনির্বাচনে বিজেপির হাতছাড়া হল। মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনেও পরাজিত বিজেপি প্রার্থী। কোনওটাই সাধারণ পরাজয় নয়। দুটো পরাজয়েরই বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
বাঁকিপুরের ভোটারদের যা বিন্যাস তা বিজেপির একেবারে স্বপ্নের মতো। এই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮০ হাজার। এদের মধ্যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার উচ্চবর্ণের হিন্দু। এটাই বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি। এছাড়া, মুসলিম ও যাদব, দুই গোষ্ঠীর ভোটার সংখ্যা ৪০ হাজার করে। অন্যদিকে এই কেন্দ্রে দলিত ভোটাররা মোট ভোটদাতাদের ৮ থেকে ৯ শতাংশ। ভাল সংখ্যায় রয়েছেন ওবিসি ভোটারেরাও। এক্ষেত্রে যাদব ও মুসলিম ভোটারদের বাইরে রেখে, উচ্চবর্ণের ভোটারদের নেতৃত্বে ওবিসি ও দলিত ভোটারদের নিয়ে বিজেপির পক্ষে ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে জয়ের সমীকরণ তৈরি করা সবচেয়ে সহজ। এবং এতদিন সেটাই হয়ে এসেছিল। এক কথায়, ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে নির্বাচন জয়ের জন্য বিজেপির কাছে আদর্শ ল্যাবরেটরি হল বাঁকিপুর। অথচ জেন জির আন্দোলনের পর হওয়া উপনির্বাচনে সেই কেন্দ্রই হাতছাড়া হল বিজেপির। এই কেন্দ্রে জয়ী প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৪৯.২৩ শতাংশ ভোট, ২০২৫ এর নির্বাচনের তুলনায় ভোটবৃদ্ধি ৪৪.৩১ শতাংশ (২০২৫এর বিধানসভা ভোটে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী পেয়েছিলেন মাত্র ৪.৯২ শতাংশ ভোট)। । অন্যদিকে ২০২৫ এর ভোটে বিজেপি প্রার্থী নীতীন নবীন পেয়েছিলেন ৬২.৬৬ শতাংশ ভোট এবং সেবার তাঁর ভোট বেড়েছিল ৩.৬১ শতাংশ। আর এবারের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩৪.৪০ শতাংশ ভোট, যা আগের বারের চেয়ে ২৮.২৬ শতাংশ কম। এবং এই বিপর্যয় ঘটেছে বিজেপির হিন্দুত্ব সমীকরণের আদর্শ ল্যাবরেটরিতে। এর মানে, উচ্চবর্ণ হিন্দু, ওবিসি ও দলিত — বিজেপির নিরাপদ তিন অংশের ভোটেই ভালরকম ভাঙন ধরেছে। উল্লেখযোগ্য হল, আরজেডি প্রার্থী ২০২৫ সালে এই কেন্দ্রে পেয়েছিলেন ২৯.৫৫ শতাংশ ভোট। এবার তা কমে হয়েেছ ১০.৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ এবার আরজেডির ভোট কমেছে ১৮.৬০ শতাংশ। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, যাদব ও মুসলিমরাই আরজেডির ট্র্যাডিশনাল ভোটব্যাঙ্ক, তাহলেও দেখা যাচ্ছে এই সব ভোটারদের একটা বড় অংশ প্রশান্ত কিশোরকেই বেছে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীকে হারাতে। বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপিকে হারাতে দলীয় প্রতীক না দেখে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন আরজেডি ভোটারদের একটা বড় অংশ। এভাবে ভোটক্ষয়ের প্রতিটি দিকই বিজেপি ও আরএসএসের পক্ষে গভীর আশঙ্কার সূচক। কারণ হিন্দুত্বের সফল ল্যাবরেটরিতেই বিপন্ন বিজেপির সমীকরণ।
নজর ফেরানো যাক দাতিয়ার দিকে। মধ্যপ্রদেশও বিজেপি ও আরএসএসের হিন্দুত্বের সমীকরণের সফল ক্ষেত্র। দাতিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটদাতা ২ লক্ষ ২০ হাজার। এদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু। ব্রাহ্মণ ভোটদাতা ৩৫ হাজার, তপশিলি জাতির ভোটার ৩০ হাজারের বেশি, ওবিসি ভোটার ৮০ হাজার। এছাড়া ২৫ থেকে ৩০ হাজার ঠাকুর কিংবা বৈশ্য সম্প্রদায়ের। মুসলিম ভোটদাতাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
