সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
শৃঙ্খল ভাঙার সাহস
শমীক মণ্ডল
আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে যে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার আছে তার দখল নেওয়ার চেষ্টার কোনও খামতি রাখেনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি। এই উপনিবেশিক আগ্রাসনকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে সাহেল অঞ্চলে এসে। তাই কখনও গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে, আবার কখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বদনাম দিয়ে তারা এই অঞ্চলের প্রগতিশীল সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। চলতি বছরে বুরকিনা ফাসোতে ব্যর্থ অভুথ্যান ঘটানোর পরিকল্পনা তারই উদাহরণ।

চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দুবছরে পা দিল সাহেল অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলির জোট অ্যালেয়ন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)।
বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার— পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি রাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর প্রগতিশীল গোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পর তার রাষ্ট্রপ্রধানরা মিলিত হন মালির রাজধানী বামাকোতে। স্বাক্ষর করেন লিপ্তাকো-গৌরমার সনদে। তৈরি হয় সাহেল রাষ্ট্রসমূহের জোট অ্যালায়েন্স অফ সাহেল স্টেট। লক্ষ্য এই তিন দেশের মধ্যে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক সহায়তার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। সনদে ঘোষণা করা হয়, ‘এক বা একাধিক চুক্তিবদ্ধ পক্ষের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার উপর যে কোনও আক্রমণ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।’ ২০২৩, নাইজারের জনগণের সমর্থনে সেনা অভুথ্যানের পর সে দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেয় পশ্চিম আফ্রিকার রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক সংস্থা ইকোওয়াস। এই হুমকির সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসাবে গড়ে ওঠে সাহেল রাষ্ট্রসমূহের এই জোট—এইএস।
আফ্রিকায় সাম্প্রতিক অতীতের নিরিখে এই প্রথম ২.৭৮ মিলিয়ন কিলোমিটারের ৭১.৪ মিলিয়ন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে কোনও রাষ্ট্র-জোট সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে ফরাসি উপনিবেশবাদ ও পশ্চিমের প্রতিষ্ঠানগুলির গভীরে প্রথিত সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোগুলিকে। যা একই সাথে আরও একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে পশ্চিমের নিরাপত্তা বিষয়ক কৌশলগুলিকেও। পশ্চিম আফ্রিকার এই তিন দেশের সম্মিলিত জোট আসলেই ওই অঞ্চলের রাজনীতির ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইতে এই জোটের রাজনৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক একীকরণ ঘটে। গড়ে ওঠে সাহেল রাষ্ট্রসমূহের কনফেডারেশন। সার্বভৌমত্ব ও আফ্রিকার ঐক্য সংহতির পক্ষে জোরদার সওয়াল করে এই সংস্থাটি তাঁর জন্মলগ্ন থেকেই। ২০২৪ সালে বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজার যৌথভাবে ঘোষণা করে পশ্চিম আফ্রিকার রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক সংস্থা (ইকোওয়াস) থেকে তাদের বেরিয়ে আসার কথা। চলতি বছরের গোড়ায় তা কার্যকর হয়। এই বছরেই তাদের নিজস্ব পতাকা তৈরির মধ্য দিয়ে এই তিনটি দেশের সম্মিলিত জোট একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
২০২৩ সালে নাইজার সমস্যা চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত লিপ্তাকো-গৌরমা সনদ সাক্ষরিত হওয়ার পর এই অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী হুমকি ও বেআইনি হস্তক্ষেপের ইতি ঘটে। সমগ্র অঞ্চল থেকে মার্কিন ও ফরাসি সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। জানুয়ারি মাসে গঠিত হয় ৫০০০ সেনার যৌথ সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে শুরু হয় যৌথ মহড়া। একাজে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত, তারা 'নিরাপদ নয় এমন এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার, স্থানীয় জনগণকে রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কার্যক্ষম সম্ভাবনা ধ্বংস করার জন্য' বড় আকারের পদক্ষেপ পরিচালনা করে (প্রাভদা মালি, মার্চ ৭)। ইসলামি সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে মালি নির্ভর করছে রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের ওপর। অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে জোটটি তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ করে— যেখানে সদস্য দেশগুলি রাশিয়ার সাথে নতুন সামরিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেপ্টেম্বরেই এইএস সদস্য রাষ্ট্রগুলি মার্কিন ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে চীনের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ, সম্পদ বণ্টন বিষয়ক একাধিক পরিকল্পনা রুপায়নের ক্ষেত্রে বেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ওই অঞ্চলে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কমট্রেড ডাটাবেস অনুসারে, ২০২৪ সালে বুরকিনা ফাসোতে চীনের রপ্তানি ছিল ৬৮৬.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের নয়া সিল্ক-রোড প্রকল্পের অংশ হিসাবে আফ্রিকায় তাদের বিনিয়োগ বেড়েছে। মূলত সাহেল অঞ্চলে তাদের সরাসরি বিনিয়োগ রয়েছে কৃষি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে।
গত দুবছরে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সাফল্য পেয়েছে এইএস। রাষ্ট্রগুলির ৩০% অংশীদারিত্বের সাথে গৃহীত হয়েছে নতুন মাইনিং কোড। সাহেল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সোনার খনি জাতীয়করণ করা হয়েছে। নাইজার তার ইউরেনিয়াম চুক্তি পুনর্বিবেচনার পক্ষে সওয়াল করেছে। বুরকিনা ফাসোর ইব্রাহিম ত্রাওরের সরকার ২০২৪ সালে খনিগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার লক্ষ্যে তৈরি করে সোপামিব নামে একটি রাষ্ট্রয়ত্ব সংস্থা। এ-বছরের জুন মাসে তারা ঘোষণা করে দুটি সোনার খনি রাষ্ট্রয়ত্বকরণের কাজ তাঁরা সম্পন্ন করেছে। একই সাথে আরও তিনটি খনির লাইসেন্স তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মালি আর্থিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খনি নিয়ন্ত্রণাধীন বিদেশী সংস্থার সাথে আইনি বিবাদে জড়িয়ে অমিমাংসীত অবস্থায় থাকলেও, ২০২৪ সালে নাইজার দুটি প্রধান খনি রাষ্ট্রয়ত্বকরণ করে। দেশগুলির খনিজ সম্পদ রপ্তানির গন্তব্যের ক্ষেত্রেও বদল এসেছে। মূলত সুইতজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরসাহি এবং চীনের সাথেই খনিজ ক্ষেত্রে তাদের সর্বাধিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বুরকিনা ফাসোর সরকার ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে তুলা উৎপাদন ৫,৫০,০০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে, যা ৮৩% বৃদ্ধি। মালি ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০% এরও বেশি চাল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চায় (এপিএ নিউজ)। সামগ্রিকভাবে গোটা আফ্রিকার নিরিখে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নজির গড়েছে এই তিনটি দেশ। নাইজার ৯.৮%, বুরকিনা ফাসো ৫.৫% এবং মালি ৩.৭%। অবাধ চলাচলের সুবিধার্থে একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড চালু করা হয়েছে। আফ্রিকার মানুষের জন্য বাতিল করা হয়েছে ভিসা ফি। এই পদক্ষেপ উপনিবেশিক সীমানাকে গুরুত্বহীন করে সাহেল অঞ্চলের মধ্য একটি আফ্রিকান ঐক্য-সংহতি নির্মানের সাথে প্যান-আফ্রিকান জাতীয় পরিচয় এবং চেতনা বিস্তারের পথকে প্রশস্ত করেছে।
এইএস সদস্য রাষ্ট্রগুলি প্রতিষ্ঠা করেছে কনফেডারেশন ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। অভিন্ন সাধারণ মুদ্রা চালু করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো। ঔপনিবেশিকতার আনুষ্ঠানিক অবসানের কথা মুখে বললেও এতদিন এই সব দেশের রাজকোষ সংক্রান্ত ও আর্থিক নীতিসমূহ কার্যত নিয়ন্ত্রণ করত ফরাসিরা। শুরুতে ফরাসি উপনিবেশগুলির মুদ্রা একটা স্থির বিনিময় হারের ভিত্তিতে ফরাসি ফ্রাঁ-এর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল যার ফলে এই দেশগুলো স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজকোষ সংক্রান্ত নীতি বা আর্থিক নীতি গ্রহণ করতে পারত না। মেট্রোপলিটন কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতেই ছিল এই অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। সাহেল রাষ্ট্রসমূহের নিজস্ব এই ব্যাঙ্ক পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিস্থাপন এবং একটি স্বতন্ত্র আর্থিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যৌথ অগ্রগতির পথে প্রধান ভূমিকা নেবে। কাজ করবে না সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেওয়া শর্ত— যা এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলির প্রগতিশীল সরকারগুলিকে অতীতে নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন করেছে।
