Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ক্যাম্পাসে কলরব

ছাত্রদের কথা
শিক্ষায় গেরুয়াকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোয় আঘাত করা আরএসএস-বিজেপি’র পুরনো অভ্যেস। নতুন নয়। শিক্ষার গুণগত মান ও মেধার বিকাশের অপরিহার্য হলো গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মুক্তচিন্তা অধিকার। সেইসঙ্গে দরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। তা না করে তারা নিয়েছে দখলদারির রাস্তা। বিপরীতে তৈরি ছাত্ররা। ক্লাসরুম থেকে ক্যান্টিন— ক্যাম্পাসে কলরব। নো পাসারণ! ফ্যাসিবাদকে রোখার প্রত্যয়! দ্বেষের বিরুদ্ধে, দশের উত্তরে প্রস্তুত। 
Kolorob In Campus

ফ্যাসিবাদকে রুখবই

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত গুন্ডাদের আক্রমণ নতুন বিষয় নয়। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ২০১৩-তে তৃণমূলের গুন্ডারা প্রেসিডেন্সির সামনে থেকে মিছিল করে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই আক্রমণ চালিয়েছিল ক্যাম্পাসে। ঐতিহ্যশালী বেকার ল্যাব ভাঙচুর, ক্লাসরুমে তাণ্ডব, ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা সবই তারা করেছিল। একইভাবে ২০২৬-এ বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসার পরে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি প্রেসিডেন্সি-সহ বাংলার বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তৃণমূলের থেকে এক ধাপ এগিয়ে হুলিগানিজম চালানো শুরু করেছে। যাদবপুরের তাণ্ডবের কায়দায় উত্তর কলকাতার এবিভিপি হামলা নামিয়ে আনতে চায় কলেজ স্ট্রিটের বুকে। শতাব্দী-প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সিতেও নাকি বিভিন্ন ‘দেশবিরোধী’ কাজকর্ম হয় এবং তারই প্রতিবাদে এবিভিপি বিক্ষোভ কর্মসূচি নেবে বলে ঘোষণা করে। বিভিন্ন জায়গায় তা প্রচার করে। ব্রিটিশরাও তাই মনে করত আমাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে, আর তাদের তাঁবেদার বিজেপি-ও তাই মনে করে একথা সকলের জানা। গত ২১ আগস্ট বিকেল ৪ টে নাগাদ এবিভিপি, ৩০-৪০ জনের জমায়েত (যারা কেউ প্রেসিডেন্সির ছাত্র বা গবেষক বা প্রাক্তনী নয়) নিয়ে প্রেসিডেন্সির গেটের সামনে জড়ো হয়। তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করে। স্বাভাবিকভাবেই ডিরোজিও, সুভাষ বসু, উল্লাসকর দত্ত থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রেসিডেন্সিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্লোগান ওঠে ‘আরএসএস কে ছাতি পর/ বীরসা, ফুলে, আম্বেদকর’। দেশের মনীষীদের ছবি নিয়ে, জাতীয় পতাকা আর বাম সংগঠনের পতাকা হাতে নিয়ে প্রেসিডেন্সি গত ২১ তারিখ কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়াই আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠনকে দেশপ্রেমের পাঠ পড়ায়— যা সেই ব্রিটিশের সময় থেকেই আমাদের ইতিহাস। বহিরাগত এবিভিপির গুণ্ডারা গেটের সামনে থেকে পালাতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্সির ক্যাম্পাসে বাম রাজনৈতিক চেতনা ও পরিমন্ডল থাকার কারণে একটা গণতান্ত্রিক পরিসর আছে, আছে নানা মতের সহাবস্থান। এই গণতান্ত্রিক পরিসর সুস্থভাবে বজায় থাকবে একমাত্র ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। পূর্বতন তৃণমূল সরকার দীর্ঘ ৮-৯ বছর ইউনিয়ন ইলেকশন করতে দেয়নি। বর্তমানের বিজেপি সরকারও আরএসএস ও ‘ভালো’ তৃণমূলের মিলিত রূপ! তাদের মত-ও তাই। ছাত্রদের রাজনীতি করার অধিকার ছাত্রদেরকে এই দেশের সংবিধান দিয়েছে। আরএসএস-বিজেপি সংবিধানকে মানতে চায় না। বিভিন্ন স্কুল কলেজ-ক্যাম্পাসে এবিভিপি যে কায়দায় পেশিশক্তি প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসের পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, বাংলার মাটিতে তা আমরা চলতে দেবো না। বাংলার ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘ লড়াই আছে, ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে। এবিভিপির সঙ্গে এই ‘লড়াই’, ‘ইতিহাস’, ‘ঐতিহ্য’ শব্দগুলো বেমানান। আরএসএস-বিজেপি-এবিভিপির বিরুদ্ধে আমাদের আশু কর্তব্য, গোটা বাংলার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে ফ্যাসিবাদের এই রথের চাকা আটকে দেওয়া!

