Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

২০১৪র নির্বাচন, সোশাল মিডিয়া ও বিজেপি

সুচিক্কণ দাস
একদা ইনফোসিসের পদস্থ কর্তা শশীশেখর পরে হয়েছিলেন প্রসার ভারতী কর্পোরেশেনের শীর্ষকর্তা। রাজেশের প্রচার টিমের নাম ছিল ‘‌ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’‌। টিমের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০০ জন। রাজেশ জৈন এই বিষয়টা শিখেছিলেন সম্ভবত ওবামার মিডিয়া ম্যানেজারদের কাছ থেকে। দ্বিতীয় টিমের দায়িত্বে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আই প্যাক। রান ফর ইউনিটি, চায়ে পে চর্চা, মন্থনের মতো জনপ্রিয় কর্মসূচির মাধ্যমে মোদির ভাবমূর্তি গড়ে তোলাটা ছিল এদের দায়িত্ব। আই প্যাকের অধীনে ‘‌সিটিজেন্স ফর অ্যকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট’‌ নামের সংস্থা বিজেপিতে ম্যানেজমেন্ট গ্রাজুয়েটদের রিক্রুট করার দায়িত্বে ছিল।
2014 Election, Social Media and BJP

ওবামা থেকে মোদি

ডিজিটাল পণ্য, যার একাংশ পরে সোশাল মিডিয়া হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে, জনমতকে প্রভাবিত করার কাজে তার ভূমিকা যে অত্যন্ত জোরাল, একথাটা প্রথম বুঝতে পারে ডিজিটল পণ্যে বিনিয়োগকারী মার্কিন পুঁজিপতি ও তাদের ঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে শুরু হয়েছিল এগুলির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ। পরে সেটা হয়ে ওঠে জনমতকে প্রভাবিত করার হাতিয়ারও। নির্বাচনের সময় নির্বাচকদের মতামতকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে সোশাল মিডিয়া, তার প্রথম সফল পরীক্ষা–নিরীক্ষা হয় আমেরিকায়। ২০১২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী বারাক ওবামাকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম ফেসবুক প্রেসিডেন্ট। সেই প্রথম নির্বাচকমণ্ডলীর সমগ্রতাকে ভেঙে ফেলা হয় বিভিন্ন অংশে — পুরুষ, মহিলা, ছাত্র, অধ্যাপক, প্রবীণ, শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, রূপান্তরকামী ইত্যাদি। এরপর বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটারদের সম্পর্কে নানা ধরনের বিপুল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেগুলির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিটি অংশের ভোটারের মনোভাব ও পছন্দ বুঝে তাদের ল্যাপটপ ও সেলফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হত প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারের কনটেন্ট। এভাবে ডেটা বা সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একেবারে মাইক্রোস্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নির্বাচনী প্রচারকে এবং তার ফলও মিলেছিল হাতেনাতে। নির্বাচনী প্রচারের একেবারে নতুন এই কলাকৌশল পরে বিশদে আলোচনা করেন  সাশা ইসেনবার্গে, তাঁর ‌‘‌দ্য ভিক্ট্রি ল্যাব: দ্য সিক্রেট সায়েন্স অফ উইনিং ক্যাম্পেনস’‌ বইটিতে। এখানে ভিক্ট্রি ল্যাব কথাটা লক্ষ্যণীয়। 


নয়া উদারবাদী পুঁজি ও নয়া উদারবাদী রাজনীতির জোট

যেহেতু মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের পুঁজিপতিদের সঙ্গে এদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র ও বিজ্ঞাপন জগতের পুঁজিপতিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, (‌নয়া উদারবাদী, বিশ্বায়িত পুঁজির আমলে সেটাই হওয়ার কথা)‌, তাই তারাও সোশাল মিডিয়ার ওবামার নির্বাচনী প্রচারের দিকে নজর রেখেছিলেন। মনে রাখা দরকার এদেশে ফেসবুক ও টুইটার চালু হয়েছিল ২০০৬ সালে। আর ২০০৭ সালেই আইআইটি আমেদাবাদের গ্র্যাজুয়েট প্রদ্যোৎ বরার নেতৃত্বে আইটি সেল চালু করেছিল বিজেপি। 

