সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
কুস্তি সংস্থার ওপর স্থগিতাদেশ: একটি বিলম্বিত এবং ক্ষুদ্র প্রয়াসমাত্র
জগমতী সাংওয়ান, ইন্দ্রজিৎ সিং
আশ্চর্যজনক নয় যে, উক্ত তিন কুস্তিগীর এবং যারা তাদের সংগ্রামকে সমর্থন করেছিল তারা নিজেদেরকে চরম প্রতারিত মনে করেছে। বৃজভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের শালীনতাকে ক্ষুব্ধ করার অপরাধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু পকসো আইনের অধীনে তার গ্রেপ্তারি এড়াতে নাবালক অভিযোগকারীনীকে অভিযোগ জমা না-দেওয়া এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য প্রভাবিত করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল চার্জশিট দাখিল করার আগে।

গত ২২ ডিসেম্বর বেশির ভাগ জাতীয় দৈনিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত দুটি ছবি অবিলম্বে সাড়া ফেলেছিল। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (ডব্লিউএফআই) প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ সিং ভারী মালা পরে, বর্তমানে নির্বাচিত সভাপতি সঞ্জয় কুমার সিং-এর পাশে দাঁড়িয়ে বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন৷ দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিজভূষণের ছেলে তার বাবার অশোকা রোডের এমপি বাংলোর সামনে একটি প্ল্যাকার্ড দেখাচ্ছে। এই দুটি ছবি ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ডব্লিউএফআই নির্বাচনের জাতীয় সংস্থার ফলাফলের জমকালো উদযাপনের অংশ। প্ল্যাকার্ডটিতে একটি সংক্ষিপ্ত হুমকি আছে হিন্দিতে—
'দবদবা তো হ্যায়
দবদবা তো রাহেগা'।
এর মানে
'দমন তো আছেই
দমন তো থাকবেই।’
হঠাৎ করেই কেন এই দুটি ছবি সারা দেশে তীব্র এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করল? কারণগুলি স্পষ্ট, দুটি ছবির বিষয়বস্তু এবং তার থেকে ঠিকরে ওঠা অহংকার অনেকগুলি পূর্বপরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে। অলিম্পিক পদক-জয়ী মহিলা কুস্তিগীররা, পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে কয়েক মাস আগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অত্যুক্তি নয় যে, ব্রিজভূষণ এবং তার গুন্ডাদলটির নিন্দনীয় এবং ঘৃণ্য আচরণ ইতিমধ্যেই প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের গভীরভাবে বিক্ষুব্ধ করেছে। তাদের অসহ্য আচরণের চরম সীমায়, বিখ্যাত অলিম্পিয়ান পদক জয়ী সাক্ষী মালিক আবেগতাড়িত মুহূর্তে প্রিয় কুস্তি খেলা থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। তিনি তার সযত্নলালিত স্পোর্টস বুটজোড়াকে মিডিয়ার সামনে একটি টেবিলে রেখে শেষ বিদায় জানান। এরপরে বজরং পুনিয়া এবং বীরেন্দ্র সিং, যিনি ‘গুঙ্গা পেহলওয়ান’ নামেও পরিচিত, প্রধানমন্ত্রীকে সম্বোধন করা একটি কড়া চিঠি দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এভাবেই ভিনেশ ফোগট তার খেলরত্ন এবং অর্জুন পুরস্কার উভয়ই ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রতীকী প্রতিবাদগুলি শক্তিশালী জনমত তৈরি করেছে এবং এর প্রভাবেই ঘটনাক্রম একটি অপ্রত্যাশিত বাঁক নিয়েছে।
ব্রিজভূষণ শিবিরের অতিমাত্রায় উদ্যাপন তাদের উপরেই পাল্টা মাত দিয়েছে। কুস্তির একটি প্যাঁচের মতো, যেখানে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে করা একটি নির্দিষ্ট কৌশল ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধেই অসাবধানতার প্যাঁচ এবং বিরোধীর সাফল্যের কারণ বলে বিবেচিত হয়— ব্রিজভূষণ গোষ্ঠীর অসামান্য ক্রিয়াকলাপগুলি তেমনই বুমেরাং হয়েছে!
