Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

স্টার্মার বনাম করবিনের জয়

টিম মার্কসবাদী পথ
শেষ ক’দিন স্টার্মারের লেবার পার্টি শুধু একটাই কথা বলেছে: পরিবর্তন। যে স্লোগান দিয়ে একসময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন বারাক ওবামা, যে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ২০১১-র বাংলায়! ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির বোঝাপড়া স্পষ্ট: এই ‘পরিবর্তন’ হবে শুধু পুঁজিবাদ ও শাসকশ্রেণির সম্পদ রক্ষায় ‘প্রহরীর’ পরিবর্তন। সেকারণে স্টার্মারের জয় কোনওভাবেই শ্রমিকশ্রেণির জন্য অর্থপূর্ণ জয় হতে পারে না।
Starmer vs Corbyns victory

ব্রিটেনের নির্বাচনে শতাব্দীর শোচনীয়তম পরাজয়ের মুখে পড়ল কনজারভেটিভ পার্টি (টোরি)।

চোদ্দ-বছরের ভয়াবহ টোরি জমানার অবসান। ১৮৩৪ সালে পার্টির প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রিটেনের সংসদে দলের এত কম প্রতিনিধিত্ব অতীতে কখনও দেখা যায়নি। রাতারাতি সাফ হয়ে গিয়েছে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ। ২৪৪ জনকে হারিয়ে সদস্য সংখ্যা নেমে এসেছে একেবারে ১২১-এ।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে কিয়ের স্টার্মারের লেবার পার্টির সাংসদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ৪১২। ৬৫০-সদস্যের সংসদে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার চেয়েও ৮৬টি আসন বেশি। অনেকেই তুলনা টানছেন ১৯৯৭ সালের সঙ্গে। সেবার নির্বাচনে টোরি প্রধানমন্ত্রী জন মেজরকে ক্ষমতাচ্যুত করে যেভাবে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেছিলেন লেবার পার্টির নেতা টনি ব্লেয়ার, এবারেও যেন ঠিক তেমনই, টোরি নেতা ঋষি সুনককে ধরাশায়ী করে প্রধানমন্ত্রী লেবার প্রধান স্টার্মার।

লেবার জিতেছে ঠিকই, কিন্তু কতটা জনপ্রিয়? মাত্র ৩৩.৮ শতাংশের সমর্থনে দল পেয়েছে সংসদের প্রায় ৬৫ শতাংশ আসন। যেখানে ২০১৭-তে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পেয়েছিল ৪০ শতাংশ ভোট। পরে ২০১৯-এ করবিনের নেতৃত্বে লেবারের হারের জন্য যখন জনপ্রিয়তা হ্রাসকে দায়ী করা হয়, তখন সমর্থনের হার ছিল এবারের চেয়ে দু’ শতাংশেরও কম, ৩২.২ শতাংশ। সেবারে ভোটদানের হার ছিল ৬৭ শতাংশ। এবারে রেকর্ড কম, ৬০ শতাংশ। 

তারপরেও, এবারে মাত্র ১.৬ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে লেবার পেয়েছে অতিরিক্ত ২১১টি আসন! 

স্টার্মারের লেবার করবিনকে বহিষ্কার করলেও, নির্দল হিসেবে নর্থ ইসলিংটন থেকে দাঁড়িয়ে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছেন তিনি। হারিয়েছেন লেবারের চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থীকে। ১৯৮৩-তে এই কেন্দ্র থেকে প্রথম জিতেছিলেন করবিন। তারপর থেকে টানা জিতে চলেছেন। একবারের জন্যও পরাজিত হননি। এবারে ৭,২৪৭ ভোটে হারিয়েছেন লেবারের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রফুল নারগুণ্ডকে। করবিন পেয়েছেন ২৪,১২০ ভোট, বিপরীতে লেবারের প্রার্থী পেয়েছেন ১৬,৮৭৩ ভোট। করবিনের এই জয় স্টার্মারের জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনই বামপন্থীদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। 