মার্কিন মুলুকের নির্বাচনে সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের সাফল্যের পর এদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল পণ্য ক্ষেত্রের পুঁজিপতি ও বিশেষজ্ঞরা ২০১৪র লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সোশাল মিডিয়াকে কাজে লাগানোর কৌশল রচনা শুরু করে দেন। এবং এই প্রক্রিয়াটির সূচনা হয়েছিল ২০১২ সালেই। মনোমোহনের নয়া উদারবাদের দিকে ঝুঁকে থাকা ইউপিএ সরকারকে গরিবমুখী, মিশ্র অর্থনীতির পথে ধরে রেখেছিল বামেদের সফল ‘‌হস্তক্ষেপ’‌। সেকারণে ইউপিএ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নয়া উদারবাদী পুঁজির রাজত্ব কায়েম করার জন্য এবং অর্থনীতির সমগ্র পরিসর দখল করার লক্ষ্যে নয়া উদারবাদী বিজেপিকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা পুঁজিপতি মহলে শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। 

২০১২ সালে ওবামার নির্বাচনী প্রচারে সোশাল মিডিয়ার সাফল্য দেখে, সেই পর্বে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এদেশের পুঁজিপতিরা। ঠিক সেই সময়েই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকা সোশাল মিডিয়া পুঁজিপতিদের কাছে বিনিয়োগের লোভনীয় ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এখানে বিজেপির রাজনৈতিক চাহিদার সঙ্গে মিলে গিয়েছিল সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর্বটি। আবার এর সঙ্গে মিশেছিল এই মাধ্যমের বাজারকে প্রসারিত করে তুলে মুনাফা বৃদ্ধির তাগিদ। এক কথায় বলল, নয়া উদারবাদী অর্থনীতি ও নয়া উদারবাদী রাজনীতির তৎকালীন চাহিদাগুলির মেলবন্ধন ঘটেছিল ভারতে সোশাল মিডিয়ার বিকাশ পর্বে।  সেকারণেই ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই মাধ্যমগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য  বিজেপির সঙ্গে ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী পুঁজিপতি এবং এই ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটা অঘোষিত জোট তৈরি হয়। এই জোটই তাদের প্রচারকৌশলে মোদি মিথ তৈরি করে বিজেপিকে এককভাবে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে। পরবর্তী কালে এই ক্ষেত্রে বিজেপির ক্ষমতা আরও সংহত করতে সহযোগী থেকেছে এই অঘোষিত জোট।


নেপথ্যে কারা

কারা কারা যুক্ত ছিলেন এই উদ্যোগে? ‌এক্ষেত্রে প্রাথমিক একটা পরিচয় দেওয়া যেতে পারে। 

২০১৪র লোকসভা ভোটে মোদির হয়ে প্রচারের দায়িত্বে ছিল চারটি টিম। 

প্রথম টিমের নেতৃত্বে ছিলেন মুম্বইয়ের রাজেশ জৈন। গুজরাটের মোদি ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ী ছিলেন ৯০ এর দশকের ডটকম ব্যবসার অন্যতম সফল পথিকৃৎ। গড়ে তুলেছিলেন ইন্ডিয়াওয়ার্লড সংস্থা এবং পরে ১১ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারে বিক্রি করেছিলেন সত্যম ইনফোওয়েকে। রাজেশ জৈনই বিজেপির আইটি স্ট্রাটেজিস্ট। ২০১৪ সালে মোদির ডিজিটাল প্রচারের কৌশল কী হবে সেনিয়ে রাজেশ আলোচনা করেছিলেন এদেশে ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির আইটি সেলের সদস্যদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণও দিয়েছিল ফেসবুকের কর্মীরা। রাজেশকে সহযোগিতা করতেন শশীশেখর ভেম্পাতি। একদা ইনফোসিসের পদস্থ কর্তা শশীশেখর পরে হয়েছিলেন প্রসার ভারতী কর্পোরেশেনের শীর্ষকর্তা। রাজেশের প্রচার টিমের নাম ছিল ‘‌ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি’‌। টিমের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০০ জন। রাজেশ জৈন এই বিষয়টা শিখেছিলেন সম্ভবত ওবামার মিডিয়া ম্যানেজারদের কাছ থেকে।

