সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ডলারের একাধিপত্য
প্রভাত পট্টনায়েক
ট্রাম্পের হুমকির পর ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ বি-ডলারিকরণ নিয়ে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। হতে পারে যে আমেরিকার কাছে ভাল ছেলে হয়ে থাকার জন্য তাদের এই অবস্থান। তবে এই বিষয়টা সংশয়াতীতভাবে সত্য যে, সাম্রাজ্যবাদ এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমনকী ইউক্রেন ও গাজা প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির মধ্যে যে ঐক্য দেখা যাচ্ছে, এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির সমাজগণতন্ত্রীরা তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যেভাবে সাম্রাজ্যবাদের লেজুড়বৃত্তি করছে, সেটাই প্রমাণ করছে সাম্রাজ্যবাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জটা কতটা গুরুতর।

লিবারালরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক ব্যবস্থা এমন একটা হাতিয়ার যা এই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী সব দেশের স্বার্থ রক্ষা করে। তাঁরা মনে করেন, দেশগুলি যাতে পারস্পরিক বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য পেমেন্ট বা দেনা-পাওনা মেটানোর একটা সুবিধাজনক উপায় চালু রাখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক ব্যবস্থা। তবে বাস্তবে বিষয়টা একেবারেই অন্যরকম। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটা চালুই রয়েছে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের একাধিপত্যের ওপর ভিত্তি করে। এটাই আবার পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের একাধিপত্যকে টিকিয়ে রাখে। আন্তর্জাতিক এই ব্যবস্থায় অপরিহার্য হল মার্কিন ডলার। সেকারণে একথা বলাই যায় যে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ডলারের একাধিপত্য টিকে রয়েছে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের একাধিপত্যের কারণে। আবার ডলারের একাধিপত্যই পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদকে টিকিয়ে রাখে। আবার, এই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সুবিধাজনক উপায়ে পারস্পরিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ডলারের এই একাধিপত্য।
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ধরা যাক ১ নম্বর দেশের দরকার X পণ্য। এই পণ্যটি রয়েছে ২ নম্বর দেশের। আবার ২ নম্বর দেশ চায় Y পণ্য যা রয়েছে ১ নম্বর দেশের। এখন যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাতে ১ নম্বর ও ২ নম্বর দেশ নিজেদের মধ্যে দুটি দরকারি পণ্য সরাসরি বিনিময় করে নিতে পারবে না। চলতি ব্যবস্থায় একে অন্যের পণ্য কিনতে হলে দুই দেশকেই প্রথমে ডলার জোগাড় করতে হবে। যদি শুরুতে দুদেশের হাতে যথেষ্ট ডলারের সঞ্চয় না তাকে, তাহলে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য হবেই না। অন্যভাবে বললে, আন্তর্জাতিক লেনদেনে যেহেতু ডলারই হল সঞ্চালনের মাধ্যম, সেক্ষেত্রে যদি কয়েকটি দেশের হাতে ডলারের সঞ্চয় কম থাকে তাহলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটা বিশেষ করে সত্যি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। কারণ ডলারের অভাবে তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সর্বদাই সঙ্কুচিত থাকে। যদি তারা নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য করতে পারত তাহলে তাদের পারস্পরিক বাণিজ্য আরও বাড়তে পারত। এটাকেই বলে বি-ডলারিকরণ করা (‘de-dollarise’)। ‘বি-ডলারিকরণ’ , এই পরিভাষাটি বলতে বোঝায় সঞ্চালনের মাধ্যম হিসাবে মার্কিন ডলারের ওপর কম নির্ভরতা। একইভাবে হিসাব রাখার জন্য কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ডলার সঞ্চিত রাখার ব্যাপারে কম নির্ভর করা।
স্বাভাবিক কারণেই বি-ডলারিকরণের বিরোধিতা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেহেতু বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তাদের মুদ্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ধরে নেওয়া হয় যে ডলার হল ‘সোনার সমান’, সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেয় বিপুল সুবিধা। এবং পরিস্থিতিটা এরকমই যেন তারা বসে রয়েছে একটা অবাধ ও অফুরন্ত সোনার খনির ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের সম্পদ কিনে নিতে পারে, অন্য দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি দখল করে নিতে পারে, বিদেশে যত খুশি বিনিয়োগ করতে পারে, এবং নিজেদের কারেন্ট অ্যকাউন্ট খাতে ঘাটতি মিটিয়ে নিতে পারে। এগুলো তারা সহজেই করতে পারে আরও ডলার ছাপিয়ে নিয়ে।