মূলত টোরি-বিরোধী ভোট থেকেই লেবারের এই সাফল্য। পার্টির ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২৪ শতাংশের সমর্থন নিয়ে সংসদে টোরির আসন ১৮ শতাংশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস-সহ ১১ জন মন্ত্রী হেরেছেন তাঁদের আসনে। মেগা শহরের কেন্দ্রগুলিতে গাজায় গণহত্যা ইস্যুতে লেবারের বিরোধিতা করে তাৎপর্যপূর্ণ জয় পেয়েছেন প্রার্থীরা। লেবারের প্রার্থীকে হারিয়ে জিতেছেন চারজন প্যালেস্তিনীয়পন্থী প্রার্থী। লেবার সবচেয়ে বেশি ফায়দা তুলেছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)-র বিপর্যয় থেকে। স্কটল্যান্ডে দলের ভোট বেড়েছে ১৭ শতাংশ, যেখানে  এসএনপি-র ভোট পড়েছে ১৫ শতাংশ। লেবারের কাছে হারিয়েছে প্রায় চল্লিশটি আসন। এসএনপি-র আসন সংখ্যা ৪৮ থেকে কমে হয়েছে ৯। 

এই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন কট্টরপন্থী দল রিফর্ম ইউকে’র প্রধান নাইজেল ফারাজে। সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছে তাঁর দলের চারজন। সমর্থনের হার ১৪ শতাংশ। কনজারভেটিভ ভোটের একটি বড় অংশ কেটে নিয়েছে ফারাজের রিফর্ম পার্টি। যদি তা না হতো, তবে ফলাফল হতো অন্যরকম, রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি। এবারে ৯৮টি আসনে রিফর্ম পার্টি দ্বিতীয় স্থানে। টোরিকে হারিয়ে ফারাজের দল এভাবেই পুরস্কার তুলে দিয়েছে লেবারকে।

১২ শতাংশ ভোট পেয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা এগারো থেকে ছ’গুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ৭১। গ্রিনদের আসন সংখ্যা ১ থেকে বেড়ে হয়েছে চার।

এই জনাদেশ সরকারের নীতির প্রতি এক জোরালো প্রত্যাখ্যান। বামপন্থীদের দৃষ্টি এখন অবধারিতভাবে হওয়ার উচিত সরকারি নীতির অভিমুখ পরিবর্তনের দিকে। জরুরি হলো ধর্মঘট-বিরোধী আইন, প্রতিবাদ-বিরোধী আইন-সহ কর্তৃত্ববাদী আইনগুলির পরিবর্তন, প্রকৃত আয় ২০০-বছরের নিচে নেমে যাওয়ার অধোগতির অবসান এবং মুখ থুবড়ে পড়া জনপরিষেবার পুনরুজ্জীবন। খুব বেশি না হলেও, এর মধ্যে কয়েকটি লেবারের কর্মসূচিতেও রয়েছে, যারা জিতে এসেছে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। বামপন্থীদের তাই প্রথম দিন থেকেই সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। শুধু ইউনিয়ন-বিরোধী আইনের অবসান এবং শ্রমিকদের অধিকার বাড়ানোর জন্য ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্যই নয়, ভাঙতে হবে টোরির ব্যয়বরাদ্দের শৃঙ্খলাকে। যা স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও স্থানীয় প্রশাসন-সহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে সংকট সমাধানে মূল বাধা।

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে টোরিদের এই পরাজয় স্বাগত। কিন্তু স্টার্মারের দক্ষিণপন্থী লেবার সরকার সম্পর্কে শ্রমিকশ্রেণির কোনও মোহ থাকা উচিত নয়। 

ব্যয়সঙ্কোচ, বেসরকারিকরণ, অভিবাসন, প্যালেস্তাইন, ইউক্রেন এবং ক্রমবর্ধমান সমরবাদের মতো— শ্রমজীবী জনগণ যে মৌলিক প্রশ্নগুলির মুখোমুখি— সেব্যাপারে প্রতিষ্ঠানপন্থী রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র ও মনোপলি মিডিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রায় সার্বিক ঐক্য। নির্বাচনের এই ফলাফল তেমন কোনও কিছুরই সমাধান করবে না। বহু ক্ষেত্রেই টোরি সরকারের কলঙ্কিত নীতির ধারাবাহিকতা জারি রাখবে স্টার্মারের দক্ষিণপন্থী লেবার সরকার।