২০২৫ এর বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন ৫০.৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। এবার কংগ্রেসের ভোট কমেছে ৭.৯৫ শতাংশ এবং এই দলের প্রার্থী পেয়েছেন ৪২.৩৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী এই কেন্দ্রে গতবার পেয়েছিলেন ৪৫.৯৬ শতাংশ ভোট। এবার বিজেপির ভোট কমেছে ৭.৭৯ শতাংশ (প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৮.৫৭ শতাংশ)। লক্ষ্যণীয় হল, কংগ্রেসের ক্ষয়ে যাওয়া ৭.৯৫ শতাংশ ভোট নিজের ঝুলিতে টানতে ব্যর্থ বিজেপি। উল্টে কংগ্রেস ও বিজেপির হারানো ভোট পুরোটাই গেছে এএসপি (কেআর) দলের ঝুলিতে (১৪.৩ শতাংশ)। বিজেপির আরও একটা আশঙ্কার কারণ হল, দলের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে এই কেন্দ্রে বিজেপির বিক্ষুব্ধরা ভোট দেননি দলের অফিসিয়াল প্রার্থীকে। তার মানে কংগ্রেসের মতো বিজেপিতেও সংগঠনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার সাহস পাচ্ছেন বিক্ষুব্ধরা, এটা অশনি সঙ্কেত বই কী। দাতিয়ায় কংগ্রেস প্রার্থীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল দুর্নীতির দায়ে। সেকারণেই উপনির্বাচন হয়। কংগ্রেস দলটাও এই কেন্দ্রে ছিল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দীর্ণ। এত কিছুর পরেও এই হিন্দু, তপশিলি ও ওবিসি ভোটার প্রধান এই কেন্দ্রে ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বিজেপি। তাদের তৈরি করা হিন্দুত্বের সমীকরণ জয় এনে দিতে পারেনি। ব্যবধান অল্প হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাররা নড়বড়ে, দুর্নীতিগ্রস্ত কংগ্রসকেই বেছে নিয়েছেন। এটা কোনওরকমে বিজেপির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার বেপরোয়া প্রয়াস। এখানেও বিজেপির হিন্দুত্বের সমীকরণ আসন জেতাতে ব্যর্থ। এটা আসলে বিজেপিকে খারিজ করারই বার্তা।
এই খানেই এসে পড়ছে জেন জি প্রসঙ্গ। বাঁকিপুরের ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ বা ১ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে দাতিয়ায় মোট ভোটারদের মধ্যে ৭০ থেকে ৭৭৭ হাজার জনের বয়স ১৮ থেকে ৩০এর মধ্যে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাঁকিপুর ও দাতিয়া, দুই কেন্দ্রেই জেন জি ভোটারেরা মোট ভোটারদের এক তৃতীয়াংশ। এই ভোটের বিন্যাস নিয়ে আলাদা করে কোনও হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের প্রেক্ষিত মনে রাখলে এটা ধরে নেওয়া ভুল হবে না যে, এই ভোটের অধিকাংশই গেছে বিজেপি বিরোধী শিবিরে। এর অর্থ, উচ্চ বর্ণহিন্দু জেন জি, ওবিসি জেন জি, দলিত জেন জি, মুসলিম জেন জি, যাদব জেন জি— সকলেই তাদের জাতপাতের সীমারেখা ছাড়িয়ে ভোটের বাক্সে একটাই কারণে বিজেপি বিরোধিতা করেছেন। সেটা হল, তাদের ভবিষ্যৎকে যারা অন্ধ চোরাগলিতে ঠেলে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে, তাদের ক্ষমতা থেকে অপসারিত করার বার্তা দেওয়া। তার মানে কি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যেকার জাতপাতের বিভাজন রেখা মুছে গেছে? আদৌ না। এই পার্থক্য আরও অনেক দিন ভারতীয় সমাজে থেকে যাবে। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের বিপদ ঘনায় তখনই যখন তাদের তৈরি সমীকরণের ছক ভেঙে, বিভাজনকে আপাতভাবে সরিয়ে রেখে, বরং বলা যায় বিভাজন সত্ত্বেও, অন্য কোনও এক বৃহত্তর লক্ষ্যে সমাজের সব অংশের ভোট তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়। পরিচিতি সত্ত্বার ভিত্তিতে হিন্দুত্ববাদীদের ভোট ভাগের সমীকরণ বাতিল হয়ে যায়। এভাবেই বিভাজনের মতাদর্শকে পাশে সরিয়ে রেখে ওপরে উঠে আসে ভারত ভাবনা বা আইডিয়া অফ ইন্ডিয়ার একটা মূর্ত রূপ। বাঁকিপুর বা দাতিয়ার উপনির্বাচনে তেমনই ঘটেেছ।