দ্বিতীয় টিমের দায়িত্বে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আই প্যাক। রান ফর ইউনিটি, চায়ে পে চর্চা, মন্থনের মতো জনপ্রিয় কর্মসূচির মাধ্যমে মোদির ভাবমূর্তি গড়ে তোলাটা ছিল এদের দায়িত্ব। আই প্যাকের অধীনে ‘‌সিটিজেন্স ফর অ্যকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট’‌ নামের সংস্থা বিজেপিতে ম্যানেজমেন্ট গ্রাজুয়েটদের রিক্রুট করার দায়িত্বে ছিল।

তৃতীয় টিমের দায়িত্ব ছিল মোদির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গড়ে তোলা। নেতৃত্বে ছিলেন ডক্টর হীরেন যোশি। পুনে থেকে উঠে আসা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ এই অধ্যাপক একসময়ে ছিলেন গুজরাটে মোদির ওএসডি। ২০০৮ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের সময় মোদির হয়ে জিডিটাল প্রচারে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তিনি। ফলে ২০১৪র লোকসভা ভোটের প্রচারে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে। গান্ধীনগরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বসেই তিনি মোদির নির্বাচনী প্রচারের কাজ পরিচালনা করতেন।  পড়ানো ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুবাদে ভারতে ফেসবুকের আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তাঁর। যোশির টিমে ছিলেন শিবনাথ ঠুকরাল যিনি পরে ফেসবুকের গুরুত্বপূ্র্ণ পদাধিকারী হয়েছিলেন। মোদি ক্ষমতায় আসার পর যোশি হন পিএমও–র অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি। তিনি দেখেন গবেষণা ও কমিউনিকেশন টেকনোলজি দপ্তর। ডিজিটাল প্রচারে মোদির গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতেদের অন্যতম। 

চতুর্থ টিমের দায়িত্বে ছিলেন  অরবিন্দ গুপ্ত। দিল্লি থেকে বিজেপির প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে হয়েছিলেন মাইগভ ডট ইন –এর সিইও। 

এছাড়া, ২০১৩ সালে মোদির অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন অখিলেশ মিশ্র। মিশ্র ছিলেন ব্লুক্রাফট ডিজিটাল ফাউন্ডেশনের সিইও। এই ফাউন্ডেশনের অধীনে ছিল ভুয়ো খবর প্রচারের ওয়েবসাইট ‘‌দ্য ট্রু পিকচার’‌। এরাই মোদির লেখা বই প্রকাশ করত। নমো টিভির প্রচারের ভিডিও বানাত। পরে অখিলেশ মিশ্র ভারত সরকারের ওয়েবসাইট মাইগভ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর হন। 

২০১৪র নির্বাচনে বিজেপির প্রচারে সাহায্য করেছিলেন সাজন রাজ কুরুপ ও প্রহ্লাদ কাক্কর। দুজনেই দেশের বিজ্ঞাপন জগতের মাথা। দুজনেই নির্বাচনী প্রচার কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করেছিলেন বিজেপিকে। সেই সময় বিজেপির প্রচারের মুখ ছিলেন অভিনেতা অনুপম খের। এরকম আরও নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

সোশাল মিডিয়া ও বিজেপির ভুয়ো প্রচার

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০০৭ সালে বিজেপির আইটি সেলের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আইআইএম আমেদাবাদের স্নাতক প্রদ্যোৎ বরা। পরে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের কাণ্ডকারখানা দেখে দল ছাড়েন বাজপেয়ী আমলের এই কর্মী। বরা পরে জানান, কীভাবে ভোটে জেতার জন্য সোশাল মিডিয়াকে ভুয়ো প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছিল বিজেপি। বরার কথায়, ‘‌সত্যের সঙ্গে সমঝোতা করার প্রক্রিয়া বিজেপিতে শুরু হয় ২০১৪ সালে। সেবার নির্বাচনী প্রচারে ছড়ানো হয়েছিল একাবারেই যাচাই না করা তথ্য, ভুলভাল ভিডিও, এলেমেলো মিম, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রেখচিত্র। তবে ভুয়ো খবর সরাসরি প্রচার করা হত না ধরা পড়ার ভয়ে। চুক্তির ভিত্তিতে এই ধরনের প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হত অন্য কোনও সংস্থাকে। ২০০৯ সালে  ভারতের মাত্র ২০টি বড় শহরে প্রান্তিক ধরনের প্রভাব ছিল ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপের। কিন্তু ২০১৪ সালে দেখা গেল প্রথাগত নির্বাচনী প্রচারের পুরো পরিসরই দখল করে নিয়েছিল সোশাল মিডিয়া।’‌