দুনিয়া জানে গাজার সঙ্কট নিয়ে কোনও পরিবর্তনের প্রস্তাব দেননি স্টার্মার। বরং, প্যালেস্তাইনের গণহত্যা শুরুর গত ন’মাসে প্রতিটি পর্যায়ে টোরিদের সঙ্গে লেবার নিয়েছে অভিন্ন অবস্থান। এমনকি ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত দেওয়ার আগে পর্যন্ত সংঘর্ষ বিরতির ডাক দিতে পর্যন্ত অস্বীকার করে। অস্বীকার করে ইজরায়েলকে সমরাস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার দাবি তুলতে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞার যে কোনও দাবির বিরোধিতা করে।

বৃহৎ শিল্পের শক্তিশালী অংশের মদতে স্টার্মার সরকার এবার দ্রুততার সঙ্গে শিল্পে শ্রমিকদের জঙ্গিপনা, শ্রেণিসংগ্রামকে নিকেশ করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, সম্প্রতি দেখা দেওয়া সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতাকে দমন করবে। 

শেষ ক’দিন স্টার্মারের লেবার পার্টি শুধু একটাই কথা বলেছে: পরিবর্তন। যে স্লোগান দিয়ে একসময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন বারাক ওবামা, যে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ২০১১-র বাংলায়! ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টির বোঝাপড়া স্পষ্ট: এই ‘পরিবর্তন’ হবে শুধু পুঁজিবাদ ও শাসকশ্রেণির সম্পদ রক্ষায় ‘প্রহরীর’ পরিবর্তন। সেকারণে স্টার্মারের জয় কোনওভাবেই শ্রমিকশ্রেণির জন্য অর্থপূর্ণ জয় হতে পারে না।

ঠিক এই কারণেই কোনও মোহ না রেখে রাস্তায় নামা ছাড়া বামপন্থীদের সামনে অন্য কোনও বিকল্প নেই। আর মানুষের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে নিবিড় সংযোগ। যেমন নর্থ ইসলিংটনে গড়ে তুলেছেন জেরিমি করবিন। তাকে লালন করে চলেছেন।

 


প্রকাশের তারিখ: ০৬-জুলাই-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

চমৎকার বিশ্লেষণ।
- Amitabha Ray, ০৬-জুলাই-২০২৪


লেবার পার্টির জয় শুনেই কিছু মানুষ কম্যুনিস্ট পার্টির জয় বলে স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে।সেটা যে আদপেই নয় সেটা বোঝার জন্য এই লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যালেস্তাইন এর প্রশ্নে টোরি দের সমর্থন জানিয়ে এসেছে লেবার পার্টি। এই দুটো পার্টিই আসলে কয়েনের এপিঠ ওপিঠ। খুব মূল্যবান মূল্যায়ন। ভালো লাগলো।
- মধুজা ঘোষাল , ০৬-জুলাই-২০২৪