এই পরিস্থিতিতে, সংসদ নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে কুস্তিগীরদের আগের আন্দোলনের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হচ্ছে। তাতে আশঙ্কিত বিজেপি মনে করছে, ব্রিজভূষণকে আর রক্ষা করা ক্রমশ অসম্ভব। ক্রীড়া মন্ত্রীর একগুঁয়ে এবং অসম্মানজনক পদক্ষেপের পিছনে তাই হল চালিকা শক্তি। অবশ্যই তার শীর্ষ কর্তাদের নিরঙ্কুশ অনুমোদনে, পরবর্তী নির্দেশ না-দেওয়া পর্যন্ত নবনির্বাচিত ডব্লিউএফআই সংস্থাকে স্থগিত করার আদেশ দেওয়া হয়। যার ফলে ব্রিজভূষণ শিবিরের বিজয় উৎসবে বাধা পড়েছে। নির্বাচিত সংস্থার জায়গায় কী ধরনের অ্যাডহক ব্যবস্থা থাকবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করা হয়নি। কুস্তিগীররা অবশ্য শুধুমাত্র এই পন্থায় সন্তুষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরে মহিলা কুস্তিগীরদের জনপ্রিয় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া উচিত। অসংখ্য মহিলা কুস্তিগীর যৌন নির্যাতনের জঘন্য অভিযোগ করেছেন ডব্লিউএফআই সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে। স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে ভারতের রেসলিং ফেডারেশন পরিচালনা করার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন। উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা থেকে ক্ষমতাসীন বিজেপির সাংসদ সদস্য ব্রিজভূষণের বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ডব্লিউএফআই-এর সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নিচ্ছিলেন।
বিজেপি এবং মোদী সরকারের মধ্যে ব্রিজভূষণের প্রভাব কতটা তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দিল্লি পুলিশ শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই মহিলা কুস্তিগীরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করেছিল। এমনকি যখন ডব্লিউএফআই সভাপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছিল, কারণ সে যৌন হয়রানির অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিযোগের আওতায় (পকসো) আইনে অভিযুক্ত, শক্তিশালী গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই তখনও পর্যন্ত একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।
দীর্ঘ আইনি বিরোধের পর ২১ ডিসেম্বর অত্যন্ত বিতর্কিত ডব্লিউএফআই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিজভূষণের কট্টর সমর্থক সঞ্জয় কুমার সিং, কমনওয়েলথ স্বর্ণপদক বিজয়ী অনিতা শিওরানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। পরাজিত ৫০টির মধ্যে মাত্র ৭টি ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনের ফলে একচেটিয়াভাবে পুরুষ ১৫ সদস্যের একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ব্রিজভূষণের অনুগত।
এই নির্বাচনের মানে কী? বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা মাত্র ৫০ জন বিজোড় ভোটারের একটি নির্বাচনী সংস্থা পরিচালনা করা শক্তিশালী ব্রিজভূষণ সিংয়ের পক্ষে কখনই শক্ত কাজ ছিল না, কারণ তার পক্ষে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা সহজেই উপলব্ধ। ফলস্বরূপ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল আসলে পূর্বনির্ধারিত উপসংহার তাই সেটি একটুও আশ্চর্যজনকও নয়। তবে সত্যিই উদ্বেগজনক যে অনিতা শিওরান, বিশিষ্ট মহিলা কুস্তিগীর এবং কমনওয়েলথ স্বর্ণপদক বিজয়ী, ৫০টির মধ্যে মাত্র ৭টি ভোট পেয়েছেন! ভুলে গেলে চলবে না সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একজন মহিলা কুস্তিগীর, লাগামহীন ক্ষমতাশালী একটি সুপ্রতিষ্ঠিত লবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন।
কুস্তিগীর এবং জনসাধারণের মধ্যে যা সত্যিই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল তা নিছক নির্বাচনী ফলাফলের ফলাফল নয় বরং তথাকথিত বিজয়ীদের স্পর্ধিত ঔদ্ধত্য। আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সবকিছুই নজরদারির আওতায় এবং ব্রিজভূষণ শিবির প্রতিহিংসামূলক কাজ করবে এবং যারা তার জমিদারিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে।