কেউ বলতে পারেন, বাঁকিপুরে তো ভোট পড়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ। এত কম ভোটের ভিত্তিতে কোনও প্রবণতাকে কি চিহ্নিত করা যায়? তাদের পাল্টা প্রশ্ন করতে হয়, বাঁকিপুরে এত কম ভোট পড়ল কেন? বিজেপির সযত্নলালিত গড়ে কেন তাদেরই লালনপালন করা ভোটারেরা দলে দলে এসে ভোট দিয়ে গড় রক্ষা করলেন না? এর মানে কি এই নয় যে, আসলে গড় রক্ষা করার ব্যাপারেই তাঁদের আর আগ্রহ নেই? কেন এই অনাগ্রহ সেটা বোঝার দরকার রয়েছে। অন্যদিকে দাতিয়ায় ভোট পড়েছে ৭১.৪৪ শতাংশ। এখানেও বিজেপি প্রার্থী পরাজিত কারণ অধিকাংশ ভোটদাতা বিজেপির পক্ষে দাঁড়াননি। বিশেষ করে এর আগের ভোটে, ২০২৩ সালে যেখানে মহিলাদের ভোটদানের হার ছিল ৮১.২২ শতাংশ, এবার তা নেমে এসেছে ৬৮.৪৮ শতাংশে। অন্যদিকে পুরষদের ভোটদানের হার এবার মহিলাদের চেয়ে বেিশ, ৭৪.০৯ শতাংশ। এর মানে, এবার দাতিয়ায় মহিলাদের ভোটদানে আগ্রহ কমেছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরুষদের আগ্রহ বেড়েছে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার দিকে।
মনে রাখা দরকার, এই দুই উপনির্বাচনে শুধুমাত্র জেন জির ভোটই বিজেপির বিরুদ্ধে যায়নি। গত ১৪ বছরে মোদি সরকারের স্কুল শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ কমিয়েছে ৫০ শতাংশ। উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ কমিয়েছে ৩৩ শতাংশ। গত ১২ বছরে প্রায় ১ লক্ষ সরকারি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। খোলা হয়েছে ৪৩ হাজার বেসরকারি স্কুল যার বেশির ভাগটাই চালায় আরএসএস। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক পরিমােণ বেড়েছে বেসরকারি শিক্ষার পরিসর যা একই সঙ্গে বিপুল ব্যয়সাধ্য এবং দুর্নীতিতে ভরা। নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে জমি কিংবা সোনা বিক্রি করে বা বাঁধা রেখে, বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বেসরকারি শিক্ষার খরচ জুগিয়েছেন বাবা-মােয়রা। এর পরিণতি হয়েছে পরিবারের ঋণফাঁদে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে এবং সন্তানদের চরম বেকারত্বে। সেই সন্তানেরা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলে চলছে লাঠি, টিয়ার গ্যাস, ছররা বন্দুক। সন্তানদের এমন দুঃসহ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে জেন জির বাবা মায়েদেরও। দাতিয়া ও বাঁকিপুরের ভোটে তারই ছাপ পড়েছে।
ভোটের সমীকরণ আরএসএস ভালই বোঝে। তারাই এসআইআরএর নামে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনে জেতার কৌশল উদ্ভাবন করেছে এবং তা রপ্ত করেছে। সুতরাং বাঁকিপুর ও দাতিয়ার ভোটবার্তা বুঝতে তাদের অসুবিধে হয়নি। সেকারণেই মোদির মুখে এখন ক্ষমার বার্তা। তড়িঘড়ি ছাত্রদের ডেকে মোহন ভাগবতকে বলতে হয়েছে, জেন জি আমাদেরই লোক। তবে হিন্দুত্ববাদীদের বোধোদয় হতে অনেক দেরি হয়ে গেল। ছাত্রযুব ও তাদের বাবা-মায়েরা আরএসএসের মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ পড়ে আর বসে থাকবেন না। যন্তর মন্তরে পুলিশি নির্যাতনের মুখে এদেশের ক্ষুব্ধ যৌবনের যে অভিষেক হয়েছে, সেই যৌবনজলতরঙ্গ রোধিবে কে!
প্রকাশের তারিখ: ০৯-আগস্ট-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