ভীষন তথ্য সমৃদ্ধ ও প্রয়োজনীয় এই লেখাটি।আমি সামাজিক মাধ্যমে গতকালই।এই বিষয়ে লিখেছিলাম যে বৃটেনে লেবার নামে লেবার পার্টি ওরা কিন্তু দক্ষিণ পন্থীদের দল। ওরা শ্রমিক কৃষক ও গরীবের স্বার্থে নীতি গ্রহণ করেন না। যেমন ভাবে আমেরিকার ডেমোক্রেট রাত নামেই গনতন্ত্রী ওরাও আসলে স্বৈরাচারী।এদের নেতৃত্বেই নেটো জোট তৈরি হয়েছিল।নেটো জোটের মূল কাজ ছিল সমাজতান্ত্রিক সরকার ও দল গুলিকে ধংস করা। ওরা ওদের দেশের বাজেটে বহু অর্থ বরাদ্দ করে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন নষ্ট করার জন্য। নেটো জোটের দেশ গুলি সারা পৃথিবীতে প্রতি নিয়ত যুদ্ধ উম্মাদনা জিইয়ে রাখতে চায় । কারণ নেটো ভূক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির( রপ্তানির) উপর। বিশ্বে যুদ্ধ উম্মাদনা বন্ধ হয়ে গেলে ওদের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে। আমেরিকার ডেমোক্রেট বা বৃটেনের লেবার পার্টি এরাও দক্ষিণ পন্থীদের দল। ওরা প্যালেস স্টাইন,ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়া সহ সারা বিশ্বে মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। ওরা নিজেদের দেশে গরীব মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে। এবার ভোট কাটাকাটির জন্য বৃটেনের লেবার পার্টি ক্ষমতায় এসেছে। আগামী দিনে কমিউনিষ্ট ও বামপন্থী দলগুলোর উচিত লেবার পার্টির সরকার এর উপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ওদের সরকার গরীব মানুষের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে বৃটেনে আমাদের মতো হাভাতের সংখ্যা নেই। বৃটেন ও আমেরিকার দলগুলো এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত ভোটার দের উপর নির্ভর করে ভোটে জয়ী হয়।তাই যে দলেরই সরকার হোকনা কেন সেখানে এই অবিভাষী দের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। নেটো ভূক্ত দেশগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সারা বিশ্বের সস্তার মুজুরী দিয়ে অনুন্নত দেশে উৎপাদিত সামগ্রী তৈরি করে অধিক লাভের অংক নিজেদের দেশে নিয়ে যাওয়া।ওরা শিল্প কারখানায় পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনা। নিজেদের দেশের পরিবেশ ঠিক রাখতে অনুন্নত দেশেই দূষিত ও বর্জ্য পদার্থ মজুদ করে। পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। ওরা নিজেদের দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য অভিন্ন বাজার রাখতে চায়, কিন্তু কোন মানুষ যাতে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নি পারে তার জন্য মানুষের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষের আবেগ ওদের থেকে বেশি তাই তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি, জাতপাতের রাজনীতি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলছে। আমার মনে হয় আমাদের বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসক দলের নেতৃত্ব এই নেটো জোটের স্বার্থেই কাজ করে চলেছে। আশার কথা বিগত অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে দেশের মানুষ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, দেশের সংবিধান রক্ষা করার জন্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন এন ডি এ কে কঠিন লড়াইয়ের সামনে নিয়ে এসেছে। বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি,এখন তাদের মোদির গ্যারান্টি কার্যকর করতে শরিকদের উপর বহুলাংশে নির্ভর করতে হবে। এমনিতেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার ভারতকে নেটোর ছোট শরিকে পরিনত করতে চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ সচেতন রয়েছে বেশি বেয়াদবি করলেই তাদের ক্ষমতাচ্যূত করতে ইতস্তত করবে না।
- জহর কান্তি দাস , ০৬-জুলাই-২০২৪


সঠিক বিশ্লেষণের জন্য ধন্যবাদ। দেখার বিষয় ব্রিটেন ও আমার দেশের মতো বাম কন্ঠ সংসদে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি। সেই সব কন্ঠস্বর নতুন সংসদের প্রথম দিন থেকে নতুন সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে প্রকৃত জনকল্যাণ মুখী সিধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।
- সুমন ভট্টাচার্যের, ০৬-জুলাই-২০২৪


আপনার বিশ্লেষণ আমার কাছে পরিষ্কার হলো ব্রিটেনে র সাম্প্রতিক নির্বাচন ও ওই দেশের কমিউনিস্ট পার্টির এখন কি করণীয়। ধন্যবাদ
- অজিত দত্ত, ০৬-জুলাই-২০২৪