তবে এসব স্পষ্ট সুবিধা উপভোগ করা, নিশ্চিত মূল্যে আন্তর্জাতিক ক্রয় ক্ষমতার সীমাহীন সুবিধা কাজে লাগানো ছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও দেশকে তাদের একাধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য ডলারের এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারে। পছন্দের দেশ যাতে বেশি ডলার পায় সেই ব্যবস্থা তারা করতে পারে। আবার যদি কোনও দেশকে তারা শাস্তি দিতে চায় তাহলে সেই নির্দিষ্ট দেশের ডলারের সঞ্চয়কে আটকে রাখতেও পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ সব দেশের সঞ্চিত ডলারের ভাণ্ডারই আসলে গচ্ছিত থাকে পশ্চিমী ব্যাঙ্কগুলিতে। বস্তুত, ইরান থেকে শুরু করে রাশিয়া পর্যন্ত অসংখ্য দেশকে ডলারের ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই শাস্তি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বি-ডলারিকরণের প্রতি এই যে প্রবণতা, তা সাধারণভাবে সমর্থন করে সেই সব তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি ডলারের অভাবে যাদের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ডলারের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জব্দ করার চেষ্টা আরও বেশি বেড়েছে।
যদি বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশ একতরফাভাবে এমন পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার শিকার হয় যাকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সমর্থন করে না এবং সেকারণে কোনও নীতি না মেনে চলার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, ঠিক যেমন বর্ণবৈষম্যবাদ চালিয়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছিল — তাহলে এটা খুবই স্বাভাবিক যে, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলি এবং যেসব দেশ নিষেধাজ্ঞার শিকার, তাদের মধ্যে একটা জোরাল তাগিদ থাকবে বি-ডলারিকরণ করার। সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির কাজান সম্মেলনে এই আকাঙ্ক্ষাটাই অভিব্যক্তি পেয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই যে বি-ডলারিকরণের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হচ্ছে, তা মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করে নিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন জুলাই মাসে হাউজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন যে, মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞাই ব্রিকসকে প্ররোচিত করেছে বি-ডলারিকরণের পথে এগিয়ে যেতে। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি নিষেধাজ্ঞা চাপাবে, তত বেশি আরও সব দেশ (ব্রিকস) চাইবে আর্থিক লেনদেনের এমন পদ্ধতি যেখানে ডলারের কোনও ভূমিকাই থাকবে না।’ ইয়েলেনের মন্তব্যের নিহিতার্থ ছিল এই স্বীকৃতি যে, ডলারের একাধিপত্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে চোখ রাঙিয়ে বিভিন্ন দেশকে তাদের লাইনে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করার কাজে, এবং এভাবে চোখ রাঙিয়ে চাপ দেওয়া দেশের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।
একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করার মধ্যে দিয়ে একাধিপত্য কার্যকর করার প্রক্রিয়ার একটা নির্দিষ্ট দ্বান্দ্বিকতা আছে। যদি অবাধ্য একটা বা দুটো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তাহলে পুরো কাঠামোকে কোনও ভাবে বিপন্ন না করেই সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। কিন্তু যদি একগুচ্ছ দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তাহলে গোটা কাঠামোটাই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। নয়া উদারবাদের জমানায় বিভিন্ন দেশ যেরকম দুর্গতির মধ্যে পড়েছে, সেকথা ধরলে সময়ের পরিসরে অবাধ্য দেশের সংখ্যা বাড়ার প্রবণতাই লক্ষ্য করা যাবে। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা দেশের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে তাহলে বি-ডলারিকরণের প্রবণতা আবশ্যিকভাবেই আরও শক্তিশালী হয়। এবং এই প্রবণতা তখনও দেথা যায় যখন ডলারের একাধিপত্যের পিছনে থাকে নির্ভেজাল বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তি, যখন এটা দেখা যায় যে স্রেফ সাম্রাজ্যবাদী হুমকির ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই একাধিপত্য। ডলারভিত্তিক ব্যবস্থাটা সব দেশের স্বার্থের পক্ষেই ভাল, লিবারালদের এই দাবি যে শূন্যগর্ভ তা তখনই একেবারে স্পষ্ট হয়ে যায়।
ডলারের একাধিপত্যের পিছনে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের নিরিখে সবচেয়ে নিকটবর্তী কারণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির চুক্তি, যা সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে। এই চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিল সৌদি আরব। চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল যে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ধার্য করা হবে ডলারে এবং তেল কেনাবেচা হবে ডলারেই। যেহেতু অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গুরুত্ব রয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত ডলারের গুরুত্বও বাড়িয়ে দেয়। বস্তুত, সম্প্রতিকালে যখন পশ্চিমী দেশগুলি রুবলকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তখন অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে রুবল রক্ষা পেয়েছিল রাশিয়া এবিষয়ে জোরাজুরি করায় যে, তাদের রপ্তানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম পুরোটাই মেটাতে হবে রুবলে।