—বিতান দে, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়

নো পাসারন

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আরএসএস-বিজেপি’র আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালও দখল করতে উদ্যত হয়, এবিভিপি এবং কিছু ‘ভালো’ তৃণমূল। ৪ তারিখের ঠিক পরের দিনই রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে সদ্য এবিভিপি’র দুষ্কৃতীদের সাথে সংঘাত হয় এসএফআই-এর। সেদিনই কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ডিএসও-র সাথে সংঘাত বাঁধে নব্য এবিভিপি-র। কিন্তু এক ইঞ্চি জমি ছাড়েনি এসএফআই। প্রথম দিন থেকেই আরএসএস-কে বামপন্থী ছাত্রদের ‘নো পাসারন’-এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের আইন বিভাগের সাধারণ ছাত্ররা প্লেসমেন্ট সেল, ইন্টার্নশিপ লিভ, সিক রুম ইত্যাদির দাবিতে আন্দোলনে নামলে, এবিভিপি সেই আন্দোলন হাইজ্যাক করার চেষ্টা করতে থাকে। রুখে দাঁড়িয়েছিল আইনের ছাত্ররা। ছাত্রদের প্রতিরোধে এবিভিপি পিছু হঠে! বহু সংখ্যক ছাত্রছাত্রী কর্মচারী এবং শিক্ষকরা শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ। বেশ কিছুদিন যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছাত্ররা আন্দোলন কিংবা অন্যান্য কর্মসূচি নিতে গেলেই ছাত্রদের আক্রমণ করে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিসরকে ক্ষুন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে এবিভিপি। গত ২০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ছাত্রদের দাবিদাওয়া নিয়ে এসএফআই-এর ‘দ্বারভাঙা চলো’র দিন কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করে উস্কানিমূলক স্লোগানিং চালাতে থাকে এবিভিপির বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। পুলিশি পাহারায় ছাত্রদের সেদিন কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে যেতে হয়! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এমন দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন। গত ২৫ আগস্ট, আমাদের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের বাইরে এসএফআই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ৩২তম আঞ্চলিক সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশেও একইভাবে কর্তৃপক্ষের মদতে ঝামেলার চেষ্টা করে। এসএফআই-এর মিছিল আটকানোর জন্য গেট বন্ধ রেখে এবিভিপি-কে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আলোচনা সভা চালাতে দেওয়া হয় অথচ কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করতে গেলে এসএফআই-এর ওপর চড়াও হয় তারা। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢোকানো হয়। যদিও এসএফআই-এর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে হয়েছে ওদের।

ক্যাম্পাসের ভেতরে কর্তৃপক্ষের মদতে বিকৃত ইতিহাসের চর্চা হয়ে চলেছে বিজেপিকরণের উদ্দেশ্যে। সরকারি নির্দেশে সেনেট হলের অভ্যন্তরে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস, অন্যদিকে বাইরে বসেছে আরএসএসের বইয়ের স্টল! ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে, বীণা দাস, নেতাজি, রাহুল সাংকৃত্যায়নকে অপমানের বিরুদ্ধে, রাজ্যজুড়ে আরএসএস-বিজেপির মূর্তি ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে— আমরা প্রতিবাদ করেছি পোস্টারে, লিফলেটে, আলোচনা-সিরিজে। সব ইস্যুতেই সাধারণ ছাত্ররা এসএফআইয়ের পাশে থেকেছে। বামপন্থী ছাত্রদের শক্ত ব্যারিকেড ভাঙতে আরএসএস এখনও অক্ষম। আমরা, ছাত্ররা ‘নিশান’ নামের একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়েছি। ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক এবং ঐতিহ্যবাহী, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসরকে রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের বিরোধিতাই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতিদিন এসএফআই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার অপ্রতিরোধ্য ইতিহাস লিখে যাচ্ছে।

—অমিত কুমার ঘোষ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

ওরা পারবে না

স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে, গেরুয়া তাণ্ডবের প্রভাবে অতিষ্ঠ বর্তমান ছাত্রছাত্রীসহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ। যাদবপুর ক্যাম্পাসের বিজেপি যে  তণ্ডব চালায়, ছাত্রছাত্রীদের প্রাণে মারার চেষ্টাও করে ১৯ অগাস্ট, তারই প্রতিবাদে, আমরা মেদিনীপুর কলেজের মধ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সমবেত করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করি।  এসএফআই মেদিনীপুর কলেজ আর্টস ও সায়েন্স ইউনিটের পক্ষ থেকে ২১ শে আগস্ট এই সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচীকে উদ্যেশ্য করে বিজেপি এবং গেরুয়া শিবির আশ্রিত ‘ভালো’ তৃণমূল-সহ প্রায় ১০০ জন বহিরাগত মেদিনীপুর কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে পড়ে হাতিয়ার সমেত। ঠিক যেমনটা আগের সরকারের সময় প্রতিটি ক্যাম্পাসে দেখা যেত, সেই তৃণমূলী কায়দায় সন্ত্রাস চালিয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে নৈরাজ্য স্থাপনের চেষ্টা করে এবিভিপি। কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে তারা প্রথমে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হয় তারপর এসএফআই নেতৃত্বদের আক্রমণ করে। 