লেখাটি ভীষন ভালো ও সময়োপযোগী। লেবার পার্টির স্টার্মার ভোট ভাগাভাগির ফলে ব্যাপক জয় পেয়েছেন। আবার তার নেতৃত্বেই লেবার পার্টির প্রাক্তন নেতা করবিন ও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৃটেনের এই লেবার পার্টি কিন্তু মোটেই শ্রমিক দরদী, কৃষক ও গরীব দরদী নয়। এটা নামেই লেবার পার্টি, এদের মধ্যে শ্রমিক দরদী মানষিকতার পরিচয় ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে। বর্তমান লেবার নেতৃত্ব নেটো জোট থেকে নিজেদের স্বার্থেই আলাদা হতে পারবে না। সারা পৃথিবীতে মূলত আমেরিকা ও বৃটেনের নেতৃত্বেই নেটো জোট তৈরি হয়েছিল। ওদের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব থেকে কমিউনিষ্ট পার্টির অস্তিত্ব বিলোপ করা।আজো তারা পরদেশে নিজেদের স্তাবক কে গদিয়ান করতে সচেষ্ট থাকেন। সারা বিশ্বে ওরা পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর কোন ব্যাবস্থা নেয়না। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ওরা সস্তা মজুরি দিয়ে পরিবেশ দূষণ ছড়িয়ে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের কারখানা চালায়। ওরা মুনাফা যা হয় সব নিজেদের দেশে নিয়ে যায়।শ্রম আইন তোয়াক্কা করে না,পরিবেশ বিধি অনুযায়ী চলে না। গরীব দেশের শাসকেরা অর্থের লোভেই ওদের অন্যায় আবদার মেনে বিশ্বে পরিবেশ দূষণ ছড়িয়ে যেতে পারছে। শ্রমিকরা তাদের নার্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পায় না। মুনাফা কম হলে ওরা কারখানা বন্ধ করার হুমকি দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই ওরা মুনাফার স্বার্থে অভিন্ন বাজার কামনা করে, কিন্তু শোষণ করার জন্য ওরা ধর্মের নামে ও জাতির নামে বিভেদের রাজনীতি করে মানুষের প্রতিবাদের শক্তি নষ্ট করতে সচেষ্ট হয়। আগামী দিনে বিশ্বের নিপীড়িত অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল, অত্যাচারিত ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষার জন্য কি ভূমিকা নেন সেটা দেখেই ওরা কি ধরনের শ্রমিকের দল বোঝা যাবে।অতিতে দেখা গেছে বৃটেনের লেবার পার্টির নেতৃত্ব আমেরিকার তাবেদারী করতে ব্যস্ত থাকে। আমেরিকার ডেমোক্রেট রা শুধু নামেই গনতন্ত্রী ওরাও গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে চলে না। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের মূল পান্ডা আমেরিকা ও বৃটেনের সরকারে অধিষ্ঠিত দলগুলো সারা বিশ্বে যুদ্ধ উম্মাদনা জিইয়ে রেখে তাদের যুদ্ধাস্ত্রের বাজার সচল রাখতে চায়।এই নেটো জোটের দেশ গুলোর অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি/ রপ্তানির উপর নির্ভর করে। যদি বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ উম্মাদনা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ওদের দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে।তাই ওরা চায় দেশে দেশে যুদ্ধ বেধে থাকুক। বর্তমান ভারত সরকারের নেতৃত্ব অতিতের জোটনিরপেক্ষ তার নীতি থেকে সরে এসে এখন দলের স্বার্থে নেটো জোটের ছোট্ট শরিকে পরিনত হয়েছে।তার জন্য আমাদের দেশকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। বৃটেনের সরকার ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর হীরা আগে ফেরত দিক। তারপর বুঝতে পারব লেবার পার্টির সরকার ভারতকে কোন চোখে দেখছে। বৃটিশ সরকার সস্তার শ্রমিক পেতেই কমনওয়েলথ সংগঠনের জন্ম দিয়েছিল। ভারতের তথাকথিত শক্তি শালী নেতৃত্ব ক্ষমতা থাকলে কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে আসুক,তার পর তাদের দম বোঝা যাবে। দূর্জনেরা বলছেন ঋষি সুনক বিজেপি ও আর এস এস এর তোষামোদ করতে গিয়ে বৃটেনে বসবাস কারী মুসলিম ভোটার দের বিরাগভাজন হয়েছেন। একটা টোরি দলের হারের একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করি। জহর কান্তি দাস, কলকাতা, টালিগঞ্জ।
- Jahar Kanti Das , ০৬-জুলাই-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