তবে ১৯৭০-এর দশকে তেল রপ্তানিকারী দেশগুলির সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই ধরনের চুক্তি এখন আর ডলারের একাধিপত্য নিশ্চিত করার পক্ষে যথেষ্ট নয়। এর আগে বি–ডলারিকরণ সংক্রান্ত সব আলোচনাই এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন জ্যানেট ইয়েলেন। সেই তিনিই এখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এপ্রসঙ্গে একথা আর আশ্চর্যজনক মনে হবে না যে, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যেসব দেশ ডলার বাণিজ্য থেকে সরতে চাইবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ট্রাম্পের হুমকি থেকে সকলের কাছেই এটা জলের মতোই স্পষ্ট যে, ডলারের একাধিপত্যের পিছনে রয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জবরদস্তি।
এই ধরনের জবরদস্তি কার্যকর হতে পারে কারণ বি–ডলারিকরণের যে কোনও প্রক্রিয়াই বেশ সময়সাপেক্ষ। যদি তারই মধ্যে বি–ডলারিকরণে আগ্রহী দেশের পণ্য রপ্তানি আমেরিকায় কাটছাঁট করে, তাহলে তারা চরম ডলার সঙ্কটে পড়তে পারে। এর ফলে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। যদিও বা ডলার ছাড়া অন্য মু্দ্রায় দাম মিটিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ দরকারগুলো কোনও রকমে মিটিয়ে নিতে পারে, তবে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে বা পশ্চিমী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের যদি বৈদেশিক ঋণ শোধের ব্যাপার থাকে, তাহলে সেটা মেটানো অসম্ভব হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের হুমকি তাই হেলাফেলা করার বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল, হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প খোলাখুলি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কারসাজিটা একেবারে খুল্লমখুল্লা সামনে হাজির করেছেন যা সাধারণত বড় বড় লিবারাল বাগাড়ম্বরের আড়ালে ঢেকে রাখা হয়।
আশ্চর্যজনকভাবে এই যে হুমকি স্বল্প সময়ের পরিসরে কার্যকর হতে পারে,সেটাই ক্রমশ আরও বেশি বেশি দেশকে বি-ডলারিকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে। সচেতন করে তুলবে এই বিষয়ে যে ডলারের একাধিপত্য হল আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীতদাসত্ব। একটা কার্যকর বি-ডলারিকরণের পর্বে পৌঁছনোর আগে আরও অনেক পথ যেতে হবে। এবং কাজান শীর্ষ সম্মেলন এবিষয়ে সচেতন। ট্রাম্পের হুমকির পর ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ বি-ডলারিকরণ নিয়ে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। হতে পারে যে আমেরিকার কাছে ভাল ছেলে হয়ে থাকার জন্য তাদের এই অবস্থান। তবে এই বিষয়টা সংশয়াতীতভাবে সত্য যে, সাম্রাজ্যবাদ এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমনকী ইউক্রেন ও গাজা প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির মধ্যে যে ঐক্য দেখা যাচ্ছে, এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির সমাজগণতন্ত্রীরা তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যেভাবে সাম্রাজ্যবাদের লেজুড়বৃত্তি করছে, এটাই প্রমাণ করছে সাম্রাজ্যবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ কতটা গুরুতর।
এই চ্যালেঞ্জেরই অংশ হল বি-ডলারিকরণ নিয়ে এত কথাবর্তা। তবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মধ্যে এখনও কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই যে, এখনকার ব্যবস্থাটার পরিবর্তে কী ধরনের বিকল্প আর্থিক কাঠামো চালু করা যেতে পারে। বিশ্বে প্রগতিশীল মতামতের পক্ষে যাঁরা তাঁদের এই বিষয়টাকেও নিশ্চিত করতে হবে যে, ডলারের বিকল্প হিসাবে যখনই নতুন কোনও মুদ্রা আসবে, সেটা যেন ডলারের একাধিপত্যের বদলে কোনও বিকল্প মুদ্রার একাধিপত্য না হয়, সেটা যেন কোনও একটা দেশ বা একগুচ্ছ দেশের একাধিপত্যের জন্ম না দেয়।
একারণে যা দরকার তা হল, যখন ডলারের জায়গায় অন্য কোনও মুদ্রাকে আনা হবে, সেটা কোনও চালু মুদ্রা হোক কিংবা কোনও বিকল্প ব্রিকস মুদ্রাই হোক, তখন ব্যবস্থাটা যেন একই রাখা না হয়। আসলে নিয়মগুলিকেই বদলানো দরকার। একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অবশ্যই হতে হবে এবং তা হল লেনদেনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সমঝোতা করার বোঝাটা যেন ঘাটতি দেশগুলির ঘাড়ে গিয়ে না পড়ে। ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় ঠিক এমনটাই ছিল এবং এখনও সেটাই চালু রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বোঝা সামলানোর ঝক্কিটা রাখতে হবে উদ্বৃত্ত অর্থনীতির দেশগুলির ওপর।
ভাষান্তর : সুচিক্কণ দাস
সূত্র: পিপলস ডেমোক্রেসি
প্রকাশের তারিখ: ২৭-ডিসেম্বর-২০২৪
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