এখন সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি। মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবশ্যই কুস্তি এবং খেলাধুলার বৃহত্তর ময়দানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন মুক্ত রাখতে হবে।
যন্তর মন্তরে কুস্তিগীরদের অনন্য আন্দোলন গভীর ছাপ ফেলেছে, যা ২০২৩ সালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ আন্দোলনগুলির মধ্যে অন্যতম উল্লেখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এর কারণ মহিলাদের যৌন হয়রানির ইস্যুকে কেন্দ্রের পর্যায়ে নিয়ে আসার সাফল্য৷ ফলে সমগ্র জাতির চেতনা আলোড়িত হয়েছে। বজরং পুনিয়া সহ দুই মহিলা কুস্তিগীর, সাক্ষী মালিক এবং ভিনেশ ফোগাটের শিক্ষনীয় দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস যুগিয়েছে। বিভিন্ন মহিলা সংস্থা, কৃষক ইউনিয়ন, বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, খাপ পঞ্চায়েত, ছাত্র এবং যুব সমাজসহ বিস্তৃত গোষ্ঠীগুলির থেকেও অভূতপূর্ব সংহতি অর্জনে সফল হয়েছে।
শাসকদের অপরাধমূলক অসংবেদনশীলতা এবং নৃশংস পুলিশী দমন, আন্দোলন দমনে অকার্যকর প্রমাণিত হলে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। ১৩ জুনের মধ্যে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করার প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। উপরন্তু, আসন্ন নির্বাচনে ডব্লিউএফআই-কে তার ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধিমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, আন্দোলনকারী মহিলা কুস্তিগীররা একজন মহিলাকে WFI-এর প্রধান করতে চেয়েছিলেন।
আশ্চর্যজনক নয় যে, উক্ত তিন কুস্তিগীর এবং যারা তাদের সংগ্রামকে সমর্থন করেছিল তারা নিজেদেরকে চরম প্রতারিত মনে করেছে। ব্রিজভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের শালীনতাকে ক্ষুব্ধ করার অপরাধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু 'পকসো' আইনের অধীনে তার গ্রেপ্তারি এড়াতে নাবালক অভিযোগকারীনীকে অভিযোগ জমা না-দেওয়া এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য প্রভাবিত করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল চার্জশিট দাখিল করার আগে।
একইভাবে, ডব্লিউএফআই-কে ব্রিজভূষণ ও তার দোসরদের খপ্পর মুক্ত রাখার বিষয়ে দ্বিতীয় আশ্বাসটিও সাম্প্রতিক নির্বাচন ফলাফলের পরের চিত্রে স্পষ্ট যে সেটি নাকচ হয়ে গেছে।
নির্বাচিত সংস্থাটিকে স্থগিত করার জন্য ক্রীড়া মন্ত্রকের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত সরকারি কারণটি হল— উত্তর প্রদেশের গোন্ডার নন্দিনী নগরে জুনিয়র ন্যাশনাল রেসলিং টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা এবং তাড়াহুড়ো করা। এটি ব্রিজভূষণের নিজস্ব সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়ে। এই ইস্যুটি আন্দোলনের সময়ও তীব্র আপত্তিকর ছিল যে, ব্রিজভূষণ বদ-উদ্দেশ্যে নিজের পছন্দের জায়গায় অনুষ্ঠানগুলি সংগঠিত করেন। এই প্রসঙ্গে, সাক্ষী মালিক তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন— অংশগ্রহণকারী মেয়েদের গোন্ডায় যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইতিমধ্যে, যে বিস্তৃত পরিস্থিতি অবশেষে উদ্ভাসিত হল— তাতে স্টেকহোল্ডারদের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ছবি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। ব্রিজভূষণ সিংয়ের শিবির নিজেদের নির্দোষী প্রমাণ করতে, ডব্লিউএফআই নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যাখ্যা করার মরিয়া চেষ্টা করছে। তারা জনগণকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছিল, যে গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত পুরো পর্বটি ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র বদ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বানিয়ে তোলা। অন্যদিকে, কুস্তিগীর, ক্রীড়াপ্রেমীরা এবং ন্যায়প্রিয় মানুষদের পাশে হতাশা ও নিরাশার পরিবেশের মধ্যেও মনোবল বৃদ্ধির ঝলক দেখা যাচ্ছে। পুরষ্কার বিজয়ী কুস্তিগীররা তাদের পুরষ্কার ফিরিয়ে দিয়ে তাদের যন্ত্রণা প্রকাশ করে চলেছেন। এটাও স্পষ্ট করেছেন যে ব্রিজভূষণ দেশের গৌরব বয়ে আনা একটি পদকের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৫ টাকা!
এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে গভীর উদ্বেগের কারণ, অভিভাবকরা যারা সাম্প্রতিককালে সক্রিয়ভাবে তাদের মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিচ্ছেন তার সাথে সম্পর্কিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞাগুলিকে অস্বীকার করে৷ খেলাধুলায় আরও ভালো কেরিয়ার এবং চাকরির সুযোগের অন্বেষণে, পদক জয়ের গর্বকে দেখে, গ্রামীণ এলাকায়, বিশেষ করে হরিয়ানার, অনেক বাবা-মা সম্প্রতি তাদের মেয়েদের পেশাগত পছন্দ হিসাবে খেলাধুলার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ দেশের মেয়েরা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অসংখ্য পদক অর্জন করে তাদের সফল প্রতিভা দেখিয়েছেন।
লক্ষ করুন প্রধানমন্ত্রী ‘বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও’ স্লোগানকে সম্প্রসারণ করে ‘বেটি খেলাও’ বলে পরামর্শ দিয়ে খেলাধুলায় মেয়েদের অগ্রণী ভূমিকা স্বীকার করেছিলেন। মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাকেও স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নতুন বছরে এসে, আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করি যে, তা যেন ‘বেটি রুলাও’তে না-পর্যবসিত হয়।
সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক ঘটনাগুলি নিঃসন্দেহে ক্রীড়া সংস্থা এবং অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতির এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষিতে মেয়েদের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে৷ এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচিত সংস্থাকে নিছক স্থগিত করার ছকটি, সমস্যা সমাধানের একটি ভাসাভাসা প্রচেষ্টা হিসাবে প্রমাণিত হচ্ছে। সমস্ত খেলাজগৎ জুড়ে মেয়ে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশাল অনাস্থার ঘাটতি, শুধুমাত্র এই ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণ করা সম্ভব নয়।
এছাড়াও চলমান অব্যবস্থাপনার উদ্ঘাটনকে গভীরভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কুস্তিগীরদের আন্দোলনের সময় মহিলা সংগঠনগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং এই পরিস্থিতিতে, মহিলা সংগঠন সহ সমস্ত বিভাগকে সম্মিলিতভাবে এবং স্বাধীনভাবে মহিলাদের সুরক্ষা এবং আত্মসম্মানের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সকলেই পরিষ্কার বুঝে গেছে যে, বিজেপি ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বা সুপ্রিম কোর্ট এফআইআর দায়েরের নির্দেশ না-দেওয়া পর্যন্ত দিল্লি পুলিশও প্রাথমিকভাবে কোনও মামলা নথিভুক্ত করেনি। ন্যায়বিচারের জন্য, অভিযোগকারীদের প্রভাবিত করা থেকে বিরত রাখতে অভিযুক্তকে দেওয়া জামিন বাতিল করা অপরিহার্য, কারণ অভিযোগকারিনীদের সাক্ষ্য নিশ্চিত দোষী সাব্যস্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ খেলাধুলার ক্ষেত্রে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার দাবি মেনে, সমস্ত ক্রীড়া ফেডারেশন এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলির আমূল রূপান্তরের জন্য কঠোর পদক্ষেপগুলির বাস্তবায়ন দরকার। বিশেষত, বিকল্প ক্রীড়া নীতির প্রয়োজন রয়েছে যা সাম্প্রতিক দশকগুলিতে মেয়েদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেবে এবং সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করবে।
এই আমূল পরিবর্তনগুলি নীতি কাঠামোর অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয়। যাতে, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলি সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে; বাস্তব অর্থে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিতে জোর দেয় এবং বিস্তৃত প্রচারমূলক ব্যবস্থাও নেয়। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, নানাভাবে আমাদের যন্তর মন্তরের কুস্তিগীরদের আন্দোলনের চেতনা এবং শক্তিকে জোরদার, সংহত এবং প্রসারিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
ভাষান্তর: বীথিকা সাহানা
প্রকাশের তারিখ: ০২-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