আর আজ তারা দাঁড়িয়ে আছে অন্য এক চ্যালেঞ্জের মুখে। তারা যেমন স্পষ্ট করেছে সার্বভৌম অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথা। তেমনই একথা ঠিক যে, তাদের অর্থনীতির সিংহ ভাগ দাঁড়িয়ে আছে নিষ্কাশন-নির্ভর খনিজ সম্পদের ওপর। স্বাভাবিকভাবেই এইসব প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার সীমিত। মালিকানাগত জটিলতা এবং সিএফএ মুদ্রার আধিপত্য, যা অসম বাণিজ্য সম্পর্ক এবং নয়া উপনিবেশবাদের কাঠামোগত দুর্বলতাকে প্রতিফলিত করে। তাই প্রয়োজন উৎপাদন কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন। দেশীয় পরিশোধন ক্ষমতার বৃদ্ধি (যা ইতোমধ্যেই বুরকিনা ফাসোর সরকার শুরু করেছে দেশে একটি সোনা পরিশোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে।) মুদ্রানীতির নিয়ন্ত্রণ। শুধুমাত্র রপ্তানির গন্তব্য পরিবর্তনই না, প্রয়োজন আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রাধান্য। এই সমস্ত দিকগুলি অতীতে নানা আলোচনাতেও উঠে এসেছে। আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে যে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার আছে তার দখল নেওয়ার চেষ্টার কোনও খামতি রাখেনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি। এই উপনিবেশিক আগ্রাসনকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে সাহেল অঞ্চলে এসে। তাই কখনও গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে, আবার কখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বদনাম দিয়ে তারা এই অঞ্চলের প্রগতিশীল সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। চলতি বছরে বুরকিনা ফাসোতে ব্যর্থ অভুথ্যান ঘটানোর পরিকল্পনা তারই উদাহরণ। দুদিন আগেই বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রপতি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে সতর্ক করে বলেন, ‘আফ্রিকার সম্পদ নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যেই সুদান এবং কঙ্গোতে যুদ্ধের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।’ একই সাথে তিনি ‘আফ্রিকা-নির্মিত গণতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা’ নেতাদের তাদের ‘সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের অনুকরণ’ করার চেষ্টাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। 
সাহেল অঞ্চলের এই তিন দেশ মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারকে লড়তে হচ্ছে দুটি বিপদের বিরুদ্ধে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তার দোসরদের সাথে সাথে তাদের লড়াই করতে হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও। এইএস গঠনের পর এই দুবছরে তারা অনেকটাই সফল হয়েছে। আর এই সফলতার পিছনের অন্যতম কারণ হল, এই দেশগুলোর মুক্তিকামী মানুষের বিপুল জনসমর্থন তাদের সরকারগুলির প্রতি। এই দেশগুলির সরকার সেনা অভুথ্যানের মাধ্যমে তৈরি হলেও তা পশ্চিমের স্বার্থরক্ষাকারী ক্ষমতা দখলের মডেল ছিল না। তাদের লক্ষ্য, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। পশ্চিম আফ্রিকান পিপলস অর্গানাইজেশনের ফিলিপ টয় নৌডজনৌমের এই সমস্ত দেশের প্রগতিশীল অভুথ্যানগুলোকে তাই যথার্থভাবেই বলেছেন, ‘সার্বভৌমত্বের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ’।
গত সপ্তাহে বুরকিনা ফাসোর প্রবাদপ্রতিম নেতা থমাস সাঙ্কারার শহীদ দিবসে আয়োজিত একটি সভায় সে দেশের বর্তমান প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে সাম্রাজ্যবাদের তীব্র নিন্দা করে আফ্রিকা জুড়ে বিপ্লবী গণজাগরণের আহ্বান জানান। ২২টি দেশের প্রতিনিধিরা এই সভায় অংশ গ্রহণ করেন। ত্রাওরের হাতে তাঁরা তুলে দেন ‘একটি নতুন প্যান-আফ্রিকানিজমের জন্য ইস্তেহার’। এই ইস্তেহারটি থমাস সাঙ্কারা, কোয়ামে ঙ্ক্রুমা এবং প্যাট্রিস লুমুম্বার ধারণা থেকে উদ্ভূত একটি স্বতন্ত্র আফ্রিকান মডেলের কথা তুলে ধরে। যা আত্মনিয়ন্ত্রের স্বপক্ষে ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা। হত্যার মাস চারেক আগে বলা সাঙ্কারার সেই সতর্কবার্তা, ‘যে তোমায় খাওয়ায়, সেই তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে!’ যা আজকের সাহেল অঞ্চলের প্রগতিশীল সরকারগুলির নীতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই পশ্চিমী উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ও নতুন স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নির্মাণ এবং সার্বভৌমত্বই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। যা নিশ্চিত করতে পারে পশ্চিমের মুখাপেক্ষী না-হয়েই এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
প্রকাশের তারিখ: ২৭-অক্টোবর-২০২৫
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