বিজেপির আইটি সেলের আরেক কর্তা, আরএসএস ক্যাডার ও প্রাক্তন আইবিএম কর্মী বিনীত গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে যখন ২০১৪–র লোকসভা ভোটের প্রচার পর্ব শুরু হতে চলেছে তখনই বিজেপির নেটওয়ার্কের সদস্য সংখ্যা ৭৮ হাজার। তারাই জোরকদমে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ ও টুইটারে মোদি ও বিজেপির হয়ে প্রচার চালিযে যাচ্ছিল দেশের ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার সব শহুরে ও গ্রামীণ ব্লকে। 

বিনীত জানিয়েছেন, ‘‌২০১২ সালে লিবারাল মিডিয়ার জমানা শেষ করে উত্থান হল সোশাল মিডিয়ার। রাজনীতিকরা তখন সরাসরি নিজেদের কেন্দ্রের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। লোকে সেই সময় প্রচলিত মিডিয়ার ওপর আস্থা রাখতে পারছল না। তখন আমরা আঁকড়ে ধরলাম ইন্টারনটকে। আমরা অন্যদের চেয়ে ভালভাবে সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেছি। বিনীত জানিয়েছেন,  শুধু দেশের মধ্যে নয়, আমেরিকায় এনআরআইদের মধ্যেও তারা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাদের বলেছিলেন নিজেদের চেনা পরিচিতদের বলতে তারা যেন অনলাইনে আলোচনায় অংশ নেয়। এগুলির মধ্যে ছিল লাইভ চ্যাট এবং ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে আলোচনা।’‌

বিনীতের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট ২০১৪র নির্বাচনে মোদিকে জেতাতে সোশাল মিডিয়াকে কতদূর ব্যবহার করেছিল বিজেপি।

কয়েকটি প্রাসঙ্গিক মন্তব্য

এই পর্বের আলোচনার শেষে আমরা যে সারসংকলন করতে পারি তাহল,

১। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি সোশাল মিডিয়াকে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিল এবং মোদিকে জিতিয়ে এনেছিল। বলা হয়, মোদি বিশ্বের প্রথম হোয়াটস অ্যাপ পিএম।

২। প্রথাগত মিডিয়ার প্রচারের বাইরে গিয়ে জনমত গঠনে সোশাল মিডিয়াকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেই কৌশল শিখেছিল।

৩। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কীভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে হয় সেই কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল।

৪। বিজেপির এই প্রয়াসের পিছনে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল পণ্য ক্ষেত্রের পুঁজিপতি ও পেশাদারদের সক্রিয় সহযোগিতা। মোদি জিতে আসার পর এদেরই অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে বসে বিজেপির হয়ে এই প্রক্রিয়াগুলিকে আরও সংহত রূপ দিয়েছিল।

এসব কারণেই বিনীত গোয়েঙ্কার মন্তব্য ছিল, এদেশে ফেসবুক বিজেপিকে চেনায়নি, বিজেপিই ফেসবুককে চিনিয়েছিল। 

(এবিষয়ে বিশদে জানতে দেখুন: The Real Face of Facebook in India: How SocialMedia Have Become A Propaganda Weapon And Disseminator Of Disinformation And Falsehood, Cyril Sam and Paranjoy GuhaThakurta.)




প্রকাশের তারিখ: ২২-মে-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫৭ টি নিবন্ধ
১৩-জুন-২০২৬

০৭-জুন-২০২৬

০৬-জুন-২০২৬

০৪-জুন-২০২৬

২৯-মে-২০২৬

২৮-মে-২০২৬

২৪-মে-২০২৬

০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