কলেজ কর্তৃপক্ষের সরকারের প্রতি উদার মনোভাবের জন্য ছাত্রছাত্রীরা কলেজের মধ্যে আক্রান্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়। বাইরে পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। শেষে আক্রান্তদের ৪ জন গুরুতর আহত ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ চাপে পড়ে তাদের দ্রুত হাসপাতাল পাঠায় তাও ওই দুস্কৃতিবাহিনীর থেকে লুকিয়ে, গোপনে। 

শুধু এখানেই শেষ নয়! বিক্ষোভকর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের এবং এসএফআই নেতৃত্বদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয় বিজেপি-‘ভালো’ তৃণমুলের গুন্ডারা। তার সাথে ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত মেয়েদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ যখনই তারা কলেজ বা ব্যক্তিগত যে কোনও কাজে বাইরে বের হয় তখনই তাদের পিছু নেয় এই নব্য গেরুয়া গুন্ডাবাহিনী। এত শত বাধা বিপত্তির পরেও আমরা ছাত্রছাত্রীরা সরকারের এই নৈরাজ্যের তীব্র বিরোধিতা করছি প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। শুধু মেদিনীপুর কলেজেই নয়। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একই চিত্র। প্রতিটি ক্যাম্পাসেই ছাত্রছাত্রীদের ভীত-সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে পারবে না। পারছে না। বর্তমান শিক্ষাবিরোধী সরকার যতই চেষ্টা করুক তারা ক্যাম্পাস গুলোতে তাদের নৈরাজ্য স্থাপন করতে পারবে না। কারণ ছাত্রছাত্রীরা, সংবিধান এবং ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানে, নিজেদের অধিকার, নিজেদের ক্যাম্পাসের সুরক্ষা নিজেরা ছিনিয়ে নিতে।

—স্নেহাশীষ পাত্র, মেদিনীপুর কলেজ

দ্বেষের বিরুদ্ধে, দশের উত্তর

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোয় আঘাত করা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কিংবা তাদের সংসদীয় দল ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম পুরোনো অভ্যেস। বিগত ১৯ তারিখ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে তা এই অভ্যেসের ফলাফল। এবার পরিকাঠামো মানে তো, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজি আর্টস বিল্ডিং, কিংবা ব্লু আর্থ মেশিন শপ, অথবা মিলন দা’র ক্যান্টিন নয়! এমনকি স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অরবিন্দ ঘোষের নামাঙ্কিত যে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংটি রাতের অন্ধকারে এবিভিপি পোড়াতে চায়, শুধু সেটিও নয়। বরং এই ক্লাসরুম থেকে ক্যান্টিন— যে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, কর্মচারীরা দিনের পর দিন ঘাম দিয়ে, চেতনা দিয়ে নির্মাণ করেছেন, তাদের অস্তিত্ব। ফান্ডকাটের জন্য তাদের কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট স্টাফ নেই, ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, লাইব্রেরিতে যথেষ্ট বই নেই। দেশের সর্বত্র পাবলিক এডুকেশনের যা পরিস্থিতি, যাদবপুর তার বাইরে নয়। তবুও এই স্বপ্ন দিয়ে তৈরি, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে ইমান! তাই সারা রাজ্যের প্রান্তিকতম অংশ থেকে ছাত্ররা পড়তে পারছে যথাসম্ভব কম খরচে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি নন্দলাল বসুর তৈরি এম্বলেম কিংবা রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিকতাবাদে সমৃদ্ধ। বেঙ্গল টেকনিকাল কলেজের ঐতিহ্যে বলীয়ান। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উল্টোদিকে চোখ চোখ রেখে দাঁড়িয়ে থাকা স্বদেশের স্নেহ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন সমাজবিজ্ঞানের ধারায় একের পর এক নতুন ডিসিপ্লিনের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ চালু করা। চাঁদের বুকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে আসা। তাই মুক্তির চিন্তার পরিসর। মানুষের আপামর মুক্তির। সংঘবদ্ধতার। সেখানে ছাত্রদের জেনারেল বডি মিটিংয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এক মাথা, (যে কিনা ছাত্রও নয়) ঢুকে পড়ে ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি চালাতে চাইলেই বা চলবে ক্যানো? রামের নামে বা ভারতের জাতীয় পতাকায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতৃষ্ণা নেই। কিন্তু, পরিকল্পনামাফিক বারংবার হেটস্পিচ দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, এই দেশের, এই রাজ্যের একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, তার প্রতি একরাশ প্রতিরোধ আছে। তাই ১৯-২০ হলে, যাদবপুর উত্তর দেবে আবারও। দ্বেষের বিরুদ্ধে, দেশের উত্তর, দশের উত্তর।

—কৌশিকী ভট্টাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়


প্রকাশের তারিখ: ০৯-সেপ্টেম্বর-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২২১ টি নিবন্ধ
০৯-সেপ্টেম্বর-২০২৬

৩০-আগস্ট-২০২৬

২৮-আগস্ট-২০২৬

২৬-আগস্ট-২০২৬

১৩-আগস্ট-২০২৬

১১-আগস্ট-২০২৬

০৯-আগস্ট-২০২৬

০২-আগস্ট-২০২৬

০২-আগস্ট-২০২৬

০১-আগস্ট-২০২৬